Tag: UN Committee on the Elimination of Racial Discrimination

  • UN Report: ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’! রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য কমিটির মন্তব্য খারিজ ভারতের

    UN Report: ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’! রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য কমিটির মন্তব্য খারিজ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি (CERD)-র সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে কড়া ভাষায় খারিজ করল কেন্দ্র। বুধবার বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, কমিটির কিছু মন্তব্য “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ”। ভারতের বক্তব্য, দেশের সাংবিধানিক কাঠামো, আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করে একতরফা সাধারণীকরণ করা হয়েছে। জেনেভায় গত ১১ ও ১২ আগস্ট ভারতের ১১তম পর্যায়ের পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি। এই পর্যালোচনা ছিল আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ সনদ (ICERD)-এর অধীনে একটি নিয়মিত চুক্তিভিত্তিক পর্যালোচনা। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত গঠনমূলক মনোভাব নিয়েই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল এবং বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের প্রতিশ্রুতি “দৃঢ় ও অবিচল”।

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিদ্বেষপূর্ণ

    পর্যালোচনার সময় ভারত তার সংবিধানপ্রদত্ত সুরক্ষা, বিস্তৃত আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদী সামাজিক চরিত্র এবং পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। পর্যালোচনা বৈঠকেই ভারতীয় প্রতিনিধিদল কমিটির কিছু “বিস্তৃত সাধারণীকরণ”, “প্রমাণহীন অভিযোগ” এবং আইসিইআরডি-এর নির্ধারিত সীমার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করেছিল। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া মেনেই কমিটির পর্যবেক্ষণের জবাব দেবে ভারত। তবে বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ” মন্তব্য ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

    কী অভিযোগ তুলেছে সিইআরডি?

    ভারতকে নিয়ে সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি (CERD) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উপর “বড় আকারের লঙ্ঘন”-এর অভিযোগ সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে জাতিগত ও জাতি-ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও উপজাতি জনগোষ্ঠী, তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত—এবং অ-নাগরিকদের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (UNCERD-UN Committee on the Elimination of Racial Discrimination)-র তাদের সর্বশেষ রিপোর্টে বলেছে ভারতে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম এবং তফশিলি জাতি, উপজাতি ও রোহিঙ্গা জনজাতিদের উপর আক্রমণ নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। ভারতে ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ (hate speech) এবং ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ (hate crimes) মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে প্রকাশিত প্রেস নোটে ওই সংস্থা বলেছে, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এসব বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ‘জবাবদিহিতা নিশ্চিত’ করতে ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। এই রিপোর্ট প্রকাশের পরই নয়া দিল্লির তরফে প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি রিপোর্টটি প্রত্যাখ্যান করার কথা ঘোষণা করেন।

    সিইআরডি কী

    সিইআরডি হল একটি রাষ্ট্রসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি, যার মূল কাজ রাষ্ট্রপক্ষগুলি আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ সনদ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে তা পর্যবেক্ষণ করা। রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ‘বিশেষ করে ২০১৭ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরে সংঘটিত পহেলগাঁও হামলার পর’ রোহিঙ্গা, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম, অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বেড়েছে। কমিটির মতে, পুলিশি তল্লাশি চৌকি গুলিতে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রোফাইলিং বা (racial profiling) করা হচ্ছে, যার ফলে ‘যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক’ করা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ অসম সহ বিভিন্ন রাজ্যে থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশ ব্যাকের (pushback)-এর বিষয়টি সরাসরি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। কমিটি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘রোহিঙ্গা, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম, অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ জরুরিভাবে মোকাবিলা করতে, তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে, সম্মিলিতভাবে বহিষ্কার থেকে বিরত থাকতে এবং অ-প্রত্যাবর্তনের‌ (non-refoulement) নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।

    ভারতের পাল্টা বক্তব্য

    জেনেভায় ভারতের স্থায়ী মিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় ভারতের ২০২৩ সালে জমা দেওয়া ১২তম ও ২১তম পর্যায়ের সম্মিলিত রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইসিইআরডি বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাঠামো, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে নীতিগত পদক্ষেপ-সহ একাধিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। ভারতীয় প্রতিনিধিদল দেশের বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা, ইতিবাচক পদক্ষেপ, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিকার এবং লক্ষ্যভিত্তিক জনকল্যাণমূলক নীতি তুলে ধরে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সমস্ত নাগরিকের সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত ধারাবাহিকভাবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় কাজ করে চলেছে। উল্লেখ্য, ১৯৬০-এর দশকে ঔপনিবেশিকতা, বর্ণবৈষম্য ও অ্যাপারথেইডের বিরুদ্ধে উন্নয়নশীল দেশগুলির বৃহত্তর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সময় ICERD-এর আলোচনা ও খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারত সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে।

LinkedIn
Share