Tag: Suprim Court

  • I-PAC: “মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করলে ইডি কোথায় যাবে”? মমতার আইনজীবীকে তোপ সুপ্রিমকোর্টের

    I-PAC: “মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করলে ইডি কোথায় যাবে”? মমতার আইনজীবীকে তোপ সুপ্রিমকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর আইনি সংঘাত এক নতুন মোড় নিয়েছে। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করা এই সংস্থার বিরুদ্ধে ইডির তদন্ত এবং তা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের সওয়াল-জবাব এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। মমতার আইনজীবী কপিল সিব্বালের মন্তব্য, “আদালত কি এখনই ধরে নিচ্ছে যে মুখ্যমন্ত্রী অপরাধী।” পাল্টা বিচারপতিদের বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করলে ইডি কোথায় যাবে? তীব্র বাক বিতণ্ডায় উত্তাল সুপ্রিমকোর্ট।”

    অনুচ্ছেদ ৩২-এর অপব্যবহারের যৌক্তিকতা (I-PAC)?

    আইপ্যাক মামলায় রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও পার্টি বা পক্ষ করেছিল ইডি। তখন রাজ্য পুলিশের ডিজি ছিলেন রাজীব কুমার। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। বিচারপতি (Supreme Court) পি কে মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা চলছে। শুনানিতে একদিকে যেমন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকদের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল কেন্দ্রের এক্তিয়ার এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-এর অপব্যবহার নিয়ে জোরালো সওয়াল করেছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্যে উত্তাল হয়ে ওঠে আদালত চত্বর।

    তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলী হিসেবে পরিচিত সংস্থা আই-প্যাকের (I-PAC) বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি। এই তদন্তের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।

    ইডির কি মৌলিক অধিকার নেই?

    বিচারপতি (Supreme Court) পি কে মিশ্র ইডির আধিকারিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও অধিকারের বিষয়টি শুনানির সময় তুলে ধরেন। রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী বারবার বলছিলেন যে ইডি একটি সরকারি সংস্থা এবং সংস্থার কোনও মৌলিক অধিকার নেই। আর তখন বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন— যারা তদন্ত করতে গিয়ে বাধার (I-PAC) সম্মুখীন হয়েছেন বা আক্রান্ত হয়েছেন, সেই আধিকারিকদের কি কোনও মৌলিক অধিকার নেই? বিচারপতি মিশ্র স্পষ্টভাবে বলেন, “আপনারা শুধু ইডি নিয়ে কথা বলছেন, কিন্তু সেই আধিকারিকদের কথা ভুলে যাচ্ছেন যারা এই ঘটনায় মামলার আবেদন করেছেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কি প্রতিকার চাইতে পারেন না?”

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    এই মামলাটি কেবল একটি আইনি লড়াই নয়, বরং তৃণমূল বনাম বিজেপি-র রাজনৈতিক লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন, আইনি প্রক্রিয়ার আড়ালে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে বিরোধী কণ্ঠরোধে ব্যবহার করা হচ্ছে। আই-প্যাককে (I-PAC) নিশানা করে আসলে বাংলার শাসক দলের নির্বাচনী পরিকাঠামোকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। অপর দিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষে যুক্তি, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তকে প্রভাবিত করছেন। দুর্নীতির তদন্তকে প্রভাবিত করে আসল অপরাধীদের আড়াল করতে চেয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর

    রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই মামলাকে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করা হয়েছে। সিব্বলের যুক্তি, কোনও অপরাধ যদি রাজ্যের সীমানার মধ্যে ঘটে, তবে তদন্তের (I-PAC) প্রাথমিক দায়িত্ব সেই রাজ্যের পুলিশের। তদন্তে গাফিলতি প্রমাণিত হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর এভাবে সরাসরি হস্তক্ষেপ রাজ্যের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে খর্ব করে।

    অপর দিকে বিচারপতি (Supreme Court) এন ভি অঞ্জারিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি বলেন, “মৌলিক অধিকার সবসময় কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে হবে, এমন নয়। আইনের শাসন নিজেই একটি মৌলিক নীতি। যদি সেই নীতি লঙ্ঘিত হয়, তবে আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।”

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ সমস্ত পক্ষের যুক্তি শোনার পর মামলাটি খতিয়ে দেখছেন। তদন্তের ওপর অন্তর্বর্তী কোনো স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে কি না, বা ইডির ক্ষমতা কতটুকু কার্যকর থাকবে, তা আদালতের পরবর্তী রায়ের ওপর নির্ভর করছে। আইপ্যাক মামলার শুনানি এদিনের মতো শেষ। পরবর্তী শুনানি ১৪ এপ্রিল।

  • West Bengal SIR: তৈরি ২০২ লগ ইন আইডি, প্রায় ৫০ লক্ষের নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু বিচারকদের

    West Bengal SIR: তৈরি ২০২ লগ ইন আইডি, প্রায় ৫০ লক্ষের নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু বিচারকদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তিগত সমস্যা কাটিয়ে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতির নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের নিযুক্ত বিচারকরা। সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে এই কাজ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারকরা ভোটারদের তথ্যগত অসঙ্গতির (Logical Discrepancy) বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে তা নিষ্পত্তি করবেন। কাজ শুরুর সময়ে ওটিপি সংক্রান্ত কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তা অনেকটাই এখন মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে। মুখ্যনির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (Election Commission) এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।

    বিচারকদের বুঝিয়ে দিয়েছে কমিশন (SIR)

    কমিশন সূত্রে খবর, বিচারকদের জন্য এখনও পর্যন্ত ২০২ লগ-ইন আইডি তৈরি করা হয়েছে। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। হাতে সময় মাত্র চারদিন। এখন ৭০ লক্ষ মানুষের তথ্য কীভাবে যাচাই করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিদিনের কাজে এসআইআর সম্পর্কে অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আসার পর থেকেই দফায় দফায় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক, মুখ্যসচিব-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন প্রধান বিচারপতি। রবিবারও ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। কী কী কাজ (SIR) করতে হবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো কোন কোন নথি যাচাই করতে হবে এই সব তথ্য বিচারকদের বুঝিয়ে দিয়েছে কমিশন (Election Commission)। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জুডিশিয়াল অফিসাররাও।

    ২৪০ জন বিচারককে নিয়োগ

    হাইকোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, সময় নষ্ট না করে নথি যাচাই এবং নিস্পত্তি করণের কাজ দ্রুত করতে হবে। এখনও পর্যন্ত অনেক কাজ বাকি রয়েছে। এই সময়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন। নাগরিকত্ব আদালত ঠিক করবে না কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কাজ হবে। ইতিমধ্যে বিধানসভা-ভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বিচারকদের। ভোটার তালিকা (Election Commission) থেকে কাদের নাম বাদ যাবে, কাদের নাম থাকবে-সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যাবতীয় নথি ‘বিচার’ করে দেখবেন তাঁরা। ২১ ফেব্রুয়ারি ওই কাজের জন্য প্রাথমিক ভাবে ২৪০ জন বিচারককে নিয়োগ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

    ৫০ লক্ষ যাচাইকরণ বাকি

    কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৫০ লক্ষের কাছাকাছি ভোটারের তথ্য যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলোই করবেন বিচারকেরা (SIR)। রাজ্যের অ্যাডভকেট জেনারেল বলছেন, ‘‘অন্য রাজ্যে বাংলার বাড়ি সমগোত্রের তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এই রাজ্যে তা অবৈধ বলা হয়েছে। এসআইআরে কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি নথির বাইরে অন্য নথি গ্রহণ না করলে অনেক যোগ্য ভোটারের নাম বাদ চলে যাবে। এটা সঠিক পদ্ধতি নয়। এই সব ভোটারদের আরও সুযোগ দেওয়া হোক।’’ অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী বলেন, “অন্য রাজ্যের সঙ্গে এই রাজ্যের তুলনা ঠিক নয়। এখানকার পরিস্থিতি আলাদা। বাংলার বাড়ি সহ ওই ধরনের নথি গ্রহণ করা সঠিক কাজ হবে না।”

    মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার

    অপর দিকে জুডিশিয়াল অফিসারদের অনেকে মালদা, মুর্শিদাবাদ জেলায় কতটা ভয় মুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কমিশনের সূত্রে জানানো হয়েছে, স্পর্শকাতর এলাকায় প্রয়োজনে নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যে কয়েক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তাদের ব্যবহার করা যেতে পারে।” মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Election Commission) মনোজ আগরওয়াল বলেছেন, “সোমবার বৈঠকে সকল বিচার বিভাগীয় অফিসারদের অনলাইন পোর্টাল (SIR) নিয়ে প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে গিয়েছে। ওটিপি নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল, তাও মিটে গিয়েছে।”

    তৃণমূল অবৈধ ভোটারদের পক্ষে

    রাজ্যে এসআইআরকে নিয়ে প্রথম থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনকে অসহযোগিতা করছে বলে  অভিযোগ করছে বিজেপি। পর্যাপ্ত পরিমাণে সরকারি বি-গ্রুপের আধিকারিকদের দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি মমতা সরকার। অন্যদিকে, বিএলও-দের নানা সময়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল সরকার অবৈধ ভোটার, অনুপ্রবেশকারী, বাংলাদেশি মুসলমান, রোহিঙ্গাদের পক্ষে কাজ করছে। তাই ভোট ব্যাঙ্কে যাতে কোপ না পরে তাই নিয়ে তৃণমূল সাংবিধান এবং দেশকে বিপদের দিকে ঢেলে দিচ্ছে।

  • UGC: ইউজিসি-র ‘ইকুইটি’ নিয়মে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, “ক্যাম্পাসে ভারতের ঐক্য প্রতিফলিত হওয়া উচিত”

    UGC: ইউজিসি-র ‘ইকুইটি’ নিয়মে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, “ক্যাম্পাসে ভারতের ঐক্য প্রতিফলিত হওয়া উচিত”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Suprim Court) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) ২০২৬ সালের নতুন ‘ইকুইটি’ (সাম্য) সংক্রান্ত সার্কুলেশনের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন পরিবেশ থাকা উচিত, যা ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে তুলে ধরে। তাই বৈষম্য নয় সাম্যের বিষয়ে কোনও আপোষ থাকা উচিত নয়।

    পুরানো নিয়ম বহাল (UGC)

    ইউজিসির (UGC) নতুন ২০২৬ সালের নিয়মাবলি স্থগিত করে আদালত জানিয়েছে, আপাতত ২০১২ সালের ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হবে। যাতে কোনো অভিযোগকারী প্রতিকারহীন না থাকেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।

    বিভাজনমূলক আশঙ্কার ওপর গুরুত্ব

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছেন, নতুন সার্কুলেশনের ভাষা অস্পষ্ট এবং অপব্যবহার হতে পারে। আদালত সতর্ক করে বলেছে, “এই নিয়মগুলো সমাজকে বিভক্ত করতে পারে এবং দেশের ওপর এর বিপজ্জনক প্রভাব পড়তে পারে।”

    জাতপাতহীন সমাজের লক্ষ্য

    আদালত (Suprim Court) প্রশ্ন তুলেছে, “স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর যেখানে আমরা একটি ‘জাতপাতহীন সমাজ’ (casteless society) গড়ার পথে এগিয়েছি, সেখানে এই ধরনের নিয়ম আমাদের পেছনের দিকে (regressive) নিয়ে যাচ্ছে কি না।” বিচারপতির কথায়, “আমেরিকার মতো বর্ণবিদ্বেষী আলাদা আলাদা স্কুল বা হোস্টেলের ব্যবস্থা ভারতে কাম্য নয়। হোস্টেলে সব সম্প্রদায়ের ছাত্ররা (UGC) একসাথে থাকে এবং সেখান থেকেই জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়।”

    ইউজিসির অস্পষ্ট সংজ্ঞা

    নতুন সার্কুলেশন ৩(সি) ধারা নিয়ে আদালত আপত্তি তুলেছে, যেখানে ‘জাতিগত বৈষম্য’-এর সংজ্ঞাটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি যেমন এসসি, এসটি, ওবিসি (SC, ST, OBC) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, এই সংজ্ঞাটি বৈষম্যমূলক, কারণ এতে সাধারণ শ্রেণির (General Category) ছাত্রছাত্রীদের (UGC) সুরক্ষার কোনো উল্লেখ নেই।

    বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন

    সুপ্রিম কোর্ট (Suprim Court) সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে, প্রবীণ আইনজ্ঞ এবং পণ্ডিতদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হোক। এই কমিটি খতিয়ে দেখবে যে সামাজিক মূল্যবোধের ওপর এই নিয়মের প্রভাব কী হতে পারে।

    র‍্যাগিং-এর ইস্যু

    আদালত লক্ষ্য করেছে, যেখানে র‍্যাগিং ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় সমস্যা, সেখানে এই নতুন সার্কুলেশনে র‍্যাগিং-এর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তর-দক্ষিণ বা উত্তর-পূর্ব ভারতের ছাত্রছাত্রীদের (UGC) সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়েও যে বৈষম্য হয়, তার সমাধানের অভাব এখানে রয়েছে।

    প্রেক্ষাপট

    গত ১৩ জানুয়ারি ইউজিসি এই নতুন নিয়মগুলো ঘোষণা করেছিল, যেখানে প্রতিটি কলেজে ‘ইকুইটি কমিটি’ (UGC) এবং ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন খোলার কথা বলা হয়েছিল। এর পরেই সাধারণ শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয় এবং সুপ্রিম কোর্টে (Suprim Court) একাধিক পিটিশন জমা পড়ে। পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ মার্চ, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ততদিন পর্যন্ত এই বিতর্কিত নিয়মের ওপর স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে।

LinkedIn
Share