মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালয়েশিয়াকে হারিয়ে ছেলেদের হকিতেও সোনা জিতল ভারত। শনিবার ফাইনালে মালয়েশিয়াকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে খেতাব ধরে রাখল ভারত। প্রথম বার এশিয়ান গেমসে হকির দুই বিভাগেই সোনা জিতল ভারত। সোনা জিতলেন কুস্তিগির আমন সেহরাওয়াত। সব মিলিয়ে নাগোয়া গেমসে ভারত ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ পদক পেল। মোট ৮৫টি পদক নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। প্রথম তিনটি স্থানে রয়েছে যথাক্রমে চিন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।
হকিতে অলিম্পিক্সে জায়গা পাকা
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভারত। ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্র্যাগ-ফ্লিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। যদিও তিন মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে সমতা ফেরায় মালয়েশিয়া। ১৪ মিনিটে শেলো সিলভেরিয়াসের গোলে প্রথম কোয়ার্টার শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ফের এগিয়ে যায় ভারত। আট মিনিটের মাথায় পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন জুগরাজ সিং। ফলে প্রথমার্ধের শেষে ভারত এগিয়ে ছিল ২-১ গোলে। তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারতের দাপট আরও বাড়ে। ১২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন হার্দিক সিং। এরপর শেষ কোয়ার্টারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ভারত। ম্যাচ শেষ হতে ছ’ মিনিট বাকি থাকতে শিলানন্দ লাকরার গোলে ভারত ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টায় মালয়েশিয়া আক্রমণে খেলোয়াড় বাড়িয়ে দেয়। সেই সুযোগেই ফের পেনাল্টি কর্নার আদায় করে ভারত এবং সেখান থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হরমনপ্রীত। শেষ পর্যন্ত ৫-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত। এই জয়ের সুবাদে লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিক্সের জন্য সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করল তারা।
কুস্তিতে কেরামতি ভারতীয়দের
ছেলেদের ফ্রিস্টাইল কুস্তির ৫৭ কেজি বিভাগে সোনা জিতলেন আমন। এই প্রথম ভারত এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে সোনা জিতল। ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার হান চং সংকে ১১-৭ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন আমন। একটা সময় ৬-২ ব্যবধানে এগিয়ে যান আমন। ডান পায়ের হাঁটুতে চোট পান সং। তা-ও দুর্দান্ত ভাবে লড়াইয়ে ফেরেন তিনি। আমনের রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যান ৭-৬ ব্যবধানে। হাল ছাড়েননি ভারতীয় কুস্তিগিরও। শেষ মিনিটে সংকে বাগে পেয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১১-৭ ব্যবধানে জিতে যান আমন। মেয়েদের ফ্রিস্টাইল কুস্তির ৫৩ কেজি বিভাগের ফাইনালে হেরে গেলেন অন্তিম পাঙ্ঘাল। জাপানের মো কিয়োকার কাছে ৯-১ ব্যবধানে হারায় রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থকতে হল তাঁকে। ছেলেদের ৯৭ কেজি ফ্রিস্টাইল কুস্তিতে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন দীপক পুনিয়া। ৬০ বছর পর এশিয়াডের এই ইভেন্টে পদক পেল ভারত। ১৯৬৬ সালে রুপো পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ সিং এবং ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন ভীম সিং।
Tag: T20I
T20I
-

Asian Games 2026: হকিতে প্রথম বার জোড়া সোনা! হরমনপ্রীতের গোল খেতাব ধরে রাখল ভারত, সোনা জিতে নজির আমনের
-

Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসেও ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট উত্তাপ! অভিষেক-তিলকের ব্যাটে পাক-বধ করে সোনা ভারতের
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান দূরত্ব মিটল না। বদলাল না বড় আসরে ফলাফলও। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতল ভারত (India vs Pakistan)। ফাইনালে ১৯ রানে জয় পেয়েছে ভারত। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এশিয়া কাপ কিংবা এশিয়ান গেমস। যেখানেই দেখা হোক, ফলাফল একটাই। পাকিস্তানকে হেলায় হারানো অভ্যাসে পরিণত করেছে ভারত। এবার জাপানে এশিয়ান গেমসেও একই ফল। ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতল শ্রেয়স আইয়ারের ভারত। অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মার ব্যাটিং বিক্রমের সামনে পাত্তাই পেল না সাহিবজাদা ফারহানার দল।
করমর্দন নয় দুই দলের ক্রিকেটারদের
ভলিবল, স্কোয়াশ, হকির মতো খেলাগুলিতে দু’দেশের খেলোয়াড়দের হাসিমুখে জড়িয়ে ধরতে, করমর্দন করতে বা একসঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে আলাদা ছবি। শনিবার টসের পর শ্রেয়স আয়ার হাত মেলালেন না পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ থেকেই ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানর ক্রিকেটারদের সবরকম ভাবে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন সূর্যকুমার যাদবেরা। সেই ধারা বজায় রইল নাগোয়া গেমসেও। টসের পর ফারহানের সঙ্গে হাত মেলালেন না শ্রেয়স। শুধু ছেলেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে মেয়েদের ক্রিকেট-সহ বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও।
পাক স্পিনারের বিদ্রুপ
ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কের উত্তাপের আঁচ পাওয়া গেল ম্যাচের মধ্যেও। বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করার পর তাকে বিদ্রুপ করলেন পাক স্পিনার সাইম আয়ুব। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রথম ওভারে মাত্র ৪ রান দেন সাইম আয়ুব। তারপরের ওভারে তাণ্ডব শুরু হয় বৈভব সূর্যবংশীর। শান মাসুদের পরপর দু’বলে ছক্কা হাঁকায়। ছক্কার খেলায় মাতেন ভারতের আরেক ওপেনার অভিষেক শর্মাও। কিন্তু তার পরের ওভারেই অঘটন। সাইমের বল অযথা রিভার্স সুইপ করতে যায় বৈভব। বল ব্যাটের কোণায় লেগে সোজা উইকেটকিপারের হাতে জমা পড়ে। মাত্র ১৫ রানে আউট হয় বৈভব। আর সে যখন ফিরে যাচ্ছে, তখন হাত দিয়ে কোলে বাচ্চা দোলানোর ইঙ্গিত করেন পাক অলরাউন্ডার। ভারতের ১৫ বছরের ব্যাটারকে সাইম বিদ্রুপ করলেও পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটারেরা সংযত ছিলেন। বৈভবও কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। শান্ত ছিলেন ভারতের অন্য ওপেনার অভিষেক শর্মাও।
ব্যাটেই বদলা ভারতের
তবে এই ঘটনার বদলা কথায় নয় ব্যাটেই নিয়েছেন অভিষেক শর্মারা। অভিষেক ২৮ বলে ৬১ রান করেন। চার-ছক্কায় পাক বোলারদের রীতিমতো চাপে ফেলে দেন অভিষেক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে তিনটে চার ও ৭টা ছক্কা। কিন্তু রান পাননি সঞ্জু স্যামসন। অন্যদিকে অধিনায়ক শ্রেয়স ২১ রান করতে নিয়ে নেন ২৪ বল। ওই সময় ভারতের রানের গতি কিছুটা কমে যায়। ঈশান কিষান (২০) এই ম্যাচে বড় রান পাননি। তবে শেষবেলায় ঝড় তোলেন তিলক বর্মা ও শিবম দুবে। তিলক ২২ বলে ৫১ ও শিবম ১৫ বলে ২৭ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান তোলে ভারত। জবাবে পাকিস্তানের শুরুটা খারাপ হয়নি। তবে অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দররা আঁটসাঁট বোলিং করে রানের ধারা আটকে দেন। ৬ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের দৌড় থেমে যায় ১৯২ রানে। ভারত ১৯ রানে ম্যাচ জিতে ক্রিকেটে সোনা পকেটে ভরে নেয়। যা এশিয়ান গেমসে ভারতের ১৯তম সোনা।
-

India vs South Africa: হার্দিকের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, বিশাল জয় ভারতের, রাবারাটিতে লজ্জার নজির প্রোটিয়াদের
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাইশ গজে মধুর প্রত্যাবর্তন। ২৮ বলে ৫৯ রান, ৬টি চার ও ৪টি ছয়, ফের ঝড় তুললেন হার্দিক পান্ডিয়া। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে এসে ভারতীয় দল নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করেছিল। জবাবে ৭৪ রানে শেষ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। এই ফরম্য়াাটে এটাই প্রোটিয়াদের ন্যূনতম স্কোর। ১৮ বলে শেষ ৫ উইকেট হারাল প্রোটিয়ারা। ১০১ রানে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সূর্যকুমারেরা।
হার্দিকের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, হতাশ শুভমন
শুভমন গিল এবং হার্দিক পান্ডিয়া। চোট সারিয়ে কটকে প্রত্যাবর্তন দুই ক্রিকেটারের। ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের উৎসাহ ছিল শুভমনকে নিয়ে। টেস্ট এবং এক দিনের দলের অধিনায়ক শুভমন। হতাশ করলেন শুভমন টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক। তবে নেতৃত্বের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়া হার্দিক ঝড় তুললেন ব্যাট হাতে। তাঁর ২৮ বলে ৫৯ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদেই এডেন মার্করামের দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছোন সূর্যকুমার যাদবেরা। শুভমন কটকের ২২ গজে টিকলেন ২ বল। করলেন ৪ রান। চিন্তায় রাখল অধিনায়ক সূর্যের ফর্মও। তবে ভারতীয় বোলাররা সফল ১০০ শতাংশই।
ভারতীয় বোলাররা ১০০ শতাংশ সফল
বল হাতে রাতের বারবাটি শাসন করলেন ভারতীয় বোলারেরা। ১৭৬ রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আউট হন কুইন্টন ডি কক (০)। অর্শদীপের এই ধাক্কা সামলানোর আগেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। নিজের দ্বিতীয় ওভারে অর্শদীপ আউট করেন ট্রিস্টান স্টাবসকে (১৪)। অক্ষর নিজের প্রথম ওভার করতে এসে তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক এডেন মার্করামের (১৪) উইকেট। ৪০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যান সফরকারীরা। সেই চাপের মুখে পর পর ফিরে যান মিলার এবং ফেরেইরা (৫)। দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের ফলাফল এক রকম ঠিক হয়ে যায়। ভারতীয় বোলারদের দাপটে কেউই আর লড়াই করতে পারলেন না। ধস নামল দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে। পর পর আউট হলেন জানসেন (১২), ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (২২), কেশব মহারাজ (০), অনরিখ নোখিয়া (১), লুথো সিমপালারা (২)। ১২.৩ ওভারেই শেষ হয়ে গেল তাঁদের ইনিংস। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সফলতম অক্ষর ৭ রানে ২ উইকেট নিলেন। ১৪ রানে ২ উইকেট অর্শদীপের। এ দিন ১৭ রানে ২ উইকেট নিলেন বুমরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেট পূর্ণ করলেন তিনি। ১৯ রানে ২ উইকেট বরুণ চক্রবর্তীর। ১৬ রানে ১ উইকেট নিলেন হার্দিক। ১ রানে ১ উইকেট শিবমের। ভারতের ছ’জন বোলারই উইকেট পেলেন। তিনবছর আগে ভারতেরই বিরুদ্ধে রাজকোটে মাত্র ৮৭ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ৷ যা এতদিন ছিল সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে তাঁদের সর্বনিম্ন স্কোর ৷ মঙ্গলবার তা ভেঙে গেল ৷
নিজের নয়, ভারতের প্রয়োজনই প্রাধান্য
চোট সারিয়ে এশিয়া কাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই ম্যাচের সেরার পুরস্কার জিতে নেন হার্দিক। জানান গত ছ’সাত মাস ধরে ফিটনেসের উপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন। যাতে দেশের জার্সি পরে নিজের সেরাটা দিতে পারেন। নিজের পারফরম্যান্সে খুশি হার্দিক। হার্দিক বলেছেন, ‘‘গত ছ’-সাত মাস আমার ফিটনেস ভাল জায়গাতেই ছিল। শেষ ৫০ দিন পরিবার ছেড়ে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে থেকে খুব উপকৃত হয়েছি। বেশ কিছু দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছি। শট মারার সময় একটু সতর্ক ছিলাম। নিশ্চিত করতে চেয়েছি শটগুলো যাতে ঠিকঠাক হয়। শেষ দিকে কয়েকটা সাহসী শটও খেলতে হয়েছে। টাইমিং ঠিক রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছি। আমার এদিনের ব্যাটিংয়ে আমি সন্তুষ্ট।’’ নিজের বোলিং নিয়েও খুশি হার্দিক। তিনি বলেছেন, ‘‘মাঠে আমার ভূমিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম না। নিজের দায়িত্ব জানি। আমি কী চাই সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দলের প্রয়োজন। ভারতের প্রয়োজন। এই মানসিকতা নিয়েই খেলতে নামি। এটা আমাকে ভালো পারফর্ম করতে সাহায্য করে।’’ জয়ের নেপথ্যে হার্দিকের অবদান মেনে নিয়েছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও।