Tag: Temple vandalism

  • Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী শহর সান দিয়োগো এবং তিজুয়ানা এবং লরেডো ও ন্যুভো লরেডোয় ‘স্প্যাংলিশ’ (বা টেক্স-মেক্স স্প্যানিশ) নামে এক মিশ্র ভাষার বিকাশ ঘটেছিল। টেলিভিশন, অভিবাসন ও সীমান্তের দুই পাশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ প্রভাব ফেলেছিল এই ভাষার ওপর। এখন, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এবং কয়েক দশক পরে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও (Indo Bangladesh Border) সীমান্ত-পার প্রভাবের এক আলাদা গল্প দেখা যাচ্ছে। যদিও এটি খানিক আলাদা ধরনের। এখানে প্রতিক্রিয়াশীল প্রভাব কাজ করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, ঘটনাপ্রবাহ অন্যভাবে ঘটেছে।

    অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ইস্যু ছিল অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ। বিজেপির অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে আসা (Indo Bangladesh Border) অনুপ্রবেশকারীরা, যাদের অধিকাংশই মুসলিম, রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে এই সমস্যা উপেক্ষা করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় শুধু সংগঠনের বিস্তার বা মতাদর্শের স্বীকৃতি নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও।” তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গটিও তোলেন। বঙ্গবাসী যখন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক হচ্ছিলেন, তখন সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিও তাঁরা লক্ষ্য করছিলেন। তাঁরা দেখেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে কীভাবে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর হয়েছে এবং ইসলামপন্থীরা ধর্মনিন্দার মিথ্যে অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করেছে নিরীহ মানুষকে।

    জামাতের জয়ের প্রভাব

    ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামি (Jamaat Rise) পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া একাধিক আসনে জয়ী হয়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অন্তত ১৭টি আসনে জামাতের জয় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপির পক্ষে ভোট একত্রিত করতে সাহায্য করেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজেপি অন্তত ২৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই আসনগুলি বাংলাদেশের সেই ১৭টি জামাত-জয়ী আসন লাগোয়া। জামাত-ই-ইসলামির নেতা সফিকুর রহমানের দলকে নিষিদ্ধ করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। যদিও মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের অগাস্টে ক্ষমতায় এসেই তুলে নেয় সেই নিষেধাজ্ঞা।

    জামাতের উত্থান

    ছাব্বিশের নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ থাকায় বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে জামাত (Jamaat Rise)। বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেলেও, জামাত-নেতৃত্বাধীন ১১টি দলের জোট ৭৭টি কেন্দ্রে জয়ী হয়। জামাতের ইতিহাসে সেরা ফল এটি। এই ৭৭টি আসনের মধ্যে ১৭টি এসেছিল রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, নওগাঁ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলি (Indo Bangladesh Border) থেকে। রংপুর বিভাগে, যা ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’ লাগোয়া, জামাতের ব্যাপক উত্থান দেখা যায়। এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিবাদ 

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার খবর পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিজেপি নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি পেট্রাপোল সীমান্তে গিয়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানান এবং কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনেও বিক্ষোভ দেখান। একই সঙ্গে বিজেপি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়েও সোচ্চার হন (Jamaat Rise)। এই বিষয়গুলি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কাছেও গুরুত্ব পেতে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী (Indo Bangladesh Border) বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের সীমান্তবর্তী একাধিক আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে ।

    জামাতের আসনগুলির উল্টোদিকে বিজেপির প্রাচীর!

    বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনের উল্টো দিকে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ-সীমান্তবর্তী আসনগুলিতে বিজেপির জয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্যাটার্ন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৬টি আসনে বিজেপির জয় এসেছে মোট নয়টি জেলা থেকে, যেগুলির ঠিক ওপারেই বাংলাদেশে জামাতের জয়ী আসনগুলি অবস্থিত। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলায় কেমন ফল করেছে বিজেপি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করলে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন (Indo Bangladesh Border) এলাকায় বিজেপি জিতেছে বাগদা (SC), বনগাঁ উত্তর (SC) এবং হিঙ্গলগঞ্জ (SC)-এর মতো আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক বিপরীতে রয়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-১ থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসন, যেখানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জামাত জয়ী হয়েছিল।

    মালদা-মুর্শিদাবাদ-দিনাজপুর

    এরপর কিছুটা উত্তরে মুসলিম-অধ্যুষিত মালদা জেলায় বিজেপি জিতেছে ইংলিশ বাজার এবং বৈষ্ণবনগর আসন, যেগুলির সীমান্তের ওপারেও রয়েছে জামাত-জয়ী বাংলাদেশি কেন্দ্র। আরও উত্তরে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপি দখল করেছে কুশমণ্ডি (SC), বালুরঘাট, তপন (ST), গঙ্গারামপুর (SC) এবং হবিবপুর (ST) আসন। এই কেন্দ্রগুলির (Indo Bangladesh Border)  ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং মেহেরপুরের মতো বাংলাদেশি আসন, যেখানে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে জামাত জিতেছিল। উত্তর দিনাজপুর, যা আরেকটি মুসলিম-প্রধান জেলা, সেখানেও বিজেপি জিতেছে করণদিঘি, হেমতাবাদ (SC) এবং হরিপুর আসন। এই কেন্দ্রগুলির ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা এবং যশোরের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনগুলি।

    শিলিগুড়ি করিডর ও ডুয়ার্স

    শিলিগুড়ি করিডরের দিকে এগোলে, বিজেপির শিলিগুড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া (ST) আসনগুলি বাংলাদেশের নীলফামারী-১ আসনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। জলপাইগুড়ি জেলায় বিজেপি জিতেছে ময়নাগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি (SC) আসন, যেগুলিও সরাসরি সীমান্ত লাগোয়া এবং বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) কেন্দ্রগুলির মুখোমুখি। সবশেষে ডুয়ার্স অঞ্চলের কোচবিহার জেলায় বিজেপি দখল করেছে সিতাই (SC), শীতলকুচি (SC) এবং মেখলিগঞ্জ (SC) আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা, যেখানে জামাত ও তাদের মিত্ররা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চারটি আসনে জয় পেয়েছিল।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যা ঘটেছে, তার প্রভাব পড়েছে এপারের ভোটে?

    যদিও হলফ করে বলা যায় না যে বাংলাদেশে জামাতের উত্থান (Jamaat Rise) সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল সাফল্যের একটি কারণ, তবে প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট একটি সমান্তরাল প্রবণতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি, পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ, সীমান্ত নিরাপত্তা (Indo Bangladesh Border) এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্ন—এই সব কিছু মিলেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটারদের আচরণে প্রভাব ফেলেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এই পরিসংখ্যান দেখিয়েই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা সম্ভবত বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ করার আশায় বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন, যা তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবে প্রত্যক্ষ করেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির (Indo Bangladesh Border)  নির্বাচনী ফলাফল দুই দেশের জনবিন্যাস থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, পরিচয়-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বয়ানের প্রভাবের ফল হতে পারে। এই সমস্ত উপাদানই পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে যা ঘটতে দেখেছেন বাঙালিরা, তার প্রভাবও তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্তে পড়েছে।

  • Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে চলছে হিন্দু-হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ

    Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে চলছে হিন্দু-হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ-বিদেশে অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack)। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে গণহত্যার রূপ নিচ্ছে, যা আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে। দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও বিস্তারকে উপেক্ষা করেছে। অথচ এটি উদ্বেগজনকভাবে হিন্দুবিরোধী একাধিক সংগঠনের দ্বারা (Roundup Week) পরিচালিত। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে আক্রমণ (Hindus Under Attack), মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত—হিন্দুরা তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখে পড়ছে, শিকার হচ্ছে নজিরবিহীন হিন্দুবিদ্বেষের। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ২৬ এপ্রিল থেকে ০২ মে, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের সাপ্তাহিক ছবিটা।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। শবরীমালা মন্দিরে অনিয়মের অভিযোগে তপ্ত কেরল। মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া ‘নেই থেঙ্গা’ (ঘি-ভর্তি নারকেল) ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হিন্দু মহিলাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা, ধর্ষণ ও আর্থিক শোষণের অভিযোগে কাঠগড়ায় কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র অ্যাকাডেমিক। সাজ্জাদ মোহাম্মদ খান নামের ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেই পুলিশ সূত্রে খবর।পরীক্ষাকেন্দ্রে পৈতে খুলতে বাধ্য করার অভিযোগে উত্তপ্ত বেঙ্গালুরু। কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে সিইটি (CET) পরীক্ষাকেন্দ্রের তিন কর্মী ব্রাহ্মণ ছাত্রদের পৈতে খুলতে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগে। ওই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এলাকায় রয়েছে চাপা উত্তেজনা।

    ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ

    এদিকে, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ উঠেছে খোদ দিল্লিতে। আম্বেদকরপন্থী কর্মী সতীশ বাউদ্ধর বিরুদ্ধে দিল্লির এক অনুষ্ঠানে সীতা ও কৃষ্ণকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বারাণসীতে পরিচয় গোপান করে বিয়ের অভিযোগ। জানা গিয়েছে, এক ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন করে ‘অমিত’ বলে নিজেকে দাবি করে এক হিন্দু মহিলাকে বিয়ে করে। প্রতারণা ও জোরপূর্বক অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পেয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ হেফাজত থেকেও সে পালিয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্রে খবর। ধর্মান্তরকরণে অর্থায়নের অভিযোগে এবার অভিযান চালাল ইডি। ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ (TTI) নামের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে ধর্মান্তরকরণ কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থা সূত্রেই মিলেছে এ খবর।

    বাংলাদেশেও ভালো নেই হিন্দুরা

    ভারতের পড়শি দেশ বাংলাদেশেও ভালো নেই হিন্দুরা। ফরিদপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলার অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইডাঙ্গি গ্রামে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাঁর (Hindus Under Attack) ঘরের ভেতরে থাকা মন্দিরও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ মামলা না নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। কুড়িগ্রামে জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে খবর। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার নওদাবাস গ্রামে এক হিন্দু পরিবারকে জমি দখলের উদ্দেশ্যে তিন সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীরা বাড়ির চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি পরিবারটির (Roundup Week)।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির নিরাপত্তা, মহিলা সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন (Hindus Under Attack)। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবিও জানানো হয়েছে (Roundup Week)।

     

  • Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে বারবার হিংসার শিকার হচ্ছেন হিন্দুরা, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে বারবার হিংসার শিকার হচ্ছেন হিন্দুরা, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ-বিদেশে অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack)। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে গণহত্যার রূপ নিচ্ছে, যা আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে। দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও বিস্তার উপেক্ষা করেছে। অথচ এটি উদ্বেগজনক হিন্দুবিরোধী পক্ষপাতিত্ব দ্বারা (Roundup Week) পরিচালিত। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack), মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত—হিন্দুরা তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখে পড়ছে, শিকার হচ্ছে নজিরবিহীন হিন্দুবিদ্বেষের। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ১২ থেকে ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ছবিটা।

    কর্নাটকে লাভ জেহাদ (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। কর্নাটকের কোপ্পাল থেকে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা হুব্বলির অনুরূপ ঘটনার পর তথাকথিত “লাভ জেহাদ” সংক্রান্ত আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন হিন্দু নারী পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। ভিএইচপি নেতা সঙ্গমেশ হিরেমঠ প্রথমে কোপ্পালের মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, মুস্তাফা নামের এক মুসলমান যুবক হিন্দু মেয়েদের টার্গেট করছিল, অশ্লীল আচরণে জড়িত ছিল এবং তার মোবাইলে আপত্তিকর কনটেন্ট সংরক্ষণ করত। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা দুটি মোবাইলে প্রায় ৭,০০০টি ছবি এবং ৯,৭০০টি ভিডিও রয়েছে, যার মধ্যে একাধিক তরুণীকে নিয়ে অশ্লীল উপাদানও আছে।

    হিন্দু তরুণীদের ডিজিটাল মাধ্যমে টার্গেট

    নাসিকের টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর চাঞ্চল্যকর তথ্য কর্পোরেট পরিবেশে যৌন শোষণ, জবরদস্তি এবং বিশ্বাসভঙ্গের একটি গভীর উদ্বেগজনক ধারা প্রকাশ করেছে। যেখানে তরুণ পেশাজীবীদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র হওয়ার কথা ছিল, সেখানে দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়েছে এবং কণ্ঠস্বর দমন করা হয়েছে। নাসিকের টিসিএসের ধর্মান্তর-যৌন শোষণ চক্রে প্রথম শিকার ছিলেন এক দলিত নারী। এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ‘জাতি রক্ষার’ দাবি করা অনেকেই অভিযুক্ত মুসলিম হলে তাদের তথাকথিত দলিতপ্রীতি থেকে সরে দাঁড়ায়।  হিন্দু তরুণীদের ডিজিটাল মাধ্যমে টার্গেট করে ফাঁদে ফেলা ও যৌন শোষণ করা হচ্ছে এই (Hindus Under Attack) অভিযোগে পুলিশ মহারাষ্ট্রের আমরাবতী জেলায় মোহাম্মদ আয়াজ তানভীরকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, সে একটি যৌন শোষণ ও ব্ল্যাকমেল চক্র পরিচালনা করছিল। তাকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে (Roundup Week)।

    লাভ জেহাদ ও লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন

    কর্নাটকের বাগালকোট জেলায় ১৯ বছর বয়সী ভূমিকা তিপ্পান্নভার আত্মহত্যা করেন। এক ইসলামপন্থী যুবক ডংরিসাব নাদাফের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর এই কাণ্ড ঘটান ওই তরুণী। এই ঘটনা তথাকথিত “লাভ জেহাদ” ও লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তার পরিবার এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিল। জুহাইব নামে এক ব্যক্তি এক হিন্দু মডেলকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করে। কারণ তিনি তার বিয়ে ও ধর্মান্তরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর ফ্রেজার টাউন এলাকার। এটি রাজ্যে জবরদস্তি ও লক্ষ্যভিত্তিক হয়রানির অভিযোগের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রথমে কাজের সূত্রে জুহাইবের সঙ্গে পরিচিত হন, যা পরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের রূপ নেয়। তবে ২০২৪ সাল থেকে অভিযুক্ত তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে বলে অভিযোগ (Roundup Week)।

    দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের ছবি

    এদিকে, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল তিনটি রাজ্য থেকে চারজন উগ্রপন্থায় প্রভাবিত যুবককে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে মহারাষ্ট্র থেকে দুজন, ওড়িশা ও বিহার থেকে একজন করে। অভিযোগ, তারা ইসলামপন্থী মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে জঙ্গি কার্যকলাপের ষড়যন্ত্র করছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তারা খিলাফত প্রতিষ্ঠার আহ্বানে প্রভাবিত হয়েছিল এবং “লস্কর-ই-খোরাসান” ধারণায় বিশ্বাস করত। তারা “গাজওয়া-ই-হিন্দ”-এ অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিল বলেও খবর (Hindus Under Attack)। বহির্বিশ্বের ছবিটাও খুব একটা আলাদা নয়। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত। ধীরে ধীরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অত্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্মনিন্দার অভিযোগে হামলা, ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবই হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের বাড়ি ভাঙচুর

    রংপুরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কামাল কাচনা দাসপাড়া এলাকায় ৩০–৫০ জন দুষ্কৃতীর একটি দল স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলির বাড়িঘরে হামলা চালায়। অন্তত ৬টি বাড়ি ও ১টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। বস্তুত, অধিকাংশ ঘৃণামূলক অপরাধের পেছনে নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ কাজ করে বলে দাবি করা হয়। ইসলামি দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও একটি সূক্ষ্ম হিন্দুবিরোধী মনোভাব দেখা যায়, যা “হিন্দুফোবিয়া” ও ঘৃণাজনিত অপরাধকে উৎসাহ দেয়। এই সূক্ষ্ম বৈষম্য অনেক সময় নজরে আসে না, যদি না আইন ও সামাজিক ধারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি একটি উদাহরণ। আপাতভাবে এটি দূষণ নিয়ন্ত্রণ বলে মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর বিধিনিষেধ এবং যুক্তির অসামঞ্জস্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

LinkedIn
Share