Tag: Trump

Trump

  • US Iran War: “উই গট হিম”, নিখোঁজ যুদ্ধবিমানের ক্রু-সদস্যকে উদ্ধারের পর মন্তব্য ট্রাম্পের

    US Iran War: “উই গট হিম”, নিখোঁজ যুদ্ধবিমানের ক্রু-সদস্যকে উদ্ধারের পর মন্তব্য ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “উই গট হিম।” রবিবার এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US Iran War)। “দুঃসাহসিক” অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে নিখোঁজ এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের মতে, এই উদ্ধার সম্ভব হয়েছে, কারণ মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান মোতায়েন করেছিল (Donald Trump)। শুক্রবার ইরান একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান—দুই আসনের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল—ভূপাতিত করে, যাতে একজন পাইলট এবং একজন অস্ত্রব্যবস্থা আধিকারিক ছিলেন। পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও, ওই আধিকারিক নিখোঁজ ছিলেন।

    ট্রাম্পের পোস্ট (US Iran War)

    নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প জানান, নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর ওই বিমানসেনাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার নির্দেশে, মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান পাঠায় তাঁকে উদ্ধার করতে। তিনি জখম হয়েছেন। তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।” আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাধিক বিশেষ অভিযান বাহিনীর সদস্য এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তাঁরা ইরানের গভীরে প্রবেশ করে বিমানসেনাকে উদ্ধার করে এবং তাঁকে নিরাপদে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে (US Iran War)।

    “অলৌকিক” অভিযান

    এই নাটকীয় অভিযানটি অন্ধকারে শুরু হয়ে দিনের আলোয় শেষ হয়, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরোপুরি এগোয়নি। মাঝপথে গোলাগুলি শুরু হয়, আর সেই সংঘর্ষের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ওই বিমানসেনাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দুদিনব্যাপী এই অভিযানে শতাধিক বিশেষ বাহিনী অংশ নিয়েছিল। মার্কিন বিমানগুলি বোমা বর্ষণ ও গুলি চালিয়ে ইরানি বাহিনীকে দূরে রেখে দিয়েছিল (Donald Trump)। এই উদ্ধার অভিযানটিকে ট্রাম্প “অলৌকিক” আখ্যা দিয়েছেন। এটি ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা অঞ্চলের গভীরে, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার হুমকির মধ্যে পরিচালিত হয়। এদিন মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করেছিল এইচএইচ-৬০ ডাব্লু জলি গ্রিন ২ উদ্ধার হেলিকপ্টার, এ-১০ ওয়ারথগ আক্রমণ বিমান, এইচসি-১৩০ মাঝ-আকাশ ট্যাঙ্কার, এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, বিশেষ বাহিনী, কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিট। এর মধ্যে জলি গ্রিন-২ কপ্টারটি এই অভিযানের প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত। এটি আধুনিক সেন্সর, দীর্ঘ পাল্লা, এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি (US Iran War)।

    সিআইএর কৌশল

    এক্সিয়সের (Axios) তথ্য অনুযায়ী, পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়। তবে ওই সময় ইরান একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে আঘাত হানে, যার জেরে কিছু ক্রু সদস্য জখম হন। অস্ত্রব্যবস্থা আধিকারিককে খুঁজে পেতে এক দিনেরও বেশি সময় লাগে (Donald Trump)। জানা গিয়েছে, ওই আধিকারিককে খুঁজে পাওয়ার আগে সিআইএ একটি বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালায়। তারা জানিয়ে দেয়, ওই আধিকারিককে ইতিমধ্যেই খুঁজে পাওয়া গিয়েছে এবং স্থলপথে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সিআইএ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁকে খুঁজে বের করেছে এবং তাঁর সঠিক অবস্থান হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে শেয়ার করে। এরপর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

    কেমন আছেন উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য

    ট্রাম্প বলেন, “উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য একজন অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল। তিনি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ। এই সাহসী যোদ্ধা শত্রু এলাকার বিপজ্জনক পাহাড়ে ছিলেন, শত্রুরা তাঁকে খুঁজছিল, কিন্তু তিনি কখনও একা ছিলেন না। ২৪ ঘণ্টা তাঁর অবস্থান নজরদারিতে ছিল এবং তাকে উদ্ধারের পরিকল্পনা চলছিল (US Iran War)।” তিনি আরও জানান, শনিবার আর একজন পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে।  এটি প্রথমে গোপন রাখা হয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, ইতিহাসে প্রথমবার দুজন মার্কিন পাইলটকে শত্রু অঞ্চলের কোর এলাকা থেকে আলাদা আলাদাভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। কোনও মার্কিন সেনা নিহত বা গুরুতর জখম হননি। এটি মার্কিন আকাশ আধিপত্যের প্রমাণ। এদিকে, ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজ বিমানসেনাকে জীবিত ধরিয়ে দিলে প্রায় ৬৬,০০০ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে (Donald Trump)।

    ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের দাবি, একটি মার্কিন অনুসন্ধান বিমান ধ্বংস করা হয়েছে, ইসফাহানের দক্ষিণে সি-১৩০ পরিবহণ বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে একটি ইজরায়েলি ড্রোনও। তাদের আরও দাবি, উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন (US Iran War)।

     

  • Iran: ‘‘সংঘাত থামাতে ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে ইরানের সঙ্গে’’ দাবি ট্রাম্পের, নস্যাৎ করল তেহরান

    Iran: ‘‘সংঘাত থামাতে ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে ইরানের সঙ্গে’’ দাবি ট্রাম্পের, নস্যাৎ করল তেহরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘সংঘাত শেষ করতে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।’ সম্প্রতি এমনই দাবি করেছিলেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের এহেন দাবি নস্যাৎ করে দিল ইরান (Iran)। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি। সোমবার ইরানি সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফের নামে পরিচালিত এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।” গালিবাফ এই জাতীয় খবরকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দেন। তিনি লিখেছেন, “ফেক নিউজ আর্থিক ও তেল বাজারকে প্রভাবিত করতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যে সঙ্কটে আটকে রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।”

    ইরানের বার্তা (Iran)

    তাঁর এই মন্তব্য ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনিও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে বাঘাই বলেন, “যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ নিয়ে কিছু বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে বার্তা পাওয়া গিয়েছে।” এই আদান-প্রদান এমন একটা সময়ে ঘটছে, যখন আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং উভয় পক্ষই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    কী বলছে ইজরায়েল

    ইজরায়েল জানিয়েছে, তারা সোমবার তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এদিকে, ইরানও অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয় এই পথেই (Donald Trump)। এই বিঘ্নের জেরে বিশ্বজুড়ে বেড়ে গিয়েছে জ্বালানির দাম। উদ্বেগ বাড়ছে বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে।

    ট্রাম্পের দাবি

    তবে ইরান অস্বীকার করলেও, ট্রাম্প দাবি করে চলেছেন যে আলোচনা এগিয়ে চলছে। সপ্তাহান্তে তিনি সতর্ক করে বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের (Iran) বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে।” সোমবার এক পোস্টে অবশ্য ট্রাম্প জানান, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত বর্তমানে চলা বৈঠক ও আলোচনা সাফল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প (Donald Trump) আরও জানান, রবিবার ইরানের এক শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যদিও তিনি ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি (Iran)।

     

  • Ayatollah Khameneis: ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ঘোষণা করল ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ খামেইনি

    Ayatollah Khameneis: ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ঘোষণা করল ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ খামেইনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি (Ayatollah Khameneis) তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আজ রবিবার সকালে খবরটি নিশ্চিত করেছে। খামেইনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবারের হামলায় খামেইনির পাশাপাশি তাঁর মেয়ে, জামাই এবং নাতিরও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।

    এরই মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, খামেইনি নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প খামেইনিকে “ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনাটি ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ।”

    হামলার বিবরণ (Ayatollah Khameneis)

    শনিবার ভোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল তেহরানে খামেইনির সুরক্ষিত বাসভবন কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায়। স্যাটেলাইট চিত্রে খামেইনির দফতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গিয়েছে। ইরানের (Iran) সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, খামেইনি (Ayatollah Khameneis) নিজের দফতরে থাকা অবস্থায়ই হামলার শিকার হন।

    ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরান শাসন করে আসছেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি শিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারের সকল শাখা, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন। কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের করিম সাদ্দাদপুর সংবাদমাধ্যমে বলেন, খামেইনি ছিলেন ইতিহাসের এক দুর্ঘটনা। যিনি একজন দুর্বল রাষ্ট্রপতি থেকে প্রাথমিকভাবে দুর্বল সর্বোচ্চ নেতা হয়ে গত ১০০ বছরের পাঁচজন শক্তিশালী ইরানির একজন হয়ে উঠেছিলেন।

    ইরানের প্রতিক্রিয়া

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ মাধ্যম ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেইনি (Ayatollah Khameneis) শনিবার সকালে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী শাসকদের যৌথ হামলায় শহিদ হয়েছেন। ইরান (Iran) এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইজরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলির দিকে একের পর এক মিসাইল নিক্ষেপ শুরু করেছে।

    অন্যান্য নেতার মৃত্যু

    ইরানি (Iran) সংবাদ মধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেইনির (Ayatollah Khameneis) পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমির নাসিরজাদে এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরও এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া খামেইনির কয়েকজন নিকটাত্মীয়ও মারা গিয়েছেন বলে খবর।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লেখেন, “খামেইনি (Ayatollah Khameneis) এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য নেতারা আমেরিকার উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। এটিই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। ইতিহাসের পাতায় অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি খামেইনি। তাঁর বাহিনীর হাতে যাঁদের অঙ্গহানি বা মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার হল। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আরও অন্তত এক সপ্তাহ ইরানে (Iran) বোমাবর্ষণ চলবে!”

    পরবর্তী পরিস্থিতি

    খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যুর পর ইরানে (Iran) ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা খামেইনির কোনও নির্দিষ্ট উত্তরাধিকারী না থাকায় দেশটিতে এখন এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এহেন আবহে ইরান এই হামলার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে।

  • Iran: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ! ইরানে একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজরায়েলের, পাল্টা তেহরানের

    Iran: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ! ইরানে একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজরায়েলের, পাল্টা তেহরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়ে গেল পূর্ণমাত্রার সংঘাত। শনিবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল (US Israel) একযোগে হামলা চালাল ইরানে (Iran)। ইরানজুড়ে একযোগে ৩০টিরও বেশি টার্গেটে আঘাত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের বাসভবন, সর্বোচ্চ নেতার দফতর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়। জবাবে তেল আভিভের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরান।

    আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই কোথায় (Iran)

    ইরান জানিয়েছে, তেহরানের পূর্ব ও উত্তরাংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ আলি খামেনেই বসবাস করেন। যদিও সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, খামেনেইকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরান ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাবে’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হামলার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছিল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জন্য হুমকি হতে পারে। ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, “অস্ত্র নামিয়ে রাখো, নইলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হবে।” এই নতুন হামলা ঘটল কয়েক মাস পর, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কাঠামোয় আঘাত হেনেছিল এবং গত বছরের জুনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেশজুড়ে ডজনখানেক টার্গেটে হামলা চালিয়েছিল।

    ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’

    ইজরায়েল জানায়, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ নামে একটি ‘প্রি-এম্পটিভ’ হামলা শুরু করেছে। এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল কয়েক মাস ধরে। হামলার তারিখও নির্ধারিত হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। ইরানে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, সর্বোচ্চ নেতার দফতর, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এবং পারচিন—যা ইরানের অন্যতম সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটি। প্রাথমিক চিত্রে তিন ধরনের টার্গেটের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমত, পশ্চিম ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি—বিশেষ করে কেরমানশাহ, কারাজ এবং খোররামাবাদ অঞ্চলে। এই এলাকাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। দ্বিতীয়ত, তেহরানের সরকারি ভবনগুলি। তৃতীয়ত, সন্দেহভাজন পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান—যেমন কোম ও বুশেহর (US Israel)।

    কী বলল আমেরিকা

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা আকাশ ও সমুদ্রপথে পরিচালিত হচ্ছে। আমেরিকা জানিয়েছে, হামলা কেবল ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুকেই কেন্দ্র করে হচ্ছে। হামলার খবর স্বীকার করে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেব। ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারবে না (Iran)।” এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ইজরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং জানায়, তাদের জবাব হবে “চূর্ণকারী”। তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কোম, কারাজ ও কেরমানশাহ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে খবর (US Israel)। হামলার পর ইজরায়েল ও ইরান উভয়ই অসামরিক উড়ানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ইরান থেকে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইজরায়েল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

    ইরানে শহর ছাড়ার ধুম

    আধিকারিকরা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক দিনব্যাপী অভিযান চালাতে পারে। এদিকে তেহরানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীতে পেট্রোল পাম্পগুলিতে লম্বা লাইন পড়েছে। কারণ বহু মানুষ শহর ছাড়ার চেষ্টা করছেন (US Israel)। সর্বশেষ হামলার ঢেউ আগের টার্গেটভিত্তিক হামলার তুলনায় আরও বড় হতে পারে। এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “ইরানের অভ্যন্তরে তার সামরিক অভিযানের ফলে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটতে পারে (Iran)।” মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যেই ভারত ইজরায়েলে থাকা নাগরিকদের “সর্বোচ্চ সতর্কতা” অবলম্বন এবং নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই হামলা এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন (US Israel)। পাশাপাশি তেহরানে খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন অভিযানে হাজার হাজার প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছেন (Iran)।

    একাধিক মার্কিন বেসে পাল্টা হামলা ইরানের

    আমেরিকার হামলার পাল্টা হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতার, কুয়েত ও জর্ডানের একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্যবস্তু ঘাঁটিগুলি হল— কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেস, কুয়েতের আল সালেম এয়ার বেস এবং জর্ডানের মুওয়াফাক আল-সালতি ঘাঁটি। এছাড়া, ইরান বাহরাইনে একটি মার্কিন নৌঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)-র আল-ধাফরা এয়ারবেসেও হামলা চালিয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানের পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের এই হামলার পর বাহরাইনের রাজধানী মানামা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী আবু ধাবিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে।

  • Donald Trump: ট্রাম্পের কড়া ভিসা নীতির জের, ভারতেই বিশাল অফিস খুলছে গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট

    Donald Trump: ট্রাম্পের কড়া ভিসা নীতির জের, ভারতেই বিশাল অফিস খুলছে গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোরতর অভিবাসন নীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে চলেছে অ্যালফাবেট। ট্রাম্পের ভিসা কড়াকড়ির জন্য বিকল্প পথ হিসেবে ভারতে তাদের ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চলেছে গুগলের মূল সংস্থাটি। ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ফলে বাধ্য হয়েই এই সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি। কারণ এই প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা (H 1B Visa) কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে বিশেষ করে ভারত ও চিন থেকে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করে। এর জন্য  এইচ-১বি ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল তারা। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বিধিনিষেধের ফলে অ্যালফাবেটের মতো সংস্থাগুলি প্রতিভার উৎস দেশগুলিতেই তাদের ব্যবসার একটি অংশ সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

    অ্যালফাবেটের অফিস (Donald Trump)

    ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড প্রযুক্তি করিডরে অ্যালেম্বিক সিটিতে অ্যালফাবেট মোট ২৪ লক্ষ বর্গফুট অফিস স্পেস নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি অফিস টাওয়ার লিজ নেওয়া, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কর্মীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, আরও দুটি টাওয়ার কেনার অপশন নেওয়া হয়েছে, যেগুলির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা আগামী বছর। অ্যালফাবেটের এক মুখপাত্রের মতে, সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ ৫০ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস লিজ নিয়েছে (Donald Trump)। ‘কেনার-অপশন’ নেওয়ার অর্থ হল—নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলি কেনার একচেটিয়া অধিকার থাকবে অ্যালফাবেটের হাতে। তবে সংস্থাটি চাইলে ওই সম্পত্তিগুলি না কেনার সিদ্ধান্তও নিতে পারে (H 1B Visa)।

    কর্মসংস্থানের সুযোগ

    জানা গিয়েছে, সব ক’টি নয়া পরিকাঠামো পুরোপুরি ব্যবহার করা হলে প্রায় ২০ হাজার অতিরিক্ত কর্মী কাজ করতে পারবেন। এর ফলে ভারতে অ্যালফাবেটের কর্মীসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অ্যালফাবেটের মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার, যার মধ্যে ভারতে কর্মরত ১৪ হাজারের কাছাকাছি। ভারতে এই সম্প্রসারণের মূল কারণ হল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন সরকারের এইচ-১বি ভিসার আমূল সংস্কার। গত বছর নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে ১ লাখ মার্কিন ডলার করা হয়, যা আগে ছিল মাত্র ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ট্রাম্পের ভাষায়, বিদেশি আউটসোর্সিং সংস্থাগুলির দ্বারা ‘ব্যবস্থার অপব্যবহার’ রোধ করা।

    বৃহত্তম ক্যাম্পাস ‘অনন্তে’র উদ্বোধন

    এইচ-১বি ভিসার অন্যতম বৃহৎ স্পনসর অ্যালফাবেট দীর্ঘদিন ধরেই ইঞ্জিনিয়ারিং ও এআই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদে এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই পদগুলির বড় অংশে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদরা কর্মরত। নতুন বিধিনিষেধ, বাড়তি নজরদারি এবং আউটসোর্সড কাজের ওপর সম্ভাব্য কর আরোপ—সব মিলিয়ে উচ্চদক্ষতার কাজ দ্রুত ভারতের মতো দেশে সরে যাচ্ছে, যেখানে দক্ষ জনবলের প্রাচুর্য রয়েছে এবং খরচ তুলনামূলকভাবে কম (Donald Trump)। ভারতে নতুন অফিস স্পেস অধিগ্রহণের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন মাত্র এক বছর আগেই অ্যালফাবেট বেঙ্গালুরুতে তাদের বৃহত্তম ক্যাম্পাস ‘অনন্ত’ উদ্বোধন করেছে। এই কৌশল গ্রহণে অ্যালফাবেট একা নয় (H 1B Visa)। ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা বিধিনিষেধ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক পিবিসি (যারা ‘ক্লদ’ তৈরি করে) সম্প্রতি ভারতে তাদের অফিস খুলেছে। পাশাপাশি মেটা, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, অ্যামাজন, নেটফ্লিক্স-সহ অন্য প্রযুক্তি জায়ান্টরাও দ্রুত ভারতে তাদের কার্যকলাপ সম্প্রসারণ করছে (Donald Trump)।

    ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি

    ভারতে অ্যালফাবেট-সহ বিভিন্ন সংস্থার এই কৌশল শুধু ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি কমাচ্ছে না, বরং বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতির সুবিধাও নিতে সাহায্য করছে। প্রযুক্তি প্রতিভার বৃহত্তম ভান্ডার হওয়ার পাশাপাশি, ভারতে একশো কোটিরও বেশি মোবাইল ব্যবহারকারী রয়েছেন এবং স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট পরিষেবা সহজলভ্য—যা ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করেছে। গত মাসে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের আর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ভিসা বিধিনিষেধের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর প্রযুক্তি প্রতিভা হারাচ্ছে এবং তার সুফল পাচ্ছে ভারত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি এই নীতির কারণে ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে না যান বা সেখান থেকে ফিরে আসেন, তবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ভারত—এবং এই পরিবর্তন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। লিংকডইনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতে স্থানান্তরিত হওয়া প্রযুক্তি পেশাদারের  সংখ্যা বেড়েছে ৪০ শতাংশ (H 1B Visa)।

    ফিকি (FICCI) এবং অ্যানারক (ANAROCK)-এর একটি যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ২,৪০০-রও বেশি গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) গড়ে উঠতে পারে, যেখানে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ২৮ লক্ষ পেশাদারের। বর্তমানে দেশে প্রায় ১,৭০০টি জিসিসি রয়েছে, যেখানে কর্মরত ১৯ লাখের মতো মানুষ (Donald Trump)।

  • India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর এই চুক্তিতে (India EU FTA) ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।” কথাগুলি বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা। তাঁর মতে, এই চুক্তিটি ইউরোপীয় বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার আরও বাড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লিরই সুবিধে করে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “এই চুক্তিতে ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। চুক্তি কার্যকর হলে নয়াদিল্লি কার্যত গোল্ডেন টাইম উপভোগ করবে।” তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত চুক্তির কিছু খুঁটিনাটি আমি দেখেছি। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয় এতে ভারতই এগিয়ে থাকবে। তারা ইউরোপের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।”

    ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে (India EU FTA)

    প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত দিকগুলির উল্লেখ করে গ্রিয়ার বলেন, “শুনে মনে হচ্ছে, এতে ভারতের জন্য অতিরিক্ত কিছু অভিবাসন সুবিধাও থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত নই, তবে ইইউয়ের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইউরোপে ভারতীয় শ্রমিকদের যাতায়াত বা মোবিলিটি নিয়ে কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে আমার ধারণা, এই চুক্তির ফলে ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে।” মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে। একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি হবে এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরধর্মী পাঁচ বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে (India EU FTA)।

    গ্রিয়ারের বক্তব্য

    এই চুক্তি গ্লোবাল মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানির ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯৭ শতাংশের বেশি রফতানির ওপর শুল্ক হ্রাস করা হবে। তবে আমেরিকার শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা এই অগ্রগতির গুরুত্ব কিছুটা খাটো করে দেখান। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য করছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আরও কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করছে (India EU FTA)। গ্রিয়ার বলেন, “কৌশলগতভাবে এটা বোঝা জরুরি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং কার্যত অন্য দেশগুলির জন্য আমাদের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের ফি আরোপ করেছেন। ফলে এসব দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। সেই কারণেই ইইউ ভারতের দিকে ঝুঁকছে।” তিনি এও বলেন, “ইইউ অত্যন্ত বাণিজ্যনির্ভর।”

    কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা

    গ্রিয়ারের মতে, কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা নিয়ে এই চুক্তি ভারতের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াবে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্যত গ্লোবালাইজেশনকে আরও জোরদার করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে বিশ্বের দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি আমাদের নিজস্ব বিশ্বে মানুষ ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে।” তিনি বলেন, “ভারত এগিয়ে এসেছে, আর ইউরোপ সত্যিই আনন্দিত। কারণ ভারত সফল হলে বিশ্ব আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হয়, এবং তার সুফল আমরা সবাই পাই।”

    ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক

    এদিকে, এই চুক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যমই এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিকে আলোকপাত করেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইন হল, “ট্রাম্পের ছায়ায়, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ”। এখানে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সম্পর্ক যখন ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি আরও গভীর হচ্ছে (India EU FTA)। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার আবহে ইউরোপ ও ভারত একটি ‘ব্লকবাস্টার’ বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। সিএনএন বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, ট্রাম্পের নীতিতে আঘাতপ্রাপ্ত ভারত ও ইউরোপ একে অপরের দিকে ঝুঁকছে, যাকে তারা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতীকী গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।

    সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল চুক্তিটির ব্যাপ্তি তুলে ধরে জানিয়েছে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাক্ষরিত জনসংখ্যাভিত্তিক সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। একই সঙ্গে এটি এমন এক বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ট্রাম্প-যুগের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় বড় অর্থনীতিগুলি বিকল্প বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সিএনবিসি বারবার এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন, ইউরোপের গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ রফতানির সম্ভাবনা এবং আমেরিকা–ভারত ও আমেরিকা–ইইউ বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও পরিষেবা খাতের জন্য উন্নত বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এনবিসি একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি ‘ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, পাশাপাশি ইউরোপকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ দেয় (India EU FTA)।

    ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’

    দ্য ডিপ্লোম্যাট এটিকে ‘ট্রাম্প-পরবর্তী, বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনকে ইউরোপের শিল্পভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামো নতুনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত ও ইইউয়ের মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হল। এর সমাপ্তি এমন একটা সময়ে হল, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড সংযুক্তির বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন (যদিও পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন)। ইইউয়ের জন্য আমেরিকা এখনও সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। ফলে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্য আনার দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে শুধু শুল্ক বা বাজার প্রবেশাধিকারের চুক্তি হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মুখে বড় অর্থনীতিগুলি কীভাবে একক দেশের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প জোট গড়ে তুলছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে (India EU FTA)। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব মাঝারি হতে পারে, যদিও এর ভূরাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। এটি ভারত ও ইউরোপকে স্বাধীন, স্থিতিশীল এবং সক্ষম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

  • Canada PM: আমেরিকার নাগপাশ কাটাতে মার্চে ভারত সফরে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী, একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    Canada PM: আমেরিকার নাগপাশ কাটাতে মার্চে ভারত সফরে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী, একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সফরে আসতে পারেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী (Canada PM) মার্ক কার্নি। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরে আসার কথা তাঁর। জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, পারমাণবিক সহযোগিতা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে একাধিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ পট্টনায়েক (Trump Tariffs)। এই সফর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করার ক্ষেত্রে কানাডার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, আমেরিকা বর্তমানে কানাডার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

    ভারতের হাইকমিশনারের বক্তব্য (Canada PM)

    পট্টনায়েক জানান, সফরকালে মার্ক কার্নি ভারতের সঙ্গে ইউরেনিয়াম সরবরাহ, তেল ও গ্যাস, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিতে সই করতে পারেন। প্রস্তাবিত চুক্তিগুলির মধ্যে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের ১০ বছরের একটি ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এদিকে, চলতি সপ্তাহে ভারত সফররত কানাডার জ্বালানিমন্ত্রী টিম হজসন বলেন, “ভারত-কানাডার পারমাণবিক চুক্তির আওতায় পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে, তবে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিধি মেনে চলার শর্তে।” তিনি আরও জানান, জ্বালানি ও খনি খাত হবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস লেনদেনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতি

    জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর কার্নি দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ট্রুডো ২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিলেন, যা ভারত অস্বীকার করেছিল (Trump Tariffs)। পট্টনায়েক জানান, ভারত ও কানাডার মধ্যে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা মার্চ মাসে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে স্থগিত থাকা এই বাণিজ্য আলোচনা গত নভেম্বরে পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর মতে, আলোচনা শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যেই সিইপিএ চূড়ান্ত করা সম্ভব (Canada PM)।

    বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা

    কার্নি কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা আর কার্যকর নেই। গত সপ্তাহে সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি মধ্যম শক্তিধর দেশগুলির প্রতি নতুন জোট গঠনের আহ্বান জানান, যাতে আরও স্থিতিশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। এই উদ্যোগ এমন একটা সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কানাডা যদি চিনের সঙ্গে চুক্তি করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর শুল্ক আরোপ করতে পারে।” এ প্রসঙ্গে পট্টনায়েক বলেন, “বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে ভারত ও কানাডা দ্রুত নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তৎপর হয়েছে।”

    তিনি জানান, আগামী মাসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ওটাওয়া সফর করতে পারেন। সফরকালে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনেরও শীঘ্রই কানাডা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। নিজ্জর হত্যা মামলা প্রসঙ্গে পট্টনায়েক বলেন, “কানাডায় চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।” তিনি জানান, যদি তদন্তে কোনও ভারতীয় নাগরিকের জড়িত থাকার (Trump Tariffs) প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ভারত যথাযথ ব্যবস্থা নেবে (Canada PM)।

  • India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে চলে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল (India US Trade Deal)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে মার্কিন সেনেটর টেড ক্রুজের একটি অডিও রেকর্ডিং। ওই রেকর্ডিংয়ে টেক্সাসের রিপাবলিকান এই সেনেটর বাণিজ্যনীতি ও থমকে থাকা ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি নিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance), হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো এবং কখনও কখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ মিনিটের ওই অডিওটি এক রিপাবলিকান সূত্র শেয়ার করেছে। এটির সময়কাল ২০২৫ সালের শুরু ও মধ্যভাগ। এতে ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে ক্রুজ নিজেকে ঐতিহ্যবাহী, মুক্তবাণিজ্যপন্থী ও হস্তক্ষেপমূলক নীতিতে বিশ্বাসী রিপাবলিকান হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানের বিরোধিতা করেন, যা সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রাইমারির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা (India US Trade Deal)

    অডিওতে ক্রুজ ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা করে সতর্ক করেন যে, এই নীতি মার্কিন অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে শুল্ক আরোপের পর তিনি ও কয়েকজন সেনেটর গভীর রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি ফোনালাপে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তবে সেই আলোচনা ভালোভাবে শেষ হয়নি (India US Trade Deal)। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রুজ দাতাদের জানান মধ্যরাত পেরিয়ে যাওয়া ওই ফোনালাপে ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। ক্রুজ বলেন, “ট্রাম্প সেদিন খুব খারাপ মেজাজে ছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে এমন কথোপকথনেও ছিলাম, যখন তিনি খুব খুশি ছিলেন। কিন্তু এটি সেরকম ছিল না।”

    সতর্ক করেছিলেন প্রেসিডেন্টকে

    ক্রুজ আরও জানান, তিনি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে যদি অবসরভিত্তিক বিনিয়োগ হিসেব ৩০ শতাংশ কমে যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ নেমে আসবে। ক্রুজের ভাষায়, তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, “আপনি প্রতিনিধি পরিষদ হারাবেন, সেনেট হারাবেন, আর পরবর্তী দু’বছর প্রতি সপ্তাহে একবার করে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হবেন (JD Vance)।” এর প্রেক্ষিতে ট্রাম্প খুবই খারাপ কথা বলেছিলেন। ক্রুজ প্রশাসনের শুল্ক আরোপকে ‘লিবারেশন ডে’ বা ‘মুক্তির দিন’ নামে ব্র্যান্ডিং করার বিষয়টিও ব্যঙ্গ করেন। এক দাতা ওই শব্দবন্ধ ব্যবহার করলে ক্রুজ মন্তব্য করেন, তাঁর দলে কেউ এই শব্দটি ব্যবহার করলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করা হত।

    ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ

    ক্রুজের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ। তিনি দাতাদের বলেন, চুক্তিটি এগিয়ে নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং যারা এই ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তাঁদের নামও উল্লেখ করেন (India US Trade Deal)। আমেরিকার অগ্রগতি কে আটকে দিচ্ছে, এই প্রশ্নে ক্রুজ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভারো, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং কখনও কখনও স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামও নেন। রেকর্ডিংয়ে ক্রুজ বারবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে রক্ষণশীল পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কার্লসন বিদেশনীতি বিতর্কে হস্তক্ষেপবিরোধী ও ইহুদিবিদ্বেষী অবস্থানকে উসকে দিচ্ছেন এবং ভ্যান্স মূলত কার্লসনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ক্রুজ বলেন, “টাকারই জেডিকে তৈরি করেছে। জেডি টাকারের শিষ্য, আর তারা দু’জন একই (JD Vance)।”

    যদিও ক্রুজ গত কয়েক মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে কার্লসনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন, এবং অডিও রেকর্ডিংটি দেখায় যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি কার্লসন ও ভ্যান্সের মধ্যে আরও স্পষ্ট ও কঠোর সীমারেখা টেনেছেন, যা প্রকাশ্যে তিনি এতটা স্পষ্ট করেননি, যদিও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই পডকাস্টারের বন্ধুত্ব সুপরিচিত (India US Trade Deal)।

  • Donald Trump: ডাহা ফেল ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিসে’র প্রচেষ্টা, কেন জানেন?

    Donald Trump: ডাহা ফেল ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিসে’র প্রচেষ্টা, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে (Davos) গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সেই সফর শেষমেশ এক বড়সড় ব্যর্থতায় পরিণত হল। ইউরোপীয় দেশগুলির ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার মুখে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর দাবিতে পিছু হটতে বাধ্য হওয়ার পর, গাজা সঙ্কট নিয়ে তাঁর প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগটিও সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে গেল (Donald Trump)। ট্রাম্প এই বোর্ডে যোগ দিতে প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ প্রভাবশালী দেশই এই উদ্যোগ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশগুলির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডে যোগ দিতে রাজি হয়।

    উচ্চাভিলাষী ট্রাম্প (Donald Trump)

    গাজায় যুদ্ধবিরতি দিয়ে বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যে নতুন সংস্থাটি গঠনের কথা ছিল, সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া মাত্র ১৯টি দেশের অংশগ্রহণে যাত্রা শুরু করেছিল। ট্রাম্প যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, বাস্তবে তা তার ধারেকাছেও পৌঁছায়নি। ভারত, চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তিগুলি এই বোর্ডে যোগ দেয়নি।২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সময় বৃহস্পতিবার সকালে দাভোসে ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বোর্ড অব পিসে’র সূচনা করেন। বিশ্বের সব মহাদেশের বহু দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও, সিংহভাগ দেশই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমেরিকা-সহ মোট ২০টি দেশ উপস্থিত ছিল। যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আগে দাবি করা হয়েছিল, আমন্ত্রিত ৬০টি দেশের মধ্যে অন্তত ৩৫টি দেশ যোগ দেবে, বাস্তবে সেই সংখ্যা ছিল ঢের বেশি কম (Davos)।

    পশ্চিম ইউরোপীয় দেশই এই বোর্ডে যোগ দেয়নি

    উল্লেখ্য যে, কোনও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশই এই বোর্ডে যোগ দেয়নি, যা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপের বাড়তে থাকা দূরত্বকেই স্পষ্ট করে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যে ১৯টি দেশ এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল, তারা হল,  আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরিন, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, কাজাখস্তান, কসোভো, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) এবং উজবেকিস্তান (Donald Trump)। আলবেনিয়া, বেলারুশ এবং ভিয়েতনাম বোর্ডে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল, কিন্তু দাভোসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওই দেশগুলিরই কোনও শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না (Davos)।

    বোর্ড ভবিষ্যত রাষ্ট্রসংঘের

    পর্যবেক্ষকদের মতে, মূলত মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিই এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হল, এই তালিকার বহু দেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয় এবং বেশ কয়েকটি দেশ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেখানে ইসলামি আইনের ভিত্তিতে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। যে দেশগুলি এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে, তাদের মধ্যে কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। অনেক দেশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই বোর্ড ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘের (ইউএন) ভূমিকা খর্ব করার চেষ্টা করতে পারে। আবার কয়েকটি দেশ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়েও আপত্তি তুলেছে। যদিও পুতিন নিজেও এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন, এই বিষয়ে রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে এখনও আলোচনা চলছে (Donald Trump)।

    রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প 

    ব্রিটেন নিশ্চিত করেছে যে তারা বোর্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে না। ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা এই বোর্ডে যোগ দেবে না, কারণ এটি রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নরওয়ে, সুইডেন, স্লোভেনিয়া এবং চিনও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা এই বোর্ডে যোগ দিচ্ছে না। অন্য অনেক দেশ কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও বৃহস্পতিবার বোর্ডে যোগ দেয়নি। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, জার্মানি, ইতালি, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ আরও বহু দেশ (Davos)। তবে ট্রাম্প আশাবাদী যে ভবিষ্যতে আরও দেশ তাঁর এই বোর্ডে যোগ দেবে। তিনি বলেন, “একবার এই বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হয়ে গেলে, আমরা কার্যত যা চাই তাই করতে পারব। এবং তা আমরা রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই করব।”

    ‘বোর্ড অব পিস’

    গাজার জন্য গঠিত এই ‘বোর্ড অব পিস’ পশ্চিম এশিয়া সংক্রান্ত ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের তদারকি করা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম এই প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল গাজা সংঘাতের অবসান ঘটানোর একটি উপায় হিসেবে। তবে বর্তমানে এটি আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার একটি বৃহত্তর মঞ্চের রূপ নিতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বোর্ডটির এক্সিকিউটিভ কমিটি গাজার স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির তদারকি করবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগ, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং বৃহৎ পরিসরের অর্থায়ন (Donald Trump)।

    উল্লেখ্য যে, এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ঐচ্ছিক সদস্য ফি ধার্য করা হয়েছে। যে দেশগুলি এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে, তারাই স্থায়ী সদস্যপদ পাবে। আর যারা অর্থ দিতে পারবে না, তারা তিন বছরের জন্য (Davos) সদস্য হিসেবে থাকতে পারবে। তবে বোর্ডে যোগ দেওয়ার সময় কোনও দেশ এই ফি দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য জানা যায়নি (Donald Trump)।

     

  • Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছের বিরোধিতা করায় এবার আটটি ইউরোপীয় দেশের (European Countries) বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক-সহ সাতটি ইউরোপীয় দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে কেনার বিষয়ে কোনও চুক্তি না হলে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে সেই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

    গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকার (Donald Trump)

    ডেনমার্ক ছাড়াও যে সাতটি দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হবে, সেগুলি হল নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড। এসব দেশ গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছে।ট্রাম্প বলেন, “২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই সব দেশ ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।”

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা

    ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে এসব দেশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলিকে তিনি বিপজ্জনক বলে মনে করেন। জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক শান্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর প্রতিক্রিয়ায়ই এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। ট্রাম্প ডেনমার্কের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, দেশটি মাত্র দুটি কুকুর-টানা স্লেজকে নিরাপত্তা হিসেবে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, চিন ও রাশিয়া দ্বীপটির জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠছে (Donald Trump)।

    গ্রিনল্যান্ড সফর

    ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প দাবি করেন (European Countries), এসব দেশের সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড সফর আমাদের গ্রহের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি এও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র গত ১৫০ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা করে আসছে। বহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই ডেনমার্ক তা প্রত্যাখ্যান করেছে।” ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কোনও শুল্ক আরোপ না করেই এসব দেশকে ভর্তুকি দিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতার সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করেন এবং বলেন, “সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় গ্রিনল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি (European Countries)।”

    কী বললেন ট্রাম্প

    ট্রাম্প বলেন, “এখন গোল্ডেন ডোম এবং আধুনিক যুগের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রব্যবস্থার কারণে অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ‘দ্য ডোম’-সংক্রান্ত নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শত শত বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, যার মধ্যে কানাডার সম্ভাব্য সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত। এই অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু জটিল ব্যবস্থা কোণ, পরিমাপ ও সীমানার কারণে কেবল তখনই সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও দক্ষতায় কাজ করতে পারে, যখন এই ভূখণ্ড এর অন্তর্ভুক্ত হয় (Donald Trump)।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “ডেনমার্ক এবং অথবা সংশ্লিষ্ট যে কোনও দেশের সঙ্গে এই বিষয়ে অবিলম্বে আলোচনায় বসতে আমেরিকা প্রস্তুত।” তাঁর অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দান-সহ যা কিছু করেছে, তা সত্ত্বেও এসব দেশ অনেক কিছু ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে (European Countries)।

     

LinkedIn
Share