Tag: SC

SC

  • Supreme Court: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, হাইকোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    Supreme Court: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, হাইকোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যসচিব (Chief Secretary) দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুধু তা-ই নয়, ওইদিনের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। মালদার কালিয়াচকের ঘটনার দিন মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের জল গড়ায় দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে, সোমবার ভার্চুয়াল শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। সেখানেই তীব্র ভর্ৎসনার শিকার হন নারিয়ালা। প্রসঙ্গত, ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার দিন রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে সরানো হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। তাঁর বদলে নয়া মুখ্যসচিব হন নারিয়ালা।

    রিপোর্ট পেশ এনআইএর (Supreme Court)

    গত বুধবার কালিয়াচকের ঘটনায় এদিন সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। এনআইএর টিম যে তদন্ত করেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই রিপোর্ট জমা করা হয়েছে। মুখবন্ধ খামে সেই রিপোর্ট জমাও পড়েছে শীর্ষ আদালতে। সেখানে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বলেও খবর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, যদি আরও অন্য কোনও ব্যক্তির যোগ থাকার প্রমাণ মেলে, অথবা অন্য কোনও দিক উন্মোচিত হয়, তাহলে এনআইএ প্রয়োজনে আরও এফআইআর দায়ের করতে পারে। কলকাতায় এনআইএ আদালতে তদন্তের বিষয় জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে শীর্ষ আদালতে।

    এনআইএকে হস্তান্তর করার নির্দেশ

    সুপ্রিম কোর্টের তরফে স্থানীয় পুলিশকে তদন্তের যাবতীয় কাগজ এবং এফআইআর অবিলম্বে এনআইএকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশকে সবরকম সাহায্য করতেও বলা হয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তার বিষয়ে আলাদা হলফনামা জমা দিয়েছে খোদ নির্বাচন কমিশন কমিশন (Chief Secretary)। এদিকে, রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে দেওয়া হয়েছে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট। এদিন মুখ্যসচিবকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘কেন প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেননি?’ মুখ্যসচিব জানান, তিনি দিল্লিতে কাজে গিয়েছিলেন। দুপুরে বিমানে ছিলেন তিনি। তাঁর ফোনে কোনও কল যায়নি (Supreme Court)। এরপর প্রধান বিচারপতি ফের বলেন, “আপনি মোবাইল নম্বর কেন শেয়ার করেননি? আপনার কাছে রাতে ফোন এসেছে, যখন আপনি প্লেন থেকে নেমে গিয়েছেন। আপনাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।”

    হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্যসচিবকে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনাকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।” এই সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মুখ্যসচিবকে ভর্ৎসনা করে বলেন, “নিষ্ক্রিয়তারও একটা লিমিট থাকা উচিত।” সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “শুধুমাত্র এই ক্ষেত্রে নয়, অন্যান্য জায়গায়ও তাঁদের যেভাবে প্যাম্পার করা হচ্ছে তাতে সবকিছু ঠিকঠাক নেই। এই ঘটনা আপনি এবং আপনার প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার প্রতিফলন। আপনার নিষ্ক্রিয়তার কারণেই নির্বাচন কমিশনকে ওই অবস্থায় পড়তে হয়েছে। আপনারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। কমিশনকে এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে আপনাদের নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই যোগাযোগের ঘাটতিই রাজ্যে এত সমস্যা ও অশান্তির সৃষ্টি করেছে। এটা আপনাদের কী ধরনের ক্রেডিবিলিটি (Chief Secretary)?”

    ‘নিজেকে একটু নীচে নামিয়ে আনুন’

    আইনজীবী লুথরা বলার চেষ্টা করেন যে ওই দিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেই একটি বৈঠকে ছিলেন। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “দয়া করে এদের ডিফেন্ড করবেন না। এই ধরনের অত্যন্ত একগুঁয়ে আমলাতান্ত্রিক মনোভাব আমরা অন্যান্য রাজ্যেও দেখছি (Supreme Court)।” প্রধান বিচারপতি মুখ্যসচিবকে বলেন, “আপনার পদমর্যাদা এতটাই বেশি যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো ছোট মানুষরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। দয়া করে নিজেকে একটু নীচে নামিয়ে আনুন, যাতে প্রধান বিচারপতির মতো সাধারণ নগণ্য মানুষরা অন্তত আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।”

    এদিন শুনানি হয়েছে ভার্চুয়ালি। সেই সময় আধিকারিকদের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “মুখ্যসচিব এবং অন্য আধিকারিকরা অনলাইনে উপস্থিত রয়েছেন। আমরা আশা করি, অফিসাররা এখন তাঁদের দায়িত্ব ভালোভাবে বুঝে গিয়েছেন। যে পরিস্থিতিতে তাঁদের সাড়া দেওয়া এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সাহায্য করা প্রত্যাশিত ছিল, তা তাঁরা করেননি।” আদালতের তরফে এনআইএকে (Chief Secretary) পরবর্তী রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১৩ এপ্রিল (Supreme Court) ।

     

  • Supreme Court: কালিয়াচক নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্ত, শোকজ মুখ্যসচিব সহ চারজনকে

    Supreme Court: কালিয়াচক নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্ত, শোকজ মুখ্যসচিব সহ চারজনকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্ষোভের নামে মালদার কালিয়াচকে গ্রামবাসীর হাতে তিন মহিলা সহ সাত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের বন্দি হওয়ার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। সাত বিচারককে প্রায় ১০ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মালদার ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে, বিষয়টিকে ‘কর্তব্যে গাফিলতির চরম নির্দশন’ উল্লেখ করে সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মালদার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসককে শোকজও করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

    ঠিক কী ঘটেছিল কালিয়াচকে?

    এসআইআর- এর তালিকায় নাম নেই, এর প্রতিবাদে বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি। কিন্তু বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। জনরোষ আছড়ে পড়ে এসআইআরের কাজে যাওয়া বিচারকদের উপর। যার জেরে রাতদুপুরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মালদার কালিয়াচক। বিক্ষোভকারী জনতা দীর্ঘক্ষণ ধরে কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে আটকে রাখেন সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কালিয়াচকে দীর্ঘক্ষণ ধরে আটকে রাখা হয়েছিল তিন মহিলা সহ সাত বিচারককে। বেলা যত গড়াতে থাকে (Kaliachak Incident), ততই লোকে-লোকারণ্য হয়ে পড়ে এলাকা। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর মধ্যরাতের পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে ওই বিচারকদের। এমনকী, উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়ে বিডিও অফিসের গেট আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, লাগানো হয় আগুনও। ঘটনাটি কমিশন কলকাতা হাইকোর্টকে জানালে, হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টকে অবগত করে।

    “নির্লজ্জ হামলা’, সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”

    আজ, বৃহস্পতিবার বিষয়টি আনা হয় সুপ্রিম কোর্টের গোচরে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চেই উত্থাপিত হয় এই বিষয়টি। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি ‘নির্লজ্জ হামলা’ এবং আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, বরং বিচারাধীন অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া থামিয়ে দিতে এবং বিচারকদের মনোবল ভেঙে দিতে এটি একটি সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, “আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল।” সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিচারকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক হামলা চালিয়ে আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখানো কাউকেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে একে ‘ক্রিমিনাল কনটেম্পট’ বা ফৌজদারি আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করা হবে।

    প্রশাসনের আচরণে অত্যন্ত বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)

    কালিয়াচকের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের আচরণে অত্যন্ত বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। গতকাল রাতে আমাদের মধ্যে কয়েকজনকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানানো হয় যে, মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকায় তিন মহিলা-সহ মোট সাতজন বিচারককে দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রেখেছিল। ঘেরাও শুরু হয়েছিল বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে।” ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন (Supreme Court), “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁর চিঠিতে জানান, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার—কেউই ঘটনাস্থলে পৌঁছননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজে থেকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে ফোন করতে হয়েছিল।”

    “সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ”

    প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “এই ঘটনা কোনও অপরাধের থেকে কম নয়। আমরা কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেব না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের দায়িত্ব পালন করেনি। তাদের গাফিলতির প্রমাণ এতে রয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের যোগাযোগ করার পরেও কেন তারা কোনও পদক্ষেপ করলেন না সে বিষয়ে তাদের জবাব দিতে হবে।” শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গকে ‘মোস্ট পোলারাইজড স্টেট’ বলে উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট৷ প্রধান বিচারপতি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত আপনার রাজ্যে সবাই রাজনীতির ভাষায় কথা বলেন। সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। আপনি কী ভাবছেন কারা এসব করছে আমরা বুঝি না? আমরা রাত দুটো পর্যন্ত সব কিছুর উপর নজর রেখেছি। খুব খুব দুঃখজনক ঘটনা।”

    কী বললেন প্রধান বিচারপতি 

    প্রধান বিচারপতি এও বলেন, “অন্যান্য সিনিয়র বিচারপতিরা যোগাযোগ রাখছিলেন। রাত বারোটার পর তাঁরা মুক্ত হন। পরে যখন তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন, তখনও তাঁদের গাড়িতে লাঠি দিয়ে মারা হয়, ছোড়া হয় পাথরও।” নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ডিস্ট্রিক্ট জাজদের নির্দেশও দেন প্রধান বিচারপতি (Kaliachak Incident)। এদিন বিরক্ত প্রকাশ করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “এই ঘটনায় প্রশাসনের আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল।”  গোটা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিশনের ওপরই আস্থা রাখে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বাগচী বলেন, “কমিশনকে প্রয়োজনীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।”  নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে শীর্ষ আদালতের পরামর্শ, রাজ্য প্রশাসনকে এই জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজ যাতে মসৃণভাবে হয় তা সুনিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন এই ঘটনা জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর ব্যাপক ভয়ের প্রভাব ফেলবে। আমরা প্রধান বিচারপতির চিঠি দেখে অত্যন্ত হতাশ (Supreme Court)।”

    রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “এর আগে নির্দেশ দিয়ে আমরা বলেছিলাম, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আপত্তি নিষ্পত্তির দায়িত্ব বিচারকদের দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই ঘটনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জানাতে হবে, কেন বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তাঁরা বিচারকদের নিরাপদে সরিয়ে (Kaliachak Incident) নেওয়ার ব্যবস্থা করেননি?” পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদার জেলাশাসক রাজনবীর সিং কপূর, মালদা পুলিশ সুপার অনুপম সিংকে শোকজের নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। তাঁর বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হবে না, সেই কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আগামী সোমবার পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলাটি ফের শুনবে সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিন শুনানিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির থাকতে হবে এই চারজনকে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ— ঘটনার তদন্ত সিবিআই কিংবা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র মতো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে করাতে হবে। যে সংস্থার উপর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তারা সরাসরি এই আদালতে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে বাধ্য থাকবে। শুধু তাই নয়। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে সেগুলি সেই সব জায়গায় মোতায়েন করতে হবে, যেখানে বিচারকেরা আপত্তি নিষ্পত্তির কাজ করছেন।

  • Form 6: ‘অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না’, এসআইআর মামলায় রাজ্যের দাবিকে গুরুত্ব দিল না সুপ্রিম কোর্ট

    Form 6: ‘অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না’, এসআইআর মামলায় রাজ্যের দাবিকে গুরুত্ব দিল না সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। বুধবারের শুনানিতে ওঠে ফর্ম-৬ (Form 6) প্রসঙ্গ। রাজ্যের হয়ে শীর্ষ আদালতে (Supreme Court) সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি বলেন,  “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বের হয়েছে। বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন?” কল্যাণের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না।” কল্যাণ বলেন, “প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম-৬ পূরণ করে জমা দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এটা কী ভাবে হতে পারে?”

    কমিশনের বক্তব্য (Form 6)

    কল্যাণের প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রায় প্রতিবারই এই অভিযোগ ওঠে, এটা নতুন কিছু নয়। নির্দিষ্ট করে আপনি আপত্তি তুলতে পারেন।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “বিজ্ঞপ্তির পরে একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে ভোট হয়। তার পরে কারও নাম ফর্ম-৬ দিয়ে উঠল মানেই তিনি ভোট দিতে পারবেন, এমন নয়।” নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতে বলা হয়, আইন মোতাবেক মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম-৬ জমা দেওয়া যায়। যে কেউ তা দিতে পারেন। কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইনে বলা আছে দেখুন ফর্ম-৬ জমা দেওয়া একটি চলে আসা পদ্ধতি। যে কেউ দিতে পারেন। কমিশন সব যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেয়।” এর পরেই ফর্ম-৬ নিয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। কমিশনের তরফে জানানো হয়, কারও আপত্তি থাকলে তিনি ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন (Supreme Court)।

    কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্য

    কমিশনের আইনজীবী বলেন, “অনুচ্ছেদ ২০ দেখুন। সেখানে ফর্ম-৬ নিয়ে স্পষ্ট বলা রয়েছে। কারও কোনও আপত্তি থাকলে ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন। এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও, কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হবে না’ (Form 6)। ফর্ম-৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচী বলেন, “কেউ যদি এখন তালিকায় থাকেন, কিন্তু পরে বাদ পড়েন, সে ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। মনে রাখতে হবে, কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার মানে এই নয় যে, তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হবে (Supreme Court)।” ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইনের অনুচ্ছেদ ২৩ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আজ কেউ যদি ১৮ বছরে পা দেন, তাঁরও ভোটার তালিকায় নাম তোলার অধিকার রয়েছে। কারও আইনগত অধিকার থাকলে, তাকে কেউ বাধা দিতে পারে না।”

    কী বললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি 

    এদিকে, এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির চিঠিতে আমরা সন্তুষ্ট। প্রায় ৪৭ লাখ নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে।” তিনি জানান, ট্রাইবুনালও দ্রুত কাজ শুরু করবে (Form 6)। ৬ এপ্রিল, সোমবার বিকেল ৪টেয় সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতি প্রথমে বলেছিলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব আপত্তির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তাই আমরা মামলাটি ৭ এপ্রিল বিকেল ৪টায় রাখছি।” এই সময় কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যাঁরা ভোটার তালিকায় আসবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তাই বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি ৭ তারিখের পরিবর্তে ৬ তারিখ রাত ১২টার মধ্যে করা হোক (Supreme Court)। শুনানিও ৬ তারিখ রাখা হোক।” তার পরেই শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে চলতি মাসের ৬ তারিখে (Form 6)।

     

  • SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এখনও কাটেনি এসআইআর (SIR) গেরোর জট। সোমবার রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। তবে তাতে কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এহেন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফে আবেদন জানানো হল। তাতে বলা হয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের আগের তালিকার নিরিখে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রয়োজনে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করতে পারে তারা। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে (Supreme Court)।

    রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য (SIR)

    মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, প্রথম দফার নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৬ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ভোটার তালিকায় নাম তোলা বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর আর্জি, যে বা যাঁরা বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের আগের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে, ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। এই সময় (SIR) প্রধান বিচারপতি বলেন, “গতকাল সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের তথ্য পাঠাতে থাকেন।” শ্যাম বলেন, “আমাদের কয়েকটি সাজেশন রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাবে যথাক্রমে ১৬ এবং ২২ এপ্রিল। ১৪ জন এমন প্রার্থী রয়েছেন, যাঁরা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন। তাঁরা ৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না।”

    কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

    এই সময় প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) বলেন, “এই প্রতিটি প্রশাসনিক ইস্যু কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেখতে পারেন।” তাঁর পরামর্শ, যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নাম নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরা অ্যাজুডিকোটিং অফিসারের কাছে গিয়ে এই বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। এই সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, “আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেছি। মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে আমরা প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে পারি।” এর পরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে। অন্য (SIR) সব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণভাবে হয়েছে।” তিনি জানান, কোথাও কোথাও এসআইআরের পরে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে।

     

  • Religious Conversion: ‘তফশিলি জাতির সুবিধা সীমিত শুধু হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধদের জন্যই’, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

    Religious Conversion: ‘তফশিলি জাতির সুবিধা সীমিত শুধু হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধদের জন্যই’, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কেউ যদি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে এবং তা পালন করে, তাহলে সে আর তফশিলি জাতির মর্যাদা দাবি করতে পারে না।” মঙ্গলবার একটি রায়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে সাফ (Religious Conversion) জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত উল্লেখ করেছে, তফশিলি জাতির পরিচয় শুধুমাত্র সেইসব ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যারা সংবিধানের ১৯৫০ সালের (SC) নির্দেশ অনুযায়ী হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম অনুসরণ করেন। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ১৯৫০ সালের এই আদেশে কোনও ধরনের অস্পষ্টতার সুযোগ নেই।

    তফশিলি জাতির মর্যাদা বাতিল (Religious Conversion)

    আদালত এও জানিয়েছে, ধারা ৩-এ অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কোনও ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে, ব্যক্তির জন্ম যাই হোক না কেন, তার তফশিলি জাতির মর্যাদা সঙ্গে সঙ্গে এবং সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে যায়। বিচারপতিরা বলেন, “এই বিধিনিষেধ চূড়ান্ত এবং অচল।” আদালত জানিয়েছে, “সংবিধান, সংসদ বা রাজ্য বিধানসভা প্রণীত কোনও আইনের অধীনে কোনও সুবিধা, সুরক্ষা, সংরক্ষণ বা অধিকার এমন ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে না, যিনি ধারা ৩ অনুযায়ী তফশিলি জাতির সদস্য হিসেবে গণ্য নন। এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ এবং এর কোনও ব্যতিক্রম নেই। একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে ধারা ৩-এ উল্লিখিত ধর্মের বাইরে অন্য ধর্ম পালন করে তফশিলি জাতির সদস্যপদ দাবি করতে পারেন না।”

    খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন অভিযোগকারী

    এই রায়টি একটি মামলার শুনানির সময় দেওয়া হয়, যেখানে এক ব্যক্তি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে একজন পাদ্রি হিসেবে কাজ করছিলেন। ধর্মান্তরের পরেও তিনি তফশিলি জাতি ও তফশিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযোগ দায়ের করেন, দাবি করেন যে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন (Religious Conversion)। এই দাবি চ্যালেঞ্জ করে অভিযুক্ত পক্ষ জানায়, তিনি আর তফশিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত নন। তাই ওই আইনের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার তাঁর নেই। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সঙ্গে সহমত পোষণ করে জানিয়ে দেয়, কোনও ব্যক্তি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ ও চর্চা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর তপশিলি জাতির মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শেষ হয়ে যায় (Supreme Court)।

    এসসি-এসটি আইন

    জানা গিয়েছে, মামলাটি একটি ফৌজদারি আবেদনের মাধ্যমে শুরু হয়, যেখানে এসসি-এসটি আইনের ৩(১)(আর), ৩(১)(এস), ৩(২)(ভিএ) ধারা-সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১, ৫০৬ ও ৩২৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগকারী, যিনি পিট্টালাভানিপালেম গ্রামে রবিবারের প্রার্থনা পরিচালনা করেন, অভিযোগ করেন, তিনি বারবার হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং তাঁর পরিবারের ওপর আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁকে জাতিগত গালিগালাজ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে তিনি মামলা দায়ের করেন (Religious Conversion)। তদন্ত শেষ হয়ে চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর, অভিযুক্ত হাইকোর্টে আবেদন করে মামলাটি খারিজ করার দাবি জানান। অভিযুক্তের যুক্তি ছিল, এসসি এবং এসটি আইনের অধীনে এফআইআর দায়ের করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ অভিযোগকারী খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং একজন পাদ্রি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “১৯৫০ সালের সংবিধান (শিডিউল কাস্টস) আদেশ স্পষ্টভাবে জানায়, যে ব্যক্তি আর হিন্দুধর্ম অনুসরণ করেন না, তাঁকে তফশিলি জাতির সদস্য হিসেবে গণ্য করা যাবে না (Religious Conversion)।”

  • I-PAC Case Hearing: ‘মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন, তা মোটেও সুখকর নয়’, আইপ্যাক-কাণ্ডে মমতার ভূমিকায় বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট

    I-PAC Case Hearing: ‘মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন, তা মোটেও সুখকর নয়’, আইপ্যাক-কাণ্ডে মমতার ভূমিকায় বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে (SC) ফের ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য। ‘ইডির তদন্তে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়াটা অনভিপ্রেত ঘটনা’! আইপ্যাক-কাণ্ড (I-PAC Case Hearing) নিয়ে মামলার শুনানিতে মন্তব্য শীর্ষ আদালতের। বুধবার আইপ্যাক মামলার শুনানি চলাকালীন আরও সময় চাইল রাজ্য। ইডি-র তরফে যে হলফনামা দেওয়া হয়েছে তার উত্তর দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হল। বাড়তি সময় চাওয়ার তীব্র বিরোধিতা করা হয় ইডি-র তরফে। ৪ সপ্তাহ সময় ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে, জানান বিচারপতি মিশ্র।

    সময় নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে

    বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া বেঞ্চে ফের সময় চেয়ে আবেদন জানান রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার বক্তব্য, “সময় নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ।” সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার বক্তব্য,“এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার, যে একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন। ৪ সপ্তাহ পরেও তাঁরা কিছু জমা দেওয়ার জন্য সময় চাইছেন।”

    আদালত কীভাবে চলবে, সেটা তার বিষয়

    ইতিমধ্যেই রাজ্যকে যে আদালত চার সপ্তাহ সময় দিয়ে দিয়েছে, তা রাজ্যকে স্মরণ করান বিচারপতি। বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল তখন বলেন, “আমরা রিজয়েনডার জমা দিতে চাই।” ৪ সপ্তাহ সময় ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে, জানান বিচারপতি মিশ্র। আমরা শুনব, শুনানি শুরু করুন, মন্তব্য বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর। রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সওয়াল করেন, ‘ইডি যে রিজয়েন্ডার জমা দিয়েছে, তাতে মূল মামলার আবেদনের থেকেও বেশি কথা বলা হয়েছে।’ সঙ্গে তিনি জানান, আদালত যদি সময় না দিতে চায়, আদালত তা করতেই পারে। এতেই ক্ষিপ্ত হন বিচারপতি মিশ্র। বলেন, ‘আপনারা আদালতকে এটা বলতে পারেন না যে, আদালতে কীভাবে শুনানি চালাবে। কেউ সময় নিয়েছে বলে আপনাকেও সময় নিতে হবে… এটা কোনও যুক্তি হতে পারে না, মামলা হবে কিনা সেটা নিয়ে যুদ্ধ চলতে পারে না।’

    ইডি-র মামলা নিয়ে প্রশ্ন রাজ্যের

    রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান ইডির মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে সওয়াল শুরু করেন। রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, ইডি কোনও জুরিস্টিক এনটিটি নয় এবং সেই কারণে ইডি সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে কোনও পিটিশন দাখিল করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, যদি ইডির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার কোনও সুযোগ না থাকে, তবে ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে করা পিটিশনটি গ্রহণযোগ্য নয়। ইডি আদৌ কোনও পিটিশন দাখিল করতে পারে কি না, তা এখানে বিবেচ্য। আর্টিকেল ৩২ অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার একজন নাগরিক বা ব্যক্তির থাকতে পারে অথবা একটি লিগ্যাল কর্পোরেট সংস্থার থাকতে পারে। যদি তা না হয়, তাহলে এই মামলা করা যায় না। রাজ্যের তরফে বলা হয়, “আমরা বলছি, কেন্দ্রীয় সরকার এক্ষেত্রে মামলা করতে পারে। কিন্তু কোনও দফতর নয় বা সিআইডি বা ইডির মত সংস্থা নয়। যদি তারা করেন, তাহলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করে এ ধরনের সংস্থার ক্ষমতা এক্তিয়ার সব নতুন করে ঠিক করতে হবে।”

    এটা মোটেই সুখকর চিত্র নয়

    সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগ করেন, “যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী জোর করে তদন্ত চলাকালীন ঢুকেছেন, তা অত্যন্ত ‘আনইউজুয়াল।’এর আগে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করে ইডি। হলফনামায় ইডি-র তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, রাজ্য় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতেই তল্লাশি বন্ধ করতে বাধ্য হয় ইডি অফিসাররা, হলফনামায় এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি, কোনও তদন্তকারী সংস্থা কখনওই তল্লাশি চলাকালীন কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে সেখানে প্রবেশ করতে এবং জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে না, সেটাও উল্লেখ করে ইডি। বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি তদন্ত করছে, সেখানে বলপূর্বক ঢুকে পড়ছেন, এটা মোটেই সুখকর চিত্র নয়। যদি আর্টিকেল ৩২ বা আর্টিকেল ২২৬ অনুযায়ী মামলা করা না যায়, তাহলে কী করা যাবে? কাল অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী একই কাজ করতে পারেন।”

    মামলা স্থগিত নয়, রাজ্যের আর্জি খারিজ

    আইপ্যাক মামলায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তল্লাশি চলাকালীন হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ চেয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের তৎকালীন ডিজিপি রাজীব কুমার এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ কুমারকেও এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। শুনানির সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইডির হলফনামার জবাব জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। তবে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এই মামলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে রাজ্য। ইডি ইতিমধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে তাদের প্রতিক্রিয়া আদালতে দাখিল করেছে। এদিন আইপ্যাক মামলা স্থগিত করার রাজ্যের সিদ্ধান্তকে খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ইডির অভিযোগের জবাব দিতে রাজ্যকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

  • Supreme Court: দত্তক নেওয়া মায়েরাও শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের ছুটির অধিকারী, ‘সুপ্রিম’ রায়

    Supreme Court: দত্তক নেওয়া মায়েরাও শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের ছুটির অধিকারী, ‘সুপ্রিম’ রায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সামাজিক সুরক্ষা আইনের একটি বিধান বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ওই বিধানে দত্তক নেওয়া মায়ের মাতৃত্বকালীন সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল শুধুমাত্র তিন মাসের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে। শীর্ষ আদালত এই শ্রেণিবিভাগকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে (Maternity Leave)।

    ‘হামসা নন্দিনী নান্দুরি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলা (Supreme Court)

    ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ, ‘হামসা নন্দিনী নান্দুরি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলায় বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ রায় দেয়, সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড ২০২০-এর ধারা ৬০(৪) সংবিধানের ১৪ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে। এই দুই অনুচ্ছেদ সমতা ও জীবনের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। আদালত রায় দেয়, দত্তক নেওয়া মায়েরা শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকারী।

    আদালতের নির্দেশ

    প্রসঙ্গত, আগে এই সুবিধা সীমাবদ্ধ ছিল শুধুমাত্র তিন মাসের কম বয়সি শিশু দত্তক নেওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে। যার ফলে অধিকাংশ দত্তক গ্রহণকারী অভিভাবক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। ২০২০ সালের আইনের ধারা ৬০(৪)-এ বলা ছিল, “যে নারী আইনত তিন মাসের কম বয়সি শিশু দত্তক নেন বা কমিশনিং মাদার, তিনি শিশুটিকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাবেন।” আদালতের নির্দেশ, এখন এই ধারা হবে, “যে নারী আইনত কোনও শিশুকে দত্তক নেন বা কমিশনিং মাদার, তিনি শিশুকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাবেন।”

    দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিভাবকের প্রয়োজন কম নয় 

    আদালত মনে করে, শিশুর বয়সের ভিত্তিতে দত্তক নেওয়া মায়েদের মধ্যে পার্থক্য করার কোনও যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “মাতৃত্বকালীন সুবিধার উদ্দেশ্য সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়ার সঙ্গে নয়, বরং মাতৃত্বের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত (Supreme Court)।” আদালত এও জানায়, দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্ব, পরিচর্যার প্রয়োজন এবং মানসিক অভিযোজন শিশুর বয়স নির্বিশেষে প্রায় একই থাকে। দত্তক গ্রহণ সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে প্রজনন স্বাধীনতার একটি বৈধ রূপ এবং এটি জৈবিক পিতামাতার তুলনায় গৌণ নয় (Maternity Leave)।

    রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভারতের আইনি কাঠামোয় খুব কম বয়সি শিশুকে দত্তক নেওয়ার বাস্তব অসুবিধা। আদালত জানিয়েছে, কোনও শিশুকে আইনিভাবে দত্তকের জন্য মুক্ত ঘোষণা করতে করতে সাধারণত তিন মাসের বেশি সময় লেগে যায়। তাই আগের বিধানটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। শীর্ষ আদালতের রায়ে বলা হয়, “এই বয়সসীমা বিধানটিকে কার্যত অর্থহীন ও অপ্রয়োগযোগ্য করে তোলে।” বেঞ্চ জানিয়েছে, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থই নীতিনির্ধারণের মূল হওয়া উচিত। দত্তক পরিবারের সঙ্গে শিশুর মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময়, যত্ন ও মানসিক বন্ধন প্রয়োজন, যা কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। আদালতের রায়, বড় বয়সের শিশুকে দত্তক নেওয়া মায়েদের ছুটি না দেওয়া মাতৃত্বকালীন যত্ন এবং শিশুর বিকাশ—দু’টিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই রায়ের পর আদালতের নির্দেশ, ধারা ৬০(৪) এমনভাবে পড়তে হবে যাতে সব দত্তক গ্রহণকারী মা ও কমিশনিং মাদার শিশুকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পান (Supreme Court)।

    পিতৃত্বকালীন যত্ন

    এদিকে, আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা হিসেবে পিতৃত্বকালীন ছুটি চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানায়। আদালত বলে, সন্তানের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব উভয় অভিভাবকের মধ্যে ভাগ হওয়া উচিত এবং তা তাঁদের ও শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন। শীর্ষ আদালত নির্দেশে জানিয়েছে, “আমরা কেন্দ্রকে পিতৃত্বকালীন ছুটিকে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি বিধান আনার আহ্বান জানাচ্ছি (Maternity Leave)। এই ছুটির সময়সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত, যাতে তা অভিভাবক ও শিশুর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় (Supreme Court)।”

  • US: ট্রাম্প-আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা মার্কিন শীর্ষ আদালতের, কী বলল ভারত?

    US: ট্রাম্প-আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা মার্কিন শীর্ষ আদালতের, কী বলল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন (US) সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এরপর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, এই রায়ের প্রভাব কী হতে পারে তা তারা খতিয়ে দেখছে। মন্ত্রক বলেছে, “আমরা গতকাল (শুক্রবার) শুল্ক সংক্রান্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় লক্ষ্য করেছি। এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন।” তারা আরও জানিয়েছে, “মার্কিন প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের করার কথা ঘোষণা করেছে। এই সব পদক্ষেপের প্রভাব আমরা পর্যালোচনা করছি।”

    সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য (US)

    শুক্রবার, রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট ছয়–তিন ভোটে রায় দেয় যে ১৯৭৭ সালের যে আইনের ভিত্তিতে ট্রাম্প পৃথক পৃথক দেশের ওপর হঠাৎ শুল্ক আরোপ করেছিলেন—যার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল—সেই আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের অনুমোদন দেয় না। ট্রাম্প এই রায় দেওয়া বিচারকদের মধ্যে দু’জনকে মনোনীত করেছিলেন। এদিনের ঘটনার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া, আদালত বিদেশি স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের জন্য সঠিক কাজ করার সাহস না দেখানোয় আদালতের কিছু সদস্যের জন্য আমি লজ্জিত—পুরোপুরি লজ্জিত।” ট্রাম্প আরও বলেন, “দেশকে রক্ষা করার জন্য একজন প্রেসিডেন্ট অতীতে আমার আরোপিত শুল্কের চেয়েও বেশি শুল্ক আরোপ করতে পারেন।” তিনি বলেন, এই রায় তাঁকে আরও শক্তিশালী করেছে (US)। ডালাসের ইকোনমিক ক্লাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, “বিকল্প পদ্ধতিতে ২০২৬ সালে শুল্ক আয়ে কার্যত কোনও পরিবর্তন হবে না (Supreme Court)।”

    নয়া শুল্ক আরোপ

    ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার অধীনে নতুন শুল্ক আরোপ করেন। এই ধারা প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক পরিশোধ-সংক্রান্ত মৌলিক সমস্যার মোকাবিলায় অতিরিক্ত শুল্ক ও বিশেষ আমদানি-নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয়। ১২২ ধারা অনুযায়ী, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বড় ও গুরুতর পরিশোধ-ঘাটতি অর্থাৎ যখন আমদানি রফতানির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়—মোকাবিলার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অস্থায়ী শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বিস্তৃত শুল্কনীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর তিনি আমেরিকায় আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেন। এর ফলে ভারতের ওপর শুল্কহার ১৮ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। নতুন শুল্ক নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করার পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, “এটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে (US)।”

    হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, নয়া শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর হবে। তবে পৃথক তদন্তাধীন খাত—যেমন ফার্মাসিউটিক্যাল—এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো–কানাডা চুক্তির আওতায় (Supreme Court) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় বহাল থাকবে (US)।

     

  • US: মোদির কাছে মাথা নত! শেষমেশ ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল আমেরিকা

    US: মোদির কাছে মাথা নত! শেষমেশ ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল আমেরিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US)। হোয়াইট হাউসের নয়া এক বিজ্ঞপ্তির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে পূর্ববর্তী বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামো বাতিল করে দেয় (Supreme Court Ruling)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগে যেসব ভারতীয় রফতানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপিত ছিল, সেগুলির ওপর এখন ১০ শতাংশ ‘অ্যাড ভ্যালোরেম’ (ad valorem) শুল্ক প্রযোজ্য হবে। যদিও এর আগে দুই দেশের মধ্যে ১৮ শতাংশ শুল্ক হার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রফতানিকারীরা কার্যত ২৫ শতাংশ থেকে সরাসরি ১০ শতাংশে শুল্ক কমার সুবিধা পাবেন।

    সংশোধিত শুল্কহার কবে থেকে (US)

    সংশোধিত শুল্কহার ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে এবং ১৫০ দিন বলবৎ থাকবে। এই নয়া কাঠামোটি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, এমন সব দেশের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। এর আগে সিএনবিসি জানিয়েছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি থাকা দেশগুলি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত নতুন ঘোষণার আওতায় কম শুল্ক সুবিধা পাবে। এই সাময়িক শুল্ক হ্রাসকে মার্কিন বাণিজ্যনীতির বৃহত্তর পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে (US)। শুল্ক সংশোধনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে সুপ্রিম কোর্টের ৬–৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের পর, যেখানে প্রশাসনের পূর্ববর্তী বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দেন যে, আমদানি শুল্ক আরোপের জন্য যে আইনের উল্লেখ করা হয়েছিল, তা প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এর ফলে একতরফা শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়, যা একাধিক দেশকে প্রভাবিত করেছিল।

    শুল্কের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

    তবে আদালত এই বিষয়ে কিছু বলেনি যে, আগে আদায় করা শুল্কের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দেশগুলি ফেরতের অধিকার পাবে কি না। বিষয়টি এখনও নিষ্পন্ন হয়নি এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে আইনি বা কূটনৈতিক আলোচনা হতে পারে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বিচারপতিদের সমালোচনা করে তাঁদের জাতির পক্ষে লজ্জা বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে তাঁরা “বিদেশি স্বার্থ ও ক্ষুদ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর” প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতীয় রফতানিকারীদের জন্য ১০ শতাংশে সাময়িক শুল্ক হ্রাস স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি ও আমেরিকার বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এনে দেবে। এই ১৫০ দিনের সময়সীমা উভয় দেশের বাণিজ্য কর্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ (Supreme Court Ruling) হয়ে উঠবে। কারণ ভবিষ্যতে  ভারত- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার রূপরেখা নির্ধারণে এটি প্রভাব ফেলতে পারে (US)।

     

  • Beldanga Case: বেলডাঙা হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রামধাক্কা খেল মমতার সরকার

    Beldanga Case: বেলডাঙা হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রামধাক্কা খেল মমতার সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা হিংসা মামলায় (Beldanga Case) সুপ্রিম কোর্টে রামধাক্কা খেল তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। ওই হিংসার ঘটনার তদন্ত করবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ, সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ। বেলডাঙার ওই হিংসার ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট বলে দিয়েছিল, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে এই অশান্তির মোকাবিলা করবে। তাছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে, তাহলে এনআইএ তদন্তও হতে পারে। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দেশের শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার নিষ্পত্তি করে। অর্থাৎ, কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে আর হস্তক্ষেপ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। এর পাশাপাশি হাইকোর্টেই রাজ্যের মামলাটি পাঠানো হয়েছে। তবে ইউএপিএর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ সঠিক হবে কিনা, সেই গোটা বিষয়টি হাইকোর্ট দেখবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

    কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছিলেন শুভেন্দু (Beldanga Case)

    প্রসঙ্গত, বেলডাঙার (Beldanga Case) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরে হাইকোর্টে মামলা গেলে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্র যদি এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন মনে করে, তাহলে সম্পূর্ণরূপে তাদের স্বাধীনতা থাকবে। হাইকোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্টেও বহাল রয়েছে শুনে শুভেন্দু বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের আবেদন গ্রাহ্যই করেনি। এর ভিত্তিতে আবার ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। আমিই পিটিশনার ছিলাম। রাজ্যের আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট কোনও গুরুত্বই দেয়নি।”

    উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা

    ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিক খুনের অভিযোগে জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। অভিযোগ, ওই শ্রমিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে দেহ জেলায় ফিরতেই উত্তেজনা ছড়ায় বেলডাঙায়। টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয় রাস্তা, রেল। শিয়ালদা-লালগোটা শাখার মহেশপুর সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনে বাঁশ ফেলে রেখেছিল বিক্ষোভকারীরা (Supreme Court)। বাঁশে মৃতদেহের ঝুলন্ত ছবিও দেখা যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে বচসায় জড়িয়ে পড়েন স্থানীয়রা। খবর জোগাড় করতে গিয়ে আক্রান্ত হন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরাও। ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৩০ জনকে। ঘটনার তিনদিন পরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় গিয়েছিলেন সাংসদ তৃণমূলের ইউসুফ পাঠান। উল্লেখ্য, বেলডাঙার অশান্তি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “শুক্রবার জুম্মাবার…সংখ্যালঘুদের কাছে একটা সেন্টিমেন্ট রয়েছে। সেখানে শুক্রবার অনেকেই নমাজ আদায় করতে এসেছে। এখানে কেউ যদি রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ পূরণ করার জন্য উসকে দেয়।”

    সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

    বুধবার শীর্ষ আদালতের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “প্রায় এক মাস আগেই এনআইএকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা ইতিপূর্বেই এফআইআর দায়ের করেছে (Beldanga Case)। এই মুহূর্তে ইউএপিএ ধারা প্রয়োগ করা উচিত কিনা, সে বিষয়ে আমরা কোনও মতামত দিচ্ছি না।” যদিও আদালতের নির্দেশ, এনআইএকে তদন্তের একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে কলকাতা হাইকোর্টে। সেই রিপোর্টে জানাতে হবে বেলডাঙার ঘটনায় আদৌ ইউএপিএ প্রয়োগ করার মতো উপাদান মজুত রয়েছে কিনা। এদিন শুনানির সময় এনআইএ এবং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, বেলডাঙা মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র রাজ্য প্রশাসন তাদের হাতে (Supreme Court) তুলে দিচ্ছে না। নথিপত্র হস্তান্তরের এই অসহযোগিতার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়েছে (Beldanga Case)।

LinkedIn
Share