Tag: Supreme court

Supreme court

  • Supreme Court to WhatsApp: “নিয়ম মানতে না পারলে ভারত ছাড়ুন”—হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি নীতিতে মেটাকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court to WhatsApp: “নিয়ম মানতে না পারলে ভারত ছাড়ুন”—হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি নীতিতে মেটাকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপের বিতর্কিত প্রাইভেসি নীতি নিয়ে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court to WhatsApp) তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা মেটা। আমেরিকার এই মেসেজিং অ্যাপ সংস্থার গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতি নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করলেন স্বয়ং দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সুপ্রিম কোর্টের তরফে মেটা সংস্থাকে কড়া ভাষায় বলা হয়, ব্যবহারকারীদের তথ্য বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহার করা যায় না।এ দিন, (৩ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মার্কিন সংস্থাকে সতর্ক করে বলেন, “আমাদের দেশের গোপনীয়তা নিয়ে খেলা করতে পারেন না, আমরা নিজেদের তথ্যের একটা ডিজিটও শেয়ার করতে দেব না।”

    গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতির অপব্যবহার হতে পারে

    হোয়াট্‌সঅ্যাপের (WhatsApp Policy) হয়ে সওয়াল করা কৌঁসুলি আদালতে যুক্তি দেন যে, আন্তর্জাতির নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই তাঁরা গোপনীয়তার নীতি তৈরি করেছেন। মেটার তরফে জানানো হয়, সংস্থার অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই তথ্য আদানপ্রদান করা হয়। তবে এই যুক্তি মানতে চায়নি শীর্ষ আদালত। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, বাণিজ্যিক কাজে তথ্য আদানপ্রদান করাকে মান্যতা দেওয়া হবে না। ভারতের গোপনীয়তার নীতি এবং ইউরোপের এই সংক্রান্ত নিয়ম যে অনেক আলাদা, তা-ও স্মরণ করিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। হোয়াট্‌সঅ্যাপের ২০২১ সালের গোপনীয়তার নীতি নিয়ে হওয়া একটি মামলার শুনানি ছিল মঙ্গলবার। সরকারের তরফে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতে সওয়াল করে জানান, হোয়াট্সঅ্যাপের এই গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতির অপব্যবহার হতে পারে। ব্যবহারকারীদের তথ্য হোয়াট্‌সঅ্যাপ কী ভাবে বাণিজ্যিক লাভের জন্য কাজে লাগাচ্ছে, তাও তুলে ধরেন সলিসিটর জেনারেল।

    সংস্থার গোপনীয়তার নথি সাধারণ মানুষ বুঝবে কীভাবে

    মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপের তরফে হাজির আইনজাবী মুকুল রোহতগি ও অখিল সিব্বল বলেন যে হোয়াটসঅ্যাপে সব মেসেজ ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড’ (end-to-end encrypted)। কোম্পানিও এই তথ্য বা মেসেজ দেখতে পায় না। ন্যাশনাল ল ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হোয়াট্‌সঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও। একই সঙ্গে এদিন সেটিও শোনে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। দু’পক্ষের সওয়াল জবাবের পর মেটা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “যদি আপনারা আমাদের সংবিধান মেনে চলতে না-পারেন, তা হলে ভারত ছেড়ে চলে যান। আমরা নাগরিকদের গোপনীয়তার সঙ্গে আপস করতে দেব না।” হোয়াট্‌সঅ্যাপের গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, অনেক বিষয়ই স্পষ্ট নয়। সংস্থার গোপনীয়তার নথি এক জন সাধারণ মানুষ—যিনি কোনও আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন— তিনি বুঝতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্ন তোলে আদালত। হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটা-র নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত বলে, “যদি একজন গরিব মহিলা বা রাস্তার ধারের কোনও বিক্রেতা কিংবা এমন একজন ব্যক্তি যিনি শুধু তামিল বোঝেন, তারা কি এই নীতি বুঝতে পারবেন? কখনও কখনও আমাদেরও সমস্যা হয় আপনাদের নীতি বুঝতে… বিহারের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ কীভাবে বুঝবেন? এটা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি। আমরা এটা অ্যালাও করব না।”

    মেটাকে কী কী বলল সুপ্রিম কোর্ট

    মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানির আগে ব্যবহারকারীর কোনও তথ্য মেটার মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনতে পারবে না হোয়াট্‌সঅ্যাপ। তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে হোয়াট্‌সঅ্যাপ এবং মেটা কর্তৃপক্ষকে বক্তব্য জানানোরও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। শীর্ষ আদালতের তরফে এদিন হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটা-কে ডেটা প্রাইভেসি, বিহেভিওরাল অ্যানালাইসিস এবং ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট হোয়াটসঅ্যাপকে ব্যবহারকারীদের কোনও তথ্য মেটার সঙ্গে ভাগ করতে বারণ করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই মামলার পুরো শুনানি হচ্ছে না, ততদিন পর্যন্ত তথ্য় শেয়ার করতে পারবে না হোয়াটসঅ্যাপ।

    কেন এই মামলা?

    হোয়াটসঅ্যাপ ২০২১ (WhatsApp Policy) সালে একটি প্রাইভেসি পলিসি এনেছিল যেখানে বলা হয়, হয় “মেনে নাও নয়তো বিদায় হও”। সেই সময় হোয়াটসঅ্যাপ তার গ্রাহকদের বাধ্য করেছিল তাদের নতুন শর্তাবলী মেনে নিতে, নয়তো অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছিল। মেটার ওই পলিসির কারণে তাদের উপরে ২১৩.১৪ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল ভারতের ‘কম্পিটিশন কমিশন’ (CCI)। কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (NCLAT) সেই জরিমানার আদেশটিকেই বহাল রাখে। ট্রাইব্যুনালের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

    মেটাকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ

    ওই মামলায় আদালত হোয়াটসঅ্যাপের মাদার কোম্পানি মেটাকে একটি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। যেখানে স্পষ্ট করে বলতে হবে তারা বিজ্ঞাপনের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের কোনো তথ্য শেয়ার করবে না। অন্যথায় তাদের মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে তথ্য শেয়ার করা নিয়ে সিসিআই একটি পাল্টা আপিল করেছিল, যা ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেছে। যদিও এর আগে ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছিল যে কোম্পানিটি তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেনি।

    সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা

    মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court to WhatsApp) এই বিষয়টিকে “সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা বলে বর্ণনা করেছে। আদালতের প্রশ্ন, যখন কোনো নীতি ‘মানলে মানো নাহলে যাও’—এভাবে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন তাকে ব্যবহারকারীদের’স্বেচ্ছায় দেওয়া সম্মতি’ হিসেবে কীভাবে ধরা যায়? বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, এই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মূল সমস্যাটি হল তারা যে সম্মতি আদায় করেছে তা আসলে “তৈরি করা বা কৃত্রিম সম্মতি”। প্রধান বিচারপতি এই বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করেন। বলেন, “যদি হোয়াটসঅ্যাপে একজন চিকিৎসককে মেসেজ পাঠানো হয় যে আপনার সর্দি-কাশি হয়েছে এবং চিকিৎসক আপনাকে কিছু ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আপনি ওই ওষুধের বিজ্ঞাপন দেখতে শুরু করেন।” সরকারের তরফে হাজির সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা হোয়াটসঅ্যাপের এই নীতিকে শোষণমূলক (exploitative) বলেই উল্লেখ করেন। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “যদি আমাদের সংবিধান অনুসরণ করতে না পারেন, তাহলে ভারত ছেড়ে চলে যান। আমাদের নাগরিকদের গোপনীয়তা কোনওভাবে আপোস করতে পারব না।”

     

     

     

  • Union Budget: ফেব্রুয়ারির পয়লা দিনেই বাজেট পেশ, জানুন কারণ

    Union Budget: ফেব্রুয়ারির পয়লা দিনেই বাজেট পেশ, জানুন কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget) সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলির একটি। এই বাজেটেই সরকার জানায়, নয়া অর্থবর্ষে তারা কীভাবে আয় করবে এবং সেই অর্থ ব্যয়ই বা করা হবে কীভাবে (February)। প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করেন। তবে বিষয়টি সব সময় এমন ছিল না। আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বাজেট পেশ করা হত। প্রশ্ন হল, বাজেট পেশের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারিতে কেন পরিবর্তন করা হল?

    ব্রিটিশ আমলের রীতি (Union Budget)

    ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারতে ব্রিটিশ আমলের রীতি অনুসরণ করে ফেব্রুয়ারির শেষ কর্মদিবসে বাজেট পেশ করা হত। কিন্তু সমস্যা হল, ভারতের অর্থবর্ষ শুরু হয় ১ এপ্রিল থেকে। তাই বাজেটে ঘোষিত নতুন নীতি ও করব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রক, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং করদাতাদের হাতে খুব কম সময় থাকত। বাজেট অনুমোদিত হয়ে কার্যকর হতে হতে প্রায়ই নতুন অর্থবর্ষ শুরু হয়ে যেত। এর ফলে বহু সরকারি পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারিত সময়ে চালু করা সম্ভব হত না, সেগুলি রূপায়নে দেরি হত। এই পরিস্থিতি বদলাতে ২০১৭ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি প্রথমবারের মতো ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করেন। এরপর থেকে এই তারিখেই বাজেট পেশ হয়ে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল, নতুন অর্থবর্ষ শুরুর আগে সবাইকে পরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া।

    বাজেট পেশের সময়ও পরিবর্তন

    একইভাবে, বাজেট পেশের সময়ও পরিবর্তন করা হয় (Union Budget)। ঔপনিবেশিক আমল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিকেল ৫টায় বাজেট পেশ করা হত। কিন্তু ১৯৯৯ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা এই সময় পরিবর্তন করে সকাল ১১টা করেন, যাতে গণমাধ্যমে বাজেটের ব্যাপক প্রচার সম্ভব হয় এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ বাড়ে (February)। বাজেট পেশের তারিখ পরিবর্তনের ঘোষণা হওয়ার পরেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (পিটিশন) দায়ের করা হয়। আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, আগাম বাজেট পেশ করলে রাজ্য নির্বাচনের আগে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সরকার জনতুষ্টিমূলক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

    তবে সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, কেন্দ্রীয় বাজেট পুরো দেশের বিষয়, কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের নয়। বেঞ্চের মন্তব্য, “কেন্দ্রীয় বাজেটের সঙ্গে রাজ্যগুলির সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই এবং রাজ্য নির্বাচনের ঘনত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রমে বাধা হতে পারে না (Union Budget)।”

     

  • Supreme Court on SSC: এসএসসি মামলায় বয়সে ছাড় নয় এখনই! হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court on SSC: এসএসসি মামলায় বয়সে ছাড় নয় এখনই! হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (Supreme Court on SSC) মামলায় বয়সে ছাড় নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাঁরা সুযোগ পাননি বা যোগ্য কিন্তু চাকরি পাননি, তাঁরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বয়সের ছাড় পাবেন। এদিকে সোমবার সেই নির্দেশকেই স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ।

    বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ!

    ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court on SSC) জানিয়েছিল, যাঁরা দুর্নীতিতে যুক্ত বা দাগি নন (আনটেন্টেড), তাঁরা বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন এবং নির্ধারিত বয়ঃসীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবেন। এই যুক্তি দেখিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কয়েক জন চাকরিপ্রার্থী। ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তাঁরা ছিলেন না। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগও পাওয়া যায়নি। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে এই নতুন প্রার্থীরা বয়সে ছাড় চেয়েছিলেন। সেই সময় এই মামলার শুনানি হয়েছিল বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে। যার ভিত্তিতে গত ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাঁদের বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরেই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।

    শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ

    সোমবার শীর্ষ আদালত এই মামলার সকল পক্ষকেই নোটিস জারি করেছে। শুধুমাত্র যে সকল যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা কর্মরত অবস্থায় চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই বয়সের ছাড় প্রযোজ্য় রেখেছে শীর্ষ আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৯ মার্চ। তবে পরবর্তী শুনানির আগে সব পক্ষকেই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court on SSC)। এদিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া যোগ্য ও আনসিলেক্টডদের বয়সের ছাড় সংক্রান্ত রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। সুপ্রিম কোর্ট আপাতত শুধুমাত্র চাকরি হারানো প্রার্থীদের বয়সের ছাড়াই বহাল রেখেছে। বাকিদের জন্য বয়সের ছাড় থাকছে না। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আগে সুপ্রিম কোর্টের তরফে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল যে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি করছিলেন, কিন্তু প্যানেল বাতিল হওয়ায় চাকরি চলে গিয়েছে, তাঁরা নতুন পরীক্ষার ক্ষেত্রে বয়সে ছাড় পাবেন। কিন্তু যাঁরা যোগ্য অথচ ওই পরীক্ষায় নির্বাচিত হননি, তাঁদের জন্য বয়সের ছাড়ের কথা বলা হয়নি। সেই কারণেই হাইকোর্টের বয়স সংক্রান্ত ছাড়ের রায়ে স্থগিতদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার রয়েছে কমিশনের, সুপ্রিম কোর্টে জানাল ইসি

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার রয়েছে কমিশনের, সুপ্রিম কোর্টে জানাল ইসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় ভোটার তালিকা তৈরির সময় নাগরিকত্ব যাচাই করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের (ECI) রয়েছে, তবে সেই ক্ষমতা শুধুমাত্র ভোটার তালিকার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এর সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের নির্বাসন বা বহিষ্কারের ক্ষমতার কোনও সংঘাত নেই। সুপ্রিম কোর্টকে (Supreme Court) এ কথাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গুচ্ছের মামলা (ECI)

    এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলায় আবেদনকারীদের মূল যুক্তির জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে, তবে শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নাম তোলার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে কাউকে দেশছাড়া করা হবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, “নির্বাচন কমিশন কেবলমাত্র ভোটার তালিকার উদ্দেশ্যে যাচাই করে দেখবে কোনও ব্যক্তি ভারতের নাগরিক কি না। এর ফল শুধু এতটুকুই হবে যে, তিনি ভোটার তালিকায় নাম তোলার যোগ্য থাকবেন কি না। এর সঙ্গে নির্বাসনের কোনও সম্পর্কই নেই (Supreme Court)।”

    কী বললেন দ্বিদেবী?

    বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে দ্বিবেদী বলেন, সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংসদ ও বিধানসভা নির্বাচন হয় এবং ভোটার হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হল ভারতের নাগরিক হওয়া (ECI)। তিনি জানান, ১৯৪৯ সালে সংবিধান সভা একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল, যেখানে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি ভারতের নাগরিক না হন, তবে তাঁকে কোনও নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। দ্বিবেদী এও বলেন, “ভারতের সংবিধানের আলোকে সংসদীয় আইন ব্যাখ্যা করতে হয়। নাগরিকত্ব যাচাই করার ক্ষেত্রে আমাদের কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।”

    এই বিষয়ে আদালতের বেঞ্চে থাকা বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, “আপনাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব বাতিল করার আগেই নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে। কারণ, নাগরিক নন এমন কেউ ভোটাধিকার পান না (ECI)।” এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে দাবি করা হয়েছে, নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা শুধুমাত্র নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৯(২) ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারেরই রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সেই বিষয়ে কোনও ভূমিকা নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধানের ৩২৪ ও ৩২৬ অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৬ ধারার মাধ্যমেই কমিশনের এই ক্ষমতা এসেছে (Supreme Court)। ৩২৪ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনা ও ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষমতা দেয়, আর ১৬ ধারা অনুযায়ী নাগরিকত্ব-সহ একাধিক কারণে কোনও ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করার অযোগ্য ঘোষণা করা যায় (ECI)। নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকত্ব আইনের ৯ নম্বর ধারা এসআইআর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ ওই ধারা স্বেচ্ছায় বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের কথা বলে, যা এসআইআরের আওতায় পড়ে না। কমিশনের আইনজীবী জানান,  এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব খতিয়ে দেখার মূল লক্ষ্য যারা নাগরিক নয়, তাদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিশ্চিত করা। সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া বা ডিপোর্ট করার অধিকার কমিশনের নেই। তবে, নাগরিকত্ব নিয়ে ন্যূনতম সন্দেহ থাকলে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে না।

    দ্বিবেদীর বক্তব্য

    দ্বিবেদী আরও জানান, সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ১০২ ও ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতা নির্ধারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত নিতে পারেন। একইভাবে ১৯১ ও ১৯২ অনুচ্ছেদে বিধানসভা সদস্যদের ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে অনুরূপ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে (ECI)। আদালত এই (Supreme Court) মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে বৃহস্পতিবার। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে এসআইআর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য মৃত ভোটার বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তবে আবেদনকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের (ECI) মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

     

  • Unnao Rape Case: উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সিংয়ের জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে সিবিআই

    Unnao Rape Case: উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সিংয়ের জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে সিবিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উন্নাও ধর্ষণ মামলায় (Unnao Rape Case) দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সিংয়ের জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আবেদন করেছে সিবিআই। ২০১৭ সালে উন্নাও ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড স্থগিত করে দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। এবার এই হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। ২৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আদালতে পকসো আইনের সুরক্ষা এবং নির্যাতিতার নিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করা ভীষণভাবে প্রয়োজন।

    যাবজ্জীবন কারবাসে কেন স্থগিতাদেশ (Unnao Rape Case)

    সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জেকে মহেশ্বরী এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের নেতৃত্বে তিন বিচারপতি বেঞ্চ ২৯ ডিসেম্বর বিষয়ের শুনানি করতে সম্মত হয়েছেন। আইনের ব্যাখ্যা এবং পকসো আইনের প্রেক্ষিতে যাবজ্জীবন কারবাসের সাজায় স্থগিতাদেশ কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়েই প্রশ্ন তুলবেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীরা। উল্লেখ্য, কুলদীপের মামলাটির (Unnao Rape Case) রায়ে দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, এই মামলায় যৌন অপরাধ ৫ (সি), শিশু সুরক্ষা আইন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৬(২)-মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযক্ত হয়নি। কিন্তু যেহেতু মামলার মূল ভিত্তি নাবালিকা ধর্ষণের মামলা, তাই শিশুদের যৌন হেনস্থার মতো অপরাধের আইনকে আরও শক্তিশালী করতে দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে আর একবার ভেবে দেখার জন্য দেশের শীর্ষ আদালতে আবেদন করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    কুলদীপের আচরণ প্রভাবশালীদের মতো

    নির্যাতিতার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে সিবিআই সতর্ক করে জানিয়েছে যে মূল অভিযুক্ত কুলদীপের (Unnao Rape Case) আচরণ প্রভাবশালীদের মতো। তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় লোকবলের এখনও রমরমা এলাকায়। নির্যাতিতা এবং পরিবারের ওপর ভয় দেখিয়ে সাক্ষীদের প্রভাবিত করার মতো ঘটনা আগেও কয়েকবার দেখা গিয়েছে। তাই মামলাকে হালকাভাবে দেখা উচিত নয়।

    ২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার এক নাবালিকাকে ধর্ষণের (Unnao Rape Case) অভিযোগে কুলদীপ সেঙ্গারকে বিশেষ সিবিআই আদালত দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের শাস্তি ঘোষণা করে। সেই সময় এই মামলাটি বেশ আলোড়ন ফেলে ছিল দেশজুড়ে। তৎকালীন বিজেপি সরকারকে ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছিল। উল্লেখ্য ২০২০ সালে নির্যাতিতার বাবাকে হত্যা সম্পর্কিত আরেকটি পৃথক মামলায় ১০ বছরের কারাবাসের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল কুলদীপকে।

  • Supreme Court: তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম মহিলারা ফেরত পাবেন বিয়ের দেনমোহর, গয়নাও, রায় সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম মহিলারা ফেরত পাবেন বিয়ের দেনমোহর, গয়নাও, রায় সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বিয়ের সময়ে প্রদত্ত মেহের, গয়না, নগদ অর্থ এবং অন্যান্য সব উপহার, তা সে মহিলা নিজে নিন কিংবা তাঁর স্বামীর হাতে তুলে দেওয়া হোক, সেগুলিতে ওই মহিলার পূর্ণ অধিকার। তাই বিবাহবিচ্ছেদ (Muslim Women) হলে অবশ্যই তা তাঁকে ফেরত দিয়ে দিতে হবে। আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট, এই সব জিনিস ওই মহিলার ব্যক্তিগত ও একচ্ছত্র সম্পত্তি। তাই বিবাহবিচ্ছেদ পরবর্তী সময়ে তা ফিরিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক।

    ডিভিশন বেঞ্চের রায় (Supreme Court)

    এ সংক্রান্ত রায়টি দেয় বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং এন কোটিশ্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলাটি ছিল এক মুসলিম মহিলার, যাঁর প্রায় ১৭.৬৭ লাখ টাকার সোনা ও নগদ-সহ অন্যান্য বিবাহ সম্পর্কিত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার দাবি খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বলেছিল, উপহারগুলি সরাসরি কনেকে দেওয়া হয়েছিল নাকি বরকে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়, এই ধরনের সংকীর্ণ ব্যাখ্যা আইন প্রণেতাদের উদ্দেশ্য এবং নারীর মর্যাদা ও সমতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা – দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    রায়ের ভিত্তি

    প্রসঙ্গত, শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছে, তার ভিত্তি হল মুসলিম নারী (বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অধিকার সুরক্ষা) আইন, ১৯৮৬-এর ধারা ৩(১)(ডি)। এখানে বলা হয়েছে, নারীকে বিয়ের আগে, সময়কালে বা পরে যে কোনও উপহার বা সম্পত্তি, তা আত্মীয়, বন্ধু, স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোক যে-ই দিক না কেন, তালাক হওয়ার পরে সেগুলি অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম নারীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। তাই একে এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যাতে লিঙ্গ-ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হয় (Supreme Court)।

    বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ

    বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, দেশের বহু অঞ্চলে, বিশেষত গ্রামীণ ও আধা-শহুর এলাকায় এখনও পুরুষতান্ত্রিক বৈষম্য সমাজের স্বাভাবিক রীতি। এই প্রেক্ষাপটে আদালত উল্লেখ করে, নারীর অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষাকারী আইনগুলিকে যান্ত্রিকভাবে নয়, উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বেঞ্চের মন্তব্য, “নারীর (Muslim Women) সমতা, মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি এই আইনের ব্যাখ্যায় প্রভাব ফেলতে হবে।”

    হাইকোর্টের কড়া সমালোচনা

    কলকাতা হাইকোর্টের কড়া সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, শুধুমাত্র প্রমাণসংক্রান্ত অস্পষ্টতার ভিত্তিতে ওই নারীর দাবি খারিজ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যাখ্যার লক্ষ্যবিন্দু মিস করেছে। কারণ তারা ১৯৮৬ সালের আইনের পেছনে থাকা আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালত ওই মহিলার আবেদন মঞ্জুর করে নির্দেশ দিয়েছে, তাঁর প্রাক্তন স্বামী ছসপ্তাহের মধ্যে হিসাব অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে, প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা বৈবাহিক উপহারের মালিকানা সম্পর্কে পুরুষতান্ত্রিক অনুমানের ভিত্তিতে নারীদের তাঁদের ন্যায্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না (Supreme Court)।

    সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভারতীয় ব্যক্তিগত আইন বিচারব্যবস্থার বিকাশে একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত চিহ্নিত করে। বিবাহ উপহার ও মোহরানা সম্পূর্ণভাবে নারীর অধিকার বলে স্বীকৃতি দিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট মুসলিম নারীদের জন্য বর্তমানে (Muslim Women) থাকা সুরক্ষা কাঠামোকে আরও প্রসারিত করেছে। এটি তাঁদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের সাংবিধানিক অধিকারও সুরক্ষিত রাখবে (Supreme Court)।

     

  • Election Commission: এসআইআর করে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে কমিশন! রাজ্যের অভিযোগ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    Election Commission: এসআইআর করে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে কমিশন! রাজ্যের অভিযোগ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর করে বহু ভোটারের নাম বাদ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন মোদি-বিরোধীরা। এসআইআর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে সেই সব অভিযোগ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। তাদের বক্তব্য, বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের (Supreme Court) নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ অতিরঞ্জিত। কমিশন আরও জানিয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এই ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে। বিষয়টি অনুমান ছাড়া আর কিছুই নয়।

    এসআইআর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ (Election Commission)

    পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর এসআইআর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল, ডিএমকে, সিপিএম এবং কংগ্রেসের বাংলা শিবির। বিরোধী দলগুলির সেই আবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের বক্তব্য হলফনামা আকারে জমা দিতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ। সেই মামলায় পৃথক হলফনামা দাখিল করে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি খারিজ করার আবেদন জানান কমিশনের সচিব পবন দিওয়ান। গত ২৬ নভেম্বর সাংসদ তৃণমূলের দোলা সেন এবং অন্যদের দাখিল করা আবেদনের প্রেক্ষিতে ৮১ পাতার হলফনামা দিয়েছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, বিপুল পরিমাণে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ রাজনৈতিক স্বার্থপূরণের উদ্দেশ্যেই। হলফনামায় কমিশন আরও জানিয়েছে, এসআইআর কোনও নতুন প্রক্রিয়া নয়। ভোটার তালিকায় যাতে কোনও সমস্যা না থাকে তা দেখার দায়িত্ব কমিশনেরই। বহু বছর ধরেই এই প্রক্রিয়া চলছে। ভারতের সংবিধানও কমিশনকে সেই অধিকার দেয় (Election Commission)।

    হলফনামায় পশ্চিমবঙ্গের নাম

    আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় পশ্চিমবঙ্গের নাম আলাদা করে উল্লেখ করেছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, বাংলায় ইতিমধ্যেই ৯৯.৭৭ শতাংশ ভোটারের কাছে এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছে গিয়েছে (Supreme Court)। তার মধ্যে ৭০.১৪ শতাংশ ফর্ম পূরণের পর ফেরতও চলে এসেছে। বুথ লেভেল আধিকারিকরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন। পরে ফর্ম পূরণের পর তা সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছেন কমিশনের কাছে। কোনও বাড়িতে কেউ না থাকলে, বিএলওরা সেখানে তিনবার করে যাচ্ছেন। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও বৈধ ভোটারের নামই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। কমিশন তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। এসআইআর প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়িত এবং কোনও বৈধ ভোটারের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ না পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টা করছে কমিশন।

    নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য!

    হলফনামায় কমিশন বার বার দাবি করেছে, বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে তোলা হচ্ছে। বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে পরিবেশন করার চেষ্টা চলছে (Election Commission)। আর এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। কমিশনের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার বদলে হাঁটছে সমালোচনার পথে। কমিশনের আইনজীবীর অভিযোগ (Supreme Court), রাজনৈতিক দলগুলি বিএলওদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করছে। তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এদিন আদালতের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এর আগে দেশে এসআইআর হয়নি এই যুক্তি দেখিয়ে একাধিক রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়া চালানোর সিদ্ধান্ত বৈধ কিনা, তা পরীক্ষা করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ৬ নম্বর ফর্মের শুদ্ধতা নির্ণয় করার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কোনও ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে গেলে তাঁকে নিজেকে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে হয়।

    আধার কার্ড নাগরিকত্বের সার্বিক প্রমাণ নয়

    দেশের শীর্ষ আদালত ফের একবার জানিয়ে দিয়েছে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের সার্বিক প্রমাণ নয়। তাই আমরা বলেছি, প্রামাণ্য নথিগুলির মধ্যে অন্যতম নথি এটি। কিন্তু কারও নাম বাদ গেলে কেন নাম বাদ দেওয়া হল, সে সংক্রান্ত নোটিশ দিতে হবে। বেঞ্চ বলে, “কিছু সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য আধার কার্ড তৈরি করা হয়েছিল। কোনও (Election Commission) ব্যক্তিকে রেশন পাওয়ার জন্য আধার কার্ড দেওয়া হয়েছে। তাহলে কি শুধু সেই কারণেই তিনি ভোটার হবেন? এমনও তো হতে পারে, কেউ প্রতিবেশী দেশের নাগরিক এবং তিনি এখানে একজন শ্রমিকের কাজ করেন।” আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, “আপনারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন পোস্ট অফিস। যেখানে ৬ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়া হবে এবং তারা আপনার নামটি নথিভুক্ত করবে।” এর পরেই বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, নির্বাচন কমিশনের সব সময় এই সাংবিধানিক এক্তিয়ার রয়েছে (Supreme Court), তারা নথিটি সত্য কি না, তা যাচাই করতে পারে (Election Commission)।

  • Supreme Court: ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    Supreme Court: ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি (Waqf Boards) রেজিস্ট্রি করার জন্য নির্ধারিত ছ’মাসের আইনগত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ১ ডিসেম্বর, সোমবার ওই আবেদন প্রত্যাহার করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। ফলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ডিজিটালাইজেশন বিলম্বিত করার দায় ফের বর্তেছে ওয়াক্‌ফ বোর্ডগুলির ওপরই। এদিন বিচারপতি দিব্যঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অতিরিক্ত সময় চাইলে আবেদনকারীদের সুপ্রিম কোর্ট নয়, ওয়াক্‌ফ ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হবে। অনলাইন রেজিস্ট্রির শেষ তারিখ ৬ ডিসেম্বরই থাকছে।

    আদালতের বক্তব্য (Supreme Court)

    আদালত বলেছে, “যেহেতু আবেদনকারীদের জন্য প্রতিকার পাওয়ার পথ ওয়াক্‌ফ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই রয়েছে, তাই তারা ৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই সেখানে আবেদন করতে পারেন।” বেঞ্চ এও জানিয়ে দিয়েছে, ধারা ৩বি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য স্পষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে। প্রযুক্তিগত সমস্যা বা প্রক্রিয়াগত বাধা থাকলে সেগুলি ট্রাইব্যুনালের সামনে উত্থাপন করা যাবে, এবং ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন অনুসারে প্রতিটি মামলায় পৃথকভাবে সমাধান সূত্র দিতে পারে।

    পোর্টালে বহু প্রযুক্তিগত ত্রুটি

    এদিন কপিল সিব্বল-সহ একাধিক প্রবীণ আইনজীবী দাবি করেন, ইউএমইইডি ডিজিটাল পোর্টালে বহু প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে। সেখানে শুনানির সময় বারবার উঠে এসেছে যে ওয়াক্‌ফ বোর্ডগুলির বহু দিনের দুর্বল নথিপত্র ব্যবস্থা এবং ধীরগতির ডিজিটালাইজেশনই প্রকৃত সমস্যা। সিব্বল স্বয়ং স্বীকার করেন, “ডিজিটাইজেশন হতে ১১ বছর লেগে গিয়েছে, গ্রামীণ সম্পত্তিগুলি ডিজিটাইজড নয় এবং মানুষ প্রতিদিন চেষ্টা করছে, অথচ তারা আপলোড করতে পারছে না।” এই সব ব্যর্থতার জন্যই হাজার হাজার মুতাওয়াল্লি এবং উপকারভোগীরা শেষ মুহূর্তে বিপদের মুখে পড়েছেন। কারণ বছরের পর বছর নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও বোর্ডগুলো মৌলিক নথিপত্রও আধুনিকায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে (Supreme Court)।

    প্রবীণ আইনজীবীর বক্তব্য

    প্রবীণ আইনজীবী এমআর শামশাদ বলেন, “ওয়াক্‌ফ বোর্ডগুলো ইতোমধ্যেই নথিভুক্ত সম্পত্তির বিবরণ রাখে। তবুও তাদের পুরনো সিস্টেম এবং ভাঙা-ভাঙা ডকুমেন্টেশন এত বড় পরিসরে পোর্টালে আপলোড করা প্রায় অসম্ভব।” বোর্ডের অক্ষমতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, রেকর্ড আপডেট করা, সম্পত্তি মানচিত্রায়ন করা, সীমানা যাচাই করা, ইজারা বা লিজ ট্র্যাক করা এবং মুতাওয়াল্লিদের শনাক্ত করা। এর ফলে এখন বিশাল প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে (Waqf Boards)।

    সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আবেদনকারীদের যুক্তির প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি রেজিস্ট্রি প্রায় এক শতাব্দীর পুরনো বাধ্যবাধকতা, এবং বোর্ডগুলোর রেকর্ড সঠিকভাবে তৈরির জন্য প্রচুর সময় ছিল।”

    প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই সেপ্টেম্বরে বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রি স্থগিত করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা এও বলেছিল, আগের আইনেও রেজিস্ট্রি ব্যবস্থা ছিল। অতএব, বর্তমান সংকট হঠাৎ কোনও নিয়ন্ত্রক চাপের ফল নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক গাফিলতির প্রতিফলন (Supreme Court)।

    জিও-ট্যাগিং, জিআইএস ম্যাপিং, ডিজিটাল তালিকা এবং জন-স্বচ্ছতার সরঞ্জাম-সহ ইউএমইইডি পোর্টাল বহু দশকের অস্বচ্ছ ও দুর্ব্যবস্থাপিত ওয়াক্‌ফ প্রশাসনের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল। কিন্তু, বোর্ডগুলোর প্রস্তুতির অভাবে এই বাস্তবায়ন শেষ মুহূর্তের হুড়োহুড়িতে পরিণত হয়েছে।

  • Supreme Court: রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালকে বিলের ক্ষেত্রে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না, অভিমত সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালকে বিলের ক্ষেত্রে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না, অভিমত সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিল অনুমোদনে রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আদালতের কাজ নয়। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়েছে, রাজ্যপাল কোনও বিল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারেন না। হয় সেটাতে সম্মতি দিতে হবে। নয় বিধানসভায় ফেরত পাঠাতে হবে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, সংবিধান ইচ্ছাকৃতভাবেই কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা রেখেছে, আর সেই জায়গায় সময়সীমা চাপিয়ে দেওয়া হলে সেই নমনীয়তায় ব্যাঘাত ঘটবে। তাতে রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হবে।

    কী বলল শীর্ষ আদালত

    রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের কাছে কোনও বিল পাঠানো হলে তাঁদের কী করা উচিত, এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন উঠছিল। তামিলনাড়ুর করা মামলার রায়ে সেই বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, লোকসভা বা বিধানসভা থেকে পাশ হওয়া বিলগুলিতে সম্মতি দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালদের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া যায় না ৷ একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যপালরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বিল আটকে রাখতে পারেন না ৷ এটা আদতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি লঙ্ঘন করার সামিল। প্রধান বিচারপতি বিআর গভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি সুর্যকান্ত, বিক্রম নাথ, পিএস নরসিমহা ও এএস চন্দরকর। ‘প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স’ মামলায় বৃহস্পতিবার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া, ক্ষমতা পৃথকীকরণকে অসম্মান করার সামিল ৷ শীর্ষ আদালত এও জানিয়েছে, ২০০ এবং ২০১ অনুচ্ছেদ আদতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই ভারসাম্য রক্ষার জন্যই তৈরি করা হয়েছে ৷ ফলে সময়সীমা আরোপ করলে এর বিপরীত অবস্থানে যাওয়া হবে।

    কী করবেন রাজ্যপাল

    কোনও বিল রাজ্যের আইনসভায় পাশ হওয়ার পর রাজ্যপালের কাছে গেলে, তাঁর কী করণীয়, তা ব্যাখ্যা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত জানায়, রাজ্যপালের সামনে তিনটি সাংবিধানিক বিকল্প রয়েছে। ১) বিলটিতে সই করা, ২) সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো, ৩) সম্মতি না-দিয়ে বিলটি বিধানসভায় ফেরত পাঠানো। একই সঙ্গে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছে, এই তিনটি বিকল্পের মধ্য থেকে কোনটি বেছে নেবেন— এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্যপালই। এটি আদালতের বিবেচনার বিষয় নয় বলে জানায় সাংবিধানিক বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি গভাই বলেন, “রাজ্যপালকে কত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই সময়সীমাও আদালত নির্ধারণ করে দিতে পারে না।” একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি তাঁদের কাজ কী ভাবে করছেন, তা আদালতের বিচারযোগ্য নয়। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে কোনও পদক্ষেপ না-করা, অনির্দিষ্ট কাল ধরে বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব করা এবং সেটির কোনও ব্যাখ্যা না দেওয়া—এই সমস্ত ক্ষেত্রে আদালত সীমিত নির্দেশ দিতে পারে, যাতে তাঁরা দায়িত্ব পালন করেন।

    কী করতে পারে আদালত

    বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে শীর্ষ আদালত জানায়, রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের কাজের উপর সাধারণ ভাবে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ করা যায় না। তবে দীর্ঘ দিন ধরে নিষ্ক্রিয়তা থাকলে সাংবিধানিক আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে জানিয়েছে সাংবিধানিক বেঞ্চ। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৩ উদ্ধৃত করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কোনও বিল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে রাষ্ট্রপতিকে প্রতি বার শীর্ষ আদালতের মতামত চাইতেই হবে— এমন বাধ্যবাধকতা নেই। অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুসারে সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের ক্ষমতা পূরণ করতে পারে না বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বিল আইনে পরিণত না হলে, রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

    কোন প্রক্ষিতে এই অভিমত

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এ বছরের মে মাসে সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি রেফারেন্স পাঠিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, কোনও আদালত কি রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতিকে রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিতে পারে? বিশেষত তামিলনাড়ুর রাজ্যপালকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই রাষ্ট্রপতির এই প্রশ্ন ছিল। সংবিধানের ১৪৩ ধারা প্রদত্ত বিশেষ অধিকার বলে শীর্ষ আদালতের রায় নিয়ে ১৪টি প্রশ্ন তুলে দেন তিনি। যার ফলে ওই রায় পর্যালোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স বেঞ্চ তৈরি হয়। বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলে সম্মতি দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতির জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়ে রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট । তার পরেই এই বিষয়ে রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ব্যাখ্যা করতে শীর্ষ আাদালতের সামনে ১৪টি প্রশ্ন পাঠিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। এ ব্যাপারে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির থেকে মতামত নেওয়ার পর গত জুলাই মাস থেকে প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স মামলার শুনানি চলছিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চে ৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিল, তারা রাজ্যপালকে বিল সইয়ের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিরোধী।

  • Supreme Court: স্কুল, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, স্টেশন চত্বর থেকে সরাতে হবে সব পথকুকুর, বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: স্কুল, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, স্টেশন চত্বর থেকে সরাতে হবে সব পথকুকুর, বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পথকুকুরদের নিয়ে বড় নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, খেলাধুলোর মাঠ, রেল স্টেশন থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে নিতে হবে। এই সমস্ত জায়গায় যেসব কুকুরগুলি (Stray Dogs) থাকে তাদের ডগ শেল্টারে পাঠাতে হবে। পথকুকুরদের কামড়ে দিন দিন জনবহুল এলাকায় জলাতঙ্ক রোগের একটা বিরাট প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলিতে দৈনিক রোগী ভর্তির সংখ্যাও উত্তরোত্তর বাড়ছে। বছরে শহরাঞ্চলে জলাতঙ্কে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যাও প্রচুর। তাই সামাজিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই নির্দেশ বলে মনে করছেন সমাজকর্মীদের একাংশ।

    সরানোর পর যেন ফেরত না আনা হয় (Supreme Court)

    শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালতের (Supreme Court) তরফে পথকুকুর মামলায় একটি শুনানিতে বলা হয়েছে সমস্ত জনবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি থেকে কুকুরদের সরিয়ে নিতে হবে। হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দ্রুত সরাতে হবে কুকুর। আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যেই এই পথকুকুরদের ব্যবস্থা করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহেতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বিশেষ বেঞ্চ এই পথকুকুরদের সম্পর্কে স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি করেছেন। বিচারপতিরা সহমত হয়ে নির্দেশ দেন, যেসব জায়গা থেকে কুকুরদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সেখানে যেন আবার ফিরিয়ে না আনা হয়। কুকুরদের শেল্টার পয়েন্টে রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, সরকার পক্ষকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। সমস্ত কাজের খতিয়ান নির্দেশমতো অ্যামিকাস ক্যুরির (আদালত বন্ধু) মাধ্যমে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে।

    নজরদারি রাখার বিশেষ টিম গঠন

    সম্প্রতি রাজস্থান হাইকোর্ট জাতীয় সড়ক এবং রাজ্য সড়কের এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গরু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি আধিকারিক, পুরসভা, সড়ক, পরিবহণ দফতর এই নির্দেশ পালন করবে। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) এদিন রাজস্থানের নির্দেশকে দৃষ্টান্ত রেখে নির্দেশ দেয় সমস্ত কেন্দ্র শাসিত এবং রাজ্য শাসিত অঞ্চলে জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং যত্রতত্র ঘোরাঘুরি করা গরুদের দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। পশু রাখার নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে হেল্প লাইন নম্বর দিতে হবে। প্রয়োজনে হাইওয়ে নজরদারি রাখার বিশেষ টিম গঠন করতে হবে। রাজ্যের মুখ্যসচিবদের প্রত্যক্ষ ভাবে নজরে রাখতে হবে।

    সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছে বেঞ্চ জানিয়েছে, এলাকা থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে নিয়ে অ্যানিমাল বার্থ কন্ট্রোল রুল অনুযায়ী, ভ্যাক্সিনেশন এবং স্টেরিলাইজেশন দিয়ে দূরে ডগ শেল্টারে পাঠাতে হবে। পাঠানোর সম্পূর্ণ দায় স্থানীয় প্রশাসনের৷ তবে সমস্ত এলাকা থেকে পথকুকুরগুলিকে নিয়ে যাওয়ার পরে, তাদের ওই সমস্ত জায়গায় আবার কোনও ভাবেই ফিরিয়ে নিয়ে আসা যাবে না৷ আর এমনটা করলে এই সমস্ত এলাকা থেকে পথকুকুর সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যটাই ব্যর্থ হবে৷ তাই নির্দেশ অমান্য করা যাবে না।

    র‍্যাবিসে আক্রান্ত কুকুরগুলিকে ছাড়া হবে না

    উল্লেখ্য চলতি বছরের জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) দিল্লি এবং এনসিআর লাগোয়া এলাকা থেকে সমস্ত পথকুকুরদের সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। কুকুরদের যথাস্থানে রাখার যেমন নির্দেশ দেওয়া হয়, ঠিক একই ভাবে বেশ কিছুকে হত্যার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই রায়ের পর ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। এরপর রায় পুনর্বিবেচনা করে বলা হয় পথকুকুরদের টিকাকরণ এবং নির্বীজকরণ করতে হবে এবং তাদের সরিয়ে ফেলতে হবে। তবে যে কুকুরগুলি র‍্যাবিসে আক্রান্ত বা হিংস্র তাদের ছাড়া হবে না। তাদের শেল্টারে রাখতে হবে। কুকুরকে যেখানে সেখানে খাওয়ানো যাবে না। কুকুরকে খাওয়াতে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। নিয়ম না মানলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ কড়া হবে। কুকুর নিয়ে কোনও রকম অবহেলাকে মেনে নেওয়া হবে না।

    তবে পথকুকুর (Stray Dogs), গৃহহীন পশুদের নজরদারিতে এবং যত্নে কোনও খামতি রাখা যাবে না। তাদের জন‍্য প্রয়োজনীয় সবরকম ব‍্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সব রাজ‍্য এবং কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের মুখ‍্য সচিবদের ৮ সপ্তাহের মধ‍্যে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিতে হবে। তবে এই রায়ে কুকুরপ্রমীরা কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন। অপর দিকে পরিবেশ এবং সমাজকর্মীদের মতে জনস্বাস্থ্যকে মাথায় রেখে সব দিকগুলিকে খতিয়ে দেখা ভীষণ দরকার।

LinkedIn
Share