Tag: uae

uae

  • India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্যস্ত। ব্যস্ত তার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লক্ষ্যপূরণে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধকে আরও মজবুত করার ভাবনায় মজে (India)। বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি, শুল্কযুদ্ধের ‘বাজুকা’ ছোড়া এবং লেনদেনভিত্তিক চুক্তিতে ঝোঁক, এ সবই তার বহিঃপ্রকাশ। ফলস্বরূপ, বিশ্বে স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে আমেরিকার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রভাব এখন আটলান্টিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত স্পষ্ট।

    নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন (India)

    দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার শক্তিগুলি নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন করছে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দুটি আলগা কিন্তু ক্রমশ আলোচিত কৌশলগত অক্ষ মাথা তুলতে শুরু করেছে। একটি গড়ে উঠছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে। অন্যটি গড়ে উঠছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও ইজরায়েলকে কেন্দ্র করে, যার কৌশলগত প্রান্তে রয়েছে গ্রিস ও সাইপ্রাস। এগুলির কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিক জোট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে হওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ চুক্তি, কূটনৈতিক বার্তা ও কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পুরানো জোটব্যবস্থা ভেঙে নতুন ও কার্যকর সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এসবই হচ্ছে সরকারি ঘোষণার তুলনায় অনেক দ্রুত।

    স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট

    এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (SMDA)। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে তৈরি এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি রিয়াধের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন, কারণ এতদিন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দ্বিপাক্ষিক ও মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর (India)। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং ট্রাম্প আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় থেকেই এই চুক্তির জন্ম। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে পরিচিত এই কাঠামোয় তুরস্কের আগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্লুমবার্গ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এই জোটে যোগ দিতে ‘উন্নত পর্যায়ের আলোচনা’ চালাচ্ছে (UAE)।

    বাস্তব চিত্র

    যদিও রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা বলছে এই কাঠামো আদর্শগত নয়, প্রতিরক্ষামূলক, তবুও বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করা কঠিন। সম্ভাব্য এই ত্রিপাক্ষিক জোটে এক ছাতার নীচে মিলিত হচ্ছে সৌদি আরবের আর্থিক শক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি। আঙ্কারাভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক টেপাভের বিশ্লেষক নিহাত আলি ওজচান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন দেশগুলিকে তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করছে (India)।” পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, এই চুক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সীমিত যুদ্ধের পর জোট মজবুত করার প্রয়াস। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের পক্ষে তুরস্কের সামরিক সমর্থন প্রকাশ্যে এসেছিল এবং নয়াদিল্লি তা লক্ষ্যও করেছিল। বহুদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে সৌদি আরবের জন্য এটি ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা, বিশেষত ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ‘ভাই’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের শীতলতার প্রেক্ষাপটে। আর তুরস্কের ক্ষেত্রে, এই ‘মুসলিম ন্যাটো’ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর মধ্যেই রয়েছে (UAE)।

    ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’

    যদি সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক অক্ষ এক দিক হয়, তবে অন্য দিকে রয়েছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব (India)। ১৯ জানুয়ারি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রায় দু’ঘণ্টার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি ও আবুধাবি একটি ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’ সই করে। ভাষাগতভাবে এটি সংযত হলেও সময়টি মোটেই কাকতালীয় নয়। সৌদি–পাক অক্ষ নিয়ে আলোচনা ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই চুক্তি প্রকাশ্যে আসে। আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক মাইকেল ভাটিকিওটিস এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “তুরস্ক–সৌদি আরব–পাকিস্তান অক্ষের মোকাবিলায় ভারত ইউএই এবং পরোক্ষভাবে ইজরায়েলকে নিয়ে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক অক্ষ গড়ে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “এই নতুন অক্ষগুলির জন্ম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তির সঙ্কোচনের ফল হিসেবে।”

    আব্রাহাম চুক্তি

    এই অংশীদারিত্ব আব্রাহাম চুক্তির পর আরও শক্তিশালী হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউএই ও ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এটি ভারত–ইজরায়েল–ইউএই– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে পূর্বে গঠিত (I2U2) জোট কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারত ইতিমধ্যেই ইজরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করে এবং যৌথ উৎপাদনেও যুক্ত। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চালায়। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ইজরায়েল প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়ায়। ইউএইর (UAE) কাছে ভারত ইয়েমেন, আফ্রিকা ও কৌশলগত লোহিত সাগর অঞ্চলে সৌদি প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি (India)। এই পাল্টা জোট কেবল পশ্চিম ভারত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে তুরস্কের আগ্রাসী অবস্থানের বিরুদ্ধে কৌশলগত সমন্বয় বাড়াচ্ছে  গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইজরায়েল। ২০২৪ সালে ব্রিটেনভিত্তিক ইউরোপিনিয়নের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত ৩+১ ত্রিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে (ইজরায়েল–গ্রিস–সাইপ্রাস) ভারতকে আমন্ত্রণ জানায় ইজরায়েল।

    জোট গড়ছে আঞ্চলিক শক্তিগুলি

    এয়ার মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত অনিল চোপড়া ‘ইউরেশিয়ান টাইমসে’ লেখেন, এই গোষ্ঠীটি ভবিষ্যতে ইউএইকেও (UAE) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অ্যাজেন্ডায় রয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, যা চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী (India)। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক–পাকিস্তান–সৌদি অক্ষ শুধু ভারতের জন্য নয়, ইজরায়েল, আর্মেনিয়া ও সাইপ্রাসের জন্যও চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোট গড়ে ওঠেনি। আমেরিকা ভেতরের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, ইউরোপ বিভক্ত। ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলি আর দিকনির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে না, তারা নিজেদের মতো করে জোট গড়ছে, হিসাব কষছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে (UAE)। এই অক্ষগুলি এখনও তরল এবং অনানুষ্ঠানিক হলেও, ভবিষ্যতের কৌশলগত রূপরেখা যে নতুন করে লেখা হচ্ছে, তা স্পষ্ট (India)।

     

  • India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) সম্পর্কে আরও উষ্ণতা যোগ হল আবু ধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের (India UAE meeting) ভারত সফরে। মাত্র দুই ঘণ্টার সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সংক্ষিপ্ত সফরেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বাণিজ্য, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে স্পষ্ট, ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক (India UAE relation) এখন শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে।

    ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক

    সোমবার সুদূর সংযুক্ত আমিরশাহি থেকে ঝটিকা সফরে ভারতে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তারপর প্রধানমন্ত্রী মোদির গাড়িতেই চলে বৈঠক। আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের এই ঝটিকা সফরের কিছু মুহূর্ত নিজের সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন এক্স হ্য়ান্ডেলে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে মোদি লিখেছেন, ‘আমার ভাই, প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক।’

    ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী বৈঠক

    নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষায় ভারতে এসেছিলেন আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। ছিলেন মাত্র তিন ঘণ্টা। এর মধ্য়েই নানা কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে দু’পক্ষের মধ্যে। জায়েদের সফর প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে বিনিয়োগ থেকে মহাকাশ গবেষণা — নানাবিধ বিষয়ে হাত মেলাতে প্রস্তুত হয়েছে ভারত এবং আরব আমিরশাহি। প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমিত এবং বর্ধিত পরিসরের আলোচনা হয়। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রের কথায়, বৈঠকের সময় কম হলেও সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি লেটার অব ইন্টেন্ট সই হয়, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। মহাকাশ ক্ষেত্রে দু’টি লঞ্চ সুবিধা এবং স্যাটেলাইট প্রস্তুত কারখানা তৈরির জন্যও চুক্তি হয়েছে, যা দু’দেশের যৌথ মহাকাশ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা

    বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। শক্তি খাতে আমিরাত প্রতি বছর ভারতের জন্য ০.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউএই দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা নেবে। ভারত ও আমিরশাহি স্বাগত জানিয়েছে এইচপিসিএল (HPCL) এবং এডিএনওসি (ADNOC Gas)–এর মধ্যে ১০ বছরের এলএনজি (LNG) সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরকে (India UAE energy deal)। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে ভারত বছরে ০.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি পাবে। এর ফলে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা আরও স্থিতিশীল হবে।

    পরমাণু শক্তি ব্যবহার

    শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার দরজা খোলা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমবারের মতো দুই দেশ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে যৌথ উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারমাণবিক চুল্লি তৈরিতে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ভারতের নতুন শান্তি (SHANTI) আইন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সহযোগিতার পথ আরও সহজ করবে বলে দুই পক্ষই মত প্রকাশ করেছে।

    এআই, ডেটা ও ডিজিটাল সহযোগিতা

    অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের পক্ষ থেকে গুজরাটের ধোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন, ডেটা সেন্টার, সুপার কম্পিউটিং এবং এআই সংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। ‘ডেটা এম্বাসি’ ধারণা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে, যা সার্বভৌম ডেটা ব্যবস্থার নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে (India UAE AI cooperation)। দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারতে একটি সুপারকম্পিউটিং ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। আমিরশাহি ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ডিজিটাল এমবাসি নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। শেখ মহম্মদ ২০২৬ সালে ভারতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (AI Impact Summit) আয়োজনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    মহাকাশ গবেষণা

    একই ভাবে মহাকাশ গবেষণার স্বার্থেও একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে ভারত-আরব আমিরশাহি। এর ফলে উপগ্রহ তৈরি থেকে লঞ্চিং- স্পেস সেক্টরে যৌথ উদ্যোগ বাড়বে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ

    খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা ভারতীয় কৃষক ও আমিরাতের খাদ্য সরবরাহ চাহিদা। উভয় দিকেই সুবিধা দেবে। এই আলোচনায় বিশেষ জায়গা পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ২০৩২ সালের মধ্য়ে ভারত-আরব আমিরশাহির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবি। টার্গেট ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গুজরাটে তৈরি হবে আবু ধাবি ব্যাঙ্ক ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের অফিস। বাড়বে কর্মসংস্থান, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একমত

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দু’দেশই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ-সহ সব ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের নিন্দা করেছেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রাথমিক চুক্তিপত্র (Letter of Intent) সই করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সফর ও যৌথ মহড়া দু’দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। দুই নেতা সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যৌথভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন।

    ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠা

    আবুধাবিতে ৪৫ লক্ষ ভারতীয় বাসিন্দার জন্য ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য বৃদ্ধি, যুব বিনিময় কর্মসূচি, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, এসব বিষয়েও দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

    আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়

    ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সহযোগিতা চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিও রয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবির। ২০১৯ সালের অগস্টে মোদির আবু ধাবি সফরের সময় তাঁর হাতে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব জায়েদ’ তুলে দিয়ে, নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মিত্রতা আরও বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আবু ধাবির তৎকালীন শাসক জায়েদ ২০২২ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমিরশাহি ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস (BRICS) সভাপতিত্বকে সমর্থন করেছে। ভারত সমর্থন করেছে আমিরশাহির জল সম্মেলন (UN Water Conference 2026)-কে।

  • PM Modi: আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) (UAE) প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে দিল্লি বিমানবন্দরে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সোমবারের এই সাক্ষাৎ দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্বকে আরও একবার তুলে ধরল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    আমার ভাই (PM Modi)

    পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা যখন চরমে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন যখন তুঙ্গে, গাজায় অস্থিরতা এবং সৌদি আরব এবং ইউএই জড়িত ইয়েমেন সঙ্কট এখনও অমীমাংসিত, ঠিক সেই সময়েই ভারত সফরে এলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) প্রেসিডেন্ট। সরকারি সূত্রের খবর, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং একাধিক মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আমার ভাই, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহামান্য শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-ইউএই দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতি তাঁর গুরুত্ব আরোপেরই প্রমাণ। আমাদের আলোচনার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।”

    শেখ মহম্মদকে আতিথ্য গ্রহণের আমন্ত্রণ

    এদিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন, ৭ লোক কল্যাণ মার্গে শেখ মহম্মদকে আতিথ্য গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইউএই প্রেসিডেন্ট এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্যই ভারতে থাকবেন এবং সোমবারই ভারত ছেড়ে যাবেন। দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠকটি প্রথমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত হয়েছিল, তবে পরে তা পিছিয়ে দেওয়া হয় (PM Modi)। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিতে দুই নেতা স্বাক্ষর করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিও ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি শেখ মহম্মদের তৃতীয় সরকারি ভারত সফর এবং গত এক দশকে তাঁর পঞ্চম ভারত সফর। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউএইর মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকেও নজর থাকবে সবার। ২০২২ সালে ব্যাপক অর্থনৈতিক (UAE) অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের পর থেকে ভারত ও ইউএইর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফর সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদানের ধারাবাহিকতা। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ভারত সফর এবং গত বছরের এপ্রিলে ইউএইর উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের ভারত (PM Modi) সফর।

  • UAE Visas Ban: ভিক্ষাবৃত্তি, অপরাধমূলক কাজকর্ম! পাকিস্তানিদের ভিসা নয়, জানাল আরব আমিরশাহি

    UAE Visas Ban: ভিক্ষাবৃত্তি, অপরাধমূলক কাজকর্ম! পাকিস্তানিদের ভিসা নয়, জানাল আরব আমিরশাহি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানিরা এসে অপরাধমূলক কাজকর্ম করছে। এই অভিযোগে এবার পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। পাকিস্তানি সংবাদপত্র জানাচ্ছে, পাকিস্তানের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিব সলমন চৌধুরি মানবাধিকার বিষয়ক সেনেট কার্যকরী কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টি জানিয়েছেন। চৌধুরি জানিয়েছেন, একবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে, তা অপসারণ করা কঠিন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বর্তমানে কেবল নীল এবং কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা দিচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে ভ্রমণ করে পাকিস্তানি নাগরিকরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।

    কেন ভিসা বন্ধ

    প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে প্রায় আট লক্ষ পাকিস্তানি ভিসা চেয়ে আবেদন করেন। মূলত, কর্মসংস্থান এবং উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের জন্য এই আবেদন করা হয়। তবে সম্প্রতি প্রচুর পাকিস্তানি নাগরিক সেখানে গিয়ে বেআইনি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানাচ্ছে আরব আমিরশাহি প্রশাসন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, সংযুক্ত আরব আমিরাশাহি, সৌদি আরব এবং আরও বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ পাকিস্তানের কমপক্ষে ৩০টি বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের ভিসা দেওয়ার উপরে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাকিস্তানি নাগরিকদের ওই সব দেশে ভিক্ষা করতে গিয়ে বা বিদেশে চোরাচালান, মাদকপাচার, মানবপাচার এবং অন্যান্য অপরাধমূলক অপরাধে জড়িত থাকার ঘটনা সামনে আসার পরেই ওই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

    পাকিস্তানের হতশ্রী দশা প্রকট

    মক্কা এবং মদিনায় হজ চলাকালীন ভিক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন প্রায় ৪ হাজার পাকিস্তানি নাগরিক। এছাড়াও মাদক পাচার, চোরাচালান-সহ একাধিক অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পাকিস্তানি নাগরিকরা বলে দাবি। নয়া সিদ্ধান্তে পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য পর্যটন, ভ্রমণ বা কাজের জন্য ভিসা-সহ সকল ধরনের ভিসা পাওয়ার বিষয়টিকে প্রভাবিত হবে। যাদের ভিসা রয়েছে, তার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধ থাকবে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দূতাবাসগুলিতে বা অনুমোদিত ভিসা কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে কোনও নতুন আবেদন নেওয়া হচ্ছে না। বেশ কিছু প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও আরও বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে পাকিস্তানি ভ্রমণকারীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রসেস বাধ্যতামূলক করেছে। আরব আমিরশাহির এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ‘ক্ষয়িষ্ণু’ পাসপোর্টের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। টানা তিন বছর ধরে বিশ্বের সবথেকে খারাপ র‌্যাঙ্কের পাসপোর্ট-এর তালিকায় তৃতীয় নম্বরে রয়েছে পাকিস্তান।

  • Israel Iran Conflict: ইজরায়েল-ইরাক দ্বন্দ্ব, তেহরানের পাশে মুসলিম রাষ্ট্র, তেলআভিভের পাশে কারা?

    Israel Iran Conflict: ইজরায়েল-ইরাক দ্বন্দ্ব, তেহরানের পাশে মুসলিম রাষ্ট্র, তেলআভিভের পাশে কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার কাকভোরে ইরানে প্রত্যাঘাত করেছে ইজরায়েল। ইরানের রাজধানী তেহরানের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে (Other Nations Reaction) আকাশপথে হামলা চালিয়েছে তেলআভিভ(ইজরায়েলের রাজধানী) (Israel Iran Conflict)। ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ মুসলিম দুনিয়া।

    ইরানের পাশে পাকিস্তান (Israel Iran Conflict)

    ইহুদি রাষ্ট্র ইজরায়েলের ইসলামিক রাষ্ট্রে হামলার তীব্র নিন্দা করেছে আর এক ইসলামিক রাষ্ট্র পাকিস্তান। ইসলামাবাদের (পাকিস্তানের রাজধানী) অভিযোগ, গোটা ঘটনার জন্য দায়ী ইজরায়েল। ইজরায়েল এই হামলার যোগ্য জবাব পাবে বলে হুমকি দিয়েছে ইরান। ইজরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে ইসলামিক রাষ্ট্রে আঘাত হানার পর ফুঁসে উঠেছে পাকিস্তান। হামলার নিন্দা করে পাক বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা করছে পাকিস্তান। এই হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার রাস্তা নষ্ট করছে। এই হামলায় আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। যা হচ্ছে তার জন্য সম্পূর্ণরূপে দায়ী ইজরায়েল। পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে, “আমরা রাষ্ট্রসংঘের কাছে আবেদন জানাব তারা যেন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন করে ও ইজরায়েলের বেপরোয়া ও অপরাধমূলক আচরণের অবসান ঘটাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ করে।” এক্স হ্যান্ডেলে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, “শান্তির পথ খুঁজতে ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলির পাশে রয়েছে পাকিস্তান। হিংসা এড়াতে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আবেদন জানানো হচ্ছে।”

    পাশে সৌদি আরবও

    ইসলামিক রাষ্ট্র ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে আর এক মুসলিম রাষ্ট্র সৌদি আরব। ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে ইজরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা করেছে তারা। এক্স হ্যান্ডেলে সৌদি বিদেশ মন্ত্রকের তরফে লেখা হয়েছে, “সৌদি আরব ইজরায়েলের এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করা এই পরিস্থিতির অবনতি রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ইরানের (Israel Iran Conflict) পাশে দাঁড়িয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরাকও।

    আরও পড়ুন: মহাকুম্ভ প্যাকেজে কী কী সুবিধা মিলবে জানেন?

    তবে ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। বাইডেন প্রশাসনের বার্তা, “আমরা ইরানকে পরিষ্কার বার্তা দিতে চাই যে তাদের তরফে কোনও রকমের প্রত্যুত্তর ইজরায়েলের প্রতিরক্ষায় বাধ্য করবে আমেরিকাকে।” ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টার্মার বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলছি যে নিজেকে (Other Nations Reaction) ইরানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রক্ষা করার অধিকার ইজরায়েলের রয়েছে (Israel Iran Conflict)।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Artificial intelligence: আরব আমিরশাহিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভার্চুয়াল কর্মচারী আয়েশাকে চেনেন?

    Artificial intelligence: আরব আমিরশাহিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভার্চুয়াল কর্মচারী আয়েশাকে চেনেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আপনারা কি আয়েশার কথা শুনেছেন? তাকে ঘিরে এখন শোরগোল পড়েছে। তার কাজ আলোড়ন ফেলেছে মধ্যপ্রাচ্যে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এই প্রথম ভার্চুয়াল কর্মচারী, যাকে দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial intelligence) মাধ্যমে কাজ করানোর কথা ভাবা হয়েছে। আইনি বিষয়ে নানান তথ্য দিয়ে পরিষেবা প্রদান করবে আয়েশা। 

    বিচার ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ (Artificial intelligence)

    সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিচার বিভাগকে অত্যাধুনিক মাত্রা দেবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial intelligence)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা পরিচালিত ভার্চুয়াল কর্মচারী আয়েশাকে উপভোক্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতে মক্কেলদের সহায়তা করার জন্য শীঘ্রই আয়শাকে মোতায়েন করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এক বছর আগে চালু করা হয়েছিল একটি অ্যাপ্লিকেশন। এবার তাকে সফল ভাবে প্রয়োগ করা হবে। এই এআই প্রযুক্তি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যেমন কাজ করছে, ঠিক তেমনি এবার বিচার ব্যবস্থায় আইনি সাহায্যেও প্রয়োগের কথা ভাবা হয়েছে।

    কীভাবে কাজ করবে আয়েশা?

    জানা গিয়েছে, আয়েশা (Artificial intelligence) ভার্চুয়ালি আদালতের প্রবেশদ্বারে অবস্থান করবে এবং মক্কলদেরকে তাদের লেনদেন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবে। মামলার ভিত্তি, লেনদেন পরিচালনা বিষয়ে প্রয়োজনীয় খসড়া এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা সম্পর্কে তথ্য জ্ঞাপন করবে। বিচার ব্যবস্থার এই উদ্যোগটি এআইকে বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। আয়েশা, নতুন এআই সহকারী হিসেবে বিচারক, আইনজীবী এবং উপভোক্তার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক বিষয়ে তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে। আয়েশা বিচারকদের কার্যকারিতাকে বৃদ্ধি করতে পুরাতন মামলার রায় দৃষ্টান্ত হিসাবে উপস্থাপন করবে। অতীতের মামলার বিস্তৃত তথ্যকে বিশ্লেষণ করে বিচারকের দেওয়া রায়গুলিকে আয়েশা সেকেন্ডের মধ্যেই সনাক্ত করতে পারবে। মামলায় বিচারকের সিদ্ধান্ত জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরেও সহযোগিতা করবে।

    আরও পড়ুনঃ গণনা চলছে ইরানের নির্বাচনের ভোট, ‘পুতুল’ প্রেসিডেন্ট কে?

    অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করবে

    আইনজীবীরা আয়েশাকে (Artificial intelligence) একটি অমূল্য সম্পদ বলে মনে করেছেন। কারণ তার বিস্তৃত ডাটাবেস, একজন সাধারণ আইনজীবীর অভিজ্ঞতার তুলনায় অনেক বেশী কার্যকরী হবে। একই ভাবে মামলার অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ পরামর্শ প্রদানের কাজও করতে পারবে। আইনি গবেষণা প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে সুগম করবে এই আয়েশা। তবে আইন এবং বিচার বিষয়ে মানুষকে প্রতিস্থাপন করা আয়েশার মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং একে কাজকে দ্রুত ও কম সময়ে করার একটি হাতিয়ার বলা যায়। এআইকে গ্রহণ করে কাজের কার্যকারিতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় এবং জটিলতা কমিয়ে আরও সহজ-সরল করা যায়, সেই বিষয়ের দিকেই মূলত লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • UAE weather: ফের অতি বৃষ্টিতে জলে ডুবল বিমানবন্দর! মরুদেশ দুবাইতে বাতিল বহু ফ্লাইট

    UAE weather: ফের অতি বৃষ্টিতে জলে ডুবল বিমানবন্দর! মরুদেশ দুবাইতে বাতিল বহু ফ্লাইট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারী বৃষ্টিতে বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনার দুই সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই আবারও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত (UAE weather) হলো। টানা বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার অনেক আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল (Flights cancelled in Dubai) করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির জেরে ভেসে যাচ্ছে একের পর এক শহর। বন্যার তোড়ে রাস্তা ডুবে গিয়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর দুবাইতে বাতিল হল বহু বিমান। জানা গেছে প্রায় ১৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েকটি বিমান। 

    বাড়িতেই থাকার অনুরোধ প্রশাসনের

    ইতিমধ্যেই অরেঞ্জ এলার্ট জারি (UAE weather) হয়েছে একাধিক এলাকায়। ফলে দুবাই (Dubai) ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অন্যান্য শহরগুলিতেও বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়িতেই থাকার অনুরোধ করেছে প্রশাসন। এই আবহে ওয়ার্ক ফ্রম হোম নীতি গ্রহণ করেছে বহু সংস্থা। স্কুলগুলি অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। 

    তৈরি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (UAE weather) 

    জানা গেছে বুধবার ভোররাত থেকেই বজ্রবিদ্যুৎসহ তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ফলে একটানা ঝড় বৃষ্টির (UAE weather) প্রভাবে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। তবে সরকার জানিয়েছেন যে কোন রকমের জরুরি অবস্থার মোকাবিলার জন্য তৈরি আছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এছাড়াও সবসময় দেশের (Dubai) পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে দুবাই পুলিশ ও ন্যাশনাল সেন্টার অফ মেটিওরোলজির (NCM) টিম। 

    আরও পড়ুন: ভোটবঙ্গে ফের শহরে প্রধান নরেন্দ্র মোদি! রাত্রিবাস রাজভবনে

    মরু দেশে হঠাৎ কেন এত বৃষ্টিপাত? 

    দেশের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, গত ৭৫ বছরে এত পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়নি। শুষ্ক জলবায়ু ও গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের জন্য পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সহ উপসাগরীয় দেশগুলি। তবে সেই মরুদেশেই দেখা দিয়েছে বন্যা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মরু দেশে (Dubai) হঠাৎ কেন এত বৃষ্টিপাত? এর জন্য ‘ক্লাউড সিডিং’ কে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। যদিও এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবহাওয়া বিভাগ দাবি করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের (UAE weather) কারণে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের (Flights cancelled in Dubai) মধ্যে পড়েছে দুবাই।

    প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৬ ও ১৭ এপ্রিল রেকর্ড ভাঙা ভারী বৃষ্টিপাতে তলিয়ে যায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। যেখানে মরু দেশটিতে এক বছরের গড় বৃষ্টিপাত হয় ৯৪ মিলিমিটার, সেখানে দুদিনে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৫৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

  • Dubai: দুবাইয়ে ভারী বর্ষা, রাস্তায় জমল জল, ব্যাহত বিমান পরিষেবা

    Dubai: দুবাইয়ে ভারী বর্ষা, রাস্তায় জমল জল, ব্যাহত বিমান পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু-দিনের বর্ষায় ভেসে গেল দুবাই (Dubai)। আমিরাতে বর্ষা উপভোগ্য বিষয়, কিন্তু এখন তা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার দুবাইয়ে (Dubai) ঝড় বৃষ্টির সঙ্গে ভারী বর্ষা (Heavy Rainfall) হয়। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র সোমবার ২০ মিলিমিটার বর্ষা হয়েছে দুবাইয়ে। মঙ্গলবার সারাদিন ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে কয়েক দফায় বৃষ্টি হয়। দুবাইয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৪২ মিলিমিটার বর্ষা হয়েছে। 

    বিমান ওঠা নামা ব্যাহত (Dubai)

    ভারী বৃষ্টির ফলে দুবাই বিমানবন্দরের জল জমে (Waterlogging) যায়। বিমানবন্দরে বিমান ওঠা নামা ব্যাহত হয়। বিমানবন্দরের আশেপাশে এবং দুবাই (Dubai) শহরের নানান প্রান্তে জল জমেছে। বুধবারেও শহরের আনাচে-কানাচে জল জমে ছিল। এই দৃশ্য দুবাইয়ে দুর্লভ। দুবাইয়ের পরিবহন দপ্তর সূত্রে খবর বুধবারও জল জমার কারণে যানবাহন কমে গেছে। শহরে বাস এবং অন্যান্য যানবাহন কম চলছে। এতটাই বৃষ্টি হয়েছে যে বিমানবন্দরের কর্মীদের রানওয়ে (Runway) ও ট্যাক্সি-তে পর্যন্ত পৌঁছতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিমান পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এমিরেটস যাত্রীদের চেক ইন সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষে তরফের সামাজিক মাধ্যমে জানানো হয়, যা বৃষ্টি হয়েছে তাতে অবস্থার স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। যাত্রীদের কাছে ধৈর্য রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর কারণে বৃষ্টি!

    দুবাইয়ে (Dubai) বৃষ্টি হওয়া কিংবা রাস্তায় জল জমার ঘটনা সাধারণ ব্যাপার নয়। সারা বছর এতটা কম বর্ষা হয় যে শহরের বছরের অধিকাংশ সময় শুষ্ক থাকে এখানকার আবহাওয়া। কিন্তু গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জেরে সারা বিশ্বে আবহাওয়ায় বদল এসেছে। আরবের মরু অঞ্চলও বৃষ্টির সাক্ষী থাকছে। দুবাইয়ের মানুষ এখন প্রায় সময়ই বর্ষার আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন। একইসঙ্গে অতিরিক্ত বর্ষা বয়ে নিয়ে আসছে নানান ধরনের সমস্যা। এবার বৃষ্টির সঙ্গে ব্যাপক পরিমাণে বজ্রপাত লক্ষ্য করা গেছে। এমনকী বুর্জ খলিফার চূড়ায়ও বেশ কয়েকবার বজ্রপাত হয়েছে বলে সেখানকার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

    আরও পড়ুনঃ ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের কতটা প্রভাব পড়বে ভারতে? কেন উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি?

    পাম্প লাগিয়ে রাস্তার জল বের করা হচ্ছে

    দুবাই (Dubai) পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাজকর্মেও খুবই অসুবিধে হচ্ছে। রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় গাড়ি নিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করতে সমস্যা হচ্ছে। ইউনাইটেড আরব আমিরাত সাতটি রাজশাহী মিলিয়ে তৈরি। দেশের সাতটি প্রান্তেই ঝড়ঝঞ্ঝার জেরে সরকারি কাজকর্মে বাধা এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এখানকার বেশিরভাগ সরকারি কর্মীরা দূরদূরান্ত থেকে কাজে যোগ দিয়ে থাকেন। অনেকেই বজ্রপাত সহ বৃষ্টির কারণে কাজে আসতে পারেননি। সরকারি কাজকর্মের বহু বিভাগে অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। অনেকেই কাজে আসার চেষ্টা করলেও রাস্তার জমা জল গাড়িতে ঢুকে যাওয়ায় কাজকর্মে যোগ দিতে পারেননি। দুবাই প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পাম্প লাগিয়ে রাস্তার জল নিকাশি প্রণালীতে ফেলার কাজ চলছে। দু-একদিনের মধ্যে অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • India UAE Relation: মোদির আমিরশাহি সফরে স্বাক্ষরিত হল ১০ চুক্তি, জানেন কী কী?

    India UAE Relation: মোদির আমিরশাহি সফরে স্বাক্ষরিত হল ১০ চুক্তি, জানেন কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ নিয়ে গত ক’মাসে তিনি প্রায় পাঁচ বার গেলেন সেদেশে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী পৌঁছন আবু ধাবিতে। সেটিকে তিনি তাঁর ঘর বলেই মনে করেন, জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    কী বললেন বিদেশ সচিব?

    বুধবার বিদেশ সচিব বিনয় কোয়েত্রা বলেন, “ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (India UAE Relation) মধ্যে ১০টি বিষয়ে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। শক্তি, পরিকাঠামো, লগ্নি এবং আর্কাইভাল ম্যানেজমেন্টের মতো জটিল ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়াতেও সম্পাদিত হয়েছে চুক্তি। মঙ্গলবার সে দেশে পৌঁছেই প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহেনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই সম্পাদিত হয়েছে চুক্তি এবং মউ। দুই দেশের বাণিজ্য যাতে মসৃণ গতিতে চলে এবং শক্তি নিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত হয়, তাই দুই দেশের (India UAE Relation) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে মউ।

    করিডর তৈরির কাজে জোর

    বিদেশমন্ত্রকের সচিব বলেন, “ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকনমিক করিডর এবং ইন্টার গভর্নমেন্টাল ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট নিয়েও আলোচনা হবে দুই দেশের মধ্যে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে উপকৃত হবে দুই দেশই। ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে যে লজিস্টিক প্লাটফর্মে আরও বেশি করে বোঝাপড়া প্রয়োজন, এই করিডর তৈরির জন্যও যে দুই দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন, তাও জানান বিদেশ মন্ত্রকের সচিব। দুই দেশের মধ্যে সাপ্লাই চেনও বজায় রাখতে হবে। বাল্ক কনটেনার্স এবং লিক্যুইড গুডসই যে দুই দেশের  আলোচনার অন্যতম ভরকেন্দ্র, তার ওপরও জোর দিয়েছেন ভারতের বিদেশ সচিব। তিনি জানান, ভারতের লক্ষ্য দ্রুত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকনমিক করিডর তৈরির কাজ শেষ করা এবং এই করিডরের সঙ্গে যেসব দেশ জড়িত, তাদের সঙ্গে শক্তপোক্ত সম্পর্ক গড়ে তোলা।

    আরও পড়ুুন: ফের ভাঙল কংগ্রেস, বিজেপিতে যোগ দিলেন লালবাহাদুর শাস্ত্রীর নাতি

    প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে হয় জি২০ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই ওই করিডর গড়ে তোলার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এই করিডর তৈরির কাজ শেষ হলে এক সুতোয় বাঁধা পড়বে ভারত, সংযুক্ত আরব আমির শাহি, সৌদি আরব, জর্ডন, ইজরায়েল এবং ইউরোপ। ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সম্পর্ক যাতে আরও শক্তিশালী হয় তাই ডিজিটাল ইনফ্রাকস্ট্রাকচার প্রজেক্ট নিয়েও মউ স্বাক্ষরিত হবে দুই দেশের মধ্যে। দুই দেশের মধ্যে দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং এক্সপার্টাইজও শেয়ার করা হবে (India UAE Relation)।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • PM Modi: “ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দোস্তি জিন্দাবাদ”, প্রবাসীর সুর প্রধানমন্ত্রীর মুখে

    PM Modi: “ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দোস্তি জিন্দাবাদ”, প্রবাসীর সুর প্রধানমন্ত্রীর মুখে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নেতাকে নিজের ভাই বলে সম্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বলেন, “আমার মনে হচ্ছে নিজের বাড়িতে এসেছি। এবং যখনই আমি আমিরশাহি আসি, তখনই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করি।” মঙ্গলবার আবু ধাবি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বৈঠক করে ইউএইর প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে। এদিন দুই দেশ অন্তত আটটি ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বাণিজ্য এবং ডিজিটাল পেমেন্ট প্লাটফর্ম সংক্রান্ত বিষয়।

    কী বললেন মোদি?

    এদিন বিন জায়েদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। তিনি বলেন, “আবু ধাবিতে বিএপিএস মন্দির নির্মাণের মধ্যে এটি প্রতিফলিত হয়েছে। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব হত না।” হিন্দু মন্দিরের জন্য জমি দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সমর্থন ও উদারতার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং উভয় পক্ষের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের সংযুক্তিকরণ ফিনটেকের ক্ষেত্রে একটি নয়া যুগের সূচনা করবে, যখন দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির দীর্ঘস্থায় প্রভাব থাকবে।”

    ভারতীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ

    এদিন সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয় সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের নাম ছিল ‘আহলান মোদি’, বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘হ্যালো মোদি’। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ উপস্থিত রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের হৃদয় এক সুতোয় বাঁধা। তবে তাঁদের প্রত্যেকের হৃদয়ে বাজছে এক সুর – ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দোস্তি জিন্দাবাদ।” প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আপনারা আমায় অসম্ভব ভালোবাসেন। আমার সঙ্গে দেখা করতে আমরা সময় বের করেছেন। তাই আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।” তিনি বলেন, “আমি আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। সঙ্গে নিয়ে এসেছি মাটির গন্ধ। সেই মাটি যে মাটিতে আপনারা জন্মেছিলেন, এবং এদেশে বয়ে নিয়ে এসেছেন ১৪০ কোটি মানুষের বার্তা। বার্তাটি হল, আপনার জন্য ভারত গর্বিত।” প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “বিন জায়েদ আমায় যা শ্রদ্ধা করেন, তা আমার কাছে একটি অতিমূল্যবান সম্পদ।”

    আরও পড়ুুন: ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে সন্দেশখালি, তারকা-সাংসদ নুসরতের ফোন ‘সুইচড অফ’

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

     
     
LinkedIn
Share