Tag: Suezmax tanker

  • Russian Oil Tanker: চিনে না গিয়ে ভারতের দিকে আসছে একাধিক রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার

    Russian Oil Tanker: চিনে না গিয়ে ভারতের দিকে আসছে একাধিক রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রওনা হয়েছিল চিনের উদ্দেশে। মাঝপথে দিক পরিবর্তন করে ভারতের দিকে আসছে রাশিয়ার তেলবাহী অন্তত সাতটি ট্যাঙ্কার। ব্লুমবার্গের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় নয়াদিল্লি নতুন করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার পর এই পরিবর্তন ঘটেছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং সংস্থা ভর্টেক্সা লিমিটেডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজগুলির রুট পরিবর্তন হয়েছে তখনই, যখন ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সাময়িক ছাড়পত্র পায়, যার ফলে সমুদ্রে আটকে থাকা ‘নিষিদ্ধ’ রুশ তেল কেনা সম্ভব হয়েছে।

    আসছে তেলবাহী জাহাজ (Russian Oil Tanker)

    এই সাতটি ট্যাঙ্কারের মধ্যে অ্যাকোয়া টিটান নামের একটি মাঝারি আকারের তেলবাহী জাহাজ শনিবার (২১ মার্চ) নিউ মাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছনোর কথা। এটি জানুয়ারির শেষদিকে বাল্টিক সাগরের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, চিনের রিঝাও বন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। তবে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ভারত আমেরিকার ছাড়পত্র পাওয়ার কয়েকদিন পরে এটি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে। সুয়েজম্যাক্স জৌজৌ এন নামের আর একটি ট্যাঙ্কার গুজরাটের জামনগরের সিক্কা বন্দরের দিকে আসছে। ২৫ মার্চ পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এটিও মার্চের শুরুতে পথ বদল করেছিল।

    হরমুজ প্রণালী বন্ধ

    এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন একটি সময়ে, যখন ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অথচ, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। বর্তমানে ইরান এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বছরের শুরুতে কিছুটা কমানোর পর, মাত্র এক সপ্তাহেই ভারত প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল কিনে ফেলেছে। জানুয়ারিতে রাশিয়া থেকে ভারতের মোট তেল আমদানি কমে নেমে গিয়েছিল ২১ শতাংশে। কারণ তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল ভারতের।

    রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়ায় প্রতিযোগিতা

    নয়াদিল্লি যখন রুশ তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল, তখন চিন কম দামে সেই তেল কিনে নেওয়ার সুযোগ লুফে নিয়েছিল। এখন আমেরিকা অন্যান্য দেশকে রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়ায় প্রতিযোগিতা গিয়েছে বেড়ে। রাশিয়ার তেল আসা ভারতের স্বস্তির কারণ হবে। কারণ ভারত মোট জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালী ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের ৪০–৫০ শতাংশ  অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে আসে। এলএনজি আমদানির প্রায় অর্ধেক এবং অধিকাংশ এলপিজি সরবরাহও এই পথ দিয়েই হয়। এদিকে, যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে ভারত ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের সঙ্কটে পড়েছে। তার জেরে মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুর কিছু রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালী

    জানা গিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ভারতীয় পতাকাবাহী তিনটি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে দেশে পৌঁছেছে। পারাপারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ২০টি জাহাজ। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, ইরানের সঙ্গে ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়ে কোনও সর্বজনীন ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলবাহী সাতটি ট্যাঙ্কারের আগমন ভারতের স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সঙ্কট কিছুটা লাঘব করবে বলেই অনুমান।

     

  • Iran: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিল ইরান

    Iran: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান (Iran)। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাথালির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই মিলেছে এই খবর। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক নৌপথ (হরমুজ প্রণালী) দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই পেতে পারে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত চলছে, তার  পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানি রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য। এই সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর নজর রাখছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

    ইরানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য (Iran)

    ইরানের রাষ্ট্রদূতকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ভারত কি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, তখনই তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভবিষ্যতেই আপনি তা দেখতে পাবেন। আমার মনে হয় দুই বা তিন ঘণ্টার মধ্যেই।” ফাথালি বলেন, “ভারত ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই অঞ্চলে দুই দেশেরই অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ইরান ও ভারতের এই অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।” ইরানি রাষ্ট্রদূত নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেন। এই সম্পর্ককে তিনি বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ইরান ও ভারত বন্ধু। আমাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, রয়েছে অভিন্ন বিশ্বাসও।” কঠিন সময়ে ইরানকে যে ভারত সাহায্য করেছিল, তাও এদিন মনে করিয়ে দেন ফাথালি। তিনি বলেন, “ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি বলতে পারি, যুদ্ধের পর এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করেছে।”

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

    প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয় (Iran)। এই পথে চলাচলে কোনও বিঘ্ন ঘটলে তা জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। কারণ দেশটি তার বড় অংশের অপরিশোধিত তেল এই অঞ্চল থেকেই আমদানি করে (Hormuz Strait)। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন সরকার ও শিপিং কোম্পানি হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির ওপর নিরন্তর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই ভারতের জন্য নিরাপদ পথের ইঙ্গিত দেন ফাথালি।

    ভারতে আসছে একের পর এক জাহাজ

    যে দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ পার করার অনুমতি দিয়েছে ইরান, সেগুলি হল— শিবালিক ও নন্দাদেবী। এরমধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার শিবালিক ভারতীয় নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় হরমুজ প্রণালী পার করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে। দ্বিতীয় জাহাজ নন্দাদেবী আজ, শনিবার ভোরের দিকে ওই প্রণালী অতিক্রম করবে বলেই খবর। মেরিনট্র্যাফিকের ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ১২ মার্চ শিবালিকের অবস্থান সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপকূল থেকে ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে, তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের মধ্যেই ছিল। অন্যদিকে, নন্দাদেবীকে শুক্রবার ইরানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখের কাছে দেখা গিয়েছে বলে মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের রাস লাফান নোঙরস্থলে অবস্থান করেছিল এবং পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জলসীমার দিকে যাত্রা করে। এছাড়াও, আরও একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারের শনিবার ভারতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই জাহাজে আসছে সৌদি আরবের তেল। লাইবেরিয়া পতাকাবাহী স্মিরনি সুয়েজম্যাক্স ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার (সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০ লাখ ব্যারেল), অচিরেই ভারতের একটি বন্দরে পৌঁছবে বলেও আশা করা হচ্ছে (Hormuz Strait)। এই তেল নেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (Iran)।

LinkedIn
Share