Tag: Trade Deal

  • PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তারপর থেকে আর বড় কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (G7 Summit) মুখোমুখি হওয়া হয়নি দুই রাষ্ট্রনেতার। এবার হবে। জুন মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই ফের মুখোমুখি হতে পারেন এই দুই ‘মহান বন্ধু’। ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক স্টাইলের কারণে একটি ছোট্ট দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন হল, এতে কি আর ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমবে? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে জুন পর্যন্ত।

    জি৭ শীর্ষ সম্মেলন (PM Modi)

    ভারত জি৭-এর স্থায়ী সদস্য নয়। তবে বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে নিয়মিত যোগ দেয় এই সম্মেলনে। এ বছর ওই সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ স্বয়ং আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-ব্যাঁ (Evian-les-Bains) ১৫-১৭ জুন হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি হয়েছিলেন মোদি ও ট্রাম্প। শুল্ক উত্তেজনার পটভূমিতে অনুষ্ঠিত সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প মোদিকে ‘মহান বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছনোর অঙ্গীকারও করেছিলেন এই দুই রাষ্ট্রনেতা।

    নোবেল পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্পের দাবি

    যদিও গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্প হঠাৎই দাবি করতে থাকেন, ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি হয়েছে তাঁরই মধ্যস্থতায়। এর পর থেকে ট্রাম্প যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই বলে বেড়িয়েছেন, তাঁরই বাণিজ্যিক চাপের কারণে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পুরোপুরি যুদ্ধে জড়ায়নি। ট্রাম্পের এহেন ঘোষণায় খুব খুশি হয়েছিল শাহবাজ শরিফের দেশ। তবে পাকিস্তান ট্রাম্পের প্রশংসা করলেও, ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দেন, যুদ্ধবিরতি হয়েছে সরাসরি ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা করেই, কারও মধ্যস্থতায় নয়। বস্তুত, এর পর থেকেই তলানিতে ঠেকে দুই ‘হুজুরে’র সম্পর্ক (G7 Summit)।

    ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান

    গত বছর জুনে কানাডায় হয়েছিল জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে পার্শ্ব বৈঠকে ফের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল এই দুই নেতার। যদিও ট্রাম্প হঠাৎ করেই সম্মেলন ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাতিল হয়ে যায় প্রস্তাবিত বৈঠক। পরে অবশ্য ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে কানাডা থেকে ফেরার পথে ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু মোদির পূর্বনির্ধারিত ক্রোয়েশিয়া সফর থাকায়, সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে ভারত। তবে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে সরকারি কর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভারতের আশঙ্কা ছিল যে ট্রাম্প হয়ত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে মোদিকে নিয়ে একটি ছবি তোলার জন্য চাপ দিতে পারেন। সেই সময় একইসঙ্গে (PM Modi) হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুনিরকেও।

    ভারতকে শায়েস্তা করার চেষ্টা

    তার পর থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই অবনতি হয়েছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের। ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় ভারতকে শায়েস্তা করতে চেষ্টার কম কসুর করেননি ট্রাম্প। তাঁর সরকার প্রথমে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। রাশিয়ার তেল কেনায় বসানো হয় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও। ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এবং পিটার নাভারো (Peter Navarro) বারবার অভিযোগ করেন, রাশিয়ার তেল কিনে ঘুরপথে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সাহায্য করছে ভারত। এই শুল্ক-চাপ মূলত ভারতকে আমেরিকার দিকে ঝুঁকে থাকা একটি বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি করানোর মরিয়া চেষ্টা ছিল বলেই খবর (G7 Summit)।

    সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত

    এই পুরো পর্বটায় কার্যত মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মাথা নত করেননি ট্রাম্পের চাপের কাছে। শুধু তা-ই নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শার্ম এল-শেখ এবং কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান (ASEAN) সম্মেলনের মতো বৈশ্বিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে যান। কারণ সেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারত ট্রাম্পের। গত সেপ্টেম্বরে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মেলে। ট্রাম্প জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফের গতি পায় বাণিজ্য আলোচনা। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। ভারতের ওপর চাপানো শুল্ক কমিয়ে করা হয় ১৮ শতাংশ। বিভিন্ন সময় ট্রাম্পের করা মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আবারও শোনা কিংবা দেখা যায় পরিচিত বাক্য — “ইন্ডিয়া থেকে আমার বন্ধু” (PM Modi)।

    ট্রাম্পের মুখে মোদি-স্তুতি

    তবে ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের রায়ের কারণে আটকে যায় আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি সই। ১৭ এপ্রিল টানা ৪০ মিনিট ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। চলতি বছরে এটি ছিল তাঁদের তৃতীয় ফোনালাপ। যদিও সেই কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে শোনা যায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন মোদি-ট্রাম্প। ফোনালাপের পর (G7 Summit) সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ওঁর (মোদির) সঙ্গে আমার খুব ভালো কথা হয়েছে। উনি ভারত থেকে আমার বন্ধু। উনি দারুণ কাজ করছেন।” এই প্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ফের মুখোমুখি হতে পারেন মোদি ও ট্রাম্প। দুই রাষ্ট্র প্রধানের এই সাক্ষাৎই কেড়ে নিতে পারে তামাম দুনিয়ার নজর (PM Modi)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাসি, করমর্দন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের বাইরেও হবে আসল পরীক্ষা — দুই দেশ সাম্প্রতিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না। খুব সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত আলাপও দিকনির্দেশ করে দিতে পারে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়ের।

     

  • India US Talks: ফোনে কথা মোদি-ট্রাম্পের, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা

    India US Talks: ফোনে কথা মোদি-ট্রাম্পের, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪ এপ্রিল ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই কথোপকথনে, উভয় রাষ্ট্রনেতাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। সমগ্র গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের অধীনে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে দু’তরফে। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে, প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি ফোন পেয়েছি। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করেছি। আমরা আমাদের সমগ্র গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকে সব ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছি এবং হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছি।”

    গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা (India US Talks)

    প্রসঙ্গত, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ফের হওয়ার কথা এ মাসে। গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ব্যবসায়িক উন্নয়নের অংশ হিসেবেই এই আলোচনা হবে। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA)-র জন্য আলোচনা ফের শুরু হবে। একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল ২০ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করবে। সেই সময়ই হওয়ার কথা আলোচনা।এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষের দিকে। তাঁর দাবি, ইরানি বন্দরগুলির অবরোধ এখন সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে তেহরান খুব কঠিন আঘাত পেয়েছে।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    হোয়াইট হাউসে একটি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালী। প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। আসলে এটা বেশ অবিশ্বাস্য হয়েছে… আমরা তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি, ফল নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর। শেষ ফলটাই গুরুত্বপূর্ণ… এবং হয়তো সেটা খুব শীঘ্রই ঘটবে।” ট্রাম্প ফের বলেন, “ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাই মূল লক্ষ্য। তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। আর যদি তাদের নতুন পারমাণবিক অস্ত্র থাকে, তাহলে আমাদের কিছু সময় তাদের সঙ্গে থাকতে হবে। কিন্তু আমি জানি না তারা আর কতদিন টিকে থাকতে পারবে।”

     

  • Vikram Misri: ইরান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন বিক্রম মিশ্রি, কেন জানেন?

    Vikram Misri: ইরান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন বিক্রম মিশ্রি, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন (US) সফরে যাবেন বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি (Vikram Misri)। সেখানে তিনি মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হবে, হবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আলোচনাও। এটি বিশ্বজুড়ে বহু দেশকে প্রভাবিত করেছে।

    মিশ্রির ওয়াশিংটন সফর (Vikram Misri)

    মিশ্রি ৮ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ওয়াশিংটনে থাকবেন। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাত শুরু হয়, তার পর এই প্রথম কোনও পদস্থ ভারতীয় কর্তা আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন। এই সফরটি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ফেব্রুয়ারি মাসের ওয়াশিংটন সফরের পরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতার অংশ বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

    নজিরবিহীন চাপ

    মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরটি ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণ পরিসর পর্যালোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা চলছে, তাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। মিশ্রি মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, এই সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার জন্য ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্কও ছিল (Vikram Misri)। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি হয়। গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘাত বন্ধে নিজের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের বারবার দাবি সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণা

    ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন যে দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির দিকে কাজ করছে এবং মার্কিন শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে এবং মিশ্রির বৈঠকগুলিতে এটি আলোচনায় আসতে পারে (US)। প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষ দিকে ট্রাম্প মোদিকে ফোন করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত অঞ্চলে দ্রুত শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং বৈশ্বিক স্বার্থে হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

    ভারত সংঘাত দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহও নিশ্চিত করতে চায় ভারত।  কারণ এটি দেশের খাদ্য, জ্বালানি ও সার নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে, পশ্চিম এশিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেখানে বসবাসরত এক (US) কোটিরও বেশি ভারতীয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি (Vikram Misri)।

     

  • India US Trade Deal: সময়ের ফের! ভারতকে কটাক্ষ করা ট্রাম্প সহযোগী লুটনিক ‘লুকিয়ে’ এলেন নয়াদিল্লিতে, কেন জানেন?

    India US Trade Deal: সময়ের ফের! ভারতকে কটাক্ষ করা ট্রাম্প সহযোগী লুটনিক ‘লুকিয়ে’ এলেন নয়াদিল্লিতে, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে সময়ের ফের! শুল্ক-যুদ্ধের সময় ভারতকে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই সহযোগী হাওয়ার্ড লুটনিক চুপিসারে এসেছেন ভারত সফরে। অথচ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য সচিব বড় মুখে দাবি করেছিলেন— “শেষ পর্যন্ত ভারত শুল্কের চাপে নতি স্বীকার করবে, দুঃখপ্রকাশ করবে এবং একটি চুক্তি করার চেষ্টা করবে।” সেই ছবিটাই বদলে গেল ২৬ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার লুটনিকই দিল্লিতে এসে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করেন, ঠিক সেই সময় যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দেয় (India US Trade Deal)।

    লুটনিকের সফর (India US Trade Deal)

    এই গোপন বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত—কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি। আদালতের রায়ের পর প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি, যা আগামী মাসে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়েল টুইট না করা পর্যন্ত ভারতে লুটনিকের সফরের খবর জানা যায়নি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মার্কিন দূত সার্জিও গোর। গোয়েল টুইট করেন, “মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক ও সার্জিও গোরকে আতিথ্য জানালাম। আমাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।” তবে বৈঠকের বিস্তারিত তিনি জানাননি। কিন্তু “বাণিজ্য” ও “অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব” শব্দের উল্লেখ থেকেই স্পষ্ট যে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি। তিন নেতাই ছবির জন্য পোজ দেওয়ার সময় হাসিমুখে ছিলেন। গয়ালের হাসি যেন একটু বেশিই চওড়া ছিল। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে আলোচনা শান্ত পরিবেশেই হয়েছে। গোরও বেশি কিছু জানাননি। তিনি টুইট করেন, “আমাদের দুই দেশের জন্য বহু সহযোগিতার ক্ষেত্র রয়েছে। হাওয়ার্ড লুটনিক ও পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ মধ্যাহ্নভোজ।”

    পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলেছে

    লুটনিকের সফরের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। খুব বেশিদিন আগে নয়, এক পডকাস্টে তিনি দাবি করেছিলেন যে— ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি গত বছর বাস্তবায়িত হয়নি, কারণ প্রধানমন্ত্রী মোদি সরাসরি ট্রাম্পকে ফোন করতে অস্বীকার করেছিলেন। এখন পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলেছে, কারণ ট্রাম্পের প্রভাব কমেছে। শুল্ক সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা বেশ কয়েকটি দেশ নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। কারণ ট্রাম্প এই পারস্পরিক শুল্ককে চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতও ওয়াশিংটনে নির্ধারিত তার বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর স্থগিত করেছে, যা চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ছিল। ভারতের জন্য আদালতের এই আদেশ কার্যত নতুন করে দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি করেছে এবং সম্ভবত আরও অনুকূল শর্ত আদায়ের পথ খুলে দিয়েছে (India US Trade Deal)।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। বুধবার তিনি ভারত-সহ অন্যান্য দেশকে “খেলা” না করার এবং বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে না আসার সতর্কবার্তা দেন। ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “যে কোনও দেশ যদি এই সুপ্রিম কোর্টের হাস্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলা করতে চায়—বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর, এমনকি দশকের পর দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়েছে—তাহলে তারা সম্প্রতি যে শুল্কে সম্মত হয়েছে তার চেয়েও অনেক বেশি শুল্ক এবং তার চেয়েও খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে।” বর্তমানে ভারতীয় রফতানি পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে। প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ  করেছিলেন। গুরুত্বপূর্ণভাবে, রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও তিনি তুলে নিয়েছিলেন (India US Trade Deal)। তবে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসবে না, বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এই প্রেক্ষাপটেই লুটনিকের নীরব সফর। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কি ফের আলোচনা হবে? উত্তর দেবে সময়ই।

     

  • India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করার পর, ট্রাম্প প্রশাসনের শেয়ার করা ভারতের একটি মানচিত্র (India Map) চলে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরালও (Trade Deal) হয়েছে এই মানচিত্রটি। বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (USTR) যে ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করে, তাতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো অঞ্চল এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে (POK) ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই মানচিত্রে আকসাই চিনকেও ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও চিন এই অঞ্চলকে নিজের ভূখণ্ড বলেই দাবি করে।

    নয়া মানচিত্র (India Map)

    অবশ্য ভারতের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না। ভারত বরাবরই বলে আসছে যে কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবু এই মানচিত্র আমেরিকার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে একটি স্পষ্ট বিচ্যুতি নির্দেশ করে। এটি ইচ্ছাকৃতই হোক বা অনিচ্ছাকৃত, পাকিস্তানের উদ্দেশে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ভারতের মানচিত্রের সঙ্গেই সাযুজ্য রাখছে। এর আগে আমেরিকা বা তাদের বিদেশ দফতর যে মানচিত্রগুলি প্রকাশ করত, তাতে সাধারণত পাকিস্তানের আপত্তির কথা মাথায় রেখে পিওকে-কে স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখানো হত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ প্রকাশিত মানচিত্র পাকিস্তানের দাবিকে কার্যত উপেক্ষাই করেছে। এই ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্থির ও অনিশ্চিত অবস্থায় ট্রাম্প নেতৃত্ব এক টালমাটাল সময় পার করার পর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার তাদের সম্পর্ক নতুন করে সাজাচ্ছে। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় সেই শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এশীয় দেশগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন (India Map)।

    ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত

    এছাড়া ট্রাম্প আবারও ভারত ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে দেখার (re-hyphenation) নীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করেন, যা জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শুরু করা ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরাও তা অনুসরণ করে এসেছিলেন। মানচিত্রে লাদাখের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত বিতর্কিত আকসাই চিন অঞ্চলকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও চিন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করে এই অঞ্চলের ওপর দাবি জানিয়ে আসছে (Trade Deal)। প্রসঙ্গত, ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) বারবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর এবং অরুণাচল প্রদেশের ভুল উপস্থাপনার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপে অবশেষে ভারতের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা দ্রুত এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর গৌরব আর্য টুইট করে লেখেন, “মানচিত্রের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো নম্বর। খুব ভালো কাজ (India Map)।”

    পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    আর এক ইউজার লেখেন, “পাকিস্তান, (আসিম) মুনির এবং ওয়াশিংটন সফর নিয়ে প্রচারের পক্ষে এটা একটা বড় ধাক্কা”, যা ইসলামাবাদের ট্রাম্পকে তোষামোদ করার প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে (Trade Deal)। গত ছ’মাসে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তিনবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে দু’বার সাক্ষাৎ করেছেন, যার মধ্যে জুন মাসের একটি বহুল আলোচিত মধ্যাহ্নভোজও রয়েছে। এটি ছিল প্রথমবার, যখন কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন, কোনও বেসামরিক নেতৃত্ব ছাড়াই। এক সাংবাদিক টুইট-বার্তায় লেখেন, “বাণিজ্য গৌণ বিষয়। আসল বিষয় হল, এই মানচিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন, যেখানে পিওকে-কে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হত।”

    অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি

    তবে মধ্য-মার্চে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ভারতের রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে, বিশেষত ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পরে। ভারত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, ওষুধ, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশে ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজের ‘রেড লাইন’ অটুট রেখেছে (India Map)। এখন প্রশ্ন হল, এই মানচিত্র কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সূক্ষ্ম কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা ভারতের দিকে ঝুঁকছে? এটি কি ট্রাম্পের সঙ্গে এক বছরের টানাপোড়েনের পর ভারতকে তুষ্ট করার কৌশল, নাকি নিছকই আমলাতান্ত্রিক অসাবধানতা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এই (Trade Deal) মানচিত্র ভারতকে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সুবিধা দিয়েছে এবং ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ভূখণ্ডগত দাবিকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে (India Map)।

     

  • India EU Relation: ইইউ-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা মোদির, “সব চুক্তির জননী” বললেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট

    India EU Relation: ইইউ-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা মোদির, “সব চুক্তির জননী” বললেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে (India EU Relation) চূড়ান্ত হল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি (Trade Deal)। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একথা জানান। অনিশ্চিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই উভয় পক্ষ এই চুক্তিতে এগিয়েছে। প্রায় দু’দশক ধরে দফায় দফায় আলোচনা চলার পর এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ধীরে ধীরে তার বৃহৎ ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বাজারকে ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করবে। ইইউ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

    বাণিজ্য সচিবের বক্তব্য (India EU Relation)

    বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল সোমবার জানান, ভারত এবং ইইউয়ের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা সফল হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ভারতে ইইউয়ের রফতানি প্রায় দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভারতের পরিষেবা খাতে, বিশেষ করে আর্থিক পরিষেবা, সামুদ্রিক পরিষেবা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাবে ইউরোপীয় সংস্থাগুলি। এতে নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে (India EU Relation)।

    শুল্ক বাতিল বা হ্রাস পাবে

    জানা গিয়েছে, ইইউর পণ্য রফতানির ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণ বাতিল বা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হবে, ইউরোপীয় পণ্যের ওপর বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে, ভারতের পক্ষ থেকে কোনও বাণিজ্যিক অংশীদারকে দেওয়া সবচেয়ে বড় বাজার-উন্মুক্তকরণ, ফলে ইইউ রফতানিকারীদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হবে, আর্থিক ও সামুদ্রিক পরিষেবা-সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইইউ পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক প্রবেশাধিকার, রফতানি আরও দ্রুত ও সহজ করতে শুল্ক প্রক্রিয়া সরলীকরণ, ইউরোপীয় বৌদ্ধিক সম্পত্তি, যেমন ট্রেডমার্ক সুরক্ষা এবং ছোট ও মাঝারি ইউরোপীয় ব্যবসার জন্য আলাদা অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা (Trade Deal)।

    মোদি থেকে উরসুলা— কে কী বললেন?

    ভারত এবং ইইউ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মানুষ একে সব চুক্তির জননী (মাদার অফ অল ডিলস্) বলে অভিহিত করছে। এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপের জনগণের জন্য বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এটি বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ। এই চুক্তিটি বিশ্ব জিডিপির (GDP) ২৫ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,  “এই চুক্তি উৎপাদন এবং পরিষেবা—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের গতি আনবে।” ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “আজ ইউরোপ ও ভারত ইতিহাস সৃষ্টি করছে। আমরা সব চুক্তির জননী স্বাক্ষর করেছি। দুই বিলিয়ন মানুষের জন্য একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি হল, যেখানে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে। এটি কেবল শুরু। আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে (India EU Relation)।” ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে আয়োজিত প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথিদের একজন ছিলেন উরসুলা ফন ডার লায়েন। তিনি অনুষ্ঠান থেকে একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে লিখেছিলেন, “একটি সফল ভারত বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করে তোলে। আর এতে আমরা সবাই উপকৃত হই (Trade Deal)।”

    কবে কার্যকর হবে চুক্তি

    যদিও ভারত এবং ইইউ আলোচনা চূড়ান্ত করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তবে এটি কার্যকর হবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে। এর আগে চুক্তির আইনি দিকটি খতিয়ে দেখতে পাঁচ থেকে ছ’মাস সময় লাগবে। এরপর আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল (India EU Relation)। ভারত এবং ইইউ যখন এই বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে, তখনও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চলছিল। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সংবাদ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ইউরোপীয় দেশগুলি ভারত থেকে পরিশোধিত রুশ তেলজাত পণ্য কিনে কার্যত নিজেদের বিরুদ্ধেই একটি যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে।”

     

  • India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে চলে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল (India US Trade Deal)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে মার্কিন সেনেটর টেড ক্রুজের একটি অডিও রেকর্ডিং। ওই রেকর্ডিংয়ে টেক্সাসের রিপাবলিকান এই সেনেটর বাণিজ্যনীতি ও থমকে থাকা ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি নিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance), হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো এবং কখনও কখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ মিনিটের ওই অডিওটি এক রিপাবলিকান সূত্র শেয়ার করেছে। এটির সময়কাল ২০২৫ সালের শুরু ও মধ্যভাগ। এতে ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে ক্রুজ নিজেকে ঐতিহ্যবাহী, মুক্তবাণিজ্যপন্থী ও হস্তক্ষেপমূলক নীতিতে বিশ্বাসী রিপাবলিকান হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানের বিরোধিতা করেন, যা সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রাইমারির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা (India US Trade Deal)

    অডিওতে ক্রুজ ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা করে সতর্ক করেন যে, এই নীতি মার্কিন অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে শুল্ক আরোপের পর তিনি ও কয়েকজন সেনেটর গভীর রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি ফোনালাপে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তবে সেই আলোচনা ভালোভাবে শেষ হয়নি (India US Trade Deal)। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রুজ দাতাদের জানান মধ্যরাত পেরিয়ে যাওয়া ওই ফোনালাপে ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। ক্রুজ বলেন, “ট্রাম্প সেদিন খুব খারাপ মেজাজে ছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে এমন কথোপকথনেও ছিলাম, যখন তিনি খুব খুশি ছিলেন। কিন্তু এটি সেরকম ছিল না।”

    সতর্ক করেছিলেন প্রেসিডেন্টকে

    ক্রুজ আরও জানান, তিনি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে যদি অবসরভিত্তিক বিনিয়োগ হিসেব ৩০ শতাংশ কমে যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ নেমে আসবে। ক্রুজের ভাষায়, তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, “আপনি প্রতিনিধি পরিষদ হারাবেন, সেনেট হারাবেন, আর পরবর্তী দু’বছর প্রতি সপ্তাহে একবার করে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হবেন (JD Vance)।” এর প্রেক্ষিতে ট্রাম্প খুবই খারাপ কথা বলেছিলেন। ক্রুজ প্রশাসনের শুল্ক আরোপকে ‘লিবারেশন ডে’ বা ‘মুক্তির দিন’ নামে ব্র্যান্ডিং করার বিষয়টিও ব্যঙ্গ করেন। এক দাতা ওই শব্দবন্ধ ব্যবহার করলে ক্রুজ মন্তব্য করেন, তাঁর দলে কেউ এই শব্দটি ব্যবহার করলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করা হত।

    ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ

    ক্রুজের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ। তিনি দাতাদের বলেন, চুক্তিটি এগিয়ে নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং যারা এই ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তাঁদের নামও উল্লেখ করেন (India US Trade Deal)। আমেরিকার অগ্রগতি কে আটকে দিচ্ছে, এই প্রশ্নে ক্রুজ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভারো, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং কখনও কখনও স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামও নেন। রেকর্ডিংয়ে ক্রুজ বারবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে রক্ষণশীল পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কার্লসন বিদেশনীতি বিতর্কে হস্তক্ষেপবিরোধী ও ইহুদিবিদ্বেষী অবস্থানকে উসকে দিচ্ছেন এবং ভ্যান্স মূলত কার্লসনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ক্রুজ বলেন, “টাকারই জেডিকে তৈরি করেছে। জেডি টাকারের শিষ্য, আর তারা দু’জন একই (JD Vance)।”

    যদিও ক্রুজ গত কয়েক মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে কার্লসনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন, এবং অডিও রেকর্ডিংটি দেখায় যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি কার্লসন ও ভ্যান্সের মধ্যে আরও স্পষ্ট ও কঠোর সীমারেখা টেনেছেন, যা প্রকাশ্যে তিনি এতটা স্পষ্ট করেননি, যদিও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই পডকাস্টারের বন্ধুত্ব সুপরিচিত (India US Trade Deal)।

LinkedIn
Share