Tag: Taslima Nasrin news update

  • Taslima Nasrin Kolkata Return: বাম-তৃণমূলের ১৯ বছরের ‘অচলাবস্থা’ ভাঙল নতুন সরকার, সশরীরে কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা

    Taslima Nasrin Kolkata Return: বাম-তৃণমূলের ১৯ বছরের ‘অচলাবস্থা’ ভাঙল নতুন সরকার, সশরীরে কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে কাটল দীর্ঘ ১৯ বছরের নির্বাসন দশা। ‘দ্বিতীয় ঘরে’ ফিরছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূল জমানা- যে কলকাতার মাটি ছোঁয়ার অনুমতি মেলেনি বারবার, অবশেষে সেই প্রিয় শহরেই সশরীরে ফিরছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত তথা লড়াকু সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার (West Bengal Government) ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই তাঁর ফেরার এই পথ সুগম হলো। জীবিতাবস্থায় কলকাতায় ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন লেখিকা।

    কে তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)?

    তসলিমা নাসরিন পেশায় চিকিৎসক হলেও মূলত একজন প্রখ্যাত ও আপসহীন সাহিত্যিক। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই লেখিকা তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে নারীবাদ, ধর্মীয় মৌলবাদ ও মানবাধিকারের সপক্ষে সোচ্চার হয়েছেন। ১৯৯৩ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হওয়া নির্যাতনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘লজ্জা’। এই বইটির প্রকাশের পর থেকেই ধর্মীয় মৌলবাদীদের রোষানলে পড়েন তিনি, তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা হয় ফতোয়া।

    কেন রাজ্য (কলকাতা) ছাড়তে হয়েছিল?

    বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) কলকাতাকেই নিজের দ্বিতীয় বাড়ি বানিয়েছিলেন। কিন্তু এখানেও শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়নি তাঁকে। ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতায় তসলিমার উপস্থিতির বিরুদ্ধে এবং তাঁর ভিসা বাতিলের দাবিতে কিছু উগ্রপন্থী সংগঠন শহরে ব্যাপক হাঙ্গামা ও হিংসাত্মক আন্দোলন সৃষ্টি করে। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার আইন-শৃঙ্খলার অবনতির দোহাই দিয়ে কার্যত তসলিমা নাসরিনকে তড়িঘড়ি কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করে। পরবর্তীকালে তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনেও সেই অচলাবস্থা কাটেনি। এমনকী বইমেলায় তাঁর বই প্রকাশ নিয়েও বারবার জট তৈরি হয়েছে। মূলত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপের কারণেই কোনও সরকারই তাঁকে কলকাতায় ফেরানোর ঝুঁকি নিতে চায়নি।

    বিজেপি সরকারকে ধন্যবাদ

    কলকাতায় ফেরার অনুমতি পেয়েই বর্তমান রাজ্য সরকারকে (West Bengal Government) ধন্যবাদ জানিয়েছেন তসলিমা (Taslima Nasrin)। তিনি বলেন, ‘‘আগের সরকারগুলি যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি অথবা নিতে চায়নি, নতুন সরকার সেই অচলাবস্থা ভাঙার চেষ্টা করেছে। একজন লেখককে তাঁর প্রিয় শহর থেকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপে নির্বাসিত করে রাখা কোনও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য গৌরবের বিষয় নয়।’’ নিজের বিখ্যাত ‘প্রশ্ন’ কবিতার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,  একসময় ভেবেছিলেন মৃত্যুর পরই হয়ত কলকাতা তাঁকে গ্রহণ করবে, কিন্তু জীবিত অবস্থায় ফিরতে পারার আনন্দই আলাদা। এই প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি কলকাতার সাধারণ মানুষ ও বিজেপি সরকারকে কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালেই রাজ্যসভায় এই বিষয়ে সওয়াল করেছিলেন সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। কেন তসলিমাকে কলকাতা থেকে বিতারণ? তা নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন বামেদের বিরুদ্ধেও। তসলিমার এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থেই বাম ও তৃণমূল সরকার এতদিন লেখিকাকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। তিনি বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন, হিন্দুদের উপরে অত্যাচারের বিরুদ্ধে বই লিখেছিলেন৷ সেই বই আবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বাজেয়াপ্ত করিয়েছিলেন৷ প্রকৃত সত্য যাতে সামনে না আসে৷’’ সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তসলিমা নাসরিনের এই ঘরে ফেরা শুধু এক ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার এক নতুন জয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

LinkedIn
Share