Tag: SIR in Bengal

  • SIR in Bengal: শুক্রবারই এসআইআর-এ বিবেচনাধীনদের প্রথম তালিকা প্রকাশ! দিনে দু’লক্ষ করে নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে, জানাল কমিশন

    SIR in Bengal: শুক্রবারই এসআইআর-এ বিবেচনাধীনদের প্রথম তালিকা প্রকাশ! দিনে দু’লক্ষ করে নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে, জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর পর পশ্চিমবঙ্গে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে শুক্রবারই। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ নামের নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার দিনে প্রায় দু’লক্ষ করে নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মোট ২৩ লক্ষ ৩০ হাজার ‘বিবেচনাধীন’ নাম। হাইকোর্ট নিযুক্ত ৭০০-র বেশি বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই কাজ করছেন। সিইও দফতর সূত্র জানা গিয়েছে, এই গতিতে চললে ভোটের আগে সমস্ত বিবেচনাধীন ভোটারের নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারে।

    আজই উচ্চ-পর্যায়ে বৈঠক

    অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বৈঠকে ডাকলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের নামের তালিকা প্রকাশের আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে। বৈঠক ডাকা হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়। এই মুহূর্তে রাজ্যের কোথাও আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, বৈঠকে জানতে চাইতে পারেন প্রধান বিচারপতি। উল্লেখ্য, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদল আনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ঘিরে যাতে কোনও উত্তেজনা না তৈরি হয়, সে দিকেই এখন নজর আদালতের।

    সময়ের মধ্যেই সকল বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি!

    আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে ভোটের আগে যদি সমস্ত বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি না হয়, ঝুলে থাকা ভোটারদের কী হবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, স্পষ্ট নয়। সুপ্রিম কোর্টকে এ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে হবে। তবে সময়ের মধ্যেই সকল বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি করে ফেলতে চান বিচারকেরা। এর পরেও যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাঁরা বিচার বিভাগের বিশেষ ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন।

    দ্রুত গতিতে কাজ করছে কমিশন

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের জন্য একটি বিশেষ সফ্‌টঅয়্যার প্রয়োজন। তা তৈরি করার পর আদালতের ছাড়পত্র নিতে হবে। সেই সফ্‌টঅয়্যারের কাজ চলছে। শেষ হলেই তালিকা প্রকাশ করে দেওয়া যাবে। এর মধ্যে প্রতি দিনই ‘বিবেচনাধীন’ নাম নিষ্পত্তির কাজ করে চলেছেন কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিক ও বিচারকেরা। যে দিন কমিশন অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করবে, সে দিন পর্যন্ত যত নামের নিষ্পত্তি হবে, সব নাম ওই তালিকায় রাখা হবে। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় ছিল। কলকাতার শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে তাঁকে ফের প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর নাম যাতে আগে নিষ্পত্তি করা হয়, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে তিনি সেই আবেদন জানিয়েছিলেন। বুধবার সিইও দফতর খোঁজ নিয়ে জানিয়েছে, মন্ত্রীর নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে।

    সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ 

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। আর সেই তালিকায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীনের তালিকায় রয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বেরনোর পর কেটে গিয়েছে ২ সপ্তাহের বেশি। বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখে তা নিষ্পত্তি করছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। এই নিয়ে কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বললেন, “সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই সপ্তাহের মধ্যেই আমরা তা প্রকাশ করতে পারব। যে সব নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলি এক-দু’দিনের মধ্যে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। এখন যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে শুক্রবার কিংবা শনিবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরিয়ে যাওয়ার কথা।”

    ৪৭৮ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ

    অন্য দিকে, ভোটের কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন ৪৭৮ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া থাকছেন ৮৪ জন পুলিশ অবজার্ভার এবং ১০০ জন এক্সপেনডিচার অবজার্ভার। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক রয়েছেন। এই সমস্ত পর্যবেক্ষক রাজ্যে আসতে শুরু করেছেন বুধবার থেকেই। কমিশন জানিয়েছে, শুধু ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে নয়, বুথ সংলগ্ন এলাকাতেও ভোটারকে হুমকি, ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ঘটলে পুনর্নির্বাচন হতে পারে। ছাপ্পা, অশান্তি, বুথ দখলের মতো ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। কমিশনের বক্তব্য, বাংলায় হিংসামুক্ত, রক্তপাতহীন, স্বচ্ছ ভোট করাই লক্ষ্য। তাই অতীতে ভোটের হিংসা যেখানে বেশি হয়েছে এবং স্পর্শকাতর অশান্তিপ্রবণ জেলাগুলিতেই বেশি করে পুলিশ অবজ়ার্ভার নিয়োগের উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথাযথ ভাবে ব্যবহার করা হয়। কমিশনের বিশেষ নজরে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা। শুধু অশান্তি নয়, কমিশন ভোটকে সামনে রেখে টাকা, মদ–মাদক সমেত বিভিন্ন ধরনের উপহার দেওয়ার খেলা বন্ধ করতেও বদ্ধপরিকর।

  • SIR in Bengal: বাংলার ভোটারদের আপিল শুনবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল! এসআইআর মামলায় সুপ্রিম-নির্দেশ

    SIR in Bengal: বাংলার ভোটারদের আপিল শুনবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল! এসআইআর মামলায় সুপ্রিম-নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও বৈধ ভোটার বাদ যাবে না। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মামলায় কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট ৷ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, যেসব আবেদন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাতিল হয়েছে, সেই আপিল শুনতে একটি বিশেষ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে ৷ আর এই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে থাকবেন একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং কয়েকজন প্রাক্তন বিচারপতি। একই সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আগাম পিটিশনে বিরক্তিও প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

    আগাম পিটিশন ভুল বার্তা

    মঙ্গলবার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে বললেন, আগাম পিটিশন ভুল বার্তা দেবে। একইসঙ্গে আইনজীবী তথা তৃণমূলের সদ্য জয়ী রাজ্যসভার সাংসদ গুরুস্বামীকে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আগাম পিটিশনের মাধ‍্যমে বার্তা যাচ্ছে, আপনারা সিস্টেমে ভরসা রাখতে পারছেন না।” পিটিশন ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যও গুরুস্বামীকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর কথায়, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ১০ লক্ষ কাজ হয়ে গিয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের কোনও প্রশ্নের মুখে ফেলবেন না, আমি কড়াভাবে বলছি।” এর পরই ‘সুপ্রিম’ ভরসা দিয়ে তিনি বলেন, “জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ করছেন। যাঁরা জেনুইন, তাঁদের যুক্ত করা হবে।” রাজ্যের নতুন আবেদনে বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এই পিটিশন প্রিম‍্যাচিওর।” পিটিশন প্রত্যাহার করে নিতে গুরুস্বামীকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানান, ভোটের আগে এই কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এদিন অবশ্য বলে, “আমরা প্রয়োজনে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে অবমাননার নোটিস দিতে পারি। যে পরিস্থিতি এসেছে, তাতে আমরা সব পক্ষকে সন্দেহের আওতায় রাখছি।” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসাররা অমীমাংসিতের তালিকা খতিয়ে দেখছে। এদিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, “রাজ‍্য ও নির্বাচন কমিশনকে সবরকমভাবে জুডিশিয়াল অফিসারদের সাহায‍্য করতে হবে। যখন জুডিশিয়াল অফিসারদের লগ-ইন আইডি লাগবে, তখনই ইসিআইকে তার ব‍্যবস্থা করে দিতে হবে।”

    একাধিক নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    রাজ্যের এসআইআর মাময়ায় একাধিক নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত ৷ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি মহাদেবনের বেঞ্চ এদিন নির্দেশে জানিয়েছেন, ১০ লক্ষের বেশি নামের নিস্পত্তি হয়ে গেলেও অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে ৷ লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সিতে নিস্পতি হওয়া ভোটারদের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের বিষয়ে কমিশন এবং রাজ্য দু’পক্ষই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানাতে পারবে ৷ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে; তাঁদের বিষয়ে আপিল জানাতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা অন্যান্য বিচারপতি বা পাশ্ববর্তী রাজ্যের হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিদের নিয়ে বেঞ্চ গঠন করতে ৷ বেঞ্চ এ বিষয়ে নিস্পত্তি করবে ৷ বেঞ্চে কতজন করে সদস্য থাকবে, তা স্থির করবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ৷ এদের নিয়োগের সমস্ত খরচ নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে ৷ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য হবে নির্বাচন কমিশন ৷

  • SIR in Bengal: রাজ্যে আসছেন আরও ২০০ জুডিশিয়াল অফিসার, অমীমাংসিত নামের নিষ্পত্তি কতদিনে?

    SIR in Bengal: রাজ্যে আসছেন আরও ২০০ জুডিশিয়াল অফিসার, অমীমাংসিত নামের নিষ্পত্তি কতদিনে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্চের শেষেও এসআইআর প্রক্রিয়ায় (SIR in Bengal) অমীমাংসিতের তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজারের নাম নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ মার্চে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হলে, তার আগে কোনওভাবেই বিবেচনাধীন লিস্ট প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এমনই মনে করছে নির্বাচন কমিশন। তাই আজ, শনিবার ৭ মার্চ ঝাড়খণ্ড থেকে রাজ্যে আসছেন ১০০ জুডিশিয়াল অফিসার আসছেন। ওড়িশা থেকেও আসবেন আরও ১০০ জুডিশিয়াল অফিসার। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম, হুগলি, হাওড়া, নদিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব বর্ধমান- এই আটটি জেলার বিবেচনাধীনের তালিকার নিষ্পত্তি করবেন তাঁরা।

    ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আসছেন বিচারকরা

    রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-পর্বে এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি করেছেন বিচারকেরা। শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘শনিবার ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকরা আসবেন তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজের জন্য।’’ রাজ্য এসআইআর প্রক্রিয়ায় জীবিত কয়েক জন ভোটারকে ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত করে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে সিইও মনোজ বলেন, ‘‘যদি কোনও জীবিতকে, মৃত ভোটার হিসাবে দেখানো হয়, তবে আমাদের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগ জানালে আমরা পদক্ষেপ করব। দেখা হবে কার গাফিলতিতে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে? কেন করা হয়েছে? ইচ্ছাকৃত কেউ নাম বাদ দিয়েছেন কি না? কমিশন কি জীবিত কারও নাম বাদ দিতে পারে?’’

    কতদিনে কাজ শেষ হওয়ার আশা

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সেখানে ৬০ লক্ষের নাম অমীমাংসিতের তালিকায় থাকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসাররা ওই অমীমাংসিতদের নথি খতিয়ে দেখছেন। এই মুহূর্তে কাজ করছেন ৫০১ জন জুডিশিয়াল অফিসার। হিসেব বলছে, গড়ে ১ লক্ষ ৪০ হাজার একদিনে নিষ্পত্তি হলেও এক থেকে দেড় মাস সময় লেগে যাবে। যাঁরা শনিবার রাজ্যে আসছেন, তাঁদের কাজ শুরু করতে আগামী সপ্তাহ সময় লেগে যাবে। তাঁরা কাজে যোগ দিলে বাছাই এবং নিষ্পত্তির গতি বেড়ে যাবে। অন্যদিকে রাজ্যে আসছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। ৯ মার্চ আটটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবে। রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, অমীমাংসিতের তালিকার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যাতে ভোট ঘোষণা না হয়। তারা এই বিষয়টা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সামনে তুলে ধরবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ফুল বেঞ্চ আসার কয়েকদিনের মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার নিয়ম রয়েছে। তা যদি হয়, তাহলে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে ৬০ লক্ষের নিষ্পত্তি কোনওমতেই সম্ভব নয় বলেই মনে করছে কমিশন।

  • SIR Final List: মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুরে ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ! ওই কেন্দ্রে দাঁড়াবেন কি মমতা, কী বলছে বিজেপি?

    SIR Final List: মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুরে ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ! ওই কেন্দ্রে দাঁড়াবেন কি মমতা, কী বলছে বিজেপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর-র চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুর বিধানসভায় মোট ৪৭ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়েছে। ২০২১ সালের উপনির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে ৫৮ হাজার ৮৩২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন মমতা। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি-র প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপি হুঙ্কার দিচ্ছে, এই কেন্দ্রে তারা জিতবে। এই আবহে কত নাম বাদ পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সংখ্যাটা সামনে এল।

    মোট কত ভোটার বাদ পড়ল ভবানীপুরে

    এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় কমিশন জানিয়েছিল, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মোটা ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫। গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, ৪৪ হাজার ৭৮৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আরও ২ হাজার ৩২৪ জনের নাম বাদ পড়ল। সবমিলিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রে বাদ পড়েছে ৪৭ হাজার ৯৪ জনের নাম। শুধু ৪৭ হাজার নাম বাদ নয়, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে আরও ১৪ হাজার ১৫৪ জনের নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে। নথি যাচাইয়ের পর বাদ পড়লে ভবানীপুরে নাম বাদের সংখ্যা আরও বাড়বে। ভবানীপুর কেন্দ্রে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৫৯,২০১ জন।

    ভবানীপুরে দাঁড়াবেন মমতা!

    এই নাম বাদের কোনও প্রভাব কি বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) পড়বে? উঠছে প্রশ্ন। এদিন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “২ জায়গার ভোটার কিংবা যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। আবার এই তালিকা প্রকাশের পরও নাম তোলার সুযোগ রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৪৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। তবে যাই হোক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ভবানীপুরে দাঁড়াতে সাহস পাবেন বলে মনে হয় না।” ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা একাধিকবার ভবানীপুরে এসে দাবি করেছেন, এবার বিজেপি এই আসনে জিতবে। শুক্রবার শুভেন্দু বলেছিলেন, “উনি জানেন কাদের ভোটে জিতেছিলেন। ওটা বিজেপির জায়গা। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আপনি দাঁড়ান। পালাবেন না। বাকিটা বুঝে নেব।”

    রাজ্যে কত ভোটারের নাম বাদ পড়ল

    কমিশন সূত্রে খবর, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই ৫৮ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর নতুন করে আরও ৭ লক্ষ ভোটারের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ (Deleted) বা মুছে ফেলা হয়েছে এমন মন্তব্য লেখা হয়েছে। অর্থাৎ, সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৬৫ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর বাইরে, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকলেও তার পাশে ‘বিচারাধীন’ লেখা রয়েছে। এই নামগুলি চূড়ান্ত কি না, তা নিয়ে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • SIR in Bengal: প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা! আপনার নাম আছে কি না জানবেন কীভাবে?

    SIR in Bengal: প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা! আপনার নাম আছে কি না জানবেন কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে ভোটার তালিকার (SIR in Bengal) বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষে আজ শনিবারই প্রকাশিত হতে চলেছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (SIR Final List)। কমিশন সূত্রে খবর চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকতে পারে প্রায় ৭ কোটি ৮ লাখের। চূড়ান্ত তালিকাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বেড়েছে মানুষের মধ্যে। নাম তালিকায় থাকবে কি না, নাম না থাকলেই বা কী করবেন? রাজ্যবাসীর মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইন দুই পদ্ধতিতেই দেখতে পাবেন ভোটার তালিকা। অনলাইনে দুই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানতে পারবেন। দু’টি ওয়েবসাইট হল voters.eci.gov.in ও electoralsearch.eci.gov.in। এপিক নম্বর ও ইলেক্টোরাল রোল ডাউনলোড করে আপনার নাম দেখতে পারবেন।

    চূড়ান্ত তালিকায় কীভাবে দেখবেন নাম

    এসআইআর-এর পর প্রকাশিত তালিকায় নাম রয়েছে কি না দেখতে এপিক নম্বর দিয়ে electoralsearch.eci.gov.in-এ গিয়ে সার্চ করতে হবে। এপিক নম্বর না থাকলে ফোন নম্বর দিয়েও সার্চ করতে পারেন। মা-বাবার নাম দিয়েও সার্চ করতে পারবেন। এছাড়া voters.eci.gov.in-এ গিয়ে ইলেক্টোরাল রোল ডাউনলোড করতে হবে। নিজের পোলিং বুথে নাম খুঁজতে পারেন। চূড়ান্ত তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা অফলাইনেও জানতে পারবেন। তার জন্য কমিশন নির্ধারিত সরকারি অফিস, বিডিও অফিস, পঞ্চায়েত ভবনে যেতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের মোবাইল অ্যাপ ইসিআইনেট (ECINET)-এ লগ ইন করে নির্দিষ্ট স্থানে নিজের নাম ও এপিক নম্বর দিলেই স্ক্রিনে ভেসে উঠবে ভোটার সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য।

    চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকলে কী করবেন

    এসআইআর তালিকায় নাম না থাকলে ১৫দিনের মধ্যে ডিইও-র কাছে আবেদন করতে পারবেন। সমাধান না হলে সিইও-র কাছে যেতে হবে। সেখানেও যদি আবেদন গৃহীত না হয়, তাহলে ফর্ম ৬ ডাইনলোড করে নতুন করে ভোটার হিসেবে নাম তুলতে পারবেন। মনোনয়ন জমার শেষ দিনের ১০ দিন আগে ফর্ম ৬ জমা দিতে হবে। রাজ্যজুড়ে ধাপে ধাপে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। বাঁকুড়ায় (Bankura) প্রকাশিত এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা (SIR Final List)। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সূত্রে খবর, বাঁকুড়া থেকে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ যাচ্ছে। বাঁকুড়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে, বাঁকুড়া বঙ্গ বিদ্যালয়ে টাঙানো হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। বাঁকুড়ার পাশাপাশি, উত্তর কলকাতাতে (North Kolkata) ১৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলায় জেলায় প্রকাশ করা হচ্ছে ভোটার তালিকা।

    নির্বাচন কমিশনের দফতরে বাড়তি নিরাপত্তা

    সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনের দফতরে রয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। কেন্দ্রীয় বাহিনীরও বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে রাজ্য জুড়ে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আগাম কলকাতা পুলিশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। তালিকায় আপনার নাম রয়েছে কি না, দেখা যাবে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট থেকে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলিকে পেন ড্রাইভে তালিকা দেওয়া হবে। এখনই বিএলও-দের কাছে তালিকা পাওয়া যাবে না। তবে বিডিও এবং এসডিও অফিসে তালিকা টাঙানো হবে। চূড়ান্ত তালিকা থাকবে জেলাশাসকের কার্যালয়েও। ইতিমধ্যে তালিকা ছাপানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর। তালিকার হার্ড কপি পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-দের কাছে। নিজের বুথে গিয়ে বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করলেই সরাসরি তালিকায় নিজের নাম রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যাবে। তালিকা প্রকাশের পর দ্রুত নিজের নাম মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

    কত লক্ষের নাম বাদ

    কমিশন সূত্রে খবর, তিনটি ভাগে তালিকা প্রকাশ করা হবে। অ্যাপ্রুভড বা অনুমোদনপ্রাপ্ত ভোটার, অমীমাংসিত ভোটার ও বাতিল হওয়া ভোটার।এর মধ্যে অমীমাংসিত ভোটারদের নিয়েই বাড়ছে সংশয়, তৈরি হয়েছে জটিলতা। রাজ্যে মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার অমীমাংসিত ভোটার রয়েছে। কমিশনের আশ্বাস আপাতত অমীমাংসিত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। তারপর দফায় দফায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করবে কমিশন। কমিশন সূত্রে এখনও পর্যন্ত পাওয়া হিসেব অনুযায়ী, আপাতত চূড়ান্ত তালিকায় অতিরিক্ত ৯ লক্ষের নাম বাদ পড়তে চলেছে। অর্থাৎ খসড়া তালিকায় যে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ পড়েছিল, চূড়ান্ত তালিকায় তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও ৯ লক্ষ। সবমিলিয়ে আপাতত ৬৮ লক্ষ নাম বাতিল। এছাড়া, ৬০ লক্ষ ভোটারের তথ্যে অসংগতি মেলায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    সূচি বেরলে গন্ডগোল তৈরির চেষ্টা হবে, আশঙ্কায় সুকান্ত

    ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হতে চলেছে এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন শেষে শনিবারই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এরপরে ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে চলেছে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। কিন্তু এবার এই তালিকা প্রকাশ নিয়েই বড় আশঙ্কা প্ৰকাশ করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “কত নাম বাদ পড়বে জানি না। সেটা নির্বাচন কমিশন বলবে। আমরা চাইব কোনও বৈধ নাগরিকের নাম যেন বাদ না যায়। সূচি বেরলে অনেকে গন্ডগোল তৈরির চেষ্টা করবে। প্রশাসনকে ও নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।” ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় চলছে গত কয়েকমাস। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের হাইপ্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি তাঁর গ্রেফতারি দাবি জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

     

     

     

     

     

     

  • SIR in Bengal: “জুডিশিয়াল অফিসারদের সন্দেহ করা বন্ধ করুন”, রাজ্যকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    SIR in Bengal: “জুডিশিয়াল অফিসারদের সন্দেহ করা বন্ধ করুন”, রাজ্যকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় এসআইআর (SIR in Bengal) প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তার আগে ফের সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ রাজ্য। এ যেন এসআইআর ঠেকানোর মরিয়া প্রয়াস রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুক্রবার রাজ্যের হয়ে শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। কলকাতা হাইকোর্টের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যে ‘ঠান্ডা লড়াই’ শুরু হয়েছে তা তিনি টেনে নিয়ে গেলেন সুপ্রিম কোর্টে। এবার জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ নিয়ে কমিশনকে কাঠগড়ায় টানল রাজ্য। তবে রাজ্যের এই অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়নি শীর্ষ আদালত।

    রাজ্যের দাবি

    শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কাছে রাজ্যের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার জন্য় যে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে কোনও ভাবেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই মর্মে কমিশন অবৈধ ভাবে নানা নির্দেশিকা জারি করছে বলেও অভিযোগ কপিল সিব্বলের। তবে এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি। কমিশনের জারি করা নির্দেশিকাগুলি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ-বিরোধী বলেও যুক্তি দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, “পিছন দরজা দিয়ে জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতিকে এড়িয়ে কোন নথি গ্রহণ হবে, কোন নথি গ্রহণ হবে না সেই বিষয়েও নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।”

    আদালতের জবাব

    রাজ্য়ের সওয়ালকারীর যুক্তি শোনার পরেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট বলেন, “জুডিশিয়াল অফিসারদের সন্দেহ করা বন্ধ করুন। এবার এর নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।” একই বেঞ্চে উপস্থিত বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “কমিশন ছাড়া আর কে প্রশিক্ষণ দেবে? আমরা স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়ে দিয়েছি কোন কোন ডকুমেন্টস গৃহীত হবে। আমাদের নির্দেশিকা অত্যন্ত স্পষ্ট। তা কোনও ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।” পাশাপাশি জুডিশিয়াল অফিসার নিয়ে তাঁর আরও পর্যবেক্ষণ, “আমাদের বিচারকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করা রাজ্য সরকার এবং কমিশন দুই তরফের দায়িত্ব। এসআইআর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমরা রাজ্যের বিচার ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে কার্যত ফাঁকা করে দিয়েছি।” তখনই আদালত জানিয়ে দেয়, এসআইআর-এর কাজে কোনও রকম বাধা সহ্য করা হবে না।

  • SIR in Bengal: প্রস্তুত এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা, ৩ ক্যাটেগরিতে থাকবে সব ভোটারদের নাম

    SIR in Bengal: প্রস্তুত এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা, ৩ ক্যাটেগরিতে থাকবে সব ভোটারদের নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই,অর্থাৎ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি, প্রকাশিত হতে চলেছে এসএইআরের (SIR in Bengal) চূড়ান্ত তালিকা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই তালিকায় নাম থাকছে ৭ কোটি ৮ লক্ষের। প্রথমে ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটার ছিল। সেখান থেকে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, চূড়ান্ত তালিকায় সকলের নাম থাকবে, তবে তিনটি বিভাগে— অ্যাপ্রুভড বা অনুমোদনপ্রাপ্ত ভোটার, অমীমাংসিত ভোটার, বাদ পড়া ভোটার।

    কীভাবে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা

    কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় (SIR Final List) ৭ কোটি ৮ লক্ষকে একাধিক ক্যাটাগরিতে ভাগ করা থাকবে। দেখা যাবে ‘ডিলিটেড’ বা বাদ পড়া ভোটার ক্যাটাগরি, থাকবে ‘নিস্পত্তি হয়নি’ অমীমাংসিত ভোটার ক্যাটেগরি। এছাড়াও থাকবে ‘অ্যাপ্রুভড’ ক্যাটেগরি বা অনুমোদনপ্রাপ্ত ভোটার। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, যাঁদের নাম থাকবে তাঁদের নামের পাশে ‘অ্যাপ্রুভড’ লেখা থাকবে। নাম বাদ গেলে থাকবে ‘ডিলিটেড’ লেখা। এছাড়া যাঁদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে তাঁদের নামের পাশে থাকবে ‘অ্যাডজুডিকেশন’। যাঁদের এখনও তথ্য বাছাইয়ের কাজ চলছে। শনিবার, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলেও এখনও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র আওতায় অনেক নাম। নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও বাকি। এরাজ্যের বর্তমান এবং প্রাক্তন বিচারকরা ইতিমধ্যেই নথি যাচাইয়ের কাজ করছেন। কিন্তু এসআইআরের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবার ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে আনা হচ্ছে সিভিল জজদের।

    কতদিন পর্যন্ত তালিকায় সংশোধন

    কমিশন বলছে, যাদের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা যুক্তিগত অসঙ্গতি রয়েছে কিন্তু এখনও (২৮ তারিখের আগে পর্যন্ত) যাচাই হয়নি কিংবা পরবর্তীতে যাচাই হয়েছে তাও পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। এককথায়, যে সকল ভোটারদের এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁদেরও চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা দেবে কমিশন। কিন্তু অমীমাংসিত হিসেবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেদিন ভোট ঘোষণা হবে, যত দফায় ভোট হবে ও দফা অনুযায়ী মনোনয়ন জমার শেষ দিন অবধি একটি করে সাপ্লিমেন্ট ভোটার তালিকা বের করা হবে। কমিশন সূত্রে খবর, ডিএম অফিস, বিডিও অফিস, পঞ্চায়েত ভবনের মতো কমিশন নির্ধারিত বিভিন্ন সরকারি অফিসে এই তালিকা টাঙানো থাকবে। এছাড়াও রয়েছে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট, সেখান থেকেও তালিকা দেখতে পাওয়া যাবে।

  • SIR in Bengal: কমিশনের কড়া ‘ডোজ’, সময়সীমা শেষের আগেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর রাজ্যের

    SIR in Bengal: কমিশনের কড়া ‘ডোজ’, সময়সীমা শেষের আগেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ডেকে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিল জাতীয় কমিশন। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সময় অতিক্রম করার আগেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর (SIR in Bengal) করল রাজ্য সরকার। এই চার জনের মধ্যে ২ জন ইআরও এবং ২ জন এইআরও। শেষ পর্যন্ত কমিশনের চাপে রাজ্য সরকার এফআইআর করায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। পাল্টা বিজেপির বক্তব্য নিয়ম না মানলে এই রকম আরও অনেক এফআইআর (FIR files against 4 officials) হবে।

    নন্দিনী চক্রবর্তীকে ডেকে কড়া বার্তা (SIR in Bengal)

    এসআইআর-এ (SIR in Bengal) ২ জন ইআরও এবং ২ জন এইআরও–র বিরুদ্ধে ভোটার লিস্টে কারচুপি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর সঙ্গে নাম জারিয়েছে ডেটা অপারেটারের। সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ না মানার অভিযোগও উঠেছিল নবান্নের বিরুদ্ধে। শেষে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে ডেকে কড়া বার্তা দেয় নির্বাচন কমিশন। চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার বিকেল ৪ টে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল। সেই সময় শেষ হওয়ার আগেই সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR files against 4 officials) করল রাজ্য সরকার।

    এই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা নিয়ে তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা আইন নিশ্চয় মানব। আইন আইনের পথে চলবে। তুঘলকি কমিশনের যেটুকু আইন মানার প্রয়োজনে সেটা নিশ্চয় মানব। কিন্তু, তার একটা বাউন্ডারি আছে। বাউন্ডারির বাইরে গেলে কিন্তু ছক্কা খেতে হবে।”

    সাত জনকে সাসপেন্ড করেছে

    অপরদিকে বিজেপির মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গতকালই তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যেমন সাত জনকে সাসপেন্ড করেছে, তেমন মুখ্যসচিবকে বলা হয়েছিল, যদি ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তাতে কাজ হয়েছে। ইআরও এবং এইআরও-দের (SIR in Bengal) কাছে স্পষ্ট বার্তা, সাত ও চার মিলে এগারো হল, এটা ১১১ হতে বেশি সময় লাগবে না। এটা ২০০২ সালের মতো এসআইআর হচ্ছে না। এখানে কোন বিএলও, কোন ইআরও, কোন ডিইও কী কাজ করছেন, তার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট রয়ে যাচ্ছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কোনও গাফিলতি ধরা পড়লে, তাহলে নির্বাচন কমিশন কী করতে পারে, তার হাল্কা ইঙ্গিত (FIR files against 4 officials) দিয়েছে।”

  • Bengal Assembly Polls: ১ মার্চ রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ, বাংলায় ভোট কবে?

    Bengal Assembly Polls: ১ মার্চ রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ, বাংলায় ভোট কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি, এমনই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর তারপরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly elections 2026) দামামা বেজে যাবে। আগামী ১ মার্চ দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছে নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ইসিআই)-র পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার (Bengal Assembly Polls) তালিকা প্রকাশের পরদিনই এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও), পশ্চিমবঙ্গ মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের বৈঠকে এই সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়।

    মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা

    সিইও দফতরের এক সূত্র জানিয়েছে, কলকাতায় পৌঁছে কমিশনের (Election Commission Of India) সদস্যরা সিইও-র পাশাপাশি অতিরিক্ত সিইও, যুগ্ম সিইও, ডেপুটি সিইও এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসআইআর-পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাই হবে এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। এর পরপরই রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে বলে সূত্রের খবর। সিইও দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “নয়াদিল্লির বৈঠকে কমিশন ইঙ্গিত দিয়েছে যে মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।”

    কত দফায় ভোটগ্রহণ রাজ্যে

    বৈঠকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কত দফায় ভোটগ্রহণ (Bengal Assembly Polls) হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, সিইও একদফায় নির্বাচন করার পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন এবং জানিয়েছেন যে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা গেলে রাজ্য প্রশাসন একদফা ভোটের জন্য প্রস্তুত। যদিও কমিশন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি, তবে তিন দফার বেশি ভোট হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে শেষ একদফা বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল ২০০১ সালে। এরপর লোকসভা ও বিধানসভা—উভয় ক্ষেত্রেই ছয় থেকে আট দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। সিইও দফতরের মতে, একদফা ভোটের ক্ষেত্রে যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে, তেমনই রয়েছে চ্যালেঞ্জও। একদফা ভোট হলে বিভিন্ন এলাকা থেকে সমর্থক জড়ো করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ কমতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলি তাদের সমর্থকদের এক পকেট থেকে অন্য পকেট পর্যন্ত একত্রিত করতে পারবে না এবং এর ফলে ভোটের দিন বা তার আগের দিন বহিরাগতদের একত্রিত করতে পারবে না। তবে একই দিনে গোটা রাজ্যে ভোট করতে গেলে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে। কমিশন সেই ব্যবস্থা করতে পারলে একদফা নির্বাচন বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলেই মত প্রশাসনিক সূত্রের।

  • SIR in Bengal: রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ শুনানি

    SIR in Bengal: রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ শুনানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-পর্বের (SIR in Bengal) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। মঙ্গলবার এসআইআরের নতুন সূচি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে বৈঠক করার পরেই ওই নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, “লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি” বা যৌক্তিক অসঙ্গতি এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনওভাবে সংযুক্ত না থাকার অভিযোগে যাঁদের ডাকা হয়েছে, তাঁদের শুনানি ও মামলার নিষ্পত্তি ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে। জমা দেওয়া নথির যাচাই প্রক্রিয়া চলবে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আগে শুনানির শেষ দিন ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি।

    কীভাবে হচ্ছে নথি যাচাই

    ইসি (Election Commission Of India) সূত্রে জানা গিয়েছে, যাচাইয়ের আওতায় থাকা ১.৫১ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ১.৪০ কোটির শুনানি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১০-১২ লক্ষ ভোটার, যাঁরা চার থেকে পাঁচটি জেলায় ছড়িয়ে রয়েছেন, তাঁদের শুনানি আগামী দু’দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক আধিকারিক জানান, “শুনানি শেষ হলেই ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মামলার নিষ্পত্তির কাজে জোর দেওয়া যাবে।” সূত্রের খবর, শুনানিতে অংশ নেওয়া প্রায় ১ কোটি ভোটারের নথি ইতিমধ্যেই আপলোড করা হয়েছে। তবে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও সহকারী ইআরও-রা নথি আপলোড না করলে জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা তা যাচাই করতে পারবেন না। সাধারণত এই যাচাই প্রক্রিয়ায় চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে। যাচাই শেষে নথি ফেরত পাঠানো হবে ইআরওদের কাছে, যাতে তারা মামলার নিষ্পত্তি করতে পারেন। ইতিমধ্যে যাচাই হওয়া মামলাগুলিতে ইলেক্টোরাল রোল অবজারভাররা তাঁদের মন্তব্য নথিভুক্ত করেছেন, যা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরওরা।

    একাধিক স্তরে ‘সুপারচেকিং’

    সোমবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের (SIR in Bengal) সময়সীমা বেড়েছে। স্ক্রুটিনির জন্য সাত দিন সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ইআরও-রা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের জেরেই এই সিদ্ধান্ত। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে একাধিক স্তরে ‘সুপারচেকিং’ হবে বলেও জানানো হয়েছে। ইলেক্টোরাল রোল অবজারভার ও বিশেষ রোল অবজারভারদের পর্যবেক্ষণের পর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) তালিকা খতিয়ে দেখবেন। এরপর তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে নির্বাচন সদনে। সেখানেও আরও এক দফা সুপারচেকিংয়ের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

    নির্ভুল তালিকা প্রকাশে বিশেষ সতর্কতা

    ইসি (Election Commission Of India) জানিয়েছে, ভুয়ো ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্ভুল তালিকা প্রকাশে তারা বিশেষভাবে সতর্ক। এক আধিকারিকের কথায়, “একাধিক দফায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। কমিশন সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট না হলে তালিকা প্রকাশ করা হবে না।” এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সোমবার সন্ধ্যায় রাজ্য সরকার যে ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিকের নাম ইসিকে পাঠিয়েছে, তাঁদের বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে কমিশন। অভিযোগ উঠেছিল, তালিকাভুক্তদের মধ্যে অনেকে গ্রুপ-সি কর্মী বা অবসরপ্রাপ্ত। এই আধিকারিকদের এসআইআর ডিউটিতে নিয়োগ করা হবে। ইসি সূত্রে জানানো হয়েছে, “শুধুমাত্র গ্রুপ-বি কর্মীরাই যাতে এই দায়িত্ব পান, তা নিশ্চিত করতেই বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।”

LinkedIn
Share