Tag: Unsc

Unsc

  • India: ভেটো ক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ মানে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা’, স্পষ্ট বার্তা ভারতের

    India: ভেটো ক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ মানে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা’, স্পষ্ট বার্তা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের  নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) সংস্কারের নামে ভেটো ক্ষমতা ছাড়া নতুন কোনও ধরনের স্থায়ী সদস্যপদ চালু করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্যের মর্যাদায় নামিয়ে আনা হবে। এর ফলে পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। সোমবার এমনই স্পষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত (India)।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার অধীনে ভেটো ক্ষমতা সংক্রান্ত বিতর্কের একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পি হরিশ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের পরেও যদি ভেটো ক্ষমতার বিধান বহাল থাকে, তবে সমস্ত স্থায়ী সদস্যকেই সেই ক্ষমতা দিতে হবে।

    তাঁর কথায়, “ভেটো ক্ষমতা নিয়ে ভারতের অবস্থান নীতিগত এবং সুপরিচিত। আমরা আবারও স্পষ্ট করে জানাচ্ছি, যত দিন ভেটো ক্ষমতা থাকবে, তত দিন সংস্কার করা নিরাপত্তা পরিষদের সমস্ত স্থায়ী সদস্যের হাতেই সেই ক্ষমতা থাকতে হবে।”

    নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ (India)

    বর্তমানে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ ভেটো ক্ষমতা ভোগ করে। দেশগুলি হল চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকা। বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশকে দু’বছরের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ১৯৪৫ সালের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে তৈরি এই কাঠামো একুশ শতকের বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভারতের বক্তব্য, ভেটো ক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের জন্য আলাদা একটি শ্রেণি তৈরি করলে নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক কোনও পরিবর্তন আসবে না।

    হরিশ বলেন, “ভেটো ক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের জন্য নতুন একটি শ্রেণি তৈরি করে নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণ ঘটালে কার্যত তাঁদের ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্যে পরিণত করা হবে। এতে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার সমীকরণে কোনও পরিবর্তন আসবে না।”

    শুধু ভেটো ক্ষমতা ছাড়া নতুন সদস্যপদ চালুর প্রস্তাবই নয়, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা থাকুক বা না থাকুক, স্থায়ী সদস্যদের জন্য নতুন কোনও শ্রেণি তৈরিরও বিরোধিতা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির মতে, এমন ব্যবস্থা চালু হলে যে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই বৈষম্যই আরও শক্তিশালী হবে।

    হরিশের সাফ কথা

    ভারতের রাষ্ট্রদূত বলেন, “নিয়মিত নির্বাচন এবং স্থায়ী সদস্যপদের ধারণা মৌলিকভাবেই পরস্পরবিরোধী।” ১৯৬৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের শেষ সম্প্রসারণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। সেই সময় পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা ছয় থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়েছিল। এর ফলে স্থায়ী ও নির্বাচিত সদস্যের অনুপাত পাঁচ অনুপাত ছয় থেকে পরিবর্তিত হয়ে পাঁচ অনুপাত দশ হয়। ভারতের (India) বক্তব্য, এই পরিবর্তন আপেক্ষিকভাবে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছিল।

    ভারত তাই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। সদস্যপদের বিভিন্ন শ্রেণি, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব, পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা, ভেটো ক্ষমতা এবং কাজের পদ্ধতি—সংস্কারের আলোচনায় এই সমস্ত বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।

    ভেটো ক্ষমতার পাশাপাশি আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ায় সর্বসম্মতির নীতির ব্যবহার নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত। ভারতের মতে, এই পদ্ধতি কার্যত আড়াল থেকে ভেটো প্রয়োগের কৌশলে পরিণত হতে পারে। হরিশ বলেন, “সতেরোটি আলোচনা-পর্ব পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনও দেখানোর মতো কোনও ফল পাইনি।” তিনি স্পষ্ট সময়সীমা ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রকৃত খসড়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান হল, কেবল অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সংস্কারের উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকলে তা কার্যত ব্যর্থতার মুখে পড়বে। ভারতের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রগুলির অন্যতম এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দেশ হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার ন্যায্য দাবিদার ভারত।

    এদিকে, ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার লক্ষ্যে উদ্যোগী হয়েছে নয়াদিল্লি। এই পদের নির্বাচন হবে ২০২৭ সালের জুন মাসে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত একমাত্র আসনে তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ভারত।

    সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) সংস্কার নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট। নয়াদিল্লির বক্তব্য, প্রকৃত সংস্কার করতে হলে কেবল সদস্যসংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ক্ষেত্রেও সমতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হলেও পরিষদের পুরনো ক্ষমতার কাঠামোই অক্ষুণ্ণ থেকে যাবে (India)।

     

  • Russia: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি সমর্থন রাশিয়ার, পশ্চিমি দেশগুলির অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি মস্কোর

    Russia: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি সমর্থন রাশিয়ার, পশ্চিমি দেশগুলির অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি মস্কোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের  নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে ফের সমর্থন করল রাশিয়া (Russia)। রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার হলে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। ভারত ও ব্রাজিলকে স্থায়ী সদস্য করার পক্ষে সওয়াল করলেও জার্মানি ও জাপানের মতো দেশগুলিকে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন (UNSC) তিনি।

    শনিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লাভরভ বলেন, “আমরা এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারত ও ব্রাজিলের দাবিকে আমরা সমর্থন করি।”

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে আফ্রিকার স্বার্থকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রুশ বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলির ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন।

    বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল (Russia)

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চ থেকে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন লাভরভ। তাঁর দাবি, বিশ্বের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের দেশগুলি ক্রমশ স্বাধীন উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই দেশগুলির গুরুত্ব বাড়ছে।

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লাভরভ বলেন, “একক আধিপত্যবাদী শক্তির একনায়কতন্ত্র বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।” তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কোনও একটি শক্তির একচ্ছত্র আধিপত্যের পরিবর্তে একাধিক শক্তিকেন্দ্রের উপস্থিতি প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটেই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলির বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকে যুক্ত করেছে রাশিয়া।

    ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমি দেশগুলিকে নিশানা

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতার সময় ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও পশ্চিমি দেশগুলির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন লাভরভ। তাঁর দাবি, পশ্চিমি দেশগুলি এখনও ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে কিয়েভকে সাহায্য করছে।

    ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা বাধাগ্রস্ত করার জন্য ইউরোপীয় সরকারগুলিকেও দায়ী করেন তিনি। লাভরভ বলেন, “রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখার অবাস্তব লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে পশ্চিমি দেশগুলি ইউরোপের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে এবং কিয়েভে রাশিয়াবিদ্বেষী শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।”

    ইউক্রেনকে রাশিয়ার সাধারণ নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা চালাতে ইউরোপীয় সরকারগুলি সাহায্য করছে বলেও অভিযোগ করেন রুশ বিদেশমন্ত্রী (Russia)।

    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ ভারতের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী এবং বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য। পাঁচ স্থায়ী সদস্য হল আমেরিকা, চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও ব্রিটেন। এই পাঁচ দেশের প্রত্যেকেরই ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটে নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্যরা দু’বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করে। তাদের ভেটো প্রয়োগের অধিকার নেই।

    নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব প্রতি মাসে পর্যায়ক্রমে সদস্যদেশগুলির মধ্যে পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন সংঘাত ও সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই পরিষদ। সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় (UNSC)।

    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হল ভেটো। কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যে কোনও একটি দেশ ভেটো প্রয়োগ করলে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয় না। তবে কোনও প্রস্তাবে সরাসরি বাধা না দিয়ে ভোটদান থেকে বিরত থাকার সুযোগও রয়েছে স্থায়ী সদস্যদের (Russia)।

    ১৯৪৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিকবার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে স্থায়ী সদস্যদেশগুলি। ২০২৬ সালের অগাস্ট পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়কাল-সহ রাশিয়া মোট ১৬২ বার ভেটো প্রয়োগ করেছে। আমেরিকা এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে ৯৫ বার। তুলনামূলকভাবে চিনের ভেটো প্রয়োগের সংখ্যা কম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তা বেড়েছে। অন্যদিকে, ১৯৮৯ সালের পর থেকে ফ্রান্স ও ব্রিটেন ভেটো প্রয়োগ করেনি।

    দীর্ঘমেয়াদি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ

    ভারত স্থায়ী সদস্যপদ পেলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে। তবে নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না, তা এখনও আলোচনাসাপেক্ষ। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা বাড়াতে রাষ্ট্রসংঘের সনদ সংশোধনও প্রয়োজন। এর জন্য সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্য-সহ দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যদেশের অনুমোদন প্রয়োজন।

    রাশিয়ার সাম্প্রতিক সমর্থন (UNSC) ভারতের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি মস্কোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করল। তবে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সদস্যদেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলাই এখন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় (Russia)।

     

  • UNSC Seat: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবিতে সমর্থন ইউরোপের চার দেশের

    UNSC Seat: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবিতে সমর্থন ইউরোপের চার দেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের (India) দীর্ঘদিনের দাবিতে মিলল নতুন কূটনৈতিক সমর্থন। মধ্য ইউরোপের চার দেশ—হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র—ভারতের দাবির প্রতি সমর্থন (UNSC Seat) জানিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে প্রথম ভারত ও ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠীর বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই সমর্থন সামনে আসে।

    ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠী (ভি-৪)-র সদস্য চার দেশই ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। বৈঠকের পর স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী ইউরাজ ব্লানার বলেন, “আমরা ভি-৪-এর চার দেশই একমত যে, গ্লোবাল সাউথের অংশ এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারতের উচিত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে সেই টেবিলে থাকা।”

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই বৈঠককে “একটি নতুন ঐতিহাসিক উপলক্ষ” বলে উল্লেখ করেছেন। বৈঠকে শুধু নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার নয়, ভারত ও ভি-৪ দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, মহাকাশ, যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    কেন নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ চায় ভারত (India)

    ১৯৪৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হওয়ার সময় বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা আজকের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। বর্তমানে পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য—আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন। বাকি ১০টি সদস্য দেশ সাধারণ পরিষদে নির্বাচিত হয় এবং তাদের মেয়াদ দু’বছর।

    ভারতের যুক্তি, বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যা, অর্থনীতি, কূটনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন দেশের ভূমিকা নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোয় যথেষ্ট প্রতিফলিত হয় না। ভারত বহুবার নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হয়েছে; সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে দুই বছরের মেয়াদে পরিষদে ছিল।

    জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক গুরুত্ব, রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ভারতের অবদান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শান্তি নিয়ে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা—স্থায়ী সদস্যপদের দাবির অন্যতম ভিত্তি।

    একা নয় ভারত, পাশে একাধিক দেশ

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবির সমর্থন করেছে বিশ্বের একাধিক দেশ। ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের দাবিকে সমর্থন করে আসছে। ব্রিটেনও সম্প্রসারিত নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে। আমেরিকা নীতিগতভাবে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদকে সমর্থন করেছে বলে বিভিন্ন সরকারি ও কূটনৈতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে। রাশিয়াও ভারতের দাবিকে সমর্থন করেছে।

    ভারত ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের সঙ্গে জি-৪ গোষ্ঠীর সদস্য। এই চার দেশ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে পরস্পরের প্রার্থিতাকে সমর্থন করে এবং সংস্কার নিয়ে আলোচনায় নিজেদের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় রাখে (UNSC Seat)।

    জি-৪-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা বর্তমান ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ অথবা ২৬ করা যেতে পারে। এর মধ্যে ছ’টি নতুন স্থায়ী সদস্যপদ এবং চার অথবা পাঁচটি নতুন অস্থায়ী সদস্যপদ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। জি-৪-এর নথিতে নতুন স্থায়ী সদস্যদের ক্ষেত্রে আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হয়েছে (India)।

    স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে ঘিরেই বড় জটিলতা

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে সংস্কারের কাঠামো নিয়ে মতপার্থক্য। কতগুলি দেশকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, কোন কোন অঞ্চল নতুন সদস্যপদ পাবে এবং নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না—এই প্রশ্নগুলিতে এখনও ঐকমত্য নেই।

    বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের হাতে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্তত ন’টি সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কেউ ভেটো প্রয়োগ না করলে তবেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে।

    ভারতের দাবির ক্ষেত্রে চিনের অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বেজিং ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে স্পষ্টভাবে সমর্থন করেনি। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে বৃহত্তর ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তার কথা চিন বলে আসছে।

    ফলে কোনও দেশ ভারতের স্থায়ী সদস্যপদকে সমর্থন করলেই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রতিটি বিষয়, বিশেষ করে ভেটো ক্ষমতা নিয়ে তার সঙ্গে ভারতের মত এক হবে—এমন নয়।

    ভেটো ক্ষমতা নিয়েও ভারতের অবস্থান

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আলোচনায় ভেটো ক্ষমতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বর্তমানে পাঁচ স্থায়ী সদস্য এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে (India)। নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্যদের এই ক্ষমতা নেই।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, নতুন স্থায়ী সদস্য তৈরি হলে তাদের অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে পুরনো স্থায়ী সদস্যদের থেকে আলাদা শ্রেণি তৈরি করা উচিত নয়। জি-৪-এর সাম্প্রতিক প্রস্তাবেও নতুন স্থায়ী সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তমান স্থায়ী সদস্যদের সমতুল্য করার কথা বলা হয়েছে। তবে ভেটো ক্ষমতা নিয়ে সংস্কারের পরবর্তী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে (UNSC Seat)।

    ভারত-ভি-৪ সম্পর্কে নতুন অধ্যায়

    নিরাপত্তা পরিষদ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভারত ও ভি-৪ দেশগুলি নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি বছর বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং একটি বার্ষিক বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক যেমন গভীর হচ্ছে, তেমনই ভি-৪ দেশগুলির সঙ্গেও আমরা কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেব। একটি বার্ষিক বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজন করা হবে এবং বিদেশমন্ত্রীরা প্রতি বছর বৈঠকে বসবেন। এই বিষয়ে আমাদের ঐকমত্য হয়েছে।”

    প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, যোগাযোগ এবং শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির মতো আন্তর্জাতিক সংকট নিয়েও মতবিনিময় করেন মন্ত্রীরা (UNSC Seat)।

    কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই সমর্থন?

    ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠীর চার দেশের সমর্থন ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে নতুন কূটনৈতিক সমর্থন দিলেও এর ফলে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে না। রাষ্ট্রসংঘের সনদ সংশোধনের জন্য সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদনের পাশাপাশি সব স্থায়ী সদস্যের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অনুমোদন প্রয়োজন।

    তবে ভারতের জন্য এই সমর্থনের গুরুত্ব রয়েছে। ইউরোপের মধ্যাঞ্চলের চারটি দেশ একই সঙ্গে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে (UNSC Seat) ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আরও একটি সম্মিলিত সমর্থন যুক্ত হল (India)।

     

  • India: মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ ভারতের, কী বলল নয়াদিল্লি?

    India: মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ ভারতের, কী বলল নয়াদিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের (Masood Azhar) বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণাকে ‘লোকদেখানো পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল ভারত (India)। নয়াদিল্লির বক্তব্য, নিজেদের মাটিতে নিষিদ্ধ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এই ধরনের ‘ভাঁওতা ঘোষণা’ করে কোনও লাভ নেই।

    মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মাসুদ আজহার প্রসঙ্গে বলেন, “পাকিস্তানের এই ধরনের লোকদেখানো কৌশল এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। অতীতেও আমরা একই ধরনের কৌশল দেখেছি।”

    তিনি এও বলেন, “সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা একটি রাষ্ট্র যখন এই ধরনের ভাঁওতা দেয়, তখন তার ফাঁপা চরিত্র আমরা সকলেই জানি। পাকিস্তানের উচিত পদক্ষেপ করা, এমন ঘোষণা নয়, যার কোনও বাস্তব ফল নেই।”

    পাকিস্তান সম্প্রতি মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার বা দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তা করলে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পুরস্কারের কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের ফেডারেল তদন্ত সংস্থার ২০২৬ সালের ‘রেড বুক’-এও আজহারের নাম রয়েছে।

    মাসুদ আজহার (India)

    ভারতের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ান্টেড মাসুদ আজহার। ২০০১ সালের সংসদে হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণ-সহ একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কাঠমান্ডু থেকে কান্দাহারগামী আইসি-৮১৪ বিমান ছিনতাইয়ের পর যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত আজহার-সহ তিন জঙ্গিকে মুক্তি দিয়েছিল।

    পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করে আসছে, আজহারের বর্তমান অবস্থান তাদের জানা নেই এবং সে আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তানই জইশ-ই-মহম্মদ প্রধানকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারও আজহার আফগানিস্তানে রয়েছে বলে পাকিস্তানের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগাঁও হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান ঘাঁটিতে হামলা চালায়। সেই হামলায় আজহারের কয়েকজন আত্মীয় নিহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে (India)।

    এফএটিএফের চাপ

    এদিকে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও আর্থিক অপরাধ দমনের নজরদারি সংস্থা এফএটিএফের চাপের মধ্যেই পাকিস্তানের এই ঘোষণা সামনে এসেছে। আগামী মাসে বৈঠকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান এফএটিএফের বর্ধিত নজরদারির ‘ধূসর তালিকা’য় ছিল। বিশেষ করে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো সংগঠনের অর্থায়ন নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আন্তর্জাতিক চাপের পর পাকিস্তান ওই দুই সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল (India)।

    ২০১৯ সালের মে মাসে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মাসুদ আজহারকে (Masood Azhar) আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। চিন আপত্তি তুলে নেওয়ার পরেই পরিষ্কার হয়েছিল তার তালিকাভুক্তির পথ।

     

  • Red Fort Blast: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের দায় আল-কায়েদার! এনআইএ-র দাবিই স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে

    Red Fort Blast: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের দায় আল-কায়েদার! এনআইএ-র দাবিই স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে (Red Fort Blast) আল কায়েদা-যোগের অভিযোগ তুলল রাষ্ট্রপুঞ্জ। এই কথা আগেই উল্লেখ করেছিল ভারত। এ বার সেই একই কথা বলল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী দল। সম্প্রতি প্রকাশিত তাদের দ্বিবার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লায় হামলার সঙ্গে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর যোগ রয়েছে।

    আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা-ই দায়ী

    গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, রাস্তা থেকে ৪০ ফুট নীচে থাকা মেট্রো স্টেশনও কেঁপে উঠেছিল। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন আরও অনেকে। তদন্তে উঠে আসে ফরিদাবাদের ‘চিকিৎসক মডিউল’-এর তথ্য। তবে গত বছরের নভেম্বরের ওই বিস্ফোরণের জন্য আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস)-কেই দায়ী করল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। অভিযোগ, এই জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশেও তাদের শাখা (সেল) বিস্তারের চেষ্টা করছিল।

    এনআইএ-র দাবিই সত্য!

    গত মে মাসে ওই বিস্ফোরণ কাণ্ডে চার্জশিট জমা দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) জানিয়েছে, হামলার মূল অভিযুক্ত ছিলেন উমর উন-নবি, যিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। বিস্ফোরণের সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে এনআইএ এই ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে বলা হয়, আনসার-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ) নামে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখার এক সহযোগী সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে। এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টেও উঠে এল দিল্লির গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ। চলতি সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাকশনস মনিটরিং টিম’ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে হামলার নেপথ্যে ছিল আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখাই।

    দক্ষিণ এশিয়ায় আল কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের আশঙ্কা

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আল কায়েদা ধীরে ধীরে একটি বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত সংগঠন থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও ছড়ানো সেলের মাধ্যমে তারা লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, আল কায়েদার নেতৃত্বের একটি অংশ আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে। তাদের কাছে আফগানিস্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি তালিবান ও আল কায়েদার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত হতে পারে। বাংলাদেশকেও আল কায়েদা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে বলে রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র নিয়েও সতর্কতা

    গত বছরের নভেম্বরে গুজরাতের আমেদাবাদ থেকেও তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক। ওই জঙ্গিরা প্রাণঘাতী রাসায়নিক ‘রাইসিন’ তৈরির চেষ্টা করছিলেন। এই রাসায়নিক জৈব অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। ওই ঘটনার তদন্তেও জঙ্গিদের ‘আইএস’ যোগের কথা উঠে এসেছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টেও তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থার উদ্বেগ, আল কায়েদা এবং আইএসআইএল (দায়েশ) অনেক দিন ধরেই রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত বাধার কারণে তারা এখনও সেই অস্ত্র তৈরি করে উঠতে পারেনি। এ প্রসঙ্গেই গুজরাতে ধৃত জঙ্গিদের কথা উল্লেখ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাদের দাবি, আইএসআইএল (দায়েশ)-এর একটি শাখাই ওই তিন ধৃতকে ‘রাইসিন’ তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিল।

    ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে নজরদারির সুপারিশ

    সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের ক্ষেত্রেও নতুন প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ছে। আল কায়েদা এবং আইএসআইএল (দায়েশ) ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করতে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় একটি পৃথক ‘ডিজিটাল কারেন্সি অ্যাড্রেস’ সংক্রান্ত তথ্য রাখার সুপারিশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষক দল। একই সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। প্রকৃত অর্থদাতা বা আল্টিমেট বেনেফিসিয়াল ওনার শনাক্ত করার জন্য ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর সুপারিশ কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার বৃদ্ধি

    রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদনে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও তাদের সমর্থকদের দ্বারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। পর্যবেক্ষক দলের তথ্যমতে, বোমা তৈরি এবং লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য এসব সংগঠনের সদস্যরা চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-সহ বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স’ (আইএসআইএল-কে বা ISIL-K) বিভিন্ন ভাষায় দ্রুত প্রচারমূলক বার্তা অনুবাদ ও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে এআই ব্যবহার করছে, যার ফলে তারা আরও ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছতে পারছে। লালকেল্লা বিস্ফোরণ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্ট প্রকাশের পর তদন্তে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (AQIS) ও তার সহযোগী সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

  • Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) বিষয়টি উত্থাপন করে দাবি করেছে, চুক্তি নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক বা কার্যকর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তিতেই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সুস্পষ্ট ও বহুপাক্ষিক আইনি কাঠামো রয়েছে। ফলে সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। অতীতেও সীমান্তবর্তী নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধে, যেখানে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বিদ্যমান, সেখানে নিরাপত্তা পরিষদ হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে।

    ১৯৬০ সালের চুক্তিতেই বিরোধ মেটানোর পথ

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তিকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী জলবণ্টন চুক্তি হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বব্যাঙ্ক চুক্তির কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয়ে স্বাক্ষরকারী হলেও, চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ও ধাপে ধাপে এগোনোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছে পার্মানেন্ট সিন্ধু কমিশন (PIC), যেখানে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা করে। প্রযুক্তিগত বিষয়ে সমাধান না হলে নিউট্রাল এক্সপার্ট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আর জটিল আইনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিষয়টি কোর্ট অব আরবিট্রেশন-এ নিয়ে যাওয়ার বিধানও রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশ স্বেচ্ছায় এই কাঠামো মেনে চুক্তি স্বাক্ষর করায় বিরোধ মেটানোর প্রধান পথও এটিই। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মতো রাজনৈতিক মঞ্চে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি খুবই দুর্বল।

    রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    পাকিস্তান একাধিকবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং তাই বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের আওতায় আনা উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এবং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও আইনি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নেই বলেই মত তাঁদের।

    দ্বিপাক্ষিক অবস্থানেই অনড় ভারত

    ভারত বরাবরই জানিয়ে এসেছে, সিন্ধু জলচুক্তি সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সম্পূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক এবং চুক্তির নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই তার সমাধান হওয়া উচিত। নয়াদিল্লির মতে, এই চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তাই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা আন্তর্জাতিকীকরণের কোনও প্রয়োজন নেই। ভারতের এই অবস্থান তার দীর্ঘদিনের বিদেশনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলিতে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করা হয়।

    নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কেন কম?

    আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। কিন্তু যেখানে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, সেখানে সাধারণত নিরাপত্তা পরিষদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। উদাহরণ হিসেবে ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (GERD) সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা পরিষদ সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে বিদ্যমান আইনি ও আঞ্চলিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিল। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদে কোনও বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাশ করাতে সদস্য দেশগুলির ব্যাপক সমর্থনের পাশাপাশি স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো এড়ানোও জরুরি। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে এমন ঐকমত্য গড়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    আইসিজিতেও যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)-এ পাঠানোর সম্ভাবনাও খুবই কম। কারণ, আইসিজি সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলির সম্মতি ছাড়া কোনও মামলার বিচার করে না। পাশাপাশি সিন্ধু জলচুক্তিতে ইতিমধ্যেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের মূল্যায়ন, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘে বিষয়টি তুললেও সিন্ধু জলচুক্তির নির্ধারিত কাঠামোই বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান এবং কার্যকর পথ হিসেবে বহাল থাকবে। নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষে সেই ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য বা প্রতিস্থাপন করার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

    আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা

    ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভারত ও পাকিস্তান। ঠিক হয়, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ভারত ব্যবহার করবে। আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর অধিকাংশ জল যাবে পাকিস্তানে। এই জলের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহার করত পাকিস্তান। পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পরেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে ভারত। তখন থেকেই জল সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান। এই নিয়ে আগেই ভারতকে নিশানা করেছিল ইসলামাবাদ। সম্প্রতি এই ইস্যুতে ভারতকে ফের আক্রমণ করেছে পাকিস্তান। সিন্ধু জলচুক্তি পুনর্বহালের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।

  • PM Modi: ‘পুতিনকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মোদি’, দাবি পোল্যান্ডের মন্ত্রীর

    PM Modi: ‘পুতিনকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মোদি’, দাবি পোল্যান্ডের মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে সওয়াল করে আসছে ভারত (PM Modi)। এবার সেই অবস্থানকে আরও একবার সামনে এনে পোল্যান্ডের উপ-বিদেশমন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ তেওফিল বারতোশেভস্কি দাবি করেছেন, ২০২২ সালের শেষ দিকে (Nuclear Strike) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনে কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারত-পোল্যান্ড যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বারতোশেভস্কি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অত্যন্ত সম্মানিত নেতা। সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদির পরামর্শ গুরুত্ব দিয়ে শোনেন।

    বারতোশেভস্কির মুখে মোদি-স্তুতি (PM Modi)

    তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের এমন কয়েকজন নেতার অন্যতম, যাঁদের কথা প্রেসিডেন্ট পুতিন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। ২০২২ সালের শেষ দিকে ইউক্রেনে কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে পুতিনকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রী মোদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন এমন নেতাদের মধ্যে মোদি অন্যতম। এই সংঘাত থামাতে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে।” এই মন্তব্যের জেরে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উজবেকিস্তানে এসসিও (সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, “আজকের যুগ যুদ্ধের নয়।” এরপর থেকেই ভারত ধারাবাহিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমি দেশগুলির রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় যোগ না দিয়ে নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থানও বজায় রেখেছে।

    ভারত-প্রশস্তি শোনা গিয়েছে পুতিনের গলায়ও

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি—উভয়ের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। ২০২৪ সালে তিনি কিয়েভ সফর করেন এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক বৈঠকেও জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পশ্চিমি দেশগুলির চাপ সত্ত্বেও, ভারত রাশিয়া থেকে (Nuclear Strike) বিশেষ ছাড়ে অপরিশোধিত খনিজ তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। ভারতের বক্তব্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গত মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারতকে ‘মহান দেশ বলে উল্লেখ করেছিলেন, প্রশংসা করেছিলেন ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতির।

    ‘ভারত গুরুত্বপূর্ণ দেশ’

    ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থানের প্রশংসা করেন বারতোশেভস্কি। তিনি জানান, ভারত যেমন (PM Modi) সংযম, আলোচনা এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে, পোল্যান্ডও একই পথ অনুসরণ করছে। তাঁর কথায়, “আপনারা একটি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দেশ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাসের ওপর ভারতের নির্ভরতা অনেক বেশি। পোল্যান্ডও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। আমরা তাদের জানিয়েছি, আমাদের পছন্দ কূটনৈতিক সমাধান। প্রধানমন্ত্রী মোদিও একই কাজ করছেন। আমরা যুক্তির কথা বলার চেষ্টা করছি, যদিও তার ফল সীমিত।” রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিও যে (Nuclear Strike) পোল্যান্ডের সমর্থন রয়েছে, এদিন তা-ও আরও (PM Modi) একবার জানিয়ে দেন বারতোশেভস্কি।

     

  • India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তুলল ভারত (India Slams Pakistan)। সোমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বতানেনি বলেন, “পাকিস্তান নিজেদের দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে।”

    পাকিস্তানকে তোপ ভারতের (India Slams Pakistan)

    গত বছর পাকিস্তান নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে এই নামে চিহ্নিত করে দাবি করেছিল যে, তারা ভারতের মদতপুষ্ট। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে ইসলামাবাদ কোনও প্রমাণ দাখিল করেনি। এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে এই নামকরণ আসলে পাকিস্তানের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের অংশ।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছে।” তাঁর দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ জিইয়ে রেখে পাকিস্তান আসলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে।

    পাকিস্তানের সমালোচনা

    তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামো ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার সমালোচনাও করেন। পার্বতানেনির অভিযোগ, সাম্প্রতিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব আরও বেড়েছে। আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানেরও তীব্র সমালোচনা করে ভারত। পার্বতানেনি সাফ জানিয়ে দেন, অসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে কোনও অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ বলা যায় না। তিনি এও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও ইসলামি সংহতির কথা বললেও, রমজান মাসে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তান ভণ্ডামির পরিচয় দিয়েছে।” ভারতের প্রতিনিধি দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর নিজেদের ব্যর্থতার দায় চাপানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের।

    পাক-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশু-সহ অন্তত ১৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হওয়ার তথ্য সামনে আসে। এরপর দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হয়। মার্চ মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছিল, সংঘর্ষে আফগানিস্তানে অন্তত ৪২ জন নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ (India Slams Pakistan)। এরপর আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, ওই হামলায় ৪০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যদিও রাষ্ট্রসঙ্ঘ (UN Security Council) অন্তত ২৬৯ জনের মৃত্যুর খবর যাচাই করেছে। আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমলেও, সীমান্তে এখনও ঘটছে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা (India Slams Pakistan)।

     

  • India Slams Pakistan: ‘কলঙ্কিত গণহত্যার ইতিহাস’ স্মরণ করিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    India Slams Pakistan: ‘কলঙ্কিত গণহত্যার ইতিহাস’ স্মরণ করিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত। বুধবার নয়াদিল্লির প্রতিনিধি সাফ জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের ‘দীর্ঘদিনের কলঙ্কিত’ গণহত্যার ইতিহাস প্রমাণ করে যে (India Slams Pakistan) তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে দেশীয় ও সীমান্তের বাইরে হিংসার আশ্রয় নেয়। ‘সশস্ত্র সংঘাতে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা’ শীর্ষক খোলা বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বথানেনি (Harish Parvathaneni)। এই বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রতিনিধিও। জম্মু-কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হরিশ বলেন, “এটা অত্যন্ত বিদ্রূপাত্মক যে পাকিস্তান, যার দীর্ঘদিনের গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস রয়েছে, তারা ভারতের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করছে।”

    বর্বর বিমান হামলা (India Slams Pakistan)

    চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিশ্ব ভুলে যায়নি যে চলতি বছরের মার্চ মাসে, পবিত্র রমজান মাসে—যা শান্তি, আত্মবিশ্লেষণ ও করুণার সময়—পাকিস্তান কাবুলের ওমিড অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হসপিটালে (Omid Addiction Treatment Hospital) বর্বর বিমান হামলা চালায়।” রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের (UNAMA) তথ্য উদ্ধৃত করে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “এই কাপুরুষোচিত ও নৃশংস হামলায় ২৬৯ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। জখম হন ১২২ জন। হাসপাতালের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে কোনওভাবেই সামরিক টার্গেট বলা যায় না।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক (India Slams Pakistan) আইনের উচ্চ নীতির কথা বলা ভন্ডামি। কারণ তারা অন্ধকারে নিরীহ সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে।”

    রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের মূল্যায়ন

    প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই বিমান হামলা তারাবির নামজের পরপরই হয়েছিল, যখন বহু রোগীও মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। হরিশ বলেন, “রাষ্ট্রসসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী সীমান্তপারের সশস্ত্র হিংসার কারণে ৯৪,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাকিস্তানের এই ধরনের আগ্রাসন আশ্চর্যের কিছু নয়, কারণ এটি এমন একটি দেশ যারা নিজেদের জনগণের ওপর বোমা বর্ষণ করে, চালায় পরিকল্পিত গণহত্যাও।” তাঁর অভিযোগ, ১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) চালানোর সময় পাক সেনাবাহিনী ৪ লাখ মহিলার ওপর পরিকল্পিত গণধর্ষণ চালায়। এর পরেই ভারত সাফ (UNSC) জানিয়ে দেয়, পাকিস্তানের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলাটা ভারতের অভ্যন্তরীণ (India Slams Pakistan) বিষয়ে হস্তক্ষেপের নামান্তর। তাই এই গ্রহণযোগ্য নয়।

     

  • India: “সন্ত্রাসবাদ কখনও স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না”, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে স্মরণ করাল ভারত

    India: “সন্ত্রাসবাদ কখনও স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না”, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে স্মরণ করাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) পাকিস্তানের তীব্র নিন্দে করল ভারত (India)। পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ভিত্তিহীন ও আত্মস্বার্থমূলক বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তীব্র নিন্দা জানালেন নয়াদিল্লির প্রতিনিধি। একই সঙ্গে ভারত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে পাকিস্তানের ধারাবাহিক সন্ত্রাসবাদের ব্যবহার কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পার্বতনেনি হরিশ এই মন্তব্য করেন। সোমবার ‘আন্তর্জাতিক আইনের শাসন পুনর্ব্যক্তকরণ: শান্তি, ন্যায়বিচার ও বহুপাক্ষিকতাকে পুনরুজ্জীবিত করার পথ’ শীর্ষক নিরাপত্তা পরিষদের খোলা বিতর্কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত অপারেশন সিঁদুর, জম্মু ও কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন।

    পাকিস্তানের অ্যাজেন্ডা (India)

    হরিশের অভিযোগ, পাকিস্তানের একমাত্র অ্যাজেন্ডা হল ভারত ও ভারতের নাগরিকদের ক্ষতি করা। অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে আহমদের দাবির জবাবে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে জোরজবরদস্তি বা দায়মুক্তির ভিত্তিতে কোনও নতুন স্বাভাবিকতা তৈরি হতে পারে না। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ কখনও স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না।” হরিশ (UNSC) বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিনিধি নতুন স্বাভাবিকতা নিয়ে কথা বলেছেন। আমি আবারও স্পষ্ট করে বলছি—পাকিস্তান যেভাবে চায়, সন্ত্রাসবাদকে কখনও স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক ব্যবহার সহ্য করা কোনওভাবেই স্বাভাবিক নয়। এই পবিত্র সভাকক্ষ পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়ার মঞ্চ হতে পারে না।”

    অপারেশন সিঁদুর

    হরিশ এও বলেন, “অপারেশন সিঁদুর সম্পর্কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত একটি মিথ্যা ও আত্মস্বার্থমূলক বর্ণনা তুলে ধরেছেন।” উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত ন’টি জঙ্গি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। এটি ছিল ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ, যেখানে ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। তিনি বলেন (India), “তথ্য একেবারেই স্পষ্ট। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-পোষিত জঙ্গিরা ২৬ জন নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই মর্যাদাপূর্ণ সংস্থাই অপরাধী, সংগঠক, অর্থ জোগানদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা ঠিক সেটাই করেছি (UNSC)।”

    জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস

    হরিশ জানান, ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত, পরিস্থিতি ঘোরালো না করে শুধুমাত্র জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংসে সীমাবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, “৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতকে আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সরাসরি আমাদের বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়।” তিনি বলেন, পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটিতে ধ্বংস হওয়া রানওয়ে ও পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গারের ছবি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ্যেই দেখা যায়। হরিশ বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল, আছে এবং চিরকালই ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ হয়ে থাকবে।” সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারত ৬৫ বছর আগে সদিচ্ছা, সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের মনোভাব নিয়ে এই চুক্তিতে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু এই সাড়ে ছয় দশকে পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধ এবং ভারতের বিরুদ্ধে হাজার হাজার জঙ্গি হামলার মাধ্যমে চুক্তির মূল ভাবধারাই বারবার লঙ্ঘন করেছে। পাকিস্তান-পোষিত সন্ত্রাসবাদের কারণে হাজার হাজার ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন।

    সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের কারণ

    পহেলগাঁওয়ে হামলার প্রেক্ষিতে হরিশ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, “ভারত বাধ্য হয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখতে। যতক্ষণ না সন্ত্রাসবাদের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান সীমান্তপারের এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদে তার সমর্থন বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করে, ততদিন এটা চলতেই থাকবে।” ভারতের প্রতিনিধি এও বলেন, “আইনের শাসন মানার প্রশ্নে পাকিস্তানের আত্মসমালোচনা করা উচিত। পাকিস্তান চাইলে শুরু করতে পারে এই প্রশ্ন দিয়ে—কীভাবে তারা তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান ঘটানোর সুযোগ দিল, যার ফলে তাদের প্রতিরক্ষা প্রধানকে আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে (India)।” উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে গৃহীত এই সংশোধনীর মাধ্যমে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে যে কোনও আইনি বিচারের হাত থেকে সম্পূর্ণ রেহাই দেওয়া হয়েছে (UNSC)।

     

LinkedIn
Share