Tag: Shuvendu Adhikari

Shuvendu Adhikari

  • CM Oath Ceremony: থাকবেন মোদি-শাহ, তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তারকা সমাবেশ

    CM Oath Ceremony: থাকবেন মোদি-শাহ, তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তারকা সমাবেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রাজ্যের আসন্ন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান (Cm Oath Ceremony) হবে ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। এই অনুষ্ঠানকে এক অনন্য রূপ দিতে এবং জাতীয় স্তরে বার্তা পাঠাতে বিশাল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি (Bengal BJP) শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং এনডিএ জোটের একাধিক নেতাদের উপস্থিতি থাকবে। সভাস্থলে তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড থাকছে এলাহি আয়োজন। ২৫ শে বৈশাখ, শনিবার হবে শপথ গ্রহণ।

    রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা (Cm Oath Ceremony)

    সচরাচর রাজভবনের লন বা প্রেক্ষাগৃহে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হলেও, এবার তা জনসমক্ষে বিশাল আয়োজনে করার চিন্তাভাবনা চলছে। ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে এই বিশেষ মুহূর্তের (Cm Oath Ceremony) সাক্ষী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। বিজেপি স্বাধীনতার পর এই প্রথম সরকার গড়বে বঙ্গে। ফলে নেতা কর্মী সমর্থক এবং রাজ্যবাসীর জন্য বিশেষ চমক রেখেছে বিজেপি (Bengal BJP)। শনিবার সকাল ১০.৩০টায় কলকাতায় নামবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকার কথা বিজেপি শাসিত বা এনডিএ জোটের ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।

    তারকা সমাবেশ ও ভিভিআইপি উপস্থিতি

    এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বিজেপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি শাসিত মুখ্যমন্ত্রীদেরও (Cm Oath Ceremony) আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। একই সঙ্গে এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং নেতারাও বঙ্গ বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণে থাকবেন বলে সূত্রের খবর।

    রাজ্যের মন্ত্রীসাভায় জায়গা পেতে পারেন বেশ কিছু বিজেপি নেতা। তাঁদের মধ্যে রিয়েছেন, অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, শঙ্কর ঘোষ, স্বপন দাশগুপ্ত, অজিত কুমার জানা, নিশীথ প্রামাণিক, সৌরভ শিকদার, দিলীপ ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল খাঁ, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, জুয়েল মুর্মু, বঙ্কিম ঘোষ, নমন রাই, সজল ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষ, সুব্রত ঠাকুর।

    ব্রিগেডে প্রস্তুতি সম্পর্কে দেবজিৎ সরকার বলেন, “ব্যবস্থা আশা করি ভালোই হবে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বাঙালির সরকার, জনতার সরকার, পশ্চিমবঙ্গবাসীর সরকার। বিজেপি বিধায়করা সরকার নিশ্চয়ই চালালেও, এটা মানুষের সরকার। টাইট সিকিওরিটি। কারণ সেদিনের জন্য সারা ভারতের পাওয়ার সেন্টার এখানে।”

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    কলকাতায় ব্রিগেডের ময়দান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে শপথ গ্রহণ (Cm Oath Ceremony) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে তা যেমন শাসক শিবিরের শক্তি প্রদর্শন হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি বিশেষ প্রয়াস হিসেবেও গণ্য হবে। উল্লেখ্য এই ২৫ বৈশাখ এবং শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানকে বড় করে দেখছে বিজেপি (Bengal BJP)। রবীন্দ্রনাথের জন্ম দিনের দিনে বাঙালির আবেগকে কাজে লাগাবে বঙ্গের নতুন সরকার।

    নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি

    প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশাল জনসমাগমের কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত প্রস্তুতির (Cm Oath Ceremony) রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সরকারি ঘোষণা আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে জোর চর্চা শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এই পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • Suvendu Adhikari PA: শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় উদ্ধার দ্বিতীয় বাইক, চিহ্নিত একটি লাল গাড়ি

    Suvendu Adhikari PA: শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় উদ্ধার দ্বিতীয় বাইক, চিহ্নিত একটি লাল গাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari PA) আপ্তসহায়ক এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath) হত্যার তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশি তদন্তে এবার একটি লাল রঙের গাড়ি এবং আরও একটি মোটরসাইকেলের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

    তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি (Suvendu Adhikari PA)

    চন্দ্রনাথ হত্যার (Chandranath Rath) তদন্তকারী আধিকারিকরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রে জানতে পেরেছেন যে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় একটি লাল রঙের গাড়িকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছিল। পাশাপাশি, পুলিশ আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে, যা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বারাসতে ১১ নম্বর রেলগেটের ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ওই বাইক। চন্দ্রনাথের খুনের সঙ্গে এই বাইকের যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, এটি নিছক কোনও হত্যা নয়। এর পেছনে বড় কারণ রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের (Suvendu Adhikari PA) হত্যা কোন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তাই এখন সন্ধান করছে বিশেষ তদন্তকারী দল।

    খুনের মামলা রুজু

    বুধবার (৬ মে) রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকে তাঁকে পর পর গুলি করে হত্যা করে একদল দুষ্কৃতী। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা দাবি করে আসছিলেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ খুনের মামলা রুজু (Suvendu Adhikari PA) করে তদন্ত শুরু করে। সেদিন রাতে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০ টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যমগ্রামে তাঁর গাড়ি থামিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সঙ্কটজনক অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি গাড়ির চালক।

    তদন্তে যা পাওয়া গেছে

    • সন্দেহভাজন লাল গাড়ি: প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ঠিক পরেই একটি লাল রঙের গাড়িকে দ্রুতবেগে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। পুলিশ গাড়িটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ওই লাল গাড়ির কোনও হদিশ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
    • বাইক উদ্ধার: প্রথম থেকেই একটি মোটরসাইকেলের কথা জানা থাকলেও, বর্তমানে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় বাইকটি তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ওই বাইকটি কার এবং কেন সেখানে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
    • নিসান গাড়ি কারা কিনতে চেয়েছিল: ঘটনাস্থলে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মাইক্রা গাড়িটিকে বেচতে দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশ থেকে, খবর পুলিশ সূত্রে। কারা যোগাযোগ করেছিল গাড়ির মালিকের সঙ্গে, তাঁদের সঙ্গে কি যোগাযোগ ছিল খুনিদের?

    তদন্তে ভিনরাজ্যে পাড়ি পুলিশের একটি দলের

    বৃহস্পতিবার চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করা হয়। সাত সদস্যের সিট-এর মাথায় রয়েছেন সিআইডি-র ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক। সেই সঙ্গে রয়েছেন বারাসত পুলিশের সদস্যেরা। তদন্তকারী টিমে রয়েছেন এসটিএফ, সিআইডি-র আধিকারিকদেরও। তদন্তে কোনও ফাঁক না রাখতে মধ্যমগ্রাম থানার আগের আইসি সতীনাথ চট্টরাজকে এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় ইনপুট নিচ্ছেন তদন্তকারীরা, খবর পুলিশ সূত্রে। আততায়ীদের খোঁজে একটি দল ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে।

    কল রেকর্ড ও সিসিটিভি

    চন্দ্রনাথবাবুর (Chandranath Rath) মোবাইল ফোনের শেষ কয়েক ঘণ্টার কল রেকর্ড এবং রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র পেয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের (Suvendu Adhikari PA) পক্ষ থেকেও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ হাতে এলে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। মূল অপরাধীদের ধরতে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে।

    একমাস আগেই কি খুনের পরিকল্পনা?

    সূত্রের খবর, সুপারি কিলার নিয়োগ করেই করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে খুন। আনুমানিক এক থেকে দেড় মাস আগে এই খুনের ছক কষা হয়েছে। খুব ঠান্ডা মাথায় সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে। আর তাই মাসখানেক আগে থেকেই কার কার সঙ্গে চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) বচসা হয়েছিল, এমন কোনও ঘটনা কিছু ঘটেছিল কি না, যাতে তাঁকে খুন করার প্রয়োজন হতে পারে, এই দিকগুলিও সন্ধান করে দেখা হচ্ছে। এক থেকে দেড় মাস আগে কার বা কাদের চন্দ্রনাথকে খুনের প্রয়োজন পড়ে থাকতে পারে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ভবানীপুরে হারের বদলার জেরে খুন চন্দ্রকান্ত?

    চন্দ্রনাথকে (Chandranath Rath) খুনের পর বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম থেকেই উদ্ধার করা হয় নিসান মাইক্রা গাড়ি। তাতে যে নম্বরপ্লেটটি ছিল, তা ভুয়ো। গাড়ির মালিক শিলিগুড়িতে থাকেন। বিক্রি করার জন্য গাড়ির নম্বর দিয়েছিলেন অনলাইনে। গাড়িটিতে মেলেনি কোনও ফিঙ্গারপ্রিন্ট। আততায়ীরা গ্লাভস পরে ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। হত্যাকারীরা বাইকের ইঞ্জিন নম্বরও ঘষে তুলে দিয়েছিল। দ্বিতীয় বাইকের ক্ষেত্রেও একই ভাবে ওই নম্বরের ঘষা রয়েছে বলে খবর। এখন বাইকটির মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে এই হত্যাকাণ্ড ভবানীপুর হারের বদলা বলে মনে করছে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই খুনের পিছনে রয়েছে বলে রাজনীতির একাংশের মানুষের দাবি।

  • Shuvendu Adhikari: “অভিষেক এত চুরি করেছে যে তাঁকে জেলে ঢোকাবে বিজেপি সরকার”, বলে দিলেন শুভেন্দু

    Shuvendu Adhikari: “অভিষেক এত চুরি করেছে যে তাঁকে জেলে ঢোকাবে বিজেপি সরকার”, বলে দিলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির (Shuvendu Adhikari) আঁচে শুকিয়ে কাঠ ক্ষমতার দম্ভে মত্ত ঘাসফুল। বঙ্গে (Abhishek Banerjee) তুষ্টিকরণের যে রাজনীতির চল চালু হয়েছিল বাম জমানায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে যাতে ফলতে শুরু করেছিল বিষবৃক্ষের ফল, সেই তৃণমূলকে সমূলে উৎপাটিত করে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দিয়েছে বিজেপি। যে ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ধরে রেখেছিলেন মমতা, সেই ভবানীপুরেও প্রাক্তন সতীর্থ শুভেন্দু অধিকারির কাছে গোহারা হেরে কার্যত ঘরে ঢুকে গিয়েছেন তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    শুভেন্দুর বাক্য-বাণ (Shuvendu Adhikari)

    এহেন আবহে তৃণমূলকেই নিশানা করলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ঘাসফুল শিবিরকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, “যারা গুন্ডা, চোর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিজেপি সরকার। রাহুল গান্ধী শেষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শেষ। আগামী নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে শেষ হয়ে যাবে অখিলেশ যাদবও।” শুভেন্দু বলেন, “পুরো হিন্দু সমাজ মিলে এক সঙ্গে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খিদিরপুরে ২০ হাজার ভোটে লিড পেয়েছে, বাকি জায়গায় আমি লিড পেয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো জরুরি ছিল।”

    অভিষেককে জেলে ঢোকাবে বিজেপি

    তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানেই থাকুক, এত চুরি করেছে যে আগামিদিনে তাঁকে জেলে ঢোকানোর কাজ করবে বিজেপি সরকার।” তিনি বলেন, “এই আসন না জিতলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণ হত না। বাংলায় এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে ৩০০ বিজেপি কর্মীর আত্মবলিদান। হিন্দু শহিদ হরগোবিন্দ দাস-সহ যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, এই জয় তাঁদের উৎসর্গ করছি।”

    প্রসঙ্গত, নির্বাচনের ঢের আগেই শুভেন্দু ঘোষণা করেছিলেন (Shuvendu Adhikari), দল যদি তাঁকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও প্রার্থী করেন, তিনি তাঁকে প্রাক্তন করে ছাড়বেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কথা রেখেছেন শুভেন্দু। ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে মমতাকে হারিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর ফের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার অন্যতম ভরকেন্দ্র পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামেও তৃণমূলের পবিত্র করকে (Abhishek Banerjee) প্রায় ১০ হাজার ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁর কলজের জোর (Shuvendu Adhikari)!

     

  • Assembly Election 2026: বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন শুভেন্দু, সঙ্গে থাকবেন শাহ!  

    Assembly Election 2026: বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন শুভেন্দু, সঙ্গে থাকবেন শাহ!  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গো-হারান হারাতে কোমর বেঁধে নির্বাচনী ময়দানে নেমে পড়েছেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি শুভেন্দু পদ্ম-প্রার্থী হয়েছেন ভবানীপুরেও। এই ভবানীপুরেই মমতা প্রার্থী (Assembly Election 2026) হবেন বলে অনেক আগেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রথম সারির এক নেতা। অতএব, ভবানীপুরে (Amit Shah) লড়াই হবে জোরদার। বৃহস্পতিবার এই ভবানীপুর কেন্দ্রেই মনোনয়নপত্র পেশ করবেন শুভেন্দু। ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র পেশ করতে যাবেন শুভেন্দু। সেই দিনই তাঁর সঙ্গে দেখা যেতে পারে শাহকে।

    বাংলায় আসছেন শাহ (Assembly Election 2026)

    বিজেপি সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে মঙ্গলবারই দিল্লি থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী মনোনয়ন পেশ করার আগে হাজরা মোড়ে জনসভা করতে পারেন শাহ। তার পর সেখান থেকে এক কিলোমিটার রোড শো করে সার্ভে বিল্ডিংয়ের আগে পর্যন্ত যাবেন। শেষে ২০০ মিটার পথ যাবেন হেঁটে। নন্দীগ্রামে প্রার্থী হতে সোমবারই মনোনয়নপত্র পেশ করেছেন শুভেন্দু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Assembly Election 2026)। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা যেতে পারে শাহকে। তাতে এক সঙ্গে অনেকগুলি বার্তা দেওয়া যাবে। এক, এটা বোঝানো যাবে যে শুভেন্দুর প্রতি গভীর আস্থা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর সতীর্থ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। আর দ্বিতীয় বার্তাটি হল, ভবানীপুরে তৃণমূল সুপ্রিমোকে হারিয়ে মুখের মতো জবাব দেবেন ‘জায়ান্ট কিলার’ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Amit Shah)।

    সেটিং-তত্ত্ব খারিজ

    বঙ্গবাসীর একাংশের অভিযোগ ছিল বিজেপি এবং তৃণমূলের সেটিং রয়েছে। সূত্রের খবর, এবার নির্বাচনের ঢের আগে শুভেন্দু দলীয় নেতাদের বুঝিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের জল্পনায় জল ঢেলে দেওয়া যাবে দুভাবে। এক, তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির যে অভিযোগ রয়েছে, তার তদন্তে যদি তৎপরতা শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। আর দ্বিতীয় পথটি হতে পারে, ভবানীপুরে মমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো। সে ক্ষেত্রে তিনিই প্রার্থী হতে প্রস্তুত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দ্বিতীয় অপশনটিকেই বেছে নিয়েছেন বিজেপির ভোট ম্যানেজাররা (Assembly Election 2026)।

    কী বললেন শুভেন্দু

    ভবানীপুর প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “এসআইআরের পর তো ভবানীপুর বিজেপির হয়েই গিয়েছে। আমি জিতলে বিজেপি ভবানীপুরে প্রথমবার জিতবে এমন নয়। কারণ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যখন মোদি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, সেবার লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তথাগত রায়। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি পড়ে প্রাক্তন সাংসদ তথাগতের লোকসভা কেন্দ্রে। সেবার ভবানীপুর কেন্দ্রে দুহাজারেরও ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি।” শুভেন্দু আরও বলেন, “চুরি-চামারি, ছাপ্পা, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে জিততেন। এসআইআরের পর সেটা আর সম্ভব নয়। মোদিজি, নীতিন নবীনজি আমায় ভবানীপুরে প্রার্থী করেছেন গুন্ডামি রোখার জন্য।” তিনি বলেন, “২৩ তারিখ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম এবং গোটা রাজ্যে থাকব। ২৪ তারিখ সকাল থেকে ভবানীপুরে থাকব। ২৯ তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর কাজ (Amit Shah) শেষ করে, স্ট্রং রুম সিল করে ভবানীপুর ছাড়ব। ৪ মে দেখা হবে।” প্রসঙ্গত, বঙ্গে এবার বিধানসভা নির্বাচন হবে দুদফায়। প্রথম দফায় ভোট হবে ২৩ এপ্রিল, আর দ্বিতীয় দফায় হবে ২৯ তারিখে (Assembly Election 2026)।

    নন্দীগ্রামে মুখ পুড়েছিল তৃণমূলের

    গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে হাজার দুয়েক ভোটে মমতাকে ধরাশায়ী করেছিলেন শুভেন্দু। মমতার বিশ্বাস ছিল, নন্দীগ্রামবাসী তাঁকে বিমুখ করবেন না। তাই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নিজেই প্রার্থী হন মমতা। তিনি ভেবেছিলেন, শুভেন্দু তাঁর ছায়া, কায়া নয়। তাই শুভেন্দুকে হারবেন। যদিও নির্বাচনের ফল বেরলে দেখা যায় মুখ পুড়েছে তৃণমূলের। হেরে গিয়েছিলেন খোদ তৃণমূলেশ্বরীই। পরে অবশ্য ভবানীপুরে প্রার্থী হয়ে জয় পেয়ে কোনওক্রমে বাঁচান মুখ্যমন্ত্রীর কুর্শি। এর পর নানা সময় শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, দল তাঁকে ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বললে তিনি দাঁড়াবেন এবং তৃণমূলের সর্বময় কর্ত্রীকে ধরাশায়ী করবেন। এবার সেই দ্বৈরথই দেখতে চলেছেন ভবানীপুরবাসী (Assembly Election 2026)।

  • WB Assembly Election 2026: তাঁর, শমীকের ফোন লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে! সিইও দফতরে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

    WB Assembly Election 2026: তাঁর, শমীকের ফোন লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে! সিইও দফতরে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফোন-লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট বিজেপি নেতার। এঁদের একজন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari), আর অন্যজন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এমনই অভিযোগ তুলে সিইও দফতরের দ্বারস্থ হলেন (WB Assembly Election 2026) ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও।

    কী বললেন শুভেন্দু 

    সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু পুলিশের কয়েকজন পদস্থ কর্তার নামও নিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন,  “এসটিএফের (STF) জাভেদ শামিম, আইবি-র বিনীত গোয়েল, শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে মণ্ডল স্তরের বিজেপি নেতাদের ফোন-লোকেশন ট্র্যাক করছে, আমাদের কাছেও পাল্টা তথ্য প্রমাণ রয়েছে।” শুভেন্দুর দাবি, সিআইডি, এসটিএফ, আইবি ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিতে হস্তক্ষেপ করতে হবে (Suvendu Adhikari) নির্বাচন কমিশনকে। নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়কের অভিযোগ, “ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি মনোজ ভার্মা কীভাবে সব রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছেন, সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলের নেতাদের এখনও আগের মতোই সুবিধা করে দিচ্ছেন।” শুভেন্দুর আরও (WB Assembly Election 2026) অভিযোগ, জঙ্গিপুরের এসপি মেহেদি হাসান, পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি পলাশ ঢালিও কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করছেন।

    মমতার বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ

    শুভেন্দু বলেন, “মমতা বলেছেন বিজেপি কর্মীদের পোস্টার দিয়ে বলতে হবে, আমি বিজেপি করি না। এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সরাসরি খুনের হুমকি দিচ্ছেন তিনি।” প্রসঙ্গত, গত ২৫ তারিখ ময়নাগুড়িতে ভোটের প্রচারে গিয়ে মমতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত (Suvendu Adhikari)। প্রার্থী রামমোহন রায়ের হাত উঁচু করিয়ে মমতা বলেন, “আমার প্রার্থীকে বলে দিয়ে গিয়েছে, ওঁকে নাকি গাছে বেঁধে পেটাবে। আমি বলছি, এসব করতে যেও না। নির্বাচনের পরে পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে, আমি বিজেপি করি (WB Assembly Election 2026) না।” এ নিয়ে সোমবারই মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে নালিশ করে এসেছেন। মমতাকে প্রচার থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও জানিয়ে এসেছে বিজেপি। শুভেন্দু বলেন, ” আমরা বিগত দিনে দেখেছি, রাহুল সিনহা থেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, সকলের বক্তব্যের মিস কোট করে তৃণমূল অভিযোগ করলেই কাউকে ৩ দিন, ২ দিন ১ দিন নির্বাচন প্রচারে ব্যান করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন করা হবে না? মনোজ আগরওয়ালের কাছে দাবিপত্র রেখেছি (WB Assembly Election 2026)।”

     

  • Geetapath: লক্ষ লক্ষ কণ্ঠে গীতার বাণীতে মুখরিত ব্রিগেড, অনুষ্ঠানের ধারা বিবরণী

    Geetapath: লক্ষ লক্ষ কণ্ঠে গীতার বাণীতে মুখরিত ব্রিগেড, অনুষ্ঠানের ধারা বিবরণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাখ লাখ কণ্ঠে গীত হচ্ছে গীতা (Geetapath)। ব্রিগেডজুড়ে (Brigade) ভাবগম্ভীর পরিবেশ। ধূপের গন্ধে ম ম করছে গোটা চত্বর। সাধু-সন্তদের পাশাপাশি গীতা পাঠ করছে আমজনতাও। এই জনতার ভিড়ে যেমন ছিলেন হিন্দুরা, তেমনি সংখ্যায় কম হলেও, ছিলেন ভিন ধর্মের কিছু মানুষও। সবার সঙ্গেই গলা মেলালেন তাঁরাও। বস্তুত, রবিবার ভোর থেকেই জনতা ছিল ব্রিগেডমুখী। হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে দলে দলে লোক যোগ দিতে যান গীতা পাঠের আসরে। ঘোড়ার গাড়িতে করে মঞ্চে এসেছেন বেশ কয়েকজন সাধু-সন্তও। ঘড়ির কাঁটায় যখন ঠিক ন’টা বাজে, তখনই এক সঙ্গে বেজে উঠল কয়েক হাজার শাঁখ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভিড়ও।

    সনাতন সংস্কৃতি পর্ষদ (Geetapath)

    ব্রিগেডে এদিন পাঁচ লাখ কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করেছে সনাতন সংস্কৃতি পর্ষদ। এদিন প্রথমে হয়েছে সমবেত কণ্ঠে বেদপাঠ। পরে হয় গীতা আরতি। এই আরতির সময় ঢাক, খোল এবং করতাল নিয়ে ভাবাবিষ্ট হয়ে নৃত্য করতে দেখা যায় জনতার একাংশকে। এই সময় উলুধ্বনিও দিতে থাকেন মহিলারা। অনুষ্ঠানে সভাপতি পদে বরণ করে নেওয়া হয় জ্ঞানানন্দজি মহারাজকে। ব্রিগেডের এই ভিড় সামাল দিতে বিভিন্ন রুটে ২০টি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিল রেল। শিয়ালদহের পাশাপাশি হাওড়া শাখায়ও চলছে বিশেষ ট্রেন। ট্রেন এসেছে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, বনগাঁ, হাসনাবাদ, লক্ষ্মীকান্তপুর, ডায়মন্ড হারবার এবং ক্যানিং থেকেও। ট্রেনগুলিতে কার্যত তিল ধারণের জায়গা ছিল না। প্রবীণ ব্যক্তিদের অনেকের মতে, দীর্ঘদিন পরে এমন জনসমাবেশ দেখল ব্রিগেড। এদিনের ভিড় ছাপিয়ে গিয়েছে অতীতের সব রেকর্ড।

    আয়োজনের পুরোধা

    এদিন এই আয়োজনের পুরোধা ছিলেন স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ, যাঁকে কার্তিক মহারাজ বলেই চেনেন সবাই। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন নির্গুনানন্দ ব্রহ্মচারী, বন্ধুগৌরব দাস মহারাজেরাও (Geetapath)। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা সাধু-সন্তরা ছিলেন মূল মঞ্চে। বাকি দুটি মঞ্চে ছিলেন এরাজ্যের সাধু-সন্ত এবং বিশিষ্টজনেরা। গীতা পাঠের (Brigade) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় গোটা এলাকা। মাঠজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ২৫টি গেট। সব মিলিয়ে মঞ্চ বাঁধা হয়েছে তিনটি। মূল মঞ্চের পাশেই রয়েছে আরও দুটি মঞ্চ। মঞ্চের নীচে সোফায় বসার ব্যবস্থা ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যদের। ভিআইপিদের বসার জন্যও ছিল লাল রংয়ের চেয়ার। ব্রিগেডের শেষ প্রান্তের মানুষজনও যাতে অনুষ্ঠান চাক্ষুষ করতে পারেন, সেজন্য টাঙানো হয়েছিল বেশ কয়েকটি জায়ান্ট স্ক্রিন। ভিড়ের কারণে সেই স্ক্রিনেই মূল অনুষ্ঠান দেখতে বাধ্য হয়েছেন বহু মানুষ (Geetapath)।

    গীতা আরতি

    এদিন গীতা পাঠ করতে ব্রিগেডে আসা মানুষকে সাহায্য করতে দুটি শিবির করা হয়েছিল হাওড়া স্টেশনের বাইরে। এই শিবির তৈরি করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদের তরফে। ভিড়ে চোটে যাঁরা বুঝতে পারছেন না, ঠিক কোন দিকে যাবেন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে, তাঁরা নানা প্রশ্ন নিয়ে চলে গিয়েছেন ক্যাম্পে। তারপর কেউ ফেরি চড়ে, কেউবা বাসে চড়ে রওনা দেন গন্তব্যের দিকে। পায়ে হেঁটেও অনেকেই দেখা গেল ব্রিগেডের দিকে যেতে। এদিনের অনুষ্ঠানে অবশ্য গোটা গীতা পাঠ করা হয়নি। পাঠ করা হয়েছে কেবল প্রথম, নবম এবং অষ্টাদশ অধ্যায়। এর আগে মঞ্চে প্রতিষ্ঠা করা হয় গীতাকে। পরে হয় আরতি। তারও পরে শুরু হয় গীতা পাঠ। সব শেষে হয়েছে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবচন (Geetapath)। এদিনের এই (Brigade) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যেমন মানুষ এসেছেন তামাম ভারত থেকে, তেমনি লোকজন এসেছেন নেপাল এবং বাংলাদেশ থেকেও।

    এত বড় সমবেত কণ্ঠে গীতা পাঠ

    উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তবে অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর, অনুষ্ঠানে হাজির হননি মমতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে যাতে টোল না লাগে, তা-ই এদিনের অনুষ্ঠান সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের দাবি, কলকাতা বা কেবল বাংলা নয়, ভারতের ইতিহাসেও এত বড় সমবেত কণ্ঠে গীতা পাঠ এই প্রথমবার (Geetapath)। গত বছরই প্রথমবারের জন্য লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল এই ব্রিগেডেই। তবে সেবার মাঠ ভরেনি বলেই দাবি করেছিল রাজ্যের শাসক দল। এবার লক্ষ কণ্ঠ নয়, গীতা পাঠ করেছেন পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ। এই প্রথম ব্রিগেড (Brigade) প্রত্যক্ষ করল ভারতে রয়েছে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ছবি।

LinkedIn
Share