Tag: UDF

  • Munambam: কেরলে চার দেশক ধরে বসবাস করা হিন্দু মৎস্যজীবীদের কেনা জমিতে দখল বসাতে চায় ওয়াকফ, অন্দরের গল্পটা কেমন?

    Munambam: কেরলে চার দেশক ধরে বসবাস করা হিন্দু মৎস্যজীবীদের কেনা জমিতে দখল বসাতে চায় ওয়াকফ, অন্দরের গল্পটা কেমন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজকের সত্যটা শুনলে আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাবে। আচ্ছা, আপনি যে জমিতে আজ বাড়ি বানিয়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন, কাল সকালে উঠে যদি শোনেন সেই জমিটা আর আপনার নয়, ওটা রাতারাতি একটা ধর্মীয় বোর্ডের সম্পত্তি হয়ে গেছে—কেমন লাগবে আপনার? ভাবছেন অবাস্তব? কাল্পনিক গল্প? একদমই নয়! দেশের বুকে এটাই এখন রূঢ় বাস্তব। কেরলের এরনাকুলাম জেলার মুনামবাম (Munambam) গ্রাম। যেখানে ৬০০-র বেশি সনাতন এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবার গত চার দশক ধরে নিজেদের রক্ত জল করা টাকায় কেনা জমিতে বাস করছেন, সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছেন, রেজিস্ট্রি দলিল পকেটে নিয়ে ঘুরছেন—আজ তারা নিজেদের ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে রাস্তায় বসে কাঁদছেন! বর্তমান ইউডিএফ (UDF) সরকার চুপ।

    গোটা অন্যায়ের পেছনে কারা দাঁড়িয়ে আছে (Munambam)?

    কারণটা কী জানেন? কারণ, কেরলের ওয়াকফ বোর্ড হঠাৎ ফতোয়া জারি করেছে—পুরো মুনামবাম (Munambam) গ্রামটাই নাকি তাদের সম্পত্তি! দলিল, আইন, আদালত—সব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক নিমেষে কয়েকশো পরিবারকে রিফিউজি বানানোর ছক কষা হয়েছে। আর এই গোটা অন্যায়ের পেছনে কারা দাঁড়িয়ে আছে? কেরলের বামপন্থী আর কংগ্রেস জোটের সেই চেনা ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ (Appeasement Politics)! সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক বাঁচানোর জন্য তারা আজ নিশ্চুপ, অসহায় সাধারণ মানুষের কান্না তাদের কানে পৌঁছাচ্ছে না।

    কিন্তু পাপ তো আর চাপা থাকে না! মোদি সরকার যখনই ওয়াকফ বোর্ডের এই একনায়কতন্ত্রের ডানা ছাঁটতে ‘উমিদ’ (UMEED) পোর্টাল আনল এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং শুরু করল—অমনি কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ল! ওয়াকফ বোর্ডের ভেতরের এই বিশাল জমি দখলের খেলা আজ হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে। কী এই মুনামবাম বিতর্ক? কীভাবে ওয়াকফ আইনের অপব্যবহার করে একটি আস্ত গ্রাম গিলে খাওয়ার চেষ্টা চলছে?

    শিক্ষার উন্নতির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল

    কীভাবে একটা আস্ত গ্রামকে ওয়াকফ সম্পত্তির তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হল? ঘটনার সূত্রপাত ১৯৫০ সালে থেকেই। সিদ্দীক শেঠ নামের এক মুসলিম ব্যবসায়ী কোঝিকোড়ের ফারুক কলেজকে (Farook College) শিক্ষার প্রসারের জন্য মুনামবাম (Munambam) এলাকার প্রায় ৪০৪ একর উপকূলীয় জমি দান করেন। তবে এটি ছিল ফারুক কলেজকে দেওয়া একটি সাধারণ দানপত্র বা ‘গিফট ডিড’। শিক্ষার উন্নতির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল, কোনও ধর্মীয় ওয়াকফ করার জন্য নয়।

    ১৯৮৮ সালে ফারুক কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় এই জমির কিছু অংশ তারা বিক্রি করে দেবে। এলাকার প্রায় ৬১০টি গরিব পরিবার—যাদের সিংহভাগই খ্রিস্টান এবং হিন্দু মৎস্যজীবী সম্প্রদায়—নিজেদের জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, আনুমানিক ৩৩ লক্ষ টাকা দিয়ে আইনি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ফারুক কলেজের থেকে এই জমি কিনে নেয়। বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে এই মানুষগুলো সেখানে ঘর বানিয়েছে, রক্ত জল করে চাষবাস করেছে, প্রতি বছর সরকারকে জমির ট্যাক্স দিয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালে ঘটল সেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড! কেরল রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দাবি করল—এই পুরো ৪০৪ একর জমি আদতে ফারুক কলেজের নয়, ওটা ওয়াকফ সম্পত্তি! অতএব, ১৯৮৮ সালে সাধারণ মানুষ যে জমি কিনেছিল, সেই কেনাবেচার কোনো আইনি মূল্যই নেই! সরকারও গোটা বিষয় (UDF) নিয়ে চুপ।

    কেরলের কংগ্রেস আর বামপন্থীরা মায়া

    আজ কেরলের কংগ্রেস আর বামপন্থীরা মায়াকান্না কাঁদছে। মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশন বলছেন, “কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যখন ২০১৯ সালে ওয়াকফ বোর্ড এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন এই তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো কোথায় ছিল? ভোটব্যাংক হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তারা চুপ করে বসে ওয়াকফ বোর্ডের এই আগ্রাসনকে লাইসেন্স দিয়েছিল।”

    ইতিমধ্যে মুনামবামের হিন্দু এবং খ্রিস্টান সমাজ একজোট হয়ে রাস্তায় নেমেছে। তারা বুঝে গেছে, এই ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো তাদের রক্ষা করবে না। আজ সারা দেশের মানুষ স্পষ্ট দেখছে—কেন মোদি সরকারের ওয়াকফ সংশোধন বিল আনাটা কতটা জরুরি ছিল। যদি এই আইন সংশোধন না করা হয়, তবে আজ কেরলের মুনামবাম (Munambam), কাল আপনার বা আমার ঘরের জমিও এভাবে ওয়াকফ বোর্ড কেড়ে নিতে পারে!

    মুনামবাম গ্রামে আজ শত শত হিন্দু ও খ্রিস্টান পরিবার চোখের জল ফেলছে, এর আসল অপরাধী কে? এর আসল খলনায়ক হলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং তাদের দশকের পর দশক ধরে চালানো নির্লজ্জ ‘মুসলিম তোষণ’ নীতি।

    আজ কংগ্রেসের নেতারা কেরলে গিয়ে বড় বড় কথা বলছেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভণ্ডামি করছেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী আছে, এই ওয়াকফ বোর্ডকে দেশের সংবিধান এবং আদালতের ওপরে বসিয়ে দিয়ে একটা ‘সমান্তরাল সরকার’ চালানোর লাইসেন্স কারা দিয়েছিল? উত্তরটা হল—কংগ্রেস (UDF)!

    ফিরে যান ১৯৯৫ সালে। কেন্দ্রে তখন পি. ভি. নরসিমা রাও-এর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে নিজেদের পকেটে রাখতে কংগ্রেস দেশের সংসদে এমন এক কালো আইন পাস করল, যা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈষম্যমূলক—’ওয়াকফ অ্যাক্ট ১৯৯৫’।

    ওয়েনাডের সাংসদ একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি?

    কেরলের (Munambam) পরিস্থিতি আরও মারাত্মক। সেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) জোটের অন্যতম প্রধান অংশীদার হলো ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (IUML)। কেরলে ক্ষমতা (UDF) টিকিয়ে রাখতে এবং মুসলিম লীগের ভোটব্যাংক নিশ্চিত করতে কংগ্রেস সেখানে সবসময় ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিটি অন্যায় পদক্ষেপের সামনে নতজানু হয়ে থেকেছে।

    ২০১৯ সালে যখন ওয়াকফ বোর্ড মুনামবামের গরিব মৎস্যজীবীদের জমি নিজেদের বলে কেড়ে নিল, তখন কেন কংগ্রেসের রাজপুত্র রাহুল গান্ধী—যিনি কেরলেরই ওয়েনাডের সাংসদ ছিলেন—একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি? কেন তখন ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরা এই দলগুলো নীরব ছিল? কারণ একটাই—সাধারণ হিন্দু বা খ্রিস্টান মৎস্যজীবীদের কান্নার চেয়ে তাদের কাছে মুসলিম লীগের ভোটব্যাংকের মূল্য অনেক বেশি!

    মুনামবামের ঘটনা আজ ভারতের চোখ খুলে দিয়েছে। দেশের মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কংগ্রেসের এই তোষণের রাজনীতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তির অধিকারের জন্য কতটা বড় হুমকি!

    মৎস্যজীবীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে

    আজ কেরলের মৎস্যজীবীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। কিন্তু সুখের বিষয় এটাই যে, আজ আর ভারত আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। দিল্লিতে আজ এমন এক সরকার রয়েছে, যারা ভোটব্যাংকের তোষণ নয়, বরং ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’-এর নীতিতে বিশ্বাস করে।

    আজ নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শিতার কারণেই ‘উমিদ’ পোর্টালের মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিটি গোপন পদক্ষেপ দেশের মানুষের সামনে চলে আসছে। আর সেই কারণেই আজ দেশের আপামর জনতা—তা সে হিন্দু হোক বা খ্রিস্টান—একজোট হয়ে মোদি সরকারের ওয়াকফ সংশোধন বিলের পক্ষে সওয়াল করছে। দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এই বৈষম্যমূলক আইনের পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি (UDF)।

    মুনামবামের মানুষ আজ লড়াই করছেন তাদের ভিটেমাটি বাঁচানোর জন্য, আর আমাদের লড়াই করতে হবে এই তোষণের রাজনীতির ধারক-বাহকদের দেশ থেকে রাজনৈতিকভাবে উপড়ে ফেলার জন্য। যাতে ভবিষ্যতে ভারতের আর কোনো মুনামবাম গ্রামকে এভাবে চোখের জল ফেলতে না হয়।

  • Kerala: “কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকারের আচরণে নজর রাখতে হবে”, বললেন বিজেপি নেতা

    Kerala: “কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকারের আচরণে নজর রাখতে হবে”, বললেন বিজেপি নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)-এর নয়া সরকারকে সতর্ক করে দিলেন কেরল বিজেপির (Kerala) সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর। শনিবার তিনি জানান, ইউডিএফ বিধানসভা নির্বাচনে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ভুয়ো প্রচারের মাধ্যমে (BJP Chief Slams) জয়ী হয়েছে। তাঁর অঙ্গীকার, রাজ্যের পক্ষে বিপজ্জনক শক্তিগুলি সরকারকে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ করছে কি না, সেই বিষয়েও কড়া নজর রাখবে বিজেপি।

    বিজেপির বক্তব্য (Kerala)

    মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বিজেপির এই নেতা বলেন, “জামাত-ই-ইসলামি এবং এসডিপিআইয়ের মতো শক্তিগুলি এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে—এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি এমন একটি বিষয়, যা শুধু আজ বা আগামিকাল নয়, আগামী কয়েক মাস ও বছর ধরে গভীরভাবে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা দরকার। আমাদের এই সরকারের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং দেখতে হবে যে, কতটা এই সরকার এমন শক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যারা আমাদের রাজ্যের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এসডিপিআই এবং জামাত-ই-ইসলামির মতো সংগঠনগুলিকে মূলধারায় আনা আমাদের রাজ্যের পক্ষে ভালো নয়, কোনও মালয়ালির জন্যই ভালো নয়।”

    ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    চন্দ্রশেখর জানান (Kerala), নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দুর্নীতি, ভোটব্যাঙ্ক তোষণ এবং মালয়ালি সমাজকে বিভক্ত করার রাজনীতির বিরুদ্ধে বিজেপি (BJP Chief Slams) ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, “কংগ্রেস এমন কিছু প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এই জনসমর্থন পেয়েছে, যা তারা কখনও পূরণ করতে পারেনি। তারা সিপিএম ও বিজেপির মধ্যে গোপন সমঝোতার ভুয়ো গল্প রটিয়েছে এবং এফসিআরএ (FCRA) নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে। আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নয়া মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই, আমরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানালেও বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে দুর্নীতি, কোনও সম্প্রদায়কে তোষণ, অথবা মালয়ালিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব।”

    তিনি আরও বলেন, “আজ (শনিবার) সকালে মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত ভিডি সতীশন আমায় ফোন করেছিলেন এবং অত্যন্ত সৌজন্যের সঙ্গে ১৮ তারিখের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানান। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। দলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছাও জানাই এবং বলি যে, আমি অবশ্যই আমার সহকর্মী বিধায়ক ও দলীয় কর্মীদের নিয়ে উপস্থিত থাকব।” তিনি এও বলেন, “এই নির্বাচনকে ‘পরিবর্তনের জনাদেশ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এলডিএফ (LDF)-এর দশ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে।” প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কেরলে এলডিএফ সরকারের এক দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে (Kerala) নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। সতীশন ১৮ মে সকাল ১০টায় লোকভবনে (পূর্বতন রাজ্যপাল ভবন) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে (BJP Chief Slams) শপথ নেবেন।

     

  • Saffron Wave: ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে নাটকীয় পালাবদল, নজির গড়ল পদ্মময় বলয়

    Saffron Wave: ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে নাটকীয় পালাবদল, নজির গড়ল পদ্মময় বলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে নাটকীয় মোড় (Saffron Wave)। পশ্চিমবঙ্গে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বিজেপি। ৩৪ বছরের বাম রাজত্ব, তার পরে ১৫ বছরের তৃণমূল জমানা শেষে বঙ্গে ফুটল পদ্ম (India Power Map)। বহুদিন ধরে বিজেপি-বিরোধী দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাংলার পতন সূচনা করেছে পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক মৌলিক পুনর্বিন্যাসের, যেখানে বিজেপি এখন হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি ক্ষমতার বলয় তৈরি করেছে।

    বদলে গেল দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক  সমীকরণ (Saffron Wave)

    এদিকে, তামিলনাড়ুতে দেখা গিয়েছে বড়সড় পরিবর্তন। সেখানে ১০০-র বেশি আসন জিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের দীর্ঘস্থায়ী মৌরশিপাট্টায় আঘাত হেনেছে নয়া দল তামিল বিকাশ কাজাগম (TVK)। যার জেরে বদলে গিয়েছে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক  সমীকরণ। কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UDF) ফের ক্ষমতায় ফিরেছে। এলডিএফের সঙ্গে পালাবদলের ধারা ভেঙে দিয়ে দক্ষিণে আবারও প্রাণপ্রতিষ্ঠা কংগ্রেসের।  এদিকে, অসম ও পুদুচেরিতে এনডিএর শাসনই জারি থাকছে। যা আদতে নির্দেশ করে উত্তর-পূর্ব এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাদের মজবুত অবস্থানকে।

    বিজেপির জয়জয়কার

    এদিকে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলের জেরে বদলে গিয়েছে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র। বর্তমানে বিজেপি একাই ১৭টি রাজ্যে রাজ করছে। এগুলি হল— পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অসম, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, ত্রিপুরা, গোয়া, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং উত্তরাখণ্ড। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শাসন করছে আরও পাঁচটি রাজ্য। এগুলি হল— বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড এবং সিকিম। সব মিলিয়ে মোট ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাশ রয়েছে এনডিএর হাতে (India Power Map)। এই ২২টি অঞ্চল ভারতের মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৭৩ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৮ শতাংশের (Saffron Wave)। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরে বিজেপির রাজ্যস্তরের বিধায়কের সংখ্যা প্রায় ১৭০০-তে গিয়ে পৌঁছেছে, যা কংগ্রেসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। পদ্মশিবিরের এই ফলের জেরে রাজ্যের আইনসভাগুলিতে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বিজেপি (India Power Map)। বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোট এখন দেশের প্রায় চার-পঞ্চমাংশ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে, যেখানে বিরোধী শিবিরের আওতায় রয়েছে মাত্র এক-সপ্তমাংশের কিছু বেশি।

    গেরুয়াময় অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ

    পশ্চিমবঙ্গ জয়ের মাধ্যমে বিজেপি এখন উত্তর হিমালয় অঞ্চল থেকে গঙ্গা সমভূমি, পশ্চিম মালভূমি হয়ে উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব উপকূল পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক ক্ষমতার বলয় গড়ে তুলেছে। এর ফলে নীতিগত সমন্বয়, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং নির্বাচনী কার্যকলাপ আরও সহজ হয়েছে (Saffron Wave)। দিল্লিতে বিজয় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী “বিকশিত ভারত” লক্ষ্যের সঙ্গে পূর্ব ভারতের পুনর্জাগরণের কথারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অতীতে বিহার, বাংলা ও ওড়িশা ভারতের গৌরবের তিন স্তম্ভ ছিল—অঙ্গ, বঙ্গ ও কলিঙ্গ। এই তিন রাজ্যের উন্নয়নই বিকশিত ভারত গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ (India Power Map)।” তিনি কলিঙ্গ (ওড়িশা)-কে সামুদ্রিক শক্তি, অঙ্গ (বিহার)-কে বস্ত্র বাণিজ্যের কেন্দ্র এবং বঙ্গ (পশ্চিমবঙ্গ)-কে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন।

    বৃত্ত ছোট হচ্ছে কংগ্রেসের

    অন্যদিকে, কংগ্রেস এখন একাই শাসন করছে মাত্র চারটি রাজ্য। এগুলি হল, হিমাচল প্রদেশ, তেলঙ্গানা, কেরল এবং কর্নাটক। ‘ইন্ডি’ জোটের সঙ্গে যুক্ত আরও দু’টি অঞ্চলেও রয়েছে কংগ্রেস—ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীর। এই ছ’টি অঞ্চল ভারতের মোট এলাকার প্রায় ১৯ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশের। যদিও এই জোট দক্ষিণ, মধ্য ভারত এবং হিমালয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে, তবুও তাদের ভৌগোলিক এবং জনসংখ্যাগত প্রভাব এনডিএর তুলনায় ঢের কম (Saffron Wave)। তবে কংগ্রেস-‘ইন্ডি’ জোটের শক্তি কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যেই কেন্দ্রীভূত—কেরলের উন্নত সামাজিক সূচক, কর্ণাটকের প্রযুক্তি-ভিত্তিক অর্থনীতি, তেলঙ্গনার শিল্পভিত্তি এবং ঝাড়খণ্ডের খনিজ সম্পদ তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে (India Power Map)। পরিসংখ্যান বলছে, এনডিএর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে চাইলে বিরোধী শিবিরকে মাত্র ১৪ শতাংশ জনসংখ্যা ও ১৯ শতাংশ এলাকা নিয়েই আগামী বছরগুলিতে (Saffron Wave) জাতীয় পর্যায়ে জনসমর্থন বাড়াতে হবে, করতে হবে জয়লাভও। তা না হলে অচিরেই স্রেফ সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে যাবে শতাব্দী-প্রাচীন দল কংগ্রেস।

     

  • Chanakya Analysis: চাণক্য বুথফেরত সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু এবং কেরল চার রাজ্যের কোন দল এগিয়ে জানুন

    Chanakya Analysis: চাণক্য বুথফেরত সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু এবং কেরল চার রাজ্যের কোন দল এগিয়ে জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রকাশিত চাণক্য সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal Assembly election) ও অসমে গেরুয়া ঝড় এবং কেরল ও তামিলনাড়ুতে পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। চাণক্যের (Chanakya Analysis) বুথ ফেরত সমীক্ষায় অসম এবং বাংলায় বিজেপির সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তামিলনাড়ুতে স্টালিনের নিজের জয় অবিচল রাখতে জোরদার লড়াই হবে। কেরলে কংগ্রেস সমর্থিত ইউডিএফ সরকার গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে আছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল ৪ এপ্রিলেই জানা যাবে  যেসরকার কারা গড়ছে চার রাজ্যে।

    ১. পশ্চিমবঙ্গ: ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত (Chanakya Analysis)

    চাণক্যের (Chanaky Analysis) পূর্বাভাস সত্যি হলে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। সমীক্ষা অনুসারে সম্ভাব্য আসনের পরিমাণ হবে

    • বিজেপি+: ১৯২ (±১১) আসন
    • তৃণমূল কংগ্রেস (TMC): ১০০ (± ১১) আসন
    • অন্যান্য: ০২ (± ০২) আসন

    রাজ্যে তৃণমূলের (West Bengal Assembly election) দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে পারে।

    ২. অসম: ডাবল ইঞ্জিন সরকারে আস্থা

    অসমে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন বিজেপি জোট টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পথে। সমীক্ষা অনুসারে সম্ভাব্য আসনের পরিমাণ হবে

    • বিজেপি জোট (NDA): ১০২-১১১ আসন
    • কংগ্রেস জোট (INC+): ২৩-৩২ আসন
    • অন্যান্য: ০-১ আসন

    অসমে বিরোধী জোট বিশেষ সুবিধা করতে পারছে না, বড় জয়ের পথে এনডিএ।

    ৩. তামিলনাড়ু: দ্রাবিড় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

    তামিলনাড়ুতে এম.কে. স্ট্যালিনের ডিএমকে (DMK) জোট এগিয়ে থাকলেও, অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক দল টিভিকে (TVK) চমকপ্রদ ফল করতে পারে। সমীক্ষা অনুসারে সম্ভাব্য আসনের পরিমাণ হবে

    • ডিএমকে জোট (DMK+): ১২৫-১৩৬ আসন
    • টিভিকে (TVK): ৬৩-৭৪ আসন
    • এআইএডিএমকে (AIADMK/NDA): ৪৫-৫৬ আসন

    ডিএমকে কোনোমতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Chanakya Analysis) পেলেও প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারে বিজয়ের দল।

    ৪. কেরল: ক্ষমতার পটপরিবর্তন

    কেরলে প্রথা মেনে আবারও বামপন্থীদের হটিয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) ক্ষমতায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সমীক্ষা অনুসারে সম্ভাব্য আসনের পরিমাণ হবে

    • ইউডিএফ (UDF): ৬৯-৭৭ আসন
    • এলডিএফ (LDF): ৬৪-৭৩ আসন
    • বিজেপি (BJP): ৭-১১ আসন

    এলডিএফ এবং ইউডিএফ-এর মধ্যে কড়া টক্কর হলেও পাল্লা সামান্য ভারী কংগ্রেস শিবিরের দিকে। বিজেপিও রাজ্যে আসন সংখ্যা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • PM Modi: জোরকদমে ভোট চলছে কেরল-অসম-পুদুচেরিতে, কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: জোরকদমে ভোট চলছে কেরল-অসম-পুদুচেরিতে, কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জোরকদমে ভোটগ্রহণ চলছে কেরল, অসম এবং পুদুচেরি বিধানসভায় (Assembly Elections)। আজ, ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) আহ্বান, তাঁরা যেন বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি বিশেষভাবে যুবসমাজ এবং মহিলাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কেরলের জনগণকে বিপুল সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। রেকর্ড অংশগ্রহণ কেরলের গণতান্ত্রিক চেতনায় নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে। বিশেষ করে রাজ্যের যুবক-যুবতী এবং মহিলাদের আমি অনুরোধ করছি, তাঁরা যেন এগিয়ে এসে অধিক সংখ্যায় ভোট দেন।” কেরলে ২.৬ কোটিরও বেশি ভোটার রয়েছেন। রাজ্যের ১৪০টি বিধানসভা আসনে ৮৮৩ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। এই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে শাসক বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF), কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (UDF) এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-এর মধ্যে।

    অসমবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    অসম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি অসমের জনগণকে বৃহৎ সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই। আশা করি, রাজ্যের যুবসমাজ এবং মহিলা ভোটাররাও উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন এবং এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের উৎসবে পরিণত করবেন (PM Modi)।” অসমে ২.৫ কোটিরও বেশি ভোটার ১২৬ সদস্যের বিধানসভা গঠনের জন্য ভোট দেবেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭২২ জন। ভোট হচ্ছে পুদুচেরিতেও। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি প্রতিটি ভোটারকে অনুরোধ করছি যেন তাঁরা রেকর্ড সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে যুবসমাজ এবং মহিলা ভোটারদের প্রতি আমার আবেদন, তাঁরা যেন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এগিয়ে আসেন। প্রতিটি ভোট পুদুচেরির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ (Assembly Elections)।” পুদুচেরিতে ভোটার রয়েছেন ১০,১৪,০৭০ জন। এঁদের মধ্যে ৫,৩৯,১২৫ জন মহিলা, ৪,৭৪,৭৮৮ জন পুরুষ এবং ১৫৭ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। ১৮-১৯ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ২৪,১৫৬ এবং ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ ভোটার রয়েছেন ৬,০৩৪ জন।

    সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন

    এদিকে, এদিন সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন পড়ছে অসম, কেরল এবং পুদুচেরির বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে। কেরলের ১৪০টি, অসমের ১২৬টি এবং পুদুচেরির ৩০টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে এক দফায়ই। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে (PM Modi)। অসমে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন শাসক দল বিজেপি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে লড়ছে। আর কংগ্রেস ২০১৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ফের ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈ, বিধানসভার স্পিকার বিশ্বজিৎ দৈমারি, বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া, এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল, রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈ এবং অসম জাতীয় পরিষদের প্রধান লুরিঞ্জ্যোতি গগৈ (Assembly Elections)।

    লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন যাঁরা

    শাসক জোট এনডিএর প্রধান দলগুলি হল বিজেপি, অসম গণ পরিষদ (AGP) এবং বডো পিপলস ফ্রন্ট (BPF)। বিরোধী জোটে রয়েছে কংগ্রেস, রাইজর দল, অসম জাতীয় পরিষদ, সিপিআই(এম), এপিএইচএলসি এবং সিপিআই(এমএল)। কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে লড়ছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এখানে তৃতীয় শক্তি বিজেপি। কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিতে ভোটার রয়েছেন ৯.৫০ লাখ। পুদুচেরিতে ২৩টি, কারাইকালে ৫টি এবং মাহে ও ইয়ানামে ১টি করে বিধানসভা আসন রয়েছে। এআইএনআরসি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং কংগ্রেস, ডিএমকে ও ভিসিকের জোট প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের (Assembly Elections) দল টিভিকের অংশগ্রহণ বড় প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে (PM Modi)।

  • Election 2026: ভোটের ঢাকে পড়ল কাঠি, রাজ্যে দু’দফায় নির্বাচন, মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট লাগু

    Election 2026: ভোটের ঢাকে পড়ল কাঠি, রাজ্যে দু’দফায় নির্বাচন, মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট লাগু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের (Election 2026) সূচি ঘোষণা করে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এই রাজ্যগুলি হল পশ্চিমবঙ্গ (২৩ ও ২৯ এপ্রিল), তামিলনাড়ু (২৩ এপ্রিল), কেরল (৯ এপ্রিল), অসম (৯ এপ্রিল) এবং পুদুচেরি (৯ এপ্রিল)। ভোট গণনা হবে ৪ মে। কমিশনের এই ঘোষণার মাধ্যমে একটি বড় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল, যার মাধ্যমে প্রায় ৮২৪টি আসনে ভাগ্য নির্ধারিত হবে প্রার্থীদের।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা (Election 2026)

    রবিবার বিকেলে দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, প্রায় ১৭.৪ কোটি মানুষ এই নির্বাচনে অংশ নেবেন। এর মধ্যে অসমে ২.৫০ কোটি, কেরলে ২.৭০ কোটি, পুদুচেরিতে ৯.৪৪ লাখ, তামিলনাড়ুতে ৫.৬৭ কোটি এবং পশ্চিমবঙ্গে ৬.৪৪ কোটি ভোটার রয়েছেন। তিনি বলেন, “২০টি দেশের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে এবং তা থেকে শিক্ষা নিতে ভারতে আসবেন।” নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পাঁচটি ভোটমুখী রাজ্যে মডেল কোড অব কন্ডাক্ট (Model Code of Conduct) কার্যকর হয়ে গেল বলেও জানান তিনি। পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছে। আর অন্যদিকে বিজেপি তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে মরিয়া। রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে।

    নির্বাচন আরও তিন রাজ্যেও

    তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকের সেক্যুলার প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স মুখোমুখি হচ্ছে বিজেপি–এআইএডিএমকে জোটের। সেখানে মোট ২৩৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। কেরলে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF) সরকার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (UDF)-এর বিরুদ্ধে (Election Commission)। অসমে বিজেপি নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসতে চাইছেন। পুদুচেরিতে মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গাস্বামীর এআইএনআরসির মুখোমুখি হচ্ছে ডিএমকে–কংগ্রেস জোট।

    কমিশনের কড়া বার্তা

    এদিকে, ভুয়ো তথ্য ও ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়ে রাখল কমিশন। জ্ঞানেশ জানান, এই বিষয়টি নজর রাখবেন নোডাল অফিসাররা। এই ধরনের ভুয়ো তথ্য বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় মুছে ফেলা এবং এফআইআর দায়ের করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন তাঁরা। রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আদর্শ আচরণবিধি এখন থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর পর এমন কোনও ঘটনা ঘটলে, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে কমিশন।” অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন (Election 2026) বিচারকরা।  অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হলে, সেই তালিকার নামগুলি বর্তমান ভোটারদের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।” তিনি জানান, বিবেচনাধীন থাকা নামগুলি খতিয়ে দেখছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। তাঁরা যে নামগুলিকে অনুমোদন দেবেন, সেগুলি চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত করা হবে (Election Commission)।

    নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আপাতত ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ৪৪ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ৩ কোটি ২৮ লাখ, মহিলা ৩ কোটি ১৬ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১৫২জন। উল্লেখ্য যে, বঙ্গের মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় নির্বাচন হবে ১৫২টিতে, দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় নির্বাচন হবে ১৪২টি আসনে (Election 2026)।

     

  • Kerala Local Body Polls: ভেঙে পড়ল চার দশকের বামদূর্গ! তিরুঅনন্তপুরমে বিপুল জয় বিজেপির, ধন্যবাদ মোদির

    Kerala Local Body Polls: ভেঙে পড়ল চার দশকের বামদূর্গ! তিরুঅনন্তপুরমে বিপুল জয় বিজেপির, ধন্যবাদ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণে জয়-পতাকা উড়ল বিজেপির। কেরলের স্থানীয় নির্বাচনে (Kerala Local Body Polls) তিরুঅনন্তপুরমে ঐতিহাসিক জয় পেল এনডিএ। পাঁচ দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ওই পুরনিগমে ক্ষমতা দখল করল বিজেপি। তিরুঅনন্তপুরম কর্পোরেশনের মোট ১০১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫১টি ওয়ার্ড গিয়েছে এনডিএ জোটের থলিতে। বামফ্রন্ট এগিয়ে রয়েছে ২৯টি ওয়ার্ডে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর থলিতে গিয়েছে ১৯টি ওয়ার্ড। দু’টি ওয়ার্ডে জিতেছে দু’জন নির্দলীয় প্রার্থী। বাকি একটি ওয়ার্ডে নির্বাচন হয়নি।

    দলের জয়ে শুভেচ্ছা মোদির

    কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের কেন্দ্র, কেরলের রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমের পুরসভায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এবং সিপিএম নিয়ন্ত্রিত এলডিএফ জোটকে পিছনে ফেলে জয় ছিনিয়ে নিল বিজেপি। এই জয়ের জন্য ইতিমধ্যে তিরুঅনন্তপুরমের বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এই আঞ্চলিক নির্বাচনে দিবারাত্রি পরিশ্রম করা কার্যকর্তাদেরও। আমি এটাও নিশ্চিত ওই রাজ্যের উন্নয়ন ও বিকাশ নিয়ে মানুষের মনে যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা আমাদের দলই পূরণ করতে পারবে।’কার্যকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা এতদিন যে পরিশ্রম করলেন, আজ সেগুলির স্মৃতিচারণের দিন। আমি প্রতিটি বিজেপি কার্যকর্তাকে শুভেচ্ছা জানাই। এই সাফল্য সেই পরিশ্রমেরই ফলাফল।’

    বামেদের দুর্গে ফাটল ধরাল বিজেপি

    এর আগে কেরলের ত্রিশূরের লোকসভা নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি। তিরুঅনন্তপুরমে লোকসভায় আগের বার দ্বিতীয় স্থানে উঠেছিল গেরুয়া শিবির। এবার পুরনিগম দখল। গেরুয়া শিবির স্বপ্ন দেখছে এবার হয়তো তাদের জন্য কেরল এবং দক্ষিণের রাস্তা খুলবে। তিরুঅনন্তপুরম পুরসভায় বামেদেরই ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। বিরোধী হিসাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। তবে এ বারের নির্বাচন ছিল ত্রিমুখী। ইউডিএফ, এলডিএফ আর বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। শনিবার সকালে ভোট গণনা শুরুর পরে প্রাথমিক ট্রেন্ডে এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। বেলা গড়াতেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে যায়। ১০১ আসনের তিরুঅনন্তপুরম পুরসভার ৫১টিতে জয় হাসিল করে নেয় এনডিএ। একই সঙ্গে টানা ৪৫ বছর পরে লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট জমানার অবসান ঘটল। ক্ষমতাসীন এলডিএফ জিতেছে মাত্র ২৯টি আসনে। পাশাপাশি এলডিএফের হাত থেকে ত্রিপুনিথুরা পুরসভাও ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি জোট।

LinkedIn
Share