Tag: Tribal welfare

  • Suvendu Adhikari: ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ, জনজাতি কল্যাণে গুচ্ছের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ, জনজাতি কল্যাণে গুচ্ছের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়গ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার লোধা-শবর অধ্যুষিত কালাঝাড়িয়া গ্রামে বিশেষ উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম ওই গ্রামে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিলেন তিনি। জনজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাপ্তাহিক পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, জনজাতি পড়ুয়াদের বৃত্তি, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, কর্মসংস্থান এবং আবাস যোজনার মতো (Lodha Shabar Tribes) একাধিক বিষয় উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

    বাড়ি বাড়ি পুষ্টিকর খাদ্য (Suvendu Adhikari)

    চলতি রাজ্য বাজেটে জনজাতি পরিবারের হাতে বিশেষ খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়ার যে ঘোষণা করা হয়েছিল, এদিন কালাঝাড়িয়া থেকেই তার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে জনজাতি পরিবারের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে পুষ্টিকর খাবারের প্যাকেট। রেশন ব্যবস্থার বাইরে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে দেওয়া এই প্যাকেটে থাকবে চাল, ডাল, তেল ও সয়াবিন। এই প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪৫ হাজার এবং ঝাড়গ্রামের ২৫ হাজার পরিবার উপকৃত হবে। এর পাশাপাশি, লোধা-শবর জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ খাদ্য প্যাকেট বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলার ২ লাখ পড়ুয়াকে ৮০০ টাকা করে তফসিলি উপজাতি বৃত্তি দেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। আদিবাসী মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা চালুর পাশাপাশি ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা এবং নতুন জবকার্ড দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৯০৩ জন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন।

    আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ

    পূর্ববর্তী সরকারের আমলের দুর্নীতি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে বর্তমান সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনা’ করেছে। আগের সরকারের আমলে প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়া ২৬ হাজার ৭০০ জনের মধ্যে বহু ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করে বাড়ি তৈরির পরিবর্তে গরুর গোয়ালঘর দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে ১৭ হাজার ৯৮৩ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে।

    মাও-হিংসার দিনগুলির স্মৃতিচারণ

    জঙ্গলমহলের অতীত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় মাওবাদী ও সিপিএমের আমলে এই অঞ্চলে চরম অত্যাচার চলত। হাঁসদা, সোরেন, টুডু, মুর্মু, মাঝি, সিং ও মাহাতোদের মতো জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষকে মাওবাদী তকমা দিয়ে নির্যাতন করা হত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি লাগাতার লড়াই করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ২০০৯ সালের নির্বাচনে জঙ্গলমহলে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় দেশবিরোধী শক্তি ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছিল। সেই সংকট কাটিয়ে বর্তমানে জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরেছে বলেও দাবি করেন (Suvendu Adhikari) তিনি।

    ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের নির্দেশ

    পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। তাঁর দাবি, আগের সরকার পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে নামমাত্র কাজ করেছিল। তবে বর্তমান সরকার এই অঞ্চলকে কোনওভাবেই বঞ্চিত করবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের দায়িত্ব বর্তমানে তাঁর নিজের হাতে রয়েছে। আগামী ছ’মাসের মধ্যে ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের জন্য জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন (Lodha Shabar Tribes) তিনি। ১২ নভেম্বর বাঁকুড়ায় বাঁধনা পরবে যোগ দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।

    জনজাতি ও প্রান্তিক মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, পুষ্টি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আবাসনকে সামনে রেখে একাধিক ঘোষণার মধ্যে দিয়ে ঝাড়গ্রাম জেলার উন্নয়নে রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • President Murmu: “সময় নেই”, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রপতির দফতরের

    President Murmu: “সময় নেই”, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রপতির দফতরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সময় নেই”। ঠিক এই ভাষায়ই তৃণমূলের (TMC) এক প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Murmu) দফতর। এর আগে তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখে দলের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। প্রতিনিধি দলটি পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তবায়িত বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরতে চেয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে সময়ের অভাবের কারণ দেখিয়ে তৃণমূলের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। প্রথমবার অনুরোধের পর দলটি নাকি পরের সপ্তাহে আর একটি সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। সেই প্রস্তাবটিও নাকচ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তৃতীয়বার আবেদন করেছে তৃণমূল।

    রাষ্ট্রপতির অসন্তোষ প্রকাশ (President Murmu)

    এই ঘটনা ঘটেছে রাষ্ট্রপতি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। সম্প্রতি শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত আদিবাসী কল্যাণ সম্মেলনে মতবিরোধের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, প্রশাসন যে জায়গাটি অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন করেছে, তা আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসস্থানের থেকে অনেক দূরে। তাই সবাই আসতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি খুব দুঃখিত যে এখানে অনেক মানুষ সম্মেলনে পৌঁছতে পারেননি।  কারণ অনুষ্ঠানটি এত দূরে আয়োজন করা হয়েছিল।” রাষ্ট্রপতির (President Murmu) ইঙ্গিত, “প্রশাসন হয়ত ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি জায়গা নির্বাচন করেছে, যাতে মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত হয়।”

    ‘লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি এও জানান, তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সদস্যদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি যখন কোনও জায়গায় যান, তখন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদেরও সেখানে থাকা উচিত।” নিজেকে ‘বাংলার মেয়ে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ‘ছোট বোন’ বলে সম্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি কি ইচ্ছাকৃত ছিল?” বাংলা সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অসম্মান’ নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরব হন। এক্স হ্যান্ডেলে  প্রধানমন্ত্রী একটি পোস্টে শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগকে ‘লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির মন্তব্য দেশবাসীকে ব্যথিত করেছে। তৃণমূল (TMC) সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির (President Murmu) পদকে যথাযথ সম্মান না দেখানোর অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

    মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির এহেন (TMC) মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই জাতীয় মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন তাঁর পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন মন্তব্য না করেন। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সমস্যা তুলে ধরলেও, অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিষয়গুলি উপেক্ষা করেছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় আদিবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এই বিতর্কে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি।  বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। নবম  আন্তর্জাতিক সাঁওতালি সম্মেলনের ভেন্যু বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে  লিখেছেন, “সংবিধানিক মর্যাদা ও আদিবাসী সম্মানের প্রতি দৃষ্টান্তহীন আক্রমণ। স্পষ্টতই তৃণমূল সরকারের  শাসনের পতনের চিহ্ন।” বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি কী বলছেন সেটা আমরা সবাই দেখেছি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলছেন দুটোকে পাশাপাশি রাখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কে দায়ী। বুঝতে পারবেন কে সংবিধানের এক্তিয়ারের মধ্যে বলেছে, আর কে সংবিধানের বাইরে গিয়ে বলেছে। ভারতবর্ষের মতো রাষ্ট্র বলে হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে যাচ্ছেন। অন্য দেশ হলে এতক্ষণে জেলের ভিতরে থাকতেন।” মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু তৃণমূলকে নিশানা করলেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি কত নম্রভাবে বলেছেন, মমতা আমার বোনের মতো। আর মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতি করছেন।” রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানো হল না বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, “দ্রৌপদী মুর্মু যখন রাষ্ট্রপতি হন, তখন সবাই কত খুশি হয়েছিলেন। এ রাজ্যের আদিবাসীরাও আনন্দিত হন। আজ সবকিছু ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হল।”

LinkedIn
Share