Tag: Shyama Prasad Mukherjee

Shyama Prasad Mukherjee

  • PM Modi on Shyama Prasad: ‘অনন্য জাতি-নির্মাতা, তাঁর জীবন জন আন্দোলনের প্রেরণা’, শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে বিদেশ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন মোদির

    PM Modi on Shyama Prasad: ‘অনন্য জাতি-নির্মাতা, তাঁর জীবন জন আন্দোলনের প্রেরণা’, শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে বিদেশ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রবাদী সরকার হলে রাষ্ট্রনায়করা সম্মান পায়। তাদের বিচারধারা দর্শন অনুযায়ী সরকার চালিত হয়। কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অভিমত প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মিলন মেলায় সোমবার সাড়ম্বরে পালিত হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (PM Modi on Shyama Prasad) জন্মজয়ন্তী। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে আজ তাঁকে স্মরণ করছে গোটা দেশ। দেশের চারদিকে যে বিচারধারা ছড়িয়ে পড়েছে, তার বীজকে আজ স্মরণ করছে দেশ।”

    বাংলায় শ্যামপ্রসাদের জন্মদিন পালন

    বিজেপির প্রাণপুরুষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। অথচ তাঁর রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেই এতদিন ধুমধাম করে বিজেপি শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন পালন করতে পারেনি বলে অভিযোগ। বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরে বিজেপির উদ্যোগে সরকারি ও দলগত ভাবে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মদিবস উদযাপন ছিল নজরকাড়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সশরীর এ দিন হাজির ছিলেন কলকাতায়। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতা দখলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন এ রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি বসবে। একই সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন ৬ জুলাইকে সরকারি ছুটি হিসেবেও ঘোষণা করেন তিনি। তার জন্য সোমবার কলকাতায় এসে বাং‍লার মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন শাহ। ইএম বাইপাসের ধারে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলে‍ন, ‘এ রাজ্যে বিজেপির সরকার তৈরির পরে আমি শুভেন্দুদাকে ফোন করে বলেছিলাম, শ্যামাপ্রসাদের একটি মূর্তি বানানোর জন্য এবং তাঁর জন্মদিনকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছেন।’

    বাংলাকে পাকিস্তান হতে দেয়নি

    সোমবারই ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ‘৬ জুলাই জাতীয়তাবাদ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শে বিশ্বাসী কোটি কোটি দেশবাসীর কাছে বিশেষ একটি দিন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল পাণ্ডিত্য, জনসেবা এবং উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের এক অসাধারণ মিশ্রণ। আধুনিক ভারতের খুব কম নেতার মধ্যেই এতগুলি গুণ একসঙ্গে দেখা যায়।’ প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, ‘শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ায় তাঁর যে দূরদর্শী ভাবনা ছিল, তা আজও আমাদের নতুন উদ্দীপনা জোগাচ্ছে। শ্রেষ্ঠ ভারতের যে স্বপ্ন শ্যামাপ্রসাদ দেখেছিলেন, আজ আমাদের কাঁধে তা পূরণ করার দায়িত্ব। বাংলাকে ভারত থেকে আলাদা করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু উনি জনমত তৈরি করেন, আন্দোলন করেন। পশ্চিমবঙ্গের পবিত্র ভূমি থেকে জাতীয়তাবাদের যে তুফান গোটা বাংলাকে পাকিস্তান হতে দেয়নি, সেই বিস্মৃত অধ্যায় আজ সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।’ মোদির কথায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন একটি জন আন্দোলনের প্রেরণা যুগিয়েছে। ভারতে এক দার্শনিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। জনসঙ্ঘ যে সময় তৈরি হয়, সেই সময় চারিদিকে কংগ্রেসের জয়জয়কার জনপ্রিয়তা ছিল। ভিন্ন ভাবধারার কোনও জায়গা ছিল না। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেই প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ করেই সংগঠন তৈরি করেছেন।

    ভারতের ঐক্য, মর্যাদা এবং অগ্রগতির জন্য নিবেদিত

    সমাজমাধ্যমে ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনে জ্ঞানচর্চা, সাহস এবং জাতির সেবার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের সংকল্প ছিল। তিনি ভারতের ঐক্য, মর্যাদা এবং অগ্রগতির জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন।’’ প্রয়াত জনসঙ্ঘ-প্রতিষ্ঠাতার অবদান সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত ছিল জানিয়ে মোদি লিখেছেন, ‘‘তিনি (শ্যামাপ্রসাদ) ছিলেন একজন অসাধারণ চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদ, যিনি উদ্ভাবনমুখী ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাকে সমর্থন করেছিলেন। শিল্পমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিল্পে স্বনির্ভরতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্র এবং তাঁর সম্পর্কিত জীবিকা যেন সমৃদ্ধ হয়, তা নিশ্চিত করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে দুর্ভিক্ষের সময় তাঁর মানবিক প্রচেষ্টা সঙ্কটাপন্ন মানুষের প্রতি তাঁর গভীর সহানুভূতির প্রতিফলন। সর্বোপরি, ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকার আজও অনুপ্রেরণার এক চিরস্থায়ী উৎস হয়ে রয়েছে। আমরা যখন একটি বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছি, তাঁর দূরদর্শিতা আমাদের পথকে আলোকিত করে চলেছে।’’

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর রহস্যমৃত্যু

    শ্যামাপ্রসাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতায় এসে ভারত ভাগের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে নিশানা করলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে। তুললেন, শ্যামাপ্রসাদের ‘রহস্যমৃত্যু’র প্রসঙ্গও। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে শাহের বক্তৃতায় গোড়াতেই এসেছে নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে শ্যামাপ্রসাদের ইস্তফার ঘোষিত ও প্রত্যক্ষ কারণ— ১৯৫০ সালের এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত ‘নেহেরু-লিয়াকত (পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) চুক্তি’ বা ‘দিল্লি চুক্তি’। শাহ বলেন, ‘‘আমি সেই পদত্যাগপত্র দেখেছি। চুক্তিটি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অধ্যয়ন করে বলেছিলেন যে, তাতে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুদের কথা চিন্তাই করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘ভারতে থেকে যাওয়া মুসলমানদের কথা চিন্তা করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান, বাংলাদেশের হিন্দুদের কথা ভাবা হয়নি। এই চুক্তি একতরফা। তাই আমি ইস্তফা দিচ্ছি।’’ জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে শাহের মন্তব্য, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই স্বপ্নই পূরণ করছেন।’’ সেই সঙ্গে তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘‘ভারতের জমি থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বার করে ভারতকে পূর্ণ সুরক্ষিত বানাব।’’ নেহরুর জমানায় কাশ্মীরের জেলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’ হয়েছিল জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কিন্তু কংগ্রেস কোনও দিন তার তদন্ত করায়নি।’’

    মৃত্যুর ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ তাঁর রাজ্যের

    ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদের দলের সরকার সিএএ এনে হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘শুভেন্দু আমাদের রোজ বলছেন। তাঁকে বলছি, নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ যেটুকু বাকি আছে, তা-ও দ্রুত করে দেব।’’ মৃত্যুর ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদের নিজের রাজ্যে তাঁর স্মারক তৈরি হচ্ছে জানিয়ে শাহ সোমবার বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গকে আবার যিনি সমগ্র ভারতের প্রেরণাকেন্দ্র বানানোর কাজ শুরু করেছেন, আমার সেই মিত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক অভিনন্দন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দলের সরকার হল। তাঁর বিচারধারার সরকার হল। দেশভক্তদের সরকার হল। তাই শ্যামাপ্রসাদের নিজের রাজ্যে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে।’’

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইনস্টিটিউট

    সোমবার দুপুরে নিউ টাউনের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদের (Amit Shah on Shyama Prasad) মূর্তির ভিত্তিস্থাপন করেন শাহ। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি প্রতিষ্ঠার ভূমিপুজো নয়। এটা সোনার বাংলার সঙ্কল্পকে বাস্তবায়িত করার ভূমিপুজো। শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক অনেক অভিনন্দন। যেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গবেষণা করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইনস্টিটিউটও হবে।’ শাহের দাবি, শ্যামাপ্রসাদ এমন বীজ বপন করেছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের রূপে, যা ভারতের সব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত করেছিল। তাঁর বপন করা বীজ আজ বটবৃক্ষের রূপ নিয়ে গোটা দেশকে ফল দিচ্ছে। এদিন ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতেও যান শাহ।

    শ্যামাপ্রসাদ মিউজিয়াম

    এর সূত্র ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেটি সরকার কিনে নিয়েছে। সেখানে মিউজিয়াম হবে। সূর্যকে যেমন চাপা দিয়ে রাখা যায় না, তেমনই শ্যামাপ্রসাদের আদর্শকেও চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।’ বন্দে মাতরম রচনার ১৫০ বছর, শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ বছর জন্মদিবস এসেছে একই বছরে। শাহের কথায়, ‘এই ঘটনা বিধির বড় সঙ্কেত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে বন্দে মাতরমের রচনা করেছিলেন, তার মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ভিত তৈরির কাজ হয়েছিল। এর চেয়ে ভাল মণিকাঞ্চন যোগ কোথাও হয় না।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ হোক, অখণ্ড ভারতের সঙ্কল্প হোক, সব বিচারধারার একটাই গঙ্গোত্রী— শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

     

     

     

     

     

  • Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ কর্মসূচি, ৬ জুলাই সরকারি ছুটি

    Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ কর্মসূচি, ৬ জুলাই সরকারি ছুটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম (Shyama Prasad Mukherjee) জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে (West Bengal) একাধিক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করল রাজ্যের পালাবদলের সরকার। আগামী ৬ জুলাই তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্য সরকারি ছুটি থাকবে। রাজ্যের স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিশেষভাবে পালন করা হবে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার সেই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে রাজ্যের স্কুলগুলিকেও। এই মর্মে জেলার স্কুল পরিদর্শকদের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর।

    ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ (Shyama Prasad Mukherjee)

    জানা গিয়েছে, আগামী পনেরো দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম এবং চিন্তাধারা নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। থাকছে আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, তাঁর লেখা ও বক্তৃতা পাঠের আয়োজন এবং দেশের শিক্ষা ও রাজনীতিতে তাঁর অবদান নিয়ে বিশেষ আলোচনা। সরকারের দাবি, নয়া প্রজন্মের কাছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাবনা ও অবদান আরও বিশদে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।

    পৈতৃক ভিটে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত

    এদিকে, চলতি রাজ্য বাজেটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতির সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর জন্মস্থান হুগলির জিরাট। সেখানে রয়েছে তাঁর পৈতৃক ভিটে। সেটিও অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই ভিটেতেই গড়ে তোলা হবে রাষ্ট্রীয় স্মারক, সংগ্রহশালা এবং গ্রন্থাগার। ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটির সংস্কার করে আগের ভোল ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে (Shyama Prasad Mukherjee) রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের।

    মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ

    জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উচ্চতার একটি মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে তাঁর স্মৃতিতে পার্ক, গ্রন্থাগার ও স্মারক নির্মাণের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, রবিবারই শ্রদ্ধার সঙ্গে ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে বিজেপি। এদিন ছিল (West Bengal) তাঁর ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহান এই নেতাকে স্মরণ করেন (Shyama Prasad Mukherjee) পদ্ম নেতৃত্ব।

     

  • Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ বিজেপি নেতৃত্বের

    Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ বিজেপি নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব (PM Modi)। রবিবার ছিল তাঁর ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেন পদ্ম নেতৃত্ব।

    শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর (Shyama Prasad Mukherjee)

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “দেশের মহান সন্তান, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শাহাদত দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি মাতৃভূমির সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর গতিশীল ব্যক্তিত্ব দেশের প্রতিটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।”

    শাহি স্মরণে শ্যামাপ্রসাদ

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা ও আত্মমর্যাদার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন।” তাঁর দাবি, ‘এক নিশান, এক বিধান, এক প্রধান’ স্লোগান তুলে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখার লড়াইয়েও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। শাহ বলেন, “সংবিধান সভার সদস্য হিসেবে ভাষা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের সামনে একটি বিকল্প রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেছিলেন।”

    শ্রদ্ধা জানালেন নাড্ডাও

    শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও। দিল্লিতে দলের সদর দফতরে শ্যামাপ্রসাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন তিনি। দলীয় কর্মীদের মধ্যে গাছের চারাও বিলি করেন নাড্ডা। তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় ঐক্যের স্থপতি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ত্যাগ ও আদর্শ আগামিদিনেও দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করবে (Shyama Prasad Mukherjee)।”

    জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা

    প্রসঙ্গত, শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা, যা পরবর্তীকালে বিজেপির আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত হয়। স্বাধীনতার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ১৯৫০ সালে দিল্লি চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের জেরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। দলের প্রথম সভাপতি হন শ্যামাপ্রসাদই। ১৯৫৩ সালে (PM Modi) জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়েছিলেন তিনি। ১১ মে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। বন্দি ছিলেন জেলে। সেখানেই ওই বছরেরই ২৩ জুন মৃত্যু হয় তাঁর। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু নিয়ে আজও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে (Shyama Prasad Mukherjee)।

     

  • BJP Balidan Diwas: ‘এক বিধান, এক নিশান, এক প্রধান’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা— ৭৩তম বলিদান দিবসে স্মরণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে

    BJP Balidan Diwas: ‘এক বিধান, এক নিশান, এক প্রধান’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা— ৭৩তম বলিদান দিবসে স্মরণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ২৩ জুন মঙ্গলবার, ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৫৩ সালে আজকের দিনে জম্মু-কাশ্মীরে জেলবন্দি অবস্থায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mookerjee Martyrdom Day)। দেশজুড়ে এই দিনটি বিজেপি পালন করে বলিদান দিবস (BJP Balidan Diwas) হিসেবে। এই প্রতিবেদনে আমরা জানব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও আন্দোলন সম্পর্কে।

    জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই

    বিজেপির পূর্বতন ভারতীয় জনসংঘ গঠন, পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানে যেতে না দেওয়া, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপের দাবিতে আন্দোলন-এই সব গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বাঙালি নাম। তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ‘বাংলার বাঘ’ বলে খ্যাত আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও যোগমায়াদেবীর পুত্র একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, অন্যদিকে একজন জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতা। তাঁর জন্মস্থান কলকাতার ৭৭ রসা রোডে (বর্তমানে আশুতোষ মুখার্জি রোড)।

    শিক্ষাজীবন ও বিবাহ

    • – ১৯০৬ সালের ২৩ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন।
    • – ১৯১৭ সালে মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় মেধা বৃত্তি (১০ টাকা প্রতি মাসে) সহ উত্তীর্ণ হন।
    • – ১৯১৯ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আর্টসে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
    • – ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন, ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।
    • – ১৯২২ সালের ১৬ এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ডাঃ বেণীমাধব চক্রবর্তীর কন্যা সুধাদেবীর সঙ্গে।
    • – ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

    মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো

    ১৯২৪ সালের ২৫ মে বিহারের পাটনায় স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনা গভীর রেখাপাত করে যুবক শ্যামাপ্রসাদের মনে। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, পিতার মৃত্যুতে তাঁর জীবন থেকে সমস্ত আনন্দ উধাও হয়ে যায়। এরপরেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯২৬ সালে আইন পড়তে তিনি ইংল্যান্ড যান। ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সম্মেলনে ওই বছরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। কলকাতায় ফিরে আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে যোগদান করেন। তবে হাইকোর্টের কর্মজীবনকে তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। ১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। ১৯৩৩ সালে তাঁর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে, প্রয়াত হন স্ত্রী সুধাদেবী।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

    ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই সময়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। নতুন কোর্স হিসেবে এগ্রিকালচারের ওপর ডিপ্লোমা তিনিই চালু করেন। চিনা ও তিব্বতীয় ভাষাশিক্ষার ওপরে কোর্স চালু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর আমলে নতুনভাবে তৈরি হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি হল। তিনি উপাচার্য থাকাকালীন প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতেন। ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমন্ত্রণ জানান বক্তব্য রাখতে।

    হিন্দু মহাসভায় যোগদান

    ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি নির্বাচিত হন। ওই বছরেই হিন্দু মহাসভায় যোগদান করেন তিনি। ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি-লিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৩৯ সালে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের সভাপতিত্বে কলকাতায় বসে হিন্দু মহাসভার অধিবেশন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৪০ সালে তিনি হিন্দু মহাসভার কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত হন।

    শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা

    ১৯৪১ সালে সাম্প্রদায়িক মুসলিম লিগকে বাংলার ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার জন্য হিন্দু মহাসভার সঙ্গে জোট হয় ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির। এই জোট জনপ্রিয় ছিল শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা নামে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ওই মন্ত্রিসভায় অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব নেন। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৪২ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।

    দাঙ্গা বিধ্বস্ত বাংলায় উদ্বাস্তুদের পাশে

    ১৯৪৪ সালে মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরে বসে হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় অধিবেশন। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সে বছর থেকেই চালু করেন ‘ন্যাশনালিস্ট’ পত্রিকা। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ এবং নোয়াখালি দাঙ্গা করে মুসলিম লিগ। সে সময় আক্রান্ত হিন্দুদের পাশে থাকা, উদ্বাস্তুদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, সবটাই তিনি নিজে হাতে করেছিলেন। সে সময় তিনি তৈরি করেছিলেন হিন্দুস্থান ন্যাশনাল গার্ড।

    পশ্চিমবঙ্গ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা

    ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় এক ভোটাভুটির মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় পশ্চিমবঙ্গ। বাঙালি হিন্দু পায় তার নিজস্ব বাসভূমি। মুসলিম লিগের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তারপর থেকে এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ‘প্রতিষ্ঠা দিবস’। হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগ করার পক্ষে রায় যায়। পৃথক হয় পশ্চিমবঙ্গ। সরকার ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে ঘোষণাও করে।

    স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী

    ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট নেহরুর মন্ত্রিসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শিল্পমন্ত্রী রূপে শপথ গ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর হিন্দু মহাসভাকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে আত্মনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি। ভারতের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন শিল্প উন্নয়ন নিগম, প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ স্থাপন, সিন্ধ্রি সার কারখানা-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি। খড়্গপুরে ভারতের প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি স্থাপনা, কলকাতার প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্থাপনার ভাবনা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বেড়ে চলে। হত্যা, লুন্ঠন, নারীর সম্ভ্রমহানি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৫০ সালের ১৪ এপ্রিল নেহরু মন্ত্রিসভার মন্ত্রী হয়েও এর প্রতিবাদে লোকসভায় গর্জে ওঠেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং পদত্যাগ করেন।

    ভারতীয় জনসংঘ গঠন

    দেশভাগের পরবর্তীকালে হিন্দু শরণার্থীদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের বন্দোবস্ত তিনিই করেন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে। একমাত্র জাতীয়তাবাদী সাংসদ হিসেবে তিনিই আইনসভায় হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হতেন। এমন সময় জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল স্থাপনের উদ্দেশ্যে গুরুজি গোলওয়ালকারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। রাজনীতি ক্ষেত্রে গুরুজি কয়েকজন স্বয়ংসেবককে পাঠান, তাঁরা হলেন, দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, জগদীশ মাথুর, সুন্দর সিং ভাণ্ডারি প্রমুখ। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লির রাঘোমাল গার্লস স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসংঘ। তিনিই ছিলেন প্রথম সভাপতি। প্রতীক ছিল প্রদীপ। দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জনসঙ্ঘ তিনটি আসন পায়। যার মধ্যে দক্ষিণ কলকাতা থেকে জেতেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজে।

    জেলবন্দি অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যু

    দেশের প্রধান বিরোধী কণ্ঠস্বর তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপের জন্য তিনি আন্দোলন শুরু করেন। দাবি ছিল ‘এক প্রধান-এক নিশান-এক বিধান’। কারণ কাশ্মীরের জন্য ছিল তখন আলাদা পতাকা। কাশ্মীরে চালু ছিল না ভারতের সংবিধানও। বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল ৩৭০ ধারার মাধ্যমে। এই ধারা কার্যত কাশ্মীরকে পৃথক করে রেখেছিল ভারত থেকে। কাশ্মীরে প্রবেশ করতে ভারতীয়দের লাগত অনুমতিও। এর প্রতিবাদ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বিনা পারমিটে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে গেলে ফারুক আবদুল্লার সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে ১৯৫৩ সালের ১১ মে। জম্মু ও কাশ্মীরে জেলবন্দি অবস্থায় তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু হয় ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন।

  • PM Modi: “পশ্চিমবঙ্গ ভারতে থেকে গিয়েছিল শ্যামাপ্রসাদের জন্যই”, তারকেশ্বরে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “পশ্চিমবঙ্গ ভারতে থেকে গিয়েছিল শ্যামাপ্রসাদের জন্যই”, তারকেশ্বরে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যাওয়ার নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)। শনিবার, ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস (Paschim Banga Divas) উপলক্ষে হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছিল। সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব হাল ছেড়ে দিলেও, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দৃঢ়ভাবে তার বিরোধিতা করেছিলেন, এবং পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের সঙ্গে রাখার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।’ শনিবার বিকেলে তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সভামঞ্চে তাঁকে ডোকরার দুর্গামূর্তি, তারকনাথের ছবি, রসগোল্লা এবং জলভরা সন্দেশ উপহার দিয়ে স্বাগত জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবিও।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে পৃথক করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এদিন সকালে কলকাতায় আসার আগে এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই রাজ্য সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে।’’ পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসাবে থাকবে। এর নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান ছিল। ২০২৬ সালে আমরা তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালন করছি (PM Modi)।’’

    পশ্চিমবঙ্গ দিবস

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন নিয়ে অতীতে ঢের রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। তবে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার ২০ জুনকেই সরকারিভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই উপলক্ষেই তারকেশ্বরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানেই শ্যামাপ্রসাদের অবদান স্মরণ করা হয় বিশেষভাবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে তারকেশ্বরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। সভাস্থল পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যের নানা প্রতীক দিয়ে সাজানো হয়েছিল (Paschim Banga Divas)। কলকাতার হলুদ ট্যাক্সি, হাতে টানা রিকশা, দক্ষিণেশ্বর মন্দির, বেলুড় মঠের প্রতিরূপের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের নানা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল (PM Modi) মঞ্চ।

     

  • Paschimbanga Divas: ইতিহাস ‘সংশোধনের’ বার্তা! পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর

    Paschimbanga Divas: ইতিহাস ‘সংশোধনের’ বার্তা! পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস (Paschimbanga Divas)। রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর মহাসাড়ম্বরে পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। ২০ জুন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে একাধিক সরকারি অনুষ্ঠান, স্কুল-কলেজে বিশেষ কর্মসূচি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) অবদান নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই আবহেই পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও পরিচয় নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্বতন সরকার ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাস এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়নি।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর অবদান

    বিজেপি সরকারে আসার পরেই ২০ জুন নিয়ে যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নয়। বরং বঙ্গ বিজেপি বরাবরই ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করার উপর জোর দিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে টানাপোড়েনও চলে আসছিল। তৃণমূল পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য দিবস হিসেবে পালন করে। আর অন্যদিকে, বিজেপির যুক্ত হল, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় (বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি) বাংলা ভাগের পক্ষে ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই দিনই বাংলা ভাগ হয়ে জন্ম হয় পশ্চিমবঙ্গের। এই অংশ জুড়ে যায় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। অন্যদিকে, পূর্ববঙ্গ জুড়ে যায় পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দাবি, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ নামের কোনো রাজ্যের অস্তিত্বই থাকত না।”

    বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের সময়

    একই দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা দেন। তিনি বলেন, বাংলা দেশের সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞানচর্চা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাগেরও ঘোষণা করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। কিন্তু বাংলার হিন্দু-প্রধান অংশের কাছে সুযোগ ছিল ভারতে জুড়ে যাওয়ার। এরজন্য তৎকালীন বঙ্গীয় আইনসভার ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ভোটেই ঠিক হয়, বাংলা ভাগ হয়ে জুড়বে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। বিজেপির দাবি, ওই দিন বাংলা ভাগ না হলে, পশ্চিমবঙ্গ তৈরিই হত না। আর এই প্রদেশ জুড়ে যেত বাংলাদেশের সঙ্গে।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা

    এদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “এবার আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না। মানুষ প্রকৃত ইতিহাস জানতে চাইছে।” মন্ত্রী আরও দাবি করেন, দেশভাগের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা না থাকলে পশ্চিমবঙ্গের বৃহৎ অংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে পারত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তি প্রসঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার উল্লেখ করেন।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ

    রাজ্য সরকারের নির্দেশে ১৯ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময় রাজ্যজুড়ে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন এবং দেশভাগের সময়কার ভূমিকা নিয়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে চর্চার মাধ্যমে বিজেপি সরকার বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বয়ানে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চাইছে।

    স্বাধীন মতপ্রকাশের পীঠস্থান

    অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের তৎকালীন রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং অনমনীয় মনোভাব যদি সেই সময় না থাকত, তবে আজ হয়তো ভারতের মানচিত্রটাই অন্যরকম হত। আজ বাঙালি হিন্দুরা যে নিজেদের রাজ্যে স্বাধীনভাবে বাস করতে পারছেন, তার কৃতিত্ব যে এই মানুষটিরই প্রাপ্য। একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও মন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তিনিও প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেন যে, দেশভাগের সেই অত্যন্ত জটিল ও অগ্নিগর্ভ সময়ে কলকাতাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার পিছনে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অন্যতম কনিষ্ঠতম প্রাক্তন উপাচার্য ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এক বিরাট ও অনস্বীকার্য ভূমিকা ছিল। ইতিহাসের সেই পাতাগুলি আজ নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের এই পবিত্র পীঠস্থানে কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হবে না। বরং তিনি চান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, তাঁর আদর্শ এবং বাংলার জন্য তাঁর অবদান নিয়ে ডানপন্থী, বামপন্থী কিংবা অন্য যে কোনও রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের মধ্যেই পক্ষে-বিপক্ষে স্বাধীনভাবে আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিতর্ক এবং আলোচনার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য মানুষের সামনে বেরিয়ে আসবে।

  • BJP: জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন বিজেপির

    BJP: জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করল বিজেপি। রবিবার সকালে দিল্লিতে শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, দিল্লি বিজেপির (BJP) সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেবা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং অন্যান্য দলীয় নেতারা। এদিন রেখা বলেন, এই দেশের মাটিতে যদি কেউ প্রথম জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করে থাকেন, তাহলে তিনি হলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি। তিনি দেশে প্রথমে রাষ্ট্র এই চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন। তৎকালীন বিভিন্ন সরকার যখন দেশীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল, তখন তিনি মন্ত্রীত্ব পদে ইস্তফা দেন। ভারতের ঐক্যের জন্য লড়াইও করেছিলেন তিনি। একটি দেশের দুটি সংবিধান, দুটি প্রধান এবং দুটি পতাকা থাকতে পারে না – এ কথা বলার সাহস ছিল তাঁর।

    কী বললেন যোগী (BJP)

    শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্ম বার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। লখনউতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগী তাঁকে একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে উল্লেখ করেন। উল্লেখ করেন শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথাও। ১৯৪৩ সালে বাংলার দুর্ভিক্ষের সময় তাঁর সেবার কথাও স্মরণ করেন যোগী। ১৯০১ সালের ৬ জুলাই জন্ম শ্যামাপ্রসাদের। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীও। যোগী বলেন, সরকার যখন জম্মু-কাশ্মীরকে পৃথক মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। তিনি বেলন, শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জম্মু-কাশ্মীরকে মূলধারায় নিয়ে এসেছিলেন (BJP)।

    জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা

    শ্যামাপ্রসাদকে এদিন শ্রদ্ধা জানিয়েছে বঙ্গ বিজেপিও। বিজেপির নয়া রাজ্য সভাপতি পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জনসংঘের এই প্রতিষ্ঠাতাকে। কিছুদিন আগেই তাঁর বলিদান দিবস ছিল। সেদিন কেওড়াতলা মহাশ্মশানে গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায়ও তিনি মাল্যদান করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে। কেওড়াতলায় গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে এসেছিলেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহাও। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপি কার্যালয়ে শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও।

    ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ত্রিপুরা সরকারও। একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি জানান, আগরতলা টাউন হলের নাম পরিবর্তন করে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির (Shyama Prasad Mukherjee) নামে করা হবে (BJP)।

  • Shyama Prasad Mukherjee: আজ, ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন, জানুন তাঁর জীবনকথা

    Shyama Prasad Mukherjee: আজ, ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন, জানুন তাঁর জীবনকথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপির পূর্বতন ভারতীয় জনসঙ্ঘ গঠন, পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানে যেতে না দেওয়া, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপের দাবিতে আন্দোলন-এই সব গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বাঙালি নাম। তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ শনিবার তাঁর জন্মদিন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ‘বাংলার বাঘ’ বলে খ্যাত আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও যোগমায়াদেবীর পুত্র একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, অন্যদিকে একজন জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতা। তাঁর জন্মস্থান কলকাতার ৭৭ রুসা রোডে (বর্তমানে আশুতোষ মুখার্জি রোড)। জন্মদিনে আমরা জানব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী।

    শিক্ষাজীবন ও বিবাহ

    ১৯০৬ সালের ২৩ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। 

    ১৯১৭ সালে মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় মেধা বৃত্তি (১০ টাকা প্রতি মাসে) সহ উত্তীর্ণ হন। 

    ১৯১৯ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আর্টসে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

    ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন, ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। 

    ১৯২২ সালের ১৬ এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee) বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ডাঃ বেণীমাধব চক্রবর্তীর কন্যা সুধাদেবীর সঙ্গে। 

    ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

    মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো (Shyama Prasad Mukherjee)

    ১৯২৪ সালের ২৫ মে বিহারের পাটনায় স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনা গভীর রেখাপাত করে যুবক শ্যামাপ্রসাদের মনে। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, পিতার মৃত্যুতে তাঁর জীবন থেকে সমস্ত আনন্দ উধাও হয়ে যায়। এরপরেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯২৬ সালে আইন পড়তে তিনি ইংল্যান্ড যান। ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সম্মেলনে ওই বছরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। কলকাতায় ফিরে আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে যোগদান করেন। তবে হাইকোর্টের কর্মজীবনকে তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। ১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। ১৯৩৩ সালে তাঁর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে, প্রয়াত হন স্ত্রী সুধাদেবী।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ 

    ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই সময়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। নতুন কোর্স হিসেবে এগ্রিকালচারের ওপর ডিপ্লোমা তিনিই চালু করেন। চিনা ও তিব্বতীয় ভাষাশিক্ষার ওপরে কোর্স চালু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর আমলে নতুনভাবে তৈরি হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি হল। তিনি (Shyama Prasad Mukherjee) উপাচার্য থাকাকালীন প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতেন। ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমন্ত্রণ জানান বক্তব্য রাখতে।

    হিন্দু মহাসভায় যোগদান 

    ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি নির্বাচিত হন। ওই বছরেই হিন্দু মহাসভায় যোগদান করেন তিনি। ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি-লিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৩৯ সালে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের সভাপতিত্বে কলকাতায় বসে হিন্দু মহাসভার অধিবেশন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৪০ সালে তিনি হিন্দু মহাসভার কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত হন।

    শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা 

    ১৯৪১ সালে সাম্প্রদায়িক মুসলিম লিগকে বাংলার ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার জন্য হিন্দু মহাসভার সঙ্গে জোট হয় ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির। এই জোট জনপ্রিয় ছিল শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা নামে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ওই মন্ত্রিসভায় অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব নেন। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৪২ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।

    দাঙ্গা বিধ্বস্ত বাংলায় উদ্বাস্তুদের পাশে 

    ১৯৪৪ সালে মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরে বসে হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় অধিবেশন। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সে বছর থেকেই চালু করেন ‘ন্যাশনালিস্ট’ পত্রিকা। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ এবং নোয়াখালি দাঙ্গা করে মুসলিম লিগ। সে সময় আক্রান্ত হিন্দুদের পাশে থাকা, উদ্বাস্তুদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, সবটাই তিনি নিজে হাতে করেছিলেন। সে সময় তিনি তৈরি করেছিলেন হিন্দুস্থান ন্যাশনাল গার্ড।

    পশ্চিমবঙ্গ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা

    ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় এক ভোটাভুটির মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় পশ্চিমবঙ্গ। বাঙালি হিন্দু পায় তার নিজস্ব বাসভূমি। মুসলিম লিগের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee)। তারপর থেকে এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ‘প্রতিষ্ঠা দিবস’। হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগ করার পক্ষে রায় যায়। পৃথক হয় পশ্চিমবঙ্গ। সরকার ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে ঘোষণাও করে।

    স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী

    ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট নেহরুর মন্ত্রিসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শিল্পমন্ত্রী রূপে শপথ গ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর হিন্দু মহাসভাকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে আত্মনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি। ভারতের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন শিল্প উন্নয়ন নিগম, প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ স্থাপন, সিন্ধ্রি সার কারখানা-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি। খড়্গপুরে ভারতের প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি স্থাপনা, কলকাতার প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্থাপনার ভাবনা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বেড়ে চলে। হত্যা, লুন্ঠন, নারীর সম্ভ্রমহানি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৫০ সালের ১৪ এপ্রিল নেহরু মন্ত্রিসভার মন্ত্রী হয়েও এর প্রতিবাদে লোকসভায় গর্জে ওঠেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং পদত্যাগ করেন।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ (BJS) গঠন

    দেশভাগের পরবর্তীকালে হিন্দু শরণার্থীদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের বন্দোবস্ত তিনিই করেন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে। একমাত্র জাতীয়তাবাদী সাংসদ হিসেবে তিনিই আইনসভায় হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হতেন। এমন সময় জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল স্থাপনের উদ্দেশ্যে গুরুজি গোলওয়ালকারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। রাজনীতি ক্ষেত্রে গুরুজি কয়েকজন স্বয়ংসেবককে পাঠান, তাঁরা হলেন, দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটলবিহারী বাজপেয়ি, লালকৃষ্ণ আদবানি, জগদীশ মাথুর, সুন্দর সিং ভাণ্ডারি প্রমুখ। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লির রাঘোমাল গার্লস স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসঙ্ঘ (BJS)। তিনিই ছিলেন প্রথম সভাপতি। প্রতীক ছিল প্রদীপ। দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জনসঙ্ঘ তিনটি আসন পায়। যার মধ্যে দক্ষিণ কলকাতা থেকে জেতেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজে।

    জেলবন্দি অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যু  

    দেশের প্রধান বিরোধী কণ্ঠস্বর তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপের জন্য তিনি আন্দোলন শুরু করেন। দাবি ছিল ‘এক প্রধান-এক নিশান-এক বিধান’। কারণ কাশ্মীরের জন্য ছিল তখন আলাদা পতাকা। কাশ্মীরে চালু ছিল না ভারতের সংবিধানও। বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল ৩৭০ ধারার মাধ্যমে। এই ধারা কার্যত কাশ্মীরকে পৃথক করে রেখেছিল ভারত থেকে। কাশ্মীরে প্রবেশ করতে ভারতীয়দের লাগত অনুমতিও। এর প্রতিবাদ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বিনা পারমিটে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে গেলে ফারুক আবদুল্লার সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে ১৯৫৩ সালের ১১ মে। জেলবন্দি অবস্থায় তাঁর (Shyama Prasad Mukherjee) রহস্যজনক মৃত্যু হয় ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ যেত পাকিস্তানে, জানুন সেই ইতিহাস

    Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ যেত পাকিস্তানে, জানুন সেই ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯০১ সালের ৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee)। তাঁকে ‘ভারত কেশরী’ বলেও সম্বোধন করা হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, তিনিই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের জনক। মুসলিম লিগের পাতা ফাঁদ থেকে তিনি উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছিলেন বাঙালি হিন্দুদের। মূলত তাঁর প্রচেষ্টাতেই অখণ্ড বাংলার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমাংশ থেকে যায় ভারতে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অখণ্ড বাংলাকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে সুরাবর্দীর প্রস্তাবও ব্যর্থ করেন তিনি। আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আমরা জানব কীভাবে তিনি পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) ভারতে রাখতে সমর্থ হলেন!

    পাকিস্তানের দাবিতে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ ও নোয়াখালি গণহত্যা

    ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট দিনটি ছিল শুক্রবার। বাঙালি হিন্দুর জীবনে সেদিন নেমে আসে এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসে’র নামে, পাকিস্তানের দাবিতে মুসলিম লিগ শুরু করল হিন্দু নিধনযজ্ঞ। অবিভক্ত বাংলায় তখন ছিল সুরাবর্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লিগের সরকার। মুসলিম লিগের গুন্ডারা হিন্দুদের ওপর ভয়াবহ সম্প্রদায়িক হামলা শুরু করে। পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়। কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়। হাজার হাজার হিন্দু নারী ধর্ষিতা হন। লুট করা হয় সম্পত্তি। ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর পরেই নোয়াখালিতে মুসলিম লিগ শুরু করে ফের এক হিন্দু নিধনযজ্ঞ। উদ্দেশ্য একটাই, পাকিস্তান। বর্তমান বাংলাদেশের নোয়াখালি, লক্ষ্মীপুর, ফেনী জেলা নিয়ে মেঘনার বাম তীরে অবস্থিত ছিল ব্রিটিশ আমলের নোয়াখালি জেলা। এই জেলাতে তৎকালীন সময়ে হিন্দুদের জনসংখ্যা ছিল ১৮ শতাংশ। ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর ছিল কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো। স্থানীয় হিন্দু বাড়িগুলিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে লিগের গুন্ডারা। গণহত্যা, লুট, গৃহে অগ্নিসংযোগ, অপহরণ ,নারী ধর্ষণ-এই সমস্ত কিছুই চলতে থাকে মুসলিম লিগের নেতা মওলানা গোলাম সারোয়ারের নেতৃত্বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক নোয়াখালিতেই হত্যা করা হয়েছিল ১০ হাজার হিন্দু বাঙালিকে। এর থেকেও বেশি সংখ্যক মানুষকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়। অগণিত মহিলাকে ধর্ষিতা হতে হয়।

    হিন্দু বাঙালির অস্তিত্ব বিপন্ন করতে মুসলিম লিগের ফাঁদ 

    অবিভক্ত বাংলায় তখন মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। মুসলিম লিগ নেতৃত্বের দাবি, কলকাতা সহ সমগ্র বাংলাকেই পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই দাবিতেই ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ ও ‘নোয়াখালি গণহত্যা’। এদিকে সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তিকরণের বিরুদ্ধে হিন্দু বাঙালিদের মধ্যেও গড়ে উঠেছে প্রবল জনমত। মুসলিম লিগের নেতা তথা ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’- এর খলনায়ক সুরাবর্দী তখন এক ফাঁদ পাতলেন। দুই বাংলাকে নিয়ে অখণ্ড স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরি করার প্রস্তাব রাখলেন তিনি। অর্থাৎ অখণ্ড বাংলা, না হবে ভারতের, না পাকিস্তানের। কিন্তু এরপরেও বাংলাতে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যেত। আশ্চর্যজনকভাবে অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্রের দাবিতে সম্মতি দিলেন মহম্মদ আলি জিন্না। অর্থাৎ যেনতেন প্রকারেন তৎকালীন অখণ্ড বঙ্গের পশ্চিমাংশ যা বর্তমানের পশ্চিমবাংলা, যেখানে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেটিকে ভারত থেকে আলাদা করতেই হবে। সুরাবর্দীর এমন পাতা ফাঁদে পা দেন কংগ্রেসের দুই নেতা শরৎচন্দ্র বসু ও কিরণশঙ্কর রায়। এমন সময়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বুঝতে পারলেন যে হিন্দু বাঙালির অস্তিত্ব বিপন্ন করতে ফাঁদ পেতেছে মুসলিম লিগ। হয়তো পাকিস্তানে নিয়ে যেতে চাইছে অথবা স্বাধীন রাষ্ট্রের নামে একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে হিন্দুদের তারা সংখ্যালঘু করে রাখতে চাইছে।

    আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee) 

    সেই সময় থেকেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁর সমস্ত শক্তিকে নিয়োজিত করলেন হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গকে ভারতে রাখার জন্য। ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই হিন্দু মহাসভার নেতৃত্বে তিনি একটি কমিটি গঠন করেন এবং সারা বাংলা জুড়ে সফর শুরু করেন। বড় বড় জনসভাগুলিতে বক্তব্য রাখেন। মানুষকে বাংলা ভাগের প্রয়োজনীয়তা তিনি বোঝাতে থাকেন। কংগ্রেসের নেতাদের কাছেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee) আবেদন রাখেন যে তাঁরা যেন বাংলা ভাগের দাবিকে সমর্থন জানান। ১৯৪৭ সালের ১৫ মার্চ কলকাতায় হিন্দু মহাসভা একটি দু-দিনব্যাপী আলোচনাসভার আয়োজন করে। এতে হাজির ছিলেন ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার, ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, হেমেন্দ্রচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ। এই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে হিন্দু মহাসভা। অখণ্ড বাংলার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলিকে নিয়ে একটি আলাদা প্রদেশ গঠন করার কথা লেখা হয় প্রস্তাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ওই প্রস্তাব পেশও করে হিন্দু মহাসভা। ঠিক এমন আবহে তৎকালীন জনপ্রিয় দৈনিক ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’ ১৯৪৭ সালের ২৩ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত একটি সমীক্ষা করে। বিষয় ছিল, বাংলা ভাগ করা উচিত কিনা। এই সমীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয় ১৯৪৭ সালের ২৩ এপ্রিল। জানা যায়, এতে মোট ৫ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৯ জন মানুষ নিজেদের মতামত রাখেন। ৯৮. ৩ শতাংশ মানুষই বাংলা ভাগের পক্ষে কথা বলেন। অন্যদিকে, বাংলা ভাগের বিপক্ষে কথা বলেন ০.৬ শতাংশ মানুষ। ১.১ শতাংশ মানুষের মতামত বাতিল হয়।

    মাউন্টব্যাটেন-শ্যামাপ্রসাদ বৈঠক

    এমন সময় ১৯৪৭ সালের ২৩ এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) সঙ্গে বড়লাট মাউন্টব্যাটেনের একটি বৈঠক হয়। সেখানে ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে বোঝান, ‘কেন বাংলা ভাগ করা প্রয়োজন’। আবার ১৯৪৭ সালের ২ মে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মাউন্টব্যাটেনকে বাংলা ভাগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে একটি দীর্ঘ পত্র লেখেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এমন আন্দোলন সে সময় খবরের শিরোনামেও আসে। তৎকালীন কলকাতার দৈনিক ‘দ্য স্টেটসম্যান’ ১৯৪৭ সালের ২৪ এপ্রিল একটি খবর প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে তারা জানায়, বাংলা ভাগ করার আন্দোলন একটি বিশাল ঝড়ে পরিণত হয়েছে। এই ঝড় আরম্ভ করেছিল হিন্দু মহাসভা। ঝড়ের কেন্দ্রভূমি হচ্ছে কলকাতা। ১৯৪৭ সালের মে মাসের প্রথম দিকে ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বাংলা ভাগের প্রয়োজনীয়তার কথা মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুকেও বলেন। তবে তাঁরা এ বিষয়টি খুব একটা আমল দেননি বলেই জানা যায়। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সোদপুরে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেও তাঁকে একই কথা বলেন।

    বল্লভভাই প্যাটেলের চিঠি

    তৎকালীন কংগ্রেস নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে চিঠি লেখেন এবং সেখানে তিনি বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। বাংলার হিন্দুরা যতদিন নিজেদের স্বার্থ বুঝছে এবং নিজেদের অবস্থান থেকে না সরছে, ততদিন ভয়ের কোনও কারণও নেই। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলার ডাক মুসলিম লিগের পাতা ফাঁদ ছাড়া কিছু নয়। বাংলাকে কখনই ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।’’ এই সময়ে বাংলা ভাগের দাবিতে বারোটিরও বেশি জনসভা করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। পাঁচটি করেন কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথভাবে। কংগ্রেস বাংলা ভাগের দাবিকে শেষ মুহূর্তে সমর্থন জানায়। তার কারণ ছিল একটাই যে তাদের হিন্দু ভোটাররা যেন না সরে যায়।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াসে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) গঠন

    দীর্ঘ আন্দোলন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াসের পরে ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইন পরিষদের পশ্চিমাংশের সদস্যরা বাংলার দ্বিখণ্ডীকরণের প্রস্তাব বা পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) প্রস্তাব ৫৮-২১ ভোটে পাশ করান। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মুসলিম লিগের পাতা ফাঁদ থেকে বের করে আনেন হিন্দু বাঙালিকে। হিন্দু বাঙালি পায় তার নিজস্ব হোমল্যান্ড। ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ ও নোয়াখালির দাঙ্গার পরেও মুসলিম লিগ সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়। ব্যর্থ হয় স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠনের নামে হিন্দু বাঙালিকে দাস করে রাখার পরিকল্পনা। মুসলিম লিগের যাবতীয় চক্রান্তকে প্রতিহত করতে সমর্থ হন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Shyama Prasad Mukherjee: ন্যাশনাল লাইব্রেরির ‘ভাষা ভবন’-এর নামকরণ হল শ্যামাপ্রসাদের নামে

    Shyama Prasad Mukherjee: ন্যাশনাল লাইব্রেরির ‘ভাষা ভবন’-এর নামকরণ হল শ্যামাপ্রসাদের নামে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরির ‘ভাষা ভবন’-এর নামকরণ এবার করা হল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) নামে। ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবস, ঠিক তার আগের দিন কেন্দ্রীয় সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের বড় অংশ। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক, ন্যাশনাল লাইব্রেরির ডিরেক্টরকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এই মর্মে, সেখানে জানানো হয়েছে ভাষা ভবনের নাম এবার থেকে ড: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ভাষা ভবন করা হল। উল্লেখ্য, দেশভাগের সময় ওপার বাঙলা থেকে আগত হিন্দু শরণার্থীদের আশ্রয়দানে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বিজেপির একাংশের দাবি, রাজনৈতিক চক্রান্তেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বাংলার মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, জানতে দেওয়া হয়নি তাঁর সুমহান অবদান।

    জাতীয় গ্রন্থাগারের পথচলা

    গবেষকরা জানাচ্ছেন, মীর জাফরের আমলে তৈরি হয়েছিল বেলভিডিয়ার গার্ডেন। বিশাল প্রাসাদোপম এই বিল্ডিং-এ এককালে থাকতেন বড়লাট ওয়ারেন হেস্টিংস সাহেব। ইতিহাসের বহু ঘটনার সাক্ষী রয়েছে জাতীয় গ্রন্থাগার। জানা যায়, বেলভিডিয়ার গার্ডেন ১৮৯১ সালে হয়ে ওঠে ইমপিরিয়াল লাইব্রেরি। ১৯১০ সালে আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের এর সভাপতি নিযুক্ত হন। জানা যায়, পরবর্তীকালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁর পিতা আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সংগ্রহে থাকা ৮০,০০০ দুর্মূল্য বই গ্রন্থাগারে দান করেন। ১৯৫৩ সালে এই ইমপিরিয়াল লাইব্রেরি হয়ে ওঠে জাতীয় গ্রন্থাগার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশাল আকার এই প্রাসাদে জাতীয় গ্রন্থাগারের বিভিন্ন বিভাগ ছড়িয়ে রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল ভাষা ভবন। এবার থেকে সেই ভাষা ভবনের নতুন নামকরণ হল ড: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি (Shyama Prasad Mukherjee) ভাষা ভবন।

    ২০২০ সালে কলকাতা পোর্টের নামও হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে

    প্রসঙ্গত, কলকাতা পোর্টের নামও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে ২০২০ সালেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে তখন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কলকাতা পোর্টের নতুন নাম করা হয়েছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর। 

    সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ট্যুইট সুকান্তর

    কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ট্যুইট করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সুকান্ত।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share