Tag: Strategic autonomy

  • S Jaishankar: “পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমেরিকার যথেষ্ট বোঝাপড়া নেই, এরই প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে”, বললেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: “পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমেরিকার যথেষ্ট বোঝাপড়া নেই, এরই প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে”, বললেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আমেরিকা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে না বুঝলে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়তে পারে। নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। তিনি এও বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ক্রমশ আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, পরস্পরনির্ভরতার কৌশলগত ব্যবহার, দুর্বল সরবরাহ-শৃঙ্খল এবং শক্তির পরিবর্তিত ভারসাম্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে (Indias Terrorism) আরও জটিল করে তুলেছে।

    ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি বাণিজ্যিক জটিলতার কথাও উল্লেখ করেন। পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি ভারত হয়েছে, তা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান উদ্বেগ।

    জয়শঙ্করের কথায়, “সম্ভবত খুব কম দেশই আছে, যারা বহু দশক ধরে কোনও প্রতিবেশী দেশের সুপরিকল্পিত ও সচেতন নীতির অংশ হিসেবে আমাদের মতো সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, ভারতের কাছে যে বিষয়টি মৌলিক গুরুত্ব বহন করে, কোনও অংশীদার দেশ যদি সেটি যথেষ্ট পরিমাণে না বোঝে বা গুরুত্ব না দেয়, তাহলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়বেই। তাঁর কথায়, “আমার অন্যতম প্রধান উদ্বেগ যদি আমার অংশীদার সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি না করেন, তাহলে তার প্রভাব সম্পর্কের উপর পড়বে।”

    এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রশাসনের সময়ে আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তন পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (S Jaishankar)।

    সীমান্তে স্বাভাবিক পরিস্থিতিই ভারত-চিন সম্পর্কের পূর্বশর্ত (S Jaishankar)

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, আগের কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও উন্নতি দেখা যাচ্ছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় আজ সম্পর্ক কি ভালো? আমি বলব, হ্যাঁ। ২০২৪ সালের তুলনায় বললে, আরও বেশি।”

    তবে এই উন্নতিকে দুই দেশের সম্পর্কের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর মতে, ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থার কারণে ভারত ও চিনের মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছিল। সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ, ভিসা প্রদান এবং সরাসরি বিমান পরিষেবাতেও তার প্রভাব পড়েছিল।

    সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বৃহত্তর কূটনৈতিক যোগাযোগও ধীরে ধীরে ফিরেছে বলে জানান তিনি। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই বেজিংকে জানিয়ে এসেছে যে সীমান্তে উত্তেজনা দুই দেশের কারও স্বার্থে নয় (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্কর বলেন, “যে সমস্যা অন্যদের সুবিধা দেয়, সেই সমস্যার মধ্যে নিজেদের আটকে রাখা উচিত নয়।”

    ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যের মূল নীতি হল, “সীমান্তের পরিস্থিতিই সম্পর্কের পরিস্থিতি নির্ধারণ করে।” তাঁর কথায়, “সীমান্তে উত্তেজনা থাকবে, আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকবে—এটা হতে পারে না।” সীমান্তে স্বাভাবিক পরিস্থিতি যত এগোবে, ততই বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির পরিবেশ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

    বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের দিকে এগোচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়েও বক্তব্য রাখেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, বিশ্ব ক্রমশ আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।

    একসময় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্থিতিশীল শক্তি এবং ব্যবস্থার রূপ নির্ধারণকারী দেশ হিসেবে আমেরিকার যে ভূমিকা ছিল, তাতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিভিন্ন জোটের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি আমেরিকা এখন আরও বেশি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    আমেরিকা ও চিনের সম্পর্কের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে পারলেও সামগ্রিক সম্পর্ক এখনও প্রতিযোগিতামূলক। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বাকি দেশগুলির বিষয়ে তারা দু’জনে কতটা একমত হতে পারে, তারও সীমা রয়েছে।”

    এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ অন্যান্য দেশের সামনে অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনা এবং কোনও একটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

    জয়শঙ্করের কথায়, “আমরা কীভাবে ঝুঁকি কমাব? কীভাবে অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনব? নতুন অংশীদার কারা হতে পারে? ইতিমধ্যে থাকা কোনও অংশীদারিত্ব থেকে কীভাবে আরও বেশি মূল্য পাওয়া যেতে (Indias Terrorism) পারে?”

    “পরস্পরনির্ভরতা বাস্তবতা, প্রতিযোগিতা মানসিকতা”

    বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ, দুর্বল সরবরাহ-শৃঙ্খল এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন।

    তিনি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর তৈরি হওয়া চাপের কথা উল্লেখ করেন। খাদ্য, জ্বালানি, সার ও অর্থব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দেশের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের সময়ের পরস্পরবিরোধী বাস্তবতা হল, দেশগুলি গভীরভাবে পরস্পরনির্ভরশীল হয়েও একই সময়ে সেই পরস্পরনির্ভরতাকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। পরস্পরনির্ভরতা বাস্তবতা, প্রতিযোগিতা হল মানসিকতা।”

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ, নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলিকেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার উপর যেসব দেশের প্রভাব রয়েছে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের বিরুদ্ধে সেই প্রভাব ব্যবহার করার সুযোগ পায়।

    জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক কৌশলগত হিসাবকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন বিদেশমন্ত্রী। নতুন সামরিক সক্ষমতা দেশগুলিকে আরও বেশি ঝুঁকি নেওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও (Indias Terrorism) সতর্ক করেন তিনি।

    এই পরিস্থিতিতে কূটনীতিকে তিনি চরম কঠিন এক খেলা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সরকারগুলিকে একদিকে তাৎক্ষণিক সংকট সামলাতে হয়, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ধৈর্যও (S Jaishankar) ধরে রাখতে হয়।

     

  • PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করার যে কোনও চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হবে।” শুক্রবার এমনই মন্তব্য করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin)। ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন করেন তিনি। বলেন, “সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির নিজেদের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত।” সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, ভারত সবসময় নিজের জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে নীতি নির্ধারণ করেছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বাইরের কোনও চাপ এলেও ভবিষ্যতেও তাই করবে।

    নিষেধাজ্ঞার হুমকি বুমেরাং হতে পারে (PM Modi)

    তিনি বলেন, “ভারত সবসময় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি ততক্ষণাৎ বুমেরাং হয়ে যাবে।” পুতিন জানান, রাশিয়া আগে ভারতের সঙ্গে Su-57 যুদ্ধবিমান যৌথভাবে তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই সহযোগিতা বাস্তবায়িত না হওয়ায় রাশিয়া একাই বিমানটি তৈরি করে। ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু যে কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাও জানান পুতিন। বলেন, “আমাদের ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কের বিশেষত্ব হল পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে আমরা শুধু কেনাবেচা নয়, যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিই।”

    ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগ

    উদাহরণ হিসেবে (PM Modi) তিনি ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারতীয় ও রুশ বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং তা সফল হয়েছে।” আমেরিকা যদি ভারত Su-57 বা S-500 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিনতে চায়, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে কি? এই (Putin) প্রশ্নের উত্তরে পুতিন বলেন, “ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের জন্য সবচেয়ে আধুনিক ও উপযুক্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। অন্যরা যা-ই বলুক, ভারত সবসময় এই ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি জানান, ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক চাপের বদলে সামরিক প্রয়োজন ও কার্যকারিতার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে (PM Modi)।

    পুরানো সেই দিনের কথা

    পুতিন মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে একসময় নরেন্দ্র মোদিকে আমেরিকায় প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি। অথচ বর্তমানে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা সবাই সেই সময়ের কথা মনে করি যখন প্রধানমন্ত্রী মোদির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী, সব নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক সফলভাবেই এগোচ্ছে।” তিনি জানান, মোদি নিশ্চয়ই সেই অভিজ্ঞতার কথা ভুলে যাননি এবং এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে ভারত পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও জানান পুতিন (Putin)। বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা, অন্য সব অংশীদারের মতোই, রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে না। কেউ আমাদের নির্দেশ দিতে পারে না যে, ভারতের কাছে এটা সরবরাহ করো না।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আমাদের অংশীদারদের, বিশেষ করে ভারতের মতো দেশের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সবসময় রক্ষা করব (PM Modi)।”

  • Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ভারত। দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি-বিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে (Modi Govt) পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশকে। এমতাবস্থায় বিরোধী দল (Rahul Gandhi) কংগ্রেস এক অভ্যন্তরীণ দ্বিধার সম্মুখীন। রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, নিরন্তর তা-ই ভেবে চলেছেন শতাব্দী-প্রাচীন দল কংগ্রেসের মাথারা।

    কংগ্রেসে ফাটল (Rahul Gandhi)

    ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং দেশে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি এই দ্বন্দ্বকে ফের একবার সামনে নিয়ে এসেছে। এই মুহূর্তটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে শুধু কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা নয়, বরং দলের অভ্যন্তর থেকেই উঠে আসা তীব্র মতপার্থক্য। এই বিভেদের কেন্দ্রে রয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতির কড়া সমালোচনা করেন। তবে এই সমালোচনার জবাব শুধু শাসকদলই দেয়নি, কংগ্রেসেরই বহু প্রবীণ নেতাও এর বিরোধিতা করেছেন।

    রাহুলের বেফাঁস মন্তব্য

    রাহুল মোদি সরকারের বিদেশনীতিকে “সমঝোতাপূর্ণ” এবং “ক্ষতিগ্রস্ত” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এহেন মন্তব্যটি করেন ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষিতে। তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, দাবি তুলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনির হত্যার ঘটনার নিন্দে করার। তবে এই অবস্থান দলের ভেতরেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রবীণ নেতা শশী থারুর সম্পূর্ণ ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, “ভারতের অবস্থান একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনীতির উদাহরণ।” তাঁর বক্তব্যে কূটনীতির একটি সূক্ষ্ম ও বাস্তববাদী বোঝাপড়া ফুটে ওঠে, যেখানে বৈশ্বিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করাটা ভীষণভাবে জরুরি (Rahul Gandhi)।

    দ্বিধা বিভক্ত কংগ্রেস

    এই মতপার্থক্য শুধু কথার লড়াই নয়, এটি কংগ্রেসের ভেতরে দুটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত—একটি রাজনৈতিক বিরোধিতার ভিত্তি, অন্যটি কৌশলগত বাস্তববাদ (Modi Govt)। থারুর একা নন। প্রবীণ নেতা আনন্দ শর্মা সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে “পরিপক্ব ও দক্ষ” বলে প্রশংসা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক সঙ্কটকালে জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিদেশনীতি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। কংগ্রেস নেতা মনীশ তেওয়ারিও বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সামলাতে সরকার সম্ভবত সঠিক কাজই করছে।” বস্তুত, এটি বিরোধী শিবিরের এক নেতার বিরল স্বীকারোক্তি।

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন দেখা গিয়েছে। এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের ক্ষেত্রে কমল নাথ ঘাটতির দাবি নাকচ করে দেন, যা দলের বৃহত্তর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, “সঙ্কটের একটি ধারণা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এতে আদতে উপকৃত হচ্ছে বিজেপি। কারণ এটি শাসক বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিচ্ছি।” রাহুলের দলের এই বিরোধিতা নতুন কিছু নয়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে চালু হওয়া অপারেশন সিঁদুরের পরেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল (Rahul Gandhi)। রাহুল সরকারের “রাজনৈতিক সদিচ্ছা” নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, কংগ্রেসেরই থারুর এবং তেওয়ারি প্রকাশ্যে অভিযানকে সমর্থন করেন, প্রশংসা করেন সেনাবাহিনীর। তাঁদের এই অবস্থানকে দলীয় সীমার বাইরে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে (Modi Govt)।

    থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি

    সরকার যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল গঠন করে, সেখানে থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি কংগ্রেস নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। থারুরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকায় একটি প্রতিনিধিদলের প্রধান করা হলে এই অস্বস্তি আরও প্রকট হয় (Rahul Gandhi)। সংসদে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিতর্কেও থারুর এবং তেওয়ারিকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়াও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাত আবারও এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন সামনে নিয়ে এসেছে। ভারতের পরিমিত ও কৌশলী কূটনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলেও উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। আনন্দ জানান, এই নীতি ভারতকে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করেছে। তিনি পারস্য (আধুনিক ইরান)-এর সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। (Rahul Gandhi)

    এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্য

    কমল নাথের এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্যও দেখায় যে দলের সব নেতা কেন্দ্রীয় অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। এই পরিস্থিতিতে দলে রাহুলের নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে। এটি আর কোনও বিচ্ছিন্ন মতভেদ নয়, বরং এমন একটি প্রবণতা, যেখানে অভিজ্ঞ নেতারা তাঁর অবস্থানের সঙ্গে নিঃশর্তভাবে একমত হতে অনিচ্ছুক, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে। থারুর, আনন্দ, কমল নাথ ও তেওয়ারির মতো অভিজ্ঞ নেতাদের প্রকাশ্য মতবিরোধ কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ঐকমত্যের কঙ্কালসার চেহারাটাই তুলে ধরে (Modi Govt)।ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে কংগ্রেস যেন নিজেদের নেতৃত্বকেই যাচাই করছে। এতে দলের সমালোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।

    বড় চ্যালেঞ্জ

    রাজনৈতিক যোগাযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে এই অসঙ্গতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি বিরোধী দলের শক্তি আসে সুসংহত ও পরিষ্কার বার্তা থেকে। কিন্তু যখন দলের প্রবীণ নেতারা ভিন্ন বা পরিমিত মতামত দেন, তখন দলের অবস্থান বিভক্ত হয়ে যায়। কংগ্রেসের এই সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন। সেটি হল, জাতীয় স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ না করে কীভাবে সরকারের সমালোচনা করা যায় (Rahul Gandhi)? থারুর ও শর্মার মতো নেতারা দ্বিদলীয় (bipartisan) দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে, যেখানে ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, রাহুলের অবস্থান বেশি আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক একটি কৌশলের প্রতিফলন, যা কখনও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হতে পারে। কংগ্রেসের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার—নেহরুর নিরপেক্ষ আন্দোলন থেকে নরসিমা রাওয়ের অর্থনৈতিক সংস্কার—এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস

    বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, দল কি তার কৌশলগত ঐতিহ্যকে আধুনিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারবে? অপারেশন সিঁদুর থেকে ইরানের সংঘাত—সব মিলিয়ে কংগ্রেস এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে এক সন্ধিক্ষণে (Modi Govt)। একদিকে আক্রমণাত্মক বিরোধিতা, অন্যদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের সংযত ও বাস্তববাদী অবস্থানের ঘূর্ণিপাকেই ঘুরপাক খাচ্ছে কংগ্রেস (Rahul Gandhi)। এই মতপার্থক্য যদি গঠনমূলক আলোচনার রূপ নেয়, তবে তা ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু যদি এটি গভীর বিভাজনে পরিণত হয়, তবে তা কংগ্রেস ও ভারতের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বর্তমান সময়ে যখন ভূ-রাজনীতি ও দেশীয় রাজনীতি ক্রমশ জড়িয়ে যাচ্ছে, তখন সুসংহত ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান উপস্থাপন করার ক্ষমতাই নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা।

     

LinkedIn
Share