Tag: trump administration

  • Iran War: নিষেধাজ্ঞা শিথিল আমেরিকার, ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় রিফাইনারির

    Iran War: নিষেধাজ্ঞা শিথিল আমেরিকার, ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় রিফাইনারির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। তাই ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ফের ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিরাও এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে শনিবার জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতের তিনটি রিফাইনিং সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশ ও ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থপ্রদানের শর্ত-সহ অন্যান্য বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

    ইরানি তেল কেনার ছাড়পত্র (Iran War)

    এশিয়ার অন্যান্য বড় তেল আমদানিকারী দেশের তুলনায় ভারতে তেলের মজুত কম। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি রাশিয়ান তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারতীয় রিফাইনারিগুলি দ্রুত রাশিয়ান তেল বুকিং করতে শুরু করে। এ বিষয়ে অবশ্য ভারত সরকারের কোনও মন্তব্য আপাতত মেলেনি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন জানিয়েছেন, এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিগুলিও ইরানি তেল কেনা সম্ভব কিনা তা যাচাই করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এই ছাড় প্রযোজ্য হবে এমন সব তেলের ক্ষেত্রে, যা ২০ মার্চের মধ্যে কোনও জাহাজে তোলা হয়েছে এবং ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করা হবে। এই তথ্য জানিয়েছে অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (OFAC)। যুদ্ধ শুরুর পর এটি তৃতীয়বারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল।

    হ্রাস পাচ্ছে জ্বালানি রফতানি

    কেপলারের সিনিয়র ডেটা ম্যানেজার ইম্যানুয়েল বেলোস্ত্রিনোর মতে, বর্তমানে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে রয়েছে। এগুলি মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগর থেকে শুরু করে চিনের নিকটবর্তী জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে রয়েছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টস নামের পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ১৯ মার্চ জানিয়েছিল, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেলের মধ্যে, যা বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম। এশিয়া তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। এই মাসে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় অঞ্চলের রিফাইনারিগুলি উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এবং জ্বালানি রফতানিও হ্রাস পাচ্ছে।

    কেপলারের তথ্য

    ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর থেকে চিন ইরানের প্রধান ক্রেতা হয়ে ওঠে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চিনের স্বাধীন রিফাইনারিগুলি দৈনিক ১৩.৮ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে। কারণ অধিকাংশ দেশ নিষেধাজ্ঞার কারণে এই তেল এড়িয়ে চলে এবং এতে বড় ধরনের মূল্যছাড় পাওয়া যায়। ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে। যেমন, অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং এর বড় অংশ পুরনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে। এছাড়া, আগে যারা ইরানি তেল কিনত, তাদের অনেকেরই জাতীয় ইরানি তেল কোম্পানির (NIOC) সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের পর ইরানি তেলের বড় অংশ তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “নিয়মনীতি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সবাই যত দ্রুত সম্ভব এগোতে চাইবে।” উল্লেখ্য যে, কোম্পানির নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিল। চিন ছাড়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আগে ইরানি তেলের বড় ক্রেতাদের মধ্যে ছিল ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান এবং তুরস্ক।

     

  • India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করার পর, ট্রাম্প প্রশাসনের শেয়ার করা ভারতের একটি মানচিত্র (India Map) চলে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরালও (Trade Deal) হয়েছে এই মানচিত্রটি। বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (USTR) যে ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করে, তাতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো অঞ্চল এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে (POK) ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই মানচিত্রে আকসাই চিনকেও ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও চিন এই অঞ্চলকে নিজের ভূখণ্ড বলেই দাবি করে।

    নয়া মানচিত্র (India Map)

    অবশ্য ভারতের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না। ভারত বরাবরই বলে আসছে যে কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবু এই মানচিত্র আমেরিকার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে একটি স্পষ্ট বিচ্যুতি নির্দেশ করে। এটি ইচ্ছাকৃতই হোক বা অনিচ্ছাকৃত, পাকিস্তানের উদ্দেশে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ভারতের মানচিত্রের সঙ্গেই সাযুজ্য রাখছে। এর আগে আমেরিকা বা তাদের বিদেশ দফতর যে মানচিত্রগুলি প্রকাশ করত, তাতে সাধারণত পাকিস্তানের আপত্তির কথা মাথায় রেখে পিওকে-কে স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখানো হত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ প্রকাশিত মানচিত্র পাকিস্তানের দাবিকে কার্যত উপেক্ষাই করেছে। এই ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্থির ও অনিশ্চিত অবস্থায় ট্রাম্প নেতৃত্ব এক টালমাটাল সময় পার করার পর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার তাদের সম্পর্ক নতুন করে সাজাচ্ছে। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় সেই শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এশীয় দেশগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন (India Map)।

    ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত

    এছাড়া ট্রাম্প আবারও ভারত ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে দেখার (re-hyphenation) নীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করেন, যা জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শুরু করা ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরাও তা অনুসরণ করে এসেছিলেন। মানচিত্রে লাদাখের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত বিতর্কিত আকসাই চিন অঞ্চলকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও চিন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করে এই অঞ্চলের ওপর দাবি জানিয়ে আসছে (Trade Deal)। প্রসঙ্গত, ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) বারবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর এবং অরুণাচল প্রদেশের ভুল উপস্থাপনার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপে অবশেষে ভারতের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা দ্রুত এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর গৌরব আর্য টুইট করে লেখেন, “মানচিত্রের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো নম্বর। খুব ভালো কাজ (India Map)।”

    পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    আর এক ইউজার লেখেন, “পাকিস্তান, (আসিম) মুনির এবং ওয়াশিংটন সফর নিয়ে প্রচারের পক্ষে এটা একটা বড় ধাক্কা”, যা ইসলামাবাদের ট্রাম্পকে তোষামোদ করার প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে (Trade Deal)। গত ছ’মাসে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তিনবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে দু’বার সাক্ষাৎ করেছেন, যার মধ্যে জুন মাসের একটি বহুল আলোচিত মধ্যাহ্নভোজও রয়েছে। এটি ছিল প্রথমবার, যখন কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন, কোনও বেসামরিক নেতৃত্ব ছাড়াই। এক সাংবাদিক টুইট-বার্তায় লেখেন, “বাণিজ্য গৌণ বিষয়। আসল বিষয় হল, এই মানচিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন, যেখানে পিওকে-কে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হত।”

    অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি

    তবে মধ্য-মার্চে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ভারতের রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে, বিশেষত ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পরে। ভারত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, ওষুধ, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশে ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজের ‘রেড লাইন’ অটুট রেখেছে (India Map)। এখন প্রশ্ন হল, এই মানচিত্র কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সূক্ষ্ম কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা ভারতের দিকে ঝুঁকছে? এটি কি ট্রাম্পের সঙ্গে এক বছরের টানাপোড়েনের পর ভারতকে তুষ্ট করার কৌশল, নাকি নিছকই আমলাতান্ত্রিক অসাবধানতা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এই (Trade Deal) মানচিত্র ভারতকে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সুবিধা দিয়েছে এবং ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ভূখণ্ডগত দাবিকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে (India Map)।

     

  • China India Relation: মার্কিন ‘শুল্ক জুজু’ ঠেকাতে এবার ভারতের সাহায্য চাইল চিন

    China India Relation: মার্কিন ‘শুল্ক জুজু’ ঠেকাতে এবার ভারতের সাহায্য চাইল চিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন ‘শুল্ক জুজু’ প্রতিহত করতে এবার ভারতের সাহায্য চাইল চিন (China India Relation)। চিনা পণ্যের ওপর ১০৪ শতাংশ শুল্ক (Trade War) আরোপ করেছে আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ভারতে অবস্থিত চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, “চিনের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং শক্তিশালী উৎপাদন ভিত্তি বাকি বিশ্বের জন্য ইতিবাচক পরিসর তৈরি করেছে।” তিনি বলেন, “চিন-ভারত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পারস্পরিক সুবিধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের অপব্যবহারে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি তাদের উন্নয়নের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সমস্যাগুলি কাটিয়ে উঠতে একত্রিত হওয়া উচিত বিশ্বের দুই বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশের। বাণিজ্য ও শুল্ক যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হয় না। সব দেশের উচিত সত্যিকারের বহুপাক্ষিকতার পথ অনুসরণ করা।”

    ইউ জিংয়ের বক্তব্য (China India Relation)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে এমন একটি ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত চিনা অর্থনীতি। গোটা বিশ্বের ওপর আমাদের অর্থনীতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ক্রমাগত আপগ্রেডেড শিল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে চিনা উৎপাদন। গবেষণা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের ওপর একটি শক্তিশালী ফোকাসের ওপর নির্মিত আমাদের অর্থনীতি। অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন ও বহুপাক্ষিকতার দৃঢ় সমর্থক চিন। এই বহুপাক্ষিকতাই বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্তিশালী প্রেরণা জুগিয়েছে। আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা রক্ষার জন্য বাকি বিশ্বের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।” মার্কিন শুল্ক আরোপের আগেই আমেরিকাকে তোপ দেগেছিল চিন। বলেছিল, “ভুলের ওপর ভুল করছে আমেরিকা। আরও একবার আমেরিকার ব্ল্যাকমেইল করার চরিত্রটি প্রকাশ্যে চলে এল।” বেজিং জানিয়ে দিয়েছিল, “আমেরিকা যদি এভাবেই চলার কথা ভাবে, তাহলে চিনও শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে।”

    শুল্ক যুদ্ধ

    প্রসঙ্গত, গত বুধবারও চিনের ওপর ৩৪ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চিন শুক্রবার একই হারে শুল্ক চাপিয়ে দেয় মার্কিন পাণ্যের ওপর। চিনের এই পদক্ষেপের পরেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, চিন যদি এই শুল্ক প্রত্যাহার না করে তাহলে মঙ্গলবারের মধ্যে আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে চিনা পণ্যের ওপর (China India Relation)। সেই মতো মঙ্গলবার বেজিংয়ের ওপর চাপানো হয় আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক। প্রথমে ২০ শতাংশ শুল্ক ছিল, পরে দুধাপে চাপানো হয় আরও ৩৪ ও ৫০ শতাংশ। সব মিলিয়ে চিনের ঘাড়ে (Trade War) মোট শুল্কের বোঝা চাপল ১০৪ শতাংশ।

    ভারতের অবস্থান

    চিনের ওপর ১০৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও, ভারতীয় পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন ২৬ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। এটি কার্যকর হয়েছে আজ, বুধবার থেকে। গত সপ্তাহেই ট্রাম্পের এই পাল্টা শুল্ক ঘোষণার পর থেকে বাজার ধসের মুখে থাকায় এদিন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। সেখানে এই প্রভাব কমানোর কৌশল নির্ধারণ করা হবে। চিন যখন আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের রাস্তায় হাঁটছে, তখন ভারত-সহ বেশিরভাগ দেশই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে নিতে আগ্রহী। নয়াদিল্লির তরফে সক্রিয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। একের পর এক দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের আর্জি জানিয়েছে (China India Relation)।

    সতর্ক পদক্ষেপ

    ভারতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হল, ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে ভারতকে সেমিকন্ডাক্টর, তামা এবং ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য আমদানিতে এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বারবার ভারতকে বাণিজ্য সম্পর্কের “বড় অপরাধী” বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় অর্ধেক জেনেরিক ওষুধই পাঠানো হয় ভারত থেকে। তবে অটো পার্টস, রত্ন ও গয়নার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। সূত্রের খবর, শুল্কের প্রভাব কমানোর জন্য প্রয়োজনে রফতানিকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারত। জানা গিয়েছে, ভারত এই ইস্যুতে সতর্ক পদক্ষেপ করছে। ভারত আমেরিকার ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করার পথে হাঁটছে না। এর বদলে মোদি সরকার (Trade War) সক্রিয়ভাবে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এই বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল এই বছরের শুরুতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমেরিকা সফরের সময়। মার্চ মাসে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ) শর্তাবলীতে রাজি হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, এর আগেও ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নয়াদিল্লিকে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল বেজিং। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের মতে, গত বছর রাশিয়ায় চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর থেকে ভারত ও চিনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি হয়েছে। ভারত ও চিনের শক্তির কথা বলতে গিয়ে হাতি ও ড্রাগনের উপমা ব্যবহার (Trade War) করেছিলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, “ড্রাগন ও হাতির মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ড্রাগন আর হাতিকে এক সঙ্গে নাচিয়ে দিতে হবে (China India Relation)।”

LinkedIn
Share