Tag: terrorism

terrorism

  • Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় ফের লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেল্লাম (Kellam) গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিরা দুই পরিযায়ী শ্রমিককে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত দু’জনই ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে লস্কর-ই-তৈবার (LeT) ছদ্ম সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

    কী ঘটেছিল কুলগামের জঙ্গি হামলায়?

    পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থলে একাধিক অ-স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছিলেন। জঙ্গিরা প্রথমে শ্রমিকদের পরিচয় জানতে চায়। এরপর দুই হিন্দু শ্রমিককে অন্যদের থেকে আলাদা করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। নিহতদের নাম দীপক ও ভূপেন্দ্র। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই দীপকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ভূপেন্দ্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়। দু’জনেই ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    দায় স্বীকার টিআরএফ-এর, নজরে লস্কর যোগও

    হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই এর দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। এই সংগঠনটি লস্কর-ই-তইবার প্রক্সি সংগঠন হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৫ সালের পাহেলগাম জঙ্গি হামলার সঙ্গেও তাদের নাম জড়িয়েছিল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এই হামলায় এক স্থানীয় এবং এক বিদেশি জঙ্গির জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে মহম্মদ লতিফ, যে গত বছর লস্কর-ই-তৈবা বা টিআরএফ-এ যোগ দিয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী এখনও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি দেয়নি।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় অভিযান

    হামলার পরপরই সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে কেল্লাম গ্রাম ঘিরে ফেলে। শুরু হয় ব্যাপক কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গিদের খোঁজ চলছে। গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল জানান, তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক নলিন প্রভাত-সহ শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জঙ্গিদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

    অমরনাথ যাত্রার মাঝেই বাড়ছে উদ্বেগ

    এই হামলার পর উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। এর আগে অনন্তনাগ জেলায় এক পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই উপত্যকা জুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৩,০০০-এরও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকার ৬৭০টি অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীর কোম্পানি মোতায়েন করেছে।

    পাহেলগাম হামলার পর আবার টিআরএফ-এর সক্রিয়তা

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলিকে দায়ী করেছিল ভারত। পরবর্তীতে ভারত অপারেশন সিঁদুর চালায় এবং দুই দেশের মধ্যে কয়েকদিন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক কুলগাম হামলাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ।

    শোকপ্রকাশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই ঘটনাকে “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ন্যাশনাল কনফারেন্স তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, “এই মানুষগুলো স্রেফ নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে এসেছেন। কোনো সভ্য সমাজে এই বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দাবির সত্ত্বেও এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্তম্ভিত করে।” ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। তাঁর অভিযোগ, উপত্যকার শান্তি নষ্ট করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কারা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, বিজেপি নেতা রবীন্দর রায়না, আপনি পার্টির সভাপতি আলতাফ বুখারি এবং পিপলস্ কনফারেন্স-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে।

    অতীতেও পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা

    কুলগামে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর কুলগামের ওয়ানপোহ এলাকায় বিহারের দুই শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীনগরে পঞ্জাবের দুই অ-স্থানীয় শ্রমিক জঙ্গি হামলায় নিহত হন।

  • Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের (Pavel Durov) বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছে রাশিয়ার ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসবি)। একই সঙ্গে তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় তোলার প্রক্রিয়াও শুরু (Terrorism Arrest Warrant) হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস। এফএসবি জানিয়েছে, টেলিগ্রাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দুরভের বিরুদ্ধে রুশ ফৌজদারি আইনের ২০৫.১ ধারার ১.১ অংশে মামলা করা হয়েছে। ওই ধারাটি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সাহায্যেপ সঙ্গে সম্পর্কিত। তাসের প্রতিবেদনে এফএসবির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “টেলিগ্রাম প্রশাসনের প্রধান পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন একটি ফৌজদারি মামলার অংশ হিসেবে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির জন্য আন্তর্জাতিক পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।”

    স্পুটনিকের বক্তব্য (Terrorism Arrest Warrant)

    রুশ আইনজীবী ভ্লাদিমির ঝেরেবেনকভ জানিয়েছেন, দুরভের অনুপস্থিতিতেও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাসকে ঝেরেবেনকভ বলেন, “রাশিয়ায় কোনও ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের জন্য এটি একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। রুশ আদালত কারও অনুপস্থিতিতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর রুশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ওই ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের মাধ্যমও রয়েছে। দুরভের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।” আইনি প্রতিনিধির বক্তব্য দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক জানিয়েছে, দুরভের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এদিকে, এফএসবির তথ্য উদ্ধৃত করে স্পুটনিক দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রাশিয়ার অভ্যন্তরে জঙ্গি হামলা এবং ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা সমন্বয়ের জন্য টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট ব্যবহার করলেও, সেগুলি সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি টেলিগ্রাম।

    রাশিয়ার দাবি

    রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই কর্মকাণ্ডের ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নারী এবং শিশুও রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকশ’ কোটি ডলারের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা (Terrorism Arrest Warrant)। স্পুটনিক আরও জানিয়েছে, এফএসবির অভিযোগ অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা টেলিগ্রামের পরিচয়-পরিচয় সেবা ব্যবহার করে তরুণী সেজে রুশ পুরুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে তাঁদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করা হত। এফএসবির আরও দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে রাশিয়ার ১৬টি অঞ্চলে ওই পরিচয়-পরিচয় সেবার ৪৬ জন তরুণ ব্যবহারকারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং অগ্নিসংযোগের মতো কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ফরাসি কৌঁসুলিদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৪১ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম-সংক্রান্ত একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপাদান ছড়িয়ে দেওয়া, প্রতারণা এবং মাদক বিক্রির অভিযোগও ছিল। সেই সময় দুরভ বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের একটি মঞ্চ পরিচালনার ক্ষেত্রে (Pavel Durov) ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশে সরকারি দাবি মেনে নেওয়ার চেয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়াকেই (Terrorism Arrest Warrant) তাঁর সংস্থা বেছে নিতে প্রস্তুত ছিল।

  • Bangladesh: বাংলাদেশজুড়ে কালেমাখচিত কালো-সাদা পতাকার দাপাদাপি, কারা ওড়াচ্ছে এসব ঝান্ডা?

    Bangladesh: বাংলাদেশজুড়ে কালেমাখচিত কালো-সাদা পতাকার দাপাদাপি, কারা ওড়াচ্ছে এসব ঝান্ডা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশজুড়ে (Bangladesh) ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেই নতুন করে চর্চায় এসেছে কালেমাখচিত কালো-সাদা পতাকার (Kalema Flags) দাপাদাপি। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফরিদপুর, মিরপুর-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই সব পতাকা টাঙানো এবং মিছিল-সমাবেশে বহন করার ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে এক লপ্তে অনেকখানি। কারণ, একই ধরনের পতাকা অতীতে আল-কায়েদা, ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীরের মতো জঙ্গি সংগঠনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হত।

    কালেমাখচিত পতাকা (Bangladesh)

    জানা গিয়েছে, গত ১৭ জুন ঢাকার একটি ফ্লাইওভারে প্রথম কালেমাখচিত পতাকা দেখা যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায় এই ঝান্ডার রমরমা। সড়ক, আবাসিক এলাকা মায় সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এই জাতীয় পতাকাকে পতপত করে উড়তে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, মোটরসাইকেলে শোভাযাত্রা এবং ধর্মীয় সমাবেশেও একই ধরনের পতাকা বহন করা হচ্ছে। সেই ভিডিও-ও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সুকৌশলে। এমনই ছবি নজরে এসেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

    দু’ধরনের পতাকা

    মূলত দু’ধরনের পতাকা বেশি দেখা যাচ্ছে। একটি সাদার পটভূমিতে কালো অক্ষরে লেখা, আর, অন্যটিতে কালোর পটভূমিতে সাদা অক্ষরে আরবি ভাষায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বা ইসলামের কালেমা লেখা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাদা-কালো নকশার এই পতাকাগুলির একটির সঙ্গে তালিবানের, এবং অন্যটির সঙ্গে আল-কায়েদা, আইএস এবং হিজবুত তাহরীরের ঝান্ডার মিল রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এসব নিশান ওড়ানোর সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনও জঙ্গি সংগঠনের সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ মেলেনি (Kalema Flags)। কিছু মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ‘তাওহিদী জনতা’ নামে পরিচয় দিয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহে এই ব্যানারে দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সমাবেশ হয়েছে। একটি শোভাযাত্রায় প্যালেস্তাইনের পতাকাও দেখা গিয়েছে। গত বছর ‘তাওহিদী জনতা’ ঘনিষ্ঠ কিছু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাজার, সুফি প্রতিষ্ঠান এবং বাউল সমাবেশে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল (Bangladesh)।

    হিজবুত তাহরীরের তৎপরতা

    এদিকে, হিজবুত তাহরীরের সাম্প্রতিক তৎপরতাও নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়েছে। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকারের সময় সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ডামাডোলের পর তাদের কার্যকলাপ বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ঢাকার জাতীয় মসজিদের সামনে ‘মার্চ ফর খিলাফত’ কর্মসূচিতে দু’হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল। যদিও বর্তমানে ঝান্ডা প্রদর্শনের ঘটনায় হিজবুত তাহরীরের যোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে হামাসের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্যালেস্তাইনের প্রতি জনসমর্থন থাকা স্বাভাবিক হলেও, বিদেশি জিহাদি মতাদর্শের পক্ষ্মবিস্তার নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক হতে পারে (Bangladesh)।

    কী বলছেন উদ্যোক্তারা?

    এদিকে, দিনাজপুরে আয়োজিত একটি শোভাযাত্রার উদ্যোক্তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং ইসলামের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। আয়োজকদের একজন মুফতি আবু বকর সিদ্দিক। তিনি জানান (Kalema Flags), তারা মানুষের হৃদয়ে কালেমার বার্তা পৌঁছে দিতে চান। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে অতিরিক্ত উন্মাদনা থেকে মানুষকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তাঁরা। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও কালেমাখচিত পতাকার প্রচার বেড়েছে। বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক ফেসবুক পেজ এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এসব পতাকা বিক্রি ও প্রচারের তথ্য সামনে এসেছে। একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম-সংশ্লিষ্ট নেতা মুফতি হারুন ইজহারের একটি পুরোনো ভিডিওও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি তরুণদের বিভিন্ন স্থানে কালেমার পতাকা টাঙানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, “যদি এসব পতাকাকে জঙ্গিবাদের প্রতীক বলা হয়, তবে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের পতাকাও নামিয়ে ফেলতে হবে।”

    উগ্রপন্থীদের ‘রিহার্সাল’! 

    এদিকে, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের অন্যতম নেতা তথা সাংসদ হাসনাত আবদুল্লাকে আল-কায়েদার মতো দেখতে একটি পতাকার সঙ্গে দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য এখনও মেলেনি (Bangladesh)। বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে জানান, একটি গোষ্ঠী সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে বিদেশি উগ্রবাদী সংস্কৃতিকে মূলধারায় আনার চেষ্টা করছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে উগ্রবাদী সংগঠনের উপস্থিতি জানান দেওয়ার একটি ‘রিহার্সাল’-ও হতে পারে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তাই বিষয়টি নয়াদিল্লির কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে দুই দেশেই দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। যদিও, এখনও পর্যন্ত সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনকে দায়ী করেনি। তদন্ত শেষ না (Kalema Flags) হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানেই রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (Bangladesh)।

  • India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তুলল ভারত (India Slams Pakistan)। সোমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বতানেনি বলেন, “পাকিস্তান নিজেদের দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে।”

    পাকিস্তানকে তোপ ভারতের (India Slams Pakistan)

    গত বছর পাকিস্তান নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে এই নামে চিহ্নিত করে দাবি করেছিল যে, তারা ভারতের মদতপুষ্ট। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে ইসলামাবাদ কোনও প্রমাণ দাখিল করেনি। এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে এই নামকরণ আসলে পাকিস্তানের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের অংশ।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছে।” তাঁর দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ জিইয়ে রেখে পাকিস্তান আসলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে।

    পাকিস্তানের সমালোচনা

    তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামো ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার সমালোচনাও করেন। পার্বতানেনির অভিযোগ, সাম্প্রতিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব আরও বেড়েছে। আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানেরও তীব্র সমালোচনা করে ভারত। পার্বতানেনি সাফ জানিয়ে দেন, অসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে কোনও অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ বলা যায় না। তিনি এও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও ইসলামি সংহতির কথা বললেও, রমজান মাসে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তান ভণ্ডামির পরিচয় দিয়েছে।” ভারতের প্রতিনিধি দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর নিজেদের ব্যর্থতার দায় চাপানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের।

    পাক-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশু-সহ অন্তত ১৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হওয়ার তথ্য সামনে আসে। এরপর দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হয়। মার্চ মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছিল, সংঘর্ষে আফগানিস্তানে অন্তত ৪২ জন নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ (India Slams Pakistan)। এরপর আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, ওই হামলায় ৪০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যদিও রাষ্ট্রসঙ্ঘ (UN Security Council) অন্তত ২৬৯ জনের মৃত্যুর খবর যাচাই করেছে। আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমলেও, সীমান্তে এখনও ঘটছে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা (India Slams Pakistan)।

     

  • PM Modi: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে। এটি (Terrorism) দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতিফলন।” সোমবার কথাগুলি বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি জানান, ভারত ও নরওয়ে উভয়েই নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেই কঠিন সময়ে নরওয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল, যা প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয়।” প্রধানমন্ত্রী জানান, সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনও বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়—এই বিশ্বাস দুই দেশেরই।

    বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন (PM Modi)

    তিনি বলেন, “আমরা একমত যে সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।” প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়া-সহ সংঘাতপীড়িত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে ভারত ও নরওয়ে। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির দিকে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, উদীয়মান আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ভারত ও নরওয়ের অভিমত হল, গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার হওয়া উচিত।”

    সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন

    সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে শেকড় থেকে নির্মূল করা তাঁদের যৌথ অঙ্গীকার। তিনি বলেন, “সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে শেকড় থেকে নির্মূল করা আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি।” সুইডেন সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী দু’দিনের সফরে নরওয়েতে পৌঁছন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান স্টোরে এবং নরওয়ের প্রবীণ নেতারা। প্রসঙ্গত, এই (PM Modi) সফরটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নরওয়ে সফর এবং চার দশকেরও বেশি সময় পরে এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই নর্ডিক দেশ সফর।দুই রাষ্ট্রনেতা ১৯ মে অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় নর্ডিক-ইন্ডিয়া সামিটেও যৌথভাবে অংশ নেবেন। এই সম্মেলনে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলির নেতারা অংশ নেবেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, সুইডেন এবং নরওয়ের প্রধানরা। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী রাজা হেরাল্ড ফাইভ (Harald V) এবং রানি সনজার (Sonja) সঙ্গেও (Terrorism) সাক্ষাৎ করবেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত-নরওয়ে ব্যবসা ও গবেষণা (PM Modi) সম্মেলনেও ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

     

  • Canada: ঢোক গিলল কানাডা! খালিস্তানপন্থীরা উদ্বেগের কারণ, এবার জানাল সেদেশের গোয়েন্দা সংস্থাও

    Canada: ঢোক গিলল কানাডা! খালিস্তানপন্থীরা উদ্বেগের কারণ, এবার জানাল সেদেশের গোয়েন্দা সংস্থাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ কূটনৈতিক জয় হল ভারতেরই! ঢোক গিলতে হল কানাডাকে। খালিস্তানপন্থীরা যে ক্রমেই কানাডায় জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, তা জানিয়ে দিয়েছে কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (CSIS)। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, খালিস্তানপন্থীরা এখনও কানাডার ভেতরে চরমপন্থী অ্যাজেন্ডা প্রচার করছে। বস্তুত, এই কথাটাই নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে কানাডাকে, প্রকাশ করেছে উদ্বেগও। এবার সেই একই উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কানাডার গোয়েন্দারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের একটি কূটনৈতিক স্বীকৃতি।

    হুমকির পরিবেশ তৈরি করছে খালিস্তানপন্থীরা (Canada)

    ২০২৫ সালের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই রিপোর্টটি কানাডার সংসদে উপস্থাপন করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার মাটিতে কোনও হামলা না হলেও, অব্যাহত রয়েছে উদ্বেগ। রিপোর্টটি এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৮২ বোমা হামলার ৪০তম বার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে তৈরি, যেখানে ৩২৯ জন নিহত হয়েছিলেন। কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচিত হয় ওই ঘটনা। যদিও ২০২৫ সালে কানাডা-ভিত্তিক খালিস্তানি চরমপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি, তবুও এতে সতর্ক করা হয়েছে যে হুমকির পরিবেশ এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং পরিবর্তনশীল। গোয়েন্দাদের মতে, “সিবিকেইদের হিংসাত্মক চরমপন্থী কার্যকলাপ অব্যাহত। এটি কানাডা এবং কানাডার স্বার্থের জন্য একটি জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে রয়ে গিয়েছে।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি কানাডিয়ান সমাজেও সংযুক্ত এবং তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে চরমপন্থী মতাদর্শ প্রচার করছে। সাধারণ মানুষের অজান্তে তহবিল জোগাড় করে তা হিংসাত্মক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    কানাডার ভূখণ্ডকে ঘাঁটি করা হচ্ছে

    প্রসঙ্গত, এটি গত এক বছরে সিএসআইএসের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো এমন সতর্কবার্তা। ২০২৫ সালের জুন মাসের প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছিল, খালিস্তানি চরমপন্থীরা কানাডার ভূখণ্ডকে প্রচার, তহবিল জোগাড় এবং হিংসার ষড়যন্ত্র ছকার নীল নকশার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে, যার মূল লক্ষ্য হল ভারত। এইসব তথ্য নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। ভারত বারবার অটোয়াকে (কানাডার রাজধানী) এই ধরনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। এই ইস্যুটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে, বিশেষ করে প্রাক্তন কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সময়ে। নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধের কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পৌঁছেছিল তলানিতে।

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্য

    ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যৌথ প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ভারত সফর করেন। এই সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দশ মাসে তৃতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ করেন, যা সম্পর্ক পুনর্গঠনের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয় বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। এই সফরের আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল অটোয়া সফর করেন, যা সংবেদনশীল নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে যে আলাপ-আলোচনা চলছে, তারই প্রতিফলন। তার সঙ্গে কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা উপদেষ্টা নাথালি দ্রুইনের আলোচনার ফলে উভয় দেশই নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যোগাযোগ রাখতে আধিকারিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য হল, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত বিনিময় করা এবং সহযোগিতা জোরদার করা।

    মার্চ মাসে ভারতের বৈঠকে মোদি সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বৈশ্বিক প্রভাবের ওপর জোর দেন। যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই চ্যালেঞ্জগুলি শুধু ভারত ও কানাডার জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুতর। এই হুমকিগুলি মোকাবিলায় দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই নয়া কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং গোয়েন্দা পর্যায়ের সমন্বয় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় সতর্ক এবং দৃঢ় প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

     

  • India Pakistan Relation: ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে…’, পাক মন্ত্রীর “কলকাতায় হামলা” মন্তব্যের সমালোচনা ভারতে

    India Pakistan Relation: ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে…’, পাক মন্ত্রীর “কলকাতায় হামলা” মন্তব্যের সমালোচনা ভারতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Khawaja Asif)-এর “ভবিষ্যৎ সংঘাতে কলকাতায় হামলা” (Pak Target Kolkata) সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি এবং বিরোধী কংগ্রেস উভয়ই এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে। প্রয়োজন পড়লে কলকাতাতেও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘‘ভারত যদি আবার আক্রমণের চেষ্টা করে, তবে গত বছরের চেয়েও বড় অপমানের মুখে পড়বে। এবার সংঘাত ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা আমরা কলকাতা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাব। আমরা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করব এবং তাদের নিজেদের ঘরের ভিতরেই আঘাত করব।’’ তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদের ভুয়ো অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে দোষারোপ করতে পারে ভারত (India Pakistan Relation)।

    পাকিস্তানের নিশানায় কলকাতা

    গত ২ এপ্রিল ‘অপারেশন সিঁদুর’এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবার আসিফের গলায় পালটা হুঁশিয়ারির সুর শোনা গেল। আসিফ বলেন, ‘সাজানো অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এর জন্য ওরা নিজেদের লোক ব্যবহার করবে। নাহলে ওদের হেপাজতে থাকা পাকিস্তানি বন্দিদেরও কাজে লাগাতে পারে। কয়েকটি মৃতদেহ ছুড়ে দিয়ে ওরা দাবি করবে, তারা জঙ্গি ছিল।’ আসিফের দাবি, ‘এক বছর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি নিয়ে ওদের নিজেদের লোকও প্রশ্ন তুলেছিল। এবার যদি তেমন কোনও নাটকের চেষ্টা করা হয় তাহলে আমরাও জবাব দেব। বিষয়টি কলকাতা পর্যন্ত চলে যাবে।’ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। গত বছর কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার পর দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে আরও। ওই সন্ত্রাসী হামলায় হাত রয়েছে পাকিস্তানের, এমন‌ই অভিযোগ তুলে ‘সিঁদুর অভিযান’-এর মাধ্যমে প্রত্যাঘাত করে নয়াদিল্লি। গত বছর মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিন সংঘর্ষ চলে। পরে সংঘর্ষবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতে ইতি পড়লেও উত্তেজনা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত।

    সন্ত্রাসবাদের মূল কেন্দ্র পাকিস্তানই

    পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যের জবাবে কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি বলেন, “১৯৭১ সাল থেকে পাকিস্তান নিজেই ভুয়ো অপারেশন চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে তারা যেন পিএইচডি করেছে।” তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের মূল কেন্দ্র পাকিস্তানই। বিজেপির মুখপাত্র প্রতুল শাহ দেও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অপারেশন সিঁদুরে আমরা তাদের ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করেছি। পাকিস্তান নিশ্চয়ই সেই অভিজ্ঞতা ভুলে যায়নি।” তাঁর দাবি, সেই সময় পাকিস্তানই যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছিল এবং ভারত নিজেদের শর্তে তা মেনে নেয়। তিনি আরও বলেন, “কলকাতা পাকিস্তানের নাগালের বাইরে। তারা শুধু বড় বড় কথা বলে। ভারত চাইলে পাকিস্তানের যেকোনও স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।” এছাড়া জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতা নীরজ কুমার-ও একই সুরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যকে “অত্যন্ত আপত্তিকর” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি কয়েক মিনিটে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই ক্ষত এখনও টাটকা থাকা উচিত।”

    নজর ঘোরাতে এই মন্তব্য

    খোয়াজা আসিফের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল বলেন, “পাকিস্তানের ভেতরের অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, ঋণ শোধে চাপে সরকার, সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে। এই পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্য আসলে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা।” একই সুরে বিজেপি নেতা শ্রীনিবাসও আসিফের বক্তব্যের নিন্দা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চলতে থাকলে ভারত কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।” প্রয়োজনে ‘অপারেশন সিঁদুর-২’-এর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। অন্যদিকে, কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ মজিদ মেমন কূটনৈতিক সংযম বজায় রাখার উপর জোর দেন। তাঁর কথায়, “কোনও দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পক্ষে এ ধরনের যুদ্ধংদেহী মন্তব্য করা উচিত নয়। শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই উচিত।”

    আসিফকে কটাক্ষ নেটিজেনদের

    আসিফের অভিযোগ, ফের সাজানো হামলার পরিকল্পনা করছে নয়াদিল্লি। এই অভিযানে স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলে বন্দি পাকিস্তানিদের ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও এহেন দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পেশ করতে পারেননি আসিফ। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে কটাক্ষ। হুমকির ভিডিও সামনে আসতেই আসিফের সমালোচনায় সরব সোশ্যাল মিডিয়া। এক ব্যক্তি লেখেন, ‘প্রথমে নিজেদের দেশের মানুষকে পর্যাপ্ত খাবার দিন। পাকিস্তানের জেনারেল আর রাজনৈতিক নেতারা শুধু ফাঁপা হুঁশিয়ারি দিতে পারেন। দেশ বাঁচাতে মানুষের বিদ্রোহ ঘোষণা করা উচিত। কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের মানুষকে বোকা বানাচ্ছে জেনারলেরা।’ আরেক ব্যক্তির কটাক্ষ, ‘বাঙালিরা ক্ষেপণাস্ত্র ধরে মাছের ঝোল বানিয়ে খেয়ে ফেলবে।’ ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে আরেকজন লেখেন, ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে। ঢাকার স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল কলকাতা। তাই সাজানো অভিযানের অজুহাত দিয়ে কৌশলগত ব্যর্থতা ঢাকা যাবে না।’

  • India: সীমান্তপার সন্ত্রাসে ভারতকে জড়ানোর চেষ্টা, পাকিস্তানের দাবি পত্রপাঠ খারিজ নয়াদিল্লির

    India: সীমান্তপার সন্ত্রাসে ভারতকে জড়ানোর চেষ্টা, পাকিস্তানের দাবি পত্রপাঠ খারিজ নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্তপার সন্ত্রাসের ঘটনায় ভারতকে (India) জড়ানোর চেষ্টা পাকিস্তানের। ইসলামাবাদের অভিযোগ পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি (Terrorism Link)। বিদেশমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, এটি এমন একটি দেশের মরিয়া চেষ্টা, যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয় ও মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে এমনই জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। পাকিস্তান একটি বিবৃতিতে সাম্প্রতিক কিছু জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য ভারতকে কাঠগড়ায় তুলেছে। তারই প্রেক্ষিতে জয়সওয়াল বলেন, “আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। নিজেদের অপকর্মের দায় ভারতের ওপর চাপানো পাকিস্তানের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই। যত গল্পই বানানো হোক না কেন, বাস্তবতা বদলাবে না, আর পাকিস্তানের এই তথাকথিত ‘ভুক্তভোগী’ হওয়ার দাবিতে কেউ আর বিভ্রান্তও হবে না।”

    পাকিস্তানের চেষ্টা ব্যর্থ (India)

    তিনি বলেন, “নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরতে পাকিস্তানের এই দীর্ঘ প্রয়াস আন্তর্জাতিক মহলে এখন আর কোনও গুরুত্ব পায় না। কারণ বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ ঘোষিত বহু জঙ্গি এবং জঙ্গি সংগঠনকে আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে।” এদিনই জয়সওয়াল পাকিস্তানের আর একটি বিবৃতিরও জবাব দেন। ওই বিবৃতিতে পাকিস্তান ভারত এবং কানাডার মধ্যে সম্প্রতি হওয়া পারমাণবিক ও রফতানি-নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তির সমালোচনা করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, এই চুক্তি পারমাণবিক বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

    কী বললেন জয়সওয়াল

    এর জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “এই বিষয়ে পাকিস্তানের দেওয়া বিবৃতি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। পারমাণবিক বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা নিখুঁত এবং আন্তর্জাতিক মহলে তা সুপরিচিত। গোপনে পারমাণবিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার সুপরিচিত ইতিহাস রয়েছে যে দেশের, তাদের মুখে রফতানি নিয়ন্ত্রণ বা বিস্তার-ঝুঁকি নিয়ে নীতিকথা বড়ই হাস্যকর। এই ধরনের অবান্তর কথা আসলে পাকিস্তানের নিজেদের দুর্বল রেকর্ড থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি প্রচেষ্টা (Terrorism Link)।”

    কী বলছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা

    কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই দু’টি বিবৃতি আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা এবং পারমাণবিক বিস্তার সংক্রান্ত অতীত থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি যৌথ প্রচেষ্টার অংশ (India)। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইসলামাবাদ জঙ্গি পরিকাঠামো ভেঙে না ফেলা পর্যন্ত এবং রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদের ব্যবহার বন্ধ না করা পর্যন্ত পাকিস্তানের অভিযোগে কান দেবে না ভারত। প্রসঙ্গত, এই ঘটনাগুলি ঘটছে নিয়ন্ত্রণরেখা (Line of Control) বরাবর উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি নিয়ে (Terrorism Link) আন্তর্জাতিক মহলের নতুন করে নজরদারির মধ্যেই (India)।

     

  • PM Modi: “ভারত দৃঢ়ভাবে ও পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে ইজরায়েলের পাশে রয়েছে”, নেসেটে দাঁড়িয়ে বললেন মোদি

    PM Modi: “ভারত দৃঢ়ভাবে ও পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে ইজরায়েলের পাশে রয়েছে”, নেসেটে দাঁড়িয়ে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কোনও কারণই সাধারণ নাগরিকদের হত্যাকে (Terrorism) মান্যতা দিতে পারে না এবং কোনও কিছুই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করতে পারে না।” বুধবার ইজরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দিতে গিয়ে কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি বলেন, “ভারত গাজা শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করে এবং মনে করে এটি এই অঞ্চলে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা বয়ে আনে। শান্তির পথ সব সময় সহজ নয়, কিন্তু ভারত এই অঞ্চলে আলাপ-আলোচনা, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আপনাদের এবং বিশ্বের সঙ্গে একযোগে রয়েছে।”

    হামাসের বর্বর জঙ্গি হামলা (PM Modi)

    তিনি বলেন, “৭ অক্টোবর হামাসের বর্বর জঙ্গি হামলায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন এবং যেসব পরিবারের পৃথিবী ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে, তাঁদের জন্য ভারতের জনগণের গভীর সমবেদনা আমি সঙ্গে করে এনেছি। আমরা আপনাদের যন্ত্রণা অনুভব করি, আমরা আপনাদের শোক ভাগ করে নিই। এই মুহূর্তে এবং ভবিষ্যতেও ভারত দৃঢ়ভাবে ও পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে ইজরায়েলের পাশে রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের যন্ত্রণা সহ্য করেছে। আমরা ২৬/১১ মুম্বই হামলা এবং সেখানে নিহত নিরপরাধ প্রাণগুলিকে স্মরণ করি, যাঁদের মধ্যে ইজরায়েলি নাগরিকও ছিলেন। আপনাদের মতোই, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্সের, কোনও দ্বিমুখী মানদণ্ড নয়। সন্ত্রাসবাদ সমাজকে অস্থিতিশীল করতে, উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বিশ্বাস নষ্ট করতে চায়। সন্ত্রাস দমনে টেকসই ও সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন, কারণ বিশ্বের যে কোনও জায়গায় সন্ত্রাস সর্বত্র শান্তির পক্ষে হুমকি স্বরূপ। সেই কারণেই ভারত স্থায়ী শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সবরকম প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।”

    ইজরায়েলের মহান বন্ধু

    এর আগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নেসেটে ভাষণের আগে মোদিকে স্বাগত জানিয়ে তাঁকে ইজরায়েলের মহান বন্ধু, ভারত-ইজরায়েল জোটের শক্তিশালী সমর্থক এবং বিশ্বমঞ্চের এক মহান নেতা বলে অভিহিত করেন। নেতানিয়াহু মোদিকে “প্রিয় বন্ধু” বলে উল্লেখ করে জানান, তিনি এই সফরে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। তিনি বলেন, “নরেন্দ্র, আমার প্রিয় বন্ধু, আজ এখানে আপনার আগমনে আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। ইজরায়েলের এক মহান বন্ধু, ভারত-ইজরায়েল জোটের এক শক্তিশালী সমর্থক এবং বিশ্বমঞ্চের এক মহান নেতাকে স্বাগত। জেরুজালেমে স্বাগতম, আমার প্রিয় বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আপনার বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলকে (PM Modi)।” ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসলে আমি বলতে চাই, মোদি আমার বন্ধুর চেয়েও বেশি (Terrorism), একজন ভাই। যখন আপনি আগেরবার এখানে এসেছিলেন, আমরা দু’জনে ভূমধ্যসাগরের উপকূলে দাঁড়িয়েছিলাম, এবং আমি বলেছিলাম, চলুন জুতো খুলে জলে নামি। ওটা শুধু জলের ওপর হাঁটা ছিল না, আমরা যেন অলৌকিক কাজ করেছি। আমরা আমাদের বাণিজ্য দ্বিগুণ করেছি, সহযোগিতা তিনগুণ করেছি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া চারগুণ করেছি।”

    কী বললেন নেসেটের স্পিকার

    নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাতে পারা তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, “আজ নেসেটের স্পিকার হিসেবে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে নেসেটে ভাষণ দিতে স্বাগত জানাতে পেরে আমি গর্বিত। ধন্যবাদ, প্রধানমন্ত্রী মোদি।” এদিন পার্লামেন্টে পৌঁছলে ‘মোদি, মোদি’ ধ্বনিতে স্বাগত জানানো হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি অভিবাদন গ্রহণ করেন (Terrorism)। ভারত-ইজরায়েল ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “যে দিন ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, সেই দিনই তার জন্ম।” তিনি জানান, এমন এক ভূখণ্ডে ফিরে এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত, যার প্রতি তিনি সব সময় আকর্ষণ অনুভব করেছেন (PM Modi)।

    প্রসঙ্গত, এর আগে, তেল আভিভ বিমানবন্দরে নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান। মোদির পকেট রুমাল ও সারা নেতানিয়াহুর পোশাকে গেরুয়া রঙের মিল দেখা যায়। লাল গালিচা সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে মোদি ও নেতানিয়াহুর আলিঙ্গন তাঁদের আন্তরিক বন্ধুত্বের প্রকাশ ঘটায়। দু’দিনের সরকারি সফরে তেল আভিভে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মোদি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। উষ্ণ অভ্যর্থনায় নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে (Terrorism) বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান এবং বিশেষ গার্ড অব অনার দেন (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share