Tag: Truth Social

  • US Iran War: “উই গট হিম”, নিখোঁজ যুদ্ধবিমানের ক্রু-সদস্যকে উদ্ধারের পর মন্তব্য ট্রাম্পের

    US Iran War: “উই গট হিম”, নিখোঁজ যুদ্ধবিমানের ক্রু-সদস্যকে উদ্ধারের পর মন্তব্য ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “উই গট হিম।” রবিবার এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US Iran War)। “দুঃসাহসিক” অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে নিখোঁজ এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের মতে, এই উদ্ধার সম্ভব হয়েছে, কারণ মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান মোতায়েন করেছিল (Donald Trump)। শুক্রবার ইরান একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান—দুই আসনের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল—ভূপাতিত করে, যাতে একজন পাইলট এবং একজন অস্ত্রব্যবস্থা আধিকারিক ছিলেন। পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও, ওই আধিকারিক নিখোঁজ ছিলেন।

    ট্রাম্পের পোস্ট (US Iran War)

    নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প জানান, নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর ওই বিমানসেনাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার নির্দেশে, মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান পাঠায় তাঁকে উদ্ধার করতে। তিনি জখম হয়েছেন। তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।” আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাধিক বিশেষ অভিযান বাহিনীর সদস্য এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তাঁরা ইরানের গভীরে প্রবেশ করে বিমানসেনাকে উদ্ধার করে এবং তাঁকে নিরাপদে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে (US Iran War)।

    “অলৌকিক” অভিযান

    এই নাটকীয় অভিযানটি অন্ধকারে শুরু হয়ে দিনের আলোয় শেষ হয়, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরোপুরি এগোয়নি। মাঝপথে গোলাগুলি শুরু হয়, আর সেই সংঘর্ষের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ওই বিমানসেনাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দুদিনব্যাপী এই অভিযানে শতাধিক বিশেষ বাহিনী অংশ নিয়েছিল। মার্কিন বিমানগুলি বোমা বর্ষণ ও গুলি চালিয়ে ইরানি বাহিনীকে দূরে রেখে দিয়েছিল (Donald Trump)। এই উদ্ধার অভিযানটিকে ট্রাম্প “অলৌকিক” আখ্যা দিয়েছেন। এটি ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা অঞ্চলের গভীরে, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার হুমকির মধ্যে পরিচালিত হয়। এদিন মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করেছিল এইচএইচ-৬০ ডাব্লু জলি গ্রিন ২ উদ্ধার হেলিকপ্টার, এ-১০ ওয়ারথগ আক্রমণ বিমান, এইচসি-১৩০ মাঝ-আকাশ ট্যাঙ্কার, এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, বিশেষ বাহিনী, কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিট। এর মধ্যে জলি গ্রিন-২ কপ্টারটি এই অভিযানের প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত। এটি আধুনিক সেন্সর, দীর্ঘ পাল্লা, এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি (US Iran War)।

    সিআইএর কৌশল

    এক্সিয়সের (Axios) তথ্য অনুযায়ী, পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়। তবে ওই সময় ইরান একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে আঘাত হানে, যার জেরে কিছু ক্রু সদস্য জখম হন। অস্ত্রব্যবস্থা আধিকারিককে খুঁজে পেতে এক দিনেরও বেশি সময় লাগে (Donald Trump)। জানা গিয়েছে, ওই আধিকারিককে খুঁজে পাওয়ার আগে সিআইএ একটি বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালায়। তারা জানিয়ে দেয়, ওই আধিকারিককে ইতিমধ্যেই খুঁজে পাওয়া গিয়েছে এবং স্থলপথে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সিআইএ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁকে খুঁজে বের করেছে এবং তাঁর সঠিক অবস্থান হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে শেয়ার করে। এরপর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

    কেমন আছেন উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য

    ট্রাম্প বলেন, “উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য একজন অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল। তিনি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ। এই সাহসী যোদ্ধা শত্রু এলাকার বিপজ্জনক পাহাড়ে ছিলেন, শত্রুরা তাঁকে খুঁজছিল, কিন্তু তিনি কখনও একা ছিলেন না। ২৪ ঘণ্টা তাঁর অবস্থান নজরদারিতে ছিল এবং তাকে উদ্ধারের পরিকল্পনা চলছিল (US Iran War)।” তিনি আরও জানান, শনিবার আর একজন পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে।  এটি প্রথমে গোপন রাখা হয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, ইতিহাসে প্রথমবার দুজন মার্কিন পাইলটকে শত্রু অঞ্চলের কোর এলাকা থেকে আলাদা আলাদাভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। কোনও মার্কিন সেনা নিহত বা গুরুতর জখম হননি। এটি মার্কিন আকাশ আধিপত্যের প্রমাণ। এদিকে, ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজ বিমানসেনাকে জীবিত ধরিয়ে দিলে প্রায় ৬৬,০০০ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে (Donald Trump)।

    ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের দাবি, একটি মার্কিন অনুসন্ধান বিমান ধ্বংস করা হয়েছে, ইসফাহানের দক্ষিণে সি-১৩০ পরিবহণ বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে একটি ইজরায়েলি ড্রোনও। তাদের আরও দাবি, উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন (US Iran War)।

     

  • Iran: নিহত আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি, ইরানের কুর্সিতে এবার কে?

    Iran: নিহত আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি, ইরানের কুর্সিতে এবার কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েলের যৌথ হানায় নিহত হয়েছেন ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি (Khameneis Possible Successors)। তেহরান এই তথ্য নিশ্চিত করার পর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েল তেহরানে শাসন পরিবর্তনের আহ্বান জানালেও, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ক্ষমতা দখলের আশায় পাল্টা হামলা শুরু করেছে।

    আসরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতা (Iran)

    এদিকে, নয়া ইরান গঠনের প্রেক্ষাপটে দেশটির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতাও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বিরোধী নেত্রী মরিয়ম রাজাভি এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি পৃথক বার্তায় ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান, যদিও ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও স্পষ্ট করে দেন। নয়া নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ইসলামি আইনজ্ঞকে নিয়ে গঠিত একটি নেতৃত্ব পরিষদ সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবে (Khameneis Possible Successors)।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য

    ট্রুথ সোশ্যালে খামেইনির হত্যার কথা ঘোষণা করার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “তেহরানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কয়েকজন ভালো প্রার্থী আছেন।” সংবাদমাধ্যমে ফোনে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি ঠিক জানি কে, কিন্তু বলতে পারছি না।”
    কাকে তিনি পছন্দ করেন—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, আমার মনে হয় আছে। কয়েকজন ভালো প্রার্থী আছেন।” তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি (Iran)। প্যারিসভিত্তিক ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স অব ইরান (এনসিআরআই)-এর প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত মরিয়ম রাজাভি ইরানিদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় দেশটির ধর্মীয় শাসন উৎখাত করে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে তিনি বলেন, “ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের শাসনে আমাদের মাতৃভূমি আরও যন্ত্রণা ও ধ্বংস সহ্য করছে।” তিনি বিশেষ করে দেশের সাহসী তরুণদের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার আহ্বান জানান (Iran)।

    এনসিআরআই

    ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত এনসিআরআই নিজেকে নির্বাসিত সরকার হিসেবে উপস্থাপন করে। দলটির দাবি, ছ’মাসের একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নকশা তাদের প্রস্তুত আছে, যা অবাধ নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে (Khameneis Possible Successors)। রাজাভি বলেন, “এখনই সংহতির সময়। ইরানিরা শাহ ও মোল্লা—উভয়কেই প্রত্যাখ্যান করেছে।” এর অর্থ হল, রাজতন্ত্রে ফেরার সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করে দেন। এদিকে, ইরানের শেষ সম্রাটের পুত্র রেজা পাহলভিও এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলেন, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন হলে তিনি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছেন।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে মানবিক হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন, যা জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং শাসনের বিরুদ্ধে (Iran)। তিনি লেখেন, “চূড়ান্ত বিজয় আমাদেরই হবে। এই শেষ লড়াই শেষ করবে ইরানের জনগণ। আবার রাস্তায় নামার সময় ঘনিয়ে আসছে (Khameneis Possible Successors)।”

    জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

    দুই নেতাই ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশে সরাসরি আহ্বান জানান, যাতে তারা গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করে। রাজাভি আইআরজিসি ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের অস্ত্র নামিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাহলভি সতর্ক করে বলেন, “তা না করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা খামেইনির জাহাজের সঙ্গে ডুবে যাবেন।” বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, খামেইনির অনুপস্থিতিতে আইআরজিসি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে। খামেইনি কখনও প্রকাশ্যে উত্তরসূরির নাম জানাননি, তবে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেইনিকে দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা তাঁর পিতার কঠোর নীতির অনুসারী বলে সূত্রের খবর (Iran)।

    হাসান খোমেইনি

    আর একটি সম্ভাব্য নাম হল হাসান খোমেইনি, ইসলামিক বিপ্লবের জনক রুহোল্লাহ খোমেইনির নাতি। ৫৩ বছর বয়সী হাসান খোমেইনিও প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে খামেইনির তুলনায় তুলনামূলকভাবে সমঝোতাপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন (Khameneis Possible Successors)। খামেইনি হত্যার পরের দিন থেকেই জটিল উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ার রূপরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করে। সংবিধান অনুযায়ী, ইরান একটি নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করেছে, যা সাময়িকভাবে দেশ পরিচালনা করবে। এতে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং কট্টরপন্থী প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই প্রমুখ। তবে অন্তর্বর্তী পরিষদ দায়িত্ব পালন করলেও, ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে—এমনটাই বলছে ইরানি আইন। এই পরিষদের সদস্যরা শিয়া আলেম, যাঁরা প্রতি আট বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং যাঁদের প্রার্থিপদ গার্ডিয়ান কাউন্সিল অনুমোদন করে। গার্ডিয়ান কাউন্সিল অতীতে বহু প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। এমনকি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকেও ২০২৪ সালে অ্যাসেম্বলিতে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি (Iran)।

    সর্বোচ্চ নেতার পদে পরিবর্তন

    উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা জনসমক্ষে হয় না, ফলে কে এগিয়ে আছেন তা অনুমান করা কঠিন। ১৯৮৯ সালে আয়াতোল্লাহ রুহোল্লাহ খোমেইনির মৃত্যুর পরই একমাত্র সর্বোচ্চ নেতার পদে পরিবর্তন হয়েছিল (Khameneis Possible Successors)। সর্বোচ্চ নেতা ইরানের শিয়া ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু, যিনি রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সামরিক বাহিনী ও শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বাধিনায়কও। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরোধিতায় গঠিত তথাকথিত অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্সের নেতৃত্বেও এই বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং দেশের অর্থনীতির বহু ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব রয়েছে (Iran)।

     

  • India US Trade Deal: সময়ের ফের! ভারতকে কটাক্ষ করা ট্রাম্প সহযোগী লুটনিক ‘লুকিয়ে’ এলেন নয়াদিল্লিতে, কেন জানেন?

    India US Trade Deal: সময়ের ফের! ভারতকে কটাক্ষ করা ট্রাম্প সহযোগী লুটনিক ‘লুকিয়ে’ এলেন নয়াদিল্লিতে, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে সময়ের ফের! শুল্ক-যুদ্ধের সময় ভারতকে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই সহযোগী হাওয়ার্ড লুটনিক চুপিসারে এসেছেন ভারত সফরে। অথচ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য সচিব বড় মুখে দাবি করেছিলেন— “শেষ পর্যন্ত ভারত শুল্কের চাপে নতি স্বীকার করবে, দুঃখপ্রকাশ করবে এবং একটি চুক্তি করার চেষ্টা করবে।” সেই ছবিটাই বদলে গেল ২৬ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার লুটনিকই দিল্লিতে এসে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করেন, ঠিক সেই সময় যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দেয় (India US Trade Deal)।

    লুটনিকের সফর (India US Trade Deal)

    এই গোপন বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত—কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি। আদালতের রায়ের পর প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি, যা আগামী মাসে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়েল টুইট না করা পর্যন্ত ভারতে লুটনিকের সফরের খবর জানা যায়নি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মার্কিন দূত সার্জিও গোর। গোয়েল টুইট করেন, “মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক ও সার্জিও গোরকে আতিথ্য জানালাম। আমাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।” তবে বৈঠকের বিস্তারিত তিনি জানাননি। কিন্তু “বাণিজ্য” ও “অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব” শব্দের উল্লেখ থেকেই স্পষ্ট যে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি। তিন নেতাই ছবির জন্য পোজ দেওয়ার সময় হাসিমুখে ছিলেন। গয়ালের হাসি যেন একটু বেশিই চওড়া ছিল। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে আলোচনা শান্ত পরিবেশেই হয়েছে। গোরও বেশি কিছু জানাননি। তিনি টুইট করেন, “আমাদের দুই দেশের জন্য বহু সহযোগিতার ক্ষেত্র রয়েছে। হাওয়ার্ড লুটনিক ও পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ মধ্যাহ্নভোজ।”

    পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলেছে

    লুটনিকের সফরের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। খুব বেশিদিন আগে নয়, এক পডকাস্টে তিনি দাবি করেছিলেন যে— ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি গত বছর বাস্তবায়িত হয়নি, কারণ প্রধানমন্ত্রী মোদি সরাসরি ট্রাম্পকে ফোন করতে অস্বীকার করেছিলেন। এখন পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলেছে, কারণ ট্রাম্পের প্রভাব কমেছে। শুল্ক সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা বেশ কয়েকটি দেশ নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। কারণ ট্রাম্প এই পারস্পরিক শুল্ককে চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতও ওয়াশিংটনে নির্ধারিত তার বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর স্থগিত করেছে, যা চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ছিল। ভারতের জন্য আদালতের এই আদেশ কার্যত নতুন করে দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি করেছে এবং সম্ভবত আরও অনুকূল শর্ত আদায়ের পথ খুলে দিয়েছে (India US Trade Deal)।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। বুধবার তিনি ভারত-সহ অন্যান্য দেশকে “খেলা” না করার এবং বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে না আসার সতর্কবার্তা দেন। ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “যে কোনও দেশ যদি এই সুপ্রিম কোর্টের হাস্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলা করতে চায়—বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর, এমনকি দশকের পর দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়েছে—তাহলে তারা সম্প্রতি যে শুল্কে সম্মত হয়েছে তার চেয়েও অনেক বেশি শুল্ক এবং তার চেয়েও খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে।” বর্তমানে ভারতীয় রফতানি পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে। প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ  করেছিলেন। গুরুত্বপূর্ণভাবে, রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও তিনি তুলে নিয়েছিলেন (India US Trade Deal)। তবে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসবে না, বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এই প্রেক্ষাপটেই লুটনিকের নীরব সফর। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কি ফের আলোচনা হবে? উত্তর দেবে সময়ই।

     

LinkedIn
Share