Tag: tmc vs bjp

tmc vs bjp

  • Election Commission India: পুনর্নির্বাচন ও স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষককে  নির্দেশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের, কোথায় কোথায় হবে নির্বাচন?

    Election Commission India: পুনর্নির্বাচন ও স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষককে  নির্দেশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের, কোথায় কোথায় হবে নির্বাচন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Election Commission India) জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর (Subrata Gupta) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ডায়মন্ড হারবারের একাধিক বুথের ইভিএমে টেপ লাগিয়ে ভোট দানে বাধা দেওয়ার কারণে আরেকবার নির্বাচন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষককে যথাযথ ভাবে পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন।

    কঠোর স্ক্রুটিনির নির্দেশ (Election Commission India)

    দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটের পরে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) কাছে আবেদনও জানানো হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা, মগরাহাট এবং সোনারপুর এলাকায় পুনর্নির্বাচনের স্ক্রুটিনিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে (Subrata Gupta) দায়িত্ব দিয়েছেন। উল্লেখ্য এই কেন্দ্রগুলি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। ভোটগ্রহণ পর্বে যেসব বুথ থেকে অনিয়ম বা অশান্তির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্ক্রুটিনি বা এই বিশেষ পর্যালোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন (Re-poll) প্রয়োজন।

    নিরপেক্ষতা বজায় রাখা

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Election Commission India) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। ভোটদাতাদের গণতান্ত্রিক অধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষককে নিরপেক্ষ ও দৃঢ় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন হবে, তা স্ক্রুটিনি করে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। এ বার সেই স্ক্রুটিনি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে।

    রিপোর্ট তলব

    ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের যে ৭৭টি বুথে পুননির্বাচনের আবেদন জানানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে, ফলতা বিধানসভার ৩২টি, ডায়মন্ড হারবারের ২৯টি, বজবজের ৩টি এবং মগরাহাট পূর্ব বিধানসভার ১৩টি। বিশেষ পর্যবেক্ষকের কাছ থেকে প্রতিটি বিতর্কিত বুথের বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন (Election Commission India)। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে যে, নির্দিষ্ট কোন কোন কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে।

    নির্দেশিকা

    নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই কমিশনের (Election Commission India) প্রাথমিক লক্ষ্য। অশান্তি বা ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ওঠা বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং প্রিসাইডিং অফিসারদের ডায়েরিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে এবং নির্বাচনকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে নির্বাচন কমিশন যে অত্যন্ত তৎপর ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে, এই নির্দেশ তারই প্রতিফলন। এর সবকটাতেই পর্যবেক্ষণে থাকবেন সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)।

    আর তাই ভোট পরবর্তী পর্যালোচনার (Scrutiny) জন্য ডায়মন্ড হারবারে সশরীরে উপস্থিত হয়েছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। তাঁর উপস্থিতিতেই বিতর্কিত বুথগুলোর নথিপত্র এবং ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অভিযোগের গুরুত্ব বিচার

    ভোটগ্রহণের দিন ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি, ছাপ্পা ভোট এবং বিরোধীদের এজেন্টদের বাধা দেওয়ার একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। এই অভিযোগগুলো কতটা সত্য, তা যাচাই করতেই কমিশন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।

    কমিশনের (Election Commission India) নির্দেশে স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া চলাকালীন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি বুথের প্রিসাইডিং অফিসারের ডায়েরি, ১৭-সি ফর্ম এবং সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ায় কোনও বুথে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করতে পারে কমিশন।

    নিরপেক্ষতার আশ্বাস

    সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনের পবিত্রতা বজায় রাখতে কমিশন যে কোনও প্রকার আপস করবে না, বিশেষ পর্যবেক্ষকের এই সফর এবং তৎপরতা তারই ইঙ্গিত দেয়। ডায়মন্ড হারবারের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ওঠা বিতর্ক নিরসনে এবং নিরপেক্ষ ফলাফল নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এখন অত্যন্ত কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

    লোকসভার ভোটেও হয়েছিল লুট! 

    উল্লেখ্য এইসব এলাকা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এখানে গত লোকসভার ভোটে ৭ লাখের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। বিজেপির অবশ্য দাবি, এই লোকসভার কোথাও ভোট হয়নি। মানুষকে বুথে পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি। জাহাঙ্গীর, শাহজাহানের অনুচরা বিরাট মাত্রায় ভোট লুট করেছিল বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। একই ভাবে ২৯ এপ্রিল ফলতায় ভোট দিতে গিলে ইভিএমে টেপ লাগিয়ে বিজেপির প্রতীককে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আপাতত নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার সঠিক ভাবে যাতে হয় কমিশনের এটাই এখন প্রাথমিক লক্ষ্য।

  • Election Commission India: ইভিএম রাখা স্ট্রং রুম ও গণনা কেন্দ্রগুলির সুরক্ষায় বিশাল বাহিনী মোতায়েন কমিশনের

    Election Commission India: ইভিএম রাখা স্ট্রং রুম ও গণনা কেন্দ্রগুলির সুরক্ষায় বিশাল বাহিনী মোতায়েন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (Election Commission India) ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে স্ট্রং রুম এবং গণনা কেন্দ্রগুলোর (Evm Strong Room) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে ইভিএম বদল করে দেওয়ার একাধিক ইস্যুতে বিজেপির তরফে বার বার অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রত্যেক জেলার গণনাকেন্দ্রগুলিকে নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। গণনায় যাতে কোনও কারচুপি না হয় তা নিয়ে এখন ঠেকে কমিশন ভীষণ কড়া ভূমিকায় ময়দানে রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন (Election Commission India)

    ভোট শেষ হওয়ার পর ইভিএম (Evm Strong Room) রাখা স্ট্রং রুম এবং গণনা কেন্দ্রগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য হল, ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে কোনও প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বা কারচুপির আশঙ্কা নির্মূল করা। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার জন্য ন্যূনতম ২৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় আগে ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও এখন সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে মোতায়েন থাকা ২০০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ১০০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ২০ কোম্পানি বিএসএফ, ১৫ কোম্পানি আইটিবিপি এবং ১৫ কোম্পানি এসএসবি।

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচনে (Election Commission India) প্রতিটি স্ট্রং রুমের বাইরের পরিধিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা চব্বিশ ঘণ্টা পাহারায় থাকবেন। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি গতিবিধির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হবে। এ বার ২৯৪টি আসনের ভোট গোনা হবে মোট ৮৭টি কেন্দ্রে। এক এক জেলায় গণনা কেন্দ্র ঠিক করা হয়েছে। এই তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভোটগণনা হয়েছিল ৯০টি কেন্দ্রে। ২০২১ সালের নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ১০৮টি।

    উত্তর ২৪ পরগনায় কত কেন্দ্র?

    নির্বাচনে (Election Commission India) জেলাগুলির মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই জেলায় ৩৩ বিধানসভায় মোট গণনা কেন্দ্র ৮টি। এগুলি হল- বারাসত কলেজ, বারাসত পিয়ারিচরণ সরকার হাই স্কুল, বসিরহাট হাই স্কুল, বসিরহাট পলিটেকনিক কলেজ, বিধাননগর কলেজ, বনগাঁর দীনবন্ধু মহাবিদ্যালয়, পানিহাটির গুরুনানক কলেজ ক্যাম্পাস এবং ব্যারাকপুরের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ।

    দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১২টি কেন্দ্র

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনের (Election Commission India) ভোট গোনা (Evm Strong Room) হবে ১২টি কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রগুলি হল ঠাকুরপুকুরের বিবেকানন্দ কলেজ, কাকদ্বীপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়, আলিপুরের হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্সের স্টেট ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্যাল এডুকেশন ফর উইমেন, হেস্টিংস হাউসের সিস্টার নিবেদিতা সরকারি জেনারেল ডিগ্রি কলেজ, মাল্টিপারপাস গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল, ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন ফর উইমেন, কসবার গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম, দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজ, ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রতচারী বৃদ্ধাশ্রম হাই স্কুল, ক্যানিংয়ের বঙ্কিম সর্দার কলেজ, যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজ।

    কলকাতায় ৫টি কেন্দ্র

    কলকাতার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গোনা (Evm Strong Room) হবে পাঁচটি কেন্দ্রে। এগুলি হল- বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে বাবা সাহেব অম্বেডকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল, ডায়মন্ড হারবার রোডের সেন্ট থমাস বয়েজ স্কুল। ভোটগণনা (Election Commission India) হবে।

    উত্তরবঙ্গে গণনা কেন্দ্র

    উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসনের গণনা (Evm Strong Room) হবে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে। জলপাইগুড়ির সাতটি আসনের গণনা দু’টি কেন্দ্রে হবে— উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস এবং পরিমল মিত্র স্মৃতি মহাবিদ্যালয়। কালিম্পঙের একটি আসনের গণনা হবে স্কটিশ উইনিভার্সিটিস মিশন ইনস্টিটিউশন। ঝাড়গ্রামের চারটি আসনের গণনা হবে রানি ইন্দিরা দেবী সরকারি স্কুলে।

    এ ছাড়া, কোচবিহারের ন’টি আসনের গণনা পাঁচটি কেন্দ্রে, দার্জিলিঙের পাঁচটি আসনের গণনা তিনটি কেন্দ্রে, উত্তর দিনাজপুরের ন’টি আসনের গণনা দু’টি কেন্দ্রে, দক্ষিণ দিনাজপুরে ছ’টি আসনের গণনা দু’টি কেন্দ্রে, মালদহের ১২টি আসনের গণনা দু’টি কেন্দ্রে, মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের গণনা ছ’টি কেন্দ্র।

    নদিয়া সহ রাঢ়বঙ্গে কত গণনা কেন্দ্র

    নদিয়ার ১৭টি আসনের গণনা (Evm Strong Room) চারটি কেন্দ্রে, হাওড়ার ১৬টি আসনের গণনা চারটি কেন্দ্রে, হুগলির ১৮টি আসনের গণনা ছ’টি কেন্দ্রে, পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনের গণনা চারটি কেন্দ্রে, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫টি আসনের গণনা চারটি কেন্দ্রে, পুরুলিয়ার ন’টি আসনের গণনা তিনটি কেন্দ্রে, বাঁকুড়ার ১২টি আসনের গণনা তিনটি কেন্দ্রে, পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি আসনের গণনা তিনটি কেন্দ্রে, পশ্চিম বর্ধমানের ন’টি আসনের গণনা দু’টি কেন্দ্রে এবং বীরভূমের ১১টি আসনের গণনা তিনটে কেন্দ্রে হবে।

    কমিশনের লক্ষ্য

    নির্বাচনের (Election Commission India) সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে এবং জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে কমিশন বদ্ধপরিকর। গণনার দিন যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশকেও বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সংক্ষেপে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রতিটি ভোটযন্ত্রের সুরক্ষা এবং গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন নির্বাচন কমিশনের প্রধান অগ্রাধিকার।

  • West Bengal Elections 2026: “পুলিশের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বদলেছে, জ্ঞানেশ কুমারকে যারা ভ্যানিশ বলেছেন, তাঁরাই এখন ভ্যানিশ যাওয়ার দোরগোড়ায়”, তৃণমূলকে তোপ দিলীপের

    West Bengal Elections 2026: “পুলিশের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বদলেছে, জ্ঞানেশ কুমারকে যারা ভ্যানিশ বলেছেন, তাঁরাই এখন ভ্যানিশ যাওয়ার দোরগোড়ায়”, তৃণমূলকে তোপ দিলীপের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পুলিশের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বদলেছে”, শেষ দফা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) পর রাজ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ঠিক এমনটাই মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা এবং রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের দৌরাত্ম্য এবং ভোট চুরিকে স্বয়ং পুলিশ কীভাবে রুখে দিয়েছে সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। রাজ্যে তৃণমূলের পালা শেষ শুরু হবে বিজেপির শাসন, ঠিক এমনটাই জানালেন এই বিজেপির প্রবীণ নেতা।

    উল্লেখ্য রাজ্যে দুই দফা নির্বাচনে ৯২.৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। একদিকে তৃণমূলের লাগাম ছাড়া দুর্নীতির কারণে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েইছিল, অপর দিকে এসআইআর ভোটারদের ভোটদানকে ব্যাপক উৎসাহ দিয়েছে। কমিশনের কড়ানজরদারি, বাহিনীর সঠিক ব্যবহার এবং রক্তপাতবিহীন ভোট সত্যই বঙ্গবাসীর জন্য দারুণ উপহার। ফলাফল যাই আসুক মানুষ যে ভোট প্রদান করতে পেরেছেন তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সন্তোষের চিত্র ধরা পড়েছে। এমনটাও বলছেন অভিজ্ঞ মহল।

    নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা (West Bengal Elections 2026)

    দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস যাঁকে একসময় ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে বিদ্রূপ করেছিল, সেই কমিশনার অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে শান্তিপূর্ণ ও ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে যারা ভ্যানিশ কুমার বলেছিল তারাই ভ্যানিশ হয়ে যাওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। উনি এবার দুই দফায় ভোট করে খুব বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। শান্তিপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক ভোট করে দেখিয়েছেন। চাইলে প্রশাসন অনেক কিছু করতে পারে। শুধু উনি নন, কাল কেন্দ্রীয় আধা সেনা তাদের কর্তব্য করেছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশও ভালো কাজ করেছে। পুলিশও চাইছে সুযোগ দেওয়া হোক। কিছু করে দেখাতে চাইছে। যারা কমিশনারকে (West Bengal Elections 2026) বিদ্রূপ করেছিল, তারাই এখন রাজনৈতিকভাবে ‘ভ্যানিশ’ হওয়ার পথে।”

    পুলিশের ভূমিকা

    বিজেপি প্রার্থী প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এই নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকাকে বিশেষ নজরে দেখছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা পুলিশের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বা শরীরী ভাষায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। পুলিশ এখন নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ চাইছে এবং প্রশাসন চাইলে যে সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে, তা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি সাফ কথায় বলেন, “পুলিশ সবথেকে বেশি পাবলিক কন্ট্যাক্ট করে। ওরা পাবলিকের গালাগালি খায় মার খায়। আবার ভালো কাজ করলে প্রশংসা পায়। তারাই সবথেকে আগে বুঝতে পারে কি হতে চলেছে। নাহলে কাল কার্তিক ব্যানার্জীকে পুলিশ যেভাবে চমকেছে, সোজা কথা সোজা ভাবে বলেছে, এইভাবে পিঠ সোজা রেখে কথা বলতে আমরা সাম্প্রতিক কালে পুলিশকে দেখিনি। বিষয়টা (West Bengal Elections 2026) আমার খুব ভালো লেগেছে।”

    আগে সরকার পাল্টাক

    পুলিশের এই বদলে যাওয়া মনোভাবকে তিনি রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশও যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। একই ভাবে সরকার গঠন এবং মন্ত্রিত্ব প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে জনগণের জন্য নতুন কোনও ইস্যু নেই। আমি সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চায় বিশ্বাসী নই। আমি ফেসবুকের বদলে ফেস টু ফেস বেশি ভরসা রাখি। কিছু মানুষ সোস্যাল মিডিয়ায় সরকার গড়ে ভাঙে মন্ত্রিসভা গঠন করে। আমি সরকার চাই। মন্ত্রিত্ব নয়। সরকার হোক। মন্ত্রিসভা (West Bengal Elections 2026) নিয়ে পরে ভাবা যাবে। বাংলার মানুষ আগে সরকার পাল্টাক। কাল থেকে তো আবহাওয়া পাল্টে গেছে। সরকার তো পাল্টাবেই।”

    পুলিশ, পাবলিক, গ্রাম, শহর সবাই পরিবর্তনের কথা বলেছে

    তবে এই অষ্টাদশ নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) বাংলার ভোট পর্বে আপামার মানুষ পরিবর্তন চেয়েছেন। তাই দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “প্রথম দফায় ১১০। অমিত শাহ বলে গিয়েছেন। দ্বিতীয় দফায় কলকাতায় ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। ঐতিহাসিক ব্যাপার। বাংলার ভোটের ট্রেন্ড বলে দিচ্ছে পরিবর্তন আসছে। কিন্তু আমি সংখ্যা বলতে পারব না, তবে পর্যাপ্ত সিট আসছেই। পুলিশ, পাবলিক, গ্রাম, শহর সবাই পরিবর্তনের কথা বলেছে। বিহারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বোঝা যায়নি কে জিতবে। সংখ্যা বলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তবে এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাব, যাতে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। বুক ফুলিয়ে সরকার চালানোর মতো মেজরিটি পাব। অন্য দল ভাঙানোর প্রশ্নই নেই। যদি কেউ নিজে থেকে আসতে চায় তাকে সসম্মানে আনা হবে।”

    দিলীপ অবশ্য সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী, তিনি বলেন, ‘‘মানুষ আর শাসক দলকে সমর্থন করবে না। সামগ্রিকভাবে, নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি এবং পুলিশের ইতিবাচক ভূমিকা এবারের নির্বাচনে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে সাহায্য করেছে।’’ আগামী ৪ এপ্রিল গণনা ওইদিন বোঝা যাবে সরকার কোন দল গঠন করছে।

  • Assembly Election 2026: গেরুয়াময় হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ! বলছে একাধিক সমীক্ষার ফল

    Assembly Election 2026: গেরুয়াময় হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ! বলছে একাধিক সমীক্ষার ফল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গেরুয়াময় হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ (Assembly Election 2026)! অন্তত রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেই বুথফেরত সমীক্ষার ফলেই মিলেছে এই খবর (TMC vs BJP)। অধিকাংশ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এগিয়ে বিজেপি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের দল। দু’একটি সমীক্ষায় আবার এগিয়ে তৃণমূল। তবে সর্বত্রই বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের বুথফেরত বা প্রাক নির্বাচনী জনমত সমীক্ষার ফল মেলে না। তবে আবার একেবারেই যে মেলে না, তাও কিন্তু নয়।

    ম্যাজিক ফিগার (Assembly Election 2026)

    এ রাজ্যে বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৯৪। কুর্সিতে বসতে গেলে প্রয়োজন অন্তত ১৪৮টি আসন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। ম্যাট্রিজের বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। তৃণমূল পাচ্ছে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। অন্য দলগুলি পেতে পারে ৬ থেকে ১০টি আসন। বাম বা কংগ্রেস এবারও খাতা খুলতে পারবে না বলেই দাবি ওই সমীক্ষায়।

    এগিয়ে বিজেপি

    চাণক্য স্ট্র্যাটেজির সমীক্ষায় প্রকাশ, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে যাবে। তারা ১৫০ থেকে ১৬০টি আসন পেতে পারে। তৃণমূলের ঝুলিতে পড়তে পারে ১৩০ থকে ১৪০টি আসন। অন্যান্যরা পেতে পারে ৬ থেকে ১০টি আসন। যদিও বাম এবং কংগ্রেসের ঝুলি শূন্য। পি-মার্কের সমীক্ষায় প্রকাশ, এ রাজ্যে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসনে জিততে পারে বিজেপি। তৃণমূল পেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন (TMC vs BJP)। প্রজা পোলের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি পেতে পারে ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন। তৃণমূলের ঝুলিতে পড়তে পারে ৮৫ থেকে ১১০টি আসন। অন্যান্য দল শূন্য থেকে পাঁচটি আসনে জিততে পারে। পোল ডায়েরির সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪২ থেকে ১৭১টি আসন পেতে পারে বিজেপি। তৃণমূল পেতে পারে ৯৯ থেকে ১২৭টি। অন্যান্যরা পেতে পারে ৫ থেকে ৯টি আসন (Assembly Election 2026)।

    হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    পিপল্‌স পাল্‌সের সমীক্ষায় অবশ্য তৃণমূল এগিয়ে। তারা পাচ্ছে ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ৯৫ থেকে ১১০টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ১ থেকে ৩টি আসন, বামেরা শূন্য থেকে একটি আসনে জয় পেতে পারে। জনমত পোল্‌সের সমীক্ষায়ও এগিয়ে তৃণমূল। ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পেয়ে রাজ্যে ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এই সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, বিজেপি পেতে পারে ৮০ থেকে ৯০টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে এক থেকে তিনটি আসন। বামেরা শূন্য থেকে পেতে পারে বড়জোর ১টি আসন। অন্যান্যরা পেতে পারে তিন থেকে পাঁচটি আসন।

    কংগ্রেসের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে!

    জেভিসির সমীক্ষায়ও এগিয়ে তৃণমূল। তাদের হিসেব বলছে, রাজ্যে ১৩১ থেকে ১৫২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। বিজেপি পেতে পারে ১৩৮ থেকে ১৫৯টি আসন। কংগ্রেস শূন্য থেকে দু’টি আসন পেতে পারে (TMC vs BJP)। বুধবার ছিল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট। এই দফায় ভোট হয়েছে রাজ্যের সাত জেলার ১৪২টি আসনে। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচন (Assembly Election 2026) হয়েছিল ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে। এদিকে, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান জেলায় ভোটদানের হার ছিল ৯২.৪৬ শতাংশ। হুগলিতে এই হার ছিল ৯০.৩৪ শতাংশ, নদিয়ায় ৯০.২৮ শতাংশ, হাওড়ায় ৮৯.৪৪ শতাংশ আর উত্তর ও দক্ষিণ দুই ২৪ পরগনায় ভোটদানের হার ছিল যথাক্রমে ৮৯.৭৪ ও ৮৯.৫৭ শতাংশ। ভোট গণনা হবে ৪ মে।

    প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বুধবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তৃণমূলের (TMC vs BJP) সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপি প্রার্থী তথা আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার শিকার তরুণীর মা রত্না দেবনাথ, তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Assembly Election 2026)।

     

     

  • West Bengal Elections 2026: ডায়মন্ড হারবারে ইভিএমে পদ্ম প্রতীকে ‘টেপ’! তৃণমূলকে বিঁধল বিজেপি, পাল্টায় ‘সিংহম’

    West Bengal Elections 2026: ডায়মন্ড হারবারে ইভিএমে পদ্ম প্রতীকে ‘টেপ’! তৃণমূলকে বিঁধল বিজেপি, পাল্টায় ‘সিংহম’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) চলাকালীন ফের উত্তপ্ত ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour)। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা এলাকার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএম মেশিনে বিজেপির ‘পদ্ম’ প্রতীকের ওপর সেলোটেপ লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। উল্লেখ্য, এই এলাকার তৃণমূল বিধায়ক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আগেই ভয় দেখানোর অভিযোগে সরব হয়েছিলেন আইপিএস অজয়পাল শর্মা। এবার এই ইভিএমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন দাবাং অফিসার।

    ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ (West Bengal Elections 2026)

    অভিযোগ জানিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এবং বিজেপিকে ভোট (West Bengal Elections 2026) দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পরিকল্পিতভাবে ইভিএমে পদ্ম প্রতীকের ওপর ব্রাউন টেপ সেঁটে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য টুইট করে এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ বলে অভিহিত করেছেন। গেরুয়া শিবিরের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এলাকায় (Diamond Harbour) নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই তৃণমূল এই ধরণের ‘নোংরা রাজনীতি’র আশ্রয় নিচ্ছে। বেশ কিছু বুথে নতুন করে ভোটের (Repolling) দাবিও তুলেছে বিজেপি।

    কমিশনের ভূমিকা

    নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) এবং ফলতার বেশ কিছু বুথ থেকে অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যেখানে ইভিএম বিকৃতির প্রমাণ মিলবে, সেখানে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশনের আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট বুথগুলির প্রিসাইডিং অফিসারদের (West Bengal Elections 2026) কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।

    উত্তেজনা তুঙ্গে

    বুধবার সকাল থেকেই ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতির খবর মিলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। একদিকে যেমন ইভিএম (West Bengal Elections 2026) বিকৃত করার অভিযোগ উঠছে, অন্যদিকে শাসকদলের পাল্টা দাবি— ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূলের পক্ষেই জনমত দিচ্ছেন।

    তৃণমূলের পাল্টা জবাব

    তৃণমূল কংগ্রেস টেপকাণ্ডের (West Bengal Elections 2026) অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা নিশানা করা হয়েছে বিজেপিকে। বিদ্রুপ করে বলা হয়েছে, “যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তবে ‘সিংহম’ অজয় পালের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান।” উল্লেখ্য, আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে এই দফার জন্য পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনে এখন থেকেই অজুহাত খাড়া করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Diamond Harbour) ও কমিশনের কর্তাদের নাম নিচ্ছেন।

  • WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, দ্বিতীয় দফায় (Second Phase Polling) ভোট হচ্ছে ১৪২টি আসনে। সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটদান। বিভিন্ন বুথে ইতিমধ্যেই লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। নির্বাচনকে (WB Assembly Election 2026) ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে এবার দু’দফায় বিধানসভা ভোট। প্রথমটি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফা হচ্ছে আজ, বুধবার ২৯ এপ্রিল। দু’দফায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২৯২৬। ২৯৪টি আসনের প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ১৫২টিতে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায়। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    কতজন ভোটার তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করবেন?

    এই দফায় ৭টি জেলার মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন পুরুষ ও ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন মহিলা ভোটার এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এর সঙ্গে জুড়বে ট্রাইবুনালে ‘পাশ’ করা আরও ১,৪৬৮ নাম। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী লড়ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে। এই আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৯। সবচেয়ে কম প্রার্থী লড়ছেন হুগলির গোঘাট (এসসি) আসনে। সেখানে প্রার্থী সংখ্যা ৫।

    কতজন প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে?

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনের জন্য লড়ছেন ১৪৪৮ জন। মনোনয়ন জমা পড়েছিল ১৪৬৩টি। তার মধ্যে ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সিপিএম প্রায় ১০০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দুজন রাজনৈতিক ময়দানে মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাতে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন।

    বুথের সংখ্যা কোথায় কত

    দ্বিতীয় দফার ভোটে বুথের সংখ্যা বারাসত পুলিশ জেলায় ১৯৭৮টি, বনগাঁয় ১০২৮টি, বসিরহাটে ২০৫২টি, বিধাননগরে ৮৮৩টি, ব্যারাকপুরে ২৯২৮টি, সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ১৭৯৮টি, বারুইপুরে ২৮২৫টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৪৪১টি, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ২৪৩১টি, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ২০৮৭টি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ২৮৪৪টি, রানাঘাট পুলিশ জেলায় ২২৯২টি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৫৬৮টি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ৪০৪১টি, পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯৫টি, কলকাতায় ৫১৭২টি।

    কোন কেন্দ্রে কতজন করে প্রার্থী?

    দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন ভাঙড় কেন্দ্রে। ১৫ জন করে প্রার্থী নোয়াপাড়া, এন্টালি, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে, ১৪ জন করে প্রার্থী দেগঙ্গা, সোনারপুর দক্ষিণ, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বালি, ডোমজুড়জু কেন্দ্রে। ১৩ জন করে প্রার্থী বাদুড়িয়া, হাবড়া, বিজপুর, জগদ্দল, রাজারহাট-নিউটাউন, রায়দিঘি, জয়নগর (এসসি), কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, মানিকতলা, হাওড়া উত্তর, আমতা কেন্দ্রে। ১২ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণগঞ্জ (এসসি), বনগাঁ উত্তর (এসসি), আমডাঙা, খড়দা, রাজারহাট-গোপালপুর, বারাসত, মগরাহাট পশ্চিম, বেহালা পূর্ব, ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, হাওড়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, তারকেশ্বর কেন্দ্রে। ১১ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব (এসসি), হরিণঘাটা (এসসি), বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি), গাইঘাটা (এসসি), পানিহাটি, কামারহাটি, বসিরহাট দক্ষিণ, কাকদ্বীপ, মন্দিরবাজার (এসসি), বারুইপুর পূর্ব (এসসি), টালিগঞ্জ, মেটিয়াব্রুজ, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হরিপাল কেন্দ্রে। ১০ জন করে প্রার্থী বাগদা (এসসি), বরাহনগর, বিধাননগর, মধ্যমগ্রাম, হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, বারুইপুর পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা, শিবপুর, সাঁকরাইল (এসসি), চুঁচুড়া, জাঙ্গিপাড়া, ভাতার, কাটোয়া, কেতুগ্রাম কেন্দ্রে। ৯ জন করে প্রার্থী করিমপুর, পলাশিপাড়া, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, অশোকনগর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, ব্যারাকপুর, দমদম উত্তর, দমদম, হিঙ্গলগঞ্জ (এসসি), গোসাবা (এসসি), কুলতলি (এসসি), কুলপি, রাসবিহারী, উলুবেড়িয়া উত্তর (এসসি), উদয়নারায়ণপুর, চাঁপাদানি, সিঙ্গুর, পান্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, খানাকুল, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর (এসসি), মঙ্গলকোট কেন্দ্রে। ৮ জন করে প্রার্থী রানাঘাট দক্ষিণ (এসসি), স্বরূপনগর (এসসি), মিনাখাঁ (এসসি), সন্দেশখালি (এসটি), বাসন্তী (এসসি), ক্যানিং পশ্চিম (এসসি), ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব (র্বএসসি), সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর (এসসি), জগৎবল্লভপুর, চণ্ডীতলা, পুরশুড়া, রায়না (এসসি), জামালপুর (এসসি), মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী উত্তর, গলসি (এসসি) কেন্দ্রে। ৭ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর উত্তর, পাথরপ্রতিমা, সাগর, বজবজ, পাঁচপাঁলা, উত্তরপাড়া, বলাগড় (এসসি), ধনেখালি (এসসি), খণ্ডঘোষ (এসসি), কালনা (এসসি), মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে। ৬ জন করে প্রার্থী ফলতা, আরামবাগ (এসসি), আউশগ্রাম (এসসি) কেন্দ্রে। ৫ জন প্রার্থী গোঘাট (এসসি) কেন্দ্রে।

  • WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (WB Assembly Polls 2026 Second Phase)। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তার জন্য একাধিক কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন ৩৮ হাজার ২৯৭ রাজ্য পুলিশও। নিউটাউনে রয়েছে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম।

    কোথায় কত বাহিনী…

    দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়— মোট ৫০৭ কোম্পানি। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১১২ কোম্পানি বাহিনী। বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ৬২ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে ভোটের দিন। বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে থাকবে ১৬০ কোম্পানি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৫ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে।

    আরও বাহিনী…

    হাওড়া জেলার হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১১০ কোম্পানি। নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ওই জেলার রানাঘাট পুলিশ জেলায় থাকবে ১২৭ কোম্পানি। হুগলি জেলার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকছে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ভোট-দায়িত্ব সামলাবে ২৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পূর্ব বর্ধমানে মোট ২৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে মোট বুথের সংখ্যা ১৯৫টি। বাহিনী থাকবে ১৩ কোম্পানি। কলকাতায় ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকেন।

    আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ

    দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে কমিশন। প্রথম দফার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ২৬ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও। ব্যারাকপুরে নিয়ে আসা হল অতিরিক্ত ৪ জন পুলিশ অফিসারকে। অন্যদিকে, হাওড়া-কৃষ্ণনগরে ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। বারাসাত-বসিরহাট-বারুইপুরে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। পূর্ব বর্ধমান, চন্দননগর, হাওড়া গ্রামীণ, হাওড়া শহরে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসার। এছাড়াও ডায়মন্ডহারবারে অতিরিক্ত ৩ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। আর সুন্দরবন ও বনগাঁয় অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

    বাহিনীর বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর

    বুধবার দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়েস্টবেঙ্গল সেক্টর ও রাজ্য ফোর্স কোঅর্ডিনেটর সিআরপিএফের আইজি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন। ভোটের দিন কোনও সমস্যা হলে বা অভিযোগ থাকলে হেল্পলাইন নম্বরে জানানো যাবে। দুটো মোবাইল ও একটি ল্যান্ড লাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। মোবাইল নম্বর দুটি হল- ৮৪২০২৭২১০১, ৮৪২০২৭২৩৪৩ ও ল্যান্ড লাইন নম্বরটি হল- ০৩৩২৩৬৭১১১৭। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘‘প্রথম দফার থেকেও বেশি ভোট পড়বে দ্বিতীয় দফায়। নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ ভোটই হবে দ্বিতীয় দফাতেও।’’

  • WB Election 2026: কয়লা থেকে রেশন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে গরু পাচার! এক ঝলকে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘বর্ণমালা’

    WB Election 2026: কয়লা থেকে রেশন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে গরু পাচার! এক ঝলকে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘বর্ণমালা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  মাত্র আর কয়েক ঘণ্টা পরেই শেষ দফার নির্বাচন (WB Election 2026)। ভোট দেওয়ার আগে দেখে নিন এক নজরে দুর্নীতির (West Benagl Scam) ইতিকথা। ছোটবেলায় আমরা সবাই বর্ণপরিচয় পড়েছি। ‘ক’-এ কলা, ‘খ’-এ খই। গত ১৫ বছরে বাংলার শাসকদল আমাদের এক নতুন ‘বর্ণপরিচয়’ শিখিয়েছে। এই বর্ণপরিচয় আদর্শলিপি নয়, বরং দুর্নীতির এক কলঙ্কিত ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের দেওয়ালে দেওয়ালে সেই নতুন অ-আ-ক-খ লেখা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি বর্ণের সাথে জড়িয়ে আছে আপনার হকের টাকা চুরির গল্প।”

    চুরির “তৃণমূলী বর্ণপরিচয়’ 

    “কয়লা থেকে গরু, বালি থেকে চাকরি, এমনকি গরিবের হকের রেশন বা মিড-ডে মিলের চাল—কোনও কিছুই বাদ যায়নি। আমরা ভাবতাম দুর্নীতি বোধহয় দু—একটা দফতরে হয়, কিন্তু না! এরা তো রীতিমতো গবেষণার স্তরে নিয়ে গেছে বিষয়টাকে। ‘ক’ থেকে শুরু করে ‘হ’ পর্যন্ত প্রতিটি অক্ষরের পিছনে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি।

    ‘তৃণমূলী বর্ণপরিচয়’ দেখলে দেখা যাবে বর্ণমালার প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে আপনার পকেট কাটা হয়েছে আর সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ চুরি করা হয়েছে। আজকের এই ভিডিও কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং খোদ বাংলার বর্তমান অবস্থার এক নগ্ন দলিল।

    ক-এ: কয়লা চুরি ও কাটমানি (WB Election 2026)

    শুরুটা করা যাক ‘ক’ দিয়ে। বাংলার খনি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার কয়লা পাচার হয়ে গেল, আর সেই কালো কারবারের ধোঁয়া গিয়ে পৌঁছাল খোদ রাঘববোয়ালদের দরজায়। শুধু কি কয়লা? যেকোনও সরকারি প্রকল্পের টাকা থেকে নেতাদের জন্য নির্দিষ্ট ‘কাটমানি’ রাখা এখন এক অলিখিত নিয়ম। আপনার বাড়ির ছাদ হোক বা এলাকার রাস্তা—নেতার কাটমানি না দিলে কাজ শুরু হওয়া অসম্ভব। ভোটে (WB Election 2026) কতটা প্রভাব পরে তাই এখন দেখার।

    খ-এ: খাদ্য বা রেশন দুর্নীতি (West Benagl Scam)

    খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার, কিন্তু সেই গরিবের রেশনেও থাবা বসাতে ছাড়েনি এরা। লকডাউনের সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার কুইন্টাল চাল আর গম কালোবাজারি হয়েছে। আজ রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী কেন জেল খেঁটে এসেছেন? কারণ তিনি আপনার থালার ভাতটা নিয়ে কোটি কোটি টাকার ডিল করেছেন।

    গ-এ: গরু পাচার

    বাংলার (WB Election 2026) সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার গরু পাচার হয়ে ভিনদেশে চলে গেল, আর তার বিনিময়ে ফুলে-ফেঁপে উঠল একশ্রেণীর নেতার ব্যাংক ব্যালেন্স। সীমান্তের ওপারে গরু পাঠাতে গিয়ে যারা মানুষের সুরক্ষাকে বাজি রেখেছে, তারা কি সত্যিই আপনার ভালো চাইবে? গ-এ গরু নয়, বরং ‘গ’ দিয়ে বাংলার কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক চোরাচালানের (West Benagl Scam)  গল্প লেখা হয়েছে।

    ঘ-এ: ঘাট ও বালি মাফিয়া

    বাংলার নদীগুলো আজ হাহাকার করছে। রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে নদী থেকে বালি আর পাথর তুলে নিয়ে নদীগর্ভ উজাড় করে দিচ্ছে বালি মাফিয়ারা। গ্রামের পর গ্রাম ধসে যাচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, আর এই ঘাটগুলো থেকে সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ঘ-এ ঘাট আজ মাফিয়াদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    চ-এ: চাকরি চুরি

    এটি সম্ভবত বাংলার আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক। ‘চ’ দিয়ে আজ চাতক পাখির মতো হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী রাজপথে বসে আছে। কারণ তাদের যোগ্যতার চাকরিটা কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে নেতার ঘনিষ্ঠদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মেধাকে হত্যা করে টাকার জোরে অযোগ্যদের চেয়ারে বসানোই হলো এদের আসল সাফল্য।

    ছ-এ: ছাত্রভর্তিতে তোলাবাজি

    পড়াশোনার মন্দির আজ তোলাবাজির আখড়া। কলেজে ভর্তি হতে গেলেও ছাত্র পরিষদের দাদাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। গরিব মেধাবী ছাত্রটি আজ তার স্বপ্নের বিষয়ে পড়তে পারছে না, কারণ তার কাছে সেই ‘ছ’-এ ছাত্রভর্তির তোলাবাজির টাকা নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে এমন চরম নির্লজ্জতা কি আগে কেউ দেখেছে?

    জ-এ: জব কার্ড কেলেঙ্কারি

    গরিব মানুষের একশো দিনের কাজের টাকা নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, তার নাম ‘জ’ দিয়ে জব কার্ড কেলেঙ্কারি (West Benagl Scam) । মৃত মানুষের নামে জব কার্ড বানিয়ে কিংবা কাজ না করিয়েই টাকা তুলে নিয়েছে শাসকদলের নেতারা। আজ যে সাধারণ মানুষ একশো দিনের কাজের টাকা পাচ্ছেন না, তার দায় কি ওই তৃণমূলী মেম্বার আর প্রধানদের নয়, যারা দুর্নীতির পাহাড় বানিয়ে কেন্দ্রীয় টাকা আটকে যাওয়ার পথ করে দিয়েছে?

    ট-এ: টেট (TET) দুর্নীতি

    ‘ট’ দিয়ে আজ বাংলার ঘরে ঘরে কান পাতলে শোনা যায় টেট দুর্নীতির হাহাকার। ওএমআর শিট (OMR sheet) কারচুপি করে রাতারাতি ফেল করা প্রার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়েও অনেকে আজ চাকরি করছে, আর যারা দিনরাত এক করে পড়াশোনা করেছিল, তারা আজ গান্ধী মূর্তির পাদদেশে চোখের জল ফেলছে। টেট আজ নিয়োগের পরীক্ষা নয়, বরং টাকা কামানোর মেশিনে পরিণত হয়েছে।

    ঠ-এ: ঠিকাদারি ও সিন্ডিকেট

    যেকোনও সরকারি নির্মাণ মানেই তৃণমূলী সিন্ডিকেটের রমরমা। ‘ঠ’ দিয়ে ঠিকাদারি আজ আর মেধার লড়াই নয়, বরং কে কত বড় নেতার কাছের লোক তার প্রতিযোগিতা। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা বা ব্রিজ তৈরি হচ্ছে, আর সেই মুনাফার টাকা ভাগ হয়ে যাচ্ছে ভাইপো থেকে পাড়ার মেজো নেতা—সবার মধ্যে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স না দিলে বাংলায় একটা ইঁটও গাঁথা সম্ভব নয়।

    ড-এ: ডিয়ার লটারি দুর্নীতি

    সাধারণ মানুষের (WB Election 2026) ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার নাম লটারি। ‘ড’ দিয়ে এই ডিয়ার লটারি আজ কালো টাকা সাদা করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। আমরা দেখছি বারবার একই প্রভাবশালী পরিবারের লোক লটারিতে কোটি টাকা জিতছে! এটা কি নিছক ভাগ্য, নাকি আপনার ঘাম ঝরানো পয়সা পকেটস্থ করার এক পরিকল্পিত নীল নকশা? লটারির নেশায় সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে, আর নেতারা কোটিপতি হচ্ছে।

    ত-এ: ত্রিপল ও ত্রাণ চুরি

    মানবিকতাও এদের কাছে ব্যবসার মাধ্যম। আমফানের সময় যখন মানুষের মাথার ছাদ উড়ে গিয়েছিল, তখন ‘ত’ দিয়ে সেই সামান্য ত্রিপলটুকুও চুরি করতে ছাড়েনি এরা। রিলিফের চাল থেকে শুরু করে ক্ষতিপূরণের টাকা—সবই চলে গেছে তৃণমূলী নেতাদের আত্মীয়স্বজনদের একাউন্টে। বিপদের দিনে যারা মানুষের হকের ত্রাণ চুরি করে, তারা মানুষের শত্রু ছাড়া আর কিছু নয়।

    ন-এ: নিয়োগ দুর্নীতি (পুরসভা)

    স্কুলের পর এবার নজর পুরসভার দিকে। ‘ন’ দিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি আজ পুরসভাগুলোতেও থাবা বসিয়েছে। অযোগ্যদের চাকরি দিয়ে শহর বা মফস্বলের প্রশাসনকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীরা আজও হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর নেতার প্যাডে নাম থাকা ব্যক্তিরা সরকারি চেয়ারে বসে জনগণের টাকায় মৌজ করছে।

    প-এ: প্রাথমিকে দুর্নীতি

    শিক্ষার একদম গোড়াতেই বিষ মিশিয়ে দিয়েছে এই সরকার। ‘প’ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে যে নির্লজ্জ কারচুপি আমরা দেখলাম, তা গোটা দেশের সামনে বাংলার মাথা হেঁট করে দিয়েছে। টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আগামীর ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব। আজ যে শিশুরা প্রাথমিক স্কুলে যাচ্ছে, তারা কী শিখবে? যখন তাদের শিক্ষকরাই মেধার বদলে টাকার জোরে চাকরি পেয়েছে!

    ব-এ: বালি পাচার

    বাংলার নদীগুলো আজ কঙ্কালসার (West Benagl Scam) । ‘ব’ দিয়ে বালি পাচার আজ এক সংগঠিত অপরাধে পরিণত হয়েছে। কোনো রয়্যালটি ছাড়াই রাতের অন্ধকারে শয়ে শয়ে ট্রাক নদী থেকে বালি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলা আর কয়েকশ কোটি টাকার এই পাচারকাণ্ডের পিছনে রয়েছে স্থানীয় নেতা আর প্রশাসনের এক গভীর আঁতাত। বালি চুরি করে নদীগর্ভ সাবাড় করা হচ্ছে, আর নেতাদের পকেট ভরাট হচ্ছে।

    র-এ: রেশন চুরি

    মানুষের অভাব নিয়ে ব্যবসা করাই এদের দস্তুর। ‘র’ দিয়ে রেশন চুরির জাল ছড়িয়ে আছে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত। গরিবের ডিজিটাল রেশন কার্ডের চাল-গম খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ যখন ডিলারের কাছে যাচ্ছে, তখন বলা হচ্ছে “ওপর থেকে স্টক আসেনি”। আপনার পেটের ভাত যারা কেড়ে নেয়, তাদের ক্ষমা করার জায়গা কোথায়?

    ম-এ: মিড-ডে মিল তছরূপ

    এরা এতটাই নিচে নেমেছে যে শিশুদের খাবারটুকুও ছাড়েনি। ‘ম’ দিয়ে মিড-ডে মিলের টাকায় কখনো রাজনৈতিক সভা করা হচ্ছে, কখনো আবার সেই টাকা তছরূপ করে নেতাদের পকেট গরম করা হচ্ছে। বাড়ন্ত বয়সের বাচ্চাদের পাতে ডাল-ভাতের বদলে জুটেছে চরম দুর্নীতি। শিশুদের পুষ্টি নিয়ে যারা খেলা করে, তাদের থেকে নিষ্ঠুর আর কে হতে পারে?

    স-এ: সিন্ডিকেট রাজ

    বাংলায় (WB Election 2026) আজ আইনের শাসন নয়, চলছে ‘স’ দিয়ে সিন্ডিকেট রাজ। আপনি নিজের জমিতে বাড়ি করবেন? সিন্ডিকেটের থেকে মাল নিতে হবে। আপনি ছোট ব্যবসা করবেন? সিন্ডিকেটকে তোলা দিতে হবে। এই সিন্ডিকেট আজ বাংলার অর্থনীতির গলা টিপে ধরেছে। কোনও বড় শিল্প এখানে আসতে ভয় পায় কেবল এই সিন্ডিকেট আর তোলাবাজদের ভয়ে।

    শ-এ: শিক্ষা দুর্নীতি ও সারদা

    ‘শ’ দিয়ে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের সর্বস্বান্ত হওয়ার ইতিহাস লেখা আছে। একদিকে সারদার মতো চিটফান্ডে সাধারণ মানুষের রক্তজল করা টাকা লোপাট, আর অন্যদিকে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিলামে তোলা। পর্ষদ সভাপতি থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রী—সবাই আজ জেল খাটছে। মেধা আজ রাজপথে কাঁদছে, আর দুর্নীতি আজ রাজপ্রাসাদে অট্টহাসি হাসছে।

    হ-এ: হান্ড্রেড ডেইজ ওয়ার্ক টাকা লুট

    সবশেষে ‘হ’—হান্ড্রেড ডেইজ ওয়ার্ক বা একশো দিনের কাজের টাকা লুট। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের ঘামের দাম এরা নর্দমায় ছুড়ে ফেলেছে। ভুয়া মাস্টার রোল বানিয়ে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। আজ যখন কেন্দ্র হিসাব চাইছে, তখন এরা মুখ লুকাচ্ছে আর মাশুল গুনছে বাংলার সাধারণ শ্রমিকরা। ‘হ’-এ হাহাকার আজ বাংলার গ্রামে গ্রামে।

    এটাই আজকের বাংলার বাস্তব ‘বর্ণপরিচয়’ (West Benagl Scam)। আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম ‘অজগরটি আসছে তেড়ে’, আজ বাংলার প্রতিটি প্রান্তে সেই অজগরের মতো দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে গিলে খেতে আসছে। ক-থেকে-হ, বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষর আজ কলঙ্কিত। যারা আপনার সন্তানের শিক্ষার অধিকার বিক্রি করে দেয়, যারা আপনার ঘরের চাল চুরি করে, কিংবা যারা আপনার সারা জীবনের জমানো টাকা লটারির নামে বা চিটফান্ডের নামে লুটে নেয়—তারা কি সত্যিই আপনার বন্ধু?”

    যুবসমাজ পরিযায়ী শ্রমিক

    এই অ-আ-ক-খ দিয়ে কোনো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়। এই বর্ণপরিচয় কেবল ধ্বংস আর অন্ধকারের কথা বলে। আজ বাংলার (WB Election 2026) যুবসমাজ পরিযায়ী শ্রমিক, বাংলার মেধাবীরা রাজপথে অনশনরত, আর বাংলার কোষাগার দেউলিয়া। দেড় হাজার টাকার ভাতার মুলো ঝুলিয়ে যারা আপনার এই চরম ক্ষতিকে আড়াল করতে চাইছে, তাদের চিনে নেওয়ার সময় এসেছে। মনে রাখবেন, আজ যদি আপনি এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আওয়াজ না তোলেন, তবে আপনার আগামী প্রজন্ম আপনাকে ক্ষমা করবে না। এখন এই সব কিছুর প্রভাব ভোটে কতটা পরে তাই এখন দেখার।

  • WB Election 2026 Phase 2: বিশেষ নজর কলকাতায়! দ্বিতীয় দফার আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কমিশনের, কী কী সিদ্ধান্ত হল?

    WB Election 2026 Phase 2: বিশেষ নজর কলকাতায়! দ্বিতীয় দফার আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কমিশনের, কী কী সিদ্ধান্ত হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে কলকাতায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।

    বিশেষ বৈঠকে কমিশন

    শহরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার, নির্বাচন পর্যবেক্ষক-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। সূত্রের খবর, বৈঠকে যোগ দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরাও। পাশাপাশি, জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO), রিটার্নিং অফিসার (RO) সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেই এই সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    কী নিয়ে আলোচনা?

    কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় রেখে কীভাবে বুথে বুথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে বিশেষ নজরদারি, রুট মার্চ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, সেই বার্তাই স্পষ্ট।

    কলকাতায় আলাদা করে নজর

    কলকাতার পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ ভাবনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে রবিবার সমস্ত সিভিল সেক্টর অফিসার, পুলিশ সেক্টর অফিসার, জেনারেল অবজ়ার্ভার, পুলিশ অবজ়ার্ভার, স্পেশ্যাল অবজ়ার্ভার, পুলিশের সিনিয়র আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল কমিশন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। বৈঠক পর নগরপাল জানান, বুথ ধরে ধরে যে সব পরিকল্পনা রয়েছে, কোথায় কত কুইক রেসপন্স টিম, কন্ট্রোল রয়েছে, অভিযোগ জানানোর কী ব্যবস্থা আছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্ব কী কী, কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কী করা হবে, এই সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

    বাইকে টহল পুলিশ-আধাসেনার

    সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী বুধবার, দ্বিতীয় দফার ভোটে গোটা শহর জুড়েই টহল দেবে পুলিশ-আধাসেনার বাইক। অজয় জানান, কলকাতা জুড়ে মোট ১৬০টি বাইক টহল দেবে। এই কাজ পুলিশ এবং আধাসেনা মিলে করবে। পাশাপাশি, বুথে বুথে নজরদার ক্যামেরা থাকবে। বুথের পরিস্থিতি বুঝে আরও ক্যামেরা লাগানো হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ড্রোনের সংখ্যা বৃদ্ধি

    তবে শুধু কলকাতা নয়, সর্বত্রই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আনতে চাইছে কমিশন। কমিশন সূত্রেই খবর, স্পর্শকাতর বুথে নজরদারি চালাতে দ্বিতীয় দফায় ড্রোনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এ ছাড়াও শুধু বুথ বা বুথ সংলগ্ন এলাকা নয়, এ বার বুথ‌মুখী সব রাস্তাতেও ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত‌ নিয়েছে কমিশন। মূলত কলকাতা এবং হাওড়ার মতো ঘিঞ্জি বা ঘনবসতি এলাকায় যে সমস্ত বুথ থাকবে, সেই সমস্ত বুথের ক্ষেত্রেই তা মেনে চলা হবে। ‌

  • WB Election 2026: সারি সারি দাঁড়িয়ে সাঁজোয়া যান, শেষ দফার ভোট হিংসা মুক্ত করতে বাহিনীর বিরাট চমক

    WB Election 2026: সারি সারি দাঁড়িয়ে সাঁজোয়া যান, শেষ দফার ভোট হিংসা মুক্ত করতে বাহিনীর বিরাট চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাইনে দাঁড়িয়ে সারি সারি সাঁজোয়া গাড়ি। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election 2026) শেষ দফা ভোটের আগে হিংসা রুখতে কমিশনের কড়া অবস্থান। দুষ্কৃতীদের সাবধান করতে সিআরপিএফ-এর (CRPF) অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (ADG) জিপি সিং একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেন। তাঁর পোস্ট করা নিরাপত্তা প্রস্তুতির কিছু ছবি সময় সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় দাগি এক হাজারের বেশি অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ প্রশাসন। যেখানে যেখানে হিংসার ঘটনা ঘটছে জোর কদমে চলছে ধরপাকড়। ভোট লুট বন্ধ করতে কমিশন ও প্রশাসন ব্যাপক সক্রিয়।

    বিশেষ তৎপরতা গ্রহণ (WB Election 2026)

    নির্বাচনী (WB Election 2026) নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (CRPF)  জিপি সিং একটি পোস্ট করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রাক্কালে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ তৎপরতা গ্রহণ করা হয়েছে।” সামাজিক মাধ্যমে বাহিনীর সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি ও রণকৌশলের কিছু আলোকচিত্র শেয়ার করেছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে কমিশন কতটা হিংসা মুক্ত নির্বাচন চায়।

    ভীতি ছাড়াই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ

    অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল জিপি সিং নিজের শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা কঠোর নজরদারি চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁরা কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই পোস্টের (CRPF)  মূল উদ্দেশ্য হল মূলত ভোটারদের মনে আস্থা জাগানোর একটি প্রয়াস মাত্র। সাধারণ মানুষ যাতে কোনও প্রকার ভীতি ছাড়াই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন সেই বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভোটারদের সাহস যোগাবে

    একই ভাবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে (WB Election 2026) শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। উচ্চপদস্থ এই আধিকারিকের (CRPF) সরাসরি তত্ত্বাবধান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী ময়দানে নতুন মাত্রার উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। তবে এই ধরনের সাঁজোয়া যান কেবলমাত্র কাশ্মীরের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই ব্যবহার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবহার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

LinkedIn
Share