Tag: Tamil Nadu Politics

  • Hindus Under Attack: রাশ টানা যায়নি হিন্দু নির্যাতন, লাভ জেহাদে, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: রাশ টানা যায়নি হিন্দু নির্যাতন, লাভ জেহাদে, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ। ভারত তো বটেই, বিশ্বের বহু অঞ্চলেও এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ৩১ মে থেকে ৬ জুন, ২০২৬ – পর্যন্ত পর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার জলছবি।

    বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকে, বিশেষত বেঙ্গালুরু ও রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহলের দাবি, এই রাজ্যে ২০ লাখেরও বেশি নথিভুক্তহীন অভিবাসী অবৈধভাবে বসবাস করছে। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা, জনসংখ্যাগত ভারসাম্য, অবৈধ বসতি গঠন এবং অনুপ্রবেশকারী চক্রের নেপথ্যে যে রাজনৈতিক মদত রয়েছে, সেই অভিযোগকেই মান্যতা দেয়। এর জেরে শুরু হয়ে নতুন করে বিতর্ক। চলতি বছর বকরি ইদ উপলক্ষে নমাজ আদায়, সংযম ও আইন মেনে ধর্মীয় আচার পালনের প্রত্যাশা থাকলেও, দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা, হিংসা এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। বহু হিন্দু সংগঠন ও নাগরিকের দাবি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বারবার এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

    ছাত্রীকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ

    ইডির টিটিআই (TTI) সংক্রান্ত তদন্তের পর ভারতে পরিচালিত বিদেশি চার্চ-সমর্থিত ধর্মান্তর কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তে টিটিআইয়ের আর্থিক কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চার্চ, মিশনারি সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক ছাত্রীকে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে বিয়ে করার এবং পরে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্মীয় পরিচয় গোপন করেছিল। পরিচয় দিয়েছিল হিন্দু বলে। প্রেমের সেই ফাঁদে পায় দেয় ওই ছাত্রী। তার পরেই খসে পড়ে অভিযুক্তের মুখোশ। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (Hindus Under Attack)।

    বকরি ইদে হিংসা

    তামিলনাড়ুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেজি অরুণরাজ কবি-সন্ত তিরুভাল্লুভরকে গেরুয়া পোশাকে চিত্রিত করার বিরোধিতা করেছেন (Roundup Week)। একটি অনুষ্ঠানে তিরুভাল্লুভরের গেরুয়া বস্ত্রপরিহিত প্রতিকৃতি প্রদর্শনের পর তিনি জানান, ‘তিরুক্কুরাল’ সমগ্র মানবজাতির নৈতিক ও আদর্শগত মূল্যবোধের প্রতীক। তাই এঁকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা উচিত নয়। উত্তরপ্রদেশের বালরামপুরে বকরি ইদের দিন ধনরাজ মৌর্য নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন মুসলমান যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আসিফ, সাজিদ, মাজিদ এবং সলিম-সহ কয়েকজনের মারের চোটে গুরুতর জখম হাসপাতালে ভর্তি হন ধনরাজ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই মারা যান তিনি। আসিফদের হাতে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)।

    ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে চাপ

    উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন জেলার বিকাশনগরে এক মহিলাকে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে ধর্ষণ এবং (Roundup Week) পরে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে চাপ দেওয়ার অভিযোগে দানিশ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তেলঙ্গানার নারায়ণপেটে এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কয়েকটি সংগঠন ঘটনাটিকে ‘লাভ জেহাদে’র পরিণতি বলে দাবি করলেও, পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। লাভ জেহাদের অভিযোগের সত্যতাও নিশ্চিত হয়নি। তবে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে ফাসিউদ্দিন নামে বছর আঠারোর এক সদ্য যুবককে (Hindus Under Attack)।

    পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণের দাবি

    কাঞ্চিপুরমের বরদরাজা পেরুমল মন্দিরে বৈকাসি ব্রহ্মোৎসব উপলক্ষে নির্ধারিত ইয়ালি বাহন শোভাযাত্রা বাতিল হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে, হিন্দু রিলিজিয়াস অ্যান্ড চ্যারিটেবল এনডাওমেন্টস (HR&CE) বিভাগের আধিকারিকরা মন্ত্রীর নির্দেশেই শতাব্দীপ্রাচীন এই শোভাযাত্রা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কের। উইপ্রো টেকনোলজিসের পুনে অফিসের এক প্রাক্তন কর্মী কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, ধর্মীয় বৈষম্য এবং জবরদস্তিমূলক আচরণের অভিযোগ এনে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন। পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। অভিযোগে তিনি ‘কর্পোরেট জেহাদে’র প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছেন (Roundup Week)। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (Hindus Under Attack)।

    হিন্দুবিরোধী মনোভাবের জন্ম

    অনেকের মতে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অধিকাংশ বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে কাজ করে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে উৎসারিত হিন্দুবিরোধী মনোভাব। তাঁদের দাবি, ইসলামি রাষ্ট্রগুলিতে হিন্দুবিরোধী বৈষম্য তুলনামূলকভাবে দৃশ্যমান হলেও, ভারত-সহ কিছু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দুবিরোধী প্রবণতা রয়েছে, যা হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষ ও বৈষম্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে থাকা এমন সব সূক্ষ্ম বৈষম্য অবশ্য সহজে চোখে পড়ে না। তবে প্রচলিত আইন, নীতিমালা ও বিভিন্ন ঘটনার ধারা বিশ্লেষণ করলে এই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধাপে ধাপে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গের উল্লেখ করা যায়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি বাহ্যিকভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, অন্যান্য উৎসবের ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি অনুসরণ (Roundup Week)এবং নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় এতে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • PM Modi: তামিলনাড়ুর নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর, ধুয়ে দিলেন কংগ্রেসকে

    PM Modi: তামিলনাড়ুর নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর, ধুয়ে দিলেন কংগ্রেসকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তামিলনাড়ুর নয়া মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়কে শপথ নেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আশ্বাস দেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে আগের মতোই কাজ চালিয়ে যাবে (Congress)। এর পাশাপাশি কংগ্রেসকেও নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিজয়ের টিভিকে-র মিত্র দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘পিঠে ছুরি মারা’র অভিযোগও করেন। শতাব্দী প্রাচীন কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ দল বলেও আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী।

    কংগ্রেসকে নিশানা প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু ডিএমকে-কে ছেড়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তামিলনাড়ুর বর্তমান পরিস্থিতি দেখুন। গত ২৫-৩০ বছর ধরে কংগ্রেস এবং ডিএমকের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বারবার ডিএমকের সঙ্গে জোট করে কংগ্রেস সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছে।” তিনি বলেন, “আসলে ২০১৪ সালের আগে যে ১০ বছর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ছিল, তা মূলত ডিএমকের সমর্থনের ওপরই টিকে ছিল। অথচ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই কংগ্রেস সেই ডিএমকের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করল। অথচ ডিএমকে সবসময় তাদের পাশে ছিল।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতার লোভে অন্ধ কংগ্রেস প্রথম সুযোগেই ডিএমকের পিঠে ছুরি মেরেছে। এখন রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে তাদের (PM Modi) আবার নতুন একটি দলের কাঁধে ভর করতে হচ্ছে।”

    নয়া মন্ত্রিসভায় কারা

    বিজয়ের নয়া মন্ত্রিসভায় মোট ৯ জন মন্ত্রী রয়েছেন। সেখানে তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের ঠাঁই দেওয়া হয়েছে (Congress)। টিভিকে প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। তবে সমর্থন করা সত্ত্বেও কংগ্রেসের ভাগ্যে ছেঁড়েনি মন্ত্রিত্বের শিকে। রাহুল গান্ধীর দলের কোনও নেতাই জায়গা পাননি তামিলনাড়ু মন্ত্রিসভায়। অথচ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য টিভিকে-কে প্রথমে সমর্থন করার কথা জানিয়েছিল কংগ্রেসই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে কংগ্রেস বিজয়ের দলের দিকে বিশেষ নজর রাখছে। শোনা যাচ্ছে, রাহুল বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এতটাই আশাবাদী ছিলেন যে, ডিএমকে-র ডাকা একাধিক বৈঠকে যোগ দেয়নি কংগ্রেস।

    ডিএমকের অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, আজ প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস সম্পর্কে যা বলেছেন, তা অনেক আগেই জানিয়েছিল ডিএমকে। তারা যখন জানতে পারে কংগ্রেস বিজয়ের টিভিকে-কে সমর্থন করছে, তখনই উঠেছিল ‘পিঠে ছুরি মারা’র অভিযোগ। ডিএমকের এক প্রস্তাবে, যা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের উপস্থিতিতে গৃহীত হয়েছিল, তাতে বলা হয়, “তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে ঠিক সেই কাজটাই করেছে, যা বিজেপি অন্য অনেক রাজ্যে করে।” ডিএমকের আরও অভিযোগ, “আমাদের দলনেতার পিঠে ছুরি মেরে কংগ্রেস বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানাতেও তারা ব্যক্তিগতভাবে আসেনি। তবুও স্ট্যালিন সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।” ডিএমকের দাবি, কংগ্রেসের পুরনো চরিত্র এখনও বদলায়নি। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “আমাদের জোটে কংগ্রেসকে একটি রাজ্যসভা আসন এবং ২৮টি বিধানসভা আসন দেওয়া হয়েছিল। অথচ মাত্র তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য একটি (PM Modi) দলে চলে গেল, যা জোট-কর্মীদের কঠোর (Congress) পরিশ্রমে পাওয়া জয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।”

     

  • DMK: তামিলনাড়ুতে টিভিকে-কে সমর্থন কংগ্রেসের, সংসদে আসন বদলের দাবি ‘ইন্ডি’-শরিক ডিএমকের

    DMK: তামিলনাড়ুতে টিভিকে-কে সমর্থন কংগ্রেসের, সংসদে আসন বদলের দাবি ‘ইন্ডি’-শরিক ডিএমকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে সংসদে ডিএমকে (DMK) সদস্যদের আলাদা বসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানালেন ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি করুণানিধি। চিঠিতে (Lok Sabha Speaker Letter) তিনি জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট। তাই ডিএমকে সাংসদদের আর কংগ্রেস সদস্যদের পাশে বসাটা যথাযথ নয়।

    কানিমোঝির চিঠি (DMK)

    কানিমোঝি লেখেন, “আমি সম্মানের সঙ্গে লোকসভায় ডিএমকের সাংসদদের বসার ব্যবস্থায় উপযুক্ত পরিবর্তনের অনুরোধ জানাচ্ছি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের জোটের অবসানের প্রেক্ষিতে, আমাদের সদস্যদের বর্তমান আসনে তাদের পাশে বসাটা আর যথাযথ নয়…।” তাঁর অনুরোধ, “ডিএমকে সাংসদদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হোক যাতে তাঁরা ঠিকঠাকভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।”

    তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল

    কানিমোঝির এহেন পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল।  ঘটনাটি রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় কোনও দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের নয়া দল টিভিকে (TVK) প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে, যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। শাসক ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি আসন, তাদের মিত্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা কংগ্রেস পেয়েছে ৫টি আসন, এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। একটি মাত্র আসনে জয়ী হয় বিজেপি।

    কংগ্রেসের ভোল বদল

    নির্বাচনের পর নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। ভোটের আগে কংগ্রেস ডিএমকের নেতৃত্বাধীন সেকুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (SPA)-এর অংশ ছিল। বিজয়ের দল জয় পেতেই ডিএমকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে টিভিকে-কে সরকার গঠনে সমর্থন করে রাহুল গান্ধীর দল। এই আনুষ্ঠানিক সমর্থনের ভিত্তিতে টিভিকে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানায়। যদিও টিভিকে-কংগ্রেস জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা পার হতে না পারায়, সেই প্রস্তাবও বাতিল করা হয়। ডিএমকে (DMK) নেতারা, যাঁর মধ্যে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনও রয়েছেন, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘পিঠে ছুরি মারা’ এবং সুযোগসন্ধানী রাজনীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, বহু বছর ধরে জাতীয় ও রাজ্য স্তরে জোটে থাকার পরেও কংগ্রেস বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

    ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের ইতি!

    তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের ইতিহাস ছয়ের দশকের শেষের দিক থেকে শুরু হয়। বহু নির্বাচন, ক্ষমতা ভাগাভাগি ও ‘ইন্ডি’ (INDI) জোটের মধ্যে দিয়েও সেই সম্পর্ক টিকে ছিল। ২০২৬ সালে আসন বণ্টন নিয়ে আগেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে (Lok Sabha Speaker Letter) নির্বাচনের পর কংগ্রেসের এই ভোলবদলে রাহুল গান্ধীর দলের  সঙ্গে পাকাপাকিভাবে গাঁটছড়া ছিন্ন হয়ে গিয়েছে ডিএমকের। কংগ্রেস নেতারা এই সিদ্ধান্তকে ‘জনগণের রায়কে সম্মান জানানো’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ ফ্রন্ট গঠনে’র পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও ডিএমকের দাবি, “নিষ্ঠার জন্য বড় মূল্য চোকানোর পর এই আচরণ সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা (DMK)।”

     

  • BJP: কার্তিগাই দীপম জ্বালানোর অনুমতি বহাল মাদ্রাজ হাইকোর্টের, “সত্যমেব জয়তে” বলল বিজেপি

    BJP: কার্তিগাই দীপম জ্বালানোর অনুমতি বহাল মাদ্রাজ হাইকোর্টের, “সত্যমেব জয়তে” বলল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিরুপ্পরঙ্কুন্দ্রম পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত পাথরের স্তম্ভে ঐতিহ্যবাহী কার্তিগাই দীপম প্রজ্বলনের নির্দেশ বহাল রাখল মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ (Madras HC)। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ধর্মীয় আচার পালনের ফলে শান্তি বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হবে, রাজ্য সরকারের এমন আশঙ্কার কোনও ভিত্তিই নেই। বিচারপতিরা বলেন, বহু (BJP) বছরের ঐতিহ্যবাহী এই আচার শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হয়ে এসেছে।

    বিজেপির নিশানায় কংগ্রেস-ডিএমকে (BJP)

    আদালতের রায় বের হওয়ার পরেই ডিএমকে এবং কংগ্রেসকে নিশানা করেছে বিজেপি। আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বিজেপি নেতা সিআর কেশবন ডিএমকে এবং কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ডিএমকে এবং কংগ্রেসের তোষণমূলক রাজনীতি আজ তামিলনাড়ুর মানুষের সামনে প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে।” কেশবনের দাবি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নেওয়ার ফলেই এই দলগুলি জনসমর্থন হারাচ্ছে। কার্তিগাই দীপম তামিল সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব, যা বিশেষ করে তিরুপ্পরঙ্কুন্দ্রম পাহাড় ও তিরুভান্নামালাইয়ে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। আদালতের এই রায়কে ঐতিহ্য রক্ষার বড় জয় হিসেবেই দেখছেন ভক্তরা।

    সত্যমেব জয়তে!

    কার্তিগাই দীপম ইস্যুতে তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে (Madras HC) তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির এই শীর্ষ নেতা। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি এই ঘটনাকে ডিএমকে সরকারের তোষণমূলক ও বিভাজনমূলক রাজনীতির বড় পরাজয় বলে দাবি করেন (BJP)। বিজেপি নেতা লেখেন, সত্যমেব জয়তে! তামিল জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে বারবার আঘাত হানছে এমন ডিএমকে সরকারের সাম্প্রদায়িক তোষণনীতির বিরুদ্ধে এটি এক বিশাল পরাজয়।” তিনি আরও বলেন, “ডিএমকে সরকারকে অবিলম্বে কোটি কোটি হিন্দু ভক্তের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ বারবার তাঁদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতিকে অপমান করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, থিরুপারানকুন্দ্রম পাহাড়ের দীপথূন (Deepathoon)-এ পবিত্র কার্তিগাই দীপম প্রজ্বলিত হবে এবং তা আবারও গৌরবের সঙ্গে পাহাড়চূড়ায় আলোকিত হয়ে উঠবে। বিজেপির ওই নেতার আরও অভিযোগ, “ডিএমকে এবং কংগ্রেসের দ্বিচারী, বিপজ্জনক এবং বিভাজনমূলক রাজনীতি আজ সাধারণ মানুষের কাছে পুরোপুরি উন্মোচিত হয়ে গিয়েছে (Madras HC)।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এদিকে, মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চের রায়ের প্রশংসা করলেন তামিলনাড়ুর বিজেপি সভাপতি কে অন্নামালাই-ও। তিনি বলেন, “থিরুপারানকুন্ড্রাম পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত ‘দীপাথুন’ যে মন্দিরেরই সম্পত্তি, এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে (BJP) দিয়েছে আদালত।

    অন্নামালাইয়ের বক্তব্য

    ডিএমকে সরকারের দাখিল করা আপিল এবং বিচারপতি জিআর স্বামীনাথনের আগের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একাধিক আবেদন খারিজ করে দেয় মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ। এই রায়ের পর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে অন্নামালাই বলেন, “সম্মানীয় বিচারপতিরা তাঁদের রায়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একটি শক্তিশালী রাজ্য সরকার এই আশঙ্কা পোষণ করতে পারে যে বছরে মাত্র একদিন মন্দিরের প্রতিনিধি ও ভক্তদের একটি পাথরের স্তম্ভে প্রদীপ জ্বালানোর অনুমতি দিলে শান্তি বিঘ্নিত হবে (Madras HC)?” আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ধরনের অশান্তি কেবল তখনই ঘটতে পারে, যদি রাজ্য সরকার নিজেই তাতে ইন্ধন জোগায় (BJP)।” অন্নামালাই জানান, আদালত আরও পরিষ্কার করে দিয়েছে যে থিরুপারানকুন্ড্রাম পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত দীপাথুন সম্পূর্ণভাবে মন্দিরের সম্পত্তি। ডিএমকে সরকারকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে আদালত বলেছে, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে সরকার যেন এমন নিচু স্তরে না নামে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছিল, তা আদতে “একটি কল্পিত ভূত”, যা প্রশাসন নিজের সুবিধার জন্য তৈরি করেছে এবং যার মাধ্যমে এক সম্প্রদায়কে অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর আশঙ্কা রয়েছে (Madras HC)।

    দীপাথুনে দীপ জ্বালানোর অধিকার

    অন্নামালাই বলেন, “এই রায় রাজ্যের সাংবিধানিক নীতির জয় এবং ধর্মীয় অধিকারের সুরক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ নজির।” তাঁর আশা, তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকার অবিলম্বে তাদের প্রকাশ্য ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করবে এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মান জানাবে। তিনি বলেন, “আদালত যেহেতু যথাযথভাবে রায় দিয়ে ভগবান মুরুগার ভক্তদের দীপাথুনে (Deepa Thoon) দীপ জ্বালানোর অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাই সরকারকে এখন ভক্তদের সেই ধর্মীয় আচরণে বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে (BJP)। আন্নামালাইয়ের মতে, দীপাথুনে দীপ জ্বালানো শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় প্রথা নয়, বরং এটি ভক্তদের বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আদালতের রায়ের পরেও যদি রাজ্য সরকার এতে হস্তক্ষেপ করে, তবে তা হবে আইনের শাসনের সরাসরি লঙ্ঘন।

    ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ!

    তিনি বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার কোনওভাবেই ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না এবং আদালতের নির্দেশ মেনে চলাই সংবিধানসম্মত পথ।” তামিল অভিনেতা বিজয়ের পার্টি তামিলগা ভেট্ট্রি কাজগম (TVK) বিজেপি এবং ডিএমকে – উভয় দলকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে। দলের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ইস্যুটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে দুই প্রধান দলই (Madras HC)। টিভিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “এই ইস্যুকে সামনে রেখে আসন্ন নির্বাচনের জন্য একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাস্তবে এই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও আগ্রহই নেই (BJP)।”

    দলটির আরও অভিযোগ, ডিএমকে ইচ্ছাকৃতভাবেই এই ইস্যুটিকে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে চাইছে। টিভিকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ডিএমকে এই বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত করবে- এটাই তাদের রাজনৈতিক কৌশল।” টিভিকের মতে, সাধারণ মানুষের প্রকৃত সমস্যা ও স্বার্থের বদলে রাজনৈতিক লাভের জন্য ইস্যুকে ঘনীভূত করা হচ্ছে, যা আদতে গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর (Madras HC)।

LinkedIn
Share