Tag: Terror

Terror

  • Biswa Ijtema: ভোটমুখী বাংলায় বিশ্ব ইজতেমা, কড়া নজর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের

    Biswa Ijtema: ভোটমুখী বাংলায় বিশ্ব ইজতেমা, কড়া নজর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কাছে পুঁইনান গ্রামে শেষ হল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি সমাবেশ। চার দিনের বিশ্ব ইজতেমা (Biswa Ijtema) শেষ হয়েছে  ৫ জানুয়ারি। ৩৪ বছর পর এই প্রথম ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত হল বিশ্ব ইজতেমা। এর আগে এই সমাবেশ হয়েছিল ১৯৯২ সালে, হাওড়ার নিবড়া এলাকায় (Terror Recruitment Risks)। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই বিশাল সমাবেশের আয়োজন হওয়ায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আধিকারিকদের আশঙ্কা, এত বড় আন্তর্জাতিক জমায়েত তাদের আদর্শিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে, অপব্যবহার করা হতে পারে গোপন নেটওয়ার্ক গঠনের কাজেও।

    ইজতেমা ভারতে ফেরাতে সক্রিয় তৃণমূল! (Biswa Ijtema)

    জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচনজনিত বিধিনিষেধ এবং আয়োজক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে হিংসাত্মক অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মূল ইজতেমা বাতিল হওয়ায় এবারের বিশ্ব ইজতেমা ঠাঁই বদলে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই ইজতেমা ভারতে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রস্তুতি তদারকি করেন। রাজ্য সচিবালয় নবান্নে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয় এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সমস্ত রকম ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয় (Terror Recruitment Risks)। তৃণমূলের দুই প্রবীণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্যানিটেশন, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা এই আয়োজনে রাজ্য সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততাকেই স্পষ্ট করে।

    আখেরি মুনাজাত

    যদিও অনুষ্ঠানটি ঐতিহ্যবাহী আখেরি মুনাজাত—বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতির জন্য চূড়ান্ত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে, তবুও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির উদ্বেগ কাটছে কই! শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রগুলির মতে, অতীতে এই ধরনের সমাবেশে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলি দুর্বল ব্যক্তিদের শনাক্ত, প্রভাবিত ও তাদের নিয়োগ করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে (Biswa Ijtema)। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, তাবলিঘি জামাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রাক্তন সদস্য পরবর্তীকালে নিষিদ্ধ বা কট্টর সংগঠন যেমন পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া (PFI) এবং জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিল, যা আদর্শিক সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বড় সতর্কবার্তা

    সূত্রের খবর, একটি বড় সতর্কবার্তা ছিল বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা মৌলানা সাদ কান্ধলভির উপস্থিতি ও তাঁর বক্তব্য। তিনি তাবলিঘি জামাতের নিজামুদ্দিন মারকাজ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চরমপন্থা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আশঙ্কায় বাংলাদেশে তাঁর অংশগ্রহণ আগে সীমিত করা হয়েছিল। দিল্লির নিজামুদ্দিনে বসবাসকারী কান্ধলভির বিরুদ্ধে কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় একটি এফআইআরও দায়ের হয়েছিল। গোয়েন্দা আধিকারিকদের মতে, তাঁর উপস্থিতি উগ্র মতাদর্শকে উসকে দিতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে তাবলিঘি জামাতের প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে (Terror Recruitment Risks)।

    ইজতেমার জায়গা

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আরও একটি গুরুতর দুর্বলতার দিক তুলে ধরেছে। সেটি হল, ইজতেমার জন্য যে জায়গাটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, সেটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অত্যন্ত কাছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, অতীতে এই অঞ্চল আইএসআই–সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন যেমন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB), হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি (HuJI), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (ABT) এবং হিজবুত-তাহরির (HuT) কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে (Biswa Ijtema)। মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো সীমান্ত জেলাগুলিকে, যেখানে সক্রিয় স্লিপার সেল নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, সমাবেশ চলাকালীন বাড়তি নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছিল।

    সমাবেশে রাজনৈতিক বার্তা

    মার্চ–এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা আধিকারিকরা মনে করছেন, এই সমাবেশে রাজনৈতিক বার্তাও নিহিত ছিল। সূত্রের মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সহানুভূতি ও কল্যাণমূলক ভাবমূর্তি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার এই অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তাঁরা সতর্ক করেছেন, সীমান্তবর্তী রাজ্যে দীর্ঘদিনের আন্তঃসীমান্ত উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের ইতিহাস থাকায়, এই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি (Biswa Ijtema)।

    যদিও সমাবেশ চলাকালীন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কোনও ঘটনা ঘটেনি, তবুও অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি উচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে। আধিকারিকরা জানান, অংশগ্রহণকারীদের গতিবিধি, অর্থের উৎস এবং ডিজিটাল যোগাযোগের ওপর অনুষ্ঠান-পরবর্তী নজরদারি এখনও চলছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও (Terror Recruitment Risks) বিলম্বিত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয় কি না, তা মূল্যায়ন করা যায় (Biswa Ijtema)।

     

  • Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’-এর (White Collar Terror) প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি সতর্ক করে বলেন, মূল্যবোধহীন উচ্চশিক্ষা সমাজের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। শুক্রবার রাজস্থানের ভোপাল নোবেলস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজনাথ এই মন্তব্য করেন। গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    রাজনাথের বক্তব্য (Rajnath Singh)

    রাজনাথ জানান, ওই হামলায় অভিযুক্তরা সকলেই শিক্ষিত ও যোগ্য চিকিৎসক ছিল। এই ঘটনাকে তিনি এমন এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা প্রমাণ করে যে কেবলমাত্র শিক্ষা থাকলেই নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয় না। রাজনাথের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনার সংযোগ না থাকলে তা সমাজের পক্ষে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যবোধের গুরুত্বের ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি (Rajnath Singh)।

    ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’

    দেশে বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’। উচ্চশিক্ষিত হয়েও সমাজ ও দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছেন এক শ্রেণির মানুষ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “দিল্লির বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে চিকিৎসকও ছিল, এক হাতে ডিগ্রি, আর পকেটে আরডিএক্স। এই ঘটনাই স্পষ্ট করে দেয় যে, কেবল শিক্ষালাভই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও চরিত্রগঠনও (White Collar Terror) জরুরি।” ১০ নভেম্বর দিল্লির রেড ফোর্ট এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িতে। ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৫ জনের। গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর-উন-নবি নামে এক চিকিৎসক। ঘটনার তদন্তে নেমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরে একটি তথাকথিত ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর সন্ধান পায় (Rajnath Singh)।

    গ্রেফতার ৩ চিকিৎসক

    এই মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন চিকিৎসক মুজাম্মিল গনাই, আদিল রাদার এবং শাহিনা সইদ-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, শিক্ষিত ও পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পেশাগত সাফল্য অর্জন নয়, নৈতিকতা, মূল্যবোধ (White Collar Terror) এবং মানবিক চরিত্র গঠনের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যে শিক্ষা ব্যবস্থা জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি বিনয়, চরিত্রবোধ ও ধর্ম, অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিতে ব্যর্থ, তা কখনও সম্পূর্ণ হতে পারে না।”

    এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণ হতে পারে

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Rajnath Singh)। রাজনাথ বলেন, “জঙ্গিরা সব সময় অশিক্ষিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী হলেও নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও প্রজ্ঞার অভাব থাকে। এই মূল্যবোধের ঘাটতিই শেষ পর্যন্ত তাদের অপরাধের পথে ঠেলে দেয়।” ধর্ম প্রসঙ্গে রাজনাথ জানান, ধর্ম মানেই শুধু মন্দির, মসজিদ বা গির্জায় প্রার্থনা করা নয়। তাঁর কথায়, “ধর্ম আসলে কর্তব্যবোধ। শিক্ষা যদি ধর্ম ও নৈতিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তা সমাজের কোনও কাজে আসে না। অনেক সময় এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণও হতে পারে।”

    উচ্চশিক্ষিতরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে

    তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।” ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে দেশ (Rajnath Singh)। এই অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনাথের মতে, ভবিষ্যতের দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে (White Collar Terror)।

  • Mumbai: ২৬/১১ হামলার ১৭ বছর পূর্ণ, সেদিন মুম্বইয়ে ঠিক কী ঘটেছিল? ফিরে দেখা

    Mumbai: ২৬/১১ হামলার ১৭ বছর পূর্ণ, সেদিন মুম্বইয়ে ঠিক কী ঘটেছিল? ফিরে দেখা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৭ বছর পূর্ণ হল পাক-মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-এর জঙ্গিদের দ্বারা ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে (Mumbai) তাণ্ডব চালানোর। এই ঘটনা ঘটেছিল ২৬ নভেম্বর, ২০০৮ সালে। ঘটনাটি ২৬/১১ নামে পরিচিত। ওই জঙ্গি হামলায় ১০ জন জঙ্গির (Terror Attacks) একটি দল সারা দেশ এবং বিশ্বে তীব্র ধাক্কা দিয়েছিল। জঙ্গিরা ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে সমুদ্রপথে মুম্বই শহরে ঢুকেছিল। চার দিনের মধ্যে তারা শহরের ব্যস্ততম এলাকায় ১৬৬ জনকে হত্যা করেছিল, জখম করেছিল ৩০০ জনকে।

    হামলার টার্গেটস্থল (Mumbai)

    হামলার টার্গেটস্থলগুলি খুব সুচিন্তিতভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যাতে সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি করা যায়। এর মধ্যে ছিল,  তাজ ও ওবেরয় হোটেল, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, নরিম্যান হাউজে অবস্থিত ইহুদি কেন্দ্র, কামা হাসপাতাল, মেট্রো সিনেমা এবং লিওপোল্ড ক্যাফে।  কারণ এই জায়গাগুলোয় বিদেশিরা এবং মুম্বইয়ের কর্মজীবী মানুষের প্রচুর জনসমাগম হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার রেখে যাওয়া ক্ষত আজও সেই সব মানুষকে তাড়া করে ফিরছে, যাঁরা সেই ভয়াবহ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। লিওপোল্ড ক্যাফে এবং নরিম্যান হাউজের গুলির দাগ, শহিদ সহকারী উপ-পরিদর্শক তুকারাম ওম্বলের স্মৃতির মূর্তি, যিনি একমাত্র জীবিত ধরা পড়া পাক জঙ্গি মহম্মদ আজমল আমির কাসভকে ধরতে গিয়ে প্রাণ বলি দিয়েছিলেন। দক্ষিণ মুম্বইয়ের এই রাস্তাগুলি আজও সেই নৃশংস জঙ্গি হামলার স্মৃতি জাগিয়ে রেখেছে (Terror Attacks)।

    লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি নিহত

    ন’জন লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি নিহত হয়েছিল, গ্রেফতার করা হয়েছিল কাসভকে। ২০১০ সালের মে মাসে কাসভকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দু’বছর পরে পুনের একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা যুক্ত কারাগারে ফাঁসি দেওয়া (Mumbai) হয় কাসভকে। ২৬/১১ হামলা বিশেষ করে এই বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লি বিস্ফোরণের পরিপ্রেক্ষিতে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়ে শেখা শিক্ষার একটি স্মারক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, এনএসজি মুম্বই আজ, বুধবার গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ায় ‘নেভারএভার’ থিমে একটি স্মরণসভা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজন করবে, ২৬/১১ হামলার শহিদ, জীবিত এবং সকল ভুক্তভোগীদের শ্রদ্ধা জানাতে। এই অনুষ্ঠানটি আমাদের সম্মিলিত সংকল্পকে পুনর্ব্যক্ত করে যে এমন কোনও ঘটনা আর কখনও ঘটতে দেওয়া যাবে না।

    বিশেষ স্মারক অঞ্চল

    জানা গিয়েছে, একটি বিশেষ স্মারক অঞ্চল তৈরি করা হবে যেখানে বীরদের এবং সকল শহিদদের ছবি ও নাম প্রদর্শিত হবে, ফুলেল শ্রদ্ধা এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে সম্মান জানানো হবে এবং ‘লিভিং মেমরিয়াল’ নামে একটি নতুন ধারণা উপস্থাপন করা হবে, যা শ্রদ্ধা নিবেদনের মোমবাতির মোম দিয়ে তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়াও, মুম্বইয়ের ১১টি কলেজ এবং ২৬টি স্কুলে ‘নেভারএভার’ থিমের আওতায় শিক্ষার্থীদের শপথ গ্রহণ করানো হবে, যা শান্তি, সতর্কতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি তরুণ প্রজন্মের অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করবে (Mumbai)।

    গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া

    এদিন রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া সাজানো হবে তিরঙ্গা রঙের আলোয়। সেখানেও আলোকিত (Terror Attacks) হয়ে থাকবে ‘নেভারএভার’ শব্দটি। এদিকে, এনআইএ (NIA) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছে ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল ষড়যন্ত্রী তাহাউর রানা-সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে নতুন করে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। সূত্রের খবর, এটি করা হয়েছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (MLAT) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অক্টোবর মাসে। রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের পর তার জিজ্ঞাসাবাদের কয়েক মাস পর এই অতিরিক্ত প্রশ্নগুলি তোলা হয়েছে, যা ২০০৮ সালের মুম্বই জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র তদন্তে আরও অগ্রগতি আনতে সাহায্য করতে পারে।

    জঙ্গিদের নিকেশ অভিযান

    সেদিন জঙ্গিদের নিকেশ করতে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চালানো হয়েছিল অপারেশন (Mumbai)। অপারেশনে যোগ দিয়েছিল এনএসজি কমান্ডো, মেরিন কমান্ডো এবং পুলিশ। সেই দৃশ্যের লাইভ টেলিকাস্ট দেখেছিল তামাম বিশ্ব। বুধবার মুম্বই হামলার ১৭ বছর পূর্তিতে ট্যুইট করেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “২৬/১১-এর ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় শহিদ সকল সাহসী সেনা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। দেশ তাঁদের সাহস এবং ত্যাগের কথা কোনও দিনও ভুলবে না।” এত বছর পেরিয়ে গেলেও (Terror Attacks) আজও অধরা মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ডরা। একইভাবে আজও খোলা হাওয়ায় ছড়িয়ে রয়েছে সন্ত্রাসবাদের সেই আতঙ্ক। প্রতিটি ২৬/১১ যেন সেই আতঙ্ককে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়ে যায় (Mumbai)।

  • Delhi Blast: ‘বিরিয়ানি’, ‘দাওয়াত’, ‘ম্যাডাম এক্স’, জঙ্গিদের ব্যবহার করা এসব শব্দের মানে জানেন?

    Delhi Blast: ‘বিরিয়ানি’, ‘দাওয়াত’, ‘ম্যাডাম এক্স’, জঙ্গিদের ব্যবহার করা এসব শব্দের মানে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিরিয়ানি প্রস্তুত, দাওয়াতের জন্য তৈরি থাকুন।” এই আপাত নিরীহ বাক্যটির নেপথেই ছিল বড়সড় অঘটনের সংকেত (Terror Module)। আজ্ঞে, হ্যাঁ। দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের অদূরে বিস্ফোরণের (Delhi Blast) আগে আগে এহেন সাংকেতিক ভাষাই ব্যবহার করত জঙ্গিরা।

    আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা (Delhi Blast)

    ১০ নভেম্বর, সোমবার সন্ধ্যায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ১৩ জন। ওই ঘটনার তদন্তে নেমেই জঙ্গিদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। বিস্ফোরণের পর ভারতে ‘হোয়াইট কলার মডেলে’র নানা কাজকর্মের কথা প্রকাশ্যে আসে। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল, দেশ-বিদেশের জঙ্গি সংগঠন, মায় নিজেদের মধ্যেই বা কীভাবে যোগাযোগ রাখত এই জঙ্গি মডিউলের সদস্যরা? জানা গিয়েছিল, ‘সিগন্যাল’ নামের একটি অ্যাপের কথা।

    সিগন্যাল অ্যাপে চলত কথাবার্তা

    দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে তিন চিকিৎসককে। তাদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সিগন্যাল অ্যাপে তৈরি একটি গ্রুপের মাধ্যমে চলত জইশ-ই-মহম্মদের ফিদায়েঁ মডিউলের সঙ্গে যোগাযোগ। ওই গ্রুপে যুক্ত ছিল বিস্ফোরণের অন্যতম চক্রী উমর-সহ ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল আহমেদ, আদিল আহমেদ রাথর এবং শাহিন শাহিদ। এই গ্রুপের অ্যাডমিন ছিল আদিলের ভাই তথা জঙ্গি মডিউলের চাঁই মুজাফ্ফর রাথের। জানা গিয়েছে, এই গ্রুপেই উমর জানাত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারোক্সাইড-সহ (TATP) অন্যান্য রাসায়নিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। কোন রাসায়নিক কোথা থেকে কেনা হয়েছে, পরিমাণই বা কত, এর পর কী করা হবে, সেসব ব্যাপারেই কথাবার্তা উমরের সঙ্গে চলত এই গ্রুপের মাধ্যমেই (Terror Module)।

    বিরিয়ানি, দাওয়াত…

    তদন্তকারীরা জেনেছেন, হোয়াইট কলার জঙ্গি মডিউলটি সাধারণ খাবারের নাম ব্যবহার করে নিরাপদ মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম ব্যবহার করে জঙ্গি কাজ-কারবার চালাত (Delhi Blast)। সূত্রের খবর, মুজামিল শাকিল, উমা উন নবি, শাহিন শাহিদ এবং আদিল আহমেদ রাথেরের সমন্বয়ে গঠিত জঙ্গি মডিউলটি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড অ্যাপ টেলিগ্রামে যোগাযাগের জন্য বিরিয়ানি, দাওয়াতের মতো সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করত। সূত্রের খবর, ‘বিরিয়ানি’ বলতে বোঝানো হত ‘বিস্ফোরক পদার্থ’, ‘দাওয়াত’ বলতে বোঝানো হয়েছিল ‘একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে’। তদন্তকারীরা জানান, জঙ্গি হামলার বিস্ফোরক প্রস্তুত করার পর তারা টেলিগ্রামে যে বার্তাটি শেয়ার করেছিল, সেটি হল, “বিরিয়ানি প্রস্তুত, দাওয়াতের জন্য তৈরি থাকুন।”

    সূত্রের খবর, এই হোয়াইট কলার জঙ্গি মডিউলের মূল পরিকল্পনাকারী ইমাম ইরফান আহমেদ জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানের বাসিন্দা। সূত্রের খবর, সে-ই চিকিৎসকদের মৌলবাদী করে ঠেলে দিয়েছিল সন্ত্রাসের পথে। ২০২০ সালে সে ছেলের চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে। সেখানেই তার সঙ্গে আলাপ হয় উমা উন নবির। এই নবি-ই পরবর্তীকালে লালকেল্লা বিস্ফোরণের ‘সুইসাইড বম্বার’ হিসেবে চিহ্নিত হয় (Delhi Blast)। এই গ্রুপে শাহিন পরিচিত ছিল ‘ম্যাডাম সার্জন’ নামে। তদন্তকারীরা এর পাশাপাশি ‘ম্যাডাম এক্স’ এবং ‘ম্যাডাম জেড’ নামে অজ্ঞাতপরিচয় দুই মহিলার নামও পেয়েছেন (Terror Module)। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও ছিল শাহিনের (Delhi Blast)।

  • Ukase Turkiye: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে এবার জড়াল তুরস্কের নাম, কীভাবে জানেন?

    Ukase Turkiye: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে এবার জড়াল তুরস্কের নাম, কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণকাণ্ডে (Delhi Blast) আগেই জড়িয়েছে পাকিস্তানের বন্ধু তুরস্কের নাম (Ukase Turkiye)। জানা গিয়েছে, ইসলামিক রাষ্ট্র তুরস্কের কোনও এক হ্যান্ডলারের অঙ্গুলিহেলনেই জঙ্গি কার্যকলাপ চালাত ভারতে থাকা চিকিৎসক-জঙ্গিরা। এই বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা পেয়েছেন একটি কোডনেম। সূত্রের খবর, ‘উকাসা’ নামে এক ব্যক্তির নাম জানা গিয়েছে, যে ওই চিকিৎসক-জঙ্গিদের নিয়ে তৈরি মডিউল পরিচালনা করত। এই মডিউলের নেতা ছিল আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক-শিক্ষক উমর উন নবি। জানা গিয়েছে, ভারতে এই হামলার ছক কষা হয়েছিল তুরস্কে বসেই।

    উকাসা (Ukase Turkiye)

    গোয়েন্দাদের অনুমান, জইশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ এই দুই জঙ্গিগোষ্ঠীর হ্যান্ডলার এবং দিল্লি মডিউলের মধ্যে প্রধান যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে এই উকাসা। প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীরা মনে করছেন, ২০২২ সালে তুরস্কে এই হামলার নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময়ই উমর ও তার সঙ্গীরা তুরস্কে গিয়েছিল। তারা গিয়েছিল ওই বছরেরেই মার্চ মাসে। সেই সময় প্রায় দু’সপ্তাহ আঙ্কারায় ছিল সে। এই সমস্ত ষড়যন্ত্রের অন্যতম অংশীদার ছিল সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাপ। প্রথমে টেলিগ্রামের মতো অ্যাপ ব্যবহার করা হলেও, পরে বেছে নেওয়া হয়েছিল সিগন্যাল ও সেশনের মতো অ্যাপ। তদন্তকারীদের ধারণা, উকাসা নামের এই হ্যান্ডলার চিকিৎসক-জঙ্গিদের তালিম দিয়েছিল, কীভাবে গোপনে ফোনালাপ করতে হয়, কীভাবেই বা এড়িয়ে চলতে হয় ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, তুরস্কের এই হ্যান্ডলারই মডিউলের কাজকর্ম ঠিক করে দিত, যাবতীয় নির্দেশও দিত ওই হ্যান্ডলাররা। উকাসার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট খুঁজতে এবং আরও কোনও যোগাযোগের সূত্র পেতে বিদেশি ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সাহায্য নিচ্ছেন গোয়েন্দারা (Delhi Blast)।

    পুলিশের স্ক্যানারে আরও এক চিকিৎসক

    এদিকে, লালকেল্লা বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় পুলিশের স্ক্যানারে রয়েছে আরও এক চিকিৎসকও। এই চিকিৎসক আর কেউ নয়, সে হল গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাঠির দাদা মুজাফফর। তদন্তকারীদের অনুমান, দিল্লি বিস্ফোরণে চিকিৎসক মেডিক্যাল টেরর মডিউলের বিদেশি যোগসূত্র ও অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী এই মুজাফফর। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সূত্রের খবর, পুলওয়ামার এই বাসিন্দা ভারতে মূল মডিউল ও তাদের পাক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করত। গত অগাস্টে সে দুবাইয়ে চলে গিয়েছে (Ukase Turkiye)। এখন সে আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে কাজ করছে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তার হদিশ পেতে রেড কর্নার নোটিশ জারি করতে চাইছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। সেজন্য ইন্টারপোলের সাহায্য চেয়েছে তারা।

    ‘উকাসা’ শব্দের অর্থ

    গোয়েন্দারা জেনেছেন, তুরস্কের হ্যান্ডলার উকাসা আদতে একটি সাংকেতিক নাম। এক আধিকারিক জানান, আরবি ভাষায় ‘উকাসা’ শব্দের অর্থ হল ‘মাকড়সা’। পরিচয় গোপন করে বিদেশে বসে থেকে নাশকতা, জঙ্গি কার্যকলাপে আর্থিক মদত এবং মৌলবাদী কাজকর্মে ইন্ধন জোগাত এই উকাসা (Delhi Blast)। এই উকাসার সঙ্গে দেখা করতেই তুরস্কে গিয়েছিল মুজাফফরও। তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসে অপারেশন ও ফান্ডিংয়ের রুটম্যাপ ঠিক করা হয়। অনুমান, সেখানেই কষে নেওয়া হয়েছিল লালকেল্লায় বিস্ফোরণের মতো একাধিক বড় নাশকতার ছক। পুলিশ সূত্রে খবর, ভাইকে জঙ্গি কার্যকলাপে টেনে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল (Ukase Turkiye) মুজাফফর। ভাইয়ের সঙ্গে উমর, মুজাম্মিল সাকিল ও মৌলবি ইরফানের সঙ্গেও যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিল সে-ই। একের পর এক সহযোগীর গ্রেফতারির প্রেক্ষিতে উমরকে দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর নির্দেশ দিয়েছিল মুজাফফর। ছিল, পুলওয়ামার ধাঁচে নাশকতার নির্দেশও।

    স্লিপার সেলে নিয়োগ

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, উকাসাই উমরদের পরিচালনা করত। কীভাবে স্লিপার সেলে নিয়োগ করতে হবে, কীভাবেই বা ডিজিটাল তথ্য লোপাট করতে হবে, সেই সবই চিকিৎসক-জঙ্গিদের শিখিয়ে পড়িয়ে নিয়েছিল তুরস্কের ওই হ্যান্ডলার। তদন্তকারীদের অনুমান, ভারতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের যে ছক কষা হয়েছিল এবং সেই হামলার জন্য যে জঙ্গি মডিউল তৈরি করা হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে উকাসার বড় ভূমিকা রয়েছে। তদন্তকারীরা উকাসা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জোগাড় করার চেষ্টা করছেন। পাক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে এই হ্যান্ডলারের কোনও যোগ ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। কীভাবে চিকিৎসক মডিউলকে উকাসা পরিচালনা (Delhi Blast) করছিল, এই উকাসা আসলে কে বা কারা, তাও জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

    প্রসঙ্গত, ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে উমরের হুন্ডাই আই-২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এই গাড়িতেই ছিল চিকিৎসক-জঙ্গি উমর। তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত ফরিদাবাদ থেকে ইকোস্পোর্টটি উদ্ধার করেছে। তল্লাশি চালানো হচ্ছে ব্রেজা গাড়িটির খোঁজে। আধিকারিকদের সন্দেহ, নিখোঁজ হওয়া গাড়িটিতে লুকানো থাকতে পারে বিস্ফোরক (Ukase Turkiye)।

  • Delhi Blast: লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ জঙ্গি হামলাই, সিলমোহর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার

    Delhi Blast: লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ জঙ্গি হামলাই, সিলমোহর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ (Delhi Blast) জঙ্গি হামলাই। বুধবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে এমনই (Centre) জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সাফ জানিয়ে দিলেন, সোমবার দিল্লিতে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তা আসলে ছিল ঘৃণ্য সন্ত্রাসবাদী হামলাই।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (Delhi Blast)

    বুধবার দেশে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছুটে যান দিল্লির লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে। সেখানে তিনি দেখা করেন দিল্লি বিস্ফোরণে জখমদের সঙ্গে। এই হাসপাতালে এখনও অন্তত ২০ জনের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এই হামলার নেপথ্যে জড়িতদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের তদন্ত সংস্থাগুলি এই ষড়যন্ত্রের শেকড় পর্যন্ত যাবে। যারা এই ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী, তাদের সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে। একজনকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না।” হাসপাতাল থেকে ফিরেই বিকেলে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেন নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

    বৈঠকে নীরবতা পালন

    এদিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত ওই বৈঠকের শুরুতেই দু’মিনিট ধরে নীরবতা পালন করা হয়। দিল্লির বিস্ফোরণে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এদিন পালন করা হয় নীরবতা। এরপর কেন্দ্রের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দে করা হয় এই হামলার। ঘটনাটিকে দেশ বিরোধী শক্তির কাপুরুষোচিত আক্রমণ বলেও উল্লেখ করা হয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, তাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়। এই হামলাকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলেও উল্লেখ করা হয়। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রীরা। যাঁরা উদ্ধার কাজে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের প্রশংসাও করা হয়। ওই হামলার পরে পরেই ভারতের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বার্তা পাঠায় বিভিন্ন দেশ। সেজন্য ওই দেশগুলিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় কেন্দ্রের তরফে। অভিযুক্তদের ধরে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।

    আই-২০ গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

    সোমবার বিকেলে দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি হুন্ডাই আই-২০ গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে উড়ে যায় পার্কিংয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি। কাচ ভেঙে যায় অকুস্থলের আশপাশের বাড়ি এবং দোকানেরও। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন বিদেশ সফরে, ভুটানে। সেখান থেকে ফিরেই প্রথমে যান হাসপাতালে, তার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। সেই (Delhi Blast) বৈঠক শেষে সোমবারের ওই হামলাকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে উল্লেখ করল সরকার। দিল্লির ঘটনার নেপথ্যে যে বড়সড় ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা আগেই জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিনের বৈঠকে তাকে সরাসরি সন্ত্রাসবাদী হামলা বলেই দেগে দেওয়া হল (Centre)।

    বিস্ফোরণের আগে রেকি!

    এদিকে, ঘটনার পর গত ৪৮ ঘণ্টায় অনেকটাই এগিয়েছে তদন্ত। গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে। তাদের জেরা করে অনেক নতুন তথ্যও পাওয়া গিয়েছে। বুধবারই হরিয়ানার একটি গ্রাম থেকে উদ্ধার হয়েছে অন্যতম অভিযুক্ত উমর নবির লাল রংয়ের চারচাকার একটি গাড়ি। এই উমরই বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া সাদা হুন্ডাই আই-২০ গাড়ির চালকের আসনে ছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের। বিস্ফোরণের আগে আগে এই গাড়িটি কোথায় কোথায় ঘুরেছিল, সেদিকেও নজরদারি করছেন গোয়েন্দারা। জানা গিয়েছে, গাড়িটি এর আগে ঘুরেছিল দিল্লির দুই ব্যস্ততম এলাকা কনট প্লেস এবং ময়ূর বিহার। দিল্লির এই দুই এলাকায় আসার আগে গাড়িটি হরিয়ানাতেই ছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের। সূত্রের দাবি, গত ২৯ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্ মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাসে পার্ক করা ছিল বিস্ফোরণে ব্যবহৃত সেই গাড়িটি। এর ঠিক পাশেই রাখা ছিল ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল আহমেদের গাড়িও। জানা গিয়েছে, গাড়ির মালিক মুজাম্মিল হলেও, রেজিস্ট্রেশন ছিল মহিলা চিকিৎসক শাহিন শাহিদের নামে। প্রশ্ন হল, তাহলে কি বিস্ফোরণের আগে রেকি করতেই রাজধানীর জনবহুল এলাকাগুলিতে ঘুরপাক খেয়েছে (Delhi Blast) গাড়িটি? লালকেল্লা ছাড়াও রাজধানীর অন্য কোথাও কি আত্মঘাতী হামলার ছক কষেছিল জঙ্গিরা? যদিও দিল্লি বিস্ফোরণের নেপথ্যে আত্মঘাতী হামলার সুস্পষ্ট প্রমাণ এখনও মেলেনি।

    উধাও হয়ে গিয়েছিল মহিলা চিকিৎসক

    লালকেল্লার বাইরে বিস্ফোরণের ঠিক আগে লখনউ থেকে গ্রেফতার করা হয় শাহিন সিদ্দিকি নামে এক মহিলা চিকিৎসককে। তার গাড়িতেও মিলেছে আগ্নেয়াস্ত্র (Centre)। তদন্তকারীদের অনুমান, শাহিন ও তার সঙ্গী মুজাম্মিলের সঙ্গে সরাসরি যোগ থাকতে পারে দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের। কানপুরের জেএসভিএম মেডিক্যাল কলেজে পড়াত শাহিন। ২০১৩ সালে আচমকাই উধাও হয়ে যায়। ২০২১ সালে তাকে বরখাস্ত করেন মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। গোয়েন্দাদের ধারণা, সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ায় গায়েব হয়ে গিয়েছিল শাহিন। জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা জামাত-উল-মোমিনীনের ভারতের প্রধান করা হয় তাকে। সে কাজ করত মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের সঙ্গে শলা করে। লখনউয়ের যে বাড়িতে শাহিন থাকত, সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় তাঁর ভাই পারভেজ আনসারিকেও (Delhi Blast)। শ্রীনগরে জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগে ধৃত আদিল মাজিদ রাথরের সঙ্গেও যোগ রয়েছে ফরিদাবাদের এই হাসপাতালের (Centre)। যদিও বুধবার ওই মেডিক্যাল কলেজ-হাসপাতালের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, তারা সন্ত্রাসবাদীদের আখড়া নয়। ধৃত কিংবা আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্কই নেই।

  • Pakistan: পাকিস্তানে জুম্মার নমাজে নির্বিচারে গুলি, জখম বেশ কয়েকজন

    Pakistan: পাকিস্তানে জুম্মার নমাজে নির্বিচারে গুলি, জখম বেশ কয়েকজন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবারের নমাজের জমায়েতে নির্বিচারে গুলি (Terror Attack) চালাল এক বন্দুকধারী। পাকিস্তানের (Pakistan) পাঞ্জার প্রদেশের রাবওয়া শহরের ঘটনা। এদিন জুম্মার নমাজ আদায় করতে বাইট-উল-মাহদি আহমদিয়া মসজিদে জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। আচমকাই এক বন্দুকধারী এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আহমদিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো এই গুলিবৃষ্টির দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। গুলির ঘায়ে জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

    জুম্মার নমাজে হামলা (Pakistan)

    বাইট-উল-মাহদি হল আহমদিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রধান কেন্দ্র। পুলিশ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ছ’জন জখম হয়েছেন। জানা গিয়েছে, এদিন এক বন্দুকধারী মসজিদের গেটের দিকে এগিয়ে এসে স্বেচ্ছাসেবক ও প্রহরীদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন মসজিদে জড়ো হওয়া লোকজন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মসজিদের এক প্রহরী পাল্টা গুলি চালান। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বন্দুকধারী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। পাক পাঞ্জাবের পুলিশ জানিয়েছে, মসজিদের মেন গেটে পৌঁছানোর পর হামলাকারী কর্তব্যরত আহমদিয়া স্বেচ্ছাসেবক প্রহরীদের ওপর গুলি চালায়। প্রহরীদের একজন হামলাকারীকে হত্যা করে। শনিবার বিকেল পর্যন্তও এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি সংগঠন (Pakistan)।

    কী বলছে আহমদিয়া সম্প্রদায়?

    আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মুখপাত্র আমির মাহমুদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তানে এমন ঘৃণামূলক প্রচার ও হামলাকে প্রকাশ্যে উৎসাহিত করা হয়।” তিনি এও বলেন, “এমন ফতোয়া রয়েছে যা মানুষকে আহমদিয়াদের হত্যা করতে উৎসাহিত করে, যখনই তারা তাদের মুখোমুখি হয়। নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় আহমদিয়াদের সুরক্ষার জন্য আহমদিয়াদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইন অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে।” আহমদিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পাকিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে অন্যতম, যারা ধারাবাহিকভাবে জঙ্গি হামলা ও অন্যান্য নৃশংসতার শিকার হয়ে আসছে। হিন্দু, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরাও বারবার নিপীড়ন, জোরপূর্বক গুম ও ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলে আসছে (Terror Attack)।

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-সহ অন্যান্য সংগঠনও পাকিস্তানে আহমদিয়া সম্প্রদায় এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে (Pakistan)।

  • Terrorist Tahir Habib: লস্কর কমান্ডারকে জঙ্গি তাহিরের জানাযায় যোগ দিতে বাধা, দিন বদলাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে?

    Terrorist Tahir Habib: লস্কর কমান্ডারকে জঙ্গি তাহিরের জানাযায় যোগ দিতে বাধা, দিন বদলাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এল সাম্প্রতিক এক ঘটনার মাধ্যমে। জম্মু-কাশ্মীরে অপারেশন ‘মহাদেবে’ খতম লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গি তাহির হাবিবের (Terrorist Tahir Habib) শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK), তার নিজের গ্রাম রাওয়ালকোটের খাই গালায়। সেখানে যে জানজা-গায়েব অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পাক জঙ্গি নিয়োগকারী চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন স্থানীয়রা।

    তাহির পাক সেনার প্রাক্তন সদস্য (Terrorist Tahir Habib)

    তাহির পাক সেনার প্রাক্তন সদস্য। লস্কর-ই-তৈবার ‘এ’ ক্যাটেগরির সক্রিয় জঙ্গি। ২২ এপ্রিল দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বেছে বেছে যে ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে হত্যা করা হয়, সেই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তও এই তাহির। তার জানাজায় অশান্তি শুধুমাত্র এই হামলায় তার জড়িত থাকার বিষয়টিই নিশ্চিত করেনি, পাক-সমর্থিত জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলির বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধের বার্তাও হয়ে উঠেছে। ‘অপারেশন মহাদেবে’ ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী শ্রীনগরে তাহির-সহ তিন জঙ্গিকে নিকেশ করে। কিছুদিন আগেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাহিরের লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং পহেলগাঁওয়ে হামলায় তার সক্রিয় ভূমিকার কথা জানতে পারে। তার পরেই চালানো হয় অপারেশন। তাহিরের মৃত্যুকে এখন আর কেবল একটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে নয়, বরং পাক-আশ্রিত জঙ্গিদের মদত দেওয়ায় ভারতের প্রতিরোধ অভিযানে একটি প্রতীকী জয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    জানাজা-গায়েবে অশান্তি

    খাই গালায় জানাজা-গায়েব শুরু হয় এক শান্ত পরিবেশে। উপস্থিত ছিলেন গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ও তাহিরের পরিবারের সদস্যরা। শোকাবহ এই পরিবেশেই জোর করেই জানাজায় যোগ দেওয়ার চেষ্টা করে লস্কর-ই-তৈবার কমান্ডার রিজওয়ান হানিফ। এর পরেই দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। তাহিরের পরিবার আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, জানাজায় যেন লস্করের কোনও প্রতিনিধি যোগ না দেয়। আরুশি ভাট নামে একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, #পাহেলগাঁও জঙ্গি হাবিব তাহিরের জানাজা-গায়েব খাই গালা, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত হয়। এটি পাকিস্তানের তরফে সন্ত্রাসবাদের প্রশংসা। একটি দেশ (Terrorist Tahir Habib) যে খুনিদের পূজা করে, তারা কখনওই ‘ভিকটিম’ হতে পারে না।
    #সন্ত্রাসবাদী_রাষ্ট্র_পাকিস্তান (POK)।

    লস্কর কমান্ডারকে ঘাড়ধাক্কা

    জানাজায় উপস্থিত লোকজন হানিফকে যোগ দিতে বাধা দিলে তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা (পড়়ুন, লস্করের সশস্ত্র জঙ্গিরা) তাঁদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ভয় দেখাতে থাকে। এতেই খেপে যান স্থানীয়রা।  বহু বছর ধরে সন্ত্রাসবাদের জেরে ক্লান্ত গ্রামবাসীরা তাদের তাড়া করেন। একপ্রকার বাধ্য হয়েই পিছু হঠে হানিফ-বাহিনী। স্থানীয়দের এই নজিরবিহীন প্রতিবাদকে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের মানসিকতায় বদলের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ থেকে স্পষ্ট যে, পাকিস্তান সরকারের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের প্রতি সাধারণ মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে। বিশেষত সেভাবে, যেভাবে লস্করের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি বহু বছর ধরে খাই গালার মতো অঞ্চলগুলিতে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো ও সেখানকার তরুণদের নিয়োগের কাজ করে এসেছে।

    দিন বদলাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে

    বহু বছর ধরে ভয় ও জোরজবরদস্তি করে এই ভিন্নমতটাকেই দমন করে রেখেছিল জঙ্গিরা। এখন যে স্থানীয়রা আর জঙ্গিদের পরোয়া করেন না, এই ঘটনায়ই তা স্পষ্ট। শোনা যাচ্ছে, খাই গালার বাসিন্দারা জঙ্গিদের এবং তাদের নিয়োগকারীদের সামাজিক বয়কটের পরিকল্পনা করছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে পরিচালিত জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলির উদ্দেশে একটি জোরালো বার্তা (Terrorist Tahir Habib)। এই ঘটনাটি ভারতের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটেও এসেছে, বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুরের মতো সামরিক অভিযানের মাধ্যমে, যা পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পাল্টা হিসেবে শুরু হয়েছিল। যদিও ‘সিঁদুর’ মূলত একটি সামরিক মিশন, তবুও এর মানসিক ও সামাজিক প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে, যার প্রতিফলন খাই গালায় স্থানীয়দের এই প্রতিরোধে স্পষ্ট।

    ভারতের বহুমাত্রিক কৌশলের সাফল্যের ইঙ্গিত

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু কাশ্মীরে পাকিস্তানি জঙ্গিদের যোগ সম্পর্কে ভারতের দাবিকে মান্যতাই দেয় না, বরং ভারতের বহুমাত্রিক কৌশলের সাফল্যের ইঙ্গিতও দেয় (POK)। এই কৌশলের মধ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান, পরিকাঠামো উন্নয়ন, এবং জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচেষ্টা। এর সম্মিলিত প্রভাব এখন কেবল জম্মু ও কাশ্মীরেই নয়, বরং পাকিস্তানের নিজস্ব ভূখণ্ডেও টের পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ ক্রমশ সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন। লস্কর-ই-তৈবায় যোগ দেওয়ার আগে তাহির যুক্ত ছিল ইসলামী জমিয়তে তালবা এবং স্টুডেন্ট লিবারেশন ফ্রন্টের সঙ্গে। এগুলি পাকিস্তানের জঙ্গি তরুণদের আদর্শিক প্রস্তুতির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে তার কর্মজীবন তাকে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়। এটাকেই সে লস্করের জঙ্গি কার্যকলাপে কাজে লাগায় (Terrorist Tahir Habib)।

    পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো টিকে থাকা নিয়েও প্রশ্ন

    গোয়েন্দা সংস্থার রেকর্ডে সে ‘আফগানি’ নামেই পরিচিত। এটি তার সদোজাই পাঠান বংশের প্রতি ইঙ্গিত দেয়। এই সম্প্রদায়টি ১৮শ শতকে আফগানিস্তান থেকে অভিবাসিত হয় এবং ঐতিহাসিকভাবে বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য পরিচিত ছিল। এখন সেই সম্প্রদায় আর ভারতের বিরুদ্ধে নয়, বরং পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্বশীল যুদ্ধের দমনমূলক ছায়ার বিরুদ্ধেই নতুন ধরনের প্রতিরোধ দেখাচ্ছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার জানাজায় লস্করের উপস্থিতিকে জনসাধারণের প্রত্যাখ্যান এবং গ্রামবাসীদের সাহসী প্রতিরোধ এই অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ গতিবিধিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।এই ঘটনা একই সঙ্গে (POK) পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো টিকে থাকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলে, বিশেষ করে যখন স্থানীয় জনগণ বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন (Terrorist Tahir Habib)।

    ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে এই ঘটনা তাদের কৌশলের এক সুস্পষ্ট সাফল্য প্রমাণ করে, যে হাবিবের মতো চাঁইদের নিকেশ করলে শুধু সন্ত্রাসী শক্তি দুর্বল হয় না, বরং ভয়ের দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত জনগণের মধ্যে প্রতিরোধের বীজও বপন করা হয়। খাই গালায় যা ঘটেছে, তা আপাত দৃষ্টিতে ছোট্ট একটি গ্রামের সংঘর্ষ মনে হলেও, এর তাৎপর্য ব্যাপক (Terrorist Tahir Habib)।

  • Kashmir: ভূস্বর্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের ৫ সহযোগীর বিরুদ্ধে পিএসএ মামলা দায়ের

    Kashmir: ভূস্বর্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের ৫ সহযোগীর বিরুদ্ধে পিএসএ মামলা দায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে (Kashmir) নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের অন্তত পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে সোমবার কঠোর জননিরাপত্তা আইনে (PSA) মামলা করা হয়েছে। এই পাঁচজন কাশ্মীরে দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ছিল। অভিযুক্তরা হল, নইম আহমেদ খান, ফাইজান আখতার ভাট, মেহরাজউদ্দিন ভাট, উমর হামিদ শেখ এবং সুহাইব শফি বাবা। অভিযুক্তরা সকলেই শ্রীনগরের বাসিন্দা।

    সরকারি মুখপাত্রের বক্তব্য (Kashmir)

    এক সরকারি মুখপাত্র জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রস্তুত করা ডোজিয়ারের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ নেওয়া হয় এবং তাদের জম্মুর কাঠুয়া, উদমপুর ও কোট বালওয়াল কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। তবুও তারা নিজেদের আচরণ সংশোধন করেনি এবং আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরেও তারা নির্লজ্জভাবে রাষ্ট্রবিরোধী ও অপরাধমূলক কাজকর্মে লিপ্ত ছিল, যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী।”

    অপরাধমূলক কার্যকলাপ নির্মূল

    পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তেরা শ্রীনগরে এমন দেশবিরোধী কাঠামোগুলিকে লক্ষ্য করে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করছে, এই ধরনের উপাদানগুলির বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের মাধ্যমে(Kashmir)। এক আধিকারিক বলেন, “এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তির পরিপন্থী যে কোনও অপরাধমূলক কার্যকলাপ নির্মূল করতে আমরা আইনের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে আমাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখছি (PSA)।”

    পুলিশের তরফে সতর্ক করা হয়েছে, “যারা দেশের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর অবৈধ বা বিশৃঙ্খল কার্যকলাপে লিপ্ত, তাদের আমরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছি — আইনের দীর্ঘ হাত তাদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ধরবে এবং প্রতিটি অপরাধীকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।” “জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তির পরিপন্থী সকল অপরাধমূলক কার্যকলাপ নির্মূল করতে আইনের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তাদের অটল প্রতিশ্রুতি ফের একবার মনে করিয়ে দেয় তারা। তিনি বলেন, সেই সব ব্যক্তিদেরও সতর্ক করছি যারা জাতির নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অবৈধ বা বিশৃঙ্খল কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছেন—আইনের দীর্ঘ হাত তাদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ধরবে এবং প্রত্যেক অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করা হবে,” বিবৃতিতে বলা হয়েছে (Kashmir)।

  • Terror Funding: প্রবাসী বাঙালিদের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে টাকা পাঠাচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলি! রহস্য ফাঁস গোয়েন্দাদের

    Terror Funding: প্রবাসী বাঙালিদের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে টাকা পাঠাচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলি! রহস্য ফাঁস গোয়েন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এপার বাংলায় তুষ্টিকরণের রাজনীতি, আর ওপার বাংলায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নৈরাজ্য – এই জোড়া যোগে রমরমা জঙ্গিদের (Terror Funding)। ডামাডোলের বাজারে সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়ছে জঙ্গিরা (Jihadist Outfits)। তারপর মিশে যাচ্ছে এ রাজ্যের জনারণ্যে। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের আমলে এ রাজ্যে বাড়ছে জঙ্গি অনুপ্রবেশের ঘটনা। এই জঙ্গিদের রসদ জোগাচ্ছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলি। প্রশ্ন হল, কীভাবে? সাধারণত প্রচলিত ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে হঠাৎ করে বড় অঙ্কের টাকা পাঠানো হলে তা সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়। সেই কারণে জঙ্গিরা পশ্চিমবঙ্গের প্রবাসীদের মাধ্যমে ৫ কিংবা ১০ হাজার করে টাকা পাঠাচ্ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনগুলি মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের প্রবাসীদের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছিল পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে জঙ্গি মডিউলে কাজে লাগাতে। জঙ্গিদের এই কৌশলটি প্রকাশ্যে আসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) দ্বারা আর একটি ইসলামপন্থী জঙ্গি মডিউল ধ্বংস করার মাধ্যমে। ৯ মে এসটিএফ বীরভূমের নলহাটি থেকে মডিউলটির প্রধান বছর আঠাশের আজমল হোসেনকে গ্রেফতার করে। ওই দিনই মুরারই থেকে গ্রেফতার করা হয় তারই সমবয়সি মডিউলের আর এক শীর্ষ সদস্য সাহেব আলি খানকে। ১০ মে কলকাতার ডায়মন্ড হারবারের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা মডিউলের আর এক সদস্য বছর পঁচিশের আব্বাসউদ্দিন মোল্লাকে।

    জঙ্গি মডিউলে মোটা অঙ্কের টাকা (Terror Funding)

    এসটিএফের সিনিয়র কর্তারা টানা জেরা করেন ওই জঙ্গিদের। তখনই জানা যায়, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, দুই বর্ধমান এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দারা যাঁরা মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণ শ্রমিকের কাজ করেন, তাঁদের মাধ্যমে এই জঙ্গি মডিউলে মোটা অঙ্কের টাকা পাঠানো হচ্ছিল। এসটিএফ সমস্ত তথ্য শেয়ার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে। আইবি-র (ইনটেলিজেন্স ব্যুরো) এক শীর্ষ কর্তা সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “প্রবাসীদের মাধ্যমে জঙ্গিদের অর্থ পাঠানোর পদ্ধতি একটি নয়া প্রবণতা। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলি এই পদ্ধতিতে অর্থ পাঠাচ্ছে কারণ হাওলা লেনদেনের ওপর নজরদারি অনেক বেড়েছে। হাওলার মাধ্যমে টাকা পাঠানো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই তারা এই নতুন পথ বেছে নিয়েছে।”

    কী বলছেন আইবি কর্তা?

    তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ থেকে হাজার হাজার মানুষ বিদেশে কাজ করেন। তাঁদের পাঠানো টাকার ওপর নজরদারি করা আমাদের সংগঠনগত সম্পদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে।”  গোয়েন্দাদের অনুমান, কয়েকশোরও বেশি প্রবাসীকে ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে এমন ছোট ছোট অঙ্কের অর্থ পশ্চিমবঙ্গের ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে (Jihadist Outfits) পাঠানো হচ্ছিল। আইবির ওই কর্তা বলেন, “উদ্বেগের বিষয় হল — এই প্রবাসীরা, যাঁরা তাঁদের অ্যাকাউন্ট সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহার করতে দিয়েছেন, তাঁরা সেই সংগঠনের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে গিয়েছেন। এর মানে তাঁরা চরমপন্থায় প্রভাবিত হয়েছেন এবং স্বেচ্ছায় সন্ত্রাসবাদে সহায়ক হয়ে উঠেছেন (Terror Funding)।”

    ধৃতেরা জেএমবির নির্দেশে কাজ করছিল!

    গত সপ্তাহে যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) নির্দেশে একটি জঙ্গি মডিউল গঠন করেছিল। জেএমবির সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই মডিউলের প্রধান আজমল হোসেন বছর ছয়েক আগে বাংলায় জেএমবির সদস্যদের দ্বারা চরমপন্থায় দীক্ষিত হয় এবং তারাই তাকে নিয়োগ করে। ২০২২ সালের কোনও এক সময় তাকে একটি পৃথক জঙ্গি মডিউল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। হোসেনকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি)-এর কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এটি বাংলাদেশভিত্তিক একটি জঙ্গি সংগঠন, যারা অসম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ভারতের আরও অনেক রাজ্যে স্লিপার সেলের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এই এবিটির সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) সম্পর্ক রয়েছে। হোসেন ও খান লস্কর-ই-তৈবার কাছ থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র চালানো এবং ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) তৈরির প্রশিক্ষণ পেয়েছে।

    আজমল হোসেনের হ্যান্ডলার

    এক আইবি কর্তা বলেন, “আজমল হোসেনের এক হ্যান্ডলার রয়েছে। সে রয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK)। ওই হ্যান্ডলার নিয়মিতভাবে তাকে নির্দেশ পাঠাত। বছর দুই আগে পর্যন্ত এই হ্যান্ডলার হাওলা পদ্ধতিতে তাকে বড় অঙ্কের টাকা পাঠাত। কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারির কারণে সম্ভবত সেই পথটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।” তিনি বলেন, “মোল্লা সম্প্রতি তার পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করার নির্দেশ পেয়েছে। এর বিনিময়ে তাকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় (Terror Funding)।”

    আজমলের দায়িত্ব

    এসটিএফ সূত্রে খবর, আজমল হোসেনকে বীরভূম, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দুই ২৪ পরগনার বিভিন্ন জেলায় সমর্থক ও সদস্যদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসটিএফের এক কর্তা বলেন, “তাকে (আজমল) স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কীভাবে একটি জঙ্গি মডিউল গঠন করতে হবে এবং কীভাবে প্রতিটি স্লিপার সেল গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটিতে ২-৩ জন কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী থাকবে। এরা ছড়িয়ে থাকবে দক্ষিণবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরাজুড়ে। তাদের বলা হয়েছিল মুসলিম যুবক ও কিশোরদের মৌলবাদে উদ্বুদ্ধ করতেও। কীভাবে তরুণ মুসলিমদের (Jihadist Outfits) র‍্যাডিকালাইজ করা যায়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।” এসটিএফের এক কর্তার মতে, প্রথম ধাপ ছিল দুর্বল কিশোর ও তরুণদের শনাক্ত করা। পরে তাদের মগজ ধোলাই করা হয়। তারা যাতে ভারতীয় মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের মিথ্যে কথা প্রচার করে, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, আজমল হোসেন ও তার শাগরেদরা মালদা ও মুর্শিদাবাদে ধর্মীয় মেহফিলের আয়োজন করছিল, যার মাধ্যমে তারা মৌলবাদী ইসলাম প্রচার করত।

    এসটিএফের কর্তার বক্তব্য

    এসটিএফের এক কর্তা বলেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই তরুণদের উগ্রপন্থার পথে পরিচালিত করা হয় এবং তারপর তাদের মধ্যে দেশদ্রোহী ও জেহাদি সাহিত্য বিলি করার পর দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়। তাদের মধ্যে প্রচুর জেহাদি মতাদর্শ ঢোকানো হয় এবং মগজধোলাই করে জেহাদি বানানো হয়, তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে জেএমবি বা এবিটিতে নিয়োগ করা হয়। এই সদস্যদের সঙ্গে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী (Jihadist Outfits) সংগঠন এবং আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।”  তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছাকাছি একটি নিরাপদ জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ ও অসম থেকে আসা নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আমরা যখন এই মডিউলটি ভেঙে দিই, তখন অস্ত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছিল (Terror Funding)।”

    পলাতক স্লিপার সেলের অধিকাংশ সদস্য

    নয়া জঙ্গি মডিউলের তিন শীর্ষ সদস্য গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পালিয়ে গিয়েছে স্লিপার সেলের অধিকাংশ সদস্য ও নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা। আইবির ওই কর্তা বলেন, “তাদের খুঁজে বের করতে কিছুটা সময় লাগবে। আরও একটি গুরুতর বিষয় হল — বাংলা থেকে প্রবাসীদের জঙ্গি নেটওয়ার্কে সহযোগী হিসেবে নিয়োগ করা। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। আমাদের এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সরকারের সঙ্গে। তারপর ওই ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে (Jihadist Outfits) বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে (Terror Funding)।”

LinkedIn
Share