মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামিকাল ৪ মে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) ভোট গণনা। তার ঠিক আগে গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুললেন বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, “গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য এবং তাঁদের ডিউটি রস্টার আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছে, যা আদতে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন। গণনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হবে।”
শুভেন্দুর মূল অভিযোগ (West Bengal Election 2026)
সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দুর দাবি, গণনা কর্মীদের তালিকা ও তাঁদের কর্মস্থলের তথ্য নির্দিষ্ট মহলের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর মতে, এটি ‘ইলেকশন প্রোটোকল’ বা নির্বাচনী শিষ্টাচারের গুরুতর অবমাননা। তাই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমার নজরে এসেছে যে, গণনার দিনের (Counting Day) দায়িত্বে থাকা বেশ কিছু আধিকারিক তাঁদের নির্দিষ্ট ডিউটির বিবরণ, স্থান এবং পদমর্যাদার তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সংস্থা ও সংগঠনগুলিকে জানিয়ে দিয়েছেন। আমি তথ্য পেয়েছি যে, কিছু স্প্রেডশিট এবং তালিকা প্রচার করা হচ্ছে যেখানে আধিকারিকরা স্বেচ্ছায় বা চাপের মুখে তাঁদের ‘নির্বাচন ডিউটি সংক্রান্ত তথ্য’ এবং গণনা প্রক্রিয়ায় তাঁদের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী হবে, তা পূরণ করছেন। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার ফলে গণনার (West Bengal Election 2026) দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে, যা নিরপেক্ষ ফল ঘোষণায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
কমিশনের কাছে দাবি
নির্বাচনী (West Bengal Election 2026) গণনাকেন্দ্রে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে জোরালো অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, যেভাবে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনওভাবেই যেন গণনা প্রভাবিত না হয়। সর্বোপরি, যেসব আধিকারিক বা কর্মীরা এই তথ্য ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
অযাচিত প্রভাবের ঝুঁকি
যখন কোনও আধিকারিকের নির্দিষ্ট নিয়োগের তথ্য রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কোনও সংগঠন বা ইউনিয়নের কাছে জানাজানি হয়ে যায়, তখন তা অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং হুমকির পথ প্রশস্ত করে।
নিরপেক্ষতার সঙ্কট
গণনা প্রক্রিয়ার পবিত্রতা নির্ভর করে কর্মীদের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার ওপর। এই গোপনীয়তা ভঙ্গ হলে তা সরাসরি ফলের নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করে।
চাপ সৃষ্টির কৌশল
সংগঠনগুলির দ্বারা এই ধরণের ‘তথ্য সংগ্রহ’ করার বিষয়টি অনেক সময় আধিকারিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি প্রচ্ছন্ন প্রচেষ্টা মাত্র, যাতে গণনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁরা শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেন।
অবিলম্বে কঠোর নির্দেশিকা জারির দাবি
ভোট পরবর্তী হিংসা এবং স্ট্রংরুম পাহারা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন অভিযোগ আগামিকালের গণনা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিল বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। শুভেন্দু বলেন, “আমি ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে জোরালো আবেদন জানাচ্ছি। কোনও আধিকারিক যাতে কোনও সংস্থা বা সংগঠনের কাছে তাঁদের নির্ধারিত গণনা ডিউটির তথ্য প্রকাশ না করেন, সেই মর্মে অবিলম্বে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হোক। এছাড়া, যে সমস্ত সংগঠন এই ধরণের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।”
বিজেপি শিবিরের দাবি, শাসক দল প্রশাসনকে ব্যবহার করে গণনায় কারচুপি করার চেষ্টা করছে। যদিও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং ‘হারার আগে অজুহাত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী গণনা (West Bengal Election 2026) বিষয়ে বিরোধী দলনেতার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শেষ মুহূর্তে কোনো বড় পদক্ষেপ নেয় কি না।

