Tag: Tribal Communities

  • Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে উৎসবের আবহ। ৭৫ দিন ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী বস্তার দশেরা উৎসবকে কেন্দ্র করে জড়ো হচ্ছেন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। গত ১২ অগস্ট পাট যাত্রার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে ২৭ অক্টোবর মা দন্তেশ্বরীর বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে (Bastar Dussehra Celebration)। উৎসবে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে বস্তারে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছয় শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন এই উৎসব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের দশেরা উদ্‌যাপনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে রাবণবধ নয়, বরং বস্তারের আরাধ্য দেবী মা দন্তেশ্বরীর পুজোই উৎসবের মূল আকর্ষণ। বস্তারের রাজপরিবারের কুলদেবী মা দন্তেশ্বরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের সূচনা। কাকতীয় রাজবংশের আমলে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য আজও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বহমান। বস্তারের আদিবাসী সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক ঐক্যের সঙ্গে এই উৎসব গভীরভাবে জড়িত (Red Terror Eradication)।

    নানা আচার-অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ বস্তার দশেরা (Bastar Dussehra Celebration)

    পাটযাত্রা, রথযাত্রা, কাঞ্চন গাদি এবং মুরিয়া দরবার—একাধিক প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় বস্তার দশেরা। পাশাপাশি থাকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের হরিয়ালি অমাবস্যায় পবিত্র কাঠের আনুষ্ঠানিক পুজো, অর্থাৎ পাটযাত্রার মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। বস্তার অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দেবদেবী, পুরোহিত ও কারিগরেরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    উৎসবের দিনগুলিতে তৈরি করা হয় বিশাল রথ। জগদলপুর শহরজুড়ে চলে শোভাযাত্রা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। বিভিন্ন গ্রামের আরাধ্য দেবদেবীর সমাবেশও এই উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    উৎসবের শেষ পর্বে আয়োজিত হয় মুরিয়া দরবার। মূল রথযাত্রা ও দশেরার প্রধান আচার-অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জগদলপুরে এই বিশেষ সমাবেশ বসে। ঐতিহ্যগতভাবে মুরিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা রাজদরবারে নিজেদের সমস্যা ও সামাজিক বিষয়গুলি তুলে ধরতেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজদরবারের প্রশাসনিক ভূমিকা আর না থাকলেও, মুরিয়া দরবার বস্তারের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো, জনসংলাপ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

    নকশাল আতঙ্ক কাটিয়ে উৎসবে ফিরছেন মানুষ

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল হিংসার কারণে বস্তারের বহু গ্রামের মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে পারতেন না। সুকমা, বিজাপুর ও নারায়ণপুরের মতো সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার বহু জনপদ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মাওবাদী হিংসার ছায়ায় বছরের পর বছর উৎসবের চেনা জৌলুসও ব্যাহত হয়েছে।

    তবে এ বছর পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। একসময় নকশাল-প্রভাবিত প্রায় ৫০টি গ্রামের দেবদেবী প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক বস্তার দশেরা উৎসবে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার দেশে নকশালবাদ অবসান করার কথা ঘোষণা করার পর এই অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল সমস্যায় জর্জরিত অঞ্চলের আদিবাসীরা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নিরাপত্তা অভিযান, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় মাওবাদী প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    গত বছর জগদলপুরে বস্তার দশেরা উৎসবে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছিলেন। মাওবাদী মতাদর্শে যুক্ত স্থানীয় আদিবাসীদের অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার আহ্বানও জানান তিনি। নকশালমুক্ত ঘোষিত প্রতিটি গ্রামকে এক কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল রাজ্য সরকার (Bastar Dussehra Celebration)।

    নকশাল দমনে অভিযান, নিরাপত্তা জোরদার

    নকশালবাদের অবসান ঘটাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, কেন্দ্র ও রাজ্যের বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ ছিল সেই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিকে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নকশাল দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী, বিশেষ কোবরা ইউনিট, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং রাজ্য পুলিশকে বিভিন্ন নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়। তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উপগ্রহচিত্রের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।

    এই অভিযানে একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রধান নাম্বালা কেশব রাও, যিনি বাসবরাজু নামেও পরিচিত, এবং মাওবাদী কমান্ডার মাডভি হিডমা। তাঁদের মৃত্যুর ফলে মাওবাদী সংগঠনগুলির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধাক্কা খায়।

    ছত্তিশগড় ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানার নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি মাওবাদীদের আর্থিক জোগানের পথ বন্ধ করতে তল্লাশি ও তদন্ত চালায় সরকারি সংস্থাগুলি। বিভিন্ন অভিযানে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে বহু মাওবাদী সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করেছেন, আবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অনেকে নিহতও হয়েছেন।

    জঙ্গলের জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের জীবনেও দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের অগাস্টে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি আদিবাসী পোশাক প্রদর্শনীতে অংশ নেন মাওবাদী মতাদর্শের সঙ্গে একসময় যুক্ত কয়েকজন মহিলা। জাতীয় তাঁত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক পরে মঞ্চে হাঁটেন।

    একসময় যাঁদের হাতে অস্ত্র নিয়ে নকশাল-প্রভাবিত জঙ্গলে ঘুরতে হত, তাঁদের কাছে এই অংশগ্রহণ ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। মাওবাদী সংগঠন ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার ফলে তাঁরা নতুন করে সামাজিক জীবন গড়ে তোলার সুযোগ (Red Terror Eradication) পাচ্ছেন।

    উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। চলতি বছরের এপ্রিলে নারায়ণপুর জেলার একটি দুর্গম গ্রামে প্রথমবার নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছয়। নকশাল হুমকির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত ছিল। মাওবাদী প্রভাবের জেরে বহু আদিবাসী গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    নকশাল হিংসা কমার পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, পানীয় জল ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে (Bastar Dussehra Celebration)।

    সব মিলিয়ে, বস্তার দশেরায় এ বছর প্রায় ৫০টি প্রাক্তন নকশাল-প্রভাবিত গ্রামের দেবদেবীদের অংশগ্রহণ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের পরিসর বাড়ায়নি, বরং দীর্ঘ সংঘাতের পর ওই অঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছয় শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব তাই এ বছর সাংস্কৃতিক উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বস্তারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিরও প্রতীক হয়ে উঠেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির পর খুলে গেল গুজরাটে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকরের আনুষ্ঠানিক পথ। উত্তরাখণ্ডের পর গুজরাটই ভারতের দ্বিতীয় রাজ্য, যেখানে এই বিধি কার্যকর করার অনুমোদন মিলল। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া বিধিটি ১ অক্টোবর রাজ্যের সরকারি বিশেষ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেওয়া হয়েছিল (Gujarat) ১৭ সেপ্টেম্বর। তবে বিধিটি কবে থেকে কার্যকর হবে, সেই তারিখ রাজ্য সরকার নির্ধারণ করবে। চলতি বছরের মার্চে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা শেষে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ করে গুজরাট বিধানসভা।  ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। এই বিধিতে ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং বিবাহবহির্ভূত সহবাসের মতো বিষয়গুলির জন্য একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গুজরাটের আইনটি মূলত উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আদলে তৈরি। তবে তফশিলি উপজাতি এবং সংবিধানের ২১তম অংশের অধীনে প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত থাকা কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এই আইনের আওতার বাইরে থাকবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Uniform Civil Code)

    মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল বলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। তাঁর কথায়, “এই বিল গুজরাটের বোন ও মেয়েদের জন্য আনা হয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়েছে। এই বিল নিশ্চিত করছে যে কোনও সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না। এটি কারও অধিকার কেড়ে নেয় না বা কারও স্বাধীনতায় বাধা দেয় না।”

    তবে বিরোধীরা বিলটির বিরোধিতা করে দাবি করেছে, এতে মূলত সাম্প্রদায়িক বিষয়গুলিই গুরুত্ব পেয়েছে এবং এর মাধ্যমে শাসক দলের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ হবে। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অসন্তোষ মোকাবিলায় বিলটি দ্রুত পাশ করানো হয়েছে।

    বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গুজরাটের কংগ্রেস বিধায়ক ইমরান খেদাওয়ালা বলেন, “এই বিল আমাদের সমাজের বিরুদ্ধে এবং এতে আমাদের কোনও উপকার হবে না। আমরা কোরান ও শরিয়তে বিশ্বাস করি, তাই আমরা এই বিলের বিরোধিতা করছি। সরকার যদি মুসলিম মহিলাদের নিয়ে সত্যিই উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে বিলকিস বানোর প্রতি ন্যায়বিচার করা এবং তাঁর অভিযুক্তদের দেওয়া সংবর্ধনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

    আম আদমি পার্টির অভিযোগ

    আম আদমি পার্টির বিধায়ক ছতার বাসাভানের অভিযোগ, শুধুমাত্র নির্বাচনী স্বার্থেই সরকার এই বিল এনেছে। নতুন অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়েও স্পষ্টতা নেই বলে দাবি করেন (Uniform Civil Code) তিনি। আম আদমি পার্টির এই বিধায়ক বলেন, “কিছু বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। অন্য সম্প্রদায়ের কাউকে বিয়ে করা আদিবাসী মহিলাদের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য হবে, সরকার তা স্পষ্ট করেনি।”

    গুজরাটের এই আইনটি বিবাহবহির্ভূত সহবাসের সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই ধরনের সম্পর্কে জন্ম নেওয়া সন্তানের অধিকার, উত্তরাধিকার, বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন আনছে। বিধানসভায় বিলটি পাশের সময় বিরোধী কংগ্রেস বিধায়করা স্পিকারকে এটি নির্বাচিত কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন (Gujarat)।

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। ২০২২ সালের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারেও ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল এই বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকর করা।

     

  • Bengal Missionary Activities: আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মান্তর করছেন মিশনারিরা! অভিযোগে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনা

    Bengal Missionary Activities: আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মান্তর করছেন মিশনারিরা! অভিযোগে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদিবাসী ও আর্থিকভাবে দুর্বল হিন্দু পরিবারগুলির ধর্মান্তরকরণ ঘিরে অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টান মিশনারি কার্যকলাপ (Bengal Missionary Activities)। উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট এলাকায় ধর্মান্তরকরণ এবং বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের সঙ্গে ক্ল্যারেটিয়ান মিশনারিদের বচসা ও উত্তেজনার অভিযোগ সামনে এসেছে (Foreign Funding Row)। পাল্টা মিশনারিদের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো ও হুমকির অভিযোগ জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।

    অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ (Bengal Missionary Activities)

    ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুর ডাওসিসের অধীনস্থ ন্যাজাটের ক্ল্যারেট প্রেমালয় মিশন কেন্দ্রে। মিশন কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নথিভুক্ত করে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখার আশ্বাস দেয়। অভিযোগ দায়েরের সময় পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় মিশনারি কার্যকলাপ, ধর্মান্তর এবং বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের একাধিক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং হিন্দু সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ করা হলেও মিশনারি সংগঠনগুলি বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে। তাদের দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ধর্মীয় সেবা এবং মানবিক সহায়তার মধ্যেই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ।

    মিশন কেন্দ্রে গিয়ে কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন

    মিশনারিদের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই প্রায় আটজন স্থানীয় ব্যক্তি ন্যজটের ওই মিশন চত্বরে যান। সেখানে তাঁরা মিশনের সঙ্গে যুক্ত ধর্মযাজকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকায় তাঁদের কার্যকলাপ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে চান, ওই এলাকায় কতগুলি ক্যাথলিক পরিবার বসবাস করে, মিশনের মূল কাজ কী এবং কী ধরনের কার্যকলাপ সেখানে পরিচালিত হয়। কথাবার্তার এক পর্যায়ে মিশনের বিরুদ্ধে দরিদ্র আদিবাসী ও হিন্দু পরিবারগুলিকে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগও তোলা হয়। মিশনের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ মিশনারি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও মেলেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে ধর্মপ্রচার ও ধর্মান্তরকরণ নিয়ে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, এই ঘটনায় তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও মিশনারি সংগঠনগুলির মধ্যে বিরোধের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

    সাত দিনের মধ্যে মিশন ছাড়ার হুমকির অভিযোগ

    মিশনারিদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দলের এক সদস্য নিজেকে স্থানীয় কাউন্সিলর পরিচয় দিয়ে মিশন কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে জায়গা খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিশনারিরা সেখান থেকে চলে না গেলে বাইরে থেকে মিশনের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। যদিও ঘটনাস্থলে কোনও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি, মিশনারিদের দাবি, চলে যাওয়ার আগে ওই ব্যক্তিরা মিশন চত্বরের ভবন এবং সেখানে থাকা যানবাহনের ছবি তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ে বারুইপুরের বিশপ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করার পর ক্ল্যারেটিয়ান মিশনারিদের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়ে মিশনে যায় পুলিশ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। নজর রাখা হচ্ছে পরিস্থিতির ওপর। গ্রেফতারির কোনও খবর এখনও নেই। অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    সন্দেশখালিতেও একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ

    ন্যাজাটের ঘটনার এক দিন আগে সন্দেশখালিতেও এক খ্রিস্টান ধর্মযাজককে ঘিরে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছে বিভিন্ন খ্রিস্টান সংগঠন। তাদের বক্তব্য, সেখানেও এক স্থানীয় মিশনারিকে বিদেশি অর্থে পরিচালিত কার্যকলাপ এবং ধর্মপ্রচারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। খ্রিস্টান সংগঠনগুলির দাবি, দুই ঘটনায়ই একই ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রকাশ করা কয়েকটি ভিডিয়োয় এক ব্যক্তিকে এক ধর্মযাজকের সঙ্গে বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করতে এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলতে দেখা গিয়েছে বলে সংগঠনগুলির দাবি। যদিও ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি। ফলে ভিডিয়োয় দেখা ব্যক্তি বা উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে (Bengal Missionary Activities) নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।

    ধর্মান্তর নিয়ে পুরনো বিতর্ক ফের সামনে

    ন্যাজাটের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকলাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কিছু মিশনারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে আদিবাসী ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির মধ্যে ধর্মান্তরকরণের কাজ চালাচ্ছে। যদিও মিশনারি সংগঠনগুলি এই অভিযোগ প্রথম থেকেই অস্বীকার করে এসেছে। তাদের বক্তব্য, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া, ধর্মীয় দায়িত্ব পালন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানই তাদের মূল উদ্দেশ্য। ধর্মান্তরকরণের অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন বলেই এবারও দাবি করেছে। ফলে ধর্মান্তর নিয়ে অভিযোগ এবং মিশনারি সংগঠনগুলির পাল্টা বক্তব্য—দু’পক্ষের দাবির মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে আদিবাসী ও গ্রামীণ এলাকায় এই প্রশ্নটি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে (Bengal Missionary Activities)।

    বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন

    ধর্মান্তরের পাশাপাশি বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ কীভাবে খরচ করা হচ্ছে, তা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবেদনশীল আদিবাসী ও গ্রামীণ এলাকায় কাজ করা মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক লেনদেন এবং কার্যকলাপে আরও স্বচ্ছতার দাবি জানানো হয়েছে। ন্যাজাটের ঘটনায়ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের অন্যতম বিষয় ছিল বিদেশি অর্থের ব্যবহার। তবে কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, কিংবা বিদেশি অর্থ আদৌ ধর্মান্তরকরণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ অভিযোগের অন্যান্য দিকের পাশাপাশি এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Foreign Funding Row)।

    তদন্তের দিকেই নজর

    ন্যাজাটের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মিশনারিদের অভিযোগ নিয়েছে, এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও নথিভুক্ত করা হয়েছে। এখন তদন্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং মিশনারিদের পাল্টা অভিযোগ—দুই দিকই কতটা সত্য, তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা। ধর্মান্তরকরণের অভিযোগের আদৌ বাস্তব ভিত্তি রয়েছে কি না, বিদেশি অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিশনারিদের বিরোধের প্রকৃত কারণ কী এবং মিশন খালি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না—এই বিষয়গুলিই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রসঙ্গত, ঘটনাটি এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন ধর্মান্তর এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই চলছে (Foreign Funding Row) বিতর্ক। ফলে উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাটের এই ঘটনা আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি (Bengal Missionary Activities) করে কি না, সেটাই দেখার।

     

  • Kiren Rijiju: গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ঘিরে রাহুলকে নিশানা, “পরিবেশের অজুহাতে উন্নয়ন আটকে দেওয়ার চেষ্টা”, তোপ রিজিজুর

    Kiren Rijiju: গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ঘিরে রাহুলকে নিশানা, “পরিবেশের অজুহাতে উন্নয়ন আটকে দেওয়ার চেষ্টা”, তোপ রিজিজুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রেট নিকোবর দ্বীপের বহুচর্চিত উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ফের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju)। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে (Great Nicobar Project) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, রাহুলের স্কুবা ডাইভিং সফরকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে পরিবেশগত উদ্বেগের প্রচার চালানো হয়েছে।

    রাহুলের স্কুবা ডাইভিং সফরে ব্যয় ২৬ কোটি! (Kiren Rijiju)

    রিজিজু বলেন, “রাহুল গান্ধীর স্কুবা ডাইভিং সফরের জন্য প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। সেই সফর ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত উদ্বেগের সঙ্গে গ্রেট নিকোবর উন্নয়ন প্রকল্পকে যুক্ত করে জনমত গঠনের চেষ্টাও করা হয়।” মন্ত্রীর দাবি, গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের বিরোধিতা প্রকৃতপক্ষে পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়। তাঁর মতে, পরিবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগকে সামনে রেখে এমন একটি প্রকল্পের কাজ আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যতে ভারতের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে। তিনি বলেন, “দেশে বড় ধরনের পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত গোষ্ঠী কাজ করে। তারা পরিবেশগত ইস্যু তুলে ধরে জনমত তৈরি করে, চেষ্টা করে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতিতে বাধা দেওয়ার।” রিজিজু বলেন, “ভারতের পরিবেশ সংক্রান্ত আইন অত্যন্ত কঠোর এবং কোনও সরকার ইচ্ছেমতো বনাঞ্চল, সামুদ্রিক পরিবেশ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করতে পারে না। প্রতিটি বড় প্রকল্পই প্রয়োজনীয় পরিবেশগত মূল্যায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়।”

    রাহুলকে নিশানা মন্ত্রীর

    তাঁর দাবি, প্রকল্পের সমালোচকেরা অনেক অভিযোগ তুললেও, তার পক্ষে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি। শুধু তাই নয়, প্রকল্পে যে পরিবেশগত সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেটিও তাঁরা উপেক্ষা করছেন। গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের ফলে দ্বীপের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব পড়তে পারে— এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিয়েছেন রিজিজু। বলেন, “শম্পেন, নিকোবারিজ, গ্রেট আন্দামানিজ, জারোয়া এবং সেন্টিনেলিজ-সহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (Great Nicobar Project)।” তাঁর বক্তব্য, অতীতেও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কারণে এই সম্প্রদায়গুলির জীবনযাত্রায় কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, ভবিষ্যতেও তাদের অধিকার ও সংস্কৃতি সুরক্ষিত রাখা হবে (Kiren Rijiju)। রিজিজুর মতে, পরিবেশ সংরক্ষণ, আদিবাসী কল্যাণ, শিল্পোন্নয়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন— এই চারটি বিষয় একসঙ্গেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি জানান, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। রাহুলকে সরাসরি নিশানা করে রিজিজু বলেন, “উনি শুধুমাত্র বৃহত্তর একটি ‘ইকোসিস্টেমে’র অংশ, যারা জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রকল্পের বিরোধিতা করে।” মন্ত্রীর দাবি, বাঁধ, জাতীয় সড়ক, খনি বা অন্যান্য বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায়। পরিবেশ রক্ষার নামে মামলা, আন্দোলন এবং প্রচারাভিযান চালিয়ে প্রকল্পগুলিকে দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।

    ব্লু ইকোনমি

    সাক্ষাৎকারে ভারতের সামুদ্রিক সম্পদের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রিজিজু। বলেন, “দেশের ‘ব্লু ইকোনমি’কে শক্তিশালী করতে সমুদ্রভিত্তিক সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার প্রয়োজন (Kiren Rijiju)।” কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ডিপ ওশান মিশনে’র উল্লেখ করেন মন্ত্রী জানান, ভারত বর্তমানে সমুদ্রের প্রায় ৫,০০০ মিটার গভীর পর্যন্ত অনুসন্ধান চালানোর ক্ষমতা অর্জনের পথে দ্রুত এগোচ্ছে। ভারত মহাসাগরের খনিজ ও অন্যান্য সম্পদের অনুসন্ধান দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি করবে (Great Nicobar Project)।

    বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা

    পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী হিসেবে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান রিজিজু। বলেন, “সরকারের সমালোচনা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ, এবং আমি একে স্বাগত জানাই।” তবে জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার না করার আহ্বানও জানান মন্ত্রী। রাহুলের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা উচিত। রিজিজুর কথায়, “গণতন্ত্রে মতবিরোধ স্বাভাবিক (Great Nicobar Project)। কিন্তু দেশের অগ্রগতি এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলির সহযোগিতামূলক মনোভাবও থাকা প্রয়োজন (Kiren Rijiju)।”

     

LinkedIn
Share