Tag: Social service

  • Dattatreya Hosabale: “অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক, পরিবর্তন শুরু হোক ঘর থেকেই”, বললেন হোসাবলে

    Dattatreya Hosabale: “অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক, পরিবর্তন শুরু হোক ঘর থেকেই”, বললেন হোসাবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক।” এমনই মন্তব্য করলেন আরএসএসের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে (Dattatreya Hosabale)। তাঁর বক্তব্য, আইন বা শুধুমাত্র বক্তৃতার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়; পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে ব্যক্তিগত আচরণ ও পরিবার থেকেই (Harmony)।

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার ভোপালের রেড প্যারেড ময়দানে আয়োজিত হয় বিরাট স্বয়ংসেবক সমাবেশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও, একাধিক প্রতিবেদনে প্রায় ৩০ হাজার স্বয়ংসেবকের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন হোসাবলে। সামাজিক সম্প্রীতি, সমাজসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, পারিবারিক মূল্যবোধ, আত্মসচেতনতা ও নাগরিক কর্তব্য—সঙ্ঘের ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ ভাবনার বিভিন্ন দিকও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

    আত্মসমীক্ষার বার্তা (Dattatreya Hosabale)

    হোসাবলে বলেন, জন্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বৈষম্য করা হিন্দু সংস্কৃতির অংশ নয়। জাতি, সম্প্রদায়, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভাজন সমাজের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিভেদের নামে দুর্ব্যবহার এবং অস্পৃশ্যতার অবসান ঘটাতে হলে প্রত্যেককে নিজের আচরণের দিকে নজর দিতে হবে।তিনি বলেন, “জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক। এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে হবে।” হোসাবলের বক্তব্যে সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নটি শুধু বাইরের সমালোচনার জবাব দেওয়ার বিষয় হিসেবে নয়, সমাজের অভ্যন্তরে আত্মসমীক্ষার বিষয় হিসেবেও উঠে আসে। জন্মের কারণে কাউকে নিকৃষ্ট মনে করা, কোনও পেশা বা শ্রমকে ছোট করে দেখা কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা দূর করার উপর জোর দেন তিনি। ভারতের সাধক-সন্তদের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত রবিদাস, কবীর, তুকারাম, নারায়ণ গুরুর মতো ব্যক্তিত্বদের ভাবনায় সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বারবার মানুষের মধ্যে সমতার চেতনা জাগানোর কথা উঠে এসেছে। সন্ত রবিদাসের ‘বেগমপুরা’ ধারণাকেও বৈষম্য, ভয় ও সামাজিক স্তরবিন্যাসমুক্ত সমাজের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

    বিভাজনের বদলে ভ্রাতৃত্বের উপর জোর

    সামাজিক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে সঙ্ঘের বক্তব্যে বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায় ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। সমস্ত হিন্দু পরস্পরের ভাই-বোন—এই ভাবনাকেও সামাজিক ঐক্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    এই দৃষ্টিভঙ্গিতে হিন্দুত্বকে শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয় বা উপাসনার পদ্ধতি হিসেবে নয়, সাংস্কৃতিক ঐক্য ও সভ্যতাগত সংযোগের ধারণা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়। সঙ্ঘের বক্তব্য, সমাজের শক্তি শুধু মানুষের সংখ্যার উপর নির্ভর করে না; পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সংহতিও তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    সমাজের মধ্যে কাজ করার আহ্বান

    হোসাবলের বক্তব্যে স্বয়ংসেবকের সামাজিক ভূমিকার উপরও জোর দেওয়া হয়। দেশপ্রেমকে শুধু স্লোগান বা আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজসেবা ও কর্তব্যবোধের মাধ্যমে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়।

    সমাজে দারিদ্র্য থাকলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কোনও শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলে তাকে সাহায্য করা, কোনও পরিবার সংকটে পড়লে সহযোগিতা করা কিংবা পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে অংশ নেওয়ার মতো কাজকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    এই সূত্রেই ‘পঞ্চ পরিবর্তনে’র অধীনে সামাজিক (Dattatreya Hosabale) সম্প্রীতি, পরিবার সচেতনতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আত্মসচেতনতা ও নাগরিক কর্তব্যকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। সঙ্ঘের শতবর্ষের কর্মসূচিতে এই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    শ্রমের মর্যাদাই সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম ভিত্তি

    সামাজিক সম্প্রীতির সঙ্গে শ্রমের মর্যাদাকেও যুক্ত করা হয়েছে। ভোপালে সন্ত রবিদাস জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ‘শ্রম সাধক সঙ্গমে’র প্রসঙ্গেও হোসাবলে শ্রমের মর্যাদা ও সামাজিক ভ্রাতৃত্বের কথা তুলে ধরেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কোনও ব্যক্তির পেশার কারণে তাঁকে নিকৃষ্ট মনে করার প্রবণতার বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কৃষক, কারিগর, শ্রমিক, সেনাকর্মী, শিক্ষক কিংবা বিজ্ঞানী—প্রত্যেকের শ্রমই সমাজ ও দেশ গঠনে পৃথক ভূমিকা (Harmony) পালন করে।

    সামাজিক সম্প্রীতি তাই কেবল একসঙ্গে বসা বা আনুষ্ঠানিক মিলন নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে একে অপরকে গ্রহণ করার মানসিকতাও তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    দেশপ্রেমের অর্থ

    দেশপ্রেমকে শুধু পতাকা, গান বা স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনে সামাজিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করাকে দেশপ্রেমের বাস্তব প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে স্বয়ংসেবকের কাছে একটি আত্মসমীক্ষার প্রশ্নও উঠে আসে—দেশের জন্য তিনি কী বলেছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, দেশের জন্য তিনি কী করেছেন।

    তাঁর কাজের ফলে সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি কতটা বৃদ্ধি পেল, সেই প্রশ্নও বিবেচনার বিষয় বলে তুলে ধরা হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করার বার্তা

    হোসাবলের বক্তব্যে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণার বিরোধিতা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও জাতিকে নিকৃষ্ট বা হীন মনে করার মানসিকতাকেও সমানভাবে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মন্দির থেকে পাড়া, গ্রাম থেকে মহানগর এবং শ্রমজীবী থেকে বিদ্বান—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ যেন সমানভাবে নিজেদের এই বৃহত্তর সামাজিক পরিসরের অংশ বলে মনে করেন (Dattatreya Hosabale), সেই প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    এই দৃষ্টিতে সামাজিক সম্প্রীতি শুধুমাত্র কোনও সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়; বৃহত্তর সামাজিক প্রয়োজন হিসেবেও বিষয়টি সামনে আসে।

    সমাজসেবা থেকে সংগঠন, সংগঠন থেকে জাতীয় শক্তি

    সঙ্ঘের শতবর্ষের কর্মসূচির প্রেক্ষিতে সমাজসেবা, সামাজিক সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমকে পরস্পর সম্পর্কিত মূল্যবোধ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। শৃঙ্খলা, সততা, দেশপ্রেম ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধের মাধ্যমে স্বয়ংসেবকদের সমাজের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও সংগঠনের বিভিন্ন বক্তব্যে উঠে এসেছে।

    একটি সংগঠনের সামাজিক ভূমিকা শেষ পর্যন্ত সমাজে তার বাস্তব অবদানের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়—এই ধারণাকেই এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, সচেতনতা বৃদ্ধি কিংবা সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাজের মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার কথা বলা হয়েছে (Harmony)।

    “প্রথমে নিজেদের সমাজকে শক্তিশালী করতে হবে”

    ভোপালের বক্তব্যকে বৃহত্তর অর্থে হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরে আত্মসমীক্ষার আহ্বান হিসেবেও দেখা যেতে পারে। জাতিগত অহংকার থেকে বেরিয়ে আসা, অস্পৃশ্যতার মতো সামাজিক কুপ্রথা দূর করা, শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, পরিবারকে মূল্যবোধ ও সংস্কারের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক দায়িত্বকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই ধারার মূল বক্তব্য হল, সমাজের কোনও মানুষ যেন নিজের সমাজেই নিজেকে বহিরাগত বলে মনে না করেন।

    হিন্দুত্বকে সাংস্কৃতিক ঐক্যের ধারণা হিসেবে দেখা (Dattatreya Hosabale) হলে, সেই ধারণার বাস্তব প্রকাশ কীভাবে ঘটবে—সেই প্রশ্নও আলোচনায় আসে। জাতিগত পরিচয়ের আগে মানুষের মানবিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া, সামাজিক দূরত্ব কমানো এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বাড়ানোকে তার একটি সম্ভাব্য প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    হোসাবলের ভোপাল-বার্তার সারকথা হল, জাতিভেদের ঊর্ধ্বে সম্প্রীতি, বিভাজনের ঊর্ধ্বে ভ্রাতৃত্ব, অধিকারবোধের ঊর্ধ্বে কর্তব্য এবং শুধু চিন্তার বদলে সমাজসেবায় সক্রিয় অংশগ্রহণ। তাঁর বক্তব্য, বৈচিত্র্যকে বিভাজনের কারণ না করে (Harmony) সম্মিলিত শক্তি ও সভ্যতাগত ঐক্যের ভিত্তিতে পরিণত করাই সামাজিক সংহতির অন্যতম লক্ষ্য (Dattatreya Hosabale)।

     

  • Rashtra Sevika Samiti: সমালখায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির তিন দিনের বৈঠক শুরু, নারী জাগরণেই জোর

    Rashtra Sevika Samiti: সমালখায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির তিন দিনের বৈঠক শুরু, নারী জাগরণেই জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরিয়ানার পানিপথ জেলার সমালখায় (Samalkha) শুরু হয়েছে রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির (Rashtra Sevika Samiti) অখিল ভারতীয় কার্যকারিণী ও প্রতিনিধি মণ্ডলের প্রথম অর্ধবার্ষিক তিন দিনের বৈঠক। সমালখার মাধব স্মৃতি পরিষরে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের ৩৮টি প্রান্ত থেকে ৪৯৬ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। আগামী তিন দিনে সংগঠনের গত এক বছরের কাজের মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, নারী জাগরণ, সমাজসেবা এবং সংগঠন সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

    প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সূচনা

    হরিয়ানার পানিপথ জেলার সমালখার (Samalkha) মাধব স্মৃতি পরিষরে আয়োজিত বৈঠকের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমিতির (Rashtra Sevika Samiti) প্রধান সঞ্চালিকা শান্তাক্কা এবং প্রধান কার্যবাহিকা সীতা গায়ত্রী। বৈঠকের শুরুতে সংগঠনের প্রয়াত কর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত নাগরিক, শহিদ জওয়ান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    নারীর ভূমিকার উপর জোর

    উদ্বোধনী ভাষণে প্রধান কার্যবাহিকা সীতা গায়ত্রী বলেন, “ভারত আজ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যখন উন্নত রাষ্ট্র বা বিকশিত ভারত গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ, সাংস্কৃতিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা দেশের রয়েছে। তবে এই লক্ষ্য পূরণে সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠাতা বন্দনীয়া লক্ষ্মীবাই মৌসিজি কেলকর যে নারী জাগরণের আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, গত ৯০ বছরে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সমিতি শতবর্ষের দিকে এগোচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী দিনেও নারী নেতৃত্ব, চরিত্রগঠন ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উপর জোর দেওয়া হবে।”

    ৯০ বছরের পথচলার মূল্যায়ন

    বৈঠকে জানানো হয়, দীর্ঘ নয় দশকের যাত্রায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি (Rashtra Sevika Samiti) শুধু সাংগঠনিক বিস্তারই ঘটায়নি, সমাজজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নিজেদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে। নারীকে পরিবার, সমাজ এবং জাতি গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।

    দেশজুড়ে পরিষেবা প্রকল্প

    বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২,৮৬৬টি পরিষেবা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম, স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, যোগ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশ কর্মসূচি, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক প্রকল্প।

    প্রশিক্ষণ শিবিরে ১৫ হাজারের বেশি সেবিকা

    চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২৫০টি প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ১৫,২৪১ জন সেবিকা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শারীরিক সক্ষমতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন রাজ্যের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ

    বৈঠকে বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষ কর্মকাণ্ডও তুলে ধরা হয়। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ বিরতির পর সফলভাবে পথ সঞ্চালনের আয়োজন, জম্মুতে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা, ছত্তীসগঢ়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মহিলাদের নিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির উদ্যোগ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজসেবামূলক প্রকল্পের অভিজ্ঞতা প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয়।

    আগামী তিন দিনের আলোচ্যসূচি

    তিন দিনের বৈঠকে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, পরিষেবা প্রকল্পের বিস্তার, বিভিন্ন প্রান্তের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি দেশের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতিতে নারীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও মতবিনিময় হবে। আগামী ২৬ জুলাই এই বৈঠক শেষ হওয়ার কথা। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Dattatreya Hosabale: “আরএসএস হল জনগণের স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন”, বললেন হোসাবলে

    Dattatreya Hosabale: “আরএসএস হল জনগণের স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন”, বললেন হোসাবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আরএসএস (RSS) জনগণের একটি স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন, যা ভারতের প্রাচীন সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার মূল্যবোধ থেকে প্রাণিত, যা সাধারণত হিন্দু সংস্কৃতি নামে পরিচিত।” ২৩ এপ্রিল আরএসএসের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে (Dattatreya Hosabale) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির হাডসন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনায় সংগঠনের তৃণমূলস্তরের কাজ এবং মতাদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন।

    আরএসএস স্বেচ্ছাসেবী জনআন্দোলন (Dattatreya Hosabale)

    আরএসএসের কাজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে হোসাবলে বলেন, “আরএসএস জনগণের একটি স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন, যা ভারতের প্রাচীন সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার মূল্যবোধ থেকে অনুপ্রাণিত, যা সাধারণত হিন্দু সংস্কৃতি নামে পরিচিত…।” তিনি বলেন, “চরিত্র, আত্মবিশ্বাস, সমাজের প্রতি সেবাবোধ এবং সমাজকে সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে আরএসএস প্রতিদিন এবং সাপ্তাহিক এক ঘণ্টার সমাবেশের আয়োজন করে (Dattatreya Hosabale)।”

    জীবনের মূল্যবোধ গড়ে তুলি

    সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই এক ঘণ্টার সমাবেশের মাধ্যমে আমরা জীবনের মূল্যবোধ গড়ে তুলি… সমাজের উন্নতি ও জাতীয় ঐক্যের জন্য মানবিক সামাজিক পুঁজি তৈরি করি… প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আরএসএস ত্রাণ কার্য পরিচালনা করে… আরএসএস স্বেচ্ছাসেবকরা প্রায় ৪০টি নাগরিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে (RSS)।” ভারতীয় উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে পরিচয় এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে হোসাবলে বলেন, “হিন্দু পরিচয়কে আরএসএস একটি বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে। আরএসএসের মতে, হিন্দু পরিচয় একটি সভ্যতাগত পরিচয়, ধর্মীয় নয়… আরএসএস সব সময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়েছে, যা সরাসরি কোনও ধর্মের সঙ্গে যুক্ত নয় (Dattatreya Hosabale)।”

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরএসএসের বক্তব্য

    ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থ, ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা এবং অন্যান্য কারণে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আরএসএস বিশ্বাস করে যে সকল গোষ্ঠীর সঙ্গে ধারাবাহিক ও বিস্তৃত আলাপ-আলোচনা এই ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সাহায্য করবে… আরএসএস সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং তাদের নেতৃত্বের সঙ্গেও আলোচনায় যুক্ত রয়েছে (RSS)।” আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “বিভিন্ন কারণে প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে, বিশেষত তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে। গত কয়েক দশকে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে… সমস্যা মূলত একটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে, যা ভারতের গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে। এখন তা প্রতিবেশী দেশ হলেও, অনেক শক্তি সেই দেশকে ব্যবহার করে সমস্যা তৈরি করছে।”

    হিন্দুদের ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই

    আরএসএসকে ‘হিন্দু আধিপত্যবাদী’ সংগঠন বলা হয়। এহেন অভিযোগের উত্তর দিতে গিয়ে হোসাবলে বলেন, “হিন্দু দর্শন ও সংস্কৃতি স্বভাবতই আধিপত্যবাদী নয়… আমরা সব কিছুর মধ্যেই ঐক্য দেখি—জীবিত বা জড়। যখন এটাই হিন্দুদের মৌলিক দর্শন, তখন আধিপত্যবাদী হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ইতিহাসে হিন্দুরা কখনও অন্য দেশ আক্রমণ করেনি বা কাউকে দাসত্বে আবদ্ধ করেনি (RSS)। হিন্দুদের ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই (Dattatreya Hosabale)।”

     

LinkedIn
Share