Tag: Soft Power

  • PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উজবেকিস্তানের (Uzbekistan) রাজধানী তাশখন্দে ‘যোগ ফেডারেশন অব উজবেকিস্তান’ আয়োজিত একটি যোগ অনুষ্ঠানে আজ, রবিবার অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। উজবেকিস্তানে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন তিনি। ২৯ অগাস্ট তাশখন্দে পৌঁছনোর পর এটি ছিল মধ্য এশিয়ার এই দেশে তাঁর চতুর্থ সফর। চলতি সফরে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখাও নির্ধারণ করা হবে।

    ভারত-ময় উজবেকিস্তান (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে উজবেকিস্তানের রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবন ভারতীয় জাতীয় পতাকার তেরঙ্গা রঙে সেজে ওঠে। এর মধ্যে ছিল তাশখন্দের অন্যতম পরিচিত হিলটন হোটেলও। যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি তাশখন্দের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। যোগপ্রেমীদের সঙ্গে দলীয় ছবিতেও অংশ নেন তিনি। মধ্য এশিয়ার একটি দেশে প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাবের শক্তিকেই তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব যে গোটা বিশ্ব স্বীকার করেছে, তারও প্রতিফলন ঘটেছে এই অনুষ্ঠানে।

    দুই দেশের সেতু

    তাশখন্দের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, ভারত ও উজবেকিস্তানের সম্পর্ক আরও গভীর করতে যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তাশখন্দের বাসিন্দা ক্রিস্টিনা বলেন, “এটি দারুণ একটি অভিজ্ঞতা ছিল। বিশেষ করে এত বড় একজন ব্যক্তি উজবেকিস্তানে এসেছেন, তাঁর সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে থাকা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমার মনে হয়, যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটি দুই দেশকে আরও কাছাকাছি আনবে এবং বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করবে (PM Modi)।”

    আর এক বাসিন্দা মারিয়ামও অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেন, “এটি খুবই সুন্দর একটি অনুভূতি। এখানে এসে আমি সুস্থ ও অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছি। এ বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-সহ আমরা অনেক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। আজকের অনুষ্ঠানটিও খুব ভালো হয়েছে। এখানে আমন্ত্রিত হয়ে এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা ভারতীয় যোগকেন্দ্রে আমাদের দলের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছি।”

    ভারতের সফট পাওয়ারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যোগ

    ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ সপ্তধারার সপ্তম শক্তি। যোগের পাশাপাশি হস্তশিল্প, চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন, খেলাধুলা ও ডিজিটাল বিষয়বস্তু এবং বৃহত্তর সৃজনশীল ক্ষেত্রকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি।

    উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন দুই নেতা।

    গত কয়েক বছরে নয়াদিল্লি ও তাশখন্দের দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট মিরজিয়য়েভের ভারত সফর এবং ২০১৯ সালে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট বিশ্ব সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।

    উজবেকিস্তান সফর শেষ করে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে (Uzbekistan) বিশকেকে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি অংশ নেবেন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে (PM Modi)।

     

  • Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বরকে ‘দীপাবলি দিবস’ (Deepawali) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বাসিন্দাদের আলোর উৎসব দীপাবলি উদ্‌যাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) সম্প্রদায়ের কাছে দীপাবলির গভীর সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরার পাশাপাশি ঐক্য, উদারতা, ইতিবাচকতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্লেষণের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই স্বীকৃতি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘সফট পাওয়ারে’রও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    দীপাবলির সর্বজনীন বার্তাকে স্বীকৃতি (Indian Americans)

    ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি ২০ অগাস্ট, বৃহস্পতিবার, এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। অ্যাসেম্বলি সদস্য দর্শনা প্যাটেল এবং অ্যাশ কালরা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। দীপাবলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়-আমেরিকান এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বৃহত্তর ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি অ্যাসেম্বলি তার “গভীরতম শ্রদ্ধা” প্রকাশ করেছে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “অ্যাসেম্বলি চলতি বছরের দীপাবলি উৎসবকে রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের এই আনন্দময় উদ্‌যাপনের দিনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে।”

    আমেরিকাজুড়ে দীপাবলির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকার সময়েই ক্যালিফোর্নিয়ার এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক রীতি ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন উৎসব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উৎসব পরিবার, বন্ধু ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করে। উদারতা, ঐক্য, আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পালন করে। সাধারণত ঘরবাড়ি মোমবাতি, তেলের প্রদীপ, মাটির প্রদীপ দিয়ে আলোকিত করা হয়। অনেক জায়গায় আতশবাজিও পোড়ানো হয় দীপাবলি উদ্‌যাপনের অন্যতম অংশ হিসেবে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই ঐতিহ্যগুলির মধ্যে নিহিত রয়েছে অশুভের বিরুদ্ধে শুভর জয়ের বৃহত্তর বার্তা। একই সঙ্গে সংগ্রাম অতিক্রম করা, নেতিবাচকতা থেকে মুক্তি, ইতিবাচকতা ও বিনয়কে গ্রহণ করা এবং ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের প্রতি সদয় থাকার মতো মূল্যবোধের সঙ্গেও দীপাবলির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, “যাঁরা দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন, তাঁদের কাছে এই উৎসব জ্ঞান, বিকাশ ও সুখের প্রতি অঙ্গীকারের সময়। এটি আত্মবিশ্লেষণেরও সময়, যা প্রজ্ঞা, দয়া এবং পরিবর্তনের গুরুত্বকে তুলে ধরে।”

    ভারতীয়-আমেরিকানদের অবদানেও জোর

    ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও অ্যাসেম্বলি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। ২০২৬ সালের দীপাবলিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে জাতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার এবং দীপাবলির সঙ্গে যুক্ত মূল্যবোধগুলি বোঝার আহ্বান জানানো হয়েছে (Indian Americans)।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে সুস্বাস্থ্য, সম্পদ, জ্ঞান, শান্তি ও সমৃদ্ধি উদ্‌যাপনের একটি সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার, বন্ধু ও বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ফলে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দীপাবলি দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। রাজ্যের বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আলো, আশা ও ইতিবাচকতার বার্তাকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে স্টেট অ্যাসেম্বলি।

    ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের কাছে এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে (Deepawali) গভীরভাবে যুক্ত একটি উৎসবকে সরকারি স্তরে মর্যাদা দেওয়া হলো। ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং টেক্সাসও বিভিন্ন সময়ে দীপাবলিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সরকারি পর্যায়ে উৎসব উদ্‌যাপনের উদ্যোগও নিয়েছে (Indian Americans)।

     

  • PM Modi: উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুচিন্তিত উপহারের মাধ্যমে (যার মধ্যে ‘মেলোডি-মেলোনি’ বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল) ভারতের কারুশিল্প, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক পরম্পরার গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতি (PM Modi)

    প্রতিটি উপহার ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। এর মধ্যে রয়েছে মণিপুরের হ্যান্ডলুম ঐতিহ্য থেকে শুরু করে মার্বেল ইনলে শিল্পের চিরন্তন সৌন্দর্য এবং মহারাষ্ট্রের মিলেট সংস্কৃতিও। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছিলেন একটি শিরুই লিলি সিল্ক স্টোল, যা মণিপুরের এক টুকরো সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছে (PM Modi)। দুর্লভ শিরুই লিলি ফুলের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই স্টোলটি ছিল ঘণ্টাকৃতি এক বিশেষ ফুলের প্রতিরূপ, যা শুধুমাত্র মণিপুরের উখরুল জেলার শিরুই কাশং পাহাড়ে ফোটে। এই স্টোলটি উত্তর-পূর্বের এই পাহাড়ি রাজ্যের সমৃদ্ধ বয়নশিল্পের প্রতীক। সূক্ষ্ম, মার্জিত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বস্ত্র-ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই উপহারটি নীরবে তুলে ধরেছিল আদিবাসী ঐতিহ্য ও লোককথাকে।

    লিলি ফুলের গুরুত্ব

    এই লিলি ফুল ইতালির সংস্কৃতিতেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। সেখানে এটি দীর্ঘদিন ধরে পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও শিল্পকলার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, বারবার ব্যবহৃত হয়েছে রেনেসাঁ শিল্পকলায়। এই অভিন্ন প্রতীকের মধ্যেই ভারত ও ইতালির মধ্যে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সংযোগ গড়ে ওঠে — যা ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে নির্মিত। শুধু স্টোল নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মেলেনিকে উপহার দেন মুগা সিল্কের একটি স্টোলও। এই সিল্ক অসমের ‘সোনালি রেশম’ নামে পরিচিত। এতে প্রাকৃতিক সোনালি আভা রয়েছে। এটি ভারতের অন্যতম মূল্যবান বস্ত্র। উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার এই রেশম তার টেকসই ক্ষমতা এবং অসাধারণ স্থায়িত্বের জন্য সুপরিচিত। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকতে পারে।

    উপহারে মার্বেল ইনলে কাজের বাক্স

    ইতালির রাষ্ট্রপতি সার্জিও মাত্তারেল্লাকে প্রধানমন্ত্রী উপহার হিসেবে দেন মার্বেল ইনলে কাজের একটি বাক্স। সঙ্গে ভারতের কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পন্ডিত ভীমসেন জোশী এবং এমএস শুভলক্ষ্মীর গাওয়া গানের সিডি। ভারতের দুই শ্রদ্ধেয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত কিংবদন্তির গানের সঙ্গে এই উপহারটি এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের রূপ নেয়। তাজমহলের মতো স্থাপত্যে দেখা যায় যে মার্বেল ইনলে শিল্প, তা ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন সূক্ষ্ম কারুশিল্পের ঐতিহ্যের প্রতীক। ‘পচ্চিকারি’ বা ‘পিয়েত্রা দুরা’ নামে পরিচিত এই শিল্পধারা মূলত ইতালির ফ্লোরেন্স শহর থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়। পরে অবশ্য রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এটি মহিমান্বিত রূপ পায় ভারতে (PM Modi)।

    উপহার দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকর মিলেট বারও

    এদিকে, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ডিরেক্টর কিউ ডংইউকে উপহার দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকর মিলেট বার। এটি টেকসই ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের প্রতি ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতীক। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর, আহমেদনগর ও মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে মিলেট দীর্ঘদিন ধরে কৃষি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উপহারের মাধ্যমে ভারত বিশ্বব্যাপী মিলেটকে জলবায়ু সহনশীল ‘সুপারগ্রেন’ হিসেবে প্রচারের বার্তাও সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে — যা একদিকে ঐতিহ্যবাহী, অন্যদিকে ভবিষ্যতমুখী (PM Modi)।

    মোদির কূটনীতিতে বৈচিত্র্য

    এই উপহারগুলি স্রেফ আনুষ্ঠানিক বিনিময় ছিল না, বরং ভারতের ‘সফট পাওয়ার’-এর নীরব অভিব্যক্তি হয়ে উঠেছিল। বস্ত্র, সঙ্গীত, কারুশিল্প ও খাদ্যের মাধ্যমে ভারত তার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গভীরতা তুলে ধরেছে, একইসঙ্গে আরও মজবুত করেছে আন্তর্জাতিক মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে। এক অর্থে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারগুলি প্রমাণ করে, আজকের কূটনীতি শুধুই নীতি ও রাজনীতির দ্বারা নয়, বরং দেশগুলি বিশ্বের সঙ্গে যে গল্প, ঐতিহ্য ও পরিচয় ভাগ করে নিতে চায়, তার মাধ্যমেও গঠিত হয় (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share