Tag: Srinivasa Ramanujan

Srinivasa Ramanujan

  • Srinivasa Ramanujan: আজ জাতীয় গণিত দিবস, চিনে নিন ভারতের বিস্ময়কর প্রতিভা রামানুজনকে

    Srinivasa Ramanujan: আজ জাতীয় গণিত দিবস, চিনে নিন ভারতের বিস্ময়কর প্রতিভা রামানুজনকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহু গণিত প্রতিভার (Maths Genius) জন্মভূমি এই ভারত। এখানেই জন্মেছিলেন শ্রীনিবাস রামানুজনও (Srinivasa Ramanujan)। ১৮৮৭ সালের ২২ ডিসেম্বর কে শ্রীনিবাস আইয়েঙ্গার ও কোমলতাম্মালের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন রামানুজন। শৈশব থেকেই গণিতের প্রতি তাঁর দারুন ঝোঁক। নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার বদলে মন্দিরের মণ্ডপে বসে গণিতের সমস্যা সমাধান করতেন তিনি। শোনা যায়, গণিতের কোনও সমস্যার সমাধান করতে না পারলে তিনি তাঁর উত্তর খুঁজে পেতেন স্বপ্নের মধ্যেই। গণিতের প্রতি তাঁর এই অগাধ ভালোবাসার জন্যই স্কুলের অন্যান্য বিষয়গুলিতে তিনি প্রায়ই ফেল করতেন। মাত্র তেরো বছর বয়সেই রামানুজন জটিল উপপাদ্য আবিষ্কার করতে শুরু করেন। সেগুলি লিপিবদ্ধ করতেও শুরু করেন। কাগজ দুষ্প্রাপ্য ছিল বলে তিনি স্লেটে সমস্ত গণনা করে নিতেন। খাতায় লিখে রাখতেন কেবল গুরুত্বপূর্ণ ফল ও গণিতের সারাংশ।

    চাকরির সন্ধানে রামানুজন (Srinivasa Ramanujan)

    ১৯০৯ সালে রামানুজন বিয়ে করেন জানকীঅম্মলকে। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি চাকরির সন্ধান করতে শুরু করেন। এই সময়েই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় ভারতীয় গণিত সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ভি রামস্বামী আয়ারের। তিনি চাকরি করতেন রাজস্ব দফতরে। সেখানেই চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন রামানুজন। রামানুজনের খাতার বিষয়বস্তু দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে যান। তরুণ প্রতিভার অসাধারণ ক্ষমতা আঁচ করে আয়ার রামানুজনকে মাদ্রাজের বিভিন্ন গণিতবিদ বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ১৯১২ সালের ১ মার্চ রামানুজন মাদ্রাজ পোর্ট ট্রাস্টের প্রধান হিসাবরক্ষকের দফতরে চাকরি পান। তাঁর বস স্যার ফ্রান্সিস স্প্রিং ও সহকর্মী নারায়ণ আয়ার তাঁকে গণিতচর্চা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে থাকেন।

    কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে যাত্রা

    ১৯১৩ সালের জানুয়ারি মাসে রামানুজন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত ইংরেজ গণিতবিদ জিএইচ হার্ডিকে একটি চিঠি লেখেন। প্রথমে পাঠানো সূত্রগুলির কয়েকটি হার্ডি বুঝতে পারলেও, বাকিগুলির জটিলতা দেখে সেগুলিকে তাঁর অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়েছিল। তবে রামানুজন প্রেরিত ৯ পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি গভীরভাবে অধ্যয়ন করার পর তিনি নিশ্চিত হন যে কাজগুলি সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং মৌলিক। তিনি বুঝতে পারেন, এত গভীর উপপাদ্য কেবলই কল্পনার ফল হতে পারে না। বহু বোঝানো ও মাতৃআশীর্বাদ লাভের পর অবশেষে ১৯১৪ সালে রামানুজন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন (Srinivasa Ramanujan)।

    রয়্যাল সোসাইটির ফেলো

    বিদেশে রামানুজন অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেন। রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন তিনি। রামানুজন হলেন দ্বিতীয় ভারতীয় এবং সর্বকনিষ্ঠদের অন্যতম, যিনি এই সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯১৮ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজের ফেলো নির্বাচিত হওয়া প্রথম ভারতীয় হন। দুর্ভাগ্যবশত, যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে তাঁর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। ১৯১৯ সালেই তাঁকে ফিরতে হয় নিজের গ্রামে। ১৯২০ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে প্রয়াত হন গণিতের এই বিস্ময় প্রতিভা (Maths Genius)।

    গাণিতিক অবদান

    রামানুজনের গাণিতিক অবদান তাঁর মৃত্যুর বহু পরেও টিকে রয়েছে এবং আজও বিশ্বজুড়ে গবেষকদের বিস্মিত ও অনুপ্রাণিত করে চলেছে। গণিতে প্রায় কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও, তিনি সম্পূর্ণভাবে স্বশিক্ষিত হয়ে বিষয়টির ওপর অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন (Srinivasa Ramanujan)। রামানুজন ছিলেন আক্ষরিক অর্থেই এক ধর্মপ্রাণ হিন্দু। তিনি তাঁর সব আবিষ্কারের কৃতিত্ব দিতেন পারিবারিক আরাধ্য দেবী নামগিরির মহালক্ষ্মীকে। তিনি বলেছিলেন, “আমার কাছে কোনও সমীকরণের কোনও অর্থ নেই, যদি তা ঈশ্বরের কোনও ভাবনার প্রকাশ না হয়।” প্রাতিষ্ঠানিক কোনও শিক্ষা সেই অর্থে ছিল না রামানুজনের। তবুও তিনি আবিষ্কার করেছিলেন সংখ্যা তত্ত্ব, যুগান্তকারী অবদান রেখেছিলেন অনন্ত ধারা এবং কন্টিনিউড ফ্র্যাকশনের ক্ষেত্রে। তাঁর সূত্র ও ধারণাগুলি আজও গণিত ও পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন শাখায় ব্যবহৃত হয়। তিনিই প্রথম ‘পাই’য়ের মান বের করে চমকে দেন বিশ্বকে (Maths Genius)।

    ‘জাতীয় গণিত দিবস’

    বর্তমানে কুম্ভকোনামের সরঙ্গপাণি সন্নিধি স্ট্রিটে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বাড়িটিতে তাঁর স্মরণে একটি জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছে। তাঁর জন্মদিন ২২ ডিসেম্বর। তামাম ভারতে দিনটি পালিত হয় ‘জাতীয় গণিত দিবস’ হিসেবে। তিনি ছিলেন এমন এক প্রতিভা, যিনি কেবল অসীমকে বোঝেননি, বরং অসীমের সঙ্গেই একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। গণিত জগৎ আজও তাঁর কাছে গভীরভাবে ঋণী। বোধহয়, সেই কারণেই সুইডেন এবং জার্মানির মতো দেশগুলিতেও প্রতি বছর এই ভারতীয় প্রতিভাকে সম্মান জানাতে গাণিতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় (Srinivasa Ramanujan)। আর্যভট্ট ও বরাহমিহিরের ঢের পরেও যে রামানুজন এবং তাঁর কালজয়ী তত্ত্বসমূহ আজও বিশ্ব গণিতকে পথ দেখিয়ে চলেছে, এই গৌরব ভারতবাসীদের জন্য গর্বের বিষয় বই কি (Maths Genius)!

  • Srinivasa Ramanujan: আজ ভারতীয় গণিতজ্ঞ শ্রীনিবাস রামানুজনের জন্মদিন, জানুন তাঁর জীবনকথা

    Srinivasa Ramanujan: আজ ভারতীয় গণিতজ্ঞ শ্রীনিবাস রামানুজনের জন্মদিন, জানুন তাঁর জীবনকথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসুস্থ গণিতজ্ঞকে দেখতে এসেছেন তাঁর বিদেশী বন্ধু। বিলেতি বন্ধুও অবশ্য নামকরা গণিতজ্ঞ। শারীরিক খোঁজখবর নেওয়ার পর বিলেতি বন্ধু তাঁর ভারতীয় বন্ধুটিকে বললেন, যে ট্যাক্সি করে এলাম সেটির নম্বর ১৭২৯। সংখ্যাটির মধ্যে আমি বিশেষ কিছু খুঁজে পেলাম না। শয্যাশায়ী ভারতীয় বন্ধুটি তখন বললেন, ১৭২৯ সাধারণ সংখ্যা নয়। এটি একমাত্র সংখ্যা যেটি ১০ এবং ৯ এর ঘনের সমষ্টি। অন্যদিকে আবার এই সংখ্যাটি ১ এবং ১২ এর ঘনের সমষ্টি। হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে যিনি এই ক্যালকুলেশন করছিলেন তিনি বিখ্যাত ভারতীয় গণিতজ্ঞ শ্রীনিবাস রামানুজন (Srinivasa Ramanujan)। বিদেশী বন্ধুটি হলেন আরেক বিখ্যাত গণিতজ্ঞ হার্ডি।

    জন্ম ও প্রথম জীবন
     

    আজ শ্রীনিবাস রামানুজনের (Srinivasa Ramanujan) জন্মদিন। ২২ ডিসেম্বর, ১৮৮৭ সালে তিনি জন্মগ্রহন করেন তামিলনাড়ুর ইরোড জেলার কুম্ভকনাম গ্রামে। কথিত আছে, কুম্ভমেলার মত  প্রতি ১২ বছরে এই গ্রামেও মেলা বসত। সেজন্যই গ্রামের নাম হয়েছিল কুম্ভকনাম।

    শোনা যায়, রামানুজন (Srinivasa Ramanujan) ছোটবেলায় সাধারণ মানের ছাত্র ছিলেন; কিন্তু দশম শ্রেণীর পর তিনি গণিতে দ্রুত এগিয়ে যান। কলেজে পড়াকালীন তিনি (Srinivasa Ramanujan) গণিতে এতটাই মগ্ন থাকতেন যে বাকি বিষয়গুলিতে ফেল করে যেতেন। এরফলে কলেজের বৃত্তি থেকে তিনি বঞ্চিত হন। কলেজ ড্রপার রামানুজন (Srinivasa Ramanujan) এরপর মাদ্রাজ বন্দরে একটি কেরানীর চাকরিতে ঢোকেন। সেখানেও চলত গণিত সাধনা। সারাদিন ধরে পাতার পর পাতা গণিতের জটিল সমস্যার সমাধান করতেন রামানুজন (Srinivasa Ramanujan), তৈরি করতেন একের পর এক উপপাদ্য। এখানেই তাঁর এমন কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয় যাঁরা রামানুজের (Srinivasa Ramanujan) নোটবুক-এর বিষয়ে উৎসাহ প্রকাশ করেন, এদের হাত ধরেই গণিত বিষয়ে কিছু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। ১৯১১ সালে তাঁর প্রথম গবেষণামূলক প্রবন্ধ ‘জার্নাল অফ দ্য ম্যাথেমেটিক্যাল সোসাইটি’ প্রকাশিত হয়। সংখ্যাতত্ত্বের উপর তাঁর গবেষণালদ্ধ ‘সাম প্রপার্টিজ অফ বারনৌলিস নাম্বারস’ নামে তাঁর প্রথম দীর্ঘ প্রবন্ধ একই বছর প্রকাশিত হয়।

    বিদেশ যাত্রা
     

    ইতিমধ্যে রামানুজনের প্রতিভা দেখে তাঁকে কেমব্রিজে আসতে বলেন অধ্যাপক হার্ডি।  প্রফেসর হার্ডি লক্ষ্য করেন রামানুজনের (Srinivasa Ramanujan) অনেক প্রতিভা আছে; কিন্তু প্রথাগত শিক্ষার অভাবে প্রাথমিক অনেক কিছুই তিনি জানতেন না। এখান থেকেই রামানুজন ফেলোশিপ নিয়ে পাশ করলেন। কলেজ জীবনের অসম্পূর্ণ পড়া তাঁর সম্পূর্ণ হল। ১৯১৮ সালে তিনি রয়েল সোসাইটির সদস্য হন। তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় যিনি এই সম্মান লাভ করেন।

    জীবনাবসান

    ইংল্যান্ডে থাকাকালীন রামানুজনের (Srinivasa Ramanujan) শরীর দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে, ১৯১৯ সালে তিনি  ভারতে ফিরে আসেন। এক বছর পর ১৯২০ সালের ২৬ এপ্রিল মাত্র ৩২ বছর বয়সে জীবনাবসান হয় এই বিরল প্রতিভার। ১৯৩৬ সালে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেওয়ার সময় প্রফেসর হার্ডি রামানুজনকে (Srinivasa Ramanujan) যোদ্ধা বলে সম্বোধন করেছিলেন ‌। হার্ডি আরও বলেন, রামানুজন (Srinivasa Ramanujan) দারিদ্র্যতা নিয়েও  সমগ্র ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিতে শান দিতে পেরেছিলেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

LinkedIn
Share