Tag: Seafarers

  • Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ, নিরাপদে উদ্ধার ৫ ভারতীয় নাবিক

    Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ, নিরাপদে উদ্ধার ৫ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Strait) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ। জাহাজটিতে পাঁচ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। শনিবার ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই ঘটনার পর পাঁচ জনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। কুয়েতের পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি কাজিমাহ থ্রি’-তে ওই পাঁচ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। জাহাজটি আফ্রিকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। হামলার পর ওমান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে সহযোগিতার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলা সংঘাতের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় ১০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। মোট ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য (Hormuz Strait)

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ৪,৫০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে বর্তমানে ভারতের পতাকাবাহী ছ’টি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। পাশাপাশি, আরও ছ’টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ পণ্য নিয়ে ভারতে আসছে। এই ১২টি জাহাজে প্রায় ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন।

    জয়সওয়াল জানান, ভারতীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রক ওই জাহাজগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। নাবিকদের নিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য রাখতে ভারতীয় দূতাবাস এবং স্থানীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভারতীয় দূতাবাসগুলি নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ ভারতের কাছে অগ্রাধিকার (Hormuz Strait) বলেও জানান তিনি।

    নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জয়শঙ্করের

    বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের উপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২৬ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে তিনি সমুদ্রপথে নতুন নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি তুলে ধরেন।

    জয়শঙ্কর বলেন, “সমুদ্রে নতুন হুমকি স্থলভাগে ইতিমধ্যেই তৈরি হওয়া সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। অন্যান্য দেশের নাবিকদের পাশাপাশি ভারতীয় নাবিকরাও প্রাণ হারিয়েছেন। এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

    উপসাগরীয় অঞ্চলে অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো এবং সংযম দেখানোর আহ্বানও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যও যাতে বাধাহীনভাবে চলতে পারে, তার পরিবেশ তৈরি হবে।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

    এদিকে, ইরানের দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা ছিল। এর পাশাপাশি ইরানের উপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানি তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো শর্তও ছিল।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান এই চুক্তি চাইছে কারণ তারা খুব খারাপভাবে হারছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যের উপর ইরানের অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল বলেও (Hormuz Strait) মন্তব্য করেন তিনি।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলির উপর যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। তাঁর বক্তব্য, এই অঞ্চলের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ তেহরানের উপর চাপ তৈরির অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

    তবে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা পুরোপুরি থেমে যায়নি। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রস্তাবটি নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবের অন্যতম লক্ষ্য, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা।

    বাড়ছে সমুদ্রপথের ঝুঁকি

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সেই দেশগুলিতে হামলা চালায়, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

    আমেরিকা জানিয়েছে, তাদের সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ইরানের পরমাণু সক্ষমতা দুর্বল করা। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সামরিক পরিকাঠামোকেও টার্গেট করা হয়েছে।

    এদিকে, ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও ইরান অস্বীকার করেছে।

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা শুধু নাবিকদের নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের উপরও প্রভাব ফেলছে। ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে (Hormuz Strait) গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিক ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে কর্মরত।

     

  • Indian Vessels: ভারতীয় জাহাজের কোনওরকম দুর্ঘটনার খবর মেলেনি, জানালেন মুকেশ মঙ্গল

    Indian Vessels: ভারতীয় জাহাজের কোনওরকম দুর্ঘটনার খবর মেলেনি, জানালেন মুকেশ মঙ্গল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ২৪ ঘণ্টায় কোনও ভারতীয় জাহাজের (Indian Vessels) কোনওরকম দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শুক্রবার গালফ অঞ্চলে জাহাজ ও নাবিকদের অবস্থা প্রসঙ্গে কথাগুলি বললেন বন্দর, নৌ-পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মুকেশ মঙ্গল। সাংবাদিক বৈঠকে (Seafarers) মঙ্গল জানান, এখনও পর্যন্ত ১,৯২৭ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রক সাহায্য করেছে।  এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায়ই দেশে ফেরানো হয়েছে ১২৪ জনকে। তিনি পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের সময় বিপন্নদের দেশে ফিরিয়ে প্রত্যাবর্তন প্রচেষ্টার কথাও জানান।

    ভারতীয় নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন (Indian Vessels)

    তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদে রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজের সঙ্গে কোনও দুর্ঘটনাও ঘটেনি। এখন পর্যন্ত ১,৯২৭ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৪ জনও রয়েছেন।” মন্ত্রক জানিয়েছে, নাবিকদের কল্যাণ ও নিরবচ্ছিন্ন সামুদ্রিক কার্যকলাপ নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ জন্য বিদেশমন্ত্রক, বিদেশে ভারতীয় মিশন এবং অন্যান্য সামুদ্রিক অংশীদারদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে (Indian Vessels)। মঙ্গল জানান, বাণিজ্যিক মহলের উদ্বেগ দূর করতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যাতে লজিস্টিক জটিলতা এড়ানো যায়। তিনি বলেন, “আজ বন্দর, নৌ-পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতি, সমস্ত বন্দর এবং আমাদের মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থাগুলির সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন এবং বন্দর-সহ ডিজি শিপিংকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে রপ্তানিকারী বা অন্য কারও কাছ থেকে আসা সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান করা হয়।”

    ভারতীয় জাহাজ-নাবিকদের ওপর নিবিড় নজর

    গত ৮ এপ্রিল মঙ্গল জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ায় সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদে রয়েছেন এবং সমুদ্রে তাঁদের কার্যকলাপ নির্বিঘ্নে চলছে। তিনি বলেন, “পারস্য উপসাগরে থাকা সমস্ত নাবিক নিরাপদে রয়েছেন।” মঙ্গল আরও জানান, ওই অঞ্চলে ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, বন্দর-নির্ভর উন্নয়ন এবং ভারতের নৌ-পরিবহণ খাতের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া নীতিগত পদক্ষেপ সম্পর্কেও তিনি আপডেট দেন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে একাধিক ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার (Seafarers) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক, বিদেশে ভারতীয় মিশন এবং সামুদ্রিক (Indian Vessels) অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে।

     

LinkedIn
Share