Tag: Technology Development Fund

  • DRDO AI Swarm Drone: যুদ্ধের চেহারা বদলে দেবে ৫০ ড্রোনের ‘ঝাঁক’! এমএসএমই-দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘এআই সোয়ার্ম ড্রোন’ বানাচ্ছে ডিআরডিও

    DRDO AI Swarm Drone: যুদ্ধের চেহারা বদলে দেবে ৫০ ড্রোনের ‘ঝাঁক’! এমএসএমই-দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘এআই সোয়ার্ম ড্রোন’ বানাচ্ছে ডিআরডিও

    সুশান্ত দাস

    ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার (Atmanirbhar Bharat) পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। আধুনিক যুদ্ধের দ্রুত বদলে যাওয়া চাহিদার কথা মাথায় রেখে এ বার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সোয়ার্ম ড্রোন (Swarm Drone) তৈরির জন্য দেশীয় বেসরকারি সংস্থা, বিশেষ করে স্টার্ট-আপ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME)-গুলিকে আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও (DRDO)। এই প্রকল্প সফল হলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যেমন বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, তেমনই দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এমএসএমই-দের জন্য ডিআরডিও-র নতুন প্রকল্প

    ডিআরডিও এই প্রকল্পের নাম দিয়েছে ‘ডেভেলপমেন্ট অফ ক্লোজ ফর্মেশন ফ্লাইং অফ মাল্টিপল ড্রোনস্’ । এটি সংস্থার প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিল (TDF) প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়িত হবে। টিডিএফ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল দেশীয় এমএসএমই ও স্টার্টআপগুলিকে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তৃণমূল স্তরের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ ক্রমশ আকাশপথকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। সেই কারণে স্বল্প খরচে, এআই-নির্ভর এবং সমন্বিতভাবে পরিচালিত সোয়ার্ম ড্রোন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কী এই সোয়ার্ম ড্রোন?

    সোয়ার্ম ড্রোন হল একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা একাধিক মানববিহীন বিমান (UAV)-এর একটি নেটওয়ার্ক। ডিআরডিও-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি ‘মাস্টার’ ড্রোন এবং প্রায় ৫০টি ‘স্লেভ’ ড্রোন মিলিয়ে একটি সোয়ার্ম তৈরি হবে। এই ড্রোনগুলি একে অপরের থেকে মাত্র অর্ধ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে উড়তে পারবে এবং রিয়েল-টাইমে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে। মাস্টার ড্রোনটি মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এটি স্থলভিত্তিক কন্ট্রোল স্টেশন থেকে নির্দেশ গ্রহণ করে বাকি ড্রোনগুলিকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করবে। ফলে পুরো ড্রোন নেটওয়ার্কটি একযোগে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ বা আক্রমণ চালাতে সক্ষম হবে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তি?

    একটি মাত্র ড্রোনকে শত্রুপক্ষ সহজেই শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে সমন্বিতভাবে চলা ৫০টি ড্রোনের একটি সোয়ার্মকে থামানো অনেক বেশি কঠিন। কোনও একটি ড্রোন ধ্বংস হলেও বাকি ড্রোনগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করে মিশন চালিয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তিই সোয়ার্ম ড্রোনকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর করে তুলেছে।

    কী কী করতে পারবে ডিআরডিও-র সোয়ার্ম ড্রোন?

    এই সোয়ার্ম ড্রোনগুলির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল—

    • ● প্রায় ৫,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।
    • ● পাহাড়ি এলাকা ও দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।
    • ● প্রবল বাতাসেও স্থিতিশীলভাবে উড়তে সক্ষম।
    • ● প্রতিটি ড্রোনে ক্যামেরা, নজরদারি ব্যবস্থা বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জাম বহন করা যাবে।
    • ● একসঙ্গে ১০০-রও বেশি শত্রু ড্রোন শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে পারবে।
    • ● প্রচলিত রেডারের নজর এড়িয়ে রেকি, আর্টিলারি সংশোধন, কামিকাজে হামলা এবং সমন্বিত সোয়ার্ম আক্রমণ চালাতে সক্ষম।
    • ● মাত্র ৫০০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে নিজেদের অবস্থানের ত্রুটি সংশোধন করতে পারবে।
    • ● ৭০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য থাকায় সাইবার নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

    ইলেকট্রনিক যুদ্ধেও বড় অস্ত্র

    সোয়ার্ম ড্রোনের আর একটি বড় সুবিধা হল, একসঙ্গে উড়তে গিয়ে এগুলি কার্যত ‘ভার্চুয়াল অ্যান্টেনা’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে শক্তিশালী রেডিও সিগন্যাল তৈরি করে শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত করা বা জ্যাম করার মতো কাজও করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতের ইলেকট্রনিক যুদ্ধেও এই প্রযুক্তির গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কম খরচে বেশি কার্যকর

    ভারী ও ব্যয়বহুল সামরিক প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে তুলনামূলক কম খরচে বহু ড্রোন ব্যবহার করে একই সঙ্গে নজরদারি, বিভ্রান্তিমূলক অভিযান (Decoy Mission), নির্ভুল হামলা (Precision Strike) এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এই সোয়ার্ম ড্রোনে ‘সফট কিল’ এবং ‘হার্ড কিল’— উভয় ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

    আত্মনির্ভর ভারতের পথে বড় পদক্ষেপ

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ডিআরডিও-র এই উদ্যোগ শুধু নতুন প্রজন্মের যুদ্ধ প্রযুক্তি তৈরির দিকেই নয়, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় এমএসএমই-দের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়বে, তেমনই তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ। আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর স্বল্প ব্যয়ের সোয়ার্ম ড্রোনই আগামী দিনে ভারতের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

LinkedIn
Share