Tag: Terrorist

Terrorist

  • NIA Arrests: কলকাতায় ধৃত মার্কিন ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক আসলে কি ‘সিআইএ মার্সেনারি’! ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা

    NIA Arrests: কলকাতায় ধৃত মার্কিন ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক আসলে কি ‘সিআইএ মার্সেনারি’! ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে নাশকতা ও অস্থিরতা তৈরির ছক! মায়ানমারের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ৭ বিদেশি। সম্প্রতি ৬ ইউক্রেনীয় ও এক  মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইন ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মার্কিন নাগরিক—ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যান ডাইককে ( Matthew Aaron Van Dyke)। ম্যাথিউ অতীতে একাধিক যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। সিআইএ-তে ও যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এখান থেকেই গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সিআইএ-র হয়ে গোপন, কালো-তালিকাভুক্ত অভিযানের সদস্য হতে পারে এই ভ্যান ডাইক।

    বিমানবন্দর থেকে আটক

    ভ্যান ডাইককে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে আটক করে ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন। একইসঙ্গে লখনউ ও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের আটক করা হয়। তাঁরা হলেন হুব্রা পেট্রো, স্লাইভিয়াক তারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্টিফানকিভ মারিয়ান, হনচারুক মাকসিম এবং কামিনস্কি ভিক্টর। এরা সকলেই পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তারা গুয়াহাটি হয়ে মিজোরামে যান এবং অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন। এনআইএ-এর দাবি, তারা কেবল পর্যটক ছিলেন না। বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তারা উত্তর-পূর্ব ভারতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মোট ১৫ জন বিদেশি নাগরিক এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত । আরও ৮ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের খোঁজ চলছে।

    যুদ্ধক্ষেত্রে ভ্যান ডাইক

    ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক প্রথম আলোচনায় আসেন লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময়। তিনি বিদ্রোহীদের পক্ষে যুদ্ধ করেন এবং পরে মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাহিনীর হাতে বন্দি হন। ছয় মাস কারাবাসের পরও তিনি এই পথ ছাড়েননি। তিনি জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে সিকিউরিটি স্টাডিজ নিয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি সিআইএ (Central Intelligence Agency)-তে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পলিগ্রাফ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। লিবিয়ার পর তিনি সিরিয়ায় গিয়ে বিদ্রোহীদের সহায়তা করেন এবং পরে ইরাকে সক্রিয় হন। ২০১৪ সালে তিনি সনস অফ লির্বাটি (Sons of Liberty International) নামে একটি সংস্থা গঠন করেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে তার কার্যকলাপ মায়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যা ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের কাছে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল।

    ভারতের জন্য সতর্কবার্তা

    এনআইএ-এর অভিযোগ, ভ্যানডাইক ও তাঁর সহযোগীরা ইউরোপ থেকে ড্রোন এনে ভারত হয়ে মায়ানমারে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া তাঁরা মিজোরামের সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে মায়ানমারে প্রবেশ করেন। অভিযোগ, এই দলটি ড্রোন প্রযুক্তি—বিশেষ করে ড্রোন পরিচালনা, সংযোজন ও জ্যামিং প্রযুক্তি—নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল মায়ানমারের সামরিক জুন্টার বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা। এই ঘটনা ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত। সংরক্ষিত এলাকায় বিদেশিদের প্রবেশ এবং সেগুলিকে সম্ভাব্য “প্রক্সি যুদ্ধের” ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    ভ্যানডাইক আদতে সিআইএ-র এজেন্ট!

    ভ্যান ডাইক সিআইএ-র এজেন্ট—এমন কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। তবে তাঁর কার্যকলাপ একটি বড় বাস্তবতা সামনে আনে— ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এমন কিছু কার্যক্রম, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এবং সার্বিকভাবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। গোয়েন্দাদের মতে, সিআইএ-র দুটি পৃথক ভাগ আছে। একটি ‘ইন্টেলিজেন্স গ্যাদারিং’ বা গুপ্তচরবৃত্তি অন্যটি ‘ব্ল্যাক অপস্’। প্রথম বিভাগ যেখানে গোপনে তথ্য জোগাড় করে, সেখানে দ্বিতীয় বিভাগটি আন-স্যাংশান্ড বা অননুমোদিত অপারেশনে (পোশাকি নাম ব্ল্যাক অপস্) অংশ নেয়। অর্থাৎ, যে কালো-তালিকাভুক্ত অপারেশগুলিতে সরাসরি যুক্ত হতে পারে না, বা অনুমতি দিতে পারে না সিআইএ। এমন ক্ষেত্রে মার্সেনারি বা ভাড়াটে সৈনিকদের ব্যবহার করে তারা। এটি ‘ডিপ স্টেট’-এর অংশ।  ধরা পড়লে দায় এড়ানোয় প্রথামাফিক নিয়ম। গোয়েন্দাদের দাবি, ভ্যান ডাইক সিআইএ-র ‘ব্ল্যাক অপস্’ (CIA Black Ops) সদস্য হতে পারে।

    কী বলছে এনআইএ?

    গোয়েন্দাদের এও ধারণা যে, এই ভ্যান ডাইক মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ হতে পারে। কী এই ডিপ স্টেট? বেআইনিভাবে অর্থ-অস্ত্র জোগান দিয়ে কোনও দেশে অস্থিরতা তৈরি করা এবং সেখানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটানো।  এটাই হল ডিপ স্টেটের আসল উদ্দেশ্য। যা আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে করে এসেছে। এনআইএ-র দাবি, এই নেটওয়ার্ক ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছিল, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। পুরো ঘটনায় আন্তর্জাতিক যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলেছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাথু ভ্যানডাইক এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাড়াটে সৈন্য। ‘সন্স অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি ভাড়াটে যোদ্ধা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সে। ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে গদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াই করা থেকে শুরু করে, ইরাকে আইএসআইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় সেনাকে ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এই গোষ্ঠী বলে শোনা যায়।

    ভারতের স্পষ্ট বার্তা

    এই গ্রেফতারের মাধ্যমে ভারত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে—দেশের মাটি কোনোভাবেই বিদেশি সংঘাত বা প্রক্সি যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, তা যে দেশের নাগরিকই হোক না কেন। সোমবার দিল্লির পাটিয়ালা হাউজ-এর বিশেষ আদালত অভিযুক্তদের ১১ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তাদের ২৭ মার্চ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

    ইউক্রেনের বিরোধিতা

    মায়ানমারে গিয়ে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৭ বিদেশি। তাদের মধ্যে ৬ জনই ইউক্রেনিয়ান। এই আবহে দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনিয়ান দূতাবাস দাবি করল, ধৃতদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে ইউক্রেনের যুক্তি, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যে এই ৬ জন যুক্ত ছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের আরও দাবি, ভারতে অনেক সংরক্ষিত এলাকা আছে যেখানে বিনা অনুমতিতে যাওয়া নিষেধ, তবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করা নেই। এই আবহে ‘ভুল’ করে এই ইউক্রেনিয়ানরা সংরক্ষিত জায়গায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভুল করে সংরক্ষিত জায়গায় চলে গেলেও আন্তর্জাতিক সীমান্তও পার করা যায় ভুলবশত? ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের ৩ জনকে লখনউ এবং ৩ জনকে দিল্লি বিমানবন্দরে ধরেছিল ইমিগ্রেশন ব্যুরো। পরে তাদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

  • Jaish-e-Mohammed: লালকেল্লা বিস্ফোরণে জইশ-যোগ! পাকিস্তান অস্বীকার করলেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে ভারতের দাবিকেই মান্যতা

    Jaish-e-Mohammed: লালকেল্লা বিস্ফোরণে জইশ-যোগ! পাকিস্তান অস্বীকার করলেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে ভারতের দাবিকেই মান্যতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের একটি রিপোর্টে (UN report)। যেখানে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) এখনও সক্রিয় এবং ভারতের মাটিতে একাধিক হামলার সঙ্গে তাদের সঙ্গে যোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গত বছর দিল্লির লালকেল্লার কাছে হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort Blast)। পাকিস্তান বারবার দাবি করেছে জইশ-ই-মহম্মদ এখন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। কিন্তু ভারতের দাবি ছিল জইশের জঙ্গি কার্যকলাপ চালু রয়েছে পুরোদমে। রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট সেই দাবিকেই সত্যি প্রমাণ করল।

    রাষ্ট্রসংঘের নয়া রিপোর্ট

    রাষ্ট্রসংঘের অ্যানালিটিকাল সাপোর্ট ও স্যাংশন মনিটরিং টিমের (UN Analytical Support and Sanctions Monitoring Team) ৩৭তম রিপোর্টে জানানো হয়েছে, একটি সদস্য দেশ (নাম প্রকাশ করা হয়নি) তাদের কাছে তথ্য দিয়েছে যে জইশ একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গত ১০ নভেম্বরের লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে। এই ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সংগঠনটি এখনও জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছে। রিপোর্টে কাশ্মীর উপত্যকায় চলতি বছরের বিভিন্ন ঘটনারও উল্লেখ আছে। জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁও হামলায় (Pahalgam terror attack) ২৬ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়, যার দায় স্বীকার করেছিল লস্কর-ই-তইবার ঘনিষ্ঠ সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)। পরে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটির উপর পাল্টা আঘাত হানে।

    পরিকল্পিত সন্ত্রাসী চক্রের অংশ

    লালকেল্লার বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort Blast) ঘটনাটি শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এনআইএ। এর আগে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ তদন্তে ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর (White Collar Terror Module) সন্ধান পায়, যার যোগ ছিল জইশ ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের সঙ্গে। আটক করা হয়েছে মোট ৯ জনকে, এদের মধ্যে তিনজন ডাক্তারও রয়েছেন, যারা নেটওয়ার্ককে সাহায্য করতেন বলে সন্দেহ। তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি ভিডিওতে বিস্ফোরণকারী উমর-উন-নবীকে আত্মঘাতী হামলার কথা বলতে দেখা যায়। এতে স্পষ্ট হয়, হামলাটি কোনও একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী চক্রের অংশ। দিল্লি বিস্ফোরণে যে জইশের যোগ থাকতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথা আগেই উঠে এসেছিল। বিস্ফোরণের পর ধরপাকড়ের সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে তদন্তকারীদের হাতে ধরা পড়েছিলেন তুফাইল নিয়াজ ভাট নামে এক সন্দেহভাজন। তুফাইলের সঙ্গে জইশের যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছিলেন তদন্তকারীরা। এবার রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টেও উল্লেখ করা হল দিল্লি বিস্ফোরণে জইশ-যোগের প্রসঙ্গ। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃত লালকেল্লা ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এই অভিযোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    জইশ-সম্পর্কে ভিন্ন মত

    বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা নজরদারি এড়ানো, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং সমর্থনভিত্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে অন্যান্য উগ্রপন্থী সংগঠনের মতোই জেইএমও নতুন কৌশল নিচ্ছে। জেইএমকে রাষ্ট্রসংঘ আল-কায়েদা-সম্পর্কিত সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিশেষত জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহার দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন; তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের নির্দেশ রয়েছে। তবে মনিটরিং টিম জানিয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংগঠনটির বর্তমান অবস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু দেশ জেইএমকে সক্রিয় ও বিপজ্জনক বলে মনে করলেও, অন্য এক সদস্য রাষ্ট্রের দাবি, সংগঠনটি কার্যত নিষ্ক্রিয়। এই ভিন্নমত দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতাকে জটিল করে তুলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    জইশ-এর মহিলা জঙ্গি সংগঠন

    জইশের বিষয়ে রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি জইশ প্রধান মহম্মদ মাসুদ আজহার আনুষ্ঠানিক ভাবে একটি নতুন শাখা সংগঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। শুধু মহিলাদের নিয়ে তৈরি এই জঙ্গিবাহিনীর কাজ বিভিন্ন নাশকতায় সাহায্য করা। মহিলাদের নিয়ে তৈরি ওই জঙ্গিবাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে জামাত উল-মুমিনাত। বস্তুত, জইশ হল পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী। ভারতে বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপে অতীতে জইশের যোগের অভিযোগ উঠে এসেছে। ভারত এবং পাকিস্তান উভয়েই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার সদস্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর গঠন ভবিষ্যতে ভারতীয় উপমহাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    ভারতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা

    জইশের মহিলা ব্রিগেড ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। জানা গিয়েছে, ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতে তাদের কার্যকলাপ বৃদ্ধির চেষ্টা করছে তারা। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্রিগেড ধর্মের নামে মহিলাদের প্রলুব্ধ করে নিজেদের দলে যোগ দেওয়ানোর চেষ্টা করবে। পাশাপাশি, শিক্ষিত এবং শহুরে মুসলিম মহিলাদের টার্গেট করা হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর নেতৃত্ব রয়েছে মাসুদ আজাহারের বোন সাদিয়া আজাহার। অপারেশন সিঁদুরে সাদিয়ার স্বামী ইউসুফের মৃত্যু হয়। ই ব্রিগেডে ইতিমধ্যেই নাম লেখানো শুরু করেছে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীরা। পাশাপাশি, ভাওয়ালপুর, করাচি, মুজফফরাবাদ-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের দলে টানার চেষ্টা করছে জইশ।

  • Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’-এর (White Collar Terror) প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি সতর্ক করে বলেন, মূল্যবোধহীন উচ্চশিক্ষা সমাজের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। শুক্রবার রাজস্থানের ভোপাল নোবেলস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজনাথ এই মন্তব্য করেন। গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    রাজনাথের বক্তব্য (Rajnath Singh)

    রাজনাথ জানান, ওই হামলায় অভিযুক্তরা সকলেই শিক্ষিত ও যোগ্য চিকিৎসক ছিল। এই ঘটনাকে তিনি এমন এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা প্রমাণ করে যে কেবলমাত্র শিক্ষা থাকলেই নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয় না। রাজনাথের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনার সংযোগ না থাকলে তা সমাজের পক্ষে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যবোধের গুরুত্বের ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি (Rajnath Singh)।

    ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’

    দেশে বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’। উচ্চশিক্ষিত হয়েও সমাজ ও দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছেন এক শ্রেণির মানুষ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “দিল্লির বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে চিকিৎসকও ছিল, এক হাতে ডিগ্রি, আর পকেটে আরডিএক্স। এই ঘটনাই স্পষ্ট করে দেয় যে, কেবল শিক্ষালাভই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও চরিত্রগঠনও (White Collar Terror) জরুরি।” ১০ নভেম্বর দিল্লির রেড ফোর্ট এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িতে। ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৫ জনের। গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর-উন-নবি নামে এক চিকিৎসক। ঘটনার তদন্তে নেমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরে একটি তথাকথিত ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর সন্ধান পায় (Rajnath Singh)।

    গ্রেফতার ৩ চিকিৎসক

    এই মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন চিকিৎসক মুজাম্মিল গনাই, আদিল রাদার এবং শাহিনা সইদ-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, শিক্ষিত ও পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পেশাগত সাফল্য অর্জন নয়, নৈতিকতা, মূল্যবোধ (White Collar Terror) এবং মানবিক চরিত্র গঠনের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যে শিক্ষা ব্যবস্থা জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি বিনয়, চরিত্রবোধ ও ধর্ম, অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিতে ব্যর্থ, তা কখনও সম্পূর্ণ হতে পারে না।”

    এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণ হতে পারে

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Rajnath Singh)। রাজনাথ বলেন, “জঙ্গিরা সব সময় অশিক্ষিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী হলেও নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও প্রজ্ঞার অভাব থাকে। এই মূল্যবোধের ঘাটতিই শেষ পর্যন্ত তাদের অপরাধের পথে ঠেলে দেয়।” ধর্ম প্রসঙ্গে রাজনাথ জানান, ধর্ম মানেই শুধু মন্দির, মসজিদ বা গির্জায় প্রার্থনা করা নয়। তাঁর কথায়, “ধর্ম আসলে কর্তব্যবোধ। শিক্ষা যদি ধর্ম ও নৈতিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তা সমাজের কোনও কাজে আসে না। অনেক সময় এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণও হতে পারে।”

    উচ্চশিক্ষিতরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে

    তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।” ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে দেশ (Rajnath Singh)। এই অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনাথের মতে, ভবিষ্যতের দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে (White Collar Terror)।

  • ISIS Terrorist: কর্নাটকে জেলের ভেতরে বসেই রাজপাট সামলাচ্ছে আইসিস জঙ্গি!

    ISIS Terrorist: কর্নাটকে জেলের ভেতরে বসেই রাজপাট সামলাচ্ছে আইসিস জঙ্গি!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাজা পেয়ে ভোগ করছে কারাদণ্ড। অথচ, জেলের মধ্যেই তারা রয়েছে রাজসুখে। সম্প্রতি বেঙ্গালুরর (Karnataka) পারাপ্পানা অগ্রহারা সেন্ট্রাল জেলে নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শহরের সবচেয়ে বিপজ্জনক কিছু বন্দি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে জেলের চৌখুপির ভেতরে বসেই (ISIS Terrorist)। উচ্চ-নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও, এই বিশেষ সুবিধা ভোগ করছে কয়েকজন বন্দি।

    রাজসুখে বন্দিরা! (ISIS Terrorist)

    একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, আইএসআইএস জঙ্গি জুহাদ হামিদ শাকিল মান্না জেলের ভেতরেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার অনুগামীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আর একটি ভিডিওয় সিরিয়াল ধর্ষক ও খুনি উমেশ রেড্ডিকে তার সেলে আয়েশ করে বসে টিভি দেখতেও দেখা গিয়েছে। এই দুজনই কর্ণাটকের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত জেলগুলির একটিতে শাস্তি ভোগ করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওগুলি জেল পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে। ব্যাপক সমালোচনার পর কারা কর্তৃপক্ষ শনিবার (৮ নভেম্বর) হবে বলে জানিয়েছে যে ক্লিপগুলির সত্যতা যাচাই ও দায়ীদের শনাক্ত করতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    আধিকারিকের বক্তব্য

    এক আধিকারিক বলেন, “তদন্তে যা উঠে আসবে তার ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন পারাপ্পানা আগ্রাহারা জেল কর্তৃপক্ষ। গত মাসেও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যাতে দেখা (ISIS Terrorist) গিয়েছে কুখ্যাত রাউডি-শিটার শ্রীনিবাস, যে গুব্বাচি সিনা নামে পরিচিত, কারাগারের ভেতরেই জন্মদিন পালন করছে। মোবাইল ফোনে তোলা সেই ভিডিওয় কেক কাটতে দেখা গিয়েছে তাকে। গলায় আপেলের মালা পরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে। তাকে ঘিরে রয়েছে অন্য বন্দিরা।

    প্রসঙ্গত, গত বছরও অনুরূপ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, যখন রেণুকাস্বামী নুকাস্বামী হত্যা মামলায় বর্তমানে জেলবন্দি কন্নড় অভিনেতা তথা দর্শন ঠুগুদিপ্পার কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছিল। ছবিগুলিতে দেখা গিয়েছে (Karnataka), তিনি জেলের ভেতরে আরাম করে বসে আছেন। তাঁর হাতে ধরা সিগারেট ও কফির মগ। খোশ মেজাজে গল্প করছেন সহ-বন্দিদের সঙ্গে (ISIS Terrorist)।

LinkedIn
Share