Tag: SC

SC

  • Mayawati: ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীর

    Mayawati: ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার জন্য প্রস্তাবিত ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল (Womens Reservation Bill) সমর্থন করেছেন বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতী (Mayawati)। এই বিলটি পাশ করাতে কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশেষ অধিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংসদ। এই অধিবেশনেই মহিলাদের সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা ও পাস করা হবে। এই প্রেক্ষিতে বহুজন সমাজ পার্টি সুপ্রিমোর ভিন্ন সুরে যারপরনাই খুশি বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। মায়াবতী বলেন, “এটি অন্তত মহিলাদের প্রাপ্য প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার একটি সূচনা।
    সংখ্যাটা হয়তো কম, কিন্তু এটি একটি শুরু, এবং আমরা একে স্বাগত জানাই। ৫০ না হলেও, ৩৩ শতাংশই চলবে।”

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য (Mayawati)

    উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দল বিএসপি আগে থেকেই মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্য কোনও দল এতে রাজি হয়নি, ভবিষ্যতেও সম্মত হবে বলে মনে হয় না। আমরা শ্রদ্ধেয় বিআর আম্বেদকরকেও ধন্যবাদ জানাই, যিনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করেছিলেন।” তিনি জানান, ২০২৩ সালে প্রথম পাশ হওয়া আইন বাস্তবায়িত হতে দেরি হলেও তার দল একে স্বাগত জানায় এবং ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যদিও দেরি হয়েছে, তবুও আমরা একে স্বাগত জানাই। যদি প্রকৃতপক্ষে শোষিত ও বঞ্চিত মহিলাদের—বিশেষত এসসি, এসটি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণ দেওয়া হয়, তবে তা যথাযথ ও ঐতিহাসিক (Mayawati) হবে।”

    নারী ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা

    মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মায়াবতী বলেন, “মহিলাদের অধিকার নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও সুস্পষ্ট নীতি ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। আগামীকাল থেকে সংসদের তিন দিনের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও সঠিক নীতি ও ইচ্ছেশক্তির অভাবে তা যথাযথভাবে এগোয়নি। অন্যান্য (Womens Reservation Bill) বঞ্চিত গোষ্ঠীর মতো মহিলারাও এখনও বিভিন্ন অপরাধ ও হিংসার শিকার হচ্ছেন (Mayawati)।”

    কংগ্রেসকে নিশানা মায়াবতীর

    কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর দলটির নীতিতে জাতিভেদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং এর ফলে মহিলাদের সংরক্ষণ বিলম্বিত হয়েছে।” মায়াবতী বলেন, “তৎকালীন কংগ্রেস সরকার জাতিভেদের কারণে এটি গ্রহণ করেনি এবং পরে ধাপে ধাপে তা পাশ করে। ফলে আম্বেদকরকে দেশের প্রথম আইনমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। কারণ ওবিসিদের জন্য সংরক্ষণ এবং মহিলাদের নিরাপত্তা ও উন্নতির জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” প্রসঙ্গত, এর আগে মঙ্গলবার, সরকার ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে ৮১৫টি আসন রাজ্যগুলির জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত হবে বলে সূত্রের খবর। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩টি আসন রয়েছে। সরকার ১৬, ১৭ এবং ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে চায়, যাতে ২০২৯ থেকে লোকসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা যায় (Mayawati)। প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে সব রাজ্যের আসন সংখ্যা বাড়বে। এই বিশেষ অধিবেশনে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, ২০২৩ সংশোধন এবং প্রস্তাবিত (Womens Reservation Bill) ডিলিমিটেশন বিলও নিয়ে আলোচনা হবে।

     

  • SIR: ১২ রাজ্যে শেষ এসআইআর, কোন রাজ্যে বাদ গেল কত ভোটার?

    SIR: ১২ রাজ্যে শেষ এসআইআর, কোন রাজ্যে বাদ গেল কত ভোটার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১২টি রাজ্য এবং ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের কাজ শেষ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। গত বছর বিহার থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া, যা বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুরু হয়েছিল, এখন একটি বৃহৎ পরিসরের ভোটার তালিকা পরিশোধন অভিযানে পরিণত হয়েছে।

    ইলেকশন কমিশনের তথ্য (SIR)

    ইলেকশন কমিশন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় মৃত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট বা যাচাইযোগ্য নয় এমন ভোটারদের শনাক্ত করা হয়েছে। এই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫১ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৪৫.৮ কোটির কাছাকাছি। যাচাইকরণের সময় ৭.২ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দাবি, আপত্তি এবং নতুন নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ভোটার যুক্ত হন, ফলে মোট ৫.২ কোটি বা প্রায় ১০ শতাংশ ভোটার কমে যায়।

    উত্তরপ্রদেশ
    জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের বৃহত্তম রাজ্য উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। এসআইআরের আগে ভোটার সংখ্যা ছিল ১৫.৪৪ কোটি, পরে কমে এটাই গিয়ে দাঁড়ায় ১৩.৩৯ কোটিতে। অর্থাৎ প্রায় ২.০৫ কোটি নাম বাদ পড়েছে। দাবি ও আপত্তির পর প্রায় ১৩.২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, বেড়েছে পড়ুয়ার সংখ্যাও।

    তামিলনাড়ু
    তামিলনাড়ুতে ভোটার সংখ্যা ৬.৪১ কোটি থেকে কমে ৫.৬৭ কোটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বাদ গিয়েছে প্রায় ৯৭.৩৭ লাখ নাম।

    পশ্চিমবঙ্গ
    পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়েছেন প্রায় ৯০.৯৩ লাখ ভোটার। এ রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৬.৭৫ কোটিতে গিয়ে দাঁড়ায়। বিচার প্রক্রিয়ায় ৬০ লাখের বেশি মামলা খতিয়ে দেখা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২৭ লাখের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়। মুর্শিদাবাদ জেলায় সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমালোচনা করেন নির্বাচন কমিশনের। পরে চ্যালেঞ্জ করেন সুপ্রিম কোর্টে।

    গুজরাট
    গুজরাটে ভোটার সংখ্যা ৫.০৮ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৪.৪০ কোটি।

    মধ্যপ্রদেশ

    মধ্যপ্রদেশে বেড়া দিতে গিয়ে এসআইআরে বাদ পড়েছে প্রায় ৩৪.২৫ লাখ ভোটারের নাম। মোট ভোটার সংখ্যা ৫.৭৪ কোটি থেকে কমে হয় ৫.৩৯ কোটি।

    মরু রাজ্যে বাদ পড়লেন কত

    রাজস্থান

    মরুরাজ্যে প্রায় ৩১.৩৬ লাখ ভোটার বাদ পড়েছেন। ছত্তিশগড়
    ২৪.৯৯ লাখ নাম বাদ পড়ায় ভোটার সংখ্যা ২.১২ কোটি থেকে কমে হয়েছে ১.৮৭ কোটি। কেরল
    ৮.৯৭ লাখ নাম বাদ পড়ায় মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২.৭১ কোটি।

    ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ

    গোয়া
    ১.২৭ লাখ ভোটার কমে গিয়েছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে
    ৫২,৩৬৪ ভোটার কমেছে। পুদুচেরিতে
    ভোটার সংখ্যা ১০.২১ লাখ থেকে কমে হয়েছে ৯.৪৪ লাখ।

    লাক্ষাদ্বীপ
    মাত্র ২০৬ ভোটার কমে মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৫৭,৬০৭। প্রসঙ্গত, এই আপডেট করা ভোটার তালিকার উদ্দেশ্যই হল ভুয়ো ভোটার কমানো এবং সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা।

     

  • West Bengal SIR: ‘ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না’ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    West Bengal SIR: ‘ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না’ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে দুটি বিষয় উঠে এল সুপ্রিম কোর্টে। ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের প্রসঙ্গ (West Bengal SIR) এবং মালদাকাণ্ড। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। রাজ্যে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

    প্রধান বিচারপতির বক্তব্য (West Bengal SIR)

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি না, যাতে আপিল ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের ওপর আরও বাড়তি চাপ পড়ে। আমাদের সামনে আর একটি আবেদনও রয়েছে, যেখানে আপিল প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি তোলা হয়েছে।” এদিনের শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সাংসদ তথা তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ১৬ লাখ আবেদন করা হয়েছে। তাঁদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানান তিনি। কল্যাণের সওয়াল প্রসঙ্গে শীর্ষ আদালত বলে, “সেই প্রশ্নই ওঠে না। যদি আমরা এটা অনুমতি দিই, তা হলে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকারও স্থগিত করতে হবে।”

    শীর্ষ আদালতের নির্দেশ

    শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিতে হবে। প্রধান বিচারপতি জানান, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া বিচারকদের নিরাপত্তা কোনওভাবেই প্রত্যাহার করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি বলেন, “কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, মোট ৬০ লাখ ৪ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এখনও প্রায় ২,০০০ মুলতবি রয়েছে।” মালদার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন আমরা জানতে চাই, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কারও কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র ছিল কি না। আমরা চাই না, বিষয়টি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকুক।”

    ট্রাইবুনালে আবেদন করার পরামর্শ

    এদিকে, মালদাকাণ্ডে তদন্তের অন্তর্বতী রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্তের কত দূর অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়েও রিপোর্ট জমা দিয়েছে তারা। এজলাসে এনআইএ জানায়, মালদহকাণ্ডে মূল চক্রান্তকারীকে রবিবারই গ্রেফতার করা হয়েছে (West Bengal SIR)। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মূল মামলা শুরুর আগে এক আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, ট্রাইবুনালে আবেদন শোনা হচ্ছে না। সঙ্গে সঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমায় জানিয়েছেন আজ সকাল থেকে ট্রাইবুনালে শুনানি শুরু হয়েছে। ট্রাইবুনালকে এ ভাবে ব্ল্যাকমেল করা যাবে না। আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নেব না, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ট্রাইবুনালই নেবে।” মামলাকারীকে ট্রাইবুনালে আবেদন করার পরামর্শও দেয় শীর্ষ আদালত।

    বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী

    এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও বলেন, “এক্ষেত্রে কোনও দায় ঠেলাঠেলি চলবে না। দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে পড়ে ভুগতে হচ্ছে ভোটারদের।” কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি বাগচী বলেন, “কেউ যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেই দেশে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু সাংবিধানিকই নয়, এটি আবেগের বিষয়ও বটে (West Bengal SIR)।” তথ্যগত অসঙ্গতির মতো একটি বিষয় যে শুধু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই রয়েছে, অন্য কোনও রাজ্যে নেই, সে বিষয়ের উপরেও আলোকপাত করেন বিচারপতি বাগচী। তিনি বলেন, “যত ক্ষণ না বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ছেন বা ভোটের ফলের ওপর তার বাস্তবিক কোনও প্রভাব পড়ছে, ততক্ষণ নির্বাচন বাতিল করা সম্ভব নয়।” বিচারপতি বাগচী বলেন, “এসআইআরের বিচারকাজে নিয়োজিত আধিকারিকদের ওপর অত্যধিক চাপ রয়েছে। তাই তাঁদের কাছ থেকে ১০০ শতাংশ নির্ভুলতা আশা করা যায় না। প্রতিদিন ১০০০টিরও বেশি নথি যাচাই করতে হলে ৭০ শতাংশ নির্ভুলতাকেও ‘চমৎকার’ বলা যেতে পারে।”

     

  • NIA: মালদায় জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাওয়ের তদন্তে ১২ মামলা দায়ের এনআইএ-র

    NIA: মালদায় জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাওয়ের তদন্তে ১২ মামলা দায়ের এনআইএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মালদায় (Malda) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাও করার ঘটনার তদন্তে ১২টি মামলা দায়ের করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)।

    এনআইএ-র বিবৃতি (NIA)

    গভীর রাতে প্রকাশিত বিবৃতিতে এনআইএ-র তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের জন্য তারা ফের মালদা জেলার মোথাবাড়ি থানায় ৭টি এবং কালিয়াচক থানায় ৫টি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। গত ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশ মালদায় এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এনআইএ-র তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই এই মামলাগুলির বিস্তারিত তদন্তের জন্য মালদায় পৌঁছে গিয়েছে।”

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    সোমবার শীর্ষ আদালত মালদায় সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে ঘেরাও সংক্রান্ত মামলাগুলি এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আমলাতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যাচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় ও সরকারি দফতরে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল এম পানচোলির বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে তাঁদের পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ১ এপ্রিলের ঘটনাসংক্রান্ত ১২টি মামলা হস্তান্তর করে (NIA)। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো একটি চিঠির ভিত্তিতে আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি গ্রহণ করে। ওই চিঠিতে একটি ভয়াবহ রাতের বিবরণ দেওয়া হয়, যেখানে তিনজন মহিলা এবং পাঁচ বছরের একটি শিশু-সহ জুডিশিয়াল অফিসারদের ন’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খাদ্য ও জল ছাড়াই আটকে রাখে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

    হোতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ

    মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকায় এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে তিরস্কার করে। ঘটনার দিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন না ধরায় নারিয়ালাকে ক্ষমাও চাইতে বলে শীর্ষ আদালত। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে বেঞ্চের নির্দেশ, গ্রেফতার হওয়া ২৬ জন অভিযুক্তকে মামলার নথিপত্র-সহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে, কারণ এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের ওপর ভরসা করা যাচ্ছে না (NIA)। আদালত এনআইএকে এই ঘটনার হোতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেয় এবং জানিয়ে দেয়, ঘটনাটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে (Malda)।

    মূল অভিযুক্ত হেফাজতে

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব এবং ডিজিপির পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা আদালতে জানান, মূল অভিযুক্ত মফাকেররুল ইসলাম এবং মৌলানা মহম্মদ শাহজাহান আলি কাদরি ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা রয়েছেন হেফাজতে। সেদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, এই ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা প্রকাশ করে এবং এটি শুধুমাত্র জুডিশিয়াল অফিসারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্বকেও চ্যালেঞ্জ করার শামিল। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে প্রায় ৭০০ জুডিশিয়াল অফিসার বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬০ লক্ষেরও বেশি আপত্তির নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে তাঁদের।

    সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে,  হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল এবং তিনি স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিপিকে গ্রুপ কল করেছিলেন। পরে তাঁরা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে পৌঁছন এবং মধ্যরাতের পর আটক বিচারপতিদের মুক্ত করা হয় (NIA)। প্রধান বিচারপতি এও জানান, উদ্ধার হওয়ার পরেও জুডিশিয়াল অফিসারদের গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়, হামলা চালানো হয় লাঠি এবং ইট দিয়েও (Malda)।

  • Supreme Court: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, হাইকোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    Supreme Court: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, হাইকোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যসচিব (Chief Secretary) দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুধু তা-ই নয়, ওইদিনের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। মালদার কালিয়াচকের ঘটনার দিন মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের জল গড়ায় দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে, সোমবার ভার্চুয়াল শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। সেখানেই তীব্র ভর্ৎসনার শিকার হন নারিয়ালা। প্রসঙ্গত, ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার দিন রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে সরানো হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। তাঁর বদলে নয়া মুখ্যসচিব হন নারিয়ালা।

    রিপোর্ট পেশ এনআইএর (Supreme Court)

    গত বুধবার কালিয়াচকের ঘটনায় এদিন সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। এনআইএর টিম যে তদন্ত করেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই রিপোর্ট জমা করা হয়েছে। মুখবন্ধ খামে সেই রিপোর্ট জমাও পড়েছে শীর্ষ আদালতে। সেখানে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বলেও খবর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, যদি আরও অন্য কোনও ব্যক্তির যোগ থাকার প্রমাণ মেলে, অথবা অন্য কোনও দিক উন্মোচিত হয়, তাহলে এনআইএ প্রয়োজনে আরও এফআইআর দায়ের করতে পারে। কলকাতায় এনআইএ আদালতে তদন্তের বিষয় জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে শীর্ষ আদালতে।

    এনআইএকে হস্তান্তর করার নির্দেশ

    সুপ্রিম কোর্টের তরফে স্থানীয় পুলিশকে তদন্তের যাবতীয় কাগজ এবং এফআইআর অবিলম্বে এনআইএকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশকে সবরকম সাহায্য করতেও বলা হয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তার বিষয়ে আলাদা হলফনামা জমা দিয়েছে খোদ নির্বাচন কমিশন কমিশন (Chief Secretary)। এদিকে, রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে দেওয়া হয়েছে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট। এদিন মুখ্যসচিবকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘কেন প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেননি?’ মুখ্যসচিব জানান, তিনি দিল্লিতে কাজে গিয়েছিলেন। দুপুরে বিমানে ছিলেন তিনি। তাঁর ফোনে কোনও কল যায়নি (Supreme Court)। এরপর প্রধান বিচারপতি ফের বলেন, “আপনি মোবাইল নম্বর কেন শেয়ার করেননি? আপনার কাছে রাতে ফোন এসেছে, যখন আপনি প্লেন থেকে নেমে গিয়েছেন। আপনাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।”

    হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্যসচিবকে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনাকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।” এই সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মুখ্যসচিবকে ভর্ৎসনা করে বলেন, “নিষ্ক্রিয়তারও একটা লিমিট থাকা উচিত।” সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “শুধুমাত্র এই ক্ষেত্রে নয়, অন্যান্য জায়গায়ও তাঁদের যেভাবে প্যাম্পার করা হচ্ছে তাতে সবকিছু ঠিকঠাক নেই। এই ঘটনা আপনি এবং আপনার প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার প্রতিফলন। আপনার নিষ্ক্রিয়তার কারণেই নির্বাচন কমিশনকে ওই অবস্থায় পড়তে হয়েছে। আপনারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। কমিশনকে এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে আপনাদের নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই যোগাযোগের ঘাটতিই রাজ্যে এত সমস্যা ও অশান্তির সৃষ্টি করেছে। এটা আপনাদের কী ধরনের ক্রেডিবিলিটি (Chief Secretary)?”

    ‘নিজেকে একটু নীচে নামিয়ে আনুন’

    আইনজীবী লুথরা বলার চেষ্টা করেন যে ওই দিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেই একটি বৈঠকে ছিলেন। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “দয়া করে এদের ডিফেন্ড করবেন না। এই ধরনের অত্যন্ত একগুঁয়ে আমলাতান্ত্রিক মনোভাব আমরা অন্যান্য রাজ্যেও দেখছি (Supreme Court)।” প্রধান বিচারপতি মুখ্যসচিবকে বলেন, “আপনার পদমর্যাদা এতটাই বেশি যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো ছোট মানুষরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। দয়া করে নিজেকে একটু নীচে নামিয়ে আনুন, যাতে প্রধান বিচারপতির মতো সাধারণ নগণ্য মানুষরা অন্তত আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।”

    এদিন শুনানি হয়েছে ভার্চুয়ালি। সেই সময় আধিকারিকদের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “মুখ্যসচিব এবং অন্য আধিকারিকরা অনলাইনে উপস্থিত রয়েছেন। আমরা আশা করি, অফিসাররা এখন তাঁদের দায়িত্ব ভালোভাবে বুঝে গিয়েছেন। যে পরিস্থিতিতে তাঁদের সাড়া দেওয়া এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সাহায্য করা প্রত্যাশিত ছিল, তা তাঁরা করেননি।” আদালতের তরফে এনআইএকে (Chief Secretary) পরবর্তী রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১৩ এপ্রিল (Supreme Court) ।

     

  • Supreme Court: কালিয়াচক নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্ত, শোকজ মুখ্যসচিব সহ চারজনকে

    Supreme Court: কালিয়াচক নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্ত, শোকজ মুখ্যসচিব সহ চারজনকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্ষোভের নামে মালদার কালিয়াচকে গ্রামবাসীর হাতে তিন মহিলা সহ সাত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের বন্দি হওয়ার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। সাত বিচারককে প্রায় ১০ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মালদার ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে, বিষয়টিকে ‘কর্তব্যে গাফিলতির চরম নির্দশন’ উল্লেখ করে সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মালদার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসককে শোকজও করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

    ঠিক কী ঘটেছিল কালিয়াচকে?

    এসআইআর- এর তালিকায় নাম নেই, এর প্রতিবাদে বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি। কিন্তু বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। জনরোষ আছড়ে পড়ে এসআইআরের কাজে যাওয়া বিচারকদের উপর। যার জেরে রাতদুপুরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মালদার কালিয়াচক। বিক্ষোভকারী জনতা দীর্ঘক্ষণ ধরে কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে আটকে রাখেন সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কালিয়াচকে দীর্ঘক্ষণ ধরে আটকে রাখা হয়েছিল তিন মহিলা সহ সাত বিচারককে। বেলা যত গড়াতে থাকে (Kaliachak Incident), ততই লোকে-লোকারণ্য হয়ে পড়ে এলাকা। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর মধ্যরাতের পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে ওই বিচারকদের। এমনকী, উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়ে বিডিও অফিসের গেট আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, লাগানো হয় আগুনও। ঘটনাটি কমিশন কলকাতা হাইকোর্টকে জানালে, হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টকে অবগত করে।

    “নির্লজ্জ হামলা’, সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”

    আজ, বৃহস্পতিবার বিষয়টি আনা হয় সুপ্রিম কোর্টের গোচরে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চেই উত্থাপিত হয় এই বিষয়টি। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি ‘নির্লজ্জ হামলা’ এবং আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, বরং বিচারাধীন অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া থামিয়ে দিতে এবং বিচারকদের মনোবল ভেঙে দিতে এটি একটি সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, “আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল।” সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিচারকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক হামলা চালিয়ে আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখানো কাউকেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে একে ‘ক্রিমিনাল কনটেম্পট’ বা ফৌজদারি আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করা হবে।

    প্রশাসনের আচরণে অত্যন্ত বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)

    কালিয়াচকের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের আচরণে অত্যন্ত বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। গতকাল রাতে আমাদের মধ্যে কয়েকজনকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানানো হয় যে, মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকায় তিন মহিলা-সহ মোট সাতজন বিচারককে দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রেখেছিল। ঘেরাও শুরু হয়েছিল বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে।” ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন (Supreme Court), “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁর চিঠিতে জানান, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার—কেউই ঘটনাস্থলে পৌঁছননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজে থেকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে ফোন করতে হয়েছিল।”

    “সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ”

    প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “এই ঘটনা কোনও অপরাধের থেকে কম নয়। আমরা কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেব না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের দায়িত্ব পালন করেনি। তাদের গাফিলতির প্রমাণ এতে রয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের যোগাযোগ করার পরেও কেন তারা কোনও পদক্ষেপ করলেন না সে বিষয়ে তাদের জবাব দিতে হবে।” শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গকে ‘মোস্ট পোলারাইজড স্টেট’ বলে উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট৷ প্রধান বিচারপতি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত আপনার রাজ্যে সবাই রাজনীতির ভাষায় কথা বলেন। সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। আপনি কী ভাবছেন কারা এসব করছে আমরা বুঝি না? আমরা রাত দুটো পর্যন্ত সব কিছুর উপর নজর রেখেছি। খুব খুব দুঃখজনক ঘটনা।”

    কী বললেন প্রধান বিচারপতি 

    প্রধান বিচারপতি এও বলেন, “অন্যান্য সিনিয়র বিচারপতিরা যোগাযোগ রাখছিলেন। রাত বারোটার পর তাঁরা মুক্ত হন। পরে যখন তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন, তখনও তাঁদের গাড়িতে লাঠি দিয়ে মারা হয়, ছোড়া হয় পাথরও।” নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ডিস্ট্রিক্ট জাজদের নির্দেশও দেন প্রধান বিচারপতি (Kaliachak Incident)। এদিন বিরক্ত প্রকাশ করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “এই ঘটনায় প্রশাসনের আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল।”  গোটা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিশনের ওপরই আস্থা রাখে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বাগচী বলেন, “কমিশনকে প্রয়োজনীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।”  নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে শীর্ষ আদালতের পরামর্শ, রাজ্য প্রশাসনকে এই জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজ যাতে মসৃণভাবে হয় তা সুনিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন এই ঘটনা জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর ব্যাপক ভয়ের প্রভাব ফেলবে। আমরা প্রধান বিচারপতির চিঠি দেখে অত্যন্ত হতাশ (Supreme Court)।”

    রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “এর আগে নির্দেশ দিয়ে আমরা বলেছিলাম, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আপত্তি নিষ্পত্তির দায়িত্ব বিচারকদের দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই ঘটনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জানাতে হবে, কেন বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তাঁরা বিচারকদের নিরাপদে সরিয়ে (Kaliachak Incident) নেওয়ার ব্যবস্থা করেননি?” পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদার জেলাশাসক রাজনবীর সিং কপূর, মালদা পুলিশ সুপার অনুপম সিংকে শোকজের নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। তাঁর বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হবে না, সেই কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আগামী সোমবার পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলাটি ফের শুনবে সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিন শুনানিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির থাকতে হবে এই চারজনকে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ— ঘটনার তদন্ত সিবিআই কিংবা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র মতো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে করাতে হবে। যে সংস্থার উপর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তারা সরাসরি এই আদালতে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে বাধ্য থাকবে। শুধু তাই নয়। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে সেগুলি সেই সব জায়গায় মোতায়েন করতে হবে, যেখানে বিচারকেরা আপত্তি নিষ্পত্তির কাজ করছেন।

  • Form 6: ‘অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না’, এসআইআর মামলায় রাজ্যের দাবিকে গুরুত্ব দিল না সুপ্রিম কোর্ট

    Form 6: ‘অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না’, এসআইআর মামলায় রাজ্যের দাবিকে গুরুত্ব দিল না সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। বুধবারের শুনানিতে ওঠে ফর্ম-৬ (Form 6) প্রসঙ্গ। রাজ্যের হয়ে শীর্ষ আদালতে (Supreme Court) সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি বলেন,  “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বের হয়েছে। বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন?” কল্যাণের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না।” কল্যাণ বলেন, “প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম-৬ পূরণ করে জমা দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এটা কী ভাবে হতে পারে?”

    কমিশনের বক্তব্য (Form 6)

    কল্যাণের প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রায় প্রতিবারই এই অভিযোগ ওঠে, এটা নতুন কিছু নয়। নির্দিষ্ট করে আপনি আপত্তি তুলতে পারেন।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “বিজ্ঞপ্তির পরে একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে ভোট হয়। তার পরে কারও নাম ফর্ম-৬ দিয়ে উঠল মানেই তিনি ভোট দিতে পারবেন, এমন নয়।” নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতে বলা হয়, আইন মোতাবেক মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম-৬ জমা দেওয়া যায়। যে কেউ তা দিতে পারেন। কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইনে বলা আছে দেখুন ফর্ম-৬ জমা দেওয়া একটি চলে আসা পদ্ধতি। যে কেউ দিতে পারেন। কমিশন সব যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেয়।” এর পরেই ফর্ম-৬ নিয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। কমিশনের তরফে জানানো হয়, কারও আপত্তি থাকলে তিনি ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন (Supreme Court)।

    কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্য

    কমিশনের আইনজীবী বলেন, “অনুচ্ছেদ ২০ দেখুন। সেখানে ফর্ম-৬ নিয়ে স্পষ্ট বলা রয়েছে। কারও কোনও আপত্তি থাকলে ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন। এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও, কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হবে না’ (Form 6)। ফর্ম-৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচী বলেন, “কেউ যদি এখন তালিকায় থাকেন, কিন্তু পরে বাদ পড়েন, সে ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। মনে রাখতে হবে, কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার মানে এই নয় যে, তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হবে (Supreme Court)।” ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইনের অনুচ্ছেদ ২৩ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আজ কেউ যদি ১৮ বছরে পা দেন, তাঁরও ভোটার তালিকায় নাম তোলার অধিকার রয়েছে। কারও আইনগত অধিকার থাকলে, তাকে কেউ বাধা দিতে পারে না।”

    কী বললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি 

    এদিকে, এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির চিঠিতে আমরা সন্তুষ্ট। প্রায় ৪৭ লাখ নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে।” তিনি জানান, ট্রাইবুনালও দ্রুত কাজ শুরু করবে (Form 6)। ৬ এপ্রিল, সোমবার বিকেল ৪টেয় সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতি প্রথমে বলেছিলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব আপত্তির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তাই আমরা মামলাটি ৭ এপ্রিল বিকেল ৪টায় রাখছি।” এই সময় কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যাঁরা ভোটার তালিকায় আসবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তাই বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি ৭ তারিখের পরিবর্তে ৬ তারিখ রাত ১২টার মধ্যে করা হোক (Supreme Court)। শুনানিও ৬ তারিখ রাখা হোক।” তার পরেই শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে চলতি মাসের ৬ তারিখে (Form 6)।

     

  • SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এখনও কাটেনি এসআইআর (SIR) গেরোর জট। সোমবার রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। তবে তাতে কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এহেন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফে আবেদন জানানো হল। তাতে বলা হয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের আগের তালিকার নিরিখে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রয়োজনে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করতে পারে তারা। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে (Supreme Court)।

    রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য (SIR)

    মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, প্রথম দফার নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৬ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ভোটার তালিকায় নাম তোলা বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর আর্জি, যে বা যাঁরা বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের আগের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে, ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। এই সময় (SIR) প্রধান বিচারপতি বলেন, “গতকাল সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের তথ্য পাঠাতে থাকেন।” শ্যাম বলেন, “আমাদের কয়েকটি সাজেশন রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাবে যথাক্রমে ১৬ এবং ২২ এপ্রিল। ১৪ জন এমন প্রার্থী রয়েছেন, যাঁরা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন। তাঁরা ৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না।”

    কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

    এই সময় প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) বলেন, “এই প্রতিটি প্রশাসনিক ইস্যু কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেখতে পারেন।” তাঁর পরামর্শ, যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নাম নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরা অ্যাজুডিকোটিং অফিসারের কাছে গিয়ে এই বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। এই সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, “আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেছি। মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে আমরা প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে পারি।” এর পরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে। অন্য (SIR) সব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণভাবে হয়েছে।” তিনি জানান, কোথাও কোথাও এসআইআরের পরে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে।

     

  • Religious Conversion: ‘তফশিলি জাতির সুবিধা সীমিত শুধু হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধদের জন্যই’, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

    Religious Conversion: ‘তফশিলি জাতির সুবিধা সীমিত শুধু হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধদের জন্যই’, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কেউ যদি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে এবং তা পালন করে, তাহলে সে আর তফশিলি জাতির মর্যাদা দাবি করতে পারে না।” মঙ্গলবার একটি রায়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে সাফ (Religious Conversion) জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত উল্লেখ করেছে, তফশিলি জাতির পরিচয় শুধুমাত্র সেইসব ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যারা সংবিধানের ১৯৫০ সালের (SC) নির্দেশ অনুযায়ী হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম অনুসরণ করেন। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ১৯৫০ সালের এই আদেশে কোনও ধরনের অস্পষ্টতার সুযোগ নেই।

    তফশিলি জাতির মর্যাদা বাতিল (Religious Conversion)

    আদালত এও জানিয়েছে, ধারা ৩-এ অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কোনও ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে, ব্যক্তির জন্ম যাই হোক না কেন, তার তফশিলি জাতির মর্যাদা সঙ্গে সঙ্গে এবং সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে যায়। বিচারপতিরা বলেন, “এই বিধিনিষেধ চূড়ান্ত এবং অচল।” আদালত জানিয়েছে, “সংবিধান, সংসদ বা রাজ্য বিধানসভা প্রণীত কোনও আইনের অধীনে কোনও সুবিধা, সুরক্ষা, সংরক্ষণ বা অধিকার এমন ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে না, যিনি ধারা ৩ অনুযায়ী তফশিলি জাতির সদস্য হিসেবে গণ্য নন। এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ এবং এর কোনও ব্যতিক্রম নেই। একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে ধারা ৩-এ উল্লিখিত ধর্মের বাইরে অন্য ধর্ম পালন করে তফশিলি জাতির সদস্যপদ দাবি করতে পারেন না।”

    খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন অভিযোগকারী

    এই রায়টি একটি মামলার শুনানির সময় দেওয়া হয়, যেখানে এক ব্যক্তি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে একজন পাদ্রি হিসেবে কাজ করছিলেন। ধর্মান্তরের পরেও তিনি তফশিলি জাতি ও তফশিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযোগ দায়ের করেন, দাবি করেন যে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন (Religious Conversion)। এই দাবি চ্যালেঞ্জ করে অভিযুক্ত পক্ষ জানায়, তিনি আর তফশিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত নন। তাই ওই আইনের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার তাঁর নেই। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সঙ্গে সহমত পোষণ করে জানিয়ে দেয়, কোনও ব্যক্তি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ ও চর্চা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর তপশিলি জাতির মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শেষ হয়ে যায় (Supreme Court)।

    এসসি-এসটি আইন

    জানা গিয়েছে, মামলাটি একটি ফৌজদারি আবেদনের মাধ্যমে শুরু হয়, যেখানে এসসি-এসটি আইনের ৩(১)(আর), ৩(১)(এস), ৩(২)(ভিএ) ধারা-সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১, ৫০৬ ও ৩২৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগকারী, যিনি পিট্টালাভানিপালেম গ্রামে রবিবারের প্রার্থনা পরিচালনা করেন, অভিযোগ করেন, তিনি বারবার হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং তাঁর পরিবারের ওপর আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁকে জাতিগত গালিগালাজ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে তিনি মামলা দায়ের করেন (Religious Conversion)। তদন্ত শেষ হয়ে চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর, অভিযুক্ত হাইকোর্টে আবেদন করে মামলাটি খারিজ করার দাবি জানান। অভিযুক্তের যুক্তি ছিল, এসসি এবং এসটি আইনের অধীনে এফআইআর দায়ের করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ অভিযোগকারী খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং একজন পাদ্রি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “১৯৫০ সালের সংবিধান (শিডিউল কাস্টস) আদেশ স্পষ্টভাবে জানায়, যে ব্যক্তি আর হিন্দুধর্ম অনুসরণ করেন না, তাঁকে তফশিলি জাতির সদস্য হিসেবে গণ্য করা যাবে না (Religious Conversion)।”

  • I-PAC Case Hearing: ‘মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন, তা মোটেও সুখকর নয়’, আইপ্যাক-কাণ্ডে মমতার ভূমিকায় বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট

    I-PAC Case Hearing: ‘মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন, তা মোটেও সুখকর নয়’, আইপ্যাক-কাণ্ডে মমতার ভূমিকায় বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে (SC) ফের ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য। ‘ইডির তদন্তে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়াটা অনভিপ্রেত ঘটনা’! আইপ্যাক-কাণ্ড (I-PAC Case Hearing) নিয়ে মামলার শুনানিতে মন্তব্য শীর্ষ আদালতের। বুধবার আইপ্যাক মামলার শুনানি চলাকালীন আরও সময় চাইল রাজ্য। ইডি-র তরফে যে হলফনামা দেওয়া হয়েছে তার উত্তর দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হল। বাড়তি সময় চাওয়ার তীব্র বিরোধিতা করা হয় ইডি-র তরফে। ৪ সপ্তাহ সময় ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে, জানান বিচারপতি মিশ্র।

    সময় নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে

    বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া বেঞ্চে ফের সময় চেয়ে আবেদন জানান রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার বক্তব্য, “সময় নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ।” সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার বক্তব্য,“এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার, যে একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন। ৪ সপ্তাহ পরেও তাঁরা কিছু জমা দেওয়ার জন্য সময় চাইছেন।”

    আদালত কীভাবে চলবে, সেটা তার বিষয়

    ইতিমধ্যেই রাজ্যকে যে আদালত চার সপ্তাহ সময় দিয়ে দিয়েছে, তা রাজ্যকে স্মরণ করান বিচারপতি। বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল তখন বলেন, “আমরা রিজয়েনডার জমা দিতে চাই।” ৪ সপ্তাহ সময় ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে, জানান বিচারপতি মিশ্র। আমরা শুনব, শুনানি শুরু করুন, মন্তব্য বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর। রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সওয়াল করেন, ‘ইডি যে রিজয়েন্ডার জমা দিয়েছে, তাতে মূল মামলার আবেদনের থেকেও বেশি কথা বলা হয়েছে।’ সঙ্গে তিনি জানান, আদালত যদি সময় না দিতে চায়, আদালত তা করতেই পারে। এতেই ক্ষিপ্ত হন বিচারপতি মিশ্র। বলেন, ‘আপনারা আদালতকে এটা বলতে পারেন না যে, আদালতে কীভাবে শুনানি চালাবে। কেউ সময় নিয়েছে বলে আপনাকেও সময় নিতে হবে… এটা কোনও যুক্তি হতে পারে না, মামলা হবে কিনা সেটা নিয়ে যুদ্ধ চলতে পারে না।’

    ইডি-র মামলা নিয়ে প্রশ্ন রাজ্যের

    রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান ইডির মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে সওয়াল শুরু করেন। রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, ইডি কোনও জুরিস্টিক এনটিটি নয় এবং সেই কারণে ইডি সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে কোনও পিটিশন দাখিল করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, যদি ইডির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার কোনও সুযোগ না থাকে, তবে ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে করা পিটিশনটি গ্রহণযোগ্য নয়। ইডি আদৌ কোনও পিটিশন দাখিল করতে পারে কি না, তা এখানে বিবেচ্য। আর্টিকেল ৩২ অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার একজন নাগরিক বা ব্যক্তির থাকতে পারে অথবা একটি লিগ্যাল কর্পোরেট সংস্থার থাকতে পারে। যদি তা না হয়, তাহলে এই মামলা করা যায় না। রাজ্যের তরফে বলা হয়, “আমরা বলছি, কেন্দ্রীয় সরকার এক্ষেত্রে মামলা করতে পারে। কিন্তু কোনও দফতর নয় বা সিআইডি বা ইডির মত সংস্থা নয়। যদি তারা করেন, তাহলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করে এ ধরনের সংস্থার ক্ষমতা এক্তিয়ার সব নতুন করে ঠিক করতে হবে।”

    এটা মোটেই সুখকর চিত্র নয়

    সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগ করেন, “যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী জোর করে তদন্ত চলাকালীন ঢুকেছেন, তা অত্যন্ত ‘আনইউজুয়াল।’এর আগে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করে ইডি। হলফনামায় ইডি-র তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, রাজ্য় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতেই তল্লাশি বন্ধ করতে বাধ্য হয় ইডি অফিসাররা, হলফনামায় এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি, কোনও তদন্তকারী সংস্থা কখনওই তল্লাশি চলাকালীন কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে সেখানে প্রবেশ করতে এবং জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে না, সেটাও উল্লেখ করে ইডি। বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি তদন্ত করছে, সেখানে বলপূর্বক ঢুকে পড়ছেন, এটা মোটেই সুখকর চিত্র নয়। যদি আর্টিকেল ৩২ বা আর্টিকেল ২২৬ অনুযায়ী মামলা করা না যায়, তাহলে কী করা যাবে? কাল অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী একই কাজ করতে পারেন।”

    মামলা স্থগিত নয়, রাজ্যের আর্জি খারিজ

    আইপ্যাক মামলায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তল্লাশি চলাকালীন হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ চেয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের তৎকালীন ডিজিপি রাজীব কুমার এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ কুমারকেও এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। শুনানির সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইডির হলফনামার জবাব জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। তবে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এই মামলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে রাজ্য। ইডি ইতিমধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে তাদের প্রতিক্রিয়া আদালতে দাখিল করেছে। এদিন আইপ্যাক মামলা স্থগিত করার রাজ্যের সিদ্ধান্তকে খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ইডির অভিযোগের জবাব দিতে রাজ্যকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

LinkedIn
Share