Tag: SCO Group Photo

  • Eknath Shinde: এসসিও সম্মেলনের ছবি থেকে মোদিকে বাদ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছিছিক্কার

    Eknath Shinde: এসসিও সম্মেলনের ছবি থেকে মোদিকে বাদ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছিছিক্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সাম্প্রতিক সম্মেলনের একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক বিতর্ক। কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনের দলগত ছবিতে (SCO Group Photo) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছবি বাদ দিয়ে শুধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং (Eknath Shinde) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাখা হয়েছিল। সরকারি দফতর থেকে প্রকাশিত ছবিতে এই পরিবর্তন সামনে আসতেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী (Eknath Shinde)

    ঘটনাটিকে ভারতের একাধিক রাজনৈতিক নেতা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং অত্যন্ত নিম্নমানের রুচির পরিচয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোনও দেশের প্রতিনিধিকে একটি সরকারি দলগত ছবি থেকে বাদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক বিদ্বেষের পরিচয় নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মানসিকতারও প্রতিফলন। পরে অবশ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে সম্মেলনের আসল ছবিটি প্রকাশ করেন। ফলে সরকারি দফতরের প্রকাশিত সম্পাদিত ছবি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। যদিও পরে মূল ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, তবুও প্রথমে কেন ছবিটি সম্পাদনা করে নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকে বাদ দেওয়া হল, তা নিয়ে বিতর্ক থামেনি।

    ভারতীয় নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ছবির বাইরে রাখার চেষ্টা কোনওভাবেই তাঁর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে কমিয়ে দিতে পারে না।

    শিন্ডে বলেন, “পাকিস্তান যা করেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পাকিস্তান সবসময়ই এই ধরনের কাজ করার চেষ্টা করে। তবে আমি বলব, তারা মোদিজির ছবি সরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু মোদিজি চাইলে গোটা বিশ্বের ছবিতেই পাকিস্তানকে সরিয়ে দিতে পারেন।”

    শিন্ডের বক্তব্য, একটি ছবি সম্পাদনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কোনও আন্তর্জাতিক পরিসর থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদি দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে যে রাজনৈতিক ও আবেগগত গুরুত্ব বহন করেন, কোনও ছবি থেকে তাঁর উপস্থিতি বাদ দেওয়া সেই বাস্তবতাকে বদলাতে পারে না।

    তিনি এও বলেন, ছবিতে কারও উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি দিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনও নেতার গুরুত্ব নির্ধারিত হয় না। বরং এই ধরনের ঘটনা সংশ্লিষ্ট দেশের আচরণ এবং মানসিকতাকেই প্রকাশ করে (Eknath Shinde)।

    আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তান নিজেকেই হাসির খোরাক করছে”

    প্রাক্তন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এমজে আকবরও পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে সরকারি ছবি সম্পাদনা করে কোনও রাষ্ট্রনেতাকে বাদ দেওয়ার ঘটনা পাকিস্তানের জন্যই বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আকবর বলেন, “প্রতিটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তান এভাবেই নিজেকে হাসির পাত্রে পরিণত করে। ছবির এই সেন্সরশিপ ঔদ্ধত্যের চরম প্রকাশ। শুধু আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এমনভাবে ছবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন তিনি সেখানে ছিলেনই না, তার ওপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ছবির কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে প্রান্তে রাখা হয়েছে (SCO Group Photo)।”

    আকবরের বক্তব্যে স্পষ্ট, ছবির সম্পাদনার ধরন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, ছবিতে নেতাদের অবস্থান পরিবর্তন করে পাকিস্তান নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাস্তবে এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভাবমূর্তির উপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    সমাজবাদী পার্টির নেতার কটাক্ষ

    সমাজবাদী পার্টির নেতা এসটি হাসানও এই ঘটনাকে “সস্তা এবং লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনীতি, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে একটি ছবি সম্পাদনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা পাকিস্তানের কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না (Eknath Shinde)।

    হাসান বলেন, “এটি অত্যন্ত সস্তা এবং লজ্জাজনক কাজ। পাকিস্তানের এতটা নীচে নামা উচিত নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের দেশ পাকিস্তানের থেকে অনেক এগিয়ে।”

    তাঁর আরও অভিযোগ, পাকিস্তানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ ভারতবিরোধিতা এবং সন্ত্রাসবাদকে ঘিরে আবর্তিত হয়। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ পাকিস্তানের সেই মানসিকতাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

    বিজেপির পাল্টা আক্রমণ

    বিজেপির মুখপাত্র সদিনেনি ইয়ামিনী শর্মাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ায় পাকিস্তানের দ্বিচারিতা আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ্যে চলে আসছে।

    ইয়ামিনী শর্মা বলেন, “পাকিস্তান সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সরকারি সম্মেলনের দলগত ছবি সম্পাদনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকেও সেই ছবি থেকে বাদ দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্ভীক ও দৃঢ় কূটনীতি পাকিস্তানের দ্বিমুখী সন্ত্রাসবাদী অবস্থানকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছে।”

    বিজেপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়েছে। সেই কারণে নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক অবস্থান পাকিস্তানের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করা হয়েছে (SCO Group Photo)।

    ছবি নিয়ে বিতর্ক, বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ

    একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সরকারি ছবি সাধারণত নিছক একটি ছবি নয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতি, তাঁদের অবস্থান এবং ছবির প্রকাশভঙ্গির মধ্যেও কূটনৈতিক বার্তা নিহিত থাকে। ফলে কোনও রাষ্ট্রনেতার ছবি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হলে তা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক (Eknath Shinde)।

    এই ঘটনায়ও মূল বিতর্ক সেখানেই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর কেন এমন একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করল, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। পরবর্তী সময়ে শাহবাজ শরিফ নিজেই মূল ছবি প্রকাশ করায় সম্পাদিত ছবিটি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মহলে চর্চার খোরাক শরিফের দেশের আচরণ

    ভারতীয় রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপে ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থান বা নরেন্দ্র মোদির গ্রহণযোগ্যতার কোনও ক্ষতি হবে না। বরং পাকিস্তানের আচরণই আন্তর্জাতিক মহলে চর্চার খোরাক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চিন ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতি থাকা একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ছবি নিয়ে এমন সম্পাদনা পাকিস্তানের কূটনৈতিক পরিপক্বতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

    সব মিলিয়ে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন একটি দিক সামনে নিয়ে এসেছে। ছবিতে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, সেই সম্পাদনাই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের পদক্ষেপকে আরও বেশি করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনও রাষ্ট্রনেতার গুরুত্ব একটি ছবির ফ্রেম দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং তাঁর দেশের কূটনৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং নীতিগত দৃঢ়তাই সেই গুরুত্ব নির্ধারণ করে (SCO Group Photo)। কিস্তিমাত করতে গিয়ে ফাউল করে ফেলল শাহবাজ শরিফের দেশ (Eknath Shinde)!

     

LinkedIn
Share