Tag: UNESCO

UNESCO

  • Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।” বুধবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen Arrested) বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছিল।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু ইন্দ্রনীল নন, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি বহু রাজনৈতিক সভায় বলেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এই ঘটনা ঘটেছে। একা তো আর কেউ টাকা নেননি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও ভাগ থাকতে পারে।” ইন্দ্রনীলের সঙ্গে (ED) মমতার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দু’জনে একসঙ্গে ঘুরতেন এবং গানও গাইতেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেন একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার, তা-ই হচ্ছে। সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি। দুর্নীতিতে জড়িতদের সকলকেই জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”

    প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen Arrested)। এদিন সল্টলেকের ইডি দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরোনোর পরেই তাঁকে আটক করে গাড়িতে তোলে কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে (ED)।

    ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Indranil Sen Arrested)

    দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শন এবং বিশেষ পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। অথচ এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের জন্য ইউনেস্কোর কোনও অনুমোদন বা চুক্তি ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

    এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কাছে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে একাধিক বার ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কসবার বাড়ি এবং সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিও চালানো হয়। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর পরে ফের তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার তিনি তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন (Indranil Sen Arrested)।

    ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতির সন্দেহ

    প্রাথমিক তদন্তে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শনের আয়োজন এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও স্বীকৃতিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের মনে ওই আয়োজনের সঙ্গে সংস্থাটির সরাসরি যোগসূত্র থাকার ধারণা তৈরি হয়।

    ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধেও এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমেই পাস বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়েছিল। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংস্থাটি গড়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।

    আগাম জামিনের আবেদন খারিজ

    তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে শুনানি পিছিয়ে যায় এবং নতুন করে বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আগামী সোমবার নতুন বেঞ্চে ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

    উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরনিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় গত ১১ মে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (ED)। এ বার দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল সরকারের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী (Indranil Sen Arrested)।

     

  • Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পুজো কমিটি, মণ্ডপ, প্রতিমা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রা—সব মিলিয়ে প্রতি বছরই রাজ্যের জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে দুর্গাপুজো। কলকাতার দুর্গাপুজো  (Durga Puja 2026) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো।

    তবে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, অশান্তি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সামনে এসেছে। কোথাও পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হামলা, প্রতিবাদীদের গ্রেফতার, পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    রাজনৈতিক বিতর্ক (Durga Puja 2026)

    ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। “শারদোৎসবে”র বদলে ‘দুর্গোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তা না করলে পুজো কমিটিগুলিকে সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই পদক্ষেপকে “ফ্যাসিবাদী আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুজো মণ্ডপের আশপাশে সিপিআই(এম) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল বসানোর রীতি রয়েছে। সেখানে দলীয় প্রকাশনা, মার্কসবাদী সাহিত্য এবং বিভিন্ন বই বিক্রি করা হয়।

    ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় একাধিক ঘটনাও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকায় নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় অষ্টমী ও নবমীর আচার-অনুষ্ঠানের সময় গান ও ভক্তিগীতি বাজানোকে কেন্দ্র করে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ ছিল, একটি দল পুজোর অনুষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেয় এবং দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরেরও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তি

    হাওড়ার শ্যামপুরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো সংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং এলাকায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    এদিকে, দুর্গাপুজোর বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কলকাতা পুলিশ পুজোর সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচি থামিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুজো মণ্ডপের বাইরে চিকিৎসকদের আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে আলিপুরে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁদের উদ্দেশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা ছিল না (Durga Puja 2026)।

    দুর্গাপুজোর সরকারি কার্নিভালেও এক চিকিৎসকের গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থনে ব্যাজ পরে পুজো কার্নিভালে অংশ নেওয়া কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক তপাব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদে চিকিৎসক ও অন্যদের বিক্ষোভের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্ট ওই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেয়।

    নদিয়ার রানাঘাটে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে আসা একটি ক্লাবকে ১১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে অনুমতি না দেওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ক্লাবটি ওই বছর পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অশান্তি বিসর্জনের শোভাযাত্রায়ও

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও একাধিকবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর কলকাতার পার্ক সার্কাস ও নারকেলডাঙা এলাকায় কালী ও লক্ষ্মীপ্রতিমা বিসর্জনের সময় পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটি ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের অভিযোগ, রাজাবাজার এলাকায় হঠাৎ করে পাথর, কাচের বোতল এবং ইট ছোড়া হয়। আশপাশের বাড়ি থেকেও পাথর ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আতঙ্কে অনেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন এবং কয়েকটি শোভাযাত্রার যাত্রাভঙ্গ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে অবশ্য বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় (Durga Puja 2026)।

    এই ঘটনার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে নারকেলডাঙার হিংসার অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশ আধিকারিকদের আচরণও যথাযথ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে তর্ক হয় এবং পরে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় থাকা আক্রান্তদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় (Pandal Vandalism Incidents)।

    ২০২০ সালের বিজয়া দশমীতে বীরভূমে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছিল। পুজো কমিটির সদস্য ও ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়োয় এক পুলিশকর্মীকে এক যুবকের জামার কলার ধরে রাস্তায় টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দুর্গাপুজোর মণ্ডপের থিম এবং ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপুজোকে ঘিরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মণ্ডপসজ্জায় একটি দৃশ্যে দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে এক হিন্দু মহিলা ও তাঁর শিশুকে ভারতের একটি আটককেন্দ্রে বন্দি দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দুর্গাপুজোয় প্রতিমার সামনে আজান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। আজান ইসলামে নমাজের আহ্বান। এই ঘটনাকে ঘিরেও ধর্মীয় প্রতীক ও পুজোর পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ড

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলির একটি হল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের একটি মডিউলের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ ছিল। বিস্ফোরণে মণ্ডপের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে বিশেষ এনআইএ আদালত মামলায় ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন (Durga Puja 2026) চারজন।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলিপুরে পুজোর মণ্ডপ থেকে আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়।

    পুজো মণ্ডপে জুনিয়র চিকিৎসক ও প্রতিবাদীদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছিল। ত্রিধারা সম্মিলনী দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বভারতীয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের রিপোর্ট চায়।

    সব মিলিয়ে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক ও সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও পুজোর মণ্ডপে ভাঙচুর, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হিংসা, আবার কোথাও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—বিভিন্ন ঘটনায় উৎসবের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিসর প্রশ্নের মুখে পড়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ

    বিশেষ করে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলিতে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও তার আশপাশের জনপরিসর একাধিক পৃথক সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গার্ডেন রিচে পুজোর আচার ঘিরে বিরোধ, শ্যামপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নারকেলডাঙায় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ, পুজোর মণ্ডপের কাছে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি পুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের আটক—সবক’টি ঘটনায়ই নতুন করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এর পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জন, বিজয়া দশমীতে পুলিশি পদক্ষেপ, পুজোর মণ্ডপের থিম ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার এবং বর্ধমান বিস্ফোরণ মামলার মতো পুরনো ঘটনাগুলিও এই বিতর্কের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ২০২৬ সালের “শারদোৎসব” বিতর্ক সেই চলমান চর্চায় নয়া মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুজোর পরিচয়, নামকরণ, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং পুজোকে ঘিরে (Durga Puja 2026) জনপরিসরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এসেছে (Pandal Vandalism Incidents)।

     

  • Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ইডির দফতরে হাজির ইন্দ্রনীল সেন

    Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ইডির দফতরে হাজির ইন্দ্রনীল সেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সল্টলেকে ইডির দফতরে হাজির হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। বুধবার সকাল ১১টার আগেই সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন তিনি। দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং পুজো পরিক্রমার নামে ইউনেস্কোর নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে চড়া দামে পাস বিক্রি এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে তাঁকে তলব করেছে (Durga Puja Pass Scam) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    মঙ্গলবারই ইন্দ্রনীল, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ইডি। কলকাতার পাশাপাশি সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি, তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে জমি সংক্রান্ত নথিও রয়েছে।

    অভিযোগের কেন্দ্রে ‘মাস আর্ট’ (Indranil Sen)

    অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থা। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে কলকাতার নির্বাচিত পুজোমণ্ডপগুলিতে প্রবেশের জন্য সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে কয়েক হাজার টাকা দামে পাস বিক্রি করা হয়েছিল। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, সংস্থাটি নিজেদের ইউনেস্কোর সরকারি সহযোগী হিসেবে তুলে ধরে ওই আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ও প্রতীক ব্যবহার করেছিল। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং ইন্দ্রনীল আগেই অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন।

    জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ এই ধরনের পাসের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, গোটা ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।

    অভিযোগের সূত্রপাত কীভাবে?

    চলতি বছরের জুনে কলকাতার বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল, মধুছন্দা এবং ‘মাস আর্টে’র কয়েকজন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সাল থেকে দুর্গাপুজোর নির্বাচিত মণ্ডপগুলিকে ঘিরে ‘প্রিভিউ শো’ আয়োজন করে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযোগকারীর দাবি, ইউনেস্কোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বা অনুমোদনের ধারণা তৈরি করে ওই পাসগুলি বাজারজাত করা হয়েছিল।

    পুলিশে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়। পরে আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তদন্তে ইডিও নামে এবং আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা সংক্রান্ত নথি তৈরি করে তদন্ত শুরু করে (Indranil Sen)।

    ২৪টি পুজোমণ্ডপ ঘিরে পাস বিক্রির অভিযোগ

    অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপের ‘প্রিভিউ শো’-এর জন্য পাস বিক্রি করা হত। পাসের দাম ছিল কয়েক হাজার টাকা। তদন্তকারীরা দেখছেন, এই পাস বিক্রির মাধ্যমে কত টাকা সংগ্রহ হয়েছিল, সেই অর্থ কোথায় গিয়েছিল এবং গোটা ব্যবস্থার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন।

    অভিযোগ, এই পাস থাকলে শহরের বিভিন্ন বড় পুজোমণ্ডপে সাধারণ দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে প্রবেশের সুযোগ মিলত। সেই পাস বিক্রির সঙ্গে বিভিন্ন পুজো কমিটির ভূমিকা কী ছিল, তা-ও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে সূত্রের খবর।

    ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের মন্ত্রী হন ইন্দ্রনীল। তিনি পর্যটন, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বেও ছিলেন। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা ‘মাস আর্টে’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে (Durga Puja Pass Scam)।

    দুর্গাপুজোকে ঘিরে কলকাতায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক আসেন। বিভিন্ন সংস্থা পুজো পরিক্রমার আয়োজন করে এবং নির্দিষ্ট পরিষেবার জন্য টিকিট বা পাস বিক্রি করা হয়। এই ব্যবস্থার আড়ালে ইউনেস্কোর নাম বা প্রতীক বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, পাস বিক্রির অর্থের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য কী এবং এর সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল কি না—এই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখছেন (Indranil Sen) তদন্তকারীরা।

     

  • ED in Indranil Sen’s House: প্রতি বছর কোটি টাকার কারবার! দুর্গাপুজোয় ৫০-৬০ কোটির দুর্নীতি, ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডি

    ED in Indranil Sen’s House: প্রতি বছর কোটি টাকার কারবার! দুর্গাপুজোয় ৫০-৬০ কোটির দুর্নীতি, ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen) ও তাঁর স্ত্রীর সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোর ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ভাঙিয়ে পুজো (Durga Puja)পরিক্রমার ভুয়ো পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরেছেন বাংলার এই গায়ক। সেই অভিযোগের তদন্তেই মঙ্গলবার সাতসকালে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে পৌঁছে গেল ইডি (ED Raid)। সূত্রের খবর, তাঁর কসবার বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তকারীরা। শুধু প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িই নয়, এ দিন ভোর থেকে একইসঙ্গে তাঁর সংস্থার অফিস-সহ শহরের একাধিক জায়গায় চলছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযান। জানা গিয়েছে, ইন্দ্রনীলের হুগলির ফার্ম হাউসেও পৌঁছে গিয়েছে ইডির দল।

    শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইডির দল

    মঙ্গলবার ভোরে শহরের ১০টি ঠিকানায় হানা দেয় ইডির (ED Raid in Kolkata) একাধিক দল। তার মধ্যে রয়েছে তৃণমূল আমলের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়ি, হিন্দুস্তান পার্কে তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি এবং হাইল্যান্ড পার্কের এক ইভেন্ট ম্যানেজারের বাড়ি। প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় জওয়ানরা। তবে তিনি এই মুহূর্তে বাড়িতে আছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযোগ, মাস-আর্ট নামক সংস্থার নামে বাজার থেকে বিরাট অঙ্কের টাকা তোলেন ইন্দ্রনীল সেন। ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, গত তিন বছর ধরে এই টিকিট বিক্রির মাধ্যমে তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

    প্রি-পূজা ও প্রিভিউ শোয়ের টিকিট বিক্রি চড়া দামে

    ইডির দাবি, বাংলার দুর্গাপুজো ২০২১ সালে ইউনেস্কোর (UNESCO) হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরই শুরু হয়েছিল অন্য এক খেলা। সেই বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম অপব্যবহার করে প্রি-পূজা ও প্রিভিউ শোয়ের চড়া দামের টিকিট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ইউনেস্কোর হেরিটেজ পাওয়ার ঠিক এক বছর পরেই (২০২২ নাগাদ) একটি বিশেষ সংস্থা গড়ে তোলা হয়। যার নাম দেওয়া হয়, ‘মাস আর্ট’ (Mass Art)। এর নেপথ্যে ছিলেন ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। সংস্থাটির কাজ ছিল দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার আগেই দর্শনার্থীদের বিশেষ ‘প্রি-পূজা টিকিট’ বিক্রি করা। কলকাতার নামজাদা প্রায় ২৪টি পুজোকে বেছে নিয়ে একটি মিউজিয়াম বা প্রদর্শনীতে তাদের থিম ও শিল্পকর্ম দেখানো হত। সংস্থাটি দাবি করত, এই উদ্যোগ ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    ইউনেস্কো যুক্ত ছিল না কখনওই

    অভিযোগকারীর দাবি, ইউনেস্কো কোনওদিনই পুজোর এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ বা প্রদর্শনীর সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে ভুয়ো আন্তর্জাতিক তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে বিপুল দামে এই টিকিট বিক্রি করা হত। তদন্তে উঠে আসে এই পাসগুলি পাওয়ার জন্য ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার জন, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার জন এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার জন নাম রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। ২০২২ সালে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নেতৃত্বে ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে এই সংস্থাটি গড়ে ওঠে। যে পুজোগুলোকে এই প্রদর্শনীতে বাছা হত, নিয়ম করে কেবল তারাই বড় বড় স্পনসর এবং পুরস্কার পেত। টিকিট বিক্রি ও স্পনসরশিপের বিপুল কোটি টাকার সামান্য একটু অংশ পেত পুজো ক্লাবগুলো, আর সিংহভাগ টাকাই চলে যেত ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর পকেটে। ইডির দাবি, সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছে।

    কোটি কোটি টাকার কারবার

    এতদিন ভীতি ও প্রভাবশালী চাপের কারণে মুখ খুলতে না পারলেও, এবার আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান অভিযোগকারী। চলতি বছরের জুন মাসে বউবাজার থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। মঙ্গলবার তার ভিত্তিতে ইডি তল্লাশি শুরু করল। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে পুজোর পাস নিয়ে ইডির এই তদন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোনওরকম অনুমতি ছাড়াই ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীলের সংস্থার বিরুদ্ধে। কলকাতার প্রায় চব্বিশটি বাছাই করা পুজোমণ্ডপের প্রিভিউ শো দেখানোর নামে যে পাস বিক্রি করা হতো তার একেকটির মূল্য ১৭৪৯ টাকা থেকে শুরু করে ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইউনেস্কো ওই মণ্ডপগুলি নির্বাচন করেছে বলে দাবি করা হলেও তার কোনও সত্যতা মেলেনি।

    কীভাবে টাকার লেনদেন হত

    যদিও এই সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর হয়েছিল। তবে দুর্নীতির অঙ্ক বিপুল হওয়ায় ইসিআইআর করে তদন্ত শুরু করে ইডি। প্রাক্তন মন্ত্রীর সংস্থার নামে যদি টাকা তোলা হয়, তবে তা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, কীভাবে টাকার লেনদেন হত, এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এদিন শহরের একাধিক ঠিকানায় হানা দেয় তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে খবর, সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের একটি বাগানবাড়ি রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সেখানেও ইডি আধিকারিকরাও হানা দিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই, আর্থিক দুর্নীতির উৎসে পৌঁছনো।

  • Durga Puja: দুর্গাপুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রশাসনিক বাধা-রাজনৈতিক বিতর্ক, নতুন করে সামনে ফের পুরনো প্রশ্ন

    Durga Puja: দুর্গাপুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রশাসনিক বাধা-রাজনৈতিক বিতর্ক, নতুন করে সামনে ফের পুরনো প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও অন্যতম বড় পরিসর। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউনেস্কো। তাদের নথিতে দুর্গাপুজোকে ধর্ম, শিল্প, কারুশিল্প ও সমবেত সামাজিক অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    তবে গত এক দশকে দুর্গাপুজোকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, পুলিশি পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে। এর মধ্যে কিছু ঘটনায় পুজোমণ্ডপ বা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে, আবার কিছু ঘটনায় প্রতিবাদ, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে উৎসবের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    শারদোৎসব না দুর্গাপুজো? (Durga Puja)

    ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় দুর্গাপুজোর মণ্ডপের কাছে বামপন্থী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, যে সব বামপন্থী বইয়ের স্টলে “দুর্গাপুজো”র পরিবর্তে “শারদোৎসব” শব্দ ব্যবহার করা হবে, সেই স্টলকে পুজো কমিটিগুলির অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, “শারদোৎসব” শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎসবের ধর্মীয় চরিত্রকে খাটো করা হচ্ছে।

    সিপিআই(এম)-এর তরফে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে। দলটির সঙ্গে যুক্ত বইয়ের স্টলগুলির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কথাও সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাসে মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে এই ধরনের প্রথম বামপন্থী-সংযুক্ত বইয়ের স্টল বসেছিল। সেখানে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে সাহিত্য ও অন্যান্য বই বিক্রি করা হয়েছিল।

    সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “গণতন্ত্র মানে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাবনার সহাবস্থান।” দলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তাদের বইয়ের স্টলে স্বামী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ বিভিন্ন ভারতীয় ব্যক্তিত্বের উপর বইও থাকে।

    ফলে বিতর্কটি কেবল একটি শব্দ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দুর্গাপুজোকে প্রধানত ধর্মীয় উৎসব হিসেবে দেখা হবে, নাকি ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবেও তার পরিচয় থাকবে—তা নিয়েও রাজনৈতিক মতপার্থক্য সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

    হাওড়ার শ্যামপুরে অশান্তি

    অক্টোবর ২০২৪-এ হাওড়ার শ্যামপুরে একটি ছবি নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি পরে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরে গড়ায়। পুলিশের তরফে ৬৭ জনকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়। এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধের কথাও প্রকাশ্যে আসে। একই ঘটনায় পুজো কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধেও মামলা হয়।

    গার্ডেনরিচের পুজোমণ্ডপে উত্তেজনা

    ১১ অক্টোবর কলকাতার গার্ডেনরিচের নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোমণ্ডপে একদল যুবকের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার চলাকালীন বাজানো শব্দ নিয়ে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ, ৫০-৬০ জন সেখানে এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন এবং প্রতিমা ভাঙার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করে তদন্ত শুরু করে।

    তবে ঘটনাটির প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য আলাদা। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের নমাজের সময়ে পুজোর শব্দ নিয়ে আপত্তি থেকে বচসার সূত্রপাত এবং পরে স্থানীয় প্রবীণদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি (Durga Puja) নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বিসর্জনকে ঘিরে সংঘর্ষ

    নরকেলডাঙায় কালীপুজোর বিসর্জনের সময় সংঘর্ষ, পাথর ও কাচের বোতল ছোড়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, ঘটনাটির সূত্রপাত একটি মোটরবাইক পার্কিং নিয়ে বিবাদের জেরে এবং নির্দিষ্ট কোনও বিসর্জন মিছিলকে লক্ষ্য করে হামলা হয়নি। পুলিশের বক্তব্য, নির্ধারিত বিসর্জনের শোভাযাত্রা পরে নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

    এই ঘটনায় জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদারও রাজ্যপালের কাছে পুলিশি আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবর।

    আরজি কর আন্দোলন এবং পুজোর সময় পুলিশের পদক্ষেপ

    ২০২৪ সালের পুজোর সময় আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদও দুর্গাপুজোর পরিসরে এসে পড়ে। ৯ অক্টোবর জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচিকে কলকাতা পুলিশ আটকে দেয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চিকিৎসকদের উত্তেজনা তৈরি হয়।

    ১৫ অক্টোবর সরকারি দুর্গাপুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তপোব্রত রায়কে প্রতিবাদী ব্যাজ পরার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। মামলাটির তদন্তে কলকাতা হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও দেয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ব্যাজে লেখা বক্তব্যকে আপত্তিকর মনে করে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল।

    বস্তুত, আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদ, প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাত এবং উৎসবের সরকারি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রশ্নও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

    ১১২ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে বিতর্ক

    নদিয়ার রানাঘাটে ২০২৪ সালে ১১২ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা স্থাপনের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। আয়োজকদের বক্তব্য, প্রশাসনিক অনুমতি না মেলায় পুজো বন্ধ রাখতে হয়। পরে ওই জায়গায় মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছিল। এখানে প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং আয়োজকদের পুজো আয়োজনের অধিকার—দুই দিকই আলোচনায় আসে।

    সাংবাদিক গ্রেফতারির ঘটনায় বিতর্ক

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক অনন্য গুপ্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো একটি প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা অনন্যর গ্রেফতারির সমালোচনা করেন।

    ২০১৪-র বর্ধমান বিস্ফোরণ

    দুর্গাপুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় ২০১৪ সালের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণও গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রচলিত কিছু প্রতিবেদনে তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিস্ফোরণটি ঘটে ২ অক্টোবর ২০১৪ সালে; কিন্তু ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ২৮ অগাস্ট ২০১৯ সালে। দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। মামলাটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের তদন্তের সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল।

    অতএব, ঘটনাটিকে “২০১৪ সালের ২৮ আগস্টের মামলা” বলা সঠিক নয়; ২৮ আগস্ট ২০১৯ ছিল দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তারিখ।

    দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    ইউনেস্কোর নথিতে কলকাতার দুর্গাপুজোকে শুধু ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়, শিল্পী, কারিগর, পুজো কমিটি, পুরোহিত, ঢাকি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, উৎসবের সময়ে শ্রেণি, ধর্ম ও জাতিগত বিভাজন অনেকাংশে অতিক্রম করে মানুষ পুজোমণ্ডপ পরিদর্শনে অংশ নেয়।

    এই কারণেই পুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ কিংবা মতপ্রকাশের উপর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ—প্রতিটি ঘটনাই বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও নাগরিক অধিকারের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

    তবে ঘটনাগুলির প্রকৃতি এক নয়। কোথাও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার অভিযোগ, কোথাও ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিবাদ, কোথাও রাজনৈতিক আন্দোলন, আবার কোথাও প্রশাসনিক অনুমতি বা আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন রয়েছে। ফলে সব ঘটনাকে একই ধরনের “পরিকল্পিত হামলা” হিসেবে দেখার আগে প্রত্যেকটির প্রেক্ষাপট, পুলিশের বক্তব্য, মামলা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    সুমুখে যেসব প্রশ্ন

    ২০২৬ সালের বইয়ের স্টল-বিতর্ক এই পুরনো আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পরিচয়কে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার দাবি রয়েছে। অন্যদিকে বামপন্থী দলগুলি দীর্ঘদিনের বই বিক্রির ঐতিহ্য এবং মতাদর্শগত প্রকাশের অধিকারের কথা বলছে।

    একই সঙ্গে, দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) ইউনেস্কোর স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ—সবক’টিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো তাই একই সঙ্গে ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক উৎসব, সামাজিক সমাবেশ এবং রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্র। ২০২৬-এর পুজোর আগে বইয়ের স্টল ঘিরে নতুন বিতর্ক দেখিয়ে দিল, উৎসবের পরিচয় ও জনপরিসরে তার অর্থ নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এখনও যথেষ্ট তীব্র। সামনে (West Bengal) প্রশাসন, পুজো কমিটি, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে এই মতপার্থক্য সামলান, তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে উৎসবের পরিবেশ।

     

  • UNESCO: তক্ষশিলার প্রাচীন নিদর্শনে আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিল ইউনেস্কো

    UNESCO: তক্ষশিলার প্রাচীন নিদর্শনে আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিল ইউনেস্কো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘আমরা গর্বের সঙ্গে বিদেশে সবাইকে বলি, আমরা সিন্ধু সভ্যতার সন্তান।’’ সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ কথাই বললেন পাকিস্তানের (Pakistan) তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার। তাঁর এহেন বক্তব্যের কারণেই জন্ম হয়েছে নয়া বিতর্কের। কারণ, রাষ্ট্রসঙ্ঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) পাকিস্তানকে তক্ষশিলার দু’টি প্রাচীন প্রত্নস্থলে সংরক্ষণের নামে অনুপযুক্ত কাজ করার অভিযোগে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ইউনেস্কোর অভিযোগ (UNESCO)

    ইউনেস্কোর অভিযোগ, পাকিস্তানের প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগ তক্ষশিলার মহরা মরাদু বৌদ্ধ বিহার ও স্তূপ এবং সিরকাপ প্রাচীন নগরীর সংরক্ষণকাজে সিমেন্ট ও আধুনিক গাঁথুনি ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রত্নসংরক্ষণ নীতির পরিপন্থী এই পদক্ষেপের ফলে ঐতিহাসিক কাঠামোগুলির মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং ঐতিহাসিক সত্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই মনে করছে ইউনেস্কো। সম্প্রতি ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জানানো হয়, অবিলম্বে এই পরিবর্তন প্রত্যাহার করে যথাযথ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা না নিলে তক্ষশিলাকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

    প্রত্ন নিদর্শনে আধুনিকতার ছোঁয়া

    জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে এক দর্শনার্থী তক্ষশিলার বিভিন্ন জায়গার ছবি এবং ভিডিও ইউনেস্কোর কাছে পাঠান। তাতে দেখা যায়, প্রাচীন ইটের দেওয়াল ভেঙে নতুন গাঁথুনি তৈরি করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও দেওয়ালের উচ্চতাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর গত ১২ জুন ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞ দল পাক প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রত্নস্থল পরিদর্শন করে (UNESCO)। তক্ষশিলা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন নগরী। বৈদিক সাহিত্য, মহাভারত এবং বৌদ্ধ জাতক কাহিনিতে এই নগরীর উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীকালে এটি গান্ধার শিল্প, বৌদ্ধ সংস্কৃতি এবং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।

    অবহেলার শিকার

    সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান তার প্রাক-ইসলাম পর্বের ইতিহাসকে গুরুত্ব না দিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সিন্ধু সভ্যতা ও তক্ষশিলাকে পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যদিও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ নীতি অনুসরণ না করায় তাদের এই উদ্যোগ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা, তক্ষশিলা এবং সোয়াট উপত্যকার বহু বৌদ্ধ প্রত্নস্থল বছরের পর বছর অবহেলার শিকার (Pakistan)। অর্থাভাবের অজুহাতে এসব জায়গার সংরক্ষণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ ইসলামি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলির রক্ষণাবেক্ষণে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই (UNESCO) অভিযোগ। ২০০৯ সালে সোয়াট উপত্যকায় সপ্তম শতাব্দীর একটি পাহাড় খোদাই করা বুদ্ধমূর্তি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয় জঙ্গিরা। ওই অঞ্চলের বহু বৌদ্ধ স্তূপ এবং প্রত্নস্থলও হামলার শিকার হয়। বিভিন্ন সময়ে প্রত্নবস্তু চুরি ও অবৈধ খননের ঘটনাও ঘটেছে।

    ইউনেস্কোর সতর্কবার্তা

    বিশ্লেষকদের অভিযোগ, পাকিস্তানে বহু প্রাচীন হিন্দু মন্দির, শিখ গুরুদ্বার এবং অন্যান্য ইসলাম-পূর্ব ঐতিহাসিক কাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনাও নানা সময়ে পড়েছে হামলার মুখে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে সিন্ধু সভ্যতাকে নিজেদের জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অনুদান অর্জন এবং নিজেকে সিন্ধু সভ্যতার প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কৌশল নেওয়া হয়েছে (UNESCO)। সংশ্লিষ্টমহলের দাবি, বাস্তবে প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে ধারাবাহিক অবহেলা এবং ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা পাকিস্তানের এই অবস্থানকেই ফেলেছে প্রশ্নের মুখে (Pakistan)।

     

  • PM Modi: ভারতকে একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন ফেরাল নেদারল্যান্ডস

    PM Modi: ভারতকে একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন ফেরাল নেদারল্যান্ডস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাচীন নিদর্শন পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় মিলল বিরাট সাফল্য (PM Modi)। শুক্রবার নেদারল্যান্ডস (Netherlands) ভারতকে ফিরিয়ে দিল একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন। এই ফলকগুলি ‘লেইডেন প্লেটস’ নামেও পরিচিত। এগুলি চোল সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টিকে থাকা ঐতিহাসিক দলিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেদারল্যান্ডস সফরের সময় এই পদক্ষেপটি নেয় সে দেশের সরকার।

    ২১টি তাম্রফলক (PM Modi)

    ভারত সরকার, ডাচ সরকার এবং লেইডেন ইউনিভার্সিটির মধ্যে বহু বছরের পুনরুদ্ধার চেষ্টার ফলস্বরূপ মিলল এই সাফল্য। সব মিলিয়ে মোট ২১টি তাম্রফলক রয়েছে। ওজন প্রায় ৩০ কেজি। একটি ব্রোঞ্জের বৃত্তের মাধ্যমে একত্রে বাঁধা, যাতে রাজেন্দ্র চোল একের রাজমোহরও লাগানো রয়েছে। এই তাম্রফলকের লিপিগুলি সম্রাট রাজারাজা চোল এক এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্র চোলের শাসন কালের। সংস্কৃত অংশে চোল বংশের বংশলতিকার উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিষ্ণুর কাছ থেকে ঐশ্বরিক বৈধতা দাবি করা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক বিনিময়

    তামিল ভাষায় লেখা অংশে রাজরাজা চোলের পক্ষ থেকে নাগাপট্টিনমের চূড়ামণি বিহার নামক একটি বৌদ্ধ মঠকে জমির রাজস্ব ও কর দেওয়ার নথি রয়েছে। এই বিহারটি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার শ্রীবিজয় সাম্রাজ্যের শাসক শ্রী মারা বিজয়োতুঙ্গ বর্মণ নির্মাণ করেছিলেন। ভূমিদানের আদেশ প্রথমে রাজরাজা চোল জারি করলেও, পরে তাঁর পুত্র সম্রাট রাজেন্দ্র চোল সেই আদেশ তাম্রফলকে উৎকীর্ণ করান, যাতে তা সংরক্ষিত থাকে। এই লিপিগুলি দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে চোল যুগের শীর্ষ সময়ে বিদ্যমান সামুদ্রিক যোগাযোগ, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কে বিরল তথ্য দেয়। নথিগুলি থেকে জানা যায়, সেই সময়ের হিন্দু শাসকরা বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলিকে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন, যা ভারতের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার ঐতিহ্য তুলে ধরে (PM Modi)।

    কীভাবে তাম্রফলকগুলি পৌঁছল নেদারল্যান্ডসে?

    প্রশ্ন হল, কীভাবে তাম্রফলকগুলি লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছল? প্রায় ১৭০০ সালের দিকে ডাচ মিশনারি ফ্লোরেনটিয়াস ক্যাম্পার এই তাম্রফলকগুলি সংগ্রহ করেন। তখন ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পুলিকট থেকে তাদের কোরোম্যান্ডেল সদর দফতর নাগাপট্টিনমে স্থানান্তর করার পর ওই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছিল। পরে ১৮৬২ সালে অধ্যাপক হেনড্রিক আরেন্ট হামাকারের সম্পত্তির মাধ্যমে এগুলি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এশীয় সংগ্রহের অংশ হয়ে ওঠে। সেখানে ফলকগুলি নিরাপদ ভল্টে সংরক্ষিত ছিল। খোলা ছিল কেবল গবেষক ও পণ্ডিতদের জন্যই।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে ডাচ সরকার ও লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই তাম্রফলক ফেরত আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডস ঔপনিবেশিক আমলের নিদর্শন ফেরত দেওয়ার নীতি চূড়ান্ত করার পর ভারতের প্রচেষ্টা গতি পায়। ২০২৩ সালে ইউনেস্কো (UNESCO)-এর আন্তঃসরকার কমিটি ভারতকে উৎস দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় (Netherlands), আহ্বান জানায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার। শেষমেশ মিলল ফল (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share