Tag: tariffs

  • US: ট্রাম্প-আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা মার্কিন শীর্ষ আদালতের, কী বলল ভারত?

    US: ট্রাম্প-আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা মার্কিন শীর্ষ আদালতের, কী বলল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন (US) সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এরপর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, এই রায়ের প্রভাব কী হতে পারে তা তারা খতিয়ে দেখছে। মন্ত্রক বলেছে, “আমরা গতকাল (শুক্রবার) শুল্ক সংক্রান্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় লক্ষ্য করেছি। এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন।” তারা আরও জানিয়েছে, “মার্কিন প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের করার কথা ঘোষণা করেছে। এই সব পদক্ষেপের প্রভাব আমরা পর্যালোচনা করছি।”

    সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য (US)

    শুক্রবার, রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট ছয়–তিন ভোটে রায় দেয় যে ১৯৭৭ সালের যে আইনের ভিত্তিতে ট্রাম্প পৃথক পৃথক দেশের ওপর হঠাৎ শুল্ক আরোপ করেছিলেন—যার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল—সেই আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের অনুমোদন দেয় না। ট্রাম্প এই রায় দেওয়া বিচারকদের মধ্যে দু’জনকে মনোনীত করেছিলেন। এদিনের ঘটনার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া, আদালত বিদেশি স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের জন্য সঠিক কাজ করার সাহস না দেখানোয় আদালতের কিছু সদস্যের জন্য আমি লজ্জিত—পুরোপুরি লজ্জিত।” ট্রাম্প আরও বলেন, “দেশকে রক্ষা করার জন্য একজন প্রেসিডেন্ট অতীতে আমার আরোপিত শুল্কের চেয়েও বেশি শুল্ক আরোপ করতে পারেন।” তিনি বলেন, এই রায় তাঁকে আরও শক্তিশালী করেছে (US)। ডালাসের ইকোনমিক ক্লাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, “বিকল্প পদ্ধতিতে ২০২৬ সালে শুল্ক আয়ে কার্যত কোনও পরিবর্তন হবে না (Supreme Court)।”

    নয়া শুল্ক আরোপ

    ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার অধীনে নতুন শুল্ক আরোপ করেন। এই ধারা প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক পরিশোধ-সংক্রান্ত মৌলিক সমস্যার মোকাবিলায় অতিরিক্ত শুল্ক ও বিশেষ আমদানি-নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয়। ১২২ ধারা অনুযায়ী, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বড় ও গুরুতর পরিশোধ-ঘাটতি অর্থাৎ যখন আমদানি রফতানির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়—মোকাবিলার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অস্থায়ী শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বিস্তৃত শুল্কনীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর তিনি আমেরিকায় আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেন। এর ফলে ভারতের ওপর শুল্কহার ১৮ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। নতুন শুল্ক নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করার পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, “এটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে (US)।”

    হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, নয়া শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর হবে। তবে পৃথক তদন্তাধীন খাত—যেমন ফার্মাসিউটিক্যাল—এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো–কানাডা চুক্তির আওতায় (Supreme Court) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় বহাল থাকবে (US)।

     

  • Marco Rubio: রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে বড় স্বীকারোক্তি মার্কো রুবিও-র, বিরোধীদের থোঁতা মুখ হল ভোঁতা

    Marco Rubio: রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে বড় স্বীকারোক্তি মার্কো রুবিও-র, বিরোধীদের থোঁতা মুখ হল ভোঁতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত শুধু এই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে যে তারা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ আর বাড়াবে না। তেল কেনা বন্ধ হবে এমন কোনও প্রতিশ্রুতি নয়াদিল্লির তরফে দেওয়া হয়নি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে।” মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর এহেন মন্তব্য ভারত- রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তাতে আরও ইন্ধন জোগাল বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    কী বললেন রুবিও (Marco Rubio)

    রুবিও বলেন, “ভারত শুধু এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ বাড়াবে না।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নয়াদিল্লি মস্কো থেকে সম্পূর্ণভাবে তেল কেনা বন্ধ করার কোনও প্রতিশ্রুতিই দেয়নি। এমন কিছু নেই-ও ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে। তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি সেই রাজনৈতিক দাবিগুলির দাবিকেই খণ্ডন করে, যেখানে বলা হচ্ছিল যে মার্কিন চাপের মুখে ভারত পুরোপুরি রুশ তেল আমদানি বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। বৈশ্বিক নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুবিও বলেন, “ওয়াশিংটন ভারতের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি পেয়েছে যে তারা অতিরিক্ত রুশ তেল কিনবে না। এখানে মূল শব্দটি হল “অতিরিক্ত”।

    তেল আমদানি চালিয়ে যাবে ভারত

    এর অর্থ, ভারত বর্তমানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লাখ ব্যারেল হারে তেল আমদানি চালিয়ে যাবে, তবে এর বেশি বাড়াবে না। রুবিও এরও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও ইউক্রেনকে সমর্থন জানানো অব্যাহত রাখলেও, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং চাপ – উভয়ই থাকবে।” এই সম্মেলনেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ভারতের জ্বালানি নীতি নির্ধারিত হয় মূল্য, সরবরাহের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে, বাইরের কোনও চাপের ভিত্তিতে নয়।” তিনি বলেন, “ভারত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অনুসরণ করে, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ মাথায় রেখে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।” তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে ভারত রুশ তেলের ওপর কোনও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা মেনে নেয়নি।

    কংগ্রেসের সমালোচনা

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দল নিরন্তর মোদি সরকারের সমালোচনা করে চলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করবে ভারত কোথা থেকে তেল কিনবে।” তাঁর দাবি, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন।” কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশও বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, “সংসদকে কি জানানো হয়েছে যে সরকার রুশ তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে?” এই মন্তব্যগুলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের একাংশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এমন ধারণা তৈরি হয় যে ভারত রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করেছে। রুবিওর ব্যাখ্যা এখন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এমন কোনও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় ভারত রাজি হয়নি।

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ

    ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল ব্যবহার করে, যার ৮০–৮৫ শতাংশই আমদানি-নির্ভর। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া সস্তায় তেল সরবরাহ করেছে, যা অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় ব্যারেল প্রতি ২০–৩০ মার্কিন ডলার কম ছিল। এর ফলে ভারত জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে, মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ভারতে রুশ তেল সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২০.৯ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমলেও তা বাজারদর পরিবর্তন ও সরবরাহের বহুমুখীকরণের কারণে, রাজনৈতিক চাপে নয়। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল। তবে অতিনির্ভরতা এড়াতে ভারত মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকেও আমদানি বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় ফেরার পর বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। তাঁর প্রশাসন ২০২৫ সালের অগাস্টে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়িয়েছিল, যা অনেকেই ভারতের রুশ তেল নির্ভরতা কমানোর চাপ হিসেবে দেখেন।

    রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য

    ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন যে, ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধে রাজি হয়েছে। তবে পরবর্তী আলোচনার ফলে একটি সংশোধিত বাণিজ্য সমঝোতা হয়, যাতে শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয় এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা তুলে নেওয়া হয়। অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ভারত রুশ তেলের ওপর কোনও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেনি। বরং শুধু বর্তমান পরিমাণের বেশি না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এমনকি রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও বলেছেন, “ভারতের সম্পূর্ণ অবরোধের দাবি মস্কোর পক্ষ থেকে আসেনি।” এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে, পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি ভারত কীভাবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ও নিজের জ্বালানি নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছে। মিউনিখে রুবিওর বক্তব্য বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে। তিনি জানান, ভারত রুশ তেল কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। কেবল আমদানি বর্তমান স্তরে স্থির রাখার কথা বলেছে। এই মুহূর্তে নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট, জ্বালানি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সাশ্রয়ী মূল্য, প্রাপ্যতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও।

  • India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং আমেরিকার অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির (India-US Trade Deal) ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য আগের থেকে অনেকাংশেই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। হবে নতুন কর্মসংস্থান। এমনকী কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বিরাট লাভ করবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি ডলারের মার্কিন বাজার উন্মুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। শনিবারই ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করল হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তি দু’দেশের সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    যৌথ বিবৃতিতে কী বলা হল

    ভারত ও আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে জানানো হয়েছে, এটি একটি ‘পারস্পরিক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য’ ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারত সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বৃহত্তর ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বা বিটিএ (BTA) নিয়ে চলা আলোচনায় দু’দেশের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হল। এই চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার মিলবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে। ভারতের পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্কে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র, ভবিষ্যতে আরও ছাড় বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি । ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এই অন্তর্বর্তী চুক্তি আমাদের অংশীদারিত্বে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠবে। পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রতি উভয় দেশের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটাবে এই চুক্তি।” দু’দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে এই অন্তবর্তী চুক্তি ভারসাম্য রক্ষা করবে বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে এই চুক্তির সূত্রপাত করবেন, তাও এই বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চুক্তি কাঠামো অনুযায়ী ভারত আমেরিকার বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিলোপ করবে। ভারতের উপর চাপানো বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কও আমেরিকার বিলোপ করবে, তা নেমে আসবে ১৮ শতাংশে। যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে, ভারত আমেরিকা থেকে পশুখাদ্য আমদানি করবে। পশুখাদ্যের মধ্যে সয়াবিন, ভুট্টা, গম, বার্লি, মাছের মতো বহু উপাদান অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

    দেশবাসীর কত লাভ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোক্তা, এমএসএমই, স্টার্টআপ ইনোভেটর এবং মৎস্যজীবীদের নতুন সুযোগ এনে দেবে। শুধু তাই নয়, এই চুক্তির জন্য প্রচুর চাকরি হবে। তার ফলে যুব সমাজ-মহিলারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও আমেরিকার জন্য দারুণ খবর! আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে সম্মতি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের পরিশ্রমী কৃষক, উদ্যোগপতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), স্টার্টআপ উদ্ভাবক, মৎস্যজীবীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।

    বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ

    মোদি বলেন, ভারত ও আমেরিকা উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এই বাণিজ্য কাঠামো দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে। পাশাপাশি, এটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। তিনি আরও বলেন, “একটি বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পথে, আমরা ভবিষ্যতমুখী বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা আমাদের জনগণকে ক্ষমতায়িত করবে এবং যৌথ সমৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার জানিয়েছেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোগপতি ও নতুন স্টার্টআপগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং নারী ও যুবসমাজের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

    ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার

    এই চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার। তাঁর আরও বিশ্বাস এই রফতানি বৃদ্ধির ফলে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প এবং কৃষকদের বেশি লাভ হবে। যার ফলে সারা দেশে কোটি কোটি চাকরি তৈরি হতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমেরিকার সঙ্গে অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফ্রেমওয়ার্কও তৈরি করে ফেলেছে ভারত। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে মহিলা ও যুবকদের জন্য। তাঁর দাবি, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত পালটা শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাবে। এর ফলে টেক্সটাইল ও পোশাক, চামড়া ও জুতো, প্লাস্টিক ও রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে বড় সুযোগ তৈরি হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন

    যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তি-কেন্দ্রিক উদ্যোগের ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দরজা মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকদের জন্য খুলে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, এতে সমস্ত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমবে। তিনি আরও বলেন, এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীরতর সম্পর্কেরই প্রতিফলন, যার মাধ্যমে উভয় দেশের কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল-কে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের লক্ষ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    চুক্তির মূল শর্তগুলি

    এই চুক্তি-কাঠামোর আওতায় ভারত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং একাধিক কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা তুলে নেবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিডিজি, পশুখাদ্যের জন্য লাল জোয়ার, বিভিন্ন বাদাম, ফল, সয়াবিন তেল, মদ ও স্পিরিট। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ পালটা শুল্ক আরোপ করবে। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, প্লাস্টিক, রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং কিছু যন্ত্রাংশ।চুক্তি চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র জেনেরিক ওষুধ, রত্ন ও হীরে এবং বিমান যন্ত্রাংশের মতো একাধিক ভারতীয় রফতানির উপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে। পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে আরোপিত কিছু বিমান ও বিমান যন্ত্রাংশের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত বিশেষ শুল্ক কোটার সুবিধা পাবে। জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান নিয়েও আলোচনা চলবে।

    ‘রুলস অব অরিজিন’- যৌথ বাণিজ্যের নানা নিয়ম

    ভারত-আমেরিকা যৌথ বাণিজ্যে দু’দেশ একে অপরকে অগ্রাধিকারমূলক বাজারে প্রবেশাধিকার দেবে। ‘রুলস অব অরিজিন’-এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে সব নিয়ম। ভারত মার্কিন চিকিৎসা যন্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া এবং কৃষিপণ্য সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি মান ও সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হবে, যাতে নিয়ম মেনে চলা সহজ হয়। ভবিষ্যতে যদি কোনও পক্ষ শুল্ক পরিবর্তন করে, তবে অন্য পক্ষও তার প্রতিশ্রুতি সমন্বয় করতে পারবে। বৃহত্তর বিটিএ-র আওতায় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াতে আলোচনা চলবে। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ আলোচনায় ভারতীয় রফতানির উপর শুল্ক কমানোর অনুরোধও বিবেচনা করবে। বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার অংশ হিসেবে দু’দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করবে। বিনিয়োগ পর্যালোচনা ও রফতানি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা বাড়াবে দুই দেশ। ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের শক্তি, বিমান, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য ও কোকিং কয়লা কেনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি জিপিইউ ও ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম-সহ প্রযুক্তি পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে। ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বৈষম্যমূলক নীতি তুলে নেওয়া এবং বিটিএ-র আওতায় পারস্পরিকভাবে লাভজনক ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ম তৈরির বিষয়ে দু’দেশ একমত হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই কাঠামো শীঘ্রই কার্যকর করা হবে এবং একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও চলতে থাকবে।

     

     

     

     

  • Canada PM: আমেরিকার নাগপাশ কাটাতে মার্চে ভারত সফরে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী, একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    Canada PM: আমেরিকার নাগপাশ কাটাতে মার্চে ভারত সফরে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী, একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সফরে আসতে পারেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী (Canada PM) মার্ক কার্নি। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরে আসার কথা তাঁর। জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, পারমাণবিক সহযোগিতা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে একাধিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ পট্টনায়েক (Trump Tariffs)। এই সফর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করার ক্ষেত্রে কানাডার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, আমেরিকা বর্তমানে কানাডার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

    ভারতের হাইকমিশনারের বক্তব্য (Canada PM)

    পট্টনায়েক জানান, সফরকালে মার্ক কার্নি ভারতের সঙ্গে ইউরেনিয়াম সরবরাহ, তেল ও গ্যাস, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিতে সই করতে পারেন। প্রস্তাবিত চুক্তিগুলির মধ্যে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের ১০ বছরের একটি ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এদিকে, চলতি সপ্তাহে ভারত সফররত কানাডার জ্বালানিমন্ত্রী টিম হজসন বলেন, “ভারত-কানাডার পারমাণবিক চুক্তির আওতায় পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে, তবে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিধি মেনে চলার শর্তে।” তিনি আরও জানান, জ্বালানি ও খনি খাত হবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস লেনদেনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতি

    জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর কার্নি দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ট্রুডো ২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিলেন, যা ভারত অস্বীকার করেছিল (Trump Tariffs)। পট্টনায়েক জানান, ভারত ও কানাডার মধ্যে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা মার্চ মাসে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে স্থগিত থাকা এই বাণিজ্য আলোচনা গত নভেম্বরে পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর মতে, আলোচনা শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যেই সিইপিএ চূড়ান্ত করা সম্ভব (Canada PM)।

    বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা

    কার্নি কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা আর কার্যকর নেই। গত সপ্তাহে সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি মধ্যম শক্তিধর দেশগুলির প্রতি নতুন জোট গঠনের আহ্বান জানান, যাতে আরও স্থিতিশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। এই উদ্যোগ এমন একটা সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কানাডা যদি চিনের সঙ্গে চুক্তি করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর শুল্ক আরোপ করতে পারে।” এ প্রসঙ্গে পট্টনায়েক বলেন, “বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে ভারত ও কানাডা দ্রুত নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তৎপর হয়েছে।”

    তিনি জানান, আগামী মাসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ওটাওয়া সফর করতে পারেন। সফরকালে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনেরও শীঘ্রই কানাডা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। নিজ্জর হত্যা মামলা প্রসঙ্গে পট্টনায়েক বলেন, “কানাডায় চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।” তিনি জানান, যদি তদন্তে কোনও ভারতীয় নাগরিকের জড়িত থাকার (Trump Tariffs) প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ভারত যথাযথ ব্যবস্থা নেবে (Canada PM)।

  • India: নজরে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ইউরোপ থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক ব্যাপক কমানোর পথে ভারত?

    India: নজরে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ইউরোপ থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক ব্যাপক কমানোর পথে ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) (EU) থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে শুল্ক কমাতে পারে ভারত (India)। প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুযায়ী, বর্তমানে সর্বোচ্চ ১১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে তা ৪০ শতাংশে নামানো হতে পারে। একাধিক সূত্রের খবর, এই চুক্তি মঙ্গলবারের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে। সূত্র অনুযায়ী, সরকার অবিলম্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ থেকে সীমিত সংখ্যক গাড়ির ওপর শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে, তবে শর্ত হল, গাড়িগুলির আমদানি মূল্য প্রায় ১৬.৩ লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে হবে। পর্যায়ক্রমে এই গাড়িগুলির ওপর শুল্ক আরও কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সবচেয়ে বড় উদারীকরণ (India)

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈশ্বিক উদ্বেগের আবহে এই সিদ্ধান্তকে ভারতের কড়া সুরক্ষিত অটোমোবাইল বাজারে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উদারীকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারত–ইইউ বাণিজ্য আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে শুল্ক হ্রাসের ফলে ফোক্সভাগেন, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউর মতো ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে। উল্লেখ্য, এই সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই আমদানি শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রক বা ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

    ভারতের উদ্দেশ্য

    বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে নির্মিত গাড়ির ওপর বিশ্বের সর্বোচ্চ আমদানি শুল্কগুলির মধ্যে পড়ে ভারতও। এর উদ্দেশ্য, দেশীয় গাড়ি নির্মাতাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং দেশে উৎপাদনকে উৎসাহিত করা। ফলে শুল্কে বড় ধরনের কাটছাঁট হলে অটোমোবাইল শিল্প, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবাহে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বলেই অনুমান বিশেষজ্ঞদের (India)। এই ঘটনাপ্রবাহ এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন চার দিনের সফরে ভারতে রয়েছেন। এই সফরের উদ্দেশ্য ভারত–ইইউ সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণে একাধিক বড় উদ্যোগ চূড়ান্ত করা। ভন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এবং বাণিজ্য আলোচনার জন্য ভারতে এসেছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁদের শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা।

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই বৈঠকেই বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করবে বলেই আশা। পাশাপাশি একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব এবং ভারতীয় পেশাদারদের চলাচল সহজ (EU) করতে একটি কাঠামোও ঘোষণা করা হতে পারে (India)।

  • EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (EU) ঘোষিত নয়া শুল্ক আরোপের পর তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে (US Tariffs) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন করা ইউরোপীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপের ঘোষণার ফলে ২৭ সদস্যের এই জোটের নেতাদের মধ্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে এবং এর মধ্যে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি (EU)

    এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ঘিরে প্রথমবারের মতো ইইউ তাদের তথাকথিত ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের কথা ভাববে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনও সমঝোতা না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।” ট্রাম্প দাবি করেন, ডেনমার্কের অধীনস্থ এই ভূখণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে এসব ইউরোপীয় দেশের অবস্থানের পরেই এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হয়েছে।

    ট্রেড বাজুকা’

    ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কে দ্রুত চাপ সৃষ্টি হয় এবং রবিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকে ডাকা হয় (US Tariffs)। বৈঠকে তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, “ইইউর ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রথমবারের মতো ব্যবহারের এখনই সময় (EU)।” ‘ট্রেড বাজুকা’ বলতে বোঝানো হয় অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট (ACI)—একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য ইইউকে অ-ইইউ দেশগুলির অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্ষম করে তোলা। এই ব্যবস্থার আওতায় ইইউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারবে, ইউরোপের একক বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলির প্রবেশ সীমিত করতে পারবে এবং লাভজনক ইইউ চুক্তির দরপত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্যই হল স্পষ্ট বার্তা দেওয়া—ইইউ তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইইউ কর্তারা জানিয়েছেন, ‘ট্রেড বাজুকা’ কেবল শুল্ক আরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর মধ্যে রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধও থাকতে পারে (EU)।

    সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতা

    জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতার কারণে যে ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পাল্টা শুল্ক আরোপ স্থগিত (US Tariffs) রাখা হয়েছিল, ইইউ এখন সেগুলি কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বর্তমান পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের কোনও বিরোধেই এত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি (EU)। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ আলোচনার ওপর। তবে ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুল্কের হুমকি বহাল রাখে বা আরও বাড়ায়, তাহলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রবিবার আটটি ইউরোপীয় দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।” এতে আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা স্বার্থের কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়।

    আর্কটিক নিরাপত্তা

    ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি জানায়, আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করাকে তারা একটি অভিন্ন ট্রান্স-আটলান্টিক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে (EU)। বিবৃতিতে এই বলেও সতর্ক করা হয়, ওয়াশিংটনের শুল্ক হুমকি দীর্ঘদিনের মিত্রতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এর ফলে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী চক্র শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে (US Tariffs)। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তা বলেন, “নতুন শুল্ক হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ইইউ কঠোর অবস্থান নেবে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শুল্ক আরোপ ইউরোপ–আমেরিকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” এদিকে, ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রবিবার ফোনে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ভুল এবং এটি ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে (EU)।”

    ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতি

    ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরো-আটলান্টিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সব ন্যাটো মিত্রেরই অগ্রাধিকার।” এতে আরও বলা হয়, যৌথ ন্যাটো নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করার জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক চাপানো কোনওভাবেই যুক্তিযুক্তি ন্যায্য নয় (US Tariffs)। ইইউ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির জবাবে ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা স্থগিত রাখবেন। গত বছরের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই আলোচনা স্থগিত বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইউরোপীয় পিপলস পার্টির সহ-সভাপতি সিগফ্রিড মুরেসেন (EU)। মুরেসেন জানান, ইইউ দ্রুত আমেরিকার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইইউয়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আপাতত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বাণিজ্য আলোচনা

    প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছিল গত বছরের জুলাই মাসে। একে ট্রান্সআটলান্টিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েই গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে(EU)। ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে চিন ও রাশিয়া তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদ একে আমেরিকার নিরাপত্তা স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (US Tariffs)। ডেনমার্ক ও ইইউ ট্রাম্পের এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় জার্মানি, সুইডেন ও ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে ছোট আকারের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বলেও অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর। তাদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের মতো ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও আরও আক্রমণাত্মক কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেন। ডেনমার্কও ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে।

    উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা

    কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সতর্ক করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যদি ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) ভেঙে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইইউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে (US Tariffs)। উল্লেখ্য, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে গুগল, মেটা এবং এক্সের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ ইউরোপজুড়ে তাদের বিশাল ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। ইউরোপীয় কর্তাদের মতে, ওয়াশিংটনকে আরও উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত রাখতে শক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা জরুরি হতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই

    এদিকে, একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই। কারণ চড়া শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। লেগো ও ফেরারির মতো বিলাসবহুল ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান বিরোধ ন্যাটোর ভাঙন ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক দেশই মনে করে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না (US Tariffs)। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলেও অভিমত। কারণ এই ধরনের অবস্থার মধ্যে আলোচনা চালিয়ে গেলে তা মার্কিন প্রশাসনের আরও একতরফা ও অস্থিতিশীল পদক্ষেপকে উৎসাহিত করবে বলেই আশঙ্কা।

     

  • Trump Tariffs: মার্কিন রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই রাশিয়ান তেল কেনা বাড়িয়েছে ভারত

    Trump Tariffs: মার্কিন রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই রাশিয়ান তেল কেনা বাড়িয়েছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন রক্তচক্ষু (Trump Tariffs) উপেক্ষা করেই চলতি মাসে ভারত ব্যাপকভাবে আমদানি বাড়িয়েছে রাশিয়ান তেলের (Russian Oil)। ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলি প্রতিদিন রাশিয়া থেকে প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনছে। অগাস্টের তুলনায় চলতি মাসে বৃদ্ধির হার ২০ শতাংশ।

    বাড়তি ছাড় (Trump Tariffs)

    এই বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হল ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য রাশিয়ার দেওয়া বাড়তি ছাড়। জুলাই মাসে যেখানে প্রতি ব্যারেলে ছাড়ের পরিমাণ ছিল ১ থেকে ২.৫ মার্কিন ডলার, সেখানে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩–৪ ডলার। এর ফলে আগামী মাসগুলিতেও ভারতে যে রাশিয়ান তেলের প্রবাহ বজায় থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়ান তেল আমদানি করায় ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। বর্তমানে ভারত ও ব্রাজিল এই দুই দেশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব চেয়ে বেশি শুল্কের মুখোমুখি, উভয়ের ক্ষেত্রেই এই হারের পরিমাণ ৫০ শতাংশ। তবুও ভারত এখনও রাশিয়া থেকেই অন্য যে কোনও সরবরাহকারীর তুলনায় বেশি অপরিশোধিত তেল কিনছে। ভারতীয় রিফাইনারিগুলি সরবরাহের উৎসকে বৈচিত্র্যময় করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও আফ্রিকান কয়েকটি দেশ থেকেও তেল কেনা বাড়িয়েছে ভারত।

    বাজার দর

    সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাজার দর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৬৮.৪৫ মার্কিন ডলার। রাশিয়ার ইউরালস প্রকারভেদ, যা ভারত বিপুল পরিমাণে আমদানি করে, তার দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৬২.৮৯ মার্কিন ডলার। এর ওপর মস্কো অতিরিক্ত ৩–৪ ডলার ছাড় দিচ্ছে (Russian Oil)। তাই ভারতীয় জীবাশ্ম জ্বালানি কিনতে ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে ব্যারেল প্রতি ৫৮–৫৯ ডলার (Trump Tariffs)। সম্প্রতি ব্রেন্ট ও ইউরালসের বাজার মূল্যের ব্যবধান গড়ে প্রায় ৬ মার্কিন ডলার হয়েছে।
    বর্তমানে ব্রেন্টের দাম প্রতি ব্যারেল ৬৬.৬৮ মার্কিন ডলার, আর ইউরালসের দাম ৬৩.১৯ মার্কিন ডলার। রাশিয়ার সর্বশেষ দেওয়া ছাড় হিসেব করলে দেখা যায় ভারতীয় কোম্পানিগুলি প্রতি ব্যারেল মাত্র ৫৯–৬০ মার্কিন ডলারে চুক্তি করছে। এটি রাশিয়ার তেল সরবরাহকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে (Trump Tariffs)।

  • Indian Goods: ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের পথে ট্রাম্প?

    Indian Goods: ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের পথে ট্রাম্প?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অটল জেদের কাছেই হার মানতে চলেছেন মার্কিন (US) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! অন্তত ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি আনন্দ নাগেশ্বরনের বলা কথায় মিলল তারই ইঙ্গিত। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, তিনি আশা করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই ভারতীয় পণ্যের (Indian Goods) ওপর আরোপিত শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করবে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পারস্পরিক শুল্ক কমাবে। নাগেশ্বরনের বক্তব্যে আশার আলো দেখছেন চড়া শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রফতানিকারীরা।

    ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার বক্তব্য (Indian Goods)

    নয়াদিল্লির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাগেশ্বরন জানান, অগাস্ট মাসে ওয়াশিংটন যে ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল, তা নভেম্বরের শেষের দিকেই প্রত্যাহার করা হতে পারে। তিনি বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস ৩০ নভেম্বরের পর এই শাস্তিমূলক শুল্ক আর থাকবে না। এটি কোনও সুস্পষ্ট সূচক বা প্রমাণের ভিত্তিতে আমি বলছি না, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে এটি আমার আশা। আমি বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শাস্তিমূলক শুল্ক নিয়ে একটি সমাধান হবে এবং আশা করি পাল্টা শুল্ক সম্পর্কেও সমাধান হবে।”

    প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার ইঙ্গিত

    প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার ইঙ্গিত, পারস্পরিক শুল্ক, যা বর্তমানে ২৫ শতাংশ রয়েছে, তা কমিয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে আনা হতে পারে। তিনি জানান, সামগ্রিক শুল্কবিষয়ক বিরোধের সমাধান হতে পারে আগামী ৮–১০ সপ্তাহের মধ্যেই। তিনি অবশ্য এও জানিয়ে দেন, এটি তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তার ভিত্তিতে নয় (Indian Goods)। প্রসঙ্গত, নাগেশ্বরনের এই মন্তব্য এসেছে এমন একটা সময়, যার কয়েক দিন আগেই ভারতের প্রধান বাণিজ্য আলোচক, বাণিজ্য মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়াল নয়াদিল্লিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এটি ছিল ভারত ও আমেরিকার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক, যেহেতু ট্রাম্প প্রশাসন গত মাসে ভারতীয় রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত চড়া শুল্ক হার ঘোষণা করেছিল। কারণ হিসেবে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US) ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীনই মস্কো থেকে জ্বালানি বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে ভারত (Indian Goods)।

  • S Jaishankar: ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ মার্কিন শুল্কের তীব্র বিরোধিতা শি জিনপিংয়ের

    S Jaishankar: ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ মার্কিন শুল্কের তীব্র বিরোধিতা শি জিনপিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিশ্ব একটি সমষ্টি হিসেবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ খুঁজছে। তবে একই সময়ে এটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা যেন ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ হয় এবং সবার উপকারে লাগে।” ভার্চুয়াল ‘ব্রিকস’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে সোমবার কথাগুলি বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। ভারত ও অন্য কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর চড়া হারে শুল্ক (US Tariffs) আরোপের কারণে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঠিক সেই সময় জয়শঙ্করের এই কথাগুলি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    জয়শঙ্করের বক্তব্য (S Jaishankar)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিনিধি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অন্য রাষ্ট্রনেতারা। এই সম্মেলনেই জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে খোলা, ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ এবং বৈষম্যহীন রেখে সংরক্ষণ করা উচিত হবে।” তিনি বলেন, “যখন একাধিক ব্যাঘাত ঘটে, তখন আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এই ধরনের ঝুঁকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এর মানে হল আরও দৃঢ়, নির্ভরযোগ্য, অতিরিক্ত নিরাপত্তা-সহ এবং স্বল্প সরবরাহ শৃঙ্খলা তৈরি করা।”  প্রসঙ্গত, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ভার্চুয়াল ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন মার্কিন শুল্ক এবং বাণিজ্য নীতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য। কারণ এগুলিই বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।জয়শঙ্কর বলেন, “গঠনমূলক ও সহযোগিতামূলক পন্থার মাধ্যমে বিশ্বকে একটি মজবুত বাণিজ্য ক্ষেত্রে উন্নীত করতে হবে। ব্যাঘাত সৃষ্টি করা এবং লেনদেন জটিল করা কোনও সাহায্য করবে না। বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে অ-বাণিজ্যিক বিষয়গুলির সঙ্গে যোগ করলেও সুবিধা হবে না।”

    ভারতের বক্তব্য

    জয়শঙ্কর ব্রিকসের সদস্য দেশগুলিকে নিজেদের বাণিজ্য নীতি পুনঃপর্যালোচনা করে সদস্য দেশগুলির মধ্যে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ভারতের প্রসঙ্গে বলতে গেলে আমাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে কিছু ব্রিকস অংশীদারের সঙ্গে। আমরা দ্রুত সমাধানের জন্য চাপ দিচ্ছি। আমরা আশা করি, আজকের সভা থেকে এই উপলব্ধিটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে সামনে আসবে।” ভারতের বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্য (US Tariffs) ভারতের সঙ্গে চিনের বাড়তে থাকা বাণিজ্য ঘাটতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি (S Jaishankar) বলেন, “ভারত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে এটি সংরক্ষণ ও বিকাশ করা উচিত। শুধু তাই নয়, আজকের বিশ্ব পরিস্থিতি প্রকৃত উদ্বেগের কারণ।” কোভিড অতিমারি, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহে অস্থিরতা এবং চরম জলবায়ু ঘটনা, এসবই গত কয়েক বছরে বিশ্বের প্রধান চ্যালেঞ্জের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর। বলেন, “এই চ্যালেঞ্জগুলির মুখে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা বিশ্বকে ব্যর্থ করতে দেখা যাচ্ছে। এতগুলি গুরুতর সমস্যা অবহেলিত থেকে যাওয়ায় বিশ্বব্যবস্থার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।”

    চিন-ভারত কাছাকাছি

    এদিকে, বৈরিতা ভুলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে চিন। ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ মার্কিন শুল্কের তীব্র বিরোধিতা করেছে বেজিং। সোমবার চিনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের ভারতের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ অন্যায় শুল্কের তীব্র বিরোধিতা করে চিন। তাই ভারত ও চিনের উচিত এই চ্যালেঞ্জ এক সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা (US Tariffs)।” দুই পড়শি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে চিনা রাষ্ট্রদূত বলেন, “ভারত ও চিন উভয়ই সন্ত্রাসবাদের শিকার। এই (S Jaishankar) চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেজিং নয়াদিল্লি-সহ ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।” জাপানের বিরুদ্ধে চিনের বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার পর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার জন্য শুল্ককে এক ধরনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। দু’টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ভারত ও চিনের এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত।”

    নীতি পরিবর্তন ভারতের

    ভারতীয় পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ শুল্কহার চড়ানোর পর নীতি পরিবর্তন করেছে ভারত। প্রতিবেশী দেশ চিনের সঙ্গে পুরানো তিক্ততা ভুলে এখন সম্পর্কের উন্নতি করতে উদ্যোগী হয়েছে নয়াদিল্লি। চিন অ্যাপ-সহ তার অনেক পণ্যের জন্য খোলা হচ্ছে ভারতের দুয়ার। এর পাশাপাশি রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ওপরও দ্রুত কাজ করা হচ্ছে (US Tariffs)। এক কথায়, ভারতীয় পণ্যের ওপর চড়া মার্কিন শুল্কের কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পূরণের জন্য এখন সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ করছে কেন্দ্রীয় সরকার (S Jaishankar)।

  • Trump Tariffs: ট্রাম্পের শুল্ক-সংঘাতের জের, দেশজুড়ে ডাক মার্কিন পণ্য বয়কটের

    Trump Tariffs: ট্রাম্পের শুল্ক-সংঘাতের জের, দেশজুড়ে ডাক মার্কিন পণ্য বয়কটের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক (Trump Tariffs) আরোপ করার পর থেকে গোটা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে প্রবল আমেরিকা- বিরোধী মনোভাব। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর এই শুল্ক চাপানো হয়েছে, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ শুল্ক। এর ফলে পেপসি, কোকাকোলা, সাবওয়ে, কেএফসি এবং ম্যাকডোনাল্ডসের মতো মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলিকে বর্জন করার আওয়াজ উঠেছে ভারতে (Swadeshi Heat)।

    মার্কিন পণ্য বর্জনের ডাক (Trump Tariffs)

    যোগগুরু বাবা রামদেব ভারতীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই শুল্কের জবাবে যেন তাঁরা সব মার্কিন পণ্য বর্জন করেন। তিনি বলেন, “একজনও ভারতীয়কে পেপসি, কোকাকোলা, সাবওয়ে, কেএফসি বা ম্যাকডোনাল্ডসের কাউন্টারে দেখা যাবে না। ব্যাপক বর্জন হওয়া উচিত।”  তিনি বলেন, “যদি এমনটা হয়, তাহলে আমেরিকায় তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।” বিশ্বের অন্যান্য অংশে যেমন ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং কানাডায় ইতিমধ্যেই আমেরিকা-বিরোধী বয়কট চলছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ১.৫ বিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ ভারত যদি মার্কিন কোম্পানিগুলিকে বয়কট করে, তবে তা বিপুল ক্ষতি এবং গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ভারতীয়দের “স্বদেশি” বা দেশীয় পণ্য কেনা ও ব্যবহার করার আহ্বান জানান।

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি

    তিনি বলেন, “যে কেউ ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি করতে চায় — যে কোনও রাজনৈতিক দল, যে কোনও নেতা — তাদের উচিত দেশের স্বার্থে কথা বলা এবং জনগণের মধ্যে এই বোধ জাগানো যে তাদের ‘স্বদেশি’ পণ্য কেনার সংকল্প নিতে হবে। আমরা যখন কিছু কেনার সিদ্ধান্ত নেব, তখন একটি মাত্র মানদণ্ড থাকা উচিত। আমরা সেই জিনিস কিনব, যা একজন ভারতীয় শ্রম দিয়ে তৈরি করেছেন। যা ভারতের মানুষ তৈরি করেছেন, ভারতের মানুষের দক্ষতা দিয়ে, ভারতের মানুষের ঘামের বিনিময়ে, সেটিই আমাদের কাছে ‘স্বদেশি’ (Trump Tariffs)। আমাদের ‘ভোকাল ফর লোকাল’ মন্ত্র গ্রহণ করতেই হবে।” ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বে এখন অর্থনৈতিক স্বার্থপরতার রাজনীতি চলছে এবং প্রত্যেকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতেই ব্যস্ত (Swadeshi Heat)।”

    ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ

    প্রসঙ্গত, ৬ অগাস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফের একবার অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপায়। করা হয় জরিমানাও। ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প লেখেন, “ভারত শুধু বিপুল পরিমাণে রুশ তেল কিনছে তাই নয়, বরং সেই তেলের একটি বড় অংশ খোলা বাজারে বিক্রি করে বিপুল মুনাফাও করছে।” তিনি বলেন, “রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্র ইউক্রেনে কত মানুষকে হত্যা করছে, সে ব্যাপারে ভারতের কোনও পরোয়া নেই। এই কারণে আমি আমেরিকায় ভারত যে শুল্ক দেয়, তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াচ্ছি।” উচ্চবাচ্য না করে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দেয়, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অমূলক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

    ম্যাকডোনাল্ডস পরিচালনা

    আপ পার্টির সাংসদ অশোক কুমার মিত্তল ট্রাম্পকে একটি খোলা চিঠি লিখে ৭ আগস্ট ১৯০৫ সালের স্বদেশি আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “যদি আজ ১৪৬ কোটি ভারতীয় সেই চেতনা জাগিয়ে তোলে এবং মার্কিন ব্যবসার ওপর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, তবে এর প্রভাব ভারতের থেকে অনেক বেশি ভয়াবহ হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে (Trump Tariffs)।” ওয়েস্টলাইফ ফুডওয়ার্ল্ড লিমিটেড, যা পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে ম্যাকডোনাল্ডস পরিচালনা করে, ২০২৪ অর্থবর্ষে ২,৩৯০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি (Swadeshi Heat)।

    ভারতের অবস্থান

    এদিকে, পেপসিকো ইন্ডিয়া ২০২৪ অর্থবর্ষে ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করেছে। ভারতের অবস্থান পেপসিকোর জন্য বৈশ্বিকভাবে শীর্ষ ১৫টি বাজারের মধ্যে। গত তিন বছরে পেপসিকো ভারতের বাজারে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। কিছুদিন আগেই আমেদাবাদের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আত্মনির্ভরতাই উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার একমাত্র পথ। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে বিদেশি পণ্য কেন দরকার হবে? নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সবই দেশীয় সংস্থা উৎপাদন করে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের গ্রামে গ্রামে প্রচার করতে হবে যে, যদি বিদেশি পণ্য বিক্রি না করলে আর্থিক ক্ষতিও হয়, জাতীয় স্বার্থে বিদেশি পণ্য বয়কট করতে হবে। কেউ যেমন বিদেশি পণ্য ক্রয় করব না, তেমন বিক্রিও করবে না।” তিনি বলেন (Swadeshi Heat), “গণপতির মূর্তি পর্যন্ত বিদেশ থেকে আসছে। তাও আবার সেই গণপতির চোখ অর্ধনিমীলিত। ক্ষুদ্র চোখ। এটা কেন হবে (Trump Tariffs)?”

LinkedIn
Share