Tag: Ueno Bank

  • Paraguay: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে প্যারাগুয়ে, বিপাকে ৩০ লাখ গ্রাহক! গৃহবন্দি দেশের প্রেসিডেন্ট

    Paraguay: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে প্যারাগুয়ে, বিপাকে ৩০ লাখ গ্রাহক! গৃহবন্দি দেশের প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল ব্যাঙ্ক উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের জেরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না। একই সঙ্গে কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের সরকারি আমানত ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই আর্থিক বিপর্যয় ক্রমশ রাজনৈতিক (Paraguay) সংকটের রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতির জেরে ইমপিচমেন্টের মুখে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।

    গত ৬ নভেম্বর ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় পেনাকে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করে (President Faces Impeachment) পুলিশ। বর্তমানে তাঁকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সংসদে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে দায়িত্বে অনিয়ম এবং ব্যাঙ্কের আর্থিক বিপর্যয়ের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়।

    ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট (Paraguay)

    সংসদের উচ্চকক্ষে উপস্থিত ৪৪ জন সদস্যই পেনার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দেন। দায়িত্ব পালনে গুরুতর ব্যর্থতার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দেশের উপ-রাষ্ট্রপতি পেদ্রো আলিয়ানা নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, উয়েনো ব্যাঙ্কের মালিকানাধীন ব্যবসায়িক গোষ্ঠী গ্রুপো ভাসকেসের সঙ্গে পেনার পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসায় তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক ফৌজদারি তদন্তও শুরু হয়েছে।

    গত ৩ নভেম্বর প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক উয়েনো ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিদর্শনে দেখা যায়, ব্যাঙ্কটির আর্থিক সক্ষমতার অনুপাত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম মাত্রার অর্ধেকেরও নীচে নেমে গিয়েছে। এরপরই ব্যাঙ্কটির বিরুদ্ধে বিশেষ নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। আমানতকারীদের অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাঙ্কের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারির পদক্ষেপ করা হয়। এর প্রতিবাদে এবং নিজেদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তার দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভে সামিল হন সাধারণ মানুষ।

    প্যারাগুয়ের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই উয়েনো ব্যাঙ্কের গ্রাহক। ফলে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই ব্যাঙ্কের বিপর্যয় সাধারণ মানুষের কাছে কার্যত বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের সঞ্চয় আটকে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি তহবিলের কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের অর্থও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    একসময় ছোট একটি আর্থিক সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পাঁচ বছরেরও কম সময়ে গোটা দেশে নিজেদের ব্যবসা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা। ২০২১ সালে গ্রুপো ভাসকেস ফিনানসিয়েরা এল কোমেরসিও অধিগ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেটির নাম পরিবর্তন করে ফিনানসিয়েরা উয়েনো রাখা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয় তাদের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। ২০২৩ সালে পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ্ক হিসেবে কাজ করার অনুমতি পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচয় হয় উয়েনো ব্যাঙ্ক। এরপর ২০২৪ সালে ভিশন ব্যাঙ্ক অধিগ্রহণ ও সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে গ্রাহকসংখ্যা এবং ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ায় তারা।

    উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের কারণ

    আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর দুর্বলতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্তই উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, ব্যাঙ্কটি তার মালিকপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সংস্থাকে বিপুল পরিমাণ ঋণ দিয়েছিল। অর্থাৎ, মালিকপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি (Paraguay)।

    প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ সংক্রান্ত হিসাবনিকাশে একাধিক অসংগতি, পর্যাপ্ত নথিপত্র ছাড়া আর্থিক লেনদেন এবং গ্রুপো ভাসকেসের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে দেওয়া ঋণের বিষয়টি উঠে এসেছে। ব্যাঙ্কের হিসাবপত্র খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তার মূলধনের পরিমাণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মাত্রার অর্ধেকেরও নীচে নেমে গিয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে প্যারাগুয়ের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের উপর। উয়েনো ব্যাঙ্কে জমা থাকা প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলারের আমানত ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু সাধারণ গ্রাহকই নন, ব্যাঙ্কটির মাধ্যমে পেনশন পাওয়া প্রায় ৩২ হাজার অবসরপ্রাপ্ত মানুষও এই সংকটের শিকার হয়েছেন।

    একটি দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল ব্যাঙ্কের আর্থিক বিপর্যয় কীভাবে গোটা দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে (President Faces Impeachment) পারে, প্যারাগুয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা তারই বড় উদাহরণ। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আমানতকারীরা কবে তাঁদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পাবেন এবং এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির দায় শেষ পর্যন্ত কার উপর (Paraguay) বর্তাবে।

     

LinkedIn
Share