Tag: Spain

Spain

  • Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনের (Spain) উত্তর আফ্রিকীয় ভূখণ্ড সেউতায় বৃহস্পতিবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কার্যত হতচকিত করে দিয়ে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লেন হাজার হাজার অভিবাসী (Morocco Migrants)। সাম্প্রতিক বছরে এটি স্পেনের এই ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় অভিবাসী অনুপ্রবেশগুলির একটি। ২০২১ সালের অভিবাসন সঙ্কটের পর এমন বড় আকারের প্রবেশ আর দেখা যায়নি। স্পেনের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কতজন অভিবাসী প্রবেশ করেছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি। তবে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের হিসেব অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার অভিবাসী সেউতায় ঢুকে পড়েন। অনেকেই সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছন। অন্যরা মরক্কো থেকে সেউতাকে আলাদা করা সীমান্তের বেড়া ভেঙে প্রবেশ করেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে প্রবেশে পুলিশ কার্যত চাপে পড়ে যায়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত ঘিরে নতুন করে অভিবাসন-উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” (Spain)

    পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে সেউতার আঞ্চলিক সরকার মাদ্রিদকে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানায়। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় মোতায়েন থাকা পুলিশ কর্মীদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ার পর অভিবাসীরা তারাজাল বাঁধের দিক দিয়ে ব্যাপক হারে সমুদ্রপথে প্রবেশ করতে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিবাসীরা ফোলানো টিউব ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করে বাঁধ ঘুরে সাঁতরে সেউতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অন্য একটি দল সীমান্তের বেড়ার একটি ফটক জোর করে খুলে সেউতার ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রবেশের সময়  কয়েকজনকে “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” বলে স্লোগান দিতেও শোনা যায়। এই পরিস্থিতি ২০২১ সালের মে মাসের নজিরবিহীন অভিবাসন সঙ্কটের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সেই সময় কয়েক দিনের মধ্যে মরক্কো ও সাহারা-দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন (Spain)। সেউতা এবং কাছাকাছি অবস্থিত স্পেনের আর একটি ভূখণ্ড মেলিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত। ইউরোপে পৌঁছনোর আশায় থাকা অভিবাসীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই ভূখণ্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

    জরুরি অবস্থা জারির দাবি সেউতার

    অভিবাসীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেউতার নেতা হুয়ান হেসুস ভিভাস মাদ্রিদ সরকারের কাছে জরুরি অবস্থা জারি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন, নিরাপত্তা জোরদার এবং আরও অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে সাময়িকভাবে মরক্কোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি। তবে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কোনও পরিকল্পনা নেই (Morocco Migrants)। পরে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, বর্তমান সঙ্কটের তাৎক্ষণিক মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভিভাসের সঙ্গে কথা বলার পর সানচেজ বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় সব সম্পদ কাজে লাগাচ্ছি, মরক্কো ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “এখন দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার সময়।” তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়টি তিনি খোলসা করেননি (Spain)। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, মরক্কো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে। মন্ত্রকের দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে হাজার হাজার অবৈধ সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা ইতিমধ্যেই ঠেকানো হয়েছে। অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করেছে এমন ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর কথাও জানিয়েছে মন্ত্রক। একই সঙ্গে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলি অভিবাসীদের ব্যবহার করছে (Morocco Migrants) বলেও অভিযোগ।

    সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়েও প্রশ্ন

    বৃহস্পতিবারের ব্যাপক অনুপ্রবেশের সঙ্গে সম্প্রতি দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন কয়েকজন আধিকারিক। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছনোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের বিশেষ সীমান্ত-প্রত্যাখ্যান বিধির আওতায় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছেমতো যখন খুশি ফেরত পাঠাতে পারবে না। রায়ে অভিবাসীদের স্পেনে থাকার অধিকার দেওয়া হয়নি। তবে আধিকারিকদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত আরও বেশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে উৎসাহিত করতে পারে। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে ধীরে ধীরে লোকজন আসছিল, কিন্তু আজ তা বিস্ফোরণের মতো বেড়ে গিয়েছে (Spain)।” এই রায় বিশেষভাবে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এমনকি তারা স্থলসীমান্ত এড়িয়ে বেড়ার চারপাশ দিয়ে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছলেও তা প্রযোজ্য হবে।এদিকে স্পেনে আগে থেকেই বসবাসকারী প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীর অবস্থান নিয়মিত করার একটি সরকারি কর্মসূচিও দেশটির রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এই কর্মসূচি কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই যারা স্পেনে বসবাস করছেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। তবে সমালোচকদের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করলেও, শেষ পর্যন্ত বৈধ বসবাসের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

    সানচেজ সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

    সেউতার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় সানচেজ সরকার অভিবাসীদের প্রতি তুলনামূলকভাবে উদার নীতি গ্রহণ করেছে। রক্ষণশীল বিরোধী দলের নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “সেউতার পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। সরকার বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে না… কারণ আমরা জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখোমুখি (Spain)।” এদিকে, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মী জাকারিয়া জাররুকি জানিয়েছেন, সেউতায় পৌঁছনোর আশায় মরক্কোর সীমান্তবর্তী শহর ফনিদেকে এখনও বহু মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন কথা বলছি, তখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেই রয়েছে (Morocco Migrants)।” অভিবাসীদের একটি অংশ এখনও সেউতায় পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় স্পেনের কর্তৃপক্ষের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং একই সঙ্গে নতুন করে সীমান্ত পারাপার ঠেকানো (Spain)।

     

  • Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতীয় পড়ুয়াদের (Indian Students) প্রথম পছন্দ ছিল আমেরিকা। উন্নত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কারণে বহু দশক ধরে দেশটি ছিল ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের গন্তব্য। দীর্ঘদিনের চেনা এই ছবিটাই বদলে যাচ্ছে দ্রুত। কড়া অভিবাসন নীতি, ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইউরোপের নতুন সুযোগ-সুবিধার কারণে ক্রমশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে (US) ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। খবরে প্রকাশ, শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তারা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড এখন আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

    ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার (Indian Students)

    এই পরিবর্তন অবশ্য নতুন নয়। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইউরোপে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়েছে প্রায় ৬৮.৩৩ শতাংশ। শিক্ষা-প্রযুক্তি সংস্থা জ্ঞানধনের তথ্য বলছে, আমেরিকাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীর হার ২০২৩ সালে ছিল ৫৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ২৬ শতাংশে, ২০২৫ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। একই সময়ে ইউরোপে পড়াশোনার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে শুধু জার্মানিতেই ছিলেন ৪৩ হাজারেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়বে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের। বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সংস্থা ‘আপগ্র্যাড স্টাডি অ্যাব্রড’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপ বিদেশে পড়াশোনার দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের বছর বাইশের এক প্রযুক্তিবিদ্যায় স্নাতকের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আমেরিকায় পাঠাতে চাইলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য বেছে নেন জার্মানিকেই।

    ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির পর ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে (Indian Students)। এই চুক্তিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য সহজতর ভিসা ব্যবস্থা, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের স্পষ্ট রূপরেখা এবং ভারতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি সংক্রান্ত একাধিক পদক্ষেপের কথা রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন গতিশীলতা কাঠামো বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ভারতীয় শিক্ষার্থী ও দক্ষ জনশক্তিকে আকৃষ্ট করে ইউরোপকে আন্তর্জাতিক প্রতিভার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।” বিদেশে পড়াশোনার প্ল্যাটফর্ম লিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অনব কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রথমবারের মতো একটি বড় অর্থনৈতিক জোট স্পষ্টভাবে বলছে, তারা বৃহৎ পরিসরে ভারতীয় মেধাকে স্বাগত জানাতে চায়।” তাঁর দাবি, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ভারত থেকে ইউরোপে শিক্ষার্থী ও কর্মীর সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে (US)।

    কম খরচও বড় কারণ

    শুধু সুযোগ-সুবিধা নয়, খরচের দিক থেকেও ইউরোপ এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা কেসি ওভারসিজের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়ার খরচ আমেরিকার তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিদেশে পড়াশোনার খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে খাবারে কাটছাঁট করা, গণপরিবহণের বদলে হেঁটে যাতায়াত করা কিংবা অতিরিক্ত কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে হচ্ছে। ইউরোপ স্টাডি সেন্টারের পরিচালক শিবরামন পাণ্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ইউরোপ এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির পর আমাদের কাছে অনুসন্ধানের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।” স্টুডেন্ট অ্যাকোমোডেশন সংস্থা ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন আধিকারিক ময়ঙ্ক মহেশ্বরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ কম শিক্ষাব্যয়, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ, উন্নত কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিকভাবে ভালো সুবিধার কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে।” বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী নিজের পেশাগত লক্ষ্য অনুযায়ী দেশ বেছে নিচ্ছেন (Indian Students)। যেমন, প্রযুক্তি-শিক্ষার্থীদের কাছে জার্মানি, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের জন্য নেদারল্যান্ডস, ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য ফ্রান্স এবং কম খরচে গবেষণার সুযোগের জন্য পর্তুগাল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    আমেরিকার কড়া নীতিতে কমছে আগ্রহ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আমেরিকার কঠোর অভিবাসন নীতিও এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে যে ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মেয়াদ পর্যন্ত থাকার অনুমতি পান, তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিসা চালুর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে (US)। এছাড়া শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি, ভিসা নবীকরণে কড়াকড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর বাড়তি নজরদারি এবং ভিসার শর্ত ভাঙলে দ্রুত বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিতেও দেখা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী আমেরিকাকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে দেখছেন না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮ হাজার শিক্ষার্থী গেলেও, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যাটাই কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজারে।

    ইউরোপে আগ্রহ বাড়লেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে

    ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আবেদন ও ভর্তি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২,৬৩০। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩,৭০০-তে পৌঁছেছে। দেশটিতে ভারতীয়রা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। আইনডহোভেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Indian Students)।স্পেনও এখন নয়া গন্তব্য হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের ইউরোপীয় শিক্ষার্থী পরিস্থিতি প্রতিবেদনের তথ্য  অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ১,০৮৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রা ব্যয়, শিক্ষার্থী-বান্ধব ভিসা ব্যবস্থা এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইউরোপে পড়াশোনা করলেই চাকরি নিশ্চিত নয়। প্রয়োজন দক্ষতা, স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা (US)।

    চাকরির সুযোগ

    পাণ্ডিয়ান বলেন, “কেউ যদি বলে এই দেশে পড়লেই চাকরি পাবেন, তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। শুধু ওই দেশে পড়াশোনা করলেই চাকরির অধিকার তৈরি হয় না। প্রয়োজন দক্ষতা অর্জন। তবেই সুযোগের দরজা খুলবে।” শিক্ষার্থীদের একাংশ আবার ভাষাগত সমস্যা, আবাসনের সঙ্কট, চাকরির প্রতিযোগিতা এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপের কিছু দেশে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং বিদেশিদের প্রতি কঠোর মনোভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবুও কম খরচ, ইংরেজি মাধ্যমে বাড়তে থাকা পাঠ্যক্রম, স্পষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ অভিবাসন নীতির কারণে ইউরোপ এখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে (Indian Students)।

     

  • FIFA World Cup 2026: তোরেসের শটে দ্বিতীয়বার স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়, চোখের জলে-শূন্য হাতে বিদায় মেসির

    FIFA World Cup 2026: তোরেসের শটে দ্বিতীয়বার স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়, চোখের জলে-শূন্য হাতে বিদায় মেসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামায়ণ-মহাভারত থেকে ইলিয়াড-ওডিসি যে কোনও মহাকাব্যের শেষটা যেন ট্র্যাজেডি দিয়েই বোনা থাকে। চোখের জলেই নায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে ওঠেন ম্যাকবেথ বা জুলিয়াস সিজার। সেরকমই মেসি-মহাক্যাবের শেষটাও হল চোখের জলেই। হয়তো গত বারের সুখের স্মৃতি নিয়ে বিদায় নিতে পারতেন তিনি। কিন্তু নিজেকে আরও এক বার চ্যালেঞ্জ জানাবেন বলেই আমেরিকায় বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু পারলেন না। বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায় সুখের হল না মেসির জন্য। যুব বিশ্বকাপে ভারতে খেলে যাওয়া ফেরান তোরেসের গোলে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ৮৩ হাজার দর্শক। ৭০ শতাংশই আর্জেন্টিনার। তাদের সামনে স্পেন বার বার আক্রমণ করেও আর্জেন্টিনাকে গোল দিতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ছিল গোল শূন্য। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১৬ মিনিটের মাথায় নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে ফেরান তোরেসের শট। জয়সূচক গোল। ওই একটি গোলেই টানা দু’বার বিশ্বকাপ হাতে তোলা হল না লিয়োনেল মেসির। রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে গেল আর্জেন্টিনা।

    সবচেয়ে খারাপ ম্যাচ খেলল আর্জেন্টিনা!

    এ বারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে খারাপ ম্যাচ খেলল আর্জেন্টিনা। বস্তুত, তারা এতটাই খারাপ খেলেছে যে কী করে এই দল ফাইনালে উঠেছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। ১২০ মিনিটের ফুটবলে স্পেনের গোল লক্ষ্য করে একটিও শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। মেসিকে গোটা মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁকে বল পাস করতেই পারেননি সতীর্থেরা। শেষের দিকে তেড়েফুঁড়ে বেশ কয়েক বার আক্রমণ করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ১০ জনের দলের পক্ষে সম্ভব ছিল না ওই জায়গা থেকে ম্যাচে ফেরা। বরং একাধিক সুযোগ নষ্ট না করলে স্পেনের জয়ের ব্যবধান আরও বেশি হতে পারত। এদিন স্পেনের গতির কাছে বারবার পরাস্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা।

    যোগ্য দল হিসেবে জয়ী স্পেন

    বিশ্বকাপ তিনটি নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে এদিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা স্রেফ রক্ষণই করে গেল। স্পেনকে আরও বেশি খেলার সুযোগ করে দিল। আর্জেন্টিনা নিজেদের রক্ষণের ফাঁসে এতটাই ফেঁসে গেল যে স্পেনের কাজ আরও সহজ হয়ে গেল। ফাইনালের পরিসংখ্যান দেখলে আর্জেন্টিনার হতশ্রী দশা আরও স্পষ্ট হবে। স্পেনের ২০টি শটের বদলে আর্জেন্টিনা নিয়েছে মাত্র তিনটি শট। তিনটিই এসেছে শেষের তিন-চার মিনিটে। বল পজেশন স্পেনের ৬৮ শতাংশ, আর্জেন্টিনার ৩২ শতাংশয়। মোট পাস, নিখুঁত পাস, কর্নার— সব বিষয়েই আর্জেন্টিনার থেকে অনেক যোজন এগিয়ে ছিল স্পেন। তাই বিশ্বকাপ যে তারা যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকার কথাই নয়।

    পুরস্কার শূন্য মেসির ঝুলি

    ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারলেও সোনার বল জিতেছিলেন লিয়োনেল মেসি। প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলার হয়েছিলেন। কিন্তু এ বার আমেরিকা থেকে খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে। একটিও পুরস্কার পেলেন না মেসি।

    কিলিয়ান এমবাপে (সোনার বুট): চলতি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই সোনার বুট প্রায় পাকা করে নিয়েছিলেন এমবাপে। এ বার ১০টি গোল করেছেন তিনি। পাশাপাশি করেছেন চারটি অ্যাসিস্ট। তাঁর সবচেয়ে কাছে থাকা মেসি আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন।

    রদ্রি (সোনার বল): এ বার বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হয়েছেন রদ্রি। ফাইনালে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে সেই পুরস্কার নিয়েছেন স্পেনের অধিনায়ক। মিডফিল্ডারেরা সাধারণত এই পুরস্কার খুব বেশি পান না। কিন্তু এ বার রদ্রি গোটা প্রতিযোগিতায় স্পেনকে খেলিয়েছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সফল পাস দিয়েছেন। রদ্রি ছিলেন বলেই এক সুন্দর ফুটবল খেলেছে স্পেন। তাই রদ্রি যোগ্য হিসাবেই এই পুরস্কার জিতেছেন।

    উনাই সিমন (সোনার গ্লাভস): এই পুরস্কারও আগে থেকেই প্রায় পাকা ছিল। গোটা বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল খেয়েছেন স্পেনের গোলরক্ষক সিমন। তা ছাড়া তাঁকে এক বারও পরাস্ত করতে পারেননি কোনও ফুটবলার। গোটা প্রতিযোগিতায় একটি গোল খাওয়া গোলরক্ষকের হাতেই যে সোনার গ্লাভস উঠবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

    পাউ কুবারসি (সেরা উদীয়মান তারকা): মাত্র ১৯ বছরের এই ফুটবলার স্পেনের রক্ষণ সামলেছেন। তিনি ছিলেন বলে সিমনকেও কম কষ্ট করতে হয়েছে। পাশাপাশি আক্রমণেও বল বাড়িয়েছে কুবারসি। এত অল্প বয়সে যে পরিণত মানসিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তার জন্য বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান তারকা হয়েছেন তিনি।

    পা-এ বলই পেলেন না মেসি

    কেরিয়ারে বিশ্বকাপে প্রচুর ভাল ম্যাচ খেলেছেন মেসি। এ বারের বিশ্বকাপে তার কিছু দেখা গিয়েছে। কিন্তু রবিবারের পারফরম্যান্স তার লক্ষ লক্ষ মাইলের মধ্যেও আসবে না। এই ম্যাচে তিনি কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেননি। দলকে কোনও ভাবে সাহায্য করতে পারেননি। দলের বিপদের সময়ের একার হাতে উদ্ধার করতে পারেননি। বহু ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে উতরে দিয়েছেন। কিন্তু এই বয়সে তাঁকে অবিশ্বাস্য কিছু করতে হলে পায়ে বল তো পেতে হবে। সেটাই তো সতীর্থেরা দিতে পারলেন না। প্রথম ২০ মিনিটে মাত্র দু’বার বল পায়ে ঠেকিয়েছিলেন মেসি। গোটা প্রথমার্ধে তাঁর পায়ে বল এসেছে বার চারেক। ৩৯ বছর বয়সে স্বাভাবিক ভাবেই তিনি বেশি দৌড়তে পারবেন না। কিন্তু তাঁর পায়ে বল পৌঁছে দেওয়ার প্রাথমিক কাজটুকুও করতে পারেননি এনজো ফের্নান্দেজ, দি পলেরা।

    অস্তমিত নীল-সাদা

    আকাশের রং নীল-সাদা। লামিনে ইয়ামাল সেদিকেই চেয়ে। ১৮ বছরের তরুণকে ঘিরে কুকুরেয়া, পোরো, রড্রি, পেড্রি এবং বাকিরা। বিড়বিড় করছেন স্প্যানিশ ফুটবলের রাজপুত্ররা। হয়তো ফুটবল দেবতাকে লা রোহার কৃতজ্ঞতা। ততক্ষণে ভালোবাসার অত্যাচারে তিনি বন্দি। স্পেনের লাল-হলুদ পতাকা ঢেকে দিচ্ছে ইয়ামালকে। মহাজাগতিক ফ্রেমে লেপ্টে স্পর্ধা, আবেগ, আদর। পরাস্ত আর্জেন্টিনা। বিশ্বজয়ী স্পেন। ২০১০ সালে স্প্যানিশ ফুটবলের ধ্বজা উড়িয়েছিলেন জাভি, ইনিয়েস্তারা। ফের ২০২৬। স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়। লা রোহার দ্বিতীয়বার কাপ জয়ে নায়ক কে? ফুয়েন্তে ব্রিগেডে সবাই সেরা। তিকি-তাকার মায়াজালে অস্তমিত নীল-সাদা। কাঁদছেন আরেকজনও। লিও মেসি। বিদায়বেলায় চোখের কোন চিকচিকে। তাঁকে ঘিরেই ডে পল, মার্তিনেজ, রোমেরো, নিকো গঞ্জালেজরা।

    কাঁদল সারা বিশ্বের মেসি-প্রেমীরা

    চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জিতে কেঁদেছিলেন। স্বপ্ন পূরণের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। প্রথম বার বিশ্বজয়ের আনন্দে চোখের জল বেরিয়েছিল। কিন্তু এ বার অনেক পরিণত তিনি। ট্রফির স্বাদ পেয়ে গিয়েছেন। সেই জন্যই হয়তো শুরুতে নির্লিপ্ত দেখাচ্ছিল মেসিকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর কিছু ক্ষণ মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোমরে হাত দিয়ে চার দিকে তাকাচ্ছিলেন। তার পর হাত, পা ছড়িয়ে মাঠেই বসে পড়লেন লিয়ো। এগিয়ে এলেন লামিন ইয়ামাল। ফাইনালের আগে যে দু’জনের লড়াইয়ের কথা হচ্ছিল। এই ম্যাচে মেসিকে ছাপিয়ে গিয়েছেন ইয়ামাল। কিন্তু শেষ বেলায় মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেন তিনি। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে ঘুরলেন। সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন। তার পর পুরস্কার মঞ্চের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। মেসিকে দেখে মনে হচ্ছিল, যত তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফিরতে পারবেন তত ভাল। মাঠে থাকতেও আর ইচ্ছা করছিল না তাঁর। কিন্তু তখনই মেসির নামে জয়ধ্বনি উঠল মাঠে। সমর্থকেরা তাঁদের প্রিয় তারকাকে ধন্যবাদ জানালেন। সেই জয়ধ্বনি শুনে আর আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না মেসি। কেঁদে ফেললেন। কাঁদল সারা বিশ্বের মেসি-প্রেমীরা। চোখের জলেই নায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে ওঠেন ম্যাকবেথ, জুলিয়াস সিজার। মেসি-তো মহানায়কই, তাই বিদায়টাও চোখের জলেই।

  • Kylian Mbappe: এমবাপের জোড়া গোলে ইতিহাস, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ফরাসি অধিনায়ক

    Kylian Mbappe: এমবাপের জোড়া গোলে ইতিহাস, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ফরাসি অধিনায়ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলের বন্যা বইল। শনিবার অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল (Kylian Mbappe) থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক জয়ের ভিত গড়ে দিলেও, ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসে পড়লেন (Golden Boot Race)।

    এমবাপে ঝড় (Kylian Mbappe)

    ম্যাচের প্রথমার্ধ তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকলেও, বিরতির পর আক্রমণের ঝড় তোলেন এমবাপে। ৪৮তম মিনিটে প্রথম গোল করার পর ৬৬তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২। এর ফলে তিনি ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে মেসির সামনে এখনও রেকর্ড পুনর্দখলের সুযোগ রয়েছে। রবিবার স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে গোল করতে পারলে এমবাপেকে টপকে আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    সোনার বুটের দৌড়েও শীর্ষে

    রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব, বত্রিশ দলের পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল—প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই গোল করেছেন। শুধু সেমিফাইনালেই এখনও তাঁর গোলের খাতা খোলা হয়নি। তিনটি সেমিফাইনাল খেলেও, তিনি একবারও জালের দেখা পাননি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পর চলতি বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়েও শীর্ষে উঠে এসেছেন এমবাপে। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১০ গোল ও ৪টি গোলে সহায়তা করা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির রয়েছে ৮ গোল ও ৪টি গোলে সহায়তা করা। ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে অন্তত দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করতে পারলে সোনার বুট জয়ের দৌড়ে এমবাপেকে (Kylian Mbappe) টপকে যেতে পারবেন মেসি।

    সোনার বুটের তালিকায় যাঁরা

    বর্তমানে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সোনার বুটের তালিকায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা হলেন কিলিয়ান এমবাপে (১০ গোল, ৪টি গোলে সহায়তা), লিওনেল মেসি (৮ গোল, ৪টি গোলে সহায়তা), এরলিং হলান্ড, (৭ গোল, কোনও গোলে সহায়তা নেই), জুড বেলিংহ্যাম, (৭ গোল, ১টি গোলে সহায়তা), হ্যারি কেন (৬ গোল, ১টি গোলে সহায়তা), এবং উসমান দেম্বেলে, (৬ গোল, ২টি গোলে সহায়তা)। ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সোনার বুটের লড়াইও জমে উঠেছে। আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ডেও নজর থাকবে ৩৯ বছর বয়সি মেসির। এদিকে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইতিহাস গড়ে (Golden Boot Race) আপাতত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন ও সোনার বুটের দৌড়—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছেন এমবাপে (Kylian Mbappe)।

     

  • FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ফিফা (FIFA) র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারটি দল একসঙ্গে সেমিফাইনালে উঠল। ৪৮ দলের লড়াই, একাধিক আনকোরা দলের সঙ্গে ছিল রাউন্ড অফ ৩২-এর চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে কোনও অঘটন ঘটল না বিশ্বকাপে। সেমি ফাইনালে প্রবেশ করল ফিফা (FIFA World Cup 2026) র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড। সেমি ফাইনালে ওঠা চার দলই অতীতে অন্তত একবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। অর্থাৎ, এ বারও কোনও নতুন দল চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে না। চারটি প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এবার শেষ চারে লড়বে শিরোপার জন্য। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চারটি বিশ্বকাপজয়ী দেশ। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

    সেমিফাইনালের সূচি (ভারতীয় সময়)

    প্রথম সেমিফাইনাল:

    ফ্রান্স বনাম স্পেন

    তারিখ : ১৫ জুলাই (বুধবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: ডালাস স্টেডিয়াম

    দ্বিতীয় সেমিফাইনাল:

    ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা

    তারিখ : ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: আটলান্টা স্টেডিয়াম

    বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

    ৬০ বছর পর কেন, বেলিংহ্যামদের পায়ে আবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, সুইৎজারল্যান্ডকে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন লিয়োনেল মেসিরা। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের কথায়, “জয়ের পর সত্যিই খুব ভাল লাগছে। পরিশ্রম করে জিততে হয়েছে। আমরা জানতাম খুব কঠিন ম্যাচ হবে। কিন্তু এই ম্যাচ জেতার দরকার ছিল। আরও এক বার আমাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু এই দলটা কখনও বিশ্বাস করা থামায় না। আরও এক বার আমরা বিশ্বের সেরা চার দলের একজন।” মেসির সংযোজন, “জানি না আবার বিশ্বকাপ জিতব কি না। হওয়ার থাকলে নিশ্চয়ই হবে। গত বার জেতার আগে অনেক দিন বিশ্বকাপ পাইনি। তাই এখনকার প্রতিটা মুহূর্তকে উপভোগ করা দরকার।”

    বিশেষ নজরে কারা

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে। দুই দেশের নকআউট ম্যাচের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ম্যাচেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল রয়েছে দিয়েগো মারাদোনার। পরবর্তী প্রতিপক্ষকে নিয়ে মেসি বলেছেন, “ওই গোলের (মারাদোনা) সম্পর্ক যা কিছু জেনেছি তা সবই ভিডিয়ো বা ছবি দেখে। আর্জেন্টিনীয়রা নিয়মিত সেই ছবি দেখেন। তবে এই দলটা প্রতিপক্ষের কথা না ভেবেই ফুটবল খেলে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। কারণ ওরা ফুটবলের মহাশক্তি। সেই রকম দলের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। প্রথম বার ওদের বিরুদ্ধে খেলব। ইংল্যান্ড ছাড়া সব দেশের বিরুদ্ধে খেলেছি। সেরা ছন্দে থেকে খেলার চেষ্টা করব।” বিশেষ নজর থাকবে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম এবং লামিনে ইয়ামাল-এর মতো তারকাদের ওপর। বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চার দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।

  • FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দাপট বজায় রেখেই কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে (FIFA World Cup 2026) স্পেন। আরও এক বার দেশকে জেতালেন ‘সুপার সাব’ মিকেল মেরিনো। সংযুক্তি সময়ে গোল করে দলকে জেতালেন তিনি। সেমিফাইনালে স্পেনের সামনে ফ্রান্স (Spain vs France)। ফ্রান্স এবং স্পেন দুই দেশই যে এ বার বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার, তা প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই বলছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। তবে ইউরোপের দুই শক্তিধর দেশের দেখা ফাইনালে নয়, হচ্ছে সেমিফাইনালেই। মঙ্গলবার রাত ১২.৩০টা থেকে শুরু ম্যাচ।

    ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি ইয়ামালের

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি লামিনে ইয়ামালের। তাঁর দাবি, কিলিয়ান এমবাপেদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং ফ্রান্সেরই উচিত তাঁদের সমীহ করা। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক জয়গুলির কথা উল্লেখ করে ইয়ামালের দাবি, প্রতিযোগিতার দুই সেরা দলের লড়াই হবে। ইয়ামাল মনে করছেন সেমিফাইনালে চাপে থাকবে দিদিয়ের দেশঁর দলই। ১৮ বছরের স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘‘আমরা সত্যিই খুব উত্তেজিত। বিশ্বকাপ শুরুর সময়েই আমরা এই ম্যাচটা খেলার আশায় ছিলাম। স্পেন-ফ্রান্স ম্যাচের প্রত্যাশা ছিল। আমার মতে, প্রতিযোগিতার সেরা দুটো দল মুখোমুখি হতে চলেছে।’’ বিশ্বকাপে বেশ ভাল খেলছে ফ্রান্স। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্পেন কি খেলার ধরন বদল করবে? ইয়ামাল মনে করেন না, এমন কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলা পড়েছে, যারা নিশ্চিত ভাবে আমাদের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করবে। তবে গোটা ম্যাচ চাপে রাখতে পারবে না। আমরা আমাদের মতোই খেলব। ফ্রান্স যদি কোনও দলকে সমীহ করে, সেটা আমরাই। কারণ আমরাই ওদের আগের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে দিয়েছিলাম।’’

    সেমিফাইনালে চাপে ফ্রান্স!

    ২০২৪ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁদের ২-১ ব্যবধানে জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ইয়ামাল। যখন তাঁর বয়স ছিল ১৬। ইয়ামালের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দু’দলের ম্যাচের ফলাফলগুলিই ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চাপে রাখবে। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটি গোল করেছেন ইয়ামাল। তবে সবচেয়ে বেশি ১৭টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। শেষ দু’টি ম্যাচে গোলে ন’টি শট মেরেছেন বার্সেলোনার স্ট্রাইকার। ইয়ামাল অবশ্য ব্যক্তিগত সাফল্যকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তিনি বলেছেন, ‘‘এটা হতাশার কোনও কারণ নয়। আমি তো ইউরো কাপেও একটা গোল করেছিলাম। দল যতক্ষণ এগিয়ে চলেছে, ততক্ষণ ভাবার বা হতাশার কোনও কারণ নেই। দলই আমার কাছে আগে। আশা করছি, আমরা আরও একটা ভাল জয় পাব।’’ ফ্রান্সে এমবাপের মতো ফুটবলার রয়েছেন। তাও সেমিফাইনাল নিয়ে দৃঢ়চেতা ইয়ামাল বলেছেন, ‘‘আমরা আত্মবিশ্বাসী। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আরে শেষ দুটো ম্যাচে আমরাই জিতেছি। ওদেরই বরং আমাদের ভয় পাওয়া উচিত। সেমিফাইনালে উঠে আমরা খুশি। আমরা বেশ ভাল খেলছি। অন্য দলগুলো আমাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। আমরা এখানে এসেছি ট্রফি জিততে। সেটাই আসল।’’

    সুপার-সাবের গোলেই বাজিমাত

    পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে গোল করে আগের ম্যাচে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। এবার একই নাটকের পুনরাবৃত্তি করে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুললেন লা রোজাদের। শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের হয়ে গোল করেন ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের একমাত্র গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলেয়েরে।

    গোলকিপারদের লড়াই, চোট কুর্তোয়ার

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, ফেরান তোরেসরা একের পর এক আক্রমণ শানালেও বেলজিয়ামের গোলপোস্টের নিচে যেন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন থিবাউট কুর্তোয়া। ৩০ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় স্পেন। ইয়ামালের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু খেলে পেদ্রো পোরো বল বাড়ান দানি ওলমোকে। ওলমোর নিচু শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন কুর্তোয়া। কিন্তু ফিরতি বলে সুযোগ নষ্ট করেননি ফাবিয়ান রুইজ। পাঁচ মিনিট পর আবারও ইয়ামালের দারুণ ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন কর্তোয়া। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের মাঝেও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল বেলজিয়াম। ৪১ মিনিটে সেই সুযোগ কাজে লাগান চার্লস ডি কেটেলেয়েরে। কেভিন ডি ব্রুইনের নিখুঁত ক্রসে গোলমুখে হেড করে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন তিনি। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। এই গোলটা খেয়ে সিমন ৬৪৯ মিনিট পর গোল খেলেন। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। ৫৮ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ইয়ামালকে হতাশ করেন কুর্তোয়া। এরপর ৬১ মিনিটে ফের একক প্রচেষ্টায় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বেলজিয়ান গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করেন। অন্যদিকে, ডি ব্রুইনের শট দারুণভাবে আটকে দেন স্পেন গোলকিপার উনাই সিমন। দুই গোলকিপারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ৭১ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন থিবাউট কুর্তোয়া। চোখে জল নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন সেনে লামেন্স। কর্তোয়ার বিদায়ের পরও বেশ কিছুক্ষণ বেলজিয়ামের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি স্পেন।

    মিকেল মেরিনোর ম্যাজিক

    ৮৪ মিনিটে দানি ওলমোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মিকেল মেরিনো। মাঠে নামার মাত্র ১১৫ সেকেন্ড পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন তিনি। ৮৮ মিনিটে পাউ কুবার্সির দূরপাল্লার শট প্রথমে ঠেকালেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি লামেন্স। সেই সুযোগ লুফে নিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো। এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন মেরিনো। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেও একই কীর্তি গড়লেন তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে ৮০ মিনিটের পর জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়লেন স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। এছাড়া মাঠে নামার ১১৫ সেকেন্ডের মধ্যে গোলটি বিশ্বকাপে স্পেনের কোনও বদলি ফুটবলারের দ্রুততম গোল। এতদিন এই রেকর্ড ছিল ১৯৮২ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে এনরিকে সাউরার (১৫৯ সেকেন্ড)।

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় রোনাল্ডোর পর্তুগাল, একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী স্পেন

    FIFA World Cup 2026: মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় রোনাল্ডোর পর্তুগাল, একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী স্পেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্লাব ফুটবলে তাঁরা দীর্ঘদিন সতীর্থ ছিলেন। সবুজ ঘাসে ফুল ফুটিয়েছে তাঁদের যুগলবন্দি। মাঝমাঠে লুকা মদ্রিচ আর আক্রমণে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সেই বোঝাপড়ার ফসল ছ’বছর তুলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। পরে তাঁদের ক্লাব আলাদা হয়ে যায়। তবে এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবার মুখোমুখি হলেন দুই তারকা। তাদের লড়াই দেখতে শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটেয় (ভারতীয় সময়) টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিল ফুটবলপ্রেমীরা (FIFA World Cup 2026)। ফুটবল বিশ্বযুদ্ধে টরন্টোয় মুখোমুখি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। এই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পর্তুগাল। মদ্রিচের দলকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসলেন রোনাল্ডো। অন্যদিকে প্রায় একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে স্পেন জিতল ৩-০ গোলে। জোড়া গোল মিকেল ওয়ারজাবালের। একটি গোল পেদ্রো পোরোর।

    রোনাল্ডো বনাম মদ্রিচ

    রোনাল্ডো ও মদ্রিচ দু’জনেরই বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। গোলরক্ষকদের বাদ দিলে, এই প্রথম দুই চল্লিশোর্ধ্ব খেলোয়াড় বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি হলেন। সাফল্যের খতিয়ানে রোনাল্ডো এবং মদ্রিচ পরস্পরকে টেক্কা দিতে পারেন। ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে খেলেছেন দু’জন। দুই প্রাক্তন সতীর্থের কাঁধেই গুরু দায়িত্ব ছিল। একসঙ্গে ২২২টি ম্যাচে খেলেছেন দু’জন। মাঝমাঠ থেকে মদ্রিচের দেওয়া পাস থেকে রোনাল্ডোর বেশ কিছু গোল রয়েছে রিয়ালের হয়ে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অবশ্য সেই বোঝাপড়া দেখার সুযোগ ছিল না। এই ম্যাচ ছিল মুখোমুখি বোঝাপড়ার। সেই লড়াইয়ে প্রথমার্ধে কেউই দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে ইভান পেসিরিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইয়োসিপ স্তানিশিচের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান পেরিচিস। বাঁ পায়ের শটে দলকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার।

    রোনাল্ডোর গোলে সমতা

    পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। চাপ বাড়তে শুরু করে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্সে। ৫৮ মিনিটে লিয়াওয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ঠিক ২ মিনিট পরেই রোনাল্ডো ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষককে প্রায় একা পেয়ে গোল করেন। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় তাঁর গোল। গোল বাতিল হলেও পর্তুগালকে আটকে রাখা যায়নি বেশিক্ষণ। রোনাল্ডোদের একের পর এক আক্রমণ চাপে ফেলে দেয় ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণকে। ৬৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডার বক্সের মধ্যে ফাউল করেন রেনাতো ভেগাকে। পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। গোল করতে ভুল করেননি সিআর সেভেন। দলকে সমতায় ফেরালেও রোনাল্ডোর খেলার মধ্যে এ দিন পরিচিত ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৮১ মিনিটে তাঁকে তুলে নিয়ে রুবেন নেভেসকে নামান পর্তুগিজ কোচ। যখন মনে হচ্ছে, খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে তখনই পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গন্সালো রামোস। সংযুক্ত সময়ে লিয়াওয়ের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে ঘাড়ে নিয়েই জয়সূচক গোল করেন রামোস।

    বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি সি আর সেভেনের

    বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি গড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রাউন্ড অফ ৩২-র ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে একটি বিশ্বরেকর্ডও গড়লেন। টপকে গেলেন লিয়োনেল মেসিকে। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে রোনাল্ডো খেলতে নেমেছিলেন ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে। গোলও করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বের গোলদাতাদের মধ্যে সিআর সেভেনই এখন সবচেয়ে ‘বুড়ো’ ফুটবলার। এত বয়সে আর কেউ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করতে পারেননি। মেসির নজির টপকে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। গত ২৮ জুন জর্ডনের বিরুদ্ধে ৩৯ বছর ৪ দিন বয়সে গোল করেছিলেন মেসি। বিশ্বকাপ এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে ২৫টির বেশি গোল হয়ে গেল রোনাল্ডো। এমন কৃতিত্ব বিশ্বের আর কোনও ফুটবলারের নেই। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে নিজের ২৬তম ম্যাচ খেললেন রোনাল্ডো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি এখন তৃতীয় স্থানে। এই রেকর্ড মেসির দখলে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এখনও পর্যন্ত ২৯টি ম্যাচ খেলেছেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জার্মানির প্রাক্তন অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউস। তিনি ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাথিউসকে ছুঁয়ে ফেলবেন সিআর সেভেন। এদিন পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, যাতে এমন তিন জন খেললেন যাঁদের অন্তত ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। রোনাল্ডো খেললেন ২৬তম ম্যাচ। মদ্রিচ খেললেন ২৩তম ম্যাচ। ইভান পেরিসিচ খেললেন ২১তম ম্যাচ।

    একপেশে জয় স্পেনের

    অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে এত সহজ হবে ম্যাচটা, এটা হয়তো ভাবতেও পারেননি স্পেনের ফুটবলারেরা। বৃহস্পতিবার রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়া লড়াই করল বটে, তবে স্পেনের মতো দলকে আটকানোর জন্য তা কখনওই যথেষ্ট ছিল না। ভাগ্য সহায় হলে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচ গোলে জেতার কথা স্পেনের। বাধা হয়ে দাঁড়ালেন গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাগার। তিনি অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল না বাঁচালে ম্যাচ অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। অস্ট্রিয়া যে রক্ষণ জমাট রেখে এগোবে, এ কথা জানতেন স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তাই তিনি মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করার বদলে, দুই উইং দিয়ে আক্রমণ চালাতে চেয়েছিলেন। উইং এমনিতে স্পেনের খুব শক্তির জায়গা নয়। তবে এ দিন সাফল্য মিলল। বাঁ দিকে আলেক্স বায়েনা এবং মার্ক কুকুরেয়ার জুটি তো ছিলই। ডান দিক থেকে ক্রমাগত অস্ট্রিয়া রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেন লেমিনে ইয়ামাল। দুই প্রান্ত থেকে একটানা আক্রমণ সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল অস্ট্রিয়া। এক সময় তা ভেঙে পড়ে। বলের নিয়ন্ত্রণ থেকে শট, সব বিভাগেই স্পেন অনেকটা এগিয়েছিল ম্যাচে।

    বিশ্বকাপের দাবিদার স্পেন

    যে গতিতে স্পেন এগোচ্ছে তাতে ট্রফির দৌড়ে যে তারা ভাল ভাবে রয়েছে তা বলাই যায়। এই স্পেনকে আটকানোর সাধ্য খুব কম দেশের মধ্যেই রয়েছে। বলের নিয়ন্ত্রণ, কৌশল, ব্যক্তিগত দক্ষতা— সব বিভাগেই স্পেন বাকি দলগুলিকে টেক্কা দিতে পারে। এই স্পেন দলে তারকার এতটাই ছড়াছড়ি যে ওয়ারজাবালের মতো ফুটবলারেরা ঢাকাই পড়ে যান। রিয়াল সোসিয়েদাদে খেলা ফুটবলারকে নিয়ে খুব বেশি চর্চাও হয় না। কিন্তু নিজের কাজটা ঠিক করে যান। এদিন জোড়া গোল করে লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ডের মতো সোনার বুটের দৌড়ে ঢুকে পড়লেন তিনিও। ওয়ারজাবালে গোল করলেও এদিন স্পেনের হয়ে গতিতে মাতালেন ইয়ামাল। এ দিন শুধু তিনি গোলটাই করেননি। বাকি সব কাজ করেছেন। গোলটাও হয়ে যেত অস্ট্রিয়ার গোলকিপার শ্লাগার দু’টি দুর্দান্ত সেভ না করলে। এ দিন নিজেকে শুধু ডান প্রান্তে সীমাবদ্ধ রাখেননি ইয়ামাল। তিনি ফ্রি ফ্লোইং ফুটবল খেলেছেন। অর্থাৎ মাঠের চারদিক জুড়ে খেলতে দেখা গিয়েছে। কখনও ডান দিকে, কখনও বাঁ দিকে, কখনও মাঝে— বিপক্ষের রক্ষণের নজর এড়ানোর জন্য সব ধরনের রাস্তা খুঁজে বার করেছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে। দুই দেশই বিশ্বকাপ জেতার ব্যাপারে হট ফেভারিট। ফলে ফাইনালের আগেই ফাইনাল হয়ে যাওয়ার কথা।

     

     

     

     

     

  • Spain: কোমর বেঁধেছে ১৭টি সনাতনী সংগঠন, এবার হিন্দু ধর্ম স্পেনে স্বীকৃতিলাভের পথে

    Spain: কোমর বেঁধেছে ১৭টি সনাতনী সংগঠন, এবার হিন্দু ধর্ম স্পেনে স্বীকৃতিলাভের পথে

    মাধ্যম ডেস্ক নিউজ: ১৭টি সনাতনী সংগঠন একত্রিত হয়েছে, হিন্দু ধর্ম স্পেনে (Spain) স্বীকৃতিলাভ করতে এগিয়ে চলেছে। স্পেনে হিন্দুধর্মের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পথে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত এই যুগান্তকারী সমাবেশে স্পেনের বিভিন্ন প্রান্তের ১৭টি হিন্দু সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। স্পেনে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের (Sanatana Dharma) মধ্যে বার্তালাপ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার সংকল্প এখন বিরাট শক্তিকে প্রদর্শিত করেছে।

    বৈঠকের মূল লক্ষ্য ও আলোচনা (Spain)

    স্পেনের (Spain) এই সভাটি উন্মুক্ত আলোচনা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। হিন্দুধর্মের (Sanatana Dharma) আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য ভবিষ্যতের কর্মপন্থা, দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক পদক্ষেপগুলো ভীষণ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক হিন্দু তাঁদের অভিজ্ঞতা ও গঠনমূলক ভাবনাচিন্তার বিনিময় করেন। ধর্মীয় অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে আন্দোলনকে সুসংগঠিত করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনাও করা হয়।

    আন্দোলনের উদ্দেশ্য

    এই উদ্যোগটি কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় আন্দোলন। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল-

    ১. স্পেনের (Spain) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোতে হিন্দুধর্মের জন্য সরকারি স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।

    ২. স্প্যানিশ সমাজে হিন্দুদের (Sanatana Dharma) মর্যাদা, দৃশ্যমানতা এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

    ৩. বৃহত্তর সমাজের মধ্যে হিন্দু দর্শন, মূল্যবোধ, উৎসব এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

    ঐক্যের শক্তি

    এই অভিযানের অন্যতম প্রধান শক্তি হল স্পেনের হিন্দু সংগঠনগুলোর (Sanatana Dharma) মধ্যে ক্রমবর্ধমান  একতা এবং ভাতৃত্ববোধ। বিভিন্ন গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠান তাদের মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (বিশ্বই একটি পরিবার)-এই চিরন্তন আদর্শকে সামনে রেখে একত্রিত হয়েছে।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    সনাতন ধর্মে নিবেদিতপ্রাণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই উদ্যোগটি স্পেনের (Spain) বিভিন্ন অঞ্চলের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করতে, সাংগঠনিক সহযোগিতা জোরদার করতে এবং কর্তৃপক্ষের সাথে সংলাপের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করতে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে যে, ২০২৬ সালের মধ্যে এই উদ্যোগের কাজটি সঠিক ভাবে সফল হবে। মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মাধ্যমে যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, তা স্পেনের হিন্দু সম্প্রদায়ের (Sanatana Dharma), স্থিতিস্থাপকতা এবং অংশীদারিত্বের প্রতীক হিসেবে মাইলফলক পদক্ষেপ।

  • PM Modi: গত অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষায় ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকার উৎপাদন, জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi: গত অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষায় ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকার উৎপাদন, জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির প্রাক্কালে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। জানালেন ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকার উৎপাদন হয়েছে প্রতিরক্ষা খাতে। এই ক্ষেত্রে রফতানিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিগত ১০ বছরে ১ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ২১,০০০ কোটি টাকা হয়ে গিয়েছে রফতানির অঙ্ক। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এখন আক্মনির্ভর ভারত। 

    সাফল্যের খতিয়ান

    গুজরাটের বরোদায় সম্প্রতি সি-২৯৫ এয়ারক্রাফট উৎপাদন কেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। স্পেনের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো স্যাঞ্চেজের সঙ্গে ওই কেন্দ্র উদ্বোধনের পরই এই খতিয়ান তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, মাত্র দু’বছরে এই পুরো পরিকল্পনা রূপায়ন করা হয়েছে। মোদি বলেন, ‘‘এখানে তৈরি সি-২৯৫ বিমানগুলি ভবিষ্যতে রফতানিও করা হবে। আমার বিশ্বাস, টাটা-এয়ারবাসের যৌথ উদ্যোগে বিমান তৈরি শুরু হলে ভারত-স্পেন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। সেই সঙ্গে পুষ্ট হবে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া, (Make in India) মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ মিশনও।’’ ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কীভাবে অগ্রগতি হচ্ছে, সেই খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ৩ বছরে অন্তত ১২,৩০০টি পণ্য ভারতে উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। দেশে তৈরি যুদ্ধজাহাজ চালু হয়েছে, ভারতে তৈরি মিসাইলও নজর কাড়ছে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে। ভারতে তৈরি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    আত্মনির্ভরতার পথে

    কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বারবার আত্মনির্ভর (Make in India) হওয়ার কথা বলেছেন। সেই পথেই যে আরও একধাপ এগোল ভারত, সে কথা এদিন উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। স্টার্ট-আপ সংস্থাগুলিকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র অপেক্ষা করছে। ইতিহাসের অংশ হতে আসুন আপনারাও। দরজা খোলা রইল। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ৫৬টি সি-২৯৫ বিমানের জন্য এয়ারবাসের সঙ্গে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করেছিল নয়াদিল্লি। সেই মতো স্পেন থেকে ১৬টি বিমান আমদানি করা হয়। স্থির হয়, বাকি ৪০টি বিমান বানানো হবে ভারতেই। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির অংশ হিসাবে ভারতেই তৈরি হবে এই বিমান। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Pedro Sanchez: ইউপিআইয়ের মাধ্যমে গণেশ মূর্তি কিনলেন স্পেনের প্রেসিডেন্ট, সস্ত্রীক পালন করলেন দীপাবলিও

    Pedro Sanchez: ইউপিআইয়ের মাধ্যমে গণেশ মূর্তি কিনলেন স্পেনের প্রেসিডেন্ট, সস্ত্রীক পালন করলেন দীপাবলিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করে গণেশ মূর্তি কিনলেন স্পেনের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো স্যাঞ্চেজ (Pedro Sanchez)। যেহেতু তিনি এ ব্যাপারে সড়গড় নন, তাই স্যাঞ্চেজ নিজে ইউপিআই ব্যবহার করতে পারেননি। স্পেনের প্রেসিডেন্টকে লেনদেনে সাহায্য করেছেন এক ভারতীয় প্রতিনিধি। ইউপিআই ব্যবহার করে গণেশ মূর্তি কিনতে পারায় যারপরনাই খুশি স্যাঞ্চেজ।

    জনপ্রিয়তা বাড়ছে ইউপিআইয়ের (Pedro Sanchez)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মস্তিষ্ক প্রসূত ইউপিআই দেশে তো বটেই বিদেশেও ভীষণ জনপ্রিয় হচ্ছে। কিছুদিন আগেই মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু ভারত সফরে এসেছিলেন। মলদ্বীপেও যাতে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন করা যায়, তার ব্যবস্থা পাকা করে গিয়েছেন তিনি। অচিরেই মলদ্বীপেও মিলবে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের সুবিধা। ইউপিআইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা। ফ্রান্স সহ একাধিক দেশে এখন কার্যকর ইউপিআই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও গেয়েছেন ইউপিআই-প্রশস্তি। যেভাবে প্রযুক্তিকে সর্বসাধারণের কাজে লাগানো হয়েছে, তা বিশ্বের আর কোনও দেশ, এমনকী আমেরিকাও করে দেখাতে পারেনি বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক পল রোমার। সেই ব্যবস্থাই কাজে লাগিয়ে মুম্বইয়ে গণেশের মূর্তি কিনলেন স্পেনের প্রেসিডেন্ট।

    দীপাবলি পালন

    সস্ত্রীক তিনদিনের ভারত সফরে এসেছেন স্পেনের প্রেসিডেন্ট (Pedro Sanchez)। সোমবার স্ত্রী বেগোনা গোমেজকে নিয়ে মুম্বইয়ে দীপাবলি উৎসবে মাতলেন তাঁরা। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে প্রদীপ জ্বালাতে দেখা যায়। তারাবাতিও জ্বালাতে দেখা যায় তাঁদের। লাড্ডু-সহ বিভিন্ন সুস্বাদু ভারতীয় মিষ্টির স্বাদও গ্রহণ করেন তাঁরা (Pedro Sanchez)। স্যাঞ্চেজ বলেন, “স্পেন ও ভারত ২০২৬ সালকে সংস্কৃতি, পর্যটন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বছর হিসেবে উদযাপন করছে।”

    আরও পড়ুন: কালীপুজোর আগে ভূত চতুর্দশীতে ১৪ শাকে আটকে যায় বহু রোগ! কী কী জানেন?

    তিনি জানান, স্পেন ভারতের জন্য ফুটবল কোচ পাঠাবে। আর ভারত স্পেনে ক্রিকেট প্রচার করতে পারে। সাঞ্চেজ স্পেন ও ভারতের মধ্যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় উন্নত করার কথাও বলেন। তিনি জানান, শীঘ্রই স্প্যানিশ দল ভারতের ফুটবল ম্যাচে অংশ নেবে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “ভারতের ডিজিটাল বিপ্লবকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করলেন (পেদ্রো সাঞ্চেজ)। প্রেসিডেন্ট পেদ্রো স্যাঞ্চেজ আজ মুম্বইতে ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেসের মাধ্যমে পেমেন্ট করেছেন। এর রিয়েল-টাইম ও সাচ্ছন্দ্যপূর্ণ লেনদেন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন। ডিজিটাল পথ দ্রুতই ভারত-স্পেন প্রযুক্তিগত (UPI) অংশীদারিত্বকে সংযুক্ত করছে (Pedro Sanchez)।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share