Tag: Ukraine war

Ukraine war

  • Russia: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি সমর্থন রাশিয়ার, পশ্চিমি দেশগুলির অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি মস্কোর

    Russia: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি সমর্থন রাশিয়ার, পশ্চিমি দেশগুলির অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি মস্কোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের  নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে ফের সমর্থন করল রাশিয়া (Russia)। রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার হলে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। ভারত ও ব্রাজিলকে স্থায়ী সদস্য করার পক্ষে সওয়াল করলেও জার্মানি ও জাপানের মতো দেশগুলিকে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন (UNSC) তিনি।

    শনিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লাভরভ বলেন, “আমরা এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারত ও ব্রাজিলের দাবিকে আমরা সমর্থন করি।”

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে আফ্রিকার স্বার্থকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রুশ বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলির ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন।

    বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল (Russia)

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চ থেকে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন লাভরভ। তাঁর দাবি, বিশ্বের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের দেশগুলি ক্রমশ স্বাধীন উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই দেশগুলির গুরুত্ব বাড়ছে।

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লাভরভ বলেন, “একক আধিপত্যবাদী শক্তির একনায়কতন্ত্র বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।” তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কোনও একটি শক্তির একচ্ছত্র আধিপত্যের পরিবর্তে একাধিক শক্তিকেন্দ্রের উপস্থিতি প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটেই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলির বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকে যুক্ত করেছে রাশিয়া।

    ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমি দেশগুলিকে নিশানা

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতার সময় ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও পশ্চিমি দেশগুলির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন লাভরভ। তাঁর দাবি, পশ্চিমি দেশগুলি এখনও ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে কিয়েভকে সাহায্য করছে।

    ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা বাধাগ্রস্ত করার জন্য ইউরোপীয় সরকারগুলিকেও দায়ী করেন তিনি। লাভরভ বলেন, “রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখার অবাস্তব লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে পশ্চিমি দেশগুলি ইউরোপের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে এবং কিয়েভে রাশিয়াবিদ্বেষী শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।”

    ইউক্রেনকে রাশিয়ার সাধারণ নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা চালাতে ইউরোপীয় সরকারগুলি সাহায্য করছে বলেও অভিযোগ করেন রুশ বিদেশমন্ত্রী (Russia)।

    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ ভারতের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী এবং বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য। পাঁচ স্থায়ী সদস্য হল আমেরিকা, চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও ব্রিটেন। এই পাঁচ দেশের প্রত্যেকেরই ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটে নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্যরা দু’বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করে। তাদের ভেটো প্রয়োগের অধিকার নেই।

    নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব প্রতি মাসে পর্যায়ক্রমে সদস্যদেশগুলির মধ্যে পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন সংঘাত ও সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই পরিষদ। সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় (UNSC)।

    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হল ভেটো। কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যে কোনও একটি দেশ ভেটো প্রয়োগ করলে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয় না। তবে কোনও প্রস্তাবে সরাসরি বাধা না দিয়ে ভোটদান থেকে বিরত থাকার সুযোগও রয়েছে স্থায়ী সদস্যদের (Russia)।

    ১৯৪৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিকবার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে স্থায়ী সদস্যদেশগুলি। ২০২৬ সালের অগাস্ট পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়কাল-সহ রাশিয়া মোট ১৬২ বার ভেটো প্রয়োগ করেছে। আমেরিকা এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে ৯৫ বার। তুলনামূলকভাবে চিনের ভেটো প্রয়োগের সংখ্যা কম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তা বেড়েছে। অন্যদিকে, ১৯৮৯ সালের পর থেকে ফ্রান্স ও ব্রিটেন ভেটো প্রয়োগ করেনি।

    দীর্ঘমেয়াদি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ

    ভারত স্থায়ী সদস্যপদ পেলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে। তবে নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না, তা এখনও আলোচনাসাপেক্ষ। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা বাড়াতে রাষ্ট্রসংঘের সনদ সংশোধনও প্রয়োজন। এর জন্য সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্য-সহ দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যদেশের অনুমোদন প্রয়োজন।

    রাশিয়ার সাম্প্রতিক সমর্থন (UNSC) ভারতের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি মস্কোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করল। তবে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সদস্যদেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলাই এখন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় (Russia)।

     

  • PM Modi: ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠক, আলোচনায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ সহযোগিতা

    PM Modi: ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠক, আলোচনায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ সহযোগিতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, দুই রাষ্ট্রনেতার এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে (BRICKS Summit)। নিরাপত্তা, মাদক পাচার রোধ, সন্ত্রাস দমন, মহাকাশ গবেষণা এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতার পাশাপাশি রাশিয়ার অত্যাধুনিক সু-৫৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    শনিবার ও রবিবার দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে পুতিনের পাশাপাশি উপস্থিত থাকার কথা চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতার। সম্মেলনের আগে মোদি-পুতিন বৈঠককে তাই কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ফের মুখোমুখি হতে চলেছেন মোদি-পুতিন (PM Modi)

    গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হতে চলেছেন মোদি ও পুতিন। এর আগে কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠেছিল। মোদি জানিয়েছিলেন, “এখন সময় এসেছে অন্তহীন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর।” ফলে আসন্ন বৈঠকে ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কোনও আলোচনা হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র পেসকভ জানিয়েছেন, শুক্রবারের বৈঠকে উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় এবং দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি মাদক পাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে। সেই সম্পর্কের পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও বৈঠকে খতিয়ে দেখা হতে পারে (PM Modi)।

    বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে সু-৫৭ যুদ্ধবিমান। পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি আলোচনার তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে ভারত যে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তা নিয়েও রাশিয়া আলোচনা করতে প্রস্তুত। ফলে বৈঠক থেকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয় কি না, তা নিয়েও জন্ম হয়েছে (BRICKS Summit) প্রত্যাশার।

    জোটে পরিণত হয়েছে ব্রিকস

    এদিকে আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে ব্রিকসের বর্তমান ভূমিকা নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন পেসকভ। তাঁর দাবি, ব্রিকস এখন আর শুধুমাত্র একটি সংগঠন নয়, বরং কার্যত একটি জোটে পরিণত হয়েছে। ভারতের সভাপতিত্বে এই জোটের সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সহযোগিতা গড়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পেসকভ বলেন, “এই ধারণাগুলির সঙ্গে অনেক দেশই (PM Modi) একমত। একমেরু ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং তার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাচ্ছে। একমেরু ব্যবস্থা বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিকে আঘাত করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। ব্রিকসে প্রতিনিধিত্বকারী বিশ্বের বৃহত্তর অংশ এমন একটি ভিন্ন কাঠামো চায়, যেখানে প্রতিটি দেশ অন্য দেশের সমান মর্যাদা পাবে।”

    মোদি-পুতিন বৈঠক এবং ব্রিকস সম্মেলনের আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ইউক্রেন ও রাশিয়া সফরও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সম্প্রতি ইউক্রেন ও রাশিয়া সফরের সময় জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, ভারত এমন কোনও ধারণা বা প্রস্তাব খুঁজে দেখতে চাইছে, যা সংঘাতের তীব্রতা কমাতে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের পথ তৈরি করতে পারে।

    যুদ্ধের অবসানে…

    তিনি বলেছিলেন, “আমরা দেখার চেষ্টা করছি, এমন কোনও ধারণা ও প্রস্তাব রয়েছে কি না, যা কোনওভাবে বাস্তবায়িত হয়ে সংঘাতের তীব্রতা কমাতে এবং আদর্শভাবে সংঘাতের অবসানে সাহায্য করতে পারে।” যুদ্ধের অবসানে ভারত “যে কোনও উপায়ে যে কোনও ধরনের সাহায্য” করতে (BRICKS Summit) প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।

    এদিকে পুতিনের আসন্ন ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে (PM Modi) নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রস্তুতিও জোরদার হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গ্রেটার নয়ডার জেওয়ার বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার তিনটি সামরিক বিমান অবতরণ করে। সদ্য চালু হওয়া এই বিমানবন্দরে বিদেশি বিমানের এটিই প্রথম অবতরণ। রাশিয়ার সামরিক পরিবহণ বিমান আইএল-৭৬-সহ তিনটি বিমান ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামে।

    রাশিয়ার একটি দল এবং সামরিক আধিকারিকরা ওই বিমানগুলিতে ভারতে পৌঁছেছেন। পুতিনের ভারত সফর এবং দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই বিমানগুলির আগমন বলে মনে করা হচ্ছে।

    নয়া বিমানবন্দরে অবতরণ রাশিয়ার বিমানের

    বুধবারও তিনটি রাশিয়ার সামরিক বিমান বিমানবন্দরের রানওয়েতে দাঁড়িয়ে ছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও বিমানগুলির নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। এতদিন ভারতে আসা বিদেশি সামরিক বিমানগুলি সাধারণত দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করত। সেই জায়গায় জেওয়ার বিমানবন্দরে রাশিয়ার সামরিক বিমানের অবতরণ নতুন বিমানবন্দরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা (PM Modi)।

    আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ভারত মণ্ডপমে বসতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনের আসর। একাধিক রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা। পুতিনও সম্মেলনে অংশ নেবেন। তাঁর সফর এবং সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেওয়ার বিমানবন্দরে রাশিয়ার সামরিক বিমানের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অতিথিদের যাতায়াত ও কূটনৈতিক প্রোটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে (BRICKS Summit)।

    শুক্রবারের মোদি-পুতিন বৈঠক তাই শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নিরিখেই নয়, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ইউক্রেন যুদ্ধ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে ভারত ও রাশিয়ার অবস্থান আগামী দিনের কূটনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সে (PM Modi) দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

  • PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে সব ধরনের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থানই বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার স্বার্থেই যত দ্রুত সম্ভব এই (Ukraine War) যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ‘যুদ্ধের অবসান হোক’ (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই বৈঠকের পরেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেন তিনি। মোদির বক্তব্যকে কয়েক বছর আগে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া তাঁর ‘‘এটি যুদ্ধের যুগ নয়’’ বার্তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলেও সেই বক্তব্য যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। যৌথ বিবৃতিতে মোদি বলেন, “আমাদের ‘অন্তহীন যুদ্ধে’র পরিস্থিতি থেকে ‘যুদ্ধের অবসানে’র দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের অবসান হোক।” ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করি। আমরা যখন শেষবার দেখা করেছিলাম, তখনও আপনি পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। আপনারা জানেন, এই অচলাবস্থা নিরসনে ভারত সব ধরনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে সমর্থন করে।” ভারতের অবস্থান যে কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট করে মোদি বলেন, “ভারত সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। মানবতার স্বার্থে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় (PM Modi)।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় ভারত বারবার জানিয়েছে, যুদ্ধের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। ২০২২ সালে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও মোদি একই ধরনের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “ভারত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—এটি যুদ্ধের যুগ নয়। মানবতার সামনে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলির মোকাবিলায় আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসার সময় এসেছে। তাই ভারত কূটনীতি ও আলোচনায় বিশ্বাস করে।”

    মোদির মুখে শান্তির ললিত বাণী

    সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ভারত বুদ্ধের ভূমি। সহমর্মিতা ভারতীয়দের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বিশ্বের কোনও দেশে যখনই সংকট দেখা দেয়, ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে। বুদ্ধের ঐতিহ্যে বিশ্বাসী ভারত যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পক্ষেই অবস্থান করে (Ukraine War)। এবারও মোদির বক্তব্যে মানবতার প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয় এবং আমাদের অবশ্যই শত্রুতা ও সংঘাতের অবসানের জন্য কাজ করতে হবে (PM Modi)।” ভারতের শান্তির বার্তার সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের আদর্শের সম্পর্কও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গান্ধীর ভূমি এবং বুদ্ধের ভূমি একই বার্তা বহন করে—শান্তির পথ।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপ এবং পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে যুদ্ধের বিষয়ে ভারত সরাসরি কোনও পক্ষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত না করে শান্তিপূর্ণ সমাধান, আলোচনা এবং কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে। মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থানই আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর বার্তার মূল লক্ষ্য যে যুদ্ধের সমর্থন নয়, বরং সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং শান্তির পরিবেশ তৈরি করা—তা তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি অংশেই স্পষ্ট হয়েছে।

    শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারত বরাবরই জানিয়েছে, যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সংঘাতের অবসান সম্ভব (PM Modi)। এদিকে পুতিনের সঙ্গে মোদির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ এর এক সপ্তাহ পরেই রুশ প্রেসিডেন্টের নয়াদিল্লি সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফরে তিনি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বিশকেকে মোদি-পুতিন বৈঠককে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (Ukraine War)।

    নয়াদিল্লির অবস্থান

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়ে ভারতের এই বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নয়াদিল্লির অবস্থানকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। যুদ্ধের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনা, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে শান্তির পথ—এই নীতিকেই ভারত সামনে রেখে এগোতে চাইছে বলেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট (PM Modi)।

  • India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে (India) চলেছে ভারত। বলা ভালো, রুশ তেল (Russian Oil) কেনার ক্ষেত্রে ভারত আরও সক্রিয় হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশ এখনও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখলেও, ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি রেকর্ড পরিমাণে রুশ তেল আমদানি করছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাশিয়া তার তেলের জন্য একটি বড় ও নির্ভরযোগ্য বাজার পাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে ভারত তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি জোগাড় করে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত করছে।

    জুন মাসের খতিয়ান (India)

    জানা গিয়েছে, জুন মাসে ২৩ লাখেরও বেশি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল ভারতের বিভিন্ন বন্দরে এসে পৌঁছেছে। যার আর্থিক মূল্য ৫১৪ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জুলাই মাসেও এই আমদানির পরিমাণ প্রায় একই স্তরে থাকতে পারে। ইউরোপের বড় অংশের বাজার হারানোর পর রাশিয়া এখন মূলত এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভর করছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের ধারাবাহিক চাহিদা রাশিয়ার তেল রফতানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত কেন এত বেশি পরিমাণে রাশিয়ার তেল কিনছে, তার সবচেয়ে বড় কারণ হল তুলনামূলক কম দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মানের অপরিশোধিত তেলের তুলনায় রুশ তেল এখনও উল্লেখযোগ্য ছাড়ে মিলছে। ফলে ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি কম খরচে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারছে। এতে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমছে, লাভের পরিমাণ বাড়ছে এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে।

    তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত

    তাছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘাত ভারতের আমদানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেই কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে এবং সরবরাহের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত শুধু রাশিয়া থেকেই নয়, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি জোগাড় নিশ্চিত করা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তার পরিবর্তে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। জুন মাসে ভারতে মোট যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই এসেছে রাশিয়া থেকে। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে রুশ তেলের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে কতটা বেড়েছে (Russian Oil)।

    অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে ব্রেন্ট মানের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল পাওয়া ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বাড়ে, তাহলে রাশিয়া থেকে আমদানির প্রবণতাও বজায় থাকতে পারে (India)। রাশিয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইউরোপে রুশ তেলের বাজার অনেকটাই ছোট হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমী দেশগুলির নানা বিধিনিষেধের কারণে জাহাজ পরিবহণ, বিমা এবং আর্থিক লেনদেনেও রাশিয়া নানা সমস্যায় জর্জরিত। সেই সময় থেকেই এশিয়ার দেশগুলির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ।

    নয়াদিল্লির সাফ কথা

    ২০২২ সালের আগে পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে খুব সীমিত পরিমাণে তেল আমদানি করত। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতায়। বর্তমানে চিন ও ভারতের মতো দেশগুলির চাহিদাই রাশিয়ার তেল রফতানিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India)। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে বারবার উঠেছে প্রশ্ন। যদিও নয়াদিল্লি বরাবরই জানিয়ে এসেছে, তাদের তেল কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই বাণিজ্যিক বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয় (Russian Oil)। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তুলনামূলক কম দামে তেল সংগ্রহ করা এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখাই সরকারের পাখির চোখ। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রশাসন অস্থায়ীভাবে কিছু রুশ তেলবাহী চালানের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল। পরে সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, তাদের আমদানি নীতির মূল ভিত্তি থাকবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা কূটনৈতিক চাপের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত (India)।

    ভারতের বহুমুখী আমদানি কৌশল

    শিল্পমহলের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে ভারত একাধিক দেশ থেকে তেল আমদানি করছে এবং প্রয়োজনীয় মজুতও বজায় রেখেছে। ফলে কোনও একটি অঞ্চলে সংঘাত বা সরবরাহ ব্যাহত হলেও, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। এই বহুমুখী আমদানি কৌশল ভবিষ্যতেও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি এখন শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, কৌশলগত ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট—যেখানে সুলভ মূল্যে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি মিলবে, সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করবে এবং বিকল্প উৎসগুলিতে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে, ততদিন (Russian Oil) ভারত মস্কো থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে চলবে বলেই ধারণা (India) সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • MEA: রুশ হামলায় বলি ৪ ভারতীয় নাবিক, মস্কোর দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ দিল্লির

    MEA: রুশ হামলায় বলি ৪ ভারতীয় নাবিক, মস্কোর দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনে বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চার ভারতীয় নাবিক। এই ঘটনায় এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ ভারতের। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভ-কে তলব (India Summons Russian Envoy) করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। একই সঙ্গে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছে ভারত।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    ১৯ জুলাই, ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ MV Golden Leo। জাহাজটি ইউক্রেনের উপকূল ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়ার ছোড়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। হামলার পরেই জাহাজে আগুন ধরে যায়। জাহাজে মোট ছিলেন ১৭ জন নাবিক। তাঁদের মধ্যে ৫ জন ছিলেন ভারতীয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। অপর এক ভারতীয় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    কী বলেছে বিদেশ মন্ত্রক?

    বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারত এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো, নিরীহ নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নৌ-চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো উচিত বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।

    রাশিয়ার কাছে কী দাবি ভারতের?

    ঘটনার জেরে রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভ-কে তলব (India Summons Russian Envoy)। চার ভারতীয়র মৃত্যুর ঘটনায় কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ নয়াদিল্লির। হামলার বিষয়ে রাশিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছে ভারত।

    ভারতীয় দূতাবাসের ভূমিকা

    আহত ভারতীয় নাবিকের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি নজরে রাখছে ইউক্রেনের ভারতীয় দূতাবাস। পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র সরকারও ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে।

    যুদ্ধের আবহেই নতুন উত্তেজনা

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন কৃষিপণ্য বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরীহ নাবিকদের প্রাণহানি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

  • PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তারপর থেকে আর বড় কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (G7 Summit) মুখোমুখি হওয়া হয়নি দুই রাষ্ট্রনেতার। এবার হবে। জুন মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই ফের মুখোমুখি হতে পারেন এই দুই ‘মহান বন্ধু’। ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক স্টাইলের কারণে একটি ছোট্ট দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন হল, এতে কি আর ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমবে? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে জুন পর্যন্ত।

    জি৭ শীর্ষ সম্মেলন (PM Modi)

    ভারত জি৭-এর স্থায়ী সদস্য নয়। তবে বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে নিয়মিত যোগ দেয় এই সম্মেলনে। এ বছর ওই সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ স্বয়ং আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-ব্যাঁ (Evian-les-Bains) ১৫-১৭ জুন হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি হয়েছিলেন মোদি ও ট্রাম্প। শুল্ক উত্তেজনার পটভূমিতে অনুষ্ঠিত সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প মোদিকে ‘মহান বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছনোর অঙ্গীকারও করেছিলেন এই দুই রাষ্ট্রনেতা।

    নোবেল পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্পের দাবি

    যদিও গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্প হঠাৎই দাবি করতে থাকেন, ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি হয়েছে তাঁরই মধ্যস্থতায়। এর পর থেকে ট্রাম্প যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই বলে বেড়িয়েছেন, তাঁরই বাণিজ্যিক চাপের কারণে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পুরোপুরি যুদ্ধে জড়ায়নি। ট্রাম্পের এহেন ঘোষণায় খুব খুশি হয়েছিল শাহবাজ শরিফের দেশ। তবে পাকিস্তান ট্রাম্পের প্রশংসা করলেও, ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দেন, যুদ্ধবিরতি হয়েছে সরাসরি ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা করেই, কারও মধ্যস্থতায় নয়। বস্তুত, এর পর থেকেই তলানিতে ঠেকে দুই ‘হুজুরে’র সম্পর্ক (G7 Summit)।

    ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান

    গত বছর জুনে কানাডায় হয়েছিল জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে পার্শ্ব বৈঠকে ফের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল এই দুই নেতার। যদিও ট্রাম্প হঠাৎ করেই সম্মেলন ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাতিল হয়ে যায় প্রস্তাবিত বৈঠক। পরে অবশ্য ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে কানাডা থেকে ফেরার পথে ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু মোদির পূর্বনির্ধারিত ক্রোয়েশিয়া সফর থাকায়, সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে ভারত। তবে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে সরকারি কর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভারতের আশঙ্কা ছিল যে ট্রাম্প হয়ত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে মোদিকে নিয়ে একটি ছবি তোলার জন্য চাপ দিতে পারেন। সেই সময় একইসঙ্গে (PM Modi) হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুনিরকেও।

    ভারতকে শায়েস্তা করার চেষ্টা

    তার পর থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই অবনতি হয়েছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের। ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় ভারতকে শায়েস্তা করতে চেষ্টার কম কসুর করেননি ট্রাম্প। তাঁর সরকার প্রথমে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। রাশিয়ার তেল কেনায় বসানো হয় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও। ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এবং পিটার নাভারো (Peter Navarro) বারবার অভিযোগ করেন, রাশিয়ার তেল কিনে ঘুরপথে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সাহায্য করছে ভারত। এই শুল্ক-চাপ মূলত ভারতকে আমেরিকার দিকে ঝুঁকে থাকা একটি বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি করানোর মরিয়া চেষ্টা ছিল বলেই খবর (G7 Summit)।

    সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত

    এই পুরো পর্বটায় কার্যত মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মাথা নত করেননি ট্রাম্পের চাপের কাছে। শুধু তা-ই নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শার্ম এল-শেখ এবং কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান (ASEAN) সম্মেলনের মতো বৈশ্বিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে যান। কারণ সেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারত ট্রাম্পের। গত সেপ্টেম্বরে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মেলে। ট্রাম্প জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফের গতি পায় বাণিজ্য আলোচনা। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। ভারতের ওপর চাপানো শুল্ক কমিয়ে করা হয় ১৮ শতাংশ। বিভিন্ন সময় ট্রাম্পের করা মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আবারও শোনা কিংবা দেখা যায় পরিচিত বাক্য — “ইন্ডিয়া থেকে আমার বন্ধু” (PM Modi)।

    ট্রাম্পের মুখে মোদি-স্তুতি

    তবে ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের রায়ের কারণে আটকে যায় আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি সই। ১৭ এপ্রিল টানা ৪০ মিনিট ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। চলতি বছরে এটি ছিল তাঁদের তৃতীয় ফোনালাপ। যদিও সেই কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে শোনা যায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন মোদি-ট্রাম্প। ফোনালাপের পর (G7 Summit) সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ওঁর (মোদির) সঙ্গে আমার খুব ভালো কথা হয়েছে। উনি ভারত থেকে আমার বন্ধু। উনি দারুণ কাজ করছেন।” এই প্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ফের মুখোমুখি হতে পারেন মোদি ও ট্রাম্প। দুই রাষ্ট্র প্রধানের এই সাক্ষাৎই কেড়ে নিতে পারে তামাম দুনিয়ার নজর (PM Modi)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাসি, করমর্দন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের বাইরেও হবে আসল পরীক্ষা — দুই দেশ সাম্প্রতিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না। খুব সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত আলাপও দিকনির্দেশ করে দিতে পারে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়ের।

     

  • Donald Trump: বাণিজ্য চুক্তির জের! ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের

    Donald Trump: বাণিজ্য চুক্তির জের! ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ ভারতের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিল আমেরিকা। রাশিয়ার তেল (Russian Oil) কেনার কারণে এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে সই করেন, যেখানে বলা হয়েছে, “ভারত সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।”

    অতিরিক্ত শুল্ক কমাল আমেরিকা (Donald Trump)

    এক্সিকিউটিভ অর্ডার অনুযায়ী, রাশিয়ান তেল কেনার কারণে আরোপিত এই অতিরিক্ত শুল্ক শনিবার ভোর ১২টা ০১ মিনিট থেকে প্রত্যাহার করা হবে। ওই অর্ডারে আরও বলা হয়েছে, ভারত মার্কিন জ্বালানি পণ্যের ক্রয় বাড়াতে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে রাজি হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারত সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগামী ১০ বছরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি কাঠামো চুক্তিতে অঙ্গীকারও করেছে (Donald Trump)। এই এক্সিকিউটিভ পদক্ষেপটি আসে কয়েক দিন পর, যখন ট্রাম্প ভারতীয় রফতানির ওপর শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেন। সেই সময় তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    হোয়াইট হাউসের তরফে যৌথ বিবৃতি

    এই চুক্তির আওতায় আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর তথাকথিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার পরিকল্পনা করেছে। তবে এই কম শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা (Russian Oil)।শুক্রবার হোয়াইট হাউসের তরফে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়া হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরে ভারত আমেরিকা থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের জ্বালানি পণ্য, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কোকিং কয়লা কিনতে চায় (Donald Trump)। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের শেষ দিকে এই শুল্কের হার ছিল ৫০ শতাংশ।

    শুল্ক শিথিল করার কারণ

    রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে যে টানাপোড়েন চলছিল, তারই প্রেক্ষাপটে শুল্ক শিথিল করা হল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এই তেল কেনা পরোক্ষভাবে এমন একটি সংঘাতকে সমর্থন করছে, যার অবসান চায় আমেরিকা (Donald Trump)। এই চুক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পুনরুজ্জীবনেরও ইঙ্গিত দেয় বলেই দাবি আন্তার্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সম্পর্ককে একবার “আমার অন্যতম সেরা বন্ধুত্ব” বলে বর্ণনা করেছিলেন।এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলারের মতে, সংশোধিত ১৮ শতাংশ শুল্ক হার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারীদের সামান্য হলেও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে। কারণ, একই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক প্রায় ১৯ থেকে ২০ শতাংশ বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর। প্রশ্ন হল, কেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করলেন (Russian Oil)? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন কারণ ভারত রাশিয়ান তেল সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির অংশ (Donald Trump)।

  • India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির সরকার (Modi Govt) কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তিতে যেতে রাজি নয়। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের তপ্ত পর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে নীরবে কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে এ কথা বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি (India US Relation)। ভারত–আমেরিকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপটে ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে এই তথ্য। ভারত যে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয় ঠারেঠোরে।

    ভারতের বার্তা (India US Relation)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউস যদি শত্রুতাপূর্ণ ভাষা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল থেকে সরে না আসে, তবে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়টুকু অপেক্ষা করতে ভারত প্রস্তুত। এই বার্তাটি দেওয়া হয় সেপ্টেম্বরের শুরুতেই, যে সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তীব্র চাপের মধ্যে ছিল। একদিকে আমেরিকার আরোপিত দণ্ডমূলক শুল্ক, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া প্রকাশ্য মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সেই সময় ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে অবজ্ঞাসূচক ভাষায় কটাক্ষ করেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রেখে ভারত পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থ জোগাচ্ছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ভারতীয় রফতানির (India US Relation) ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করে। ডোভাল সাফ জানিয়ে দেন, ভারত এই তিক্ততা কাটিয়ে আবারও বাণিজ্য আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী, তবে তা হতে হবে প্রকাশ্য অপমান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। তিনি আরও জানান, অতীতেও ভারত কঠিন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছে এবং প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার সামর্থ্য তার রয়েছে (Modi Govt)।

    সুর নরম ট্রাম্প প্রশাসনের

    এই আলোচনার অল্প সময়ের মধ্যেই সুর নরম হতে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসনের। ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তাঁকে ফোন করে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন—যা আগের বক্তব্যগুলির তুলনায় এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের। পরবর্তীকালে দুই নেতা একাধিকবার কথা বলেন, যার ফলে ধীরে ধীরে নতুন করে সম্পর্ক জোরদারের পথ তৈরি হয়। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একটি বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছে, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে আসবে এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত পৃথক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়াবে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। তবে মোদি সরকার এখনও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি বা কোনও লিখিত (India US Relation) চুক্তি প্রকাশ করেনি।

    একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত

    এই ঘোষণা নয়াদিল্লির কিছু শীর্ষ আধিকারিককেও বিস্মিত করে, যা প্রমাণ করে যে কূটনৈতিক আলোচনা কতটা নীরবে এগিয়েছে (Modi Govt)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হঠাৎ এই চুক্তি বৃহত্তর কৌশলগত প্রেক্ষাপটের দিকেও ইঙ্গিত করে, যা ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ২০২৫ সালে ভারত ব্রিটেনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে। চলতি বছরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গেও একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং সর্বশেষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত হয়। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। এর পরই ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে স্বীকার করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভারতকে চিনের কাছে হারিয়ে ফেলছে।

    এই সব পদক্ষেপ মিলিয়ে স্পষ্ট হয়, ভারত তার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করছে এবং কেবল ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল নয়।এই বিস্তৃত কৌশলই সম্ভবত আমেরিকার ওপর সম্পর্ক মেরামতের চাপ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতির পরিণতি এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই অচলাবস্থা থেকে ভারত আরও (Modi Govt) শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে বেরিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত (India US Relation) চুক্তির ভালো দিকটিই আদায় করেছে।

     

LinkedIn
Share