মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Unilateral Sanctions) অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকসের (BRICS) সদস্য দেশগুলি। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সুরক্ষাবাদী নীতিতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জোটটি। ব্রিকসের নেতাদের আশঙ্কা, নির্বিচারে শুল্ক বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব বাণিজ্য বাধার নামে আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির ক্ষতি করছে।
নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র (BRICS)
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে নেতারা বলেন, বিশ্বব্যাপী বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। বিভিন্ন দেশ ক্রমশ এমন সব বাণিজ্য-নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের পরিপন্থী।
ব্রিকসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হঠাৎ করে শুল্ক বৃদ্ধি, শুল্ক-বহির্ভূত বাণিজ্য বাধা এবং পরিবেশগত পদক্ষেপের আড়ালে সুরক্ষাবাদী বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে, দেশগুলির মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য আরও গভীর করছে এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
বিশ্ববাজারকে সুরক্ষিত রাখতে ব্রিকস দেশগুলি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে বাণিজ্যগত অস্থিরতার প্রতি আরও কার্যকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনৈতিক ও উন্নয়নগত প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন বা ম্যান্ডেটের বাইরে আরোপিত একতরফা ও গৌণ নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। ব্রিকস নেতাদের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদের পরিপন্থী।
নেতারা আরও উল্লেখ করেন, একতরফাভাবে আরোপিত এসব বিধিনিষেধ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলির অংশীদারিত্ব ক্রমশ বাড়ছে
বিশ্ব অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস (BRICS)। ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধিতে উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির অংশীদারিত্ব ক্রমশ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ব্রিকস। এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও দ্রুত কার্যকর, দক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্দেশ্যোপযোগী, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রতিনিধিত্বশীল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে বর্তমানের যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে, সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন যাতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলির পরিচালন কাঠামোয় দেখা যায়, তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
ব্রিকসের পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছে, ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠানগুলিতে উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলির কণ্ঠস্বর এবং প্রতিনিধিত্ব বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে আরও বেশি আঞ্চলিক বৈচিত্র্য এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস। একটি আরও শক্তিশালী, উন্মুক্ত, ন্যায্য, স্বচ্ছ, সুবিচারপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, পূর্বানুমানযোগ্য এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকেই রাখার কথা বলা হয়েছে।
ব্রিকস অবিলম্বে কার্যকর, সহজলভ্য এবং সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় দুই-স্তরবিশিষ্ট বাধ্যতামূলক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি, আর কোনও বিলম্ব না করে আপিল সংস্থার নতুন সদস্য নিয়োগেরও দাবি জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অষ্টাদশ ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এবারের সম্মেলনের থিম হল স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের ভিত্তিতে (Unilateral Sanctions) ভবিষ্যৎ নির্মাণ।
