Tag: Tree Plantation

Tree Plantation

  • Suvendu Adhikari: প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের আগে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযান, বাগবাজার মায়ের ঘাটে সাফাই অভিযানে শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের আগে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযান, বাগবাজার মায়ের ঘাটে সাফাই অভিযানে শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বঙ্গে প্রথম বিজেপি-রাজ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তিনি আসছেন। তাঁর এই সম্ভাব্য সফরের আগে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ কর্মসূচি। বুধবার কলকাতার বাগবাজারের মায়ের ঘাটে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘাট পরিষ্কার করার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দেওয়া (Swachhata Se Swagat Drive) হয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে।

    স্বচ্ছতা অভিযান (Suvendu Adhikari)

    সূত্রের দাবি, ২০ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চলবে এই স্বচ্ছতা অভিযান। প্রধান উদ্দেশ্য পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং গঙ্গার ঘাট-সহ বিভিন্ন জনপরিসরকে জঞ্জালমুক্ত রাখা। বুধবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসক স্মিতা পান্ডে। কর্মসূচির শুরুতে বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে ঘাট পরিদর্শন করে নিজে হাতে ঝাঁটা নিয়ে নেমে পড়েন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত বিজেপির অন্যান্য নেতাও যোগ দেন স্বচ্ছতা অভিযানে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    পরে সাংবাদিকদের নয়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর বৃহত্তর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কোনও একদিনের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সকলের নিয়মিত একটি অভ্যাস হওয়া উচিত। সমগ্র কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও জোর দেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি পরিবেশের পরিচ্ছন্নতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা ও গঙ্গার ঘাটগুলিকে দূষণমুক্ত রাখতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুরো কলকাতা, পুরো রাজ্যকে পরিষ্কার করতে হবে। উন্নয়নও হবে। তার সঙ্গে সঙ্গে স্বচ্ছতাও জরুরি।’’

    পুজো দিয়ে শুরু সাফাই অভিযান

    ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে এই প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে এগোয়নি। ভবিষ্যতে গঙ্গাকে আরও পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।কয়েক দিন আগেই পাঁচ দিনের স্বচ্ছতা অভিযানের ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই বুধবার বাগবাজার মায়ের ঘাট থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সূচনা করা হয় (Swachhata Se Swagat Drive)। এদিন সাফাই অভিযান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বাগবাজার ঘাটের পাশে থাকা মন্দিরে পুজো দেন, প্রার্থনা করেন মা গঙ্গার আশীর্বাদ। এরপরেই হাতে ঝাঁটা নিয়ে সহকর্মী এবং মন্ত্রীদের নিয়ে ঘাট পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছতা উপহার

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যজুড়েই এই ধরনের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে। আমাদের সমাজ ও পরিবেশে স্বচ্ছতার অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় আসছেন। আমরা তাঁকে এই স্বচ্ছতা উপহার দিয়ে কলকাতায় স্বাগত জানাতে চাই।” তৃণমূল সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বিগত সরকারের নেতিবাচক ভাবনার কারণে বাংলায় নমামি গঙ্গা প্রকল্পের কোনও কাজই হয়নি। আমরা আগামী দিনে গঙ্গাকে আরও নির্মল ও দূষণমুক্ত করব। সারা বছর ধরেই এই সাফাই অভিযান ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে জারি থাকবে।” রাজ্যে যে স্বচ্ছতা অভিযান শুরু হবে, তা আগেই জানিয়েছিল নবনির্বাচিত পদ্ম সরকার। সেই মতো এদিন শুরু হয় অভিযান। চলবে পাঁচ দিন ধরে। গঙ্গা পরিষ্কারের পাশাপাশি পরিষ্কার করা হবে কলকাতার প্রতিটি গঙ্গার ঘাটও। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানিয়েছিলেন, ২১ জুন যোগ দিবসে রাজ্যে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে এক স্বচ্ছ কলকাতা উপহার দেওয়া হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর স্বচ্ছ ভারত অভিযান

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। সেই বছরই দেশের শহরগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তোলার পরিকল্পনা সামনে রেখে ২ অক্টোবর স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী (Swachhata Se Swagat Drive)। ঝাঁটা হাতে নিজেই নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়। তখন দিল্লি ভোটের তোড়জোড় চলেছে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালার দল আম আদমি পার্টির নির্বাচনী প্রতীক ঝাঁটা। বস্তুত, এই ঝাঁটা হাতে তুলে নিয়েই পথে নেমে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও সেবার দিল্লির নির্বাচনে তার বিশেষ প্রভাব পড়েনি।

    প্রশংসা কুড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অভিযান

    তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সাফা্ই অভিযান দেশ তো বটেই, বিদেশেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে (Suvendu Adhikari)। এই অভিযানের ১০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছিলেন বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ। তিনি জানিয়েছিলেন, প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই মিশন একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক ছুঁয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল ডঃ টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাসও স্বচ্ছ ভারত অভিযানের দশ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে মোদীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছিলেন (Swachhata Se Swagat Drive)। শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এহেন অভিযানের ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলেন বিল গেটস।

     

  • Heat Wave: নির্বিচারে গাছ কাটা ও অপরিকল্পিত সৌন্দর্যায়নই বাড়াচ্ছে তাপমাত্রা! মত পরিবেশবিদদের

    Heat Wave: নির্বিচারে গাছ কাটা ও অপরিকল্পিত সৌন্দর্যায়নই বাড়াচ্ছে তাপমাত্রা! মত পরিবেশবিদদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে। গর্জন শোনা যাচ্ছে স্পষ্ট। সাদা ফেনা আছড়ে পড়ার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে সারি দেওয়া ঝাউগাছ! সবুজের মাঝে সেই সীমাহীন সমুদ্র দেখাই ছিল দীঘার অন্যতম আকর্ষণ! যদিও সে আকর্ষণ এখন অতীত। কারণ, অধিকাংশ ঝাউবন কেটে ফেলেছে রাজ্য সরকার। তার জায়গায় হয়েছে সৌন্দর্যায়ন! গাছ কেটে বসানো হয়েছে পাথরের মূর্তি, পাথরের ফুটবল! সবুজ গাছের জায়গা নিয়েছে সিন্থেটিক ঘাস! 

    গাছ কাটা নির্বিচারে হয়েছে রবি ঠাকুরের শান্তিনিকেতনেও! শান্তিনিকেতন চত্বরের পাশাপাশি গোয়ালপাড়া, তপোবনেও বড় গাছ কেটে বসেছে ‘আই লাভ শান্তিনিকেতন’ ফলক! 
    বাদ যায়নি কলকাতাও! যাদবপুর-গল্ফ গ্রিন থেকে শোভাবাজার কিংবা হাওড়া, সর্বত্র পাথরের নানা মূর্তি আর বাগান সাজানোর জন্য গত কয়েক বছরে নির্বিচারে কাটা হয়েছে গাছ! আর বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এতেই বাড়ছে বিপদ (Heat Wave)! 

    রাজ্যে গাছ লাগানোর কোনও উদ্যোগই নেই

    গত কয়েক বছরে রাজ্যে তাপমাত্রার পারদ বেড়েছে। কিন্তু সরকারের তরফে গাছ লাগানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং গাছ কাটা হয়েছে একাধিক জায়গায়! দিল্লি, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরুর মতো শহরের থেকেও এ বছরে কলকাতার তাপমাত্র বেশি। তার কারণ হিসাবে বনস্পতি নিধন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন, যে কোনও বড় শহরে বর্তমানে উন্নয়ন পরিকল্পনায় গাছ লাগানো, বিশেষত বড় গাছ লাগানো আবশ্যক হয়ে উঠছে। সেই পথে হেঁটেছে দিল্লি, বেঙ্গালুরুর মতো শহর। গত দশ বছরের প্রচেষ্টার ফল তারা এখন পাচ্ছে। কিন্তু গত দশ বছরে শুধুমাত্র কলকাতা শহরে যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে, তার এক শতাংশও লাগানো হয়নি। এ নিয়ে সরকারের বিশেষ উদ্যোগও নেই। 

    বাঙ্গুর, লেকটাউন থেকে শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক অথবা যাদবপুর, গল্ফ গ্রিনের মতো কলকাতার যেসব এলাকায় তুলনামূলকভাবে বেশি গাছ ছিল, সেখানে অধিকাংশ জায়গায় এখন নানারকম মূর্তি, ফোয়ারা লাগিয়ে সাজানো হচ্ছে! ফলে পরিস্থিতি (Heat Wave) আরও ভয়ানক হচ্ছে! পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন, বড় গাছ শুধু ছায়ার আরাম দেয় না, বড় গাছ সূর্যের তেজকেও সরাসরি আসা থেকে আটকায়। ফলে সামগ্রিক তাপমাত্রা কম থাকে। সকাল থেকে যেভাবে রোদের তাপে (Heat Wave) মানুষ পুড়েছে, তা একমাত্র বড় গাছ আটকাতে পারে। রাস্তার পাশে গাছ লাগানোর তেমন কোনও উদ্যোগ গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকার নেয়নি। এমনকী বেশ কিছু জায়গায় নির্বিচারে গাছ কাটা হলেও সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। বন দফতরকে জানিয়েও বিশেষ ফল পাওয়া যায়নি। 

    সবটাই সরকারের অপরিকল্পিত নীতির ফল?

    গত কয়েক বছর ধরেই বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আবার কিছু জায়গায় অতি বৃষ্টিতে বন্যা হচ্ছে। সবটাই হচ্ছে সরকারের অপরিকল্পিত নীতির জন্য, এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। 
    বড় গাছের বিকল্প কখনই বাগান করা, বিশেষত সিন্থেটিক ঘাসের বাগান হতে পারে না বলেই স্পষ্ট মত বিশেষজ্ঞদের। রাজনৈতিক মহল অবশ্য মনে করছে, শহর থেকে জেলা- যত্রতত্র এই সৌন্দর্যায়নের পিছনেও রয়েছে দুর্নীতির আঁচ। এই সৌন্দর্যায়নের নামে যে মূর্তি কিংবা ফোয়ারা তৈরি হয়, কারা সেগুলো তৈরি করছেন, নিয়ম মাফিক টেন্ডারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থা কাজ পাচ্ছে কি না, সে নিয়েও প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ! 

    বিশেষজ্ঞদের সতর্কবাণী, নির্বিচারে গাছ কাটা এবং গাছ না লাগিয়ে শহরের উন্নয়নের নামে যা হচ্ছে, তার ফল ভুগতে হবে পরবর্তী প্রজন্মকে!

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share