Tag: United News of India

  • Delhi Police: চুক্তির শর্ত না মানায় হাইকোর্টের নির্দেশে ইউএনআই সংবাদ মাধ্যমের অফিস সিল করল পুলিশ

    Delhi Police: চুক্তির শর্ত না মানায় হাইকোর্টের নির্দেশে ইউএনআই সংবাদ মাধ্যমের অফিস সিল করল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi Police) নির্দেশ এবং তার প্রেক্ষিতে সংবাদ সংস্থা ইউএনআই (United News of India)-এর অফিস সিল করে দেওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক চর্চা চলছে। ৪৫০ কোটি টাকা মূল্যের এই পাবলিক প্রপার্টি বা সরকারি জমি দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এবং চুক্তির শর্ত না মানায় আদালত জমিটি সরকারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতের অন্যতম প্রাচীন এই সংবাদ সংস্থা ইউএনআইয়ের কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের পর রাজধানীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার, ২০ মার্চ সন্ধ্যায়, দিল্লি পুলিশের কর্তারা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আদালতের নির্দেশে রফি মার্গে ইউএনআইয়ের কার্যালয়ে পৌঁছন, চালান উচ্ছেদ অভিযান। এরপর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। তবে পুলিশের এই অভিযানে বামপন্থীরা ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি সংবাদ মধ্যেমের ওপর আক্রমণ।

    হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী সিল (Delhi Police)

    দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ শচীন শর্মা বলেন, “পুলিশ শুধুমাত্র সরকারি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার জন্যই সেখানে উপস্থিত ছিল। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, আমরা এলঅ্যান্ডডিও আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে সেখানে ছিলাম। ইউএনআইয়ের (United News of India) সকল কর্মীকে চত্বরটি খালি করে দিতে বলেছিলাম।” তবে জমি বরাদ্দ বাতিলের বিরুদ্ধে ইউএনআইয়ের করা আবেদন দিল্লি হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর পরপরই প্রশাসন সম্পত্তিটি সিল করে দেয়।

    কেন সিল করা হল অফিস?

    ইউএনআইয়ের অফিসটি দিল্লি পুলিশ এবং ভূমি ও উন্নয়ন দফতর সিল করে দিয়েছে। এর প্রধান কারণগুলি হল, জমি বরাদ্দের শর্ত লঙ্ঘন। ১৯৭৯ সালে এই জমিটি ইউএনআই (Delhi Police)-কে দেওয়া হয়েছিল একটি বহুতল অফিস কমপ্লেক্স তৈরি করার জন্য। কিন্তু দীর্ঘ ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও, সংস্থাটি সেখানে কোনও স্থায়ী নির্মাণ কাজ করেনি।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি শচীন দত্তের পর্যবেক্ষণ, মূল্যবান সরকারি জমি এভাবে দশকের পর দশক ধরে ‘বন্দি’ করে রাখা হয়েছে। আদালত একে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হিসেবে বর্ণনা করছে।

    ভাড়া বা বাণিজ্যিক ব্যবহার

    অভিযোগ, যে উদ্দেশ্যে জমি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ না করে সংস্থাটি জায়গাটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে (যেমন, ক্যান্টিন) ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল।

    পুলিশি অ্যাকশন ও বিতর্ক

    আদালতের নির্দেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) এবং আধাসামরিক বাহিনী অফিসটি খালি করতে শুরু করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সংস্থাটি (Delhi Police) এবং কিছু বাম-লিবারেল বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

    ৪৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেনি

    বিগত বছরগুলোতে ১৯৮৬, ১৯৯৯ এবং ২০০০ সালে একাধিক সংশোধিত বরাদ্দপত্র জারি করা হয়েছিল, এবং প্রতিবারই ভবনটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কাজে সামান্যই অগ্রগতি হয়েছিল বা একেবারেই হয়নি। এমনকি ২০১২ সালে নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার পরেও প্রকল্পটি স্থবির হয়ে গিয়েছিল।

    ২০২৩ সাল নাগাদ, কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করার পর অসন্তোষজনক জবাব পেয়ে, এলএন্ডডিও ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের কারণ দেখিয়ে বরাদ্দটি বাতিল করে দেয়। ইউএনআই (United News of India) এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে, কিন্তু তাদের আবেদনটি শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করেছে যে, “৪৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্রমাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাকে” কেবল এই কারণে ক্ষমা করা যায় না যে সংস্থাটি এখন পদক্ষেপ করতে ইচ্ছুক।

    সংবাদ সংস্থাটির অভিযোগ

    সংবাদ সংস্থাটির দাবি, কর্মীদের আগাম কোনও নোটিশ না দিয়েই জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। মহিলা সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। তারা একে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে। পুলিশ (Delhi Police) অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, আদালতের নির্দেশ পালন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তারা কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    বাম-লিবারেল প্রতিক্রিয়া

    সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক (United News of India) তৈরি হয়েছে তাকেই ‘মেল্টডাউন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাম সমালোচকদের মতে, একটি ঐতিহাসিক সংবাদ সংস্থাকে এভাবে উচ্ছেদ করা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। অন্যদিকে, সরকার এবং আদালতের পক্ষের মানুষের দাবি, আইনের শাসন সবার জন্য সমান। চার দশক ধরে শর্ত লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অনিবার্য।

LinkedIn
Share