Tag: UN General Assembly

UN General Assembly

  • India Israel: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের প্রস্তাবে ভারতের আপত্তি, পাশে ইজরায়েল, ১৮০ দেশের সমর্থনে পাশ প্রস্তাব

    India Israel: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের প্রস্তাবে ভারতের আপত্তি, পাশে ইজরায়েল, ১৮০ দেশের সমর্থনে পাশ প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পাকিস্তান ও বেলারুশের যৌথ উদ্যোগে আনা একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করল ভারত ও ইজরায়েল (India Israel)। ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র এই দুই দেশই প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৮০টি দেশ। কোনও (UN Arms Control Resolution) দেশ ভোটদানে বিরত থাকেনি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রথম কমিটিতে সোমবার এই ভোটাভুটি হয়।

    প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক স্তরে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা। তবে ভারতের বক্তব্য, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এটি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। প্রতিটি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থ ও উদ্বেগকে বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব অনমোল শের বেদি জানান, প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মূলত আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যুক্তি নিয়ে ভারত পুরোপুরি একমত নয়। তিনি বলেন, “আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত নই যে এই বিষয়টিকে প্রধানত আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।”

    রাষ্ট্রসংঘের পুরনো সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন ভারতের (India Israel)

    প্রস্তাবটির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। সেখানে রাষ্ট্রসংঘের নিরস্ত্রীকরণ কমিশনকে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আঞ্চলিক চুক্তির জন্য নতুন কিছু নীতি ও নির্দেশিকা তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

    ভারতের বক্তব্য, এই বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিশন ইতিমধ্যেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে। ১৯৯৩ সালে আঞ্চলিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে নির্দেশিকা ও সুপারিশ, ১৯৯৯ সালে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা এবং ২০১৭ সালে প্রচলিত অস্ত্রের ক্ষেত্রে আস্থা বৃদ্ধির বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়ে সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছিল।

    এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বেদি। তাঁর কথায়, “আমরা এই অনুরোধটি কিছুটা কৌতূহলের সঙ্গে দেখছি।”

    তিনি আরও বলেন, একই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশন ইতিমধ্যেই তিনটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তা হলে আবার কেন সেই আলোচনাকে প্রথম থেকে শুরু করতে হবে? দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা ভারত বুঝতে পারছে না বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখাই যদি এর উদ্দেশ্য না হয়, তা হলে এই পুনরাবৃত্তির যৌক্তিকতা কোথায়?

    দেশের নিরাপত্তা

    প্রস্তাবে নির্দিষ্ট অঞ্চল ও উপ-অঞ্চলের মধ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার যে কথা বলা হয়েছে, তারও বিরোধিতা করেছে ভারত।

    বেদির বক্তব্য, কোনও দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে তার ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আটকে রাখা যায় না। বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তার স্বার্থ অনেক সময় নিজস্ব অঞ্চলের বাইরেও বিস্তৃত হয়। ফলে নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের মধ্যে সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখার ধারণা বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে (India Israel)।

    তিনি বলেন, “এই প্রস্তাবের ধারণা অনুযায়ী, রাষ্ট্রগুলির নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ যেন তাদের আঞ্চলিক সীমানায় এসে থেমে যায়। বাস্তবে তা হয় না।”

    তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্বার্থ ও উদ্বেগ সংকীর্ণ ভৌগোলিক সীমানার বাইরে বিস্তৃত। তাই কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চল বা উপ-অঞ্চলের মধ্যে সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখার ধারণা বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করে ভারত।

    আপত্তি ভারতের

    ‘সাধারণ ও পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ: আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক স্তরে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রস্তাবে ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া অধিকাংশ হুমকি একই ভৌগোলিক অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে থেকেই এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে চুক্তি গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক বাহিনীর সংখ্যা যতটা সম্ভব সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    তবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রস্তাবের উল্লেখ থাকা একটি অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধেও আলাদাভাবে ভোট দিয়েছে ভারত। ওই অনুচ্ছেদে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের মধ্যে আলোচনা-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবগুলিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছিল।

    এ ছাড়া, যেসব দেশের সামরিক সক্ষমতা বেশি এবং যারা সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে ভারতের অবস্থান, প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়কে শুধুমাত্র আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ইজরায়েলও ভারতের সঙ্গে একই অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। যদিও ১৮০টি দেশের সমর্থনে রাষ্ট্রসংঘের প্রথম কমিটিতে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে (UN Arms Control Resolution)।

    এই ভোটাভুটি আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানকেই ফের সামনে নিয়ে এসেছে। নয়াদিল্লির মতে, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের যে কোনও আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের (India Israel) বৃহত্তর নিরাপত্তা স্বার্থ ও ভৌগোলিক সীমার বাইরের উদ্বেগগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

     

  • India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিল নয়াদিল্লি। যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান এবং নির্দিষ্ট দেশ সম্পর্কে পর্যবেক্ষণহীন রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারত। একইসঙ্গে ভারতের বক্তব্য, মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা ও সহযোগিতায় নয়াদিল্লি প্রস্তুত। তবে সেই প্রক্রিয়া হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং তথ্যনির্ভর। মানবাধিকারকে কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি বা বেছে বেছে নিশানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বা জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা চলাকালীন ভারতের এই অবস্থান সামনে আসে। সেখানে বিদেশ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি বরখা তামরাকার ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, যাচাই না করা অভিযোগকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা এবং মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে দেশের বিরুদ্ধে রায়ের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

    ‘যাচাইহীন অভিযোগ দিয়ে ভারতকে কলঙ্কিত করা যাবে না’

    রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি বরখা তামরাকার বলেন, “যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান কিংবা ভারত সম্পর্কে কোনও দেশ-নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ নেই এমন রিপোর্টকে ব্যবহার করে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির যে কোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে ভারত।”

    একইসঙ্গে তিনি জানান, নির্দিষ্ট এবং যথাযথ নথিপত্র-সহ উপস্থাপিত ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিতে ভারত প্রস্তুত। অর্থাৎ, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আলোচনার দরজা বন্ধ করতে চাইছে না নয়াদিল্লি। বরং ভারতের আপত্তি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সেগুলিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতায়।

    ভারতের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সহযোগিতার ভিত্তি হতে হবে আলোচনা, পরামর্শ, পারস্পরিক সহযোগিতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা। কোনও নির্দিষ্ট দেশকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়কে ব্যবহার করা হলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি কোথায়?

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা ঘিরে ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্ট ও অভিযোগের তথ্যগত ভিত্তি নিয়ে। ভারতের বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিবেদক তাঁদের রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে কখনও কখনও অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বা পক্ষের জমা দেওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করেন। সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হলে তাকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    তামরাকার রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিদের রিপোর্টের বক্তব্য যথাযথভাবে উদ্ধৃত করার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, কোনও মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে অতিরঞ্জিত করে একটি দেশের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়ের মতো তুলে ধরা উচিত নয়।

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিরোধিতা করার পরিবর্তে তার পদ্ধতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নয়াদিল্লির অবস্থান, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের গুরুত্ব থাকলেও প্রতিটি অভিযোগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত প্রামাণ্য তথ্য, নির্দিষ্ট ঘটনা এবং যাচাইযোগ্য নথির ভিত্তিতে।

    সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ ও বিচারব্যবস্থার কথা তুলে ধরল ভারত

    ভারতের প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকবচগুলির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত এবং নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত।

    ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তির বেআইনি আটক বা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ চাওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিশেষত, হেবিয়াস কর্পাস বা বন্দি-উপস্থাপন সংক্রান্ত রিটের মাধ্যমে আদালত কোনও ব্যক্তিকে আটক রাখার বৈধতা খতিয়ে দেখতে পারে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে।

    ভারতের বক্তব্য, এই স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নাগরিকের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তার প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি পরীক্ষা করা জরুরি বলেও ভারতের অবস্থান থেকে স্পষ্ট।

    তথ্যের অধিকার থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কী কী যুক্তি ভারতের?

    মানবাধিকার রক্ষায় ভারতের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উল্লেখ করেন বরখা তামরাকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    • ● তথ্যের অধিকার আইন (RTI): সরকারি কাজকর্মে স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    • ● জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC): মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ রয়েছে।

    • ● রাজ্য মানবাধিকার কমিশন: রাজ্যস্তরেও মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

    • ● স্বাধীন বিচারব্যবস্থা: নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।

    • ● স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ: প্রশাসনের কাজকর্মের উপর নজরদারি, অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনগুলির ভূমিকা রয়েছে।

    ভারতের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি সম্মিলিতভাবে নাগরিকের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনও মূল্যায়ন করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার বাস্তব তথ্যও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

    দিল্লিতে যুব বিক্ষোভ ঘিরে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

    ভারতের এই কড়া অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে দিল্লিতে যুবকদের বিক্ষোভ ঘিরে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কও। মঙ্গলবার জেনিভায় রাষ্ট্রসংঘের ২০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ দিল্লিতে যুবকদের কথিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর পুলিশের বারবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    বিক্ষোভ চলাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

    অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্য, যাচাইহীন বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কোনও দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। তবে দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির বিষয়ে ভারতের বক্তব্য এবং রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ—দুটি বিষয়কেই পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখা জরুরি।

    ককরোচ জনতা পার্টি বিতর্কেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টকে ‘শোনা কথা’ বলেছিল ভারত

    রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি এই প্রথম নয়। এর আগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের রিপোর্টেরও বিরোধিতা করেছিল নয়াদিল্লি।

    সেই রিপোর্টে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘শোনা কথা’ বা ‘হিয়ারসে’ বলে অভিহিত করেছিল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য ছিল, অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রের উপর নির্ভর করে এবং যাচাই না করা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিরুদ্ধে বিস্তৃত অভিযোগ তোলা কোনওভাবেই নির্ভরযোগ্য প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।

    ভারতের প্রতিনিধি সেই সময় বলেছিলেন, “অজ্ঞাত এবং যাচাই না করা দাবির উপর ভিত্তি করে বিশ্বের বৃহত্তম যুব জনসংখ্যার বিরুদ্ধে এমন বিস্তৃত অভিযোগ কোনও প্রমাণ নয়। এটি রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টের মোড়কে সাজানো শোনা কথা।”

    এই অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্টের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মঞ্চের নিরপেক্ষতা নিয়ে।

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন প্রসঙ্গ

    আলোচনায় জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিষয়টিও উঠে এসেছে। ভারত জানিয়েছে, নয়াদিল্লি International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance-এর স্বাক্ষরকারী।

    এই কনভেনশন জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার কাঠামো। তবে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা এবং সেটির অধীনে পূর্ণাঙ্গ আইনগত বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করা এক বিষয় নয়। কোনও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কনভেনশনের আইনগত বাধ্যবাধকতার পরিধি নির্ধারণে তার অনুমোদন বা অনুসমর্থনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।

    তাই ভারতের স্বাক্ষরকারী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য হলেও, একে কনভেনশনের সমস্ত বাধ্যবাধকতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করার সমতুল্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

     

  • Albanese Praised PM Modi: মোদির আমলে ভারতে জ্বালানি সংযোগের বিস্তার নজিরবিহীন, দাবি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর

    Albanese Praised PM Modi: মোদির আমলে ভারতে জ্বালানি সংযোগের বিস্তার নজিরবিহীন, দাবি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতে জ্বালানি পরিষেবার প্রসারের প্রশংসা করলেন অস্ট্রেলিয়ার (India Australia Relation) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ (Albanese Praised PM Modi)। তাঁর দাবি, ভারতের যত মানুষ গত এক দশকে বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পরিষেবার আওতায় এসেছেন, মানব ইতিহাসে কোনও দেশ, অঞ্চল বা কোনও দশকে এত বড় পরিসরে এমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (UNGA) পার্শ্ববৈঠকে প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের সঙ্গে এক আলোচনায় এই মন্তব্য করেন আলবানিজ। ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই আলোচনায় মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি।

    উজ্জ্বলা থেকে সৌরবিদ্যুৎ—বেড়েছে জ্বালানি পরিষেবার পরিধি

    আলবানিজ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তাঁর নেতৃত্বে ভারতে যত মানুষ জ্বালানি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, মানব ইতিহাসে কোনও দেশ, অঞ্চল বা কোনও দশকে এত মানুষকে এভাবে সংযুক্ত করার নজির নেই।” মূলত ভারতে বিদ্যুৎ সংযোগ, রান্নার গ্যাস এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসারের প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের মধ্যে ১০.৫৭ কোটিরও বেশি এলপিজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে চালু হওয়া সৌভাগ্য যোজনা-র মাধ্যমে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ২.৮৬ কোটি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রেও দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা (PM Surya Ghar Muft Bijli Yojana)-র আওতায় ২০২৬ সালের আগস্টে উপকৃত পরিবারের সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। PM-KUSUM প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১.৭৭ লক্ষেরও বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এই প্রকল্পের আওতায় সৌরচালিত কৃষি পাম্প-সহ বিভিন্ন বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো হচ্ছে।

    ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে, আলবানিজ

    আলোচনায় ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারত ভবিষ্যতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ। গত এক দশকে ভারত তার জ্বালানি আমদানির উৎসও বৈচিত্র্যময় করেছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হত, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১টি দেশ হয়েছে। এর ফলে কোনও একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নানা ধরনের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি-এর সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়েছে ভারত।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত-অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা

    পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলে অস্ট্রেলিয়াও ভারতকে এলএনজি সরবরাহ করেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

    ‘আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে’

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন আলবানিজ। তাঁর কথায়, দুই দেশের সম্পর্ক “ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে”। তবে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। আলবানিজ জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দু’বার ভারত সফর করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিও দু’বার অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। মেলবোর্নের একটি স্টেডিয়ামে মোদিকে ঘিরে বিপুল জনসমাগমের কথাও স্মরণ করেন তিনি। হালকা মেজাজে আলবানিজ বলেন, কোনও রাজনৈতিক সম্মেলনে নেতাদের জন্য যতটা উচ্ছ্বাস দেখা যায়, “মোদির স্টেডিয়াম অনুষ্ঠান না দেখলে সেই উচ্ছ্বাসের প্রকৃত মাত্রা বোঝা কঠিন।” তিনি জানান, ডিসেম্বরে আমেরিকায় আয়োজিত নির্ধারিত জি২০ বৈঠকের পর তিনি মুম্বই সফর করবেন। সেখানে ব্যবসা-কেন্দ্রিক ‘গুড ডে নমস্তে’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরের শেষে চেন্নাইয়ে একটি ক্রিকেট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। রাজনীতি ও ক্রিকেটের বাইরেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের বিস্তৃত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন আলবানিজ। কমনওয়েলথের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ইংরেজি ভাষার যোগাযোগ এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আলবানিজের কথায়, ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের সম্ভাবনাকে এতদিন পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। আগামী দিনে দুই দেশের সরকারই এই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী।

  • S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতকে প্রশ্ন করতে গিয়ে ওই সাংবাদিক পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্ন, সরাসরি জবাব জয়শঙ্করের

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের হাই-লেভেল উইকের জন্য বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন জয়শঙ্কর। শুক্রবার লাইবেরিয়ার বিদেশমন্ত্রী সারা বেইসোলো নাইয়ান্তির সঙ্গে একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকটির মূল বিষয় ছিল ‘গ্রুপ অফ ফ্রেন্ডস অন সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অফ শিপিং অ্যান্ড সিফ্যারার্স’। বৈঠকটি শুরু হওয়ার আগে এটিকে মূলত ‘শুধুমাত্র বক্তব্যের বিবরণী’ হিসেবেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাংবাদিক বৈঠকের শেষদিকে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। তিনি জানতে চান, “আপনাদের সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করবে?” এর পরেই প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    নির্মম সত্যের মুখোমুখি পাক সাংবাদিক!

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ—নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান ফের স্পষ্ট হয়ে যায়। পরে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পর্বতানেনি ওই পাকিস্তানি সাংবাদিককে বলেন, “আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর শুনেছেন। খুব স্পষ্টভাবেই আপনার জবাব পেয়ে গিয়েছেন।” আসলে, গতকাল ভারতীয় সংবাদসংস্থার এক সাংবাদিক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে প্রশ্ন করেছিলেন, “লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কবে মামলা চালাবেন?” শাহবাজের কাছে এর কোনও জবাব ছিল না, তিনি সেখান থেকে চলে যান। আজ ওই পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করেন। কিন্তু জয়শঙ্করের কাছ থেকে নির্মম সত্যের মুখোমুখি হন তিনি।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান কী?

    সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে বিশ্বাসযোগ্য এবং যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে। ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। একইসঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ, পরিকাঠামো বা অন্য কোনও ধরনের সহায়তা বন্ধ করার জন্যও পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।

    পহেলগাঁও হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম বড় কারণ ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা। ওই হামলায় ২৬ জন অসামরিক নাগরিক নিহত হন।

    এর পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলা চালায়। ভারতীয় সরকারের বক্তব্য ছিল, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের পরিকাঠামো, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ বা বেসামরিক পরিকাঠামো নয়।

    নয়াদিল্লি আরও দাবি করেছে, পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষার অধিকারের প্রয়োগ। এই হামলা এবং সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চেও উঠে এসেছে।

    ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নিয়ে ভারতের দাবি

    পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা টিআরএফ-এর যোগ থাকার দাবি করেছে ভারত। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই টিআরএফ-কে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার একটি প্রক্সি সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

    ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই আমেরিকা টিআরএফ-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ এবং ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির একটি রিপোর্টেও টিআরএফ এবং পহেলগাঁও হামলার মধ্যে যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার জন্যও ভারত নিয়মিত ভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উদ্যোগ নিয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নিয়েও পাকিস্তানকে ঘিরে চাপ

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলির অর্থের উৎস বন্ধ করাও ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন রোধের ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি।

    ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর নজরদারিও এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং অর্থপাচার রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না করার কারণে পাকিস্তান একাধিকবার এফএটিএফ-এর ‘গ্রে লিস্টে’ ছিল। সর্বশেষ পর্যায়ে ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তান বর্ধিত নজরদারির আওতায় ছিল।

    এই সময় পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন চিহ্নিত ও বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে অর্থ পৌঁছনোর পথ আটকানোর মতো একাধিক পদক্ষেপ করতে হয়েছিল।

    ভারতের বক্তব্য ছিল, এফএটিএফ-এর নজরদারির ফলে পাকিস্তানকে একাধিক জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নামও ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলেছে।

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ফের সরব জয়শঙ্কর

    জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদ-কেন্দ্রিক কূটনৈতিক টানাপড়েনেরই আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত বারবার নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বলেছে, সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে স্বাভাবিক করে তোলা উচিত নয়।

    নিউইয়র্ক সফরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে ভারতের প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে একাধিক দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বৈঠকও করছেন জয়শঙ্কর। শনিবার সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁর শুক্রবারের মন্তব্য তাই শুধুমাত্র একটি সাংবাদিক বৈঠকের তাৎক্ষণিক উত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি সংগঠনগুলির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান—সবকটি বিষয়ই এই ঘটনাকে ঘিরে ফের সামনে এসেছে।

  • India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের (UN Security Council Reform) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ও বিস্তৃত সংস্কারের দাবি ফের জোরালোভাবে তুলল ভারত (India)। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, সাধারণ পরিষদকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে ভারত বলেছে, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

    গোলটেবিল বৈঠকে সোচ্চার ভারত (India)

    স্থানীয় সময় ১৪ জুলাই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ‘ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতানেনি। তিনি বলেন, “ভারতের কাছে ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অর্থ হল, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম করা। সেই কারণেই নিরাপত্তা পরিষদের সর্বাত্মক সংস্কার, সাধারণ পরিষদের পুনরুজ্জীবন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের আরও শক্তিশালী ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত— টেকসই উন্নয়নের এই তিনটি ক্ষেত্রেই তাদের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।”

    রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে

    রাষ্ট্রসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা সংঘাত থামাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার যে মূল লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তা আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছে (India)।” নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোকেই এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন হরিশ। তিনি বলেন, “আশি বছর আগের বাস্তবতা মাথায় রেখে তৈরি করা কাঠামো বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আর যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রসংঘ এখনও নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি। আন্তঃসরকারি আলোচনার কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রস্তুত বক্তব্যই দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ৩৯ থেকে ৪১ নম্বর পদক্ষেপও মূলত কাগজেই রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।”

    আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

    তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় আন্তঃসরকারি আলোচনার বিষয়ে যে সুপারিশগুলি রয়েছে, সেগুলি ওই আলোচনার সহ-সভাপতিরা তৈরি করেছিলেন, পরিকল্পনার সহ-সমন্বয়কারীরা নন। ওই অংশ নিয়ে ভারতের গুরুতর আপত্তি থাকলেও, গঠনমূলক মনোভাব থেকেই ভারত এই কর্মপরিকল্পনা সমর্থন করেছে (UN Security Council Reform)।” আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি। বলেন, “টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে গেলে পর্যাপ্ত, সাশ্রয়ী এবং নিশ্চিত অর্থায়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম এবং উন্নয়নমুখী হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের মূল দায়িত্বও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।” বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার সংস্কারে ভারতের অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর সংস্কারের লক্ষ্যে সব আন্তরিক উদ্যোগকে ভারত (India) সমর্থন করে যাবে। বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্ষম ও কার্যকর করে তোলাই আমাদের যৌথ লক্ষ্য হওয়া উচিত (UN Security Council Reform)।”

     

LinkedIn
Share