Tag: Supplementary List

  • Assembly Election 2026: বাংলার ছাড়াও অসম, কেরলম, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে  চলছে গণনা, সেখানেও ক্ষমতায় কে, জানা যাবে আজ

    Assembly Election 2026: বাংলার ছাড়াও অসম, কেরলম, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে চলছে গণনা, সেখানেও ক্ষমতায় কে, জানা যাবে আজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার পাশাপাশি আজ ভোটগণনা (Assembly Election 2026) চলছে আরও ৩ রাজ্য ও ১টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতেও আজ সকাল থেকেই ভোটগণনা শুরু হয়েছে। অসমে বিজেপি সরকার ফিরে আসার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তামিলনাড়ুতে এমকে স্ট্যালিনের প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে। কেরলের ভোটের ফলাফলে আপাতত পিছিয়ে বামেরা। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ১০ বছর পরে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে বলে এগজিট পোলে পূর্বাভাস মিলেছে। নির্বাচন কমিশনের (ECI) সরকারি ওয়েবসাইট eci.gov.in-এ নাগরিকরা সোমবার সকাল ৮টা থেকে সরাসরি ফলাফলের লাইভ আপডেট দেখতে পাবেন।

    কোথায় কে এগিয়ে

    কমিশন সকাল সকাল সাড়ে ৯টায় যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, সেই অনুসারে, অসমে ১৬টি আসনে এগিয়ে বিজেপি। কেরলে ২৪টি আসনে এগিয়ে কংগ্রেস জোট। তামিলনাড়ুতে ৯টি আসনে আপাতত এগিয়ে এডিএমকে। টিভিকে পাঁচটি আসনে এগিয়ে। পুদুচেরিতে এনডিএ এগিয়ে ২টি আসনে। অসমের জালুকবাড়ি আসনে এগিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। জোরহাটে এগিয়ে কংগ্রেসের গৌরব গগৈ। তামিলনাড়ুর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন এগিয়ে। উদয়নিধি স্ট্যালিনও এগিয়ে। পেরাম্বুর আসনে এগিয়ে বিজয়। তবে ত্রিচিতে পিছিয়ে।

    অসমে ফের বিজেপি

    ২০১৬, ২০২১ সালের পরে আবার অসমে ক্ষমতা দখল করতে চলেছে বিজেপি। গত দু’বার অসম গণপরিষদের সঙ্গে জোট গড়ে সরকারে এসেছিল বিজেপি। তবে মনে করা হচ্ছে, এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় আসবেন হিমন্ত। কংগ্রেসের জন্য বড় পরীক্ষা অসমে। অসমে ১৯৫১ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ ৮৫.৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটের দিন রাজ্যে হিংসার ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। অসমে ৬৮টি আসনে এগিয়ে বিজেপি। অসমে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬৪ আসনের সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে ইতিমধ্যেই । কংগ্রেস জোট এগিয়ে ১৯টি আসনে।

    জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা

    কেরলে ভোটগণনার জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ুতে চলছে ত্রিশঙ্কু লড়াই। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে ছয়টি গণনা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে দেশের এই ৩ রাজ্য ও ১টি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের আগামী ৫ বছরের ভবিষ্যৎ। কেরলের ১৪০টি আসনে গত ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ৭৯.৬৩ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। সেখানে মূল লড়াই বামপন্থী এলডিএফ (LDF) এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর (UDF) মধ্যে। তামিলনাড়ুতে ২৩ এপ্রিল এক দফায় ভোট হয়েছে এবং সেখানে ৮৪.৬৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। এনডিএ (NDA) ও ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের পাশাপাশি অভিনেতা বিজয়-এর দলের উপস্থিতিতে সেখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। পুদুচেরিতেও রেকর্ড ৮৯.৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যেখানে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের ৯১.৮১ শতাংশ অংশগ্রহণ। সব মিলিয়ে, সোমবারের ফলাফল ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।

  • Assembly Election 2026: ভোট গণনা নিয়ে সতর্ক বিজেপি, কর্মীদের প্রস্তুত করতে বিশেষ কর্মশালা

    Assembly Election 2026: ভোট গণনা নিয়ে সতর্ক বিজেপি, কর্মীদের প্রস্তুত করতে বিশেষ কর্মশালা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। মানুষও ঢেলে ভোট (Assembly Election 2026) দিয়েছেন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে সফল কমিশন। ৪ মে হবে ভোট গণনা। ভোট গণনার সময় যাতে কোনওরকম কারচুপি তৃণমূল না করতে পারে তাই কাউন্টিং নিয়ে সতর্ক বিজেপি। শিলিগুড়ি ও মালদায় বিশেষ বৈঠকে বসেছে গেরুয়া শিবির। শিলিগুড়ি, মালদায় এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা ও প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘এটা সাংগঠনিক মিটিং। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এসেছিলেন। মূলত, ভোটদান হওয়ার পর আর যে যে বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি..কাউন্টিংয়ের প্রস্তুতি-সহ…কীভাবে আমরা সাংগঠনিক যে দায়-দায়বদ্ধতা রয়েছে সেগুলো পালন করব, মূলত এটা রেগুলার অর্গানাইজেশনাল মিটিং। যেখানে প্রাথমিক কিছু কথা বলা হয়েছে। তারপরে আমরা আমাদের যে কাজ দেওয়া হয়েছে সেগুলি করব।’’

    গণনাকে কেন্দ্র করে বিশেষ কর্মশালা

    গণনাকে কেন্দ্র করে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে। ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের জন্য ১০টি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের নেতৃত্বে শিলিগুড়ি ও মালদায় কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। শিলিগুড়িতে যে কর্মশালার আয়োজন করা হয় সেখানে- শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার…এই পাঁচ সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির গণনাকর্মীরা ছিলেন। তাঁদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এখানে ভূপেন্দ্র যাদব ছাড়াও সাংসদদের মধ্যে মনোজ টিগ্গা, জয়ন্ত রায়-রা উপস্থিত ছিলেন। এরপরেই ভূপেন্দ্র যাদব চলে যান মালদায়। একইভাবে সেখানেও ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের গণনাকর্মীদের নিয়ে আরও একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল।

    গণনাকর্মীদের নিয়ে দুই দিন কর্মশালা

    সার্বিকভাবে রাজ্য বিজেপির তরফে জানা যাচ্ছে, ১০টি বিভাগে এভাবেই ২৮-৩০টি করে বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে আলোচনা হবে। গণনাকর্মীদের নিয়ে দুই দিন কর্মশালার করা হবে। সেখানে গণনা-কর্মীদের বিশেষভাবে প্রস্তুত করবে বিজেপি নেতৃত্ব। ভোট শেষ হয়ে গেছে। দুই দফায় রেকর্ড হারে ভোট পড়েছে রাজ্যজুড়ে। যা নিয়ে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের বাকি পর্বটুকু নির্বিঘ্নে শেষ করতে মরিয়া তারা। অর্থাৎ, গণনাও যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়। কিন্তু, তার আগে কলকাতা থেকে জেলা, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ লেগেই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় কর্মীদের সতর্ক করছে, অন্যদিকে সতর্ক রয়েছে অন্যান্য দলও। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটদানের পর রাজ্যে বিজেপির সরকার গড়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

  • Assembly Election 2026: শনি-সকালেও ভোটারদের লম্বা লাইন! মগরাহাট, ডায়মন্ড হারবারের ১৫টি বুথে চলছে পুনর্নির্বাচন

    Assembly Election 2026: শনি-সকালেও ভোটারদের লম্বা লাইন! মগরাহাট, ডায়মন্ড হারবারের ১৫টি বুথে চলছে পুনর্নির্বাচন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Pargana) দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫টি বুথে নতুন করে ভোট (Repolling) গ্রহণ চলছে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নির্দেশ মেনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় সকাল ৭টা থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে পুনর্নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026 Repolling)। ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। মগরাহাট পশ্চিম (Magrahat Paschim) কেন্দ্রের ১১টি বুথে এবং ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) কেন্দ্রের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচন চলছে। ফলতার ক্ষেত্রে কোনও সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানায়নি নির্বাচন কমিশন।

    কোথায় কোথায় চলছে পুনর্নির্বাচন

    মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের ১১টি বুথ যেমন উত্তর ইয়ারপুর এফপি স্কুল, নাজরা এফপি স্কুলের দু’টি বুথ এবং একতারা মালয়া এফপি স্কুলের দু’টি বুথের মতো একাধিক বুথে চলছে ভোটগ্রহণ। অন্যদিকে হাই-প্রোফাইল ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচন। বাগদা জুনিয়র হাই স্কুল এবং রায়নগর এফপি স্কুলের মতো বুথগুলিতে ফের লাইন দিয়েছেন ভোটাররা। শনিবার সকাল থেকেই সারিবদ্ধভাবে ভোট দিতে সামিল হতে দেখা গিয়েছে ভোটারদের। ১৫টি বুথে একই চিত্র দেখা গিয়েছে। নির্বিঘ্নেই চলছে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। পুনর্নির্বাচনেও তৎপর কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ। বুথের সামনে কোনও জমায়েত করতে দেওয়া হচ্ছে না। এলাকায় জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন।

    কেন এই পুনর্নির্বাচন

    কমিশন সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এবং পর্যবেক্ষকদের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন এই সব বুথ থেকে গোলমালের খবর এসেছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু বুথে ২৯ এপ্রিলের ভোট বাতিল করা হয়েছে। যাবতীয় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তবেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছেন কমিশন। এখনও ফলতা বিধানসভার কোন‌ও বুথে রিপোলের অর্ডার দেওয়া হয়নি। তবে কমিশন সূত্রে খবর, ফলতার একাধিক বুথে গোলযোগের বিষয় নিয়ে স্ক্রুটিনির রিপোর্ট জমা পড়লে সেক্ষেত্রে তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলতা বিধানসভার প্রায় ৩০টার বেশি বুথের সিসি ক্যামেরা খতিয়ে দেখা হয়েছে। কোথাও ইভিএমে টেপ লাগানো, কোথাও বুথের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আবার কোন‌ও বুথে ১০০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়েছে। এই বিষয়গুলিই একাধিকবার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারপর সেই রিপোর্ট কমিশনের কাছে জমা দেবেন ফলতা বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

  • Assembly Election 2026: ইভিএমে টেপ থেকে বন্ধ ক্যামেরা! ডায়মন্ড হারবার-মগরাহাট-পশ্চিম ফলতায় একাধিক বুথে রিপোলের সুপারিশ

    Assembly Election 2026: ইভিএমে টেপ থেকে বন্ধ ক্যামেরা! ডায়মন্ড হারবার-মগরাহাট-পশ্চিম ফলতায় একাধিক বুথে রিপোলের সুপারিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের (Assembly Election 2026) দিন ফলতায় ইভিএমে টেপ লাগানো শুধু নয় একাধিক বুথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ক্যামেরাও। রিপোল স্ক্রুটিনিতে উঠে আসছে এমনই কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, একাধিক বুথে ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেলেও ওয়েব কাস্টিংয়ের কন্ট্রোল রুমে আসেনি। কারণ, হিসাবে উঠে আসছে নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা। তবে, সূত্রের খবর, নেটওয়ার্কের কারণে কন্ট্রোল রুমে ক্যামেরা বন্ধ সংক্রান্ত কোনও তথ্য আসেনি। ফলতার পাশাপাশি নজরে ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট পশ্চিমও। মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি বুথে পুনর্নিবাচনের প্রস্তাব উঠেছে।

    ফলতায় বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত

    ফলতায় রয়েছে মোট ২৩৮টি বুথ। সূত্রের খবর, বেশ কিছু বুথে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে। অনেক জায়গা থেকেই একাধিক অভিযোগ এসেছিল। সন্ধ্যায় তো গোটা ফলতা বিধানসভাতেই পুনর্নিবাচনের দাবি ওঠে। অভিযোগ এতটাই গুরুতর ছিল যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ফোন পেয়ে পরের দিন সরাসরি সেখানে চলেও যান বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। কমিশনের কর্তা প্রিসাইডিং অফিসারের খাতাও দেখেন। সেখানে দেখা যায় দুপুর ১টা পর্যন্ত তিনি রিপোর্ট পাঠান। সেখানে বলা হয়েছিল ইভিএম থেকে টেপ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বেলা ১টা পর্যন্ত আবার সেখানে প্রায় ৫৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে যায়। অর্থাৎ সেই সময় যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁরা একটি দল ছাড়া আর কোনও অপশন পাননি বলেই মনে করা হচ্ছে। সে কারণেই পুনর্নিবাচনের দাবি জোরালো হচ্ছে। ফলতায় বুথের সংখ্যা প্রায় ৩০টি বলে জানা যাচ্ছে।সবকটিতেই পুনর্নির্বাচন হতে পারে। কারণ, শুরুতেই কমিশন বলেছিল ক্যামেরা যদি কোনওভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, কালো কাপড় দিয়ে দেওয়া হলেই রিপোল হবে।

    সবদিক খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত

    ডামন্ড হারবারের অবজার্ভার ও রিটার্নিং অফিসার চারটি রিপোলের প্রস্তাব দিয়েছেন। এবার রিপোর্ট দেখে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই এগুলি ছাড়াও একাধিক বুথে পুনর্নিবাচনের সুপারিশও করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সুব্রত গুপ্ত বলেন, বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমস্ত ফুটেজ পর্যবেক্ষণ শেষ হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে আগামীকাল সকালেই নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছে যে একাধিক বুথে ইভিএম ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ত্রুটি ও সম্ভাব্য কারচুপি হয়েছে। তাদের দাবি, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং সাধারণ ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। (EVM Tampering) অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। শুধুমাত্র মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রযুক্তিগত প্রমাণ যেমন ওয়েবকাস্টিং ফুটেজ, ইভিএম লগ, এবং পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

  • Assembly Election 2026: কলকাতার ৭টি স্ট্রং রুমের বাইরে ১৬৩ ধারা, ২৪ ঘণ্টা থাকবেন কমিশনের আধিকারিকরা

    Assembly Election 2026: কলকাতার ৭টি স্ট্রং রুমের বাইরে ১৬৩ ধারা, ২৪ ঘণ্টা থাকবেন কমিশনের আধিকারিকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভোট (Assembly Election 2026) শেষ। এবার পালা গণনার। জনমত এই মুহূর্তে ইভিএমে সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোট-পরবর্তী নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে উদ্যোগী হয়েছে নির্বাচন কমিশন। নিরাপত্তা বাড়ছে স্ট্রং রুমের। স্ট্রং রুমের সামনে এ বার ২৪ ঘণ্টা থাকবেন কমিশনের (Election Commission) আধিকারিকরা। নজরদারিতে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার মনোনীত একজন আধিকারিক। এতদিন থাকতেন পুলিশ বা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, স্ট্রং রুমে যে ঢুকবেন তাঁকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিয়ে তবেই ঢুকতে হবে। স্ট্রং রুমের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর যে ঘেরাটোপ রয়েছে, সেখানে বাড়ানো হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা। পাশাপাশি স্ট্রং রুমে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র ১৬৩ ধারাও জারি করা হচ্ছে। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তার জন্য এই তিন পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

    নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনী

    ইভিএম, স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এর আগে ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলেও, কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিকভাবে মোতায়েন করা ২০০ কোম্পানির মধ্যে ছিল ১০০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ২০ কোম্পানি বিএসএফ, ১৫ কোম্পানি আইটিবিপি এবং ১৫ কোম্পানি এসএসবি। প্রতিটি স্ট্রংরুমে ন্যূনতম ২৪ জন কেন্দ্রীয় জওয়ান পাহারায় রয়েছেন। রাজ্যের মোট ২০২টি স্ট্রংরুমে ইভিএম সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেগুলির নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে মোট ৬০৭ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    ৭টি স্ট্রং রুমের বাইরেই ১৬৩ ধারা জারি

    কলকাতার ৭টি স্ট্রং রুমের বাইরেই জারি হয়েছে ১৬৩ ধারা। ৩০ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত জারি থাকবে ১৬৩ ধারা। স্ট্রং রুমের ২০০ মিটারের মধ্যে কোনও জমায়েত করা যাবে না। বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় চার ঘণ্টা শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রং রুমে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মমতা জানান, রাজ্য পুলিশ নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সেটা তাদের দোষ। পুলিশ এখন আর তাঁর হাতে নেই। তার পরেই তিনি অভিযোগ করেন, ‘পোস্টাল ব্যালট এ দিক-ও দিক করা হচ্ছে।’

    ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে বসেছে গার্ডরেল

    ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রং রুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলে তৃণমূলের দুই প্রার্থী ও এজেন্টরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেন। তৃণমূলের জমায়েতের খবর পেয়ে রাতে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে পৌঁছে যান দুই বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠকও। শুক্রবারই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র ঘিরে বসেছে গার্ডরেল। অপ্রয়োজনীয় কোনও ব্যক্তি যাতে ঢুকতে না পারে, কড়া হাতে নিশ্চিত করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সকাল থেকেই কেন্দ্রের বাইরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনী।

    কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কমিশন?

    ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। বিধানসভা অভিযান বা নবান্ন অভিযানে যে ব্যারিকেড ব্যবহার করা হয় সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। তালা এবং শিকল দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বাইরে প্রচুর কলকাতা পুলিশের আধিকারিক ও বাহিনী এবং ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ছেয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি গেট বানানো হয়েছে। এই গেট দিয়ে শুধুমাত্র নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে এজেন্ট ও প্রার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন। তারপর আবার একজন অফিসার কথা বলে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। একমাত্র সার্টিফায়েড রাজনৈতিক নেতাদের প্রবেশের অনুমতি আছে। আর কাউকেই ধরে কাছে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিচয় পত্র ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে আর লিখে রাখা হচ্ছে। স্কুলের ২০০ মিটারের মধ‍্যে স্থানীয়দের গাড়ি ছাড়া অন‍্যদের প্রবেশ নিষেধ রয়েছে। ২০০ মিটারের মধ‍্যে ঢুকতে হলে দেখাতে হচ্ছে পরিচয় পত্র।

    কমানো হল গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা

    গতকালের তৃণমূলের তৈরি করা গণ্ডগোলের থেকে শিক্ষা নিয়ে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা আরও কমিয়ে ফেলছে নির্বাচন কমিশন। আগে ৮৭টি জায়গায় গণনা হওয়ার কথা থাকলেও, নতুন তালিকায় তা কমিয়ে ৭৭টি করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০১৬ সালের নির্বাচনে ছিল ৯০টি এবং ২০২১ সালে ছিল ১০৮টি গণনাকেন্দ্র। কমিশন ইতিমধ্যেই জেলা ভিত্তিক গণনাকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে। রাজ্যে সবচেয়ে বেশি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। সূত্রের খবর, কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫টি ছোট গণনাকেন্দ্রকে একটি বড় কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রেই ১০টি বিধানসভা আসনের গণনা চলবে। পুরো এলাকাতেই সর্বক্ষণ চলবে সিসিটিভি-র নজরদারি। ইতিমধ্যেই গণনাকেন্দ্র ও ইভিএম রাখা স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন।

    তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন

    শুক্রবার সকালে পুরুলিয়া জেলার দু’টি গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনে যান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট নিয়ম মেনে এক্সচেঞ্জ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ম মেনে মেসেজ করা হয়েছে। তারপর রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

  • Suvendu Adhikari: ‘এক্সিট পোলের দরকার নেই, মানুষের ভোটে বিজেপি আসছেই’, মমতাকে স্পষ্ট বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘এক্সিট পোলের দরকার নেই, মানুষের ভোটে বিজেপি আসছেই’, মমতাকে স্পষ্ট বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পরিবর্তনের (Assembly Election 2026) ঢেউ উঠেছে এবং বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে। বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল দেখার প্রয়োজন নেই, প্র্যাকটিক্যাল পোল-এর উপর ভরসা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার, নন্দীগ্রামে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, হিন্দুরা জোটবদ্ধ হয়ে ভোট দিয়েছে এবং মুসলিম ভোটের একটি বড় অংশও (প্রায় ৮ শতাংশ) বিজেপির পক্ষে এসেছে। মানুষ রাজ্যে উন্নয়ন চায়, তাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। ২০১১ সালের থেকেও এবার পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে অনেক বেশি।

    তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নেই

    বুথ ফেরত সমীক্ষা বা তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে তৃণমূলের এজেন্ট খুঁজে না পাওয়া এবং গণনাকেন্দ্রে গণ্ডগোল করার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। শুভেন্দু বলেন, ‘ভবানীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টরা বসতে না চাওয়ায় ছোট ছোট ছেলেদের ২-৩ হাজার টাকা দিয়ে এজেন্ট হিসেবে বসানো হয়েছিল। গণনার দিনও তৃণমূলের লোকই খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইভিএম চুরির আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা তাদের দীর্ঘ ১৫ বছরের পুরনো অভ্যাস যা সহজে যাবে না।’ ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে বুথ ভিত্তিক পর্যালোচনা শেষ করেছে বিজেপি। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, তাঁরা গণনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তৃণমূলের কোনও বাধা কাজে আসবে না।

    কোনওরকম কারচুপি নয় মমতাকে, শুভেন্দু

    দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোটগণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে চার ঘণ্টা ধরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ‘কোনও নিয়ম বহির্ভূত কাজ’ করতে পারেননি মমতা। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘‘ভবানীপুর নির্বাচনী এলাকা-সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোটার ভদ্রমণ্ডলীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, মাননীয়াকে কোনওরকম বাড়তি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।’’ এর পরেই মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দুর ‘আশ্বাসবার্তা’— ‘‘উনি যতই চেষ্টা চালান না কেন, কোনও রকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ তিনি করতে পারেননি। উনি যতক্ষণ স্ট্রংরুম প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন, আমার ইলেকশন এজেন্ট অ্যাডভোকেট সূর্যনীল দাস নিজে উপস্থিত থেকে ওঁকে কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন যাতে উনি কোনও অসৎ উপায় অবলম্বন করতে না পারেন।’’

  • Assembly Election 2026: পালাবদলের দেওয়াল-লিখন পড়ে ফেলেছেন মমতা! তাই কি অজুহাত তৈরি করে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

    Assembly Election 2026: পালাবদলের দেওয়াল-লিখন পড়ে ফেলেছেন মমতা! তাই কি অজুহাত তৈরি করে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটপর্ব মেটার পরে এবার স্ট্রংরুম নিয়ে বিতর্ক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তৃণমূলের ধর্না-বিক্ষোভ এবং বিজেপির পাল্টা জমায়েত নিয়ে সরগরম রইল উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতার দুই গণনাকেন্দ্র। প্রথমে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। তার পরে দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল। স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক গতিবিধির পাশাপাশি নিয়ম না মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজের অভিযোগ তোলা হয় তৃণমূলের তরফে। ভোট গণনা-কেন্দ্রের নিরাপত্তা (Assembly Election 2026) নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের করিডরে বসে যে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছিল, সেই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ই-মেল করে জানানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের অভিযোগ নিয়ে এমনটাই জানাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তাদের তরফে আরও জানানো হয়, স্ট্রংরুমে বিদ্যুৎ সংযোগ রাখা যায় না। আইন মেনে তাই টর্চ নিয়ে কাজ চলছিল। এখনও সেই কাজ চলছে। এই ঘটনা দেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, তাহলে কি পালাবদলের দেওয়াল-লিখন পড়ে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

    নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা

     নির্বাচন কমিশনের পাল্টা দাবি, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের করিডরে বসে যে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছিল, সেই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ই-মেল করে জানানো হয়েছিল। মনোজের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) স্মিতা পাণ্ডে। তিনি বলেন, ‘‘অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারেরা করিডরের মধ্যে বসেই পৃথকীকরণের কাজ করছিলেন। টর্চ লাইট নিয়ে এখনও সেই কাজ চলছে। (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় সব রাজনৈতিক দলকে ইমেইল করে জানানো হয়েছে, বিকেল ৪টে থেকে ওই কাজ শুরু হবে। রিটার্নিং অফিসারদের আমরা বলেছিলাম প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টকে এই বিষয়টি জানাতে। তাই জানানো হয়নি এই অভিযোগ মিথ্যা।’’ সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ভাবে গেলেন, সেই নিয়ে বিধিগত প্রশ্নও তুলেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল।

    বিধিবদ্ধ ভাবেই পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণ করা হচ্ছে

    মনোজের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) স্মিতা পাণ্ডে। তিনি জানান, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। বুধবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটগ্রহণের পরে ইভিএমগুলি স্ট্রংরুমে সিল করা রয়েছে। স্ট্রংরুমগুলি সিল করা এবং বন্ধ রয়েছে। ভিতরে সিসি ক্যামেরা বসানো রয়েছে, তার ফুটেজ বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, বিধিবদ্ধ ভাবেই পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণ করা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী ভোটকর্মীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন। দ্বিতীয় দফার ভোটে সরকারি কর্মচারীরা ট্রেনিং সেন্টারে ভোট দিয়েছেন। সেই পোস্টাল ব্যালটগুলি জমা করে রেখে দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের তরফে স্মিতা আরও জানান, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সাতটি ইভিএমের স্ট্রংরুম রয়েছে এবং একটি পোস্টাল ব্যালটের স্ট্রংরুম রয়েছে। বৃহস্পতিবার সারা রাজ্য জুড়েই বিধানসভা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছে। অন্য বিধানসভার পোস্টাল ব্যালট তাঁদের দেওয়া হবে এবং তাঁদের সাতটি বিধানসভার পোস্টাল ব্যালট তাঁরা নিয়ে নেবেন।

    দক্ষিণে যেতে পারেন, উত্তরে কেন যাবেন?

    তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার রাতে পৌঁছে যান সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে। সেখানে যান কলকাতা বন্দর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমও। স্ট্রংরুম পর্যবেক্ষণের পরে মমতা তৃণমূল প্রার্থীদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার বার্তা দেন। সেই নিয়ে মনোজ বলেন, ‘‘নিয়ম অনুযায়ী ওই স্ট্রংরুমে যে সাতটি আসনের ইভিএম রয়েছে, শুধু সেখানকার প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টরাই যেতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের প্রার্থী। তিনি উত্তর কলকাতার ওই সাতটি আসনের কোনওটিতেই প্রার্থী নন। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে যেখানে স্ট্রংরুম, সেখানে তিনি যেতে পারেন।’’ সিইও আরও বলেন, ‘‘এখানে গন্ডগোলের কোনও সুযোগ নেই। আগামিকাল থেকে গণনাকেন্দ্রগুলিতে যাচ্ছি। সব জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের জন্য একটি প্রোটোকল তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের সার্টিফিকেট দিতে হবে যে, কমিশনের আইন ও নিয়ম মেনে গণনা কেন্দ্রগুলিতে বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে গণনাকেন্দ্রে ১৬৩ ধারা জারি করা হবে। স্ট্রংরুমে যথেষ্ট নিরাপত্তা রয়েছে। যা হচ্ছে সেটা দুর্ভাগ্যজনক। সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’

    দেওয়াল লিখনটা পড়ে ফেলেছেন মমতা!

    ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল এবং শ্যামপুকুরের শশী। তারই মধ্যে মমতা পৌঁছে যান সাখাওয়াতের স্ট্রংরুমে। গিয়েছিলেন ববিও! স্ট্রংরুম পর্যবেক্ষণের পরে মমতা তৃণমূল প্রার্থীদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার বার্তা দেন। এর পরে ভিতরে প্রায় চার ঘণ্টা কাটানোর পরে বাইরে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এমনকি পুলিশের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার এক তৃণমূল প্রার্থীকে মমতা সর্ব ক্ষণ নজরদারি করার নির্দেশ দেন। শৌচকর্মের জন্য বাইরে গেলে তাঁদের বদলে যেন অন্য লোক মোতায়েন থাকেন, তাও বলেন। জল ও খাবারের ব্যবস্থা করে রাখতেও বলেছেন তিনি। আসলে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, ইডির কাছ থেকে যেমনভাবে ফাইল হাতিয়ে নিতে পারেন, সেভাবেই যেকোনও গণনাকেন্দ্রেও পৌঁছে যেতে পারেন ভাবছেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু তাঁর পুলিশ তাঁর হাতে নেই একথা খুবই দুঃখজনক, অভিমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তাহলে কি রাজ্যে পালাবদলের দেওয়াল লিখনটা পড়ে ফেলেছেন মমতা? তাই এত ভয়? তাই কি পোস্টাল ব্যালট কারচুপির ভুয়ো অভিযোগ তুলে গণনাকেন্দ্রে গিয়ে অজুহাত তৈরি করে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো?…

  • Assembly Election 2026: গণনাকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা, কিউআর-ভিত্তিক আইডি চালু করছে নির্বাচন কমিশন

    Assembly Election 2026: গণনাকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা, কিউআর-ভিত্তিক আইডি চালু করছে নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট (Assembly Election 2026) গণনা প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। এবার থেকে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য চালু করা হচ্ছে কিউআর কোড-ভিত্তিক ফটো আইডেন্টিটি কার্ড। গণনা কেন্দ্রে যে কোনও অচেনা ব্যক্তির প্রবেশ বন্ধ করতে কমিশন ‘ECINET’-এ কিউআর কোড-ভিত্তিক ফটো আইডেন্টিটি কার্ড মডিউল চালু করেছে। আগামী সোমবার গণনা। তার আগে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে কমিশন। ২৪ ঘণ্টা ধরে সিসিটিভি-র নজরদারি চলছে। সব দলের সই সম্মতিতে ইভিএম সিল করে দেওয়া হয়েছে।

    কেন এই নতুন পরিচয়-পত্র

    গণনা কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা বাড়াতে কিউআর-ভিত্তিক পরিচয়পত্র ব্যবস্থা চালু করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। গণনা কেন্দ্রগুলিতে কোনও অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশের সম্ভাবনা দূর করতে, নির্বাচন কমিশন ‘ইসিআইনেট’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে একটি কিউআর কোড-ভিত্তিক পরিচয়পত্র চালু করেছে। অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচন এবং ৫টি রাজ্যের ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য আগামী ৪ মে ভোট গণনা হবে। গণনা কেন্দ্রগুলিতে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য একটি ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে রিটার্নিং অফিসার পরিচয়পত্র যাচাই করবেন। এর পরে, কিউআর কোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে সফল যাচাই পর্বের পরেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। কমিশনের মতে, এই উদ্যোগ গত এক বছরে নেওয়া ৩০টিরও বেশি সংস্কারের অংশ। এর আগে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) জন্যও কিউআর কোড-যুক্ত পরিচয়পত্র চালু করা হয়েছিল।

    কারা পাবেন কিউআর পরিচয়-পত্র

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে সব লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। তিন স্তরের নিরাপত্তা শেষ স্তরে কিউআর স্ক্যানের পরেই মিলবে প্রবেশের অনুমতি। নতুন কিউআর কোড-ভিত্তিক পরিচয়পত্রগুলি গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য অনুমোদিত বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য হবে। যার মধ্যে রয়েছেন রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, গণনা কর্মী, কারিগরি কর্মী, প্রার্থী, ইলেকশন এজেন্ট এবং কাউন্টিং এজেন্টরা। অনুমোদিত গণমাধ্যম কর্মীদের সুবিধার জন্য প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের কাছে একটি মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হবে। অনুমোদিত সাংবাদিকদের প্রবেশ আগের মতোই কমিশন প্রদত্ত অনুমতিপত্রের ভিত্তিতেই হবে; তাঁদের জন্য আলাদা কিউআর আইডি চালু করা হচ্ছে না। জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO) এবং রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট চেকপয়েন্টে প্রশিক্ষিত কর্মী মোতায়েন করে যাতে নির্বিঘ্ন ও সুরক্ষিত প্রবেশ নিশ্চিত করা যায়, সেদিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

     

     

     

     

  • Assembly Election 2026: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিশ্রাম নিন, আমরা ১৮০-র বেশি আসন জিতব”, বড় দাবি শুভেন্দুর

    Assembly Election 2026: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিশ্রাম নিন, আমরা ১৮০-র বেশি আসন জিতব”, বড় দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত। ভোটপর্ব (Assembly Election 2026) মেটার পর এমনই দাবি করলেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, বিজেপি (BJP) ১৮০-র বেশি আসন জিতে সরকার গড়বে। ভবানীপুর আসন থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতবেন তিনি। তাঁর কথায়,“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিশ্রাম নিন, আমরা ১৮০-র বেশি আসন জিতব। ভবানীপুরে ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে। হিন্দু ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।”

    ভয় দেখানোর রাজনীতি মমতার

    শুভেন্দুর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও অন্যদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুষ্কৃতীদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছি।” জামাত-এ-ইসলামি সমর্থকরা তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে তাঁকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে একদল দুষ্কৃতী। দ্বিতীয় দফায় হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুর (Bhabanipur) কেন্দ্র। এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই ভবানীপুর কেন্দ্রে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। বুধবার সকাল থেকেই সেই কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে উত্তেজনার ছবি।

    নিজের বুথেই হারবেন মমতা

    শুভেন্দুর দাবি, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড বাদে বাকি সমস্ত ওয়ার্ডেই তিনি লিড পাবেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল (TMC) অশান্তি করার চেষ্টা করলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী তা রুখে দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর সবথেকে বড় দাবিটি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বুথ নিয়ে। তিনি বলেন, “মিত্র ইনস্টিটিউশন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বুথ, সেখানেই উনি (মমতা) অন্তত ২০০ ভোটে হারবেন।” শুভেন্দু আরও জানিয়েছেন, রাজ্যে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) ফলতায় ইভিএমে টেপ আটকে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। সিইও-র সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখতে বলেছেন অমিত শাহ।

  • Assembly Election 2026: ভয়হীন ভোটদান! দুই দফাতেই পড়ল রেকর্ড সংখ্যক ভোট, কোন রাজ্যের রেকর্ড ভেঙে ভারত-সেরা বাংলা?

    Assembly Election 2026: ভয়হীন ভোটদান! দুই দফাতেই পড়ল রেকর্ড সংখ্যক ভোট, কোন রাজ্যের রেকর্ড ভেঙে ভারত-সেরা বাংলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সেরা বাংলা। ভোটদানে (Assembly Election 2026) রেকর্ড গড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ঘোষণা করেছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে এবারই দুই দফার নির্বাচনে রাজ্যে সর্বোচ্চ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের ‘ECINet’ অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৯২.৬৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলায় মোট ভোট পড়েছে ৯২.৯৩ শতাংশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দাবি, স্বাধীনতার পর যত ভোট হয়েছে এবারই রেকর্ড হয়েছে বাংলায়। ভোটদানের এই হার সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

    সারা দেশে ভোটদানে নজির বাংলার

    প্রথম দফাতেই ইঙ্গিত মিলেছিল। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটের হারের রেকর্ড গড়ে ফেলল পশ্চিমবঙ্গ। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের পর এ রাজ্যে রাত ১২টা পর্যন্ত কমিশন ৯২.৬৩ শতাংশ ভোট পড়ার কথা জানিয়েছে। এখনও কমিশনের তরফে চূড়ান্ত ভোটের হার প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান এসেছে, তাতে দেশের এর আগের সমস্ত নজির ভেঙে গিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে রাজ্যে মোট ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৯৩ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয় গত ২৩ এপ্রিল। ভোট পড়েছিল ৯৩.১৯ শতাংশ। সে দিনই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এত ভোট কখনও পড়েনি। দ্বিতীয় দফাতেও ভোটের হারে নজির তৈরি হল।

    কোন রাজ্যের রেকর্ড ভাঙল বাংলা

    এর আগে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড ছিল ত্রিপুরার দখলে। সেখানে ২০১৩ সালে‌ ৯১.৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা এত দিন পর্যন্ত দেশে বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে সর্বোচ্চ ছিল। ১৩ বছর ধরে ওই নজির অক্ষত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের ভোট তা ভেঙে দিল। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বরাবরই ভোট বেশি পড়ে। কমিশনের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৩ সালে নাগাল্যান্ডে ৯১.৫৩ শতাংশ, ১৯৯৫ সালে মণিপুরে ৯১.৪১ শতাংশ, ২০০৮ সালে মেঘালয়ে ৮৮.৯৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে অরুণাচল প্রদেশে ৮২.২৯ শতাংশ, ১৯৯৯ সালে সিকিমে ৮১.৮৩ শতাংশ, মিজোরামে ১৯৮৯ সালে ৮১.৩০ শতাংশ সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল। এসআইআর-এর পর ২০২৬ সালে অসমেও ভোটের হারে নজির তৈরি হয়েছে। সেখানে ভোট পড়েছে ৮৫.৩৮ শতাংশ, এখনও পর্যন্ত ওই রাজ্যের নিরিখে সর্বোচ্চ।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    ভোটের এই পরিসংখ্যান নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। কলকাতার হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তাঁর কেন্দ্রে এবার ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা এই আসনের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। ২০২১ সালে এখানে ৮২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বিগত নির্বাচনে শাসকদল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল, কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশি কড়াকড়ির কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

    অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

    ভোট দানে রেকর্ড গড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এমন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন শেষ কবে দেখেছে পশ্চিমবঙ্গ তা ভেবে বলতে হয়। এইভাবে ভোট করানোই ছিল মূলত নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাছে চ্যালেঞ্জ। ভোটাররা যাতে ভয়হীন ভাবে ভোট দিতে যেতে পারেন, সেই দিকে বারেবারে নজর রেখেছে কমিশন। ভোট শুরুর অনেক আগেই আস্থা জোগাতে বঙ্গে হাজির করানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force)। আর তার ফল মিলল ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল হাতে নাতে।  নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এ বার ৫১ লক্ষ ভোটার কম ছিল। তবে ভোট পড়েছে আগের বারের তুলনায় ৩০ লক্ষেরও বেশি।

    রাজ্যে প্রাণহানি হয়নি, ভয়হীন ভোটদান

    কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, এবারের ভোটে পাঁচ লক্ষ কর্মী কাজ করেছেন। ফলস ভোটিংয়ের অভিযোগ বেশি এসেছে ঠিকই, তবে হিংসা কম হয়েছে। সব থেকে উল্লেখযোগ্য, দুই দফা ভোটেই কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অথচ পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ২৪ জনের প্রাণ গিয়েছিল বাংলায়। আবার তারও পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালে সাত জন নির্বাচনী হিংসার বলি হয়েছিলেন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাটাই শূন্য। এটা যে কমিশনের বড় সাফল্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার ২০২১ সালে ৬৯টি বোমা উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু এবার একটিও বোমা উদ্ধারের খবর নেই। কমিশন বলছে- একটা সময়ে এক শ্রেণির মানুষ ছিলেন যাঁরা ভোট দানে বিরত থাকতেন। তবে অবাধ ভয়হীন ভোটদানের প্রতি মুহূর্তে প্রচারের জন্য এমন হয়েছে তাঁরাও ভোট দিয়েছেন। বুথ থেকে পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া বিশেষ করে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়ার ঘটনা বাংলায় নতুন কিছু নয়, তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে এবার এমন কিছুই হয়নি। একটাও ঘটনা এমন নয় যেখানে পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

    দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট

    কমিশনের পদক্ষেপ নির্বাচনে যাঁরা যাঁরা সমস্যা তৈরি করতে পারেন, তেমন ৬৮৭ জন-কে প্রিভেন্টিভ গ্রেফতার করা হয়েছিল। ব্যাক টেপ-সেলো টেপ, আতর ইত্যাদি অভিযোগ এসেছে মোট ৭৭টি বুথ থেকে। পুনরায় নির্বাচন হবে ফলতার ৩২, মগরাহাটে ১৩, ডায়মণ্ডহারবারে ২৯, বজবজ ৩ বুথে। বাংলার সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে, দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে সাত-আট দফার থেকে। কোনও মৃত্যু হয়নি। বড়সড় কোনও গণ্ডগোল হয়নি। ছোটখাটো তো সব জায়গায় হয়। তবে, এবার পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে।” পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব নজির তৈরি হল এই বিপুল উৎসাহকে ‘ভোটের উৎসব, বাংলার গর্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

    পশ্চিমবঙ্গে এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোটদানের নজির ছিল ২০১১ সালে। ভোট পড়েছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ এবং সেই ভোটে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়েছিল। পরিবর্তনের হাওয়ায় রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। এ বারের পশ্চিমবঙ্গে এই বিপুল সংখ্যক বাড়তি ভোট কোন পক্ষে যায়, সেটাই দেখার।

LinkedIn
Share