Tag: UNGA

UNGA

  • Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) ভারত সরকার দু’বার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। একটি আমন্ত্রণ ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য। অন্যটি ছিল বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন।

    নয়াদিল্লিতে (India) গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমান যোগ দেননি। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এখনও ভারত সফরে যাননি তিনি। তাঁর প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে এখনও কোনও নিশ্চিত বার্তাও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ভারত।

    রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ, তিনি দু’টি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন—একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।” তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে আমরা এখনও কিছু শুনিনি।”

    ব্রিকসের আমন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য (Tarique Rahman)

    ভারতের এই বক্তব্যের আগে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, আমন্ত্রণটি দেওয়া হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে।

    হুমায়ুন কবিরের কথায়, “আমরা কীভাবে যাব? বাংলাদেশের সরকারের কাউকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কে আপনাদের বলেছে যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।”

    ভারত অবশ্য জানিয়েছে, ব্রিকসের সম্প্রসারিত অধিবেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান বাংলাদেশ।

    এর আগে জুলাই মাসেও বাংলাদেশের (Tarique Rahman) বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    দ্বিপাক্ষিক সফরেই জোর ঢাকার

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বলা হয়েছে, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপাক্ষিক কোনও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে না হয়ে দ্বিপাক্ষিক সফর হওয়াই প্রত্যাশিত। হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা।

    আগস্টের শেষ দিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দুই দেশ পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সময়সূচিতে একমত হলেই সফরটি হবে।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তারেক রহমান

    ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই তারেক রহমানের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচি হতে চলেছে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা তাঁর। এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

    সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। এই অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য, “আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর একটি রাষ্ট্রসংঘ”।

    নিউইয়র্ক সফরে তারেক রহমান বাংলাদেশের (Tarique Rahman) দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়েও একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করার কথা (India) রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এ বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশেষ আলোচনা হবে বলেও বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

     

  • Bangladesh: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা বাংলাদেশের, পর্যালোচনায় ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি

    Bangladesh: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা বাংলাদেশের, পর্যালোচনায় ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে চায় বাংলাদেশ। অতীতের রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে পিছনে ফেলে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের (Bangladesh) বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন, বহুপাক্ষিক মঞ্চের পরিবর্তে সরাসরি (BRICS Summit) দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করতে চায় বাংলাদেশ।

    এই বক্তব্য এমন একটা সময়ে এল, যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী নয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকার শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, এসব চুক্তির কোনগুলি বহাল থাকবে, কোনগুলি সংশোধন করা হবে এবং কোনগুলি বাতিল করা হতে পারে, তা পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    ভারতের সঙ্গে ‘নতুন সম্পর্ক’ চায় ঢাকা (Bangladesh)

    হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেও বাংলাদেশের উচিত নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা।

    তিনি বলেন, “আমরা একটি নতুন সম্পর্কের দিকে এগোতে চাই। এই সম্পর্ক বহুপাক্ষিক মঞ্চের মাধ্যমে নয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।”

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনাও করেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভারতকে নিয়ে এই অতিরিক্ত মোহ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ভারত অন্য সব দেশের মতোই একটি দেশ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তার ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকা উচিত।”

    ভারতকেন্দ্রিক অতিরিক্ত মনোযোগ বোঝাতে তিনি বলেন, “ভারতে প্রাতরাশ, ভারতে মধ্যাহ্নভোজ, ভারতে নৈশভোজ—তা হলে নিজের দেশের খাবার খাবেন কখন?”

    হুমায়ুন কবির আরও জানান, শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসন কালে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক “অস্বস্তিকর” হয়ে উঠেছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ ও সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোতে চায় (Bangladesh)।

    ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে ঘিরে টানাপোড়েন

    সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের এই বার্তার ঠিক আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে ভারতীয় পক্ষের আমন্ত্রণ ছিল বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি থেকেই দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য পৃথক আমন্ত্রণও ছিল (BRICS Summit)।

    দু’দিনের ব্রিকস সম্মেলন রবিবার শেষ হয়েছে। সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা

    এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার।

    তিনি বলেন, “আমরা ১০১টি সমঝোতা স্মারক-সহ চুক্তিগুলি পর্যালোচনা করছি। খুব শিগগিরই এর ফলাফল জানতে পারবেন (Bangladesh)।”

    চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবস্থার প্রসঙ্গও ওঠে। নূরুল ইসলাম মনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে এমন কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে একই সময়ে বাংলাদেশি ও বিদেশি জাহাজ বন্দরে এলে বিদেশি জাহাজ সুবিধা পেত। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলি পরিবর্তন বা বাতিল করার কথাও জানান তিনি।

    তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।

    হাসিনা প্রসঙ্গ এখনও সম্পর্কে বড় বাধা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়ে রয়েছে (Bangladesh)।

    এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ঢাকা অতীতের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পরিবর্তে সরাসরি যোগাযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে যেতে চাইছে।

    ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক

    এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।

    সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তারেকের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে কি না, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় এই ধরনের বৈঠক অনেক ক্ষেত্রেই শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয় (BRICS Summit)।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখা। পার্শ্ববৈঠকগুলির বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানা যাবে (Bangladesh)।

    সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবার সম্পর্ক পুনর্গঠনের স্পষ্ট বার্তা এল। তবে সেই নতুন সম্পর্কের ভিত্তি হবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং (BRICS Summit) দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ—এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে ঢাকা (Bangladesh)।

     

  • PM Modi: রাষ্ট্রসংঘের সভায় যোগ দিতে আমেরিকা যাবেন না মোদি! সুকৌশলে কি বার্তা ট্রাম্পকে?

    PM Modi: রাষ্ট্রসংঘের সভায় যোগ দিতে আমেরিকা যাবেন না মোদি! সুকৌশলে কি বার্তা ট্রাম্পকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুচিন্তিত পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi)। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে (UNGA Session) যোগ দেবেন না প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পরিবর্তে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভাষণ দেবেন। এর আগে ঠিক ছিল, ২৬ সেপ্টেম্বর মোদি ভাষণ দেবেন। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবর্তে বিদেশমন্ত্রী ভাষণ দেবেন ২৭ সেপ্টেম্বর। মার্কিন শুল্ক নিয়ে দ্বন্দ্বের মাঝে সুপরিকল্পিত ভাবে আমেরিকা সফর এড়িয়ে গেলন প্রধানমন্ত্রী মোদি এমনই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।

    কেন গেলেন না মোদি

    প্রথমত, এই সময় মার্কিন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে বেরিয়ে এলে, তা সরাসরি বিরোধ বা সংঘাতের সামিল হত। যা ভারত এখনও পর্যন্ত এড়িয়ে গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা কোনও মন্তব্যের প্রকাশ্যে প্রত্যাঘাতের পথে হাঁটেনি ভারত। পাল্টা শুল্ক চাপায়নি। শুধু চুপ করে বসে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে দিল্লি। ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হলে করমর্দন করতে হত, সৌজন্যতা বজায়ের জন্য সেই কাজ করলে জনমানসে ভুল বার্তা যেত। বিশেষ করে, ট্রাম্প যখন ‘‘চিন রাশিয়ার কাছে ভারতকে হারিয়ে ফেলেছি’’ বলে দাবি করে বসেছেন। দ্বিতীয়ত, হতেই পারে, মোদি আমেরিকা যাচ্ছেন শুনে ট্রাম্প আগবাড়িয়ে আচমকা ঘোষণা করে বসলেন। বলে দিতেই পারেন যে, মোদির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁরা দেখা করতে চলেছেন। মোদি রাজি হয়েছেন এরকম নানা কথা। এমনকি বৈঠকের দিনক্ষণ জায়গাও প্রকাশ করে ফেলতে পারতেন। কারণ অতীতে এমন অনেক কিছুই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা বারবার দাবি করেছেন ট্রাম্প, যা আদতে মিথ্যে বলে দাবি করেছে ভারত।

    শেষ কবে রাষ্ট্রসংঘে মোদি

    জুলাই মাসে প্রকাশিত তালিকায় জানা গিয়েছিল চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশের প্রশাসনিক প্রধানদের সঙ্গে ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলা রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। কিন্তু এবার জানা গেল, মোদির পরিবর্ত হিসেবে জয়শঙ্করের কথা। প্রসঙ্গত, এবারের অধিবেশনে প্রথম বক্তব্য রাখার কথা ব্রাজিলের। এরপরই আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাষণ দেবেন। ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর এটাই রাষ্ট্রসংঘে তাঁর অধিবেশন। নিউ ইয়র্কে হতে চলা ওই অধিবেশনে ট্রাম্প কী বলবেন, সেদিকে কড়া নজর থাকবে নয়াদিল্লির। তথ্য বলছে, শেষবার ২০২১ সালে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় গিয়েছিলেন মোদি। গত বছর রাষ্ট্রসংঘের হেডকোয়ার্টারেও তিনি যান। তবে সভায় যোগ দেননি। তারপর ২০২২ সাল থেকেই রাষ্ট্রসংঘের ডিবেটে ভারতের হয়ে ময়দানে নেমেছেন এস জয়শংকর। শুক্রবারই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার উচ্চ পর্যায়ের ডিবেটে স্পিকারদের নাম প্রকাশ্যে আসে। সেখানে লেখা রয়েছে ভারতের তরফে এক ‘মন্ত্রী’ সেখানে যো দেবেন। জানা যাচ্ছে, ২৭ সেপ্টেম্বর, যেদিন দেশে দুর্গাপুজোর পঞ্চমী পালিত হবে, সেদিন রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখবেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর।

    এক ঢিলে দুই পাখি

    শুল্কযুদ্ধের আবহে ট্রাম্পের নানা বক্তব্যে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের বিবিধ টানাপোড়েন সামনে এসেছে। সম্প্রতি এসসিও বৈঠকে মোদিকে পুতিন ও জিনপিংয়ের পাশে দেখে ট্রাম্প সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে রাশিয়া ও ভারতকে অন্ধকার চিনের কাছে হারিয়ে ফেলেছি।’ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এই পোস্ট নিয়ে কিছু বলার নেই এখনও পর্যন্ত।’ এর আগে প্রাক্তন মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন বলেছেন, ট্রাম্প ও মোদির সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছে। এবার ফের ট্রাম্পকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে। পরে ট্রাম্প ব্যাখ্যা করে বলেছেন, তাঁর এই ধরনের মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর হতাশা। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন মুলুকে পা রাখলে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। মার্কিন কূটনীতির কারবারিরা মোদি-ট্রাম্পকে পাশাপাশি বসিয়ে আলোচনার চেষ্টা করবেন। তখন প্রধানমন্ত্রী মোদির সামনে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মোদি সুকৌশলে সেই রাস্তাই বন্ধ করে দিলেন। একই সঙ্গে এক ঢিলে দুই পাখি মারল দিল্লি। এক, ট্রাম্পের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো গেল। দুই, ট্রাম্পকে ঘুরিয়ে বার্তা দেওয়া হল যে, ভারত মাথা নত করবে না।

  • UNGA: ধারাবাহিক অবস্থান, রাষ্ট্রসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোটদান থেকে বিরত থাকল ভারত

    UNGA: ধারাবাহিক অবস্থান, রাষ্ট্রসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোটদান থেকে বিরত থাকল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘে ফের নিজের কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখল ভারত। সরাসরি রাশিয়ার (Russia) বিরুদ্ধে ভোটদান (UNGA) থেকে বিরত থাকল দেশ। ইউক্রেনে (Ukraine) গণভোটের মাধ্যমে চারটি অঞ্চল দখল করার প্রক্রিয়াকে বেআইনি ঘোষণা করে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল। ভারত-সহ ৩৫টি দেশ সেই প্রস্তাবে ভোটদান থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে। 

    গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুতিনের দেশ। রাশিয়ার এই পদক্ষেপের নিন্দা করে খসড়া প্রস্তাব পেশ করা হয় রাষ্ট্রসংঘে। ১৪৩টি দেশ এই প্রস্তাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেয়। মাত্র পাঁচটি ভোট পড়ে রাশিয়ার পক্ষে। কিন্তু নিজের আগের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়ল না ভারত। মধ্যপন্থাই বজায় রাখল। এর একদিন আগে, সোমবারই ওপেন ব্যালটে ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে রুশ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ভোট দিয়েছিল ভারত।

    আরও পড়ুন: পশ্চিমী বিশ্ব থেকে ভারত কোনও সাহায্য পায়নি, রুশ অস্ত্র ইস্যুতে সাফ কথা জয়শঙ্করের

    সম্প্রতি ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল, ডনেৎস্ক, খেরসন, লুহানস্ক এবং জাপোরিজিয়া দখল করে রাশিয়া। সেখানে গণভোট করিয়ে নিজের দেশের সঙ্গে সেই অঞ্চলগুলি যুক্ত করেন পুতিন। সেই সংযুক্তিকরণের বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছিল আলবেনিয়া। সেই প্রস্তাবেই ভোটদান থেকে বিরত থাকল ভারত।   

    রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রুচিরা কাম্বোজ ভোটদান থেকে দেশের বিরত থাকার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এদিন বলেন, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের সুচিন্তিত জাতীয় অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাছাড়া এই ক্ষেত্রে আরও কিছু সমস্যা রয়েছে যা এই প্রস্তাবে পর্যাপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে এটি যুদ্ধের সময় হতে পারে না। সংলাপ এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টা করতে হবে। এই দৃঢ় সংকল্পের কারণেই ভারত ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” 

    সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ইউক্রেনে গণভোট করে রাশিয়া। তারপর বিবৃতি জারি করে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল দখল নেয় তারা। রাশিয়ার তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই চারটি অঞ্চল এখন থেকে রাশিয়ার অংশ। কোনও মতেই এই অঞ্চলগুলি হাতছাড়া করা হবে না। অন্যদিকে, রাশিয়ার পদক্ষেপে নিন্দায় সরব হয় গোটা বিশ্ব। ইউক্রেনের তরফে পাল্টা জানিয়ে দেওয়া হয়, চারটি অঞ্চল ইউক্রেনের অংশ। কোনও ভাবেই সেখানে রুশ শাসন কায়েম করতে দেওয়া হবে না। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।    

       

LinkedIn
Share