Tag: Shyamaprasad Mukherjee

  • Shyamaprasad Mukherjee: প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুলপাঠ্যে শ্যামাপ্রসাদ অধ্যায়! নবান্ন থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Shyamaprasad Mukherjee: প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুলপাঠ্যে শ্যামাপ্রসাদ অধ্যায়! নবান্ন থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyamaprasad Mukherjee) ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে বঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) উদ্যোগে শ্যামাপ্রসাদকে ঘিরে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে তৈরি হয়েছে বিশেষ কমিটি। বৃহস্পতিবার সেই কমিটির প্রথম বৈঠক ছিল। তাতে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyamaprasad Mukherjee) ঐতিহাসিক অবদান, রাষ্ট্রবাদী দর্শন ও দেশপ্রেমকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে বছরভর একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। নিউ টাউনের ইকো পার্কে (Eco Park) ১২৫ ফুট উঁচু দণ্ডায়মান মূর্তি ও সংগ্রহশালা নির্মাণ, পৈতৃক ভিটে সংস্কার, বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে তাঁর ইতিহাস অন্তর্ভুক্তি এবং স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ—রাজ্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের সরকারি কমিটির প্রথম বৈঠকেই চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেল এই সব প্রকল্প।

    নতুন প্রজন্মের সামনে শ্যামাপ্রসাদ

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের সভাগৃহে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-সহ রাজ্যের অর্থমন্ত্রী-সহ একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক প্রতিনিধি, মুখ্যসচিবের নেতৃত্বাধীন শীর্ষ আমলা ও আধিকারিকেরা। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক দফতরের প্রতিনিধি এবং রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়-সহ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি ও আদর্শের সঙ্গে যুক্ত বহু চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদের জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, দেশ ও সমাজের প্রতি অবদান এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

    হিডকো-কে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি নির্মাণের অনুমতি

    বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিউ টাউনের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উঁচু দণ্ডায়মান মূর্তি বসানোর জন্য ইতিমধ্যে জমি নির্বাচন ও ভূমিপূজন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবারের বৈঠকে হিডকো (HIDCO)-র তরফে একটি বিশেষ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত মূর্তি, মিউজিয়াম এবং আনুষঙ্গিক পরিকাঠামোর পুরো রূপরেখা ও নকশা কমিটির সামনে তুলে ধরা হয়। আগামী ৬ জুলাই যাতে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা যায়, সে কথা মাথায় রেখে হিডকো-কে অবিলম্বে নির্মাণকাজ শুরু করার প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের লাইব্রেরি

    হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের (Shyamaprasad Mukherjee) পৈতৃক ভিটেতে রাজ্য সরকারের কেনা ৩০ ডেসিমেল জায়গায় জোড়া প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সেখানে তৈরি হতে চলেছে ‘স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়’-এর নামাঙ্কিত একটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন লাইব্রেরি এবং একটি সুসজ্জিত সংগ্রহশালা।

    প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদ

    নতুন প্রজন্মকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠন ও স্বাধীন ভারতের উন্নয়নে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা চেনাতে বড় পদক্ষেপ করছে স্কুল শিক্ষা দফতর। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সিলেবাসে শ্যামাপ্রসাদের অবদান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাধীন ভারতে প্রথম শিল্প ও শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তাঁর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ভাবনা, গঠনমূলক চিন্তাধারা এবং দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তারিত ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে পাঠ্যসূচিতে। তাঁর আত্মবলিদান পড়ানো হবে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বস্তরে।

    শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে প্রকাশ পাবে দুটি বিশেষ গ্রন্থ

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুটি বই প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়ের সক্রিয় উদ্যোগে রামকৃষ্ণ মিশনের একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। এই পাণ্ডুলিপি যৌথ ভাবে সরকারি উদ্যোগে মুদ্রণ ও প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতকে নোডাল এজেন্সি করে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় একটি পূর্ণাঙ্গ পুস্তিকা প্রকাশের জন্য বিশেষ কমিটি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও সাধারণ মানুষ, গবেষক, ইতিহাসবিদ কিংবা বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাছ থেকে পরামর্শ ও প্রস্তাব সংগ্রহের জন্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে একটি বিশেষ ডিজিটাল পোর্টাল চালু করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ১৫ থেকে ৩০ দিনের সময়সীমায় যে কেউ সেখানে নিজেদের প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।

    শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে রাজনীতি

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উজ্জ্বল জীবনী ও তাঁর আত্মবলিদান এতদিন প্রচারের আলোয় আনা হয়নি। এর নেপথ্যে রাজনীতি হয়েছে। কিন্তু এবার বঙ্গে বিজেপি সরকার আসায় ‘ভারত কেশরী’র অবদানকে প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। এবছরটা তাঁর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী। তাই বছরভর উদযাপনের সুদীর্ঘ পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে বৃহস্পতিবার শ্যামাপ্রসাদ সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি বৈঠকে বসে। শুভেন্দু জানান, স্বাধীনতা আন্দোলন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিষ্ঠা, কাশ্মীর নীতি এবং স্বাধীন ভারতের পরিকাঠামো গঠনে শ্যামাপ্রসাদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা স্মরণ করার মাধ্যমেই ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ ও ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর স্বপ্নপূরণে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চারিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

     

     

     

     

  • Shyama Prasad Mukherjee: ‘শ্যামাপ্রসাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল’, বলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

    Shyama Prasad Mukherjee: ‘শ্যামাপ্রসাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল’, বলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রহস্যমৃত্যুকে’ চক্রান্ত বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘বলিদান দিবসে’ পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে চড়া সুরে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার কলকাতার হাজরা মোড়ে বিজেপির যুব মোর্চার রক্তদান শিবিরে যোগ দিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী প্রণবানন্দের কাজকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।’ শ্যামাপ্রসাদের আদর্শেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার, ২৩ জুন ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, ‘‘তাঁর (Shyama Prasad Mukherjee) মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। আসল ঘটনা আড়ালে ছিল। ইচ্ছে করে ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।”

    শ্যামাপ্রসাদের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শই পথ

    বদলের বাংলায় ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর জন্মদিন ৬ জুলাই সরকারি ছুটি, বিরাট মূর্তি গড়ায় উদ্যোগ আগেই গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এবার শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুরহস্য নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন। সকাল থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর বিশাল মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে একে একে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা জড়ো হন। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমে মাল্যদান করেন। এরপর একে একে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন, ড: হরেকৃষ্ণ বেরা, কৌশিক চৌধুরীরা। মূর্তিতে মাল্যদান করে, প্রণাম জানিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ

    শ্যামাপ্রসাদ প্রসঙ্গে বিগত তৃণমূল সরকারকে জামাতের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আগের সরকার শ্যামাপ্রসাদকে ভুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তিনি না হলে হিন্দু বাঙালি মাতৃভূমি পেত না। পাকিস্তানে চলে যেতে হতো। সেই জায়গা থেকে উনিই আমাদের বাঁচিয়েছেন। এখন থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শ নিয়ে আমরা চলব।” নাম না করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,‘‘ভবানীপুরে আমার কাছে দু’বার হেরেছেন। তিনি শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে দেননি।” যুব মোর্চা অনেক কষ্টে ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদের বাড়ির সামনে বলিদান দিবস পালন করতেন বলেও জানান তিনি।

    শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ পালন

    ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের প্রত্যেক স্কুলে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ পালনের কথা জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। কেওড়াতলার অনুষ্ঠান সেরে হাজরা মোড়ে যুব বিজেপির রক্তদান শিবিরে অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁকে ঘিরে রীতিমতো জনতার ভিড় দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে কথা বলেন শুভেন্দু। এ বারই প্রথম কলকাতা পুরসভা এবং তথ্য সংস্কৃতি দফতর যৌথ ভাবে বলিদান দিবস পালন করেছে বলেও জানান তিনি।

    শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের দাবি

    জম্মু-কাশ্মীরে ঢোকার জন্য ‘পারমিট প্রথা’-র বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করেন শ্যামাপ্রসাদ। মে মাসে তাঁকে গ্রেফতার করে শ্রীনগর পুলিশ। বন্দি থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানেই ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন মৃত্যু হয় তাঁর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করলেও বিজেপির তাতে তীব্র আপত্তি রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের দাবি করে শুভেন্দু বলেন, ‘তিনি এক দেশ, এক নিশান (পতাকা), এক বিধান (সংবিধান)-এর দাবি করেছিলেন। তাই তাঁকে অসময়ে-অকালে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’ ২৩ জুন বিজেপি ও জনসংঘের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের কাছে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পরিচিত।

    ‘বলিদান দিবস’-এর তাৎপর্য

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (Shyama Prasad)কলকাতায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু নিয়ে ফের বিতর্ক উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু কোনও স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি “ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড”। কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করার আন্দোলনের কারণেই তাঁকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২৩ জুন বিজেপি ও জনসংঘের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের কাছে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পরিচিত। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দেশের অখণ্ডতার জন্য লড়াই করতে গিয়ে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু এবং তাঁর আদর্শ আজও ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বিজেপি ও তার আদর্শিক শিকড় জনসংঘের কাছে তিনি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রতীক। তাই তাঁর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক এবং রহস্যের প্রশ্নও সময় সময় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

    শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে দেওয়া হয়নি

    হুগলির বলাগড়ের জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেতে ১২৫ ফুট উঁচু নতুন মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পুরোনো বাড়ির আমূল সংস্কার ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যায়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে তার কাজ শুরু হবে বলে ঘোষণা করলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘তাঁর আবির্ভাব দিবসেই ভূমি পুজোর কাজ শুরু হবে।’  বঙ্গীয় আইনসভায় ৫৮-২১ ভোটে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারকেশ্বরে হিন্দু মহা সম্মেলনে রেজোলিউশন পাশ করিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। আপনারা বিশ্বাস রাখুন, এই সরকার তাঁর আদর্শে চলবে।’

LinkedIn
Share