Tag: South Asia

  • AI Qaeda: ভারতে প্রভাব বিস্তারে নয়া  কৌশল আল-কায়দার, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    AI Qaeda: ভারতে প্রভাব বিস্তারে নয়া  কৌশল আল-কায়দার, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ গোটা উপমহাদেশে নিজেদের জঙ্গি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নয়া কৌশল আল-কায়দার। সর্বধর্মীয় সম্প্রীতির কথা নয়, বরং বৃহত্তর প্যান-ইসলামপন্থী আদর্শের প্রচার, বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে ভাঙন তৈরি করে নতুন গোষ্ঠী গড়ে তোলা (AI Qaeda) এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে এই জঙ্গি সংগঠন। গত ১২ অক্টোবর ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে (Terror Groups)। নিরাপত্তা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়দার শাখা সংগঠনটি নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানো, সমর্থনের ভিত্তি মজবুত করা এবং ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে আরও জটিল করে তোলার লক্ষ্যে কৌশলগত পরিবর্তন আনছে।

    আল-কায়দার উদ্দেশ্য (AI Qaeda)

    ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশের শাখার উদ্দেশ্য ছিল ভারত-সহ বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতে নিজেদের সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার করা। তবে আদর্শগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও, গোড়ার দিকে উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক উপস্থিতি গড়ে তুলতে পারেনি তারা। এর অন্যতম কারণ ছিল ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও প্রচার কৌশলের মাধ্যমে ওই জঙ্গি সংগঠন বহু নতুন সদস্যকে আকৃষ্ট করেছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে আল-কায়দা এখন তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর প্যান-ইসলামপন্থী আদর্শকে সামনে আনতে চাইছে। নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা উপসম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ানোর পরিবর্তে, বিভিন্ন গোষ্ঠীকে কাছে টানতে অপেক্ষাকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শগত অবস্থান গ্রহণের চেষ্টা করছে সংগঠনটি। এর মাধ্যমে স্থানীয় সহযোগিতা আদায়, সমর্থনের পরিধি বাড়ানো এবং নিজেদের কার্যকরী নেটওয়ার্ক বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আল-কায়দা স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছিল। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি নির্বিচারে শত্রুতা না দেখিয়ে স্থানীয় সংগঠনগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার ফলে তারা নিজেদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে পেরেছিল। সেই অভিজ্ঞতাই এবার দক্ষিণ এশিয়ায় কাজে লাগাতে চাইছে আল-কায়দা।

    ইসলামিক স্টেটের আপসহীন শত্রুতার মনোভাব

    অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রদায় ও উপসম্প্রদায়ের প্রতি ইসলামিক স্টেটের আপসহীন শত্রুতার মনোভাব সম্ভাব্য সহযোগীদের দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। একাধিক অঞ্চলে তাদের হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও সংঘাতমুখী অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। ফলে আগের মতো প্রভাব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে সংগঠনটির পক্ষে।

    আল-কায়দা এই দুই সংগঠনের কৌশলগত পার্থক্যকে কাজে লাগাতে চাইছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনকে সংগঠনটির চরমপন্থী লক্ষ্য থেকে সরে আসা বলে মনে করছেন না নিরাপত্তা আধিকারিকেরা। বরং সম্ভাব্য সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে আদর্শগত বাধা কমিয়ে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল-কায়দার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের মতাদর্শে তথাকথিত ‘দূরবর্তী শত্রু’, বিশেষত পশ্চিমি শক্তিগুলিকে লক্ষ্য করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। এখন উপমহাদেশে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বজায় রেখেই আঞ্চলিক সহযোগীদের সমর্থনের ভিত্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে সংগঠনটি (AI Qaeda)।

    আল-কায়দার আঞ্চলিক কৌশলে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে দেশের প্রতিষ্ঠিত জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার পাশাপাশি নতুন বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী তৈরিতে উৎসাহ জোগানোর চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশকে আল-কায়দার অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতীতে এই সংগঠনের মধ্যেই ভাঙন দেখা দিয়েছিল। একটি অংশ ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে নব্য জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে পড়ে।

    বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি বাংলাদেশের মতো সংগঠনগুলিকে নিজেদের আদর্শ অনুসরণকারী আরও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী গড়ে তুলতে উৎসাহিত করছে আল-কায়দা।

    প্রতিবেদনে ইমাম মাহমুদের কাফিলা নামে একটি গোষ্ঠীর উল্লেখ রয়েছে, যারা ভারতে নিজেদের কার্যকলাপ কেন্দ্রীভূত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কের বাইরে উপমহাদেশের আরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব ছড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক গোয়েন্দা আধিকারিকের মতে, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি বাংলাদেশের মতো সংগঠনগুলির ইতিমধ্যেই সদস্যসংখ্যা ও সাংগঠনিক কার্যক্ষমতা রয়েছে। ফলে আল-কায়দা সরাসরি প্রতিটি অভিযানের দায়িত্ব না নিয়েও আদর্শগত দিশা দেখানোর ভূমিকা নিতে পারে এবং বিদ্যমান নেটওয়ার্কগুলিকে নিজেদের বৃহত্তর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে।

    একাধিক বিচ্ছিন্ন সংগঠন তৈরি হলে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তদন্তও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সংগঠনগুলির পারস্পরিক যোগসূত্র, নেতৃত্বের কাঠামো এবং মূল সংগঠনের সঙ্গে নতুন গোষ্ঠীগুলির সমন্বয়ের মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি, বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও পেতে পারে মূল সংগঠনগুলি (Terror Groups)।

    ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উপমহাদেশে নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বজায় রাখতে চাইছে আল-কায়দা। এর মধ্যে শিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গেও সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টার উল্লেখ রয়েছে (AI Qaeda)।

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই ধরনের সম্পর্ক সংগঠনটিকে রসদ ও অন্যান্য সহায়তা জোগাতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও সুবিধা হতে পারে তাদের।

    ছোট ছোট গোষ্ঠীর উত্থান

    বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ছোট ছোট গোষ্ঠীর উত্থানে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে আল-কায়দা আরও বিস্তৃত ও ছড়িয়ে থাকা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাইছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে সংগঠনটির ভৌগোলিক পরিসর বাড়তে পারে এবং তাদের কার্যকলাপের প্রকৃত সাংগঠনিক কাঠামো শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    প্রতিবেদনে ইসলামিক স্টেটের আগের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সঙ্গেও আল-কায়দার বর্তমান কৌশলের তুলনা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু যুবক ওই সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কেরলের ২০ জনেরও বেশি যুবক উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে আফগানিস্তানে গিয়ে সংগঠনটিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটে যোগ দেওয়া কয়েকজন ভারতীয় পরে সংগঠনটির চরম হিংসা, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং অবমাননাকর কাজের দায়িত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতায় হতাশ হয়ে পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে।

    ইসলামিক স্টেট

    আল-কায়দা ইসলামিক স্টেটের এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত আদর্শগত পরিসর তুলে ধরে নতুন সদস্য ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা আধিকারিকেরা।

    সব মিলিয়ে, বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ককে কেন্দ্র করে উপমহাদেশে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে (Terror Groups) আল-কায়দা—এমনই দাবি ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার প্রতিবেদনে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কৌশলগত পরিবর্তন ও সাংগঠনিক তৎপরতার দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতি ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলির নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে (AI Qaeda)।

     

  • Sheikh Hasina: ‘নির্বাসন ভেঙে চলতি বছরই বাংলাদেশে ফিরব’, গোপন ডেরা থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি হাসিনার

    Sheikh Hasina: ‘নির্বাসন ভেঙে চলতি বছরই বাংলাদেশে ফিরব’, গোপন ডেরা থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি হাসিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছর দুয়েক ধরে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হলেও, তাঁর মন যে সেই বাংলাদেশেই (Bangladesh) পড়ে রয়েছে, সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তা আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)।  বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার দাবি, চলতি বছরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। তাঁর ভাষায়, “এটি ব্যক্তিগত ক্ষমতায় ফেরার প্রশ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই।” হাসিনা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ। বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে আওয়ামি লিগকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ‘আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না’ (Sheikh Hasina)

    বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমার পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। একাধিকবার আমায় হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই মানুষের পাশে থেকেছি। তাই সব বাধা অতিক্রম করে এ বছরই দেশে ফিরব।” আওয়ামি লিগের সাংগঠনিক শক্তি প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, “দলটি কাগুজে কোনও সংগঠন নয়, বরং বাংলার মাটি ও মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি। অতীতে বহুবার নিষিদ্ধ ও নির্যাতনের শিকার হলেও, প্রতিবারই জনগণের সমর্থনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আওয়ামি লিগ।” তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং উগ্রবাদের বিস্তার ঘটেছে। এসব কারণে জনগণ আওয়ামি লিগের শাসন কালের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে নতুন করে মূল্যায়ন করছে (Sheikh Hasina)।

    ‘নিষেধাজ্ঞা গণতন্ত্রের পরিপন্থী’

    আওয়ামি লিগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, “কোনও রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আওয়ামি লিগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক মামলার অবসান এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে (Bangladesh)।” তিনি বলেন, “যদি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া না হয়, তাহলে জনগণের ক্ষোভই আওয়ামি লিগের জন্য নয়া পথ তৈরি করে দেবে।”

    ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে যাচ্ছে বাংলাদেশ’

    বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হাসিনার অভিযোগ, ৫ অগাস্টের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর ধারাবাহিক আঘাত এসেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে হামলা, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং উগ্রবাদী শক্তির উত্থানের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।” আওয়ামি লিগের রাজত্বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং সামাজিক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Sheikh Hasina)।

    ‘গোপন সমঝোতার প্রশ্নই আসে না’

    বিএনপির সঙ্গে আওয়ামি লিগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে গোপন আলোচনার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে হাসিনা বলেন, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বিচার কোনও গোপন সমঝোতার বিষয় নয়। এগুলি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।” তিনি বলেন, “আওয়ামি লিগ কারও দয়ার ওপর রাজনীতি করে না। জনগণের সমর্থন ও সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতেই দলটি রাজনীতি করে যাবে (Bangladesh)।”

    সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ

    বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, মন্দির ভাঙচুর, লুটপাট, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধা অব্যাহত রয়েছে। আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো বলেন, “সংখ্যালঘুরা কোনও ভোটব্যাঙ্ক নন। তাঁরা বাংলাদেশের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”

    ‘আমার হৃদয় বাংলাদেশেই’

    নির্বাসিত জীবন প্রসঙ্গে হাসিনা জানান, ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে দেশের মানুষের অধিকারই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন, খোঁজখবর নেন দলীয় নেতা-কর্মীদের এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন (Sheikh Hasina)। ই-মেলের মাধ্যমে দেওয়া এই সাক্ষাৎকার পর্বের একেবারে শেষে হাসিনা বলেন, “জনগণের শক্তিতেই বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে। আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামি লিগও ফের ঘুরে দাঁড়াবে (Bangladesh)।”

     

  • China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে (India) ‘প্রতিযোগী নয়, বরং সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তা দিল চিন (China)। বেজিং এও জানিয়েছে, দুই দেশের উন্নয়নকে একে অন্যের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। চিন-ভারত-রাশিয়ার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষেও সওয়াল করেছে ড্রাগনের দেশ।

    চিনা বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (China)

    চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, “ভারত ও চিন সীমান্ত-সহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে।” তাঁর মতে, ইউরেশিয়ার তিন প্রধান শক্তি—চিন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বার্থেই নয়, বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। লিন জিয়ান জানান, বর্তমানে ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি মোটের ওপর স্থিতিশীল রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তিনি এও বলেন, “চিন ও ভারতের উচিত একে অন্যকে প্রতিযোগী হিসেবে নয়, সহযোগী হিসেবে দেখা এবং পারস্পরিক উন্নয়নকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।”

    কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে চিনের বক্তব্য

    তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মতপার্থক্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত, যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঘিরে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থার পর সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে (China)। উভয় দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে শি জিনপিংয়ের দেশ। বেজিং জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মতপার্থক্যের অবসান হওয়া উচিত। ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংও এক্স হ্যান্ডেলে একই বার্তা দিয়ে বলেন, “ভারত ও পাকিস্তান চিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। তাদের উচিত আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।” প্রসঙ্গত, সীমান্তপার সন্ত্রাস-সহ একাধিক ইস্যুকে (India) কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে (China)।

     

  • India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তুলল ভারত (India Slams Pakistan)। সোমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বতানেনি বলেন, “পাকিস্তান নিজেদের দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে।”

    পাকিস্তানকে তোপ ভারতের (India Slams Pakistan)

    গত বছর পাকিস্তান নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে এই নামে চিহ্নিত করে দাবি করেছিল যে, তারা ভারতের মদতপুষ্ট। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে ইসলামাবাদ কোনও প্রমাণ দাখিল করেনি। এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে এই নামকরণ আসলে পাকিস্তানের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের অংশ।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছে।” তাঁর দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ জিইয়ে রেখে পাকিস্তান আসলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে।

    পাকিস্তানের সমালোচনা

    তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামো ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার সমালোচনাও করেন। পার্বতানেনির অভিযোগ, সাম্প্রতিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব আরও বেড়েছে। আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানেরও তীব্র সমালোচনা করে ভারত। পার্বতানেনি সাফ জানিয়ে দেন, অসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে কোনও অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ বলা যায় না। তিনি এও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও ইসলামি সংহতির কথা বললেও, রমজান মাসে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তান ভণ্ডামির পরিচয় দিয়েছে।” ভারতের প্রতিনিধি দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর নিজেদের ব্যর্থতার দায় চাপানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের।

    পাক-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশু-সহ অন্তত ১৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হওয়ার তথ্য সামনে আসে। এরপর দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হয়। মার্চ মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছিল, সংঘর্ষে আফগানিস্তানে অন্তত ৪২ জন নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ (India Slams Pakistan)। এরপর আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, ওই হামলায় ৪০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যদিও রাষ্ট্রসঙ্ঘ (UN Security Council) অন্তত ২৬৯ জনের মৃত্যুর খবর যাচাই করেছে। আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমলেও, সীমান্তে এখনও ঘটছে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা (India Slams Pakistan)।

     

LinkedIn
Share