Tag: thyroid symptoms

  • Thyroid Problem: পুরুষদের তুলনায় ৪ গুণ বেশি ঝুঁকি! কেন ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে ভারতীয় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা?

    Thyroid Problem: পুরুষদের তুলনায় ৪ গুণ বেশি ঝুঁকি! কেন ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে ভারতীয় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য সতর্কতার অভাবেই বাড়ছে বিপদ! বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের জন্য নিঃশব্দে বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্কুল স্তর থেকেই সচেতনতা জরুরি। না হলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। এ দেশের জনস্বাস্থ্যে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে থাইরয়েড। গলায় থাকা এই হরমোন গ্রন্থি এখন উদ্বেগের কারণ। বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করছে।

    ভারতীয় মহিলাদের জন্য কেন বাড়তি উদ্বেগ?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ১৫ শতাংশ মহিলা থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, শহুরে মহিলাদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা আরও বাড়ছে। বিশেষত বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরোলেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভারতীয় পুরুষদের তুলনায় ভারতীয় মহিলারা ৪ গুন বেশি থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হন।

    থাইরয়েডের সমস্যা কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গলার কাছে থাকে থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণ হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেশি বা কম হরমোন নিঃসরণ শুরু হলে শরীরের একাধিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। সেটাই থাইরয়েড সমস্যা হয়। ভারতে অধিকাংশ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্তের দেখা গিয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ হরমোন নিঃসরণ হয়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়ছে।

    কেন ভারতীয় মহিলারা থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন?

    জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের ভারসাম্যের ব্যাপাক পরিবর্তন!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা থাইরয়েড সমস্যায় কয়েক গুণ বেশি ভুগছেন। তার প্রধান কারণ হলো হরমোন ঘটিত পরিবর্তন। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলাদের জীবনের একাধিক সময়ে শরীরে হরমোন ঘটিত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়। তার ফলে একাধিক হরমোন গ্রন্থির সক্রিয়তার সমীকরণ বদলে যায়। বয়ঃসন্ধিকালে ঋতুস্রাব শুরুর সময়, গর্ভাবস্থায়, সন্তান প্রসবের পরে এবং ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পরবর্তী সময়ে মহিলাদের শরীরের একাধিক হরমোন ঘটিত পরিবর্তন হয়। এর জেরে থাইরয়েড গ্রন্থির উপরেও গভীর প্রভাব পড়ে। থাইরয়েড নিঃসরণের পরিবর্তন ঘটে। তাই মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। বিশেষত মহিলাদের গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান প্রসব পরবর্তীকালে একাধিক শারীরিক পরিবর্তন হয়। তাই সেই সময়ে এই ধরনের হরমোন ঘটিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    আয়রনের ঘাটতি!

    ভারতীয় মহিলারা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগে। ১২ বছরের পর থেকেই অধিকাংশ ভারতীয় মেয়ের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে। আয়রনের অভাব মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া, বহু মহিলা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। ভারতীয় মেয়েদের থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ অপুষ্টি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    মানসিক চাপ এবং অনিদ্রা!

    ভারতীয় মহিলারা অধিকাংশ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ভোগেন। পারিবারিক সমীকরণ এবং কাজের পরিবেশ‌ ভারতে বদলে যাচ্ছে। মহিলাদের জন্য চাপ বাড়ছে। পরিবারের একাধিক দায়িত্ব তাদের সামলানোর পাশপাশি পেশাগত জীবনেও দায়িত্ব বাড়ছে। একদিকে বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরের পরিবর্তন, আবার আরেক দিকে সামাজিক চাপ বেড়ে যাওয়া, সব মিলিয়ে ভারতীয় মহিলাদের মানসিক চাপ ও অবসাদের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শহুরে ভারতীয় মহিলারা অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন। এগুলো শরীরের হরমোন নিঃসরণে প্রভাব ফেলছে। তাই থাইরয়েড গ্রন্থিতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    অটোইমিউন রোগের জেরে বিপদ বাড়ছে!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় মহিলারা অটোইমিউন রোগের শিকার বেশি হন। অর্থাৎ, নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে। তাই অটোইমিউন ডিজিজ থাকলে, তার থাইরয়েড গ্রন্থিও সমস্যায় পড়ে। রোগের জটিলতা বাড়ে।

    কেন থাইরয়েড বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনের বেশি বা কম পরিমাণ হরমোন নিঃসরণ হলে শরীরে তার গভীর প্রভাব পড়ে। মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা একাধিক জটিলতা তৈরি করছে—

    • ● চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হলে মহিলাদের একাধিক হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি হয়। যার ফলে মহিলাদের গর্ভধারণ জটিল হয়ে যায়। দেশ জুড়ে বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়ছে। আর তার নেপথ্যে অন্যতম কারণ হলো থাইরয়েডের সমস্যা। এই সমস্যায় আক্রান্ত মহিলা গর্ভধারণ করলেও একাধিক ঝুঁকি ও জটিলতা তৈরি হয়‌। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাছাড়া, গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই রোগের প্রভাব পড়তে পারে।
    • ● থাইরয়েডের সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার রক্তচাপ ওঠানামা করে। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
    • ● থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে দ্রুত হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি থাকে। থাইরয়েডের সমস্যা দীর্ঘদিন অবহেলা করলে হাড়ের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজমে শরীরে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি হলে হাড় দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে। এতে ক্যালসিয়াম কমে গিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে, বিশেষত মেনোপজের পর এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাই সময়মতো থাইরয়েড পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা, ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি।
    • ● তবে যে দিকটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে, তা হলো মানসিক স্বাস্থ্য। দেশ জুড়ে একাধিক মানসিক সমস্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অবসাদ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপের মতো নানান মানসিক সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। থাইরয়েডের সমস্যা হলে মানসিক স্বাস্থ্যে তার গভীর প্রভাব পড়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই হরমোন ঘটিত সমস্যার জেরে খিটখিটে ভাব বাড়ে, কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হয়, ক্লান্তি বোধ বাড়ে, আবার রাগ এবং দুশ্চিন্তার মতো সমস্যা বেশি হয়। সব মিলিয়ে আক্রান্তের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। ভারতের এই বিপুল সংখ্যক মহিলার থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হচ্ছে। এর জেরে আরও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    থাইরয়েড নিয়ে সচেতনতা জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে সচেতনতা জরুরি। স্কুল স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের এই রোগ সম্পর্কে সতর্ক করলে, সামাজিক সচেতনতার মান বাড়বে। অত্যন্ত বেশি চুল পড়ার সমস্যা, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, রুক্ষভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ এবং অকারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকার মতো সমস্যায় দিনের পর দিন ভুগলে, কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। সাধারণ সহজ স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়, থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত কিনা! তাই সেই পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাহলেই পরিস্থিতি জটিল হবে না। বর্তমানে ভারতে থাইরয়েড সমস্যা মোকাবিলার উপযুক্ত ওষুধ রয়েছে। তাই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রোগ চিহ্নিত হলেই পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হয়ে যাবে।

  • Thyroid Problem: থাইরয়েড সমস্যা মোকাবিলার চাবিকাঠি লুকিয়ে ‘চেক ইয়োর নেক’ মন্ত্রে! কীভাবে সমাধান?

    Thyroid Problem: থাইরয়েড সমস্যা মোকাবিলার চাবিকাঠি লুকিয়ে ‘চেক ইয়োর নেক’ মন্ত্রে! কীভাবে সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা বিপজ্জনক। সচেতনতা আর সতর্কতা থাকলে একাধিক বিপদ কাটানো সহজ হয়ে যায়। থাইরয়েডের সমস্যার ক্ষেত্রেও এই পথেই হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে থাইরয়েডের সমস্যা বাড়ছে। বহু মানুষের থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকছে না।‌ এমনকি শিশুদের শরীরেও এই ভারসাম্যের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তাই এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। জানুয়ারি মাস থাইরয়েড অ্যাওয়ারনেস মান্থ! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, সে সম্পর্কে রোগী অনেক সময়েই জানতে পারেন না। রোগ দেরিতে নির্ণয় হয়। এর ফলে পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এই হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জেরে অনেক সময়েই ক্যান্সারের মতো জটিল রোগেও আক্রান্ত হয়। তাই নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তাই এই বছরে প্রথম থেকেই সচেতনতায় বাড়তি জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘চেক ইয়োর নেক’ মন্ত্রেই থাইরয়েডের বিপদ কমানো যাবে। নিজের শরীর সম্পর্কে জানা এবং সে সম্পর্কে সচেতন হলে রোগের জটিলতা আটকানো সহজ।

    কীভাবে মোকাবিলা হবে থাইরয়েড?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, থাইরয়েডের উপসর্গ সম্পর্কে নানান ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তাই এই রোগের উপসর্গ সম্পর্কে সতর্কতা বাড়লে মানুষের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। গলা বা ঘাড় ফুলে গেলে, গলায় লাগাতার অসুবিধা হলে, ঘাড়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা অনুভব হলে, মাংস পিন্ড উঁচু হয়ে যাচ্ছে এমন অনুভূতি হলে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে গিলতে অসুবিধা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই ঘাড় বা গলার সমস্যা হলে তাকে ঠান্ডা লাগার সমস্যা বলে অবহেলা করেন। কিন্তু বেশ কিছু দিন লাগাতার ঘাড় বা গলায় সমস্যা হলে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষা করা জরুরি। তবেই দ্রুত রোগ নির্ণয় সম্ভব। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ঘাড় ও গলায় কোনও অসুবিধা হচ্ছে কিনা সে নিয়ে নজরদারি করার পরামর্শ দিচ্ছে।

    কেন থাইরয়েড নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?

    শরীর সুস্থ রাখতে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকা জরুরি। থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় না থাকলে শরীরে একাধিক জটিলতা তৈরি হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে শরীরের অন্যান্য হরমোনের ক্ষরণেও গভীর সমস্যা তৈরি হয়। তাই মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব হয়। থাইরয়েড বন্ধ্যাত্বের কারণও তৈরি করতে পারে। আবার থাইরয়েড মানসিক অবসাদ, উদ্বেগের কারণ। যেহেতু এই হরমোন অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট করে, তাই এই থাইরয়েড গ্রন্থিতে সমস্যা থাকলে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি অনিদ্রার সমস্যাও বাড়ে।

    এছাড়া, থাইরয়েডের সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কারণ থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে পেশির দূর্বলতা বাড়ে। পেশির শক্তি কমলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। থাইরয়েড ত্বকের সমস্যা তৈরি করে। ওজন হ্রাস করে। ফলে শরীর দূর্বল হয়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। কার্যশক্তি কমে। ফলে একাধিক জটিলতা তৈরি হয়। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় করে সমস্যা মোকাবিলা জরুরি। দীর্ঘদিন থাইরয়েড অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    ভারতে থাইরয়েড কতখানি বিপজ্জনক?

    ভারতে থাইরয়েডের সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জন থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের এই থাইরয়েড সমস্যা কার্যত জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশপাশি শিশুরাও এই সমস্যার শিকার হচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তাই থাইরয়েড নিয়ে সচেনতা জরুরি। রোগ নির্ণয় ও দ্রুত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। তবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Thyroid Disease: বাড়ছে থাইরয়েডের সমস্যা, কারণ কি জিনগত না জীবন যাপনের ধরণ?

    Thyroid Disease: বাড়ছে থাইরয়েডের সমস্যা, কারণ কি জিনগত না জীবন যাপনের ধরণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

     

    দেশ জুড়ে বাড়ছে থাইরয়েড সমস্যা (Thyroid Disease)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এ দেশের ৪২ কোটি মানুষ থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের এই সমস্যা বেশি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে থাইরয়েড সমস্যা। আর তার ফলেই নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ভারতীয়দের মধ্যে এ নিয়ে সচেতনতা (Thyroid Treatment) না বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

    থাইরয়েড সমস্যা (Thyroid Disease) কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মানুষের শরীরে থাইরয়েড গ্রন্থি থাকে। গলার মাঝে, স্বরযন্ত্রের ঠিক নীচে এই গ্রন্থি থাকে। এই গ্রন্থি থেকেই থাইরয়েড হরমোন বের হয়। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা হরমোন। কিন্তু এই হরমোন‌ অতিরিক্ত নিঃসরণ হতে শুরু হলেই, তা বিপজ্জনক। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে খুব কম বয়স থেকেই বিশেষত মহিলাদের ভারসাম্যহীন ভাবে থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ হচ্ছে। এর ফলে ফুসফুস, শ্বাসনালী, ত্বক এবং মহিলাদের জরায়ুর উপরেও প্রবল প্রভাব পড়ছে।

    কেন ভারতে থাইরয়েডের সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে থাইরয়েড সংক্রান্ত সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে তাঁরা জানাচ্ছেন, থাইরয়েড যে কোনও বয়সের মানুষের হতেই পারে। তবে মহিলাদের থাইরয়েড সমস্যা (Thyroid Disease) বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ আয়রন এবং আয়োডিনের অভাব। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, থাইরয়েড প্রয়োজনের তুলনায় কম নিঃসরণ আবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নিঃসরণ, দুটোই বিপজ্জনক। দেখা যাচ্ছে, শরীরে আয়রন এবং আয়োডিন, এই দুই উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট‌ হলেই এই ধরনের থাইরয়েড ঘটিত সমস্যা তৈরি হয়।

    আবার, ডায়বেটিস থাকলে থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে বলেই জানাচ্ছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে থাইরয়েড ঘটিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে কম বয়সিদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জেরে খুব কম বয়স থেকেই অনেকে ডায়বেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন। ‌এর ফলে থাইরয়েড সংক্রান্ত সমস্যা বাড়ছে।

    এর পাশাপাশি, জিনগত বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ থাইরয়েডের সমস্যায় (Thyroid Disease) আক্রান্ত থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই থাইরয়েড একটি বংশানুক্রমিক রোগ বলা যেতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    অনিয়ন্ত্রিত থাইরয়েড মানেই কি ক্যান্সারের ঝুঁকি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, থাইরয়েড অনিয়ন্ত্রিত হলেই তা ক্যান্সার হবে এমন নয়। তবে দীর্ঘদিন থাইরয়েড ঘটিত সমস্যা থাকলে থাইরয়েড ক্যান্সারের ঝুঁকি অবশ্যই বেড়ে‌ যায়।

    কীভাবে রোগ চিহ্নিত করবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি লক্ষণ থেকেই থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, দেহে থাইরয়েডের ভারসাম্য না থাকলে মানসিক চাপ তৈরি হয়। ফলে অকারণেই মেজাজ খিটখিটে থাকে। কোনও কাজেই বেশি সময় মনোযোগ থাকে না।‌ আবার থাইরয়েড ঘটিত সমস্যা (Thyroid Disease) থাকলে ত্বক রুক্ষভাব থাকে। চুল পড়ার সমস্যা হয়। মহিলাদের ঋতুস্রাব নিয়মিত হয় না।‌ ক্লান্তি বোধ বেড়ে যায়। ফলে দিনভর ঘুম ভাব থাকে। অনেক সময়ে গলার স্বরে পরিবর্তন হয়। গলার স্বর কর্কশ হয়ে যায়। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন‌ বিশেষজ্ঞ মহল।

    থাইরয়েডের সমস্যা প্রতিরোধ (Thyroid Treatment) করতে কী করবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা এড়াতে খাবারে নজরদারি জরুরি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, ডায়বেটিস থাকলে থাইরয়েডের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই খাওয়ার সময় সচেতন হওয়া জরুরি।‌ অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া একেবারেই যাবে না।‌ আবার প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রক্রিয়াজাত খাবারে নানান রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এর ফলে দেহের একাধিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে থাইরয়েড গ্রন্থির উপরেও প্রভাব পড়ে।

    থাইরয়েডের সমস্যা (Thyroid Disease) এড়াতে ধূমপান বন্ধ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, তামাক শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। ধুমপান করলে থাইরয়েড গ্রন্থির উপরে প্রভাব পড়ে। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট‌ হয়।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share