Tag: surya kant

  • CJI: বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, সুপ্রিম কোর্টের পথে ‘গণতন্ত্রের মিছিল’

    CJI: বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, সুপ্রিম কোর্টের পথে ‘গণতন্ত্রের মিছিল’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI) সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গে। কিন্তু সেই আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বিরোধী জোটের প্রস্তাবিত মিছিলের আগে, ১২ অক্টোবর বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছিলেন তাঁরা। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ-সহ একাধিক দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়াই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত ইমেলের মাধ্যমে দুই বিরোধী নেতাকে জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যে বিষয়গুলি নিয়ে রাহুল ও খাড়্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, সেগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। তাই এই পরিস্থিতিতে আলাদা করে বৈঠক করা সমীচীন নয়। পাশাপাশি, প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করতে গিয়ে আদালত সরকারের কার্যকলাপে হস্তক্ষেপ করতে পারে না বলেও জানানো হয়েছে। তবে মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য তাঁরা বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে পারেন বলে বিরোধী নেতাদের জানানো হয়েছে।

    কেন প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা? (CJI)

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধীদের আন্দোলন। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, নির্বাচন কমিশন শাসক দল বিজেপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। সেই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের জবাবদিহির দাবিও তুলেছে তারা।

    নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তাঁদের আপত্তির একটি বড় অংশই ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে।

    যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, আলোচনার সময় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের দাবি, তাদের নির্দেশগুলির আইনি ভিত্তি রয়েছে এবং যাবতীয় সিদ্ধান্ত নির্ধারিত আইন ও বিধি মেনেই নেওয়া হয়।

    ‘গণতন্ত্রের মিছিলে’র ডাক কংগ্রেসের

    সোমবারের কর্মসূচির নাম দিয়েছে কংগ্রেস, ‘চলো দিল্লি—গণতন্ত্রের মিছিল’। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে দিল্লির কনট প্লেস ও বারাখাম্বা রোডের সংযোগস্থলে জমায়েত হওয়ার জন্য অংশগ্রহণকারীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    রাহুল জানিয়েছেন, তরুণ সমাজ, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই মিছিলে অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগিয়ে যাবেন। শনিবার দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশ ও বিজেপি সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এদিকে, খাড়্গে জানিয়েছেন, তাঁরা প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাইছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। খাড়্গের দাবি, শনিবার প্রতিবাদস্থলে বিপুল পুলিশ মোতায়েন এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, এই আন্দোলন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন (CJI)।

    রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ বিরোধী প্রতিনিধিদল

    শুক্রবার দিল্লির বিজয় চকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। এরপর কয়েকজন সাংসদ সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। অন্যদিকে, ১০ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে রাষ্ট্রপতি ভবনে যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছিল ওই প্রতিনিধিদল।

    বৈঠকের পরে বিরোধী নেতারা জানান, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি, তাঁদের উদ্বেগ ও অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি বলে দাবি বিরোধীদের।

    রাহুল বলেন, রাষ্ট্রপতি অভিযোগগুলি অস্বীকার করেননি কিংবা সেগুলি নিয়ে প্রশ্নও তোলেননি—এই বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাঁর দাবি, দেশে কথিত ভোটচুরির অভিযোগের প্রমাণ সম্পর্কে বহু মানুষ অবগত। বিরোধীরা সেই প্রমাণ রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ভোটার তালিকার সংশোধন, কথিত ভোটচুরি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সোমবারের ‘গণতন্ত্রের মিছিল’ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার (CJI)।

     

  • Supreme Court: এসআইআর বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা, ১৮ হাজারেরও বেশি আপিল বিচারাধীন!

    Supreme Court: এসআইআর বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা, ১৮ হাজারেরও বেশি আপিল বিচারাধীন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) সংক্রান্ত মামলায় বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে জরুরি শুনানির (Voter List Dispute) আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। ৬ অক্টোবর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার আগে ১৮ হাজারেরও বেশি বিচারাধীন আপিলের নিষ্পত্তি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আবেদনকারীরা। তবে শুনানির দিন এগিয়ে আনার আর্জিতে সাড়া দেয়নি আদালত। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ অক্টোবরই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

    আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে জানান, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ১৮ হাজারেরও বেশি আবেদন এখনও আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে বিচারাধীন। বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও তাঁদের অনেকে ভোট দিতে পারেননি। উপনির্বাচনের আগে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের একাংশ পরপর দু’বার ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সেই কারণেই মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়।

    আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)

    কিন্তু আবেদনকারীদের যুক্তিতে সাড়া দেয়নি শীর্ষ আদালত। শুনানির দিন এগিয়ে আনার আর্জির প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, “এগুলি নেহাতই উপনির্বাচন, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।” এরপরেও মামলাটির শুনানির দিন অপরিবর্তিত রাখা হয়। ফলে ভোটের ঠিক আগের দিন শুনানি হলেও সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

    পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। কিন্তু বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৮ লাখ ২০ হাজার ৬৮৩টি আপিলের মধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ২৩১টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ৩৭ লাখেরও বেশি আবেদন তখনও বিচারাধীন ছিল (Supreme Court)।

    এদিকে, নিষ্পত্তি হওয়া আপিলগুলির একটি বড় অংশেই আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্যের অধিকার আইনে পাওয়া ৭ অগাস্ট পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলির মধ্যে ৭৫ হাজার ৪৪৩টি ক্ষেত্রে ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, ৭ হাজার ৩৩৯টি ক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থেকেছে। অর্থাৎ, ওই সময় পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের প্রায় ৯১ শতাংশেই ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

    এর আগে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, কোনও একটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটাধিকার চিরতরে হারিয়ে যায় না। তবে আবেদন নিষ্পত্তির আগে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

    এই পরিস্থিতিতে আপিল নিষ্পত্তির (Voter List Dispute) গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগের দিন, ৫ অক্টোবর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। আবেদনকারীদের উদ্বেগ, তার আগে বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি না হলে বহু মানুষ আরও একবার ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে (Supreme Court) বঞ্চিত হতে পারেন।

     

  • Sabarimala Case: ‘মন্দিরের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ সমর্থন করি না’, সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র

    Sabarimala Case: ‘মন্দিরের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ সমর্থন করি না’, সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মন্দিরের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ সমর্থন করি না, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিরও উচিত নয় সরাসরি রাষ্ট্রের দ্বারা পরিচালিত (Sabarimala Case) হওয়া। সুপ্রিম কোর্টকে (SC) এমনই জানাল কেন্দ্রীয় সরকার।

    কেন্দ্রের বক্তব্য (Sabarimala Case)

    কেন্দ্রীয় সরকারের এই বক্তব্যটি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা নয়-সদস্যের সংবিধান বেঞ্চের সামনে উপস্থাপন করেন। এই বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান বিচারপতি সূ্র্য কান্ত। বেঞ্চটি সংবিধানের ২৫ নম্বর ধারা এবং ২৬ নম্বরের অধীনে রাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করছে, যা শবরীমালা রিভিউ পিটিশনস থেকে উদ্ভূত।

    কী বললেন সলিসিটর জেনারেল

    কেন্দ্রের অবস্থান ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসন এবং ধর্মনিরপেক্ষ সিস্টেমের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্যের ওপর জোর দেয়। সরকার সাফ  জানিয়ে দিয়েছে, তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সরাসরি সরকারি পরিচালনার পক্ষে নয়। যদিও অনুচ্ছেদ ২৫(২) রাষ্ট্রকে আর্থিক ও রাজনৈতিক মতো ধর্মনিরপেক্ষ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অনুমতি দেয়, সরকার যুক্তি দেয় যে এটি চিরকালের জন্য মন্দির দখলের অনুমতি দেয় না। সলিসিটর জেনারেল আরও বলেন, “সংবিধানের ব্যাখ্যা সব ধর্মের জন্য সমান হওয়া উচিত এবং কোনও একক ধর্মের প্রথার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত নয়।” কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, অনেক হিন্দু প্রথা স্বভাবতই বহুমাত্রিক, যেখানে কিছু মন্দিরে রীতিনীতির ভিত্তিতে প্রবেশ সীমাবদ্ধ থাকে, এবং এই বৈচিত্র্য উপেক্ষা করে একরূপ কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে (Sabarimala Case)।

    পূর্ণ স্বাধীনতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

    যদিও স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে কথা বলা হয়েছে, বেঞ্চ সম্পূর্ণ স্বাধীনতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালতের মন্তব্য, সম্পূর্ণ বর্জনের অধিকার সমাজকে (SC) বিভক্ত করতে পারে এবং হিন্দু ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বিচারপতি বিভি নাগারাথনার মন্তব্য, “সবারই প্রতিটি মন্দির ও মঠে প্রবেশাধিকার থাকতে হবে”। সামাজিক সংস্কার ও বৈষম্য প্রতিরোধে রাষ্ট্র অনুচ্ছেদ ২৫(২)(খ)-এর অধীনে হস্তক্ষেপ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট রায়গুলিতে আদালত ধারাবাহিকভাবে বলেছে যে মন্দিরের অর্থ “দেবতার সম্পত্তি” এবং তা শুধুমাত্র মন্দিরের স্বার্থেই ব্যবহার করা উচিত, অন্য কোনও সরকারি ব্যয় বা বাণিজ্যিক কাজে নয়।

    বিতর্কিত বিষয়

    এই বিষয়টি এখনও বিতর্কিত। অনেকেরই যুক্তি, হিন্দু মন্দিরগুলিই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা সরকারি নিয়ন্ত্রণের অধীনে, যেখানে মসজিদ, গির্জা ও গুরুদ্বারগুলি সাধারণত স্বশাসিত। ভক্তরা প্রায়ই আপত্তি করেন যে মন্দিরের আয় ধর্মীয় কার্যকলাপের ক্রমের বদলে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আশঙ্কা রয়েছে যে সরকার নিযুক্ত প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান বা ভক্তি নাও থাকতে পারে (Sabarimala Case)। সমালোচকদের মতে, এই নিয়ন্ত্রণ মন্দির বোর্ডগুলোকে ‘রাজনৈতিক পার্কিং লটে’ পরিণত করতে পারে, যেখানে নিয়োগগুলি যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় হয় (SC)।

    এই বিতর্ক ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মন্দির পরিচালনায় ব্যাপক সরকারি অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপটে চলছে। কেরলের বিভিন্ন দেবস্বম বোর্ড প্রায় ৩,০০০ মন্দির পরিচালনা করে। তামিলনাড়ুতে হিন্দু ধর্মীয় ও দাতব্য এনডাউমেন্টস বিভাগ ৩০,০০০-এরও বেশি মন্দির পরিচালনা করে। অন্ধ্রপ্রদেশে তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমস তিরুপতি বালাজি মন্দির পরিচালনা (Sabarimala Case) করে। কর্নাটক ও উত্তরাখণ্ড-সহ অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের কাঠামো রয়েছে।

     

  • Motivated Campaign: রোহিঙ্গা নিয়ে প্রধান বিচারপতির করা মন্তব্যে বাদানুবাদ, কী বললেন প্রাক্তন বিচারপতিরা?

    Motivated Campaign: রোহিঙ্গা নিয়ে প্রধান বিচারপতির করা মন্তব্যে বাদানুবাদ, কী বললেন প্রাক্তন বিচারপতিরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটি মামলার শুনানি চলাকালীন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের (Rohingya Remarks) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের করা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে (Motivated Campaign) বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত দু’দল বিচারপতি। এক পক্ষের বক্তব্য, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ‘অবিবেচনাপ্রসূত’। অন্য পক্ষের দাবি, তাঁর মন্তব্যকে নিয়ে প্রধান বিচারপতির যে সমালোচনা করা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    সুর্য কান্তকে খোলা চিঠি (Motivated Campaign)

    ৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, প্রবীণ আইনজীবী ও আইনবিদদের একটি দল সুর্য কান্তকে খোলা চিঠি লিখে তাঁর বেঞ্চ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে করা ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন। এই মন্তব্যগুলি উঠে এসেছিল ভারতে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন সদস্যের হেফাজতে নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানির প্রেক্ষিতে। ২ ডিসেম্বরের সেই শুনানিতে সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, প্রধান বিচারপতি   কান্ত মৌখিকভাবে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং জানতে চেয়েছিলেন, “অনধিকারপ্রবেশকারীদের কি লাল গালিচা বিছিয়ে স্বাগত জানানো উচিত? যারা দেশে অবৈধভাবে ঢুকে পড়েছে, তাদের জন্য বিচারসভা দারুণ কোনও রক্ষাকবচ দেবে, এটাই কি আবেদনকারীরা চান?” তাঁর পর্যবেক্ষণ, “উত্তর ভারতে আমাদের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্ত রয়েছে। যদি কোনও অনুপ্রবেশকারী প্রবেশও করে, তবে তাদের এখানে রাখার জন্য আমাদের কি বাধ্যবাধকতা আছে?”

    অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বক্তব্য

    এই ঘটনার পর (Motivated Campaign) অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের ওই দল চিঠিতে বলেন, হিংসা ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের যখন এমন বক্তব্যের মুখোমুখি হতে হয় যা তাদের মর্যাদাকে অস্বীকার করে, তখন তা সংবিধানের মূল মূল্যবোধকে বিপন্ন করে এবং আদালতকে দুর্বল মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে জনগণের আস্থা নষ্ট করে। তাঁরা প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান, আদালতে মন্তব্যের মাধ্যমে মানব মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দাঁড়ানো সংবিধানিক নৈতিকতার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে (Rohingya Remarks)।

    পাল্টা জবাব

    এরই জবাবে অবসরপ্রাপ্ত আর একদল অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বলেন, আদালতের কাজকর্ম ন্যায্য ও যুক্তিনিষ্ঠ সমালোচনার জন্য সবসময়ই উন্মুক্ত, কিন্তু বর্তমান আলোচনা নীতিনিষ্ঠ মতভেদের অনেক দূরে। চিঠিতে বলা হয়, “এই আলোচনার উদ্দেশ্য সাধারণ আদালতের প্রশ্নোত্তরকেও পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে অযথা অগ্রাহ্য করা। প্রধান বিচারপতিকে শুধু একটি মৌলিক আইনি প্রশ্ন তোলার জন্যই নিশানা করা হচ্ছে, আইন অনুযায়ী সেই মর্যাদা দিয়েছেন যেটি আদালতে দাবি করা হচ্ছে?” চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে বেঞ্চ খুব স্পষ্টভাবে বলেছিল, ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকা কোনও মানুষ, সে তিনি (Motivated Campaign) নাগরিকই হোন বা বিদেশি, তাঁকে কখনওই নির্যাতন, নিখোঁজ বা অমানবিক আচরণের শিকার হতে দেওয়া যাবে না, এবং সবার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। অথচ সমালোচকরা এই বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছেন।

    ভারতীয় আইনে শরণার্থী

    ওই চিঠিতেই বলা হয়েছে, “রোহিঙ্গারা ভারতীয় আইনে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশ করেনি। তাদের কোনও আইনি শরণার্থী-সুরক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে দেশে ঢোকানো হয়নি। অনেকেই অনিয়মিত বা অবৈধভাবে দেশে এসেছে, এবং শুধু দাবি করলেই সেই অবস্থাকে আইনি স্বীকৃত ‘শরণার্থী’ মর্যাদায় রূপান্তর করা যায় না।” চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ভারত ১৯৫১ সালের রাষ্ট্রসংঘ শরণার্থী কনভেনশন বা তার ১৯৬৭ প্রোটোকলের স্বাক্ষরকারী নয়। তাই যে কোনও ব্যক্তির প্রতি ভারতের দায়বদ্ধতা আসে সংবিধান, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন আইন এবং সাধারণ মানবাধিকার নীতিমালা থেকে কিংবা কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে, যা ভারত গ্রহণ করেনি (Rohingya Remarks)।”

    রোহিঙ্গারা কীভাবে আধার কার্ড পেল

    অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারী কিছু রোহিঙ্গা কীভাবে আধার কার্ড, রেশন কার্ড-সহ ভারতীয় নথিপত্র পেয়ে গিয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, “এসব নথি শুধু নাগরিক বা বৈধ বাসিন্দাদের জন্য। এদের অপব্যবহার দেশের পরিচয় ও কল্যাণব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সম্ভাব্য যোগসাজশ, জালিয়াতি ও সংগঠিত চক্র সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তোলে (Motivated Campaign)।”

    চিঠির আরও বক্তব্য

    চিঠিতে এও বলা হয়েছে যে মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। দীর্ঘকাল ধরে তারা সেখানে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তাদের নাগরিকত্ব নিয়েও বিরোধ রয়েছে। এমতাবস্থায় সংবিধানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গিকে অমানবিক বলে উপস্থাপন করা প্রধান বিচারপতির প্রতি অবিচার, এবং বিচারব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। জাতীয়তা, অভিবাসন, নথিপত্র বা সীমান্ত নিরাপত্তা সম্পর্কে যে কোনও প্রশ্ন তোলা যদি পক্ষপাতের অভিযোগে রূপান্তর করা হয়, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিপদের মুখে পড়বে (Rohingya Remarks)। শেষে অবশ্য চিঠিতে সুপ্রিম কোর্ট ও প্রধান বিচারপতির প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করা হয়েছে এবং আদালতের বক্তব্যকে বিকৃত করা বা মতভেদকে ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত করার চেষ্টার নিন্দাও জানানো হয় (Motivated Campaign)।

LinkedIn
Share