Tag: South China Sea

South China Sea

  • Ajit Doval: প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদারে ভারত-ভিয়েতনাম, ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ২৫০০ কোটি ডলার

    Ajit Doval: প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদারে ভারত-ভিয়েতনাম, ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ২৫০০ কোটি ডলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও মজবুত করতে উদ্যোগী হল ভারত ও ভিয়েতনাম। সোমবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। তাঁর এই সফরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সম্প্রসারণ, সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এই সফরে ভিয়েতনামের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ফান ভান জিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ডোভাল। ভারতের দূতাবাস সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে চলা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি (Vietnam) পর্যালোচনা করা হয়। এই ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও বাড়ানোর বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছয় দুই পক্ষ।

    জিয়াং জানান, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং তা আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। দুই দেশের বর্ধিত সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও মজবুত করতে উদ্যোগ (Ajit Doval)

    বৈঠকে পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে ভিয়েতনামের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন ডোভাল। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় উন্নয়ন এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সহযোগী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারত ও ভিয়েতনামের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইতিমধ্যেই দুই দেশের অংশীদারিত্বের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

    অন্যদিকে, দুই দেশের সম্পর্ক বর্ধিত সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার পর ডোভালের এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন জিয়াং। তাঁর মতে, অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশলগত স্বার্থের সমন্বয় এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার উপর দাঁড়িয়েই ভারত-ভিয়েতনাম সম্পর্ক আরও এগিয়ে চলেছে।

    প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে আমন্ত্রণ

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে ভিয়েতনাম। আগামী ডিসেম্বর মাসে হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভিয়েতনাম আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী। সেখানে নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভিয়েতনাম।

    এই আমন্ত্রণ দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহকেই স্পষ্ট করেছে। সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চাইছে দুই দেশ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চিন সাগরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিবর্তিত পরিস্থিতি ভারত ও ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ওই অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সামরিক তৎপরতা নিয়ে দুই দেশেরই উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ চিন সাগর অঞ্চলে তেল অনুসন্ধানেও উভয় দেশের স্বার্থ জড়িত।

    ভারতের তৈরি ব্রহ্মস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে আগ্রহী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে ভিয়েতনাম অন্যতম (Ajit Doval)। এই অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি বাড়ছে ফিলিপিন্স ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও।

    বাণিজ্য ২৫০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যও নিয়েছে ভারত ও ভিয়েতনাম। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৬০০ কোটি ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ২৫০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দুই দেশ।

    উল্লেখ্য, গত মে মাসে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লামের ভারত সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ককে বর্ধিত সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করাই ছিল এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    ভিয়েতনামের নিরাপত্তামন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক ডোভালের

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ভিয়েতনামের জননিরাপত্তামন্ত্রী জেনারেল লুয়ং তাম কোয়াংয়ের সঙ্গেও প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনা করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। দুই দেশের নিরাপত্তা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

    ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

    ভিয়েতনামের বিদেশমন্ত্রী লে হোয়াই চুংয়ের সঙ্গেও পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন ডোভাল। ২০২৭ সালে ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কীভাবে তা উদ্‌যাপন করা যায়, সেই বিষয়েও আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে।

    হ্যানয়ের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ মন্দিরে ডোভাল

    সরকারি বৈঠক ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরেন অজিত ডোভাল। সফরকালে তিনি হ্যানয়ের ঐতিহাসিক কোয়ান সু বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন করেন (Vietnam)।

    সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান মন্দিরের প্রধান থিচ থান নিয়েউ এবং ভিয়েতনামের জাতীয় বৌদ্ধ সংঘের সাধারণ সম্পাদক থিচ ডুক থিয়েন।

    ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ডোভালের এই মন্দির পরিদর্শন দুই দেশের (Ajit Doval) সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধনের গুরুত্বকেও সামনে এনেছে। কূটনীতি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বার্তাই উঠে এসেছে এই সফরে।

     

  • BrahMos Missile Indonesia: ভারতের ব্রহ্মসে অস্বস্তিতে চিন! ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ঘিরে বেজিংয়ের বড় স্বীকারোক্তি

    BrahMos Missile Indonesia: ভারতের ব্রহ্মসে অস্বস্তিতে চিন! ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ঘিরে বেজিংয়ের বড় স্বীকারোক্তি

    সুশান্ত দাস

    ভারতের কাছ থেকে ‘ব্রহ্মস’ (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘অ্যাস্ট্রা’ (Astra) বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল (BVRAAM) ইন্দোনেশিয়ার কেনার সিদ্ধান্ত চিনের কপালেও ভাঁজ ফেলেছে। বেজিংয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তির প্রভাব পড়তে পারে গোটা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, বিশষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য ও ভূ-রাজনীতির ওপর। বিশেষ করে মালাক্কা-সহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা কূটনীতির বিস্তারকে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে চিন।

    চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যমে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সামরিক চুক্তি

    ভারতের তৈরি ‘ব্রহ্মস’ এবং ‘অ্যাস্ট্রা’ কেনার সিদ্ধান্তে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি এবার প্রকাশ্যে স্বীকার করল চিন। আর সেই স্বীকৃতির পরই চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিল, বেজিং এই চুক্তিকে শুধু অস্ত্র রফতানি হিসেবে দেখছে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে। চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপিন্সের পর ইন্দোনেশিয়াও যখন ব্রহ্মসের গ্রাহক হচ্ছে এবং একই সময়ে ভিয়েতনামের সঙ্গেও ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করছে, তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা-অংশীদারিত্বের নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, ভারত এখন শুধু অস্ত্র রফতানি করছে না, বরং আসিয়ান (ASEAN) দেশগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কও গড়ে তুলছে।

    ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিকে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ বলছে চিন

    চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির বিস্তার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধে জড়িত দেশগুলির হাতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছে গেলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলেই মনে করছে বেজিং। চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা এখন শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি নয়াদিল্লির রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রসারিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

    ব্রহ্মসের মোকাবিলা কীভাবে? ভাবনা শুরু চিনের!

    তবে একই সঙ্গে ব্রহ্মসের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছে চিনা প্রতিরক্ষা মহল। তাদের দাবি, রফতানিযোগ্য ব্রহ্মস সংস্করণের পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (MTCR)-এর আগের রফতানি নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে এই সংস্করণ মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষার জন্য বেশি উপযোগী, দীর্ঘ-পাল্লার আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য নয়। এছাড়াও চিনা বিশ্লেষকদের দাবি, পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির ‘টাইপ ০৫৫’ এবং ‘টাইপ ০৫২ডি’ ডেস্ট্রয়ারে থাকা বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উচ্চগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় সক্ষম। যদিও এই মূল্যায়ন সম্পূর্ণরূপে তাত্ত্বিক এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

    মালাক্কা প্রণালি ঘিরে বাড়ছে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব

    চিনা প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থানকে। মালাক্কা, সুন্ডা এবং লম্বক প্রণালি—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। বিশ্বের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের বড় অংশ এই রুট দিয়েই সম্পন্ন হয়। চিনের আশঙ্কা, এই ধরনের কৌশলগত সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশগুলির হাতে যদি স্থলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়, তবে ভবিষ্যতের কোনও আঞ্চলিক সংঘাতে নৌ-অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াকে ঘিরে ভারতের যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠছে, তা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    ইন্দোনেশিয়াকে সরাসরি আক্রমণ নয়, সতর্ক বার্তা বেজিংয়ের

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ইন্দোনেশিয়ার সমালোচনা না করে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছে চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। সম্পাদকীয়গুলিতে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শক্তির বাইরের দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ালে নতুন ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, চিন এখনও ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার—এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের জন্য বড় মাইলফলক

    ভারতের দৃষ্টিতে এই চুক্তি প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সাফল্য। ইতিমধ্যেই ব্রহ্মস ভারতের সবচেয়ে সফল প্রতিরক্ষা রফতানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, চুক্তি কার্যকর হলে অ্যাস্ট্রা হবে ভারতের প্রথম স্বদেশে তৈরি বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, যা বিদেশে রফতানি করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ক্ষেপণাস্ত্রের রফতানি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরিণত সক্ষমতারও প্রমাণ। একই সঙ্গে ঐতিহ্যগত অস্ত্র-রফতানিকারি দেশগুলির উপর নির্ভরতা কমাতে আগ্রহী রাষ্ট্রগুলির কাছে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশিদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করছে।

    ‘স্ট্রিং অব পার্লস’-এর জবাব দিচ্ছে ভারত, বলছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকরা

    ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এই চুক্তিকে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল পিকে সেহগল (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়ার ব্রহ্মস কেনার সিদ্ধান্ত ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি এটি আত্মনির্ভর ভারত এবং মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগেরও বড় সাফল্য।’’ তিনি জানান, ২০১৪ সালের আগে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৫,০০০ থেকে ২৬,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে তা ৫০,০০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। মেজর জেনারেল সেহগল আরও জানান, ভারতের সঙ্গে ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের পর এবার ইন্দোনেশিয়ারও ব্রহ্মস চুক্তি প্রমাণ করছে যে, চিন যেভাবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে, ভারতও তার কৌশলগত জবাব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়া শুধু ব্রহ্মসই নয়, ভারতের তৈরি অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্রও নিচ্ছে, যা দেশটির বিমানবাহিনি ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সাবাং বন্দর-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে।’’

    ‘নেকলেস অব ডায়মন্ডস’ কৌশলের ইঙ্গিত

    মেজর জেনারেল সঞ্জয় সোই (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস চুক্তি চিনের সম্প্রসারণবাদি নীতির কার্যকর জবাব। তাঁর মতে, চিন যেখানে ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ কৌশলের মাধ্যমে ভারতকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেছে, সেখানে ভারত ‘নেকলেস অব ডায়মন্ডস’ নীতির মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিকে কৌশলগত অংশিদারিত্ব আরও শক্তিশালী করছে। অন্যদিকে, মেজর জেনারেল ধ্রুব কাটোচ (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘‘ব্রহ্মসের মতো কৌশলগত অ্যাস্ট্রা কোনও দেশের হাতে থাকলে সেটি শুধুমাত্র যুদ্ধের জন্য নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা (Deterrence) তৈরি করে। এতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সামরিক আগ্রাসনের আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হয়।’’

    ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি শুধু একটি প্রতিরক্ষা রফতানি নয়; এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ফিলিপিন্স, ভিয়েতনামের পর ইন্দোনেশিয়াও যখন ভারতের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উপর আস্থা দেখাচ্ছে, তখন স্পষ্ট হচ্ছে যে ভারত ক্রমশ একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা রফতানিকারি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অংশিদার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করছে। একই সঙ্গে চিনের তীব্র প্রতিক্রিয়াও এই চুক্তির কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • USS Nimitz: ৩০ মিনিটের তফাতে দক্ষিণ চিন সাগরে ভেঙে পড়ল মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার! দুর্ঘটনা নাকি চক্রান্ত?

    USS Nimitz: ৩০ মিনিটের তফাতে দক্ষিণ চিন সাগরে ভেঙে পড়ল মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার! দুর্ঘটনা নাকি চক্রান্ত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ভেঙে পড়ল মার্কিন যুদ্ধবিমান। এবার সঙ্গে দোসর সামরিক কপ্টার। আধ-ঘণ্টার ব্যবধানে দক্ষিণ চিন সাগরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এই দুই সামরিক যান। এই জোড়া দুর্ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে তীব্র আলোড়ন। এটা কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি রয়েছে কোনও চক্রান্ত? খোঁজ করছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।

    আধ-ঘণ্টায় জোড়া দুর্ঘটনা!

    মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের (বর্তমানে যুদ্ধ দফতর) তরফে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ চিন সাগরে নিয়মিত রুটিন অপারেশন চালাচ্ছিল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিত্জ (USS Nimitz)। বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানটি রণতরী থেকে রুটিন অপারেশন চালাচ্ছিল। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে তিনটার দিকে খবর আসে, রণতরী থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়েছে একটি ‘এমএইচ-৬০আর সি হক’ (MH-60R Sea Hawk) হেলিকপ্টার। এরপর মাত্র আধ ঘণ্টা পর, সোয়া তিনটে নাগাদ একই রণতরীতে মোতায়েন থাকা একটি ‘এফ/এ–১৮এফ সুপার হর্নেট’ (F/A-18F Super Hornet) যুদ্ধবিমান সমুদ্রে পড়ে যায়। যুদ্ধবিমানে ছিলেন ২ পাইলট। অন্যদিকে, হেলিকপ্টারে ছিলেন পাইলট সহ মার্কিন নৌবাহিনীর ৩ সদস্য। দুটি ঘটনাতেই অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান পাঁচ ক্রু সদস্য। বিধ্বস্ত সি হক হেলিকপ্টারের তিন আরোহীকে উদ্ধার করা হয় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠিয়ে। অপরদিকে, হর্নেটের দুই পাইলট ইজেকশন সিট ব্যবহার করে সমুদ্রে নেমে প্রাণে বাঁচেন। মার্কিন নৌবাহিনীর বিবৃতিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও, দুর্ঘটনায় কবলিত দুটি যুদ্ধযান এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    আমেরিকাকে চিনের চিমটি…

    দক্ষিণ চিন সাগরের অবস্থান কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিনসহ দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ এ সাগরের জলসীমার কিছু অংশের মালিকানার দাবিদার। যদিও আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের প্রায় পুরোটার মালিকানা দাবি করে বেজিং। দুর্ঘটনার বিষয়টিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “যদি যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায়, তাহলে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে দক্ষিণ চিন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের ঘন ঘন উপস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।”

    ‘খুবই অস্বাভাবিক’, বললেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘খুবই অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং জ্বালানির ত্রুটির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। সোমবার মালয়েশিয়া থেকে জাপানগামী এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জ্বালানিতে সমস্যা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আমরা কারণ খুঁজে বের করব। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হিসেব অনুযায়ী, এই বছর এটি চতুর্থ এফ/এ-১৮ জেট দুর্ঘটনা। প্রতিটির মূল্য প্রায় ৬ কোটি ডলার। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাগুলো কাকতালীয় হলেও এর পেছনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, মানবিক ভুল নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ চিন সাগরে এই দুটি দুর্ঘটনা নিছক প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনও গভীর চক্রান্ত— তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তের ফলাফলেই মিলবে এর উত্তর।

LinkedIn
Share