Tag: TVK

  • Hindus Under Attack:  হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, ভারতজুড়ে একাধিক ঘটনার অভিযোগ

    Hindus Under Attack:  হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, ভারতজুড়ে একাধিক ঘটনার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের (Hindus Under Attack) ওপর হামলার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলেই অভিযোগ। বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন, ধর্মান্তরে বাধ্য করা, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি (Weekly Round up) অপবিত্র করা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবি, এই ঘটনাগুলির সামগ্রিক মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনা হয়নি।

    ৯ অগাস্ট থেকে ১৫ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারতে হিন্দুদের ওপর হামলা ও বৈষম্যের অভিযোগে ছ’টি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার সম্ভব হয়নি।

    অবৈধ অভিবাসনবিরোধী পুলিশের অভিযান (Hindus Under Attack)

    বেঙ্গালুরুতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী পুলিশের অভিযানে বৈধ নথিপত্র ছাড়া বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে।

    শনিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ। ইলেকট্রনিক সিটি ও হোয়াইটফিল্ড বিভাগের অভিযানে যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২,৮৯৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদারের পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করাই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানানো হয়েছে।

    হিন্দুত্ববাদী কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    আহিল্যানগর পুরসভার বিদ্যুৎ দফতরের চুক্তিভিত্তিক কর্মী ধীরজ কাচারুসিংহ রাজপুত ওরফে পরদেশিকে মুকুন্দনগরে একদল মুসলিম মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    তাঁর স্ত্রী ও কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের অভিযোগ, মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় কপালে তিলক পরায় তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে মারধর করা হয়েছিল। ঘটনাটিকে তাঁরা পরিকল্পিত হামলা হিসেবে দাবি করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    কানওয়ার যাত্রা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বামপন্থী সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ নিয়মিতভাবে কানওয়ারিয়া ও কানওয়ার যাত্রাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে। এর মাধ্যমে মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার একটি বিশেষ রাজনৈতিক ব্যাখ্যা প্রচার করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দ্য ওয়্যারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হিন্দুবিদ্বেষী প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি লেখাকে তুলনামূলকভাবে পরোক্ষ পদ্ধতিতে একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেখক আকাশ জোশী প্রথমে উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও গাড়ির মালিকদের দৃষ্টিতে কানওয়ারিয়াদের যানজট এবং নিরাপত্তার জন্য সমস্যা হিসেবে দেখিয়েছেন। পরে তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালের পর, অর্থাৎ কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি কর্তৃপক্ষ কানওয়ার যাত্রীদের যাত্রা সহজ করার চেষ্টা করছে।

    বেঙ্গালুরুতে কৌতুক অনুষ্ঠান বাতিল

    বেঙ্গালুরুর চার্চ স্ট্রিটের দ্য কমেডি থিয়েটারে নাসিফ আখতারের প্রস্তাবিত কৌতুক অনুষ্ঠান “ডিসরাপ্টেড” অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। হিন্দু সংগঠনগুলির আপত্তির পর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয় (Hindus Under Attack)।

    সংগঠনগুলির আশঙ্কা ছিল, অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। তাঁদের আপত্তির পরেই অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে খবর।

    তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এখন মতাদর্শের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমের প্রতিষ্ঠাতা তথা মুখ্যমন্ত্রী বিজয় জোসেফ  সংবিধাননির্ভর ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা বলেন। তবে একই সঙ্গে তাঁর দল রাজনৈতিক পরিসরে খ্রিস্টধর্মকে ক্রমশ বেশি করে জায়গা দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    দিল্লিতে কিশোরকে হত্যা, কানওয়ার যাত্রার যোগসূত্রের দাবি

    দিল্লির আদর্শনগরের লালবাগ বস্তিতে ১২ অগাস্ট বুধবার রাতে ১৬ বছর বয়সী নীরজকে প্রথমে ছুরি মেরে এবং পরে গুলি করে খুন করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আমান মুল্লার সঙ্গে বিবাদের পর এই হামলা ঘটে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীরজ একটি কারখানায় কাজ করতেন। ১১ আগস্ট কানওয়ার যাত্রা থেকে ফিরেছিলেন তিনি। তাঁর কানওয়ার যাত্রায় অংশগ্রহণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে হামলার সম্ভাবনার কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে থাকা হিন্দুবিদ্বেষী মনোভাব থেকে বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক অপরাধের জন্ম হয়। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কেবল প্রকাশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, আপাতদৃষ্টিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে থাকা সূক্ষ্ম বৈষম্যও হিন্দুবিদ্বেষকে উৎসাহিত করতে পারে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারে ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের যুক্তি, নিষেধাজ্ঞার পেছনে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কারণ দেখানো হলেও, আদতে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে বিষয়টি নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন উঠতে পারে (Hindus Under Attack)।

    প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং মতামতকে তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আদালতের নথি এবং স্বাধীন সংবাদসূত্র দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন (Weekly Round up)। বিশেষ করে ধর্মীয় বিদ্বেষ, হত্যাকাণ্ড ও অবৈধ অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Hindus Under Attack)।

     

  • Udhayanidhi Stalin Arrested: অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, গ্রেফতার উদয়নিধি স্ট্যালিন, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি বিজেপির

    Udhayanidhi Stalin Arrested: অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, গ্রেফতার উদয়নিধি স্ট্যালিন, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার সকালে তুমুল নাটকীয় পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হল তামিলনাড়ুর বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনকে। অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণণকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে চেন্নাইয়ে স্ট্যালিনকে গ্রেফতার (Udhayanidhi Stalin Arrested) করে তামিলনাড়ু পুলিশ। সোমবার একটি সমাবেশে তৃষাকে নিয়ে উদয়নিধির মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছিল তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। তাঁর (Actor Trisha) মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে সরব হয়েছিল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK)। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় উদয়নিধিকে হাসতে দেখা যায়। গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি বিষয়টিকে “একটা রসিকতা” হিসেবেই দেখছেন এবং এর বিরুদ্ধে “আইনিভাবে লড়াই করবেন”।

    উদয়নিধিকে কটাক্ষ (Udhayanidhi Stalin Arrested)

    উদয়নিধির গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে আক্রমণ করেছে তাঁর দল ডিএমকে। দলের নেতা টিকেএস এলাঙ্গোভান বলেন, “কারও বিরুদ্ধে কিছু বলা হয়নি। উদয়নিধি বিজয়ের ব্যর্থতাগুলি তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে অপমানজনক কিছু ছিল না। এমনকি তিনি তৃষার নামও নেননি।” এদিকে, টিভিকে নেতা আমেরিকাই নারায়ণন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “উদয়নিধি স্ট্যালিনকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বা টিভিকে-র বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য গ্রেফতার করা হয়নি, বরং একজন মহিলাকে অপমান করার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে।” উদয়নিধিকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, তাঁর নাম “উদয়নিধি” না হয়ে “ভালগার-নিধি” হওয়া উচিত।

    আপত্তিকর দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য

    সোমবার তাঞ্জাভুরে কাবেরী জলবণ্টন বিতর্ক নিয়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন উদয়নিধি। সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়কে নিশানা করে অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী উদাসীন থাকায় তামিলনাড়ু এক ফোঁটা কাবেরীর জলও পায়নি। এর মধ্যেই সমাবেশে উপস্থিত জনতার একাংশ “তৃষা, তৃষা” বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন। বক্তব্য থামিয়ে মুখে বিদ্রূপের হাসি নিয়ে উদয়নিধি তার জবাবে একটি আপত্তিকর দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরেই শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় মহিলা কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে উদয়নিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে TVK। দলটি পুলিশের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেছে। জাতীয় মহিলা কমিশনের কাছে দেওয়া অভিযোগে TVK বলেছে, “দর্শকদের স্লোগানের প্রেক্ষিতে উদয়নিধি স্ট্যালিন একজন বিশিষ্ট মহিলা জনপরিচিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর, দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য এবং অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছেন।” অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, “একটি রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার জনসমক্ষে মহিলাদের পণ্য হিসেবে দেখানো এবং মৌখিকভাবে হেনস্থাকে স্বাভাবিক করে তোলে।”

    বিজেপির বক্তব্য

    উদয়নিধির গ্রেফতারের দাবি আগেই জানিয়েছিল তামিলনাড়ু বিজেপিও। বিজেপির প্রধান মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি বলেন, “তাঞ্জাভুরে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এবং তৃষাকে নিয়ে উদয়নিধি স্ট্যালিনের (Udhayanidhi Stalin Arrested) দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য অত্যন্ত ঘৃণ্য, অশ্লীল, কুরুচিকর এবং লজ্জাজনক। সত্যি বলতে কী, একজন মা, স্ত্রী ও কন্যাসন্তান থাকা কোনও দুর্বৃত্ত বা চোরও এভাবে অশ্লীল কথা বলবে না। যে ব্যক্তি এই ধরনের কথা বলেন, কোনও মা, স্ত্রী বা মেয়ে তাঁকে ক্ষমা করবেন না। কিন্তু আরও লজ্জার বিষয় হল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন নীরবে দেখছেন, যখন নিজেদের ‘দ্রাবিড় মডেল’ বলে দাবি করা এই ব্যক্তিরা প্রকাশ্যেই এই ধরনের কথা বলছেন।” তিনি আরও বলেন, “এই নিম্নমানের বক্তব্যের জন্য উদয়নিধিকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হলে তামিলনাড়ুরই সম্মান বাড়বে।”

    অভিনেত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

    তৃষাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। অতীতেও অভিনেত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে, যার কেন্দ্রে ছিলেন অভিনেতা বিজয়। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চলচ্চিত্র জগতের পাশাপাশি রাজনীতির বিভিন্ন ব্যক্তিও তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করে আসছেন (Actor Trisha)। চলতি বছরের শুরুতেও তামিলনাড়ু বিজেপি নেতা নৈনার নাগেন্দ্রন মন্তব্য করেছিলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে বিজয়ের “তৃষার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা” উচিত। সেই সময় তৃষার আইনজীবীরাও তাঁর হয়ে (Udhayanidhi Stalin Arrested) এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

    নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    মঙ্গলবার উদয়নিধির (Udhayanidhi Stalin Arrested) মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেত্রী বনাথি শ্রীনিবাসনও। তাঁর অভিযোগ, উদয়নিধির বক্তব্য ছিল ‘অশালীন’ এবং তাতে দ্ব্যর্থবোধক ইঙ্গিত ছিল। অভিনেত্রী তৃষার কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে বনাথি লেখেন, “দ্ব্যর্থবোধক ইঙ্গিতে ভরা বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের অশালীন বক্তব্যের আমি তীব্র নিন্দা জানাই।” ডিএমকের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও সরব হন বিজেপির এই নেত্রী। তিনি বলেন, “ডিএমকের সদস্যরা এই ধরনের অসভ্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাষায় কথা বলেন। তাঁদের এই অসভ্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনীতির কারণেই মানুষ তাঁদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তারপরেও ডিএমকের আচরণে কোনও পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যায়নি।”

    নারীদের সম্মান করা দরকার

    উদয়নিধির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিজেপি নেত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক খুশবু সুন্দরও। তাঁর অভিযোগ, ওই মন্তব্য (উদয়নিধি স্ট্যালিনের) ছিল “অশালীন, নিম্নরুচির এবং অত্যন্ত অবমাননাকর”। এক্স হ্যান্ডেলে খুশবু লেখেন, “উদয়নিধি স্ট্যালিনের বক্তব্য শুনেছি। তা ছিল অশালীন, নিম্নরুচির এবং অত্যন্ত অবমাননাকর। তাঁর বক্তব্যে সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই প্রতিফলন দেখা যায়, যা তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে গ্রহণ করতে আগ্রহী বলে মনে হয়।” রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জনসমক্ষে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে একটি সীমারেখা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন খুশবু। তাঁর কথায়, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য যা-ই থাকুক, জনসমক্ষে বক্তব্যের একটি সীমা থাকা উচিত। নারীদের সম্মান করা দরকার, তাঁদের নিজেদের ইচ্ছা ও খেয়াল পূরণের জন্য দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।” তৃষার কাছে উদয়নিধির (Udhayanidhi Stalin Arrested) নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন খুশবু।

     

  • Lok Sabha Speaker: লোকসভায় বড় ভাঙন, শিন্ডে শিবিরে যোগ উদ্ধব শিবিরের ছয় শিবসেনা সাংসদের, আলাদা আসন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহীকেও

    Lok Sabha Speaker: লোকসভায় বড় ভাঙন, শিন্ডে শিবিরে যোগ উদ্ধব শিবিরের ছয় শিবসেনা সাংসদের, আলাদা আসন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহীকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক দু’দিন আগে দেশের রাজনীতিতে ঘটল বড় ধরনের পালাবদল। লোকসভার স্পিকার (Lok Sabha Speaker) ওম বিড়লা আনুষ্ঠানিকভাবে শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় লোকসভা সাংসদের একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় (Shiv Sena UBT) যোগদানের অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে লোকসভায় শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সাংসদ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।

    শক্তি বাড়ল এনডিএর (Lok Sabha Speaker)

    লোকসভা সচিবালয়ের জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অষ্টাদশ লোকসভায় বিভিন্ন দলের সংশোধিত অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) থেকে ওই ছয় সাংসদের দলবদলের বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে লোকসভায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর শক্তিও আরও বৃদ্ধি পেল। এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের জন্যও লোকসভায় পৃথক আসন বিন্যাসের অনুমতি দিয়েছেন স্পিকার। বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠী ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার আবেদন জানিয়েছে। যদিও ওই দলভুক্তিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংবিধানিক ও আইনি দিকগুলি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বৈঠকে আমন্ত্রণ তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের 

    অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সরকারের ডাকা সর্বদলীয় ফ্লোর লিডারদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই আরও কিছু রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত মিলছে। ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে এনডিএর সাংসদ সংখ্যা আরও বেড়েছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমর্থন এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় সাংসদের শিন্ডে শিবিরে যোগদানের ফলে সরকার গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলেই শুরু হয়েছে জল্পনা (Lok Sabha Speaker)।

    বিল পাসে আশাবাদী সরকার

    রাজনৈতিক মহলের ধারণা, লোকসভায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল এবং মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করানোর ক্ষেত্রে সরকার নতুন করে আশাবাদী। শরদ পওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমের সমর্থন মিলতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। এই ধরনের সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে লোকসভায় মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিলটি পাস করানো সম্ভব হয়নি।

    ‘অন্যায়’ আবদার তৃণমূল-উদ্ধব ঠাকরের দলের

    এদিকে, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস জোট ভেঙে টিভিকে-কে সমর্থন করার পর দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমও লোকসভায় কংগ্রেসের থেকে আলাদা আসন বিন্যাসের আবেদন করেছে। যদিও স্পিকার এখনও এ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত জানাননি। তবে তা অনুমোদিত হতে পারে বলেই জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। শিবসেনা (ইউবিটি) এবং তৃণমূল কংগ্রেস—দুই দলই তাদের বিদ্রোহী সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর (Shiv Sena UBT) সদস্যসংখ্যা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের বিধান লঙ্ঘন না করায় স্পিকারের পক্ষে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করার সম্ভাবনা খুবই কম (Lok Sabha Speaker)।

     

  • ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের (Rajya Sabha Polls) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার জারি হয় এই বিজ্ঞপ্তি। এর মধ্যে ১০টি রাজ্যের ২৪টি আসন সদস্যদের অবসরের কারণে ফাঁকা হয়েছে। পদত্যাগজনিত কারণে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও ওড়িশার ৩টি আসনে হবে উপনির্বাচন।

    নির্বাচনের সাত-সতেরো (ECI)

    কমিশন জানিয়েছে, ২৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ১৮ জুন। ওই দিনই বিকেল ৫টার পর হবে ভোট গণনা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৮ জুন বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা ৯ জুন মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন। ১১ জুন প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন।অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং মিজোরামে ২৪টি শূন্যপদে ভোট হবে। পদত্যাগের কারণে আরও ৩টি পদ শূন্য। ফলে বিরোধী জোট রাজ্যসভায় অন্তত তিনটি অতিরিক্ত আসন পেতে পারে বলেই ইঙ্গিত। যদিও শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ তাদের বর্তমান শক্তি বজায় রাখবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। আগামী মাসে রাজ্যসভা থেকে যাঁরা অবসর নেবেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু ও জর্জ কুরিয়েন।

    শক্তি বাড়ছে এনডিএর!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২৭টি আসনের মধ্যে শাসক এনডিএ তাদের শক্তি এক বাড়িয়ে ১৯-এ নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ২৪৫ সদস্য বিশিষ্ট রাজ্যসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ১৪৮। কংগ্রেসের রয়েছে ৪টি আসন, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-এর ১টি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)-এর ৩টি আসন। রাজ্য বিধানসভাগুলিতে (Rajya Sabha Polls) দলগুলির বর্তমান শক্তির ভিত্তিতে কংগ্রেস তাদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ করতে পারে (ECI)। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দু’টি আসনে জিততে পারে। শাসক তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (TVK) তামিলনাড়ুর উপনির্বাচনে একটি আসন জিতে প্রথমবারের মতো রাজ্যসভায় জায়গা পেতে পারে।

    এনডিএ ভালো অবস্থায়

    এনসিপি নেতা সুনেত্রা পাওয়ার এবং এআইএডিএমকে নেতা সিভি শানমুগম বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ায় রাজ্যসভায় ইস্তফা দিয়েছেন। সেই কারণেই উপনির্বাচন হবে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে। ওড়িশায় দেবাশিস সমান্ত রায়, বিজেডি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ছেড়েছেন রাজ্যসভার সদস্যপদও। তাই এই কেন্দ্রেও হবে উপনির্বাচন (ECI)। মহারাষ্ট্রে সুনেত্রা পাওয়ারের শূন্য পদে এনডিএ ভালো অবস্থায় রয়েছে (Rajya Sabha Polls)। তামিলনাড়ুর একটিমাত্র আসন বন্ধু দলগুলির সমর্থনে টিভিকের দখলে যেতে পারে। ওড়িশার আসনটি শাসক দলের ঝুলিতে যেতে পারে।

    কোন আসনে জিতছে কারা

    অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ চারটি আসনই জিততে পারে। গুজরাটে বিজেপি চারটি আসনেই জিতবে। তাই এই রাজ্য থেকে কংগ্রেস তাদের একমাত্র আসনটি খোয়াতে পারে। কর্নাটকে কংগ্রেস চারটির মধ্যে তিনটি আসনে জিততে পারে, একটি আসন যেতে পারে পদ্ম-ঝুলিতে। খাড়্গে ফের রাজ্যসভায় মনোনীত হতে পারেন (ECI)। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিজেপি দু’টি করে আসন জিততে পারে। এই দুই রাজ্যে কংগ্রেস একটি করে আসন পেতে পারে। ঝাড়খণ্ডে শাসক জেএমএম-কংগ্রেস জোট দু’টি আসনই জিততে পারে। তাদের জয়ের পথে খাড়া প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে পারে বিজেপি। অর্থাৎ, জোরদার লড়াই হতে পারে (Rajya Sabha Polls)।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক রাজ্যসভা নির্বাচনে ১০টি রাজ্যের ৩৭টি আসনের মধ্যে (ECI) বিজেপি জিতেছিল ১৩টি আসনে।

     

  • Thalapathy Vijay Trust Vote: ভাঙন ধরালেন এআইএডিএমকে-তে, তামিলনাড়ুতে আস্থাভোটেও জয়ী ‘থালাপতি’ বিজয়ের সরকার

    Thalapathy Vijay Trust Vote: ভাঙন ধরালেন এআইএডিএমকে-তে, তামিলনাড়ুতে আস্থাভোটেও জয়ী ‘থালাপতি’ বিজয়ের সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তামিলনাড়ুতে আস্থাভোটেও (Tamil Nadu Trust Vote) জয়ী ‘থালাপতি’ বিজয় (Thalapathy Vijay)। বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ (Thalapathy Vijay Trust Vote) দল হয়েছিল তামিলাগা ভেট্টিরি কাজাগাম (TVK)। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথও নিয়েছেন ‘থালাপতি’ বিজয়। তবে আসনে টিকে থাকা নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটল। তামিলনাড়ু বিধানসভায় আস্থাভোটে জয়ী হল বিজয়ের সরকার। তাঁর সরকারের পক্ষে ভোট দিলেন ১৪৪ জন বিধায়ক। বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন ২২ জন। এদিনের আস্থাভোট থেকে ৫৯ জন বিধায়ক নিয়ে বেরিয়ে যায় ডিএমকে। এআইএডিএমকে-র ৪৭ জন বিধায়ক ভোটাভুটিতে অংশ নেননি।

    এআইএডিএমকে -র অন্দরে ফাটলে

    আস্থাভোটের (Thalapathy Vijay Trust Vote) ফলাফল সামনে আসতে বিজয় বলেন, “হুইসলের জয় হয়েছে।” হুইসল তাঁর দল টিভিকে-র প্রতীকচিহ্ন। আস্থাভোটের এই ফলাফল আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে এআইএডিএমকে (AIADMK)-র অন্দরে ফাটলের কারণে। দলের আপত্তি সত্ত্বেও ২৫ জন বিধায়ক বিজয় এবং টিভিকে-র সপক্ষে ভোট দেন। (Tamil Nadu Trust Vote) ই পালানিস্বামীর নির্দেশ অগ্রাহ্য করে সম্প্রতি এআইএডিএমকে-র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন সন্মুগম এবং এসপি বেলুমণি। আগে থেকে ১২০ জনের সমর্থন ছিল বিজয়ের কাছে। যে বিধায়ক একটি ভয়োটে জয়ী হন, তাঁক ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। ফলে তিনি ভোট দিতে পারেননি। আস্থাভোটে এআইএডিএমকে-র বিদ্রোহী বিধায়কদের অভিযোগ, এআইএডিএমকে-র প্রধান ইকে পালানিস্বামী তাদের প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে-র সঙ্গে জোট বাঁধার চেষ্টা করছে। পাল্টা অভিযোগ তুলেছে এআইএডিএমকে। তারা বিজয়ের দলের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে বিধায়ক কেনার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে। যদিও সেই অভিযোগ খারিজ করেছেন বিজয়। তিনি বলেছেন যে তাদের সরকার ঘোড়া কেনাবেচা করে না, বরং ঘোড়ার গতিতে এগোচ্ছে সরকার।

    ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন

    বুধবার তামিলনাড়ুর বিধানসভায় আস্থাভোট (Thalapathy Vijay Trust Vote) হয়। টিভিকে-র জোটসঙ্গী কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের বিধায়কেরা স্বাভাবিক ভাবেই আস্থাভোটে সরকারের পক্ষে ভোট দেন। ভোটের ফলে দেখা যায় বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগারের (১১৮) তুলনায় অনেকটাই বেশি। ভোটাভুটির আগেই বিধানসভা কক্ষ ত্যাগ করেন এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে-র ৫৯ জন বিধায়ক। ইকে পলানীস্বামীর নেতৃত্বাধীন এডিএমকে ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

  • PM Modi: তামিলনাড়ুর নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর, ধুয়ে দিলেন কংগ্রেসকে

    PM Modi: তামিলনাড়ুর নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর, ধুয়ে দিলেন কংগ্রেসকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তামিলনাড়ুর নয়া মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়কে শপথ নেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আশ্বাস দেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে আগের মতোই কাজ চালিয়ে যাবে (Congress)। এর পাশাপাশি কংগ্রেসকেও নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিজয়ের টিভিকে-র মিত্র দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘পিঠে ছুরি মারা’র অভিযোগও করেন। শতাব্দী প্রাচীন কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ দল বলেও আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী।

    কংগ্রেসকে নিশানা প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু ডিএমকে-কে ছেড়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তামিলনাড়ুর বর্তমান পরিস্থিতি দেখুন। গত ২৫-৩০ বছর ধরে কংগ্রেস এবং ডিএমকের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বারবার ডিএমকের সঙ্গে জোট করে কংগ্রেস সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছে।” তিনি বলেন, “আসলে ২০১৪ সালের আগে যে ১০ বছর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ছিল, তা মূলত ডিএমকের সমর্থনের ওপরই টিকে ছিল। অথচ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই কংগ্রেস সেই ডিএমকের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করল। অথচ ডিএমকে সবসময় তাদের পাশে ছিল।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতার লোভে অন্ধ কংগ্রেস প্রথম সুযোগেই ডিএমকের পিঠে ছুরি মেরেছে। এখন রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে তাদের (PM Modi) আবার নতুন একটি দলের কাঁধে ভর করতে হচ্ছে।”

    নয়া মন্ত্রিসভায় কারা

    বিজয়ের নয়া মন্ত্রিসভায় মোট ৯ জন মন্ত্রী রয়েছেন। সেখানে তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের ঠাঁই দেওয়া হয়েছে (Congress)। টিভিকে প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। তবে সমর্থন করা সত্ত্বেও কংগ্রেসের ভাগ্যে ছেঁড়েনি মন্ত্রিত্বের শিকে। রাহুল গান্ধীর দলের কোনও নেতাই জায়গা পাননি তামিলনাড়ু মন্ত্রিসভায়। অথচ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য টিভিকে-কে প্রথমে সমর্থন করার কথা জানিয়েছিল কংগ্রেসই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে কংগ্রেস বিজয়ের দলের দিকে বিশেষ নজর রাখছে। শোনা যাচ্ছে, রাহুল বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এতটাই আশাবাদী ছিলেন যে, ডিএমকে-র ডাকা একাধিক বৈঠকে যোগ দেয়নি কংগ্রেস।

    ডিএমকের অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, আজ প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস সম্পর্কে যা বলেছেন, তা অনেক আগেই জানিয়েছিল ডিএমকে। তারা যখন জানতে পারে কংগ্রেস বিজয়ের টিভিকে-কে সমর্থন করছে, তখনই উঠেছিল ‘পিঠে ছুরি মারা’র অভিযোগ। ডিএমকের এক প্রস্তাবে, যা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের উপস্থিতিতে গৃহীত হয়েছিল, তাতে বলা হয়, “তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে ঠিক সেই কাজটাই করেছে, যা বিজেপি অন্য অনেক রাজ্যে করে।” ডিএমকের আরও অভিযোগ, “আমাদের দলনেতার পিঠে ছুরি মেরে কংগ্রেস বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানাতেও তারা ব্যক্তিগতভাবে আসেনি। তবুও স্ট্যালিন সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।” ডিএমকের দাবি, কংগ্রেসের পুরনো চরিত্র এখনও বদলায়নি। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “আমাদের জোটে কংগ্রেসকে একটি রাজ্যসভা আসন এবং ২৮টি বিধানসভা আসন দেওয়া হয়েছিল। অথচ মাত্র তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য একটি (PM Modi) দলে চলে গেল, যা জোট-কর্মীদের কঠোর (Congress) পরিশ্রমে পাওয়া জয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।”

     

  • Tamil Nadu: তামিলভূমে কাটল জট, সরকার গড়ল বিজয়ের জোট

    Tamil Nadu: তামিলভূমে কাটল জট, সরকার গড়ল বিজয়ের জোট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, রবিবার। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন টিভিকে-র সভাপতি সি জোসেফ বিজয়। তামিলভূমের আঞ্চলিক দল ভিসিকে অভিনেতা তথা রাজনীতিক ‘থলপতি’ বিজয়ের দল টিভিকে-কে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করে। তাতেই খোলে জট। নয়া সরকার গড়ার পথে আর কোনও বাধা রইল না বিজয়ের। জোগাড় করে ফেললেন সরকার গড়ার মতো ‘ম্যাজিক ফিগার’। তাঁর শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে প্রায় ছ’দশক ধরে চলা রাজ্যের দুই প্রধান দ্রাবিড় দল-ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র পালাক্রমে শাসনের অবসান ঘটল। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর শনিবার বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। কারণ ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১২০ জন নির্বাচিত বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করেছেন বিজয়।

    নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ (Tamil Nadu)

    রবিবার সকাল ১০টায় নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই শপথ নেওয়ার কথা টিভিকে-র আরও কয়েকজন মন্ত্রীর। রাজ্যপাল বিজয়কে আগামী ১৩ মে-র মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটের নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে শনিবার সন্ধ্যায়, যখন ভিসিকে এবং আইইউএমএল টিভিকে-কে সমর্থন জানায়। এর ফলেই টিভিকে-র জোটের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০। পরে বিজয় চেন্নাইয়ের লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখনই তিনি জমা দেন কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআইএম, ভিসিকে এবং আইইউএমএলের সমর্থনপত্রও। তামিলনাড়ু বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৩৪।

    ‘ম্যাজিক ফিগার’

    নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। এই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি কোনও দলই। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের টিভিকে ১০৮টিতে জিতে হয় একক বৃহত্তম দল। যদিও বিজয় দু’টি আসনে জয়ী হওয়ায় তাঁদের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। সরকার গড়ার জন্য ‘ম্যাজিক ফিগার’ পেতে বিজয়ের প্রয়োজন ছিল আরও ১১ জন বিধায়কের সমর্থন। তামিলনাড়ু কংগ্রেস প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল তারা টিভিকে-কে সমর্থন করবে। কংগ্রেসের ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি আসন। ‘ম্যাজিক ফিগারে’ পৌঁছতে টিভিকে-র প্রয়োজন ছিল আরও ছ’জন বিধায়কের সমর্থন।

    বিজয়কে সমর্থন করল যারা

    শুক্রবার সিপিএম এবং সিপিআই সমর্থন করার কথা জানিয়েছিল। তাদের জেতা আসনের সংখ্যা চার। তার পরে আরও দুই বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। শনিবার ভিসিকে প্রধান থোল থিরুমাভালাভান জানান, তাঁরা সরকার গঠনের জন্য বিজয়ের দলকে নিঃশর্ত সমর্থন করবেন। উল্লেখ্য, টিভিকে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের গড়ে তোলা একটি রাজনৈতিক সংগঠন। এবারের নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে এই সংগঠনই। দলটি নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ, তামিল সমাজভিত্তিক এবং সামাজিক ন্যায় ও সমতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরে। এই দলই এবার গড়ছে সরকার।

    মামলার জরুরি শুনানি

    এদিকে, ডিএমকে নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কেআর পেরিয়াকারুপ্পন মাদ্রাজ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন যাতে টিভিকে বিধায়ক শিনিবাস সেতুপাথিকে আস্থা ভোটে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ বেঞ্চের বিচারপতি এল ভিক্টোরিয়া গৌরি এবং এন সেন্থিলকুমারের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানি করার কথা আজ, রবিবার। পেরিয়াকারুপ্পানের অভিযোগ, শিবগঙ্গা জেলার তিরুপাত্তুর কেন্দ্রে ভোট পুনর্গণনা ঠিকঠাক হয়নি। তাই নির্বাচিত প্রার্থীকে আইনসভা গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া উচিত নয়।

     

  • DMK: তামিলনাড়ুতে টিভিকে-কে সমর্থন কংগ্রেসের, সংসদে আসন বদলের দাবি ‘ইন্ডি’-শরিক ডিএমকের

    DMK: তামিলনাড়ুতে টিভিকে-কে সমর্থন কংগ্রেসের, সংসদে আসন বদলের দাবি ‘ইন্ডি’-শরিক ডিএমকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে সংসদে ডিএমকে (DMK) সদস্যদের আলাদা বসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানালেন ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি করুণানিধি। চিঠিতে (Lok Sabha Speaker Letter) তিনি জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট। তাই ডিএমকে সাংসদদের আর কংগ্রেস সদস্যদের পাশে বসাটা যথাযথ নয়।

    কানিমোঝির চিঠি (DMK)

    কানিমোঝি লেখেন, “আমি সম্মানের সঙ্গে লোকসভায় ডিএমকের সাংসদদের বসার ব্যবস্থায় উপযুক্ত পরিবর্তনের অনুরোধ জানাচ্ছি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের জোটের অবসানের প্রেক্ষিতে, আমাদের সদস্যদের বর্তমান আসনে তাদের পাশে বসাটা আর যথাযথ নয়…।” তাঁর অনুরোধ, “ডিএমকে সাংসদদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হোক যাতে তাঁরা ঠিকঠাকভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।”

    তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল

    কানিমোঝির এহেন পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল।  ঘটনাটি রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় কোনও দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের নয়া দল টিভিকে (TVK) প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে, যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। শাসক ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি আসন, তাদের মিত্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা কংগ্রেস পেয়েছে ৫টি আসন, এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। একটি মাত্র আসনে জয়ী হয় বিজেপি।

    কংগ্রেসের ভোল বদল

    নির্বাচনের পর নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। ভোটের আগে কংগ্রেস ডিএমকের নেতৃত্বাধীন সেকুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (SPA)-এর অংশ ছিল। বিজয়ের দল জয় পেতেই ডিএমকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে টিভিকে-কে সরকার গঠনে সমর্থন করে রাহুল গান্ধীর দল। এই আনুষ্ঠানিক সমর্থনের ভিত্তিতে টিভিকে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানায়। যদিও টিভিকে-কংগ্রেস জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা পার হতে না পারায়, সেই প্রস্তাবও বাতিল করা হয়। ডিএমকে (DMK) নেতারা, যাঁর মধ্যে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনও রয়েছেন, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘পিঠে ছুরি মারা’ এবং সুযোগসন্ধানী রাজনীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, বহু বছর ধরে জাতীয় ও রাজ্য স্তরে জোটে থাকার পরেও কংগ্রেস বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

    ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের ইতি!

    তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের ইতিহাস ছয়ের দশকের শেষের দিক থেকে শুরু হয়। বহু নির্বাচন, ক্ষমতা ভাগাভাগি ও ‘ইন্ডি’ (INDI) জোটের মধ্যে দিয়েও সেই সম্পর্ক টিকে ছিল। ২০২৬ সালে আসন বণ্টন নিয়ে আগেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে (Lok Sabha Speaker Letter) নির্বাচনের পর কংগ্রেসের এই ভোলবদলে রাহুল গান্ধীর দলের  সঙ্গে পাকাপাকিভাবে গাঁটছড়া ছিন্ন হয়ে গিয়েছে ডিএমকের। কংগ্রেস নেতারা এই সিদ্ধান্তকে ‘জনগণের রায়কে সম্মান জানানো’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ ফ্রন্ট গঠনে’র পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও ডিএমকের দাবি, “নিষ্ঠার জন্য বড় মূল্য চোকানোর পর এই আচরণ সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা (DMK)।”

     

  • Saffron Wave: ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে নাটকীয় পালাবদল, নজির গড়ল পদ্মময় বলয়

    Saffron Wave: ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে নাটকীয় পালাবদল, নজির গড়ল পদ্মময় বলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে নাটকীয় মোড় (Saffron Wave)। পশ্চিমবঙ্গে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বিজেপি। ৩৪ বছরের বাম রাজত্ব, তার পরে ১৫ বছরের তৃণমূল জমানা শেষে বঙ্গে ফুটল পদ্ম (India Power Map)। বহুদিন ধরে বিজেপি-বিরোধী দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাংলার পতন সূচনা করেছে পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক মৌলিক পুনর্বিন্যাসের, যেখানে বিজেপি এখন হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি ক্ষমতার বলয় তৈরি করেছে।

    বদলে গেল দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক  সমীকরণ (Saffron Wave)

    এদিকে, তামিলনাড়ুতে দেখা গিয়েছে বড়সড় পরিবর্তন। সেখানে ১০০-র বেশি আসন জিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের দীর্ঘস্থায়ী মৌরশিপাট্টায় আঘাত হেনেছে নয়া দল তামিল বিকাশ কাজাগম (TVK)। যার জেরে বদলে গিয়েছে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক  সমীকরণ। কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UDF) ফের ক্ষমতায় ফিরেছে। এলডিএফের সঙ্গে পালাবদলের ধারা ভেঙে দিয়ে দক্ষিণে আবারও প্রাণপ্রতিষ্ঠা কংগ্রেসের।  এদিকে, অসম ও পুদুচেরিতে এনডিএর শাসনই জারি থাকছে। যা আদতে নির্দেশ করে উত্তর-পূর্ব এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাদের মজবুত অবস্থানকে।

    বিজেপির জয়জয়কার

    এদিকে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলের জেরে বদলে গিয়েছে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র। বর্তমানে বিজেপি একাই ১৭টি রাজ্যে রাজ করছে। এগুলি হল— পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অসম, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, ত্রিপুরা, গোয়া, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং উত্তরাখণ্ড। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শাসন করছে আরও পাঁচটি রাজ্য। এগুলি হল— বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড এবং সিকিম। সব মিলিয়ে মোট ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাশ রয়েছে এনডিএর হাতে (India Power Map)। এই ২২টি অঞ্চল ভারতের মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৭৩ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৮ শতাংশের (Saffron Wave)। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরে বিজেপির রাজ্যস্তরের বিধায়কের সংখ্যা প্রায় ১৭০০-তে গিয়ে পৌঁছেছে, যা কংগ্রেসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। পদ্মশিবিরের এই ফলের জেরে রাজ্যের আইনসভাগুলিতে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বিজেপি (India Power Map)। বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোট এখন দেশের প্রায় চার-পঞ্চমাংশ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে, যেখানে বিরোধী শিবিরের আওতায় রয়েছে মাত্র এক-সপ্তমাংশের কিছু বেশি।

    গেরুয়াময় অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ

    পশ্চিমবঙ্গ জয়ের মাধ্যমে বিজেপি এখন উত্তর হিমালয় অঞ্চল থেকে গঙ্গা সমভূমি, পশ্চিম মালভূমি হয়ে উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব উপকূল পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক ক্ষমতার বলয় গড়ে তুলেছে। এর ফলে নীতিগত সমন্বয়, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং নির্বাচনী কার্যকলাপ আরও সহজ হয়েছে (Saffron Wave)। দিল্লিতে বিজয় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী “বিকশিত ভারত” লক্ষ্যের সঙ্গে পূর্ব ভারতের পুনর্জাগরণের কথারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অতীতে বিহার, বাংলা ও ওড়িশা ভারতের গৌরবের তিন স্তম্ভ ছিল—অঙ্গ, বঙ্গ ও কলিঙ্গ। এই তিন রাজ্যের উন্নয়নই বিকশিত ভারত গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ (India Power Map)।” তিনি কলিঙ্গ (ওড়িশা)-কে সামুদ্রিক শক্তি, অঙ্গ (বিহার)-কে বস্ত্র বাণিজ্যের কেন্দ্র এবং বঙ্গ (পশ্চিমবঙ্গ)-কে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন।

    বৃত্ত ছোট হচ্ছে কংগ্রেসের

    অন্যদিকে, কংগ্রেস এখন একাই শাসন করছে মাত্র চারটি রাজ্য। এগুলি হল, হিমাচল প্রদেশ, তেলঙ্গানা, কেরল এবং কর্নাটক। ‘ইন্ডি’ জোটের সঙ্গে যুক্ত আরও দু’টি অঞ্চলেও রয়েছে কংগ্রেস—ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীর। এই ছ’টি অঞ্চল ভারতের মোট এলাকার প্রায় ১৯ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশের। যদিও এই জোট দক্ষিণ, মধ্য ভারত এবং হিমালয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে, তবুও তাদের ভৌগোলিক এবং জনসংখ্যাগত প্রভাব এনডিএর তুলনায় ঢের কম (Saffron Wave)। তবে কংগ্রেস-‘ইন্ডি’ জোটের শক্তি কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যেই কেন্দ্রীভূত—কেরলের উন্নত সামাজিক সূচক, কর্ণাটকের প্রযুক্তি-ভিত্তিক অর্থনীতি, তেলঙ্গনার শিল্পভিত্তি এবং ঝাড়খণ্ডের খনিজ সম্পদ তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে (India Power Map)। পরিসংখ্যান বলছে, এনডিএর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে চাইলে বিরোধী শিবিরকে মাত্র ১৪ শতাংশ জনসংখ্যা ও ১৯ শতাংশ এলাকা নিয়েই আগামী বছরগুলিতে (Saffron Wave) জাতীয় পর্যায়ে জনসমর্থন বাড়াতে হবে, করতে হবে জয়লাভও। তা না হলে অচিরেই স্রেফ সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে যাবে শতাব্দী-প্রাচীন দল কংগ্রেস।

     

LinkedIn
Share